নয়নতারা পর্ব ৫

#নয়নতারা
|পর্ব -৫|
#জেরিন_আক্তার_নিপা
(পোস্টটা যারাই পড়বেন কমেন্ট না করলেও অন্তত রিয়েক্ট করবেন। পেইজের রিচ একেবারেই কমে গেছে)

পরের দিনটা নয়নতারা নক্ষত্রকে দেখলেই দৌড়ে পালায়। এই অসভ্য লোকের সামনে পড়া যাবে না। কী বাজে লোক! ছুটতে ছুটতে ঝিনুকের সাথে ধাক্কা খেল নয়ন। ঝিনুক হাতে ব্যথা পেয়ে চোখ পাকিয়ে ওর দিকে তাকায়৷ হাত ডলতে ডলতে ধমক দিয়ে বলে,

—চোখের মাথা খেয়েছিস নয়ন? ধাক্কা দিলি কেন?’

নয়নতারা নক্ষত্রের দিকে চোখ রেখে বলে,

—সরি আপু। ইচ্ছে করে দিইনি।’

ঝিনুক নয়নের দৃষ্টি অনুসরণ করে নক্ষত্রের দিকে দেখে। নয়নটা এরকম ভয় পাচ্ছে কেন?

—কী হয়েছে রে? কাকে দেখে ছুটছিস তুই?’

—আপু তোমার সাথে আমার ভীষণ জরুরি একটা কথা আছে।’

—হ্যাঁ তো বল না।’

—এখানে না। রুমে আসো তুমি।’

—জ্বালাস না তো নয়ন। এখন আবার রুমে যেতে পারব না। হলুদ বাটা হয়েছে নাকি দেখতে হবে। মা বলেছে। বাটা না হলে তোর ফুপু আমাকে বেটে ফেলবে।’

—আসো না আপু। অনেক দরকারি কথা। প্লিজ।’

—আচ্ছা চল। কিন্তু বেশি সময় নিবি না। বর্ণনা ছাড়া আসল কথাটা বলবি শুধু।’

—হুম।’

যেতে যেতে ইলাকে পেয়ে গেল। ঝিনুক ইলাকে ধরে নিল।

—চল নয়ন যেন কী দরকারি কথা বলবে।’

ঘরে গিয়ে নয়নতারা কাল সন্ধ্যা থেকে ছাদে যা যা হয়েছে সব বলল। তার মনের কথাও বলল।

—লোকটা ভালো না আপু। ভীষণ বদ। বাজে লোক। আমাকে ইচ্ছে করে ভয় দেখিয়েছে। ছাদে তো জড়িয়েও ধরেছে। আপু যাবার আগেই আবার আমাকে রেখে পালিয়ে গেছে। আকিব ভাইয়ার ওই বন্ধুর চরিত্রে সমস্যা আছে। আমি এসব কথা কাউকে বলিনি। একবার ভেবেছিলাম বাবাকে বলব। বাবা কেমন রাগী জানোই তো। সেই ভয়ে বলিনি। ইমন ভাইয়ার বিয়েতে আমার জন্য কোন ঝামেলা হলে আমার খারাপ লাগবে।’

নয়নতারার কথা শুনে ইলা কাশতে লাগল। ঝিনুক বড় বড় চোখ করে ইলার দিকে তাকাচ্ছে। নয়ন মিথ্যা কথা বলার মেয়ে না৷ কিন্তু ওই ব্যাটা তো ইলারে পছন্দ করে। ও কেন ইলার বোনের সাথে এমন করবে এটাই ভেবে পাচ্ছে না ঝিনুক। ইলা কোনোরকমে কাশি থামিয়ে বলল,

—তুই এসব কথা আর কাউকে বলিসনি তো নয়ন?’

নয়নতারা মাথা নাড়ল।

—উঁহু। তোমাদেরই বলেছি শুধু।’

ঝিনুক নয়নের কথা অবিশ্বাস করতে পারছে না। আবার নক্ষত্র এরকম করতে পারবে এটাও বিশ্বাস হচ্ছে না।

—তুই শিওর তো নয়ন? নক্ষত্রই তোর সাথে এসব করেছে?’

