নেশা পর্ব ১

নেশা Reuters💞
Ayusha Akter Usha
রাত বারোটা তিন মিনিট।চারিদিকে নিস্তব্ধতা।ল্যাম্পোস্টের আলোয় নেশা রাস্তার মাঝখানে দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।দু একটা গাড়ি এসে তার পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।এমন সময় একটা গাড়ি একদম তার সামনে এসে দাড়ালো।আর একটু হলেই এক্সিডেন্ট হয়ে যেত।গাড়ি থামতেই নেশা দৌড়ে গিয়ে গাড়ির সামনের দরজা খুলে ভেতরে বসে পরল।সাফার নেশাকে এইভাবে বসতে দেখে দাঁতে দাঁত চেপে বলল
-হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ।মরার এত শখ হয়েছে??
সাফারের কথা শুনে নেশা ভ্রু কুঁচকে বলল
-আরে আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে যে এই অল্প বয়সে আমার মরার ইচ্ছে হয়েছে।
-তাহলে এই ভাবে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ানোর মানে কি??
-উফফ আর বলবেন না অনেক্ষন ধরে লিফ্টের জন্য দাঁড়িয়ে আছি।কিন্তু কেউ লিফ্ট দিচ্ছে না।তাই বাধ্য হয়ে ওইভাবে দাড়ালাম।বাই দ্যা ওয়ে থ্যাংকস লিফ্ট দেওয়ার জন্য।
-আমি তোমাকে কখন লিফ্ট দিলাম।
সাফারের কথা শুনে নেশা ভ্রু নাচিয়ে বলল
-আপনি কি চোখে কম দেখেন আপনার গাড়িতে বসে আছি আর আপনি বলছেন লিফ্ট কখন দিলাম।।
-এই মেয়ে নামো আমার গাড়ি থেকে।আমি কাউকে লিফ্ট দিতে পারবো না নামো আমার কার থেকে।
-প্লিজ এরকম করবেন না।আসলে আমি অনেক বড় বিপদে পরেছি।বাসা থেকে না বলে বন্ধুদের সাথে সিলেটে চা বাগান দেখতে এসেছিলাম।ভেবেছিলাম কিছুদিনের জন্য হলেও পাপার ওই সিকিউরিটি সেল্ফ ডিফেন্স থেকে মুক্তি পাবো কিন্তু এখানে এসেই ফেসে গেছি।আমার বাস মিস বাস মিস হয়ে গেছে।বন্ধুরা সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেলে।ভাবলাম পরের বাসে করে ঢাকা যাবো তাই বাসস্ট্যান্ড এই বসে ছিলাম কিন্তু কোথা থেকে এসে বদমাইশ চর আমার পার্স ব্যাগ সব চুরি করে নিয়ে চলে গেল।তবুও নিরুপায় হয়ে ওখানেই বসে ছিলাম।তখনই কোথা থেকে কিছু লোক এসে আমার দিকে বাজে নজরে তাকালো।তাঁদের থেকে বাঁচতেই এখন আমার লিফ্টের প্রয়োজন পরল।প্লিজ আমাকে ঢাকা পৌছে দিন।
-আমি এখন ঢাকা যাচ্ছি না।
-আপনাকে যেতেও হবে আমাকে পৌছে দিলেই হবে।
-আমি যদি ঢাকা না যাই তো তোমাকে কি করে ঢাকা পৌছে দিব।
-সেটা আপনার ব্যাপার।দেখুন এখন আমি আপনার গাড়িতে বসে আছি মানে আমি এখন আপনার দায়িত্ব।এখন আপনি কি করে আপনার দায়িত্ব নিয়ে আমাকে ঢাকা পৌছাবেন সেটা আপনার ব্যাপার আমার না।আমাকে শূধু ঢাকা পৌছে দিন ব্যাস।
বলেই নেশা বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে অন্য দিকে তাকালো।সাফার কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলে।সত্যিই এটা একটা মেয়ের সেল্ফ ডিফেন্স এর ব্যাপার।ওতো রাতে মমেয়ে টা যাবেই বা কোথায়।তাই সাফার কিছূ না বলে গাড়ি স্টার্ট দিল।নেশার ঠোটে মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
গাড়ি তার নিজ গতিতে চলছে।সাফার দাতে দাত চেপে গাড়ি চালাচ্ছে।কারন নেশা সেই তখন থেকে বকবক করে তার মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে।
–আমি নেশা আপনি।আচ্ছা আপনি সিলেট কোথায় থাকেন।কি করেন আপনি।বিজনেস? কিন্তু আপনাকে দেখে কিন্তু বিজনেসম্যান মনে হয়না।কেমন জানি মাফিয়া মাফিয়া ভাব আপনার চেহারায় একদম বার পাপার মতো।ইউ নো আমার পাপা কেও না আগে আমার মাফিয়া মাফিয়া মনে হতো।
বলেই নেশা হেসে কুটিকুটি।
-আচ্ছা আপনার বিয়ে হয়েছে।দেখে তো মনে হয়না বিয়ে হয়েছে।কারণ আজকালকার হ্যান্ডসাম ছেলেরা আগে ইচ্ছে মতো মেয়ে পটায়।তারপর একটা হাবলা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নেই।তা আপনিও কি মেয়ে পটাচ্ছেন।
নেশার কথা শুনে সাফার অগ্নিদৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো।তার এই দৃষ্টি দেখে নেশা ভয়ে বলতে লাগল।
-ওকে ওকে বলতে হবে না।
বলেই নেশা চুপ করে বসল।তারপর কিছু একটা ভেবে আবার বলল
-আমার কি মনে হয় জানেন তো আপনাকে দিয়ে মনে হয় কোনো মেয়ে পটেই নি তাই এতো রাগ দেখাচ্ছেন আমায়।
এইবার সাফারের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল।
-স্টপ স্টপ দিজ ননসেন্স।কত কথা বল তুমি।মনে হচ্ছে কানের মধ্যে হরতাল শুরু হয়ে গেছে।
-আমি একাই একটা মেয়ে আপনার কানে কি করে হরতাল করব।হরতাল করতে তো অনেক জনের দরকার হয়।
মুখে আঙুল দিয়ে দিয়ে মিনমিন করে বলল নেশা।সাফার কটকট করে তার দিকে তাকালো।
-ওকে ওকে আমি চুপ।এই মুখে ক্লুপ আটলাম।কিন্তু এই মূহুর্তে আমার কাছে মুখে আটকানোর মতো ক্লুপ নেই আঙুল দিলে চলবে।
-ওহ গোড স্টপ ইট ইডিয়ট।
সাফারে ঝাড়ি খেয়ে নেশা চুপ।কিছুক্ষণ দুজনেই নিরব।এমন সময় হঠাৎ ই নেশা চেঁচাতে লাগল।
-‘স্টপ স্টপ স্টপ স্টপ দ্যা কার।
এরকম আকস্মিক ঘটনায় সাফার কিছুটা অবাক হয়ে গাড়ি থামালো।
-কি হলো।
নেশা রাস্তার পাশে একটা দোকান দেখিয়ে বলল
-টি স্টল।
-তো।
-চলুন চা খাবো।
-আর ইউ মেড।এই ফুটপাত থেকে এখন আমি চা খাবো।
-তো কি হয়েছে।শুনেছি এই ফুটপাতের স্টোলের টি নাকি সুস্বাদু হয়।চলুন খাবো।
-ইম্পোসিবল।আমি যাবো না।
-আরে চলুন না।
-বললাম তো যাবো না।
-আরে ধুর চলুন তো।
নেশা জোর করে সাফার কে নিয়ে গাড়ি থেকে নামল।টঙের দোকান থেকে দুজনে চা খেয়ে আবার গাড়িতে উঠে এলো।
-সত্যিই টি টা অনেক সুস্বাদু ছিল তাই।আমার তো আমার মাম্মামের হাতের কফির কথা মনে পড়ে গেল।
-চায়ের সাথে তোমার মায়ের কফির কি সম্পর্ক।
-চায়ের সাথে না স্বাদের সাথে সম্পর্ক।আমার মাম্মাম অনেক সুন্দর কফি বানায়।কতদিন তার হাতে বানানো কফি খাইনা।কাল বাসায় গিয়ে আগে মাম্মামের হাতে কফি খাবো নয়তো নো টকিং হুম।আর হ্যাঁ এই মূহুর্তে আমার কাছে টাকা নেই আমার যা যা খরচ হয় সবটা নিজের ব্রেনে নোট করে নিন ঢাকায় গিয়ে সব শোধ করে দেব।
গাড়ি চলছে সাথে নেশার বকবাকানি।সাফার দাতে দাত চেপে সবকিছু সহ্য করছে।এই মেয়ে এত কথা বলে কিভাবে।ইচ্ছে করছে ধাক্কা মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়।তখনি আবার নেশা বলে উঠল
-স্টপ স্টপ স্টপ গাড়ি থামান।
সাফার গাড়ি ব্রেক করে বিরক্তির স্বরে বলল
-আবার কি??