—হ্যাঁ। মানে আমি মুখ দেখিনি। তবে ওই লোকের সাথে যেমন গন্ধ ছিল, উনার গা থেকেও একই রকম স্মেল আসছিল।’

এটুকু শুনে ইলা স্বস্তির শ্বাস নিল। যাক নয়ন তাহলে মুখ দেখেনি। অনুমান থেকেই এসব বলছে।

—তোর হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে নয়ন। উনি তেমন মানুষ না। তুই যা বলছিস এটা তো সম্ভবই না।’

—ভুল না আপু্। সত্যিই ওই লোক ভালো না।’

ইলা ঝিনুককে চোখে কিছু ইশারা করল। ঝিনুক বুঝে গেল। সে-ও ইলার সাথে সুর মেলাল।

—নয়ন এটা কিন্তু ঠিক না। কারো বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এত বড় অপবাদ দেওয়া ঠিক না। হতে পারে সবই তোর ভুল ধারণা। মানুষটা মোটেও তেমন না। একজন নির্দোষ মানুষকে শুধুমাত্র সন্দেহ করে প্রমাণ ছাড়া তাকে অপমান করা ঠিক হবে না। তোর এরকম কাজে আকিবও লজ্জিত হবে।’

—ঝিনুক আপু ঠিকই বলছে নয়ন। তোর কোথাও ভুল হচ্ছে। কাল দেখলি না কীভাবে তোর পা ঠিক করে দিল।’

নয়ন ভাবছে সত্যিই কি তার ভুল হয়েছে? ওই লোকটা ভালো অথচ সে খারাপ ভাবছে। শুধুমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করে কিছু বললে আকিব ভাইয়ারই অপমান হবে। সে-ই তো ওই লোককে নিয়ে এসেছে।

ইলা যখন নক্ষত্রকে একা পেল তখন নয়নতারার বলা কথাগুলো নক্ষত্রকে জানাল। এসব শুনে নক্ষত্র কতক্ষণ তব্দা খেয়ে থাকল। তারপর ফোঁস করে হেসে ফেলল। ওকে হাসতে দেখে ইলা রেগে গেল।

—হাসছো তুমি হ্যাঁ! নয়ন যদি আমাদের না জানিয়ে সোজা বাবাকে জানাত তখন?’

নক্ষত্র এখনো হাসছে। হাসতে হাসতেই বলছে,

—তোমার বোন সত্যিই ছেলেমানুষ। নইলে এরকম ভুলভাল ভেবে নিত না।’

—নয়নের এরকম ভাবাটাই স্বাভাবিক। যে কেউ হলেও এরকমই ভাবত। একটা ছেলে অন্ধকারে তার মুখ চেপে ধরলে, পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে যেকোনো মেয়েই ছেলেটাকে খারাপ ভাববে। ওর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করবে।’

—আমি তো ইচ্ছে করে কিছুই করিনি।’

—সেটা আমি জানি, তুমি জানো। নয়ন তো আর জানে না। ও কিন্তু একটু অন্যরকম।’

—সেটা তো বুঝতেই পারছি। একটু না অনেকটাই অন্যরকম।’

—তুমি আর ওর সাথে মজা কোরো না প্লিজ। নয়নের থেকে দূরে থেকো তুমি। ইমন ভাইয়ার বিয়ে শেষ হলেই আমি একটা ব্যবস্থা করব। ঝিনুক আপুকে নয়তো ফুপুকে ধরলেই হবে। ততদিনে তুমি শুধু সবার চোখে আরেকটু ভালো হয়ে উঠো।’

নক্ষত্র দম ফেলে বলল,

— তাহলে হয়েছে। তোমার ইমন ভাইয়ার বিয়ে হচ্ছে না।’

ইলার ভ্রু কুঁচকে গেল।

—কেন? এরকম বলছো কেন?’