-আইসক্রিম।।
-হোয়াট।।
নেশা জোরে জোরে মাথা ঝাকালো।
-আইসক্রিম খাবো।
-তুমি কি ছোট বাচ্চা যে এখন আইসক্রিম খাওয়ার জন্য বায়না ধরছ
-তো আমি ছোট ই তো।আমার মধ্যে বড় হওয়ার কি দেখলেন।জানের আমার পাপা এখনো আমায় লিটল প্রিন্সেস বলে ডাকে।তাহলে??বড় হওয়ার কোনো প্রশ্ন ই ওঠে না।ইনফেক্ট উঠবেও না কারন আমি তো মাম্মা পাপা একমাত্র মেয়ে আমার ছোট কেউই নেই তো আমি বড় হবত কিভাবে।
বলেই হাসতে হাসতে শেষ নেশা।
-সেট আপ স্টুপিট।এখন এত রাতে আমি আইসক্রিম কোথায় পাবো।
-আপনার সামনেই তো আইসক্রিম ক্যাফে।
সাফার পাশে তাকিয়ে দেখে।একটা ক্যাফে ওপেন রয়েছে।এত রাতে কি এই মেয়েটার জন্য ই এই ক্যাফে খোলা রেখেছে এরা অসহ্য।সাফার একরাশ বিরক্তি নিয়ে বেরিয়ে পরল আইসক্রিম আনতে।একটা গোটা আইসক্রিম এর বাক্স এনে নেশার হাতে ধরিয়ে দিল।নেশা খুশি বাচ্চাদের মতো লাফাতে লাগল।সাফার গাড়ি চালাচ্ছে আর নেশার দিকে দেখছে।নেশা আইসক্রিম খেতে ব্যাস্ত।তার টকটকে গোলাপী ঠোঁটের কোণে একটু আইসক্রিম লেগে আছে।তা দেখে সাফারের ভেতরে তোলপার হওয়ার অবস্থা।বুকের ভেতর কেউ হাতুরি পেটাচ্ছে।তার হাত পা কাপছে।সাফার বারবার অন্যদিকে তাকানোর চেষ্টা করলেও বারবার নেশার দিকেই তার চোখ যাচ্ছে।কোনো উপায় না পেয়ে সাফার ধমক দিয়ে বলতে লাগল।
-এই মেয়ে এখনো খাওয়া হয়নি।
-আমার খাওয়া নিয়ে আপনি পরে আছেন কেন।আপনার ও কি আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে হলো নাকি।তা বললেই হতো এতো ধমক দেওয়ার কি আছে।এই নিন এটা খেয়ে নিন।
সাফারের দিকে আইসক্রিম এগিয়ে দিয়ে।
-আমি তোমার মতো ছোট বাচ্চা নই যে আইসক্রিম খাবো।আর তুমি তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করো।নাহলে সব আইসক্রিম জানালা দিয়ে বাইরে ফেলব।
সাফারের কথা শুনে নেশা কিছু বলতে গিয়ে ও বলল না।অন্যদিকে ঘুরে আইসক্রিম খেতে ব্যস্ত হয়ে পরল।
-জানেন আমার পাপা না প্রতি রাতে আমার জন্য চকোলেট আনে।আর যদি না আনে তাহলে তাঁকে আমি শাস্তি দেই।কি শাস্তি দেই জানেন।
সাফার আড়চোখে নেশার দিকে তাকালো।
-পঞ্চাশ বার কান ধরে উঠবোস করাই।
বলেই হাসতে লাগল নেশা।
-আর এই শাস্তি টা আমি পাপা কে প্রতি রাতে দেই।কারন পাপাকে শাস্তি না দিলে তা পকেট থেকে কোনো চকোলেট বেরোয় না।……আরে আরে গাড়ি থামান।।।
-এবার আবার কি হলো আপনার।।।
গাড়ি থামিয়ে দাতে দাঁত চেপে বলল সাফার।
নেশা হাত দিয়ে একটা লোকের দিকে ইশারা করে বলল
-আচ্ছা ওগুলো কি।আমি কখনোই এসব দেখিনি।চলুন না এসব কি দেখি।
সাফার কিছু না সব রাগ গুলো গিলে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পরল।কারন সে জানে সে চাইলেও নেশা তাঁকে জোর করে নামাবে।নেশা দৌড়ে লোকটার কাছে গেল।এত রাতে লোকটা সম্ভবত নিজের কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল।লোকটা হাতে থাকা জিনিসগুলোর দিকে ইশারা করে নেশা বলল
-এটা কি
-আফা এটা হাওয়াই মিঠাই।
-হাওয়াই মিঠাই।এটা আবার কি।আর মিঠাই তো এখানে হাওয়াই টা আবার কোথায়।
বিঙ্গ হবার ভান করে।
-জে আফা এটাই হাওয়াই মিঠাই।মিঠাই মুখে দিলেই হাওয়া হয়ে যায়।
-মিঠাই যদি মুখে দিলেই হাওয়া হয়ে যায় তো আমি আর মিঠাই খাবো শুনি।
-জে আফা এই মিঠাই টাই খাবেন।
-কিন্তু খাবো কি করে মিঠাই তো মুখে দিলেই হাওয়া হয়ে যাবে।
-জে আফা এই জন্যেই তো এর নাম হাওয়াই মিঠাই।
-উদ্ভুত তো যেই মিঠাই মুখে দিলেই হাওয়া হয়ে যায় সে মিঠাই হলো কেমনে
-জে আফা…..
তাঁদের দুজনকে থামিয়েই সাফার বলে উঠল
-একটা দেন।
সাফার হাওয়াই মিঠাই নিয়ে নেশাকে হাত ধরে টানতে টানতে গাড়িতে বসালো।
-এটা খাও আর চুপ করে বসে থাকো।
নেশা ও বাধ্য মেয়ের মতো মিঠাই খেতে লাগল।
-আপনি জানেন আপনার গালের নিচে যে তিলটা আছে না সেটা কিন্তু অসম্ভব সুন্দর।যে কোনো মেয়ে দেখলেই ক্রাশ।।।
আচমকা এমন একটা কথায় সাফার মূহুর্তেই নিজের হার্টবিট মিস করল।এই মেয়ে বলছে কি।এই মেয়ে কি বোঝে না এতো রাতে ও একা একটা মেয়ে আর সাফার একটা ছেলে একসাথে আছে।এমনিই সাফারে কেমন কেমন যেন লাগছে ।তার মধ্যে নেশার এই কথায় সাফারের প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসছে।
-আপনি সত্যিই খুব সুন্দর কেন যে আপনাকে দিয়ে কোনো মেয়ে পটলো না কে জানে।
সাফার শক্ত করে গাড়ির স্টেয়ারিং চেপে ধরে বলল
-সেট আপ।
-আরে সত্যিই বলছি।আপনি সত্যি খুব সুন্দর।আপনি যদি আমাকে পোটানোর চেষ্টা করতেননা তাহলে আমি নিশ্চিত পটে যেতা…..
কথা শেষ করার আগেই সাফার এক হাতে নেশার কোমর আর অন্য হাতে তার পেছনের চুল আঁকড়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল।গাড়ি তার নিজ গতিতে চলছে।নেশা চোখ বড় বড় করে সাফারকে দেখছে।আর সাফার ধীরে ধীরে নেশার নেশায় ডুবে যাচ্ছে।কিছুক্ষণ পর সে নেশাকে ছেড়ে আবার গাড়ি চালানো তে মন দিল।নেশা পিঠ সিটে হেলান দিয়ে বসে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগল।কি হলো এটা।সাফার তাকে…..ভাবতেই নেশার শরিরের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
প্রায় অনেক্ষন হলো নেশা টু শব্দ টিও করছে না।এখন সাফারের কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা মনে হচ্ছে।যেন এই কিছু সময়েই তার নেশার অভ্যাস হয়ে গেছে।সাফার ধীরে ধীরে নেশার দিকে তাকাতেই দেখে নে না সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।ল্যাম্পোস্টের আলোয় নেশার চেহারায় এক মায়া ধরা দিয়েছে যেটা দেখার লোভ সাফার সামলাতে পারলো।গাড়ি থামিয়ে একদৃষ্টিতে নেশার দিকে তাকিয়ে রইল।কি মায়া এই মুখে।ঘুমন্ত অবস্থায় যেন নেশাকে সদ্য ফোঁটা পদ্মার কলি মনে হচ্ছে।নেশাকে দেখে সাফারের মধ্যে এক নেশা কাজ করছে ইচ্ছে করছে তার ঠোট টা আর একটু ছুঁয়ে দিতে।কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে অন্যদিকে তাকালো।কি ভাবছে সে এসব।একটা ঘূমন্ত মেয়েকে সে এইভাবে দেখছে।সাফার নিজেকে নানাভাবে শাসিয়ে নিজের ব্লেজারটা খুলে নেশার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে গাড়ি চালাতে মন দিল।
সকালের রৌদ চোখে পরতেই নেশার ঘুম ভেঙে গেল।চারিদিকে মানুষের কলাহোল।আর অনেকগুলো বাস দাঁড়িয়ে আছে।ভালোভাবে তাকাতেই দেখে এটা বাসস্ট্যান্ড।পাশে তাকিয়ে দেখে সাফার তার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে।কাল রাতের কথা মনে পরতেই নেশা কিছু অস্বস্তি হতে লাগে।নেশা তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়েই দেখে তার গায়ে ব্লেজার।এটা যে সাফারের সেটা খুব ভালো করেই বুঝলো সে।তাই নিজের খা থেকে ব্লেজার টা নিয়ে সাফারের দিকে এগিয়ে দিয়ে সে গাড়ি থেকে নেমে পরল।তারা ঢাকা এসে গেছে।নেশার সাথে সাফার ও নেমে পরল।নেশা চারিদিক তাকাতেই দেখে দুটো লোক বাস থেকে নামছে।তাদের দেখেই নেশার রাগ মাথায় উঠল।
-এই তো এরাই সেই দুজন যাঁরা কাল আমায় বাজে নজরে দেখেছিল।দাঁড়া আজ তোদের আমার হাত থেকে নিস্তার নেই বজ্জাত কোথাকার।
বলেই যেই নেশা তাদের দিকে এগুচ্ছো তার আগেই পরপর দুটো গুলি এসে তাদের বুক ফুটো করে দিল।নেশা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পরল।কি হলো এটা ধীরে ধীরে পেছনে তাকাতেই দেখে সাফার গান হাতে দাঁড়িয়ে আছে আর তার গান থেকে এখনো ধৌয়া বেরোচ্ছে।চারিপাশে লোক ছোটা ছুটি করতে লাগল।নেশা অবাক হয়ে সাফারের কাছে গেল
-এটা কি করলেন।
-যে আমার নেশার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস করবে তাঁদের সবার এই অবস্থাই হবে।
-মমানে….
-মানে এই মাফিয়া খুব করে নিজের জিনিসে যত্ন রাখতে জানে।।।
নেশার মুখ এক হাত হা হয়ে গেল
-মমমমমমাফিয়া….
এটা কি করল নেশা।কয়েকটা লোকের হাত থেকে বাচতে একটা মাফিয়ার কাছে সে আশ্রয় চেয়েছিল।আর পুরো রাত সে একটা মাফিয়ার সাথে ছিল।পুরো পৃথিবী নেশার চারিদিকে ঘুরছে।পৃথিবীর রঙ ঝাপসা হয়ে আসছে।ধীরে ধীরে সে লুটিয়ে পরল।কিন্তু মাটিতে পড়ার আগে এক হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল।সেই হাতের মালিক বাঁকা হেসে বলল
-মাত্র এইটুকুতেই অজ্ঞান।এটা তো ট্রেলার ছিল এখনো তো এই সাফারের নেশার সম্মুখিন হওয়া বাকি #নেশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here