—তুমিও তোমার বোনের মত বোকা নাকি ইলা? চোখের সামনের সহজ জিনিস গুলো দেখতে পাও না। ওই মেয়ের সাথে ইমনের বিয়ে কখনো হবে না।
কারণ ঝিনুক আর ইমনের মধ্যে কিছু চলছে। ইমন শেষমেশ ঝিনুককেই বিয়ে করবে।’

—পাগল!’

—না। তুমি জানতে না ওদের দু’জনের সম্পর্ক আছে?’

—আন্দাজ করেছিলাম। তবে শিওর ছিলাম না। আর ওদের দু’জনের সম্পর্ক থাকলে ইমন ভাইয়া এই বিয়েতে রাজি হয়েছে কেন? আর ঝিনুক আপুই কিছু বলছে না কেন? বয়ফ্রেন্ডের বিয়েতে কেউ এত আনন্দ করতে পারে? তুমি আমার চোখের সামনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে এটা ভাবতেই তো আমি মরে যাব। ঝিনুক আপু একটু কষ্টও পাচ্ছে না! উল্টো আমাদের নিয়ে নাচানাচি করছে।’

—ঘাপলা তো এখানেই। সব বুঝলেও এই ব্যাপারটাই তো বুঝতে পারছি না। কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না ঝিনুক ইমনকে জ্বালাচ্ছে কেন। সেদিন ইমনের সামনে আমার হাত ধরে এরকম ভাবে হেসে কথা বলেছে যে, যে কেউ দেখলে মনে করবে আমাদের মাঝে কিছু তৈরি হচ্ছে। অথচ ঝিনুক কিন্তু ভালো করেই জানে আমি তোমার জন্য এবাড়িতে এসেছি।’

—জানি না আমি কিছু। বুঝতে পারছি না। নিজের চিন্তা করে কূল পাই না। ওদের কথা কখন ভাবব। তুমি কিন্তু নয়নের থেকে দূরে থেকো। ভুলেও ওর কাছে যাবে না। কোন কথাও বলবে না।’

—কেন? ওর সাথে কথা বললে তুমি জেলাস ফিল করো নাকি?’

—বাজে বকো না। ও আমার বোন। ওকে নিয়ে আমি জ্বলব! অসম্ভব। নয়ন তেমন মেয়েই না। আর আমি তোমাকেও খুব ভালো করেই চিনি। আমাকে রেখে তুমি অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকাতেই পারবে না।

আজ ইমনের গায়ে হলুদ। আজকের হলুদের স্টেজ ছাদে করা হয়েছে। নয়নতারা মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে সন্ধ্যার পর মরে গেলেও সে ছাদে আসবে না। ঝিনুক নয়নকে নিয়ে ছাদে এসে ঘুরে টুরে স্টেজ সাজানো দেখে গেল।

—সব ঠিকই আছে রে নয়ন। আমাদের আর এখানে কোন কাজ নেই। চল নিচে যাই। তোর ইমন ভাইয়া রেডি হলো নাকি দেখে আসি। ওকে তো আজ হলুদে গোসল করাব।’

—ভাইয়া রাগ করবে। আগে থেকেই বলে রেখেছে ওসব হলুদ টলুদ যেন কেউ ওর গায়ে না লাগায়।’

—সে কী! বিয়ে করবে আর হলুদ মাখবে না! হলুদ মাখানো ছাড়া বিয়ের মজা কী? সে তো হলুদ মাখবে সাথে তার বাপ… না, সরি। মামার তো বিয়ে হয়ে গেছে। ও বেচারাকে আর হলুদ মাখিয়ে লাভ কী!’

নয়নতারা হেসে ফেলল। ঝিনুক আপু এত মজার মজার কথা কীভাবে বলে। নিচে এসে ঝিনুক তার কাজে চলে গেল। নয়নতারা একা দাঁড়িয়ে ছিল। নক্ষত্রকে আসতে দেখেই দৌড় দেওয়ার জন্য পা বাড়তে নিলে নক্ষত্র ডেকে উঠল,

—তারা। এই তারা শোনো।’

দৌড়াতে গিয়েও দাঁড়াতে হলো। নয়নতারা মনে মনে ভাবছে,

—এই লোক আমাকে দাঁড়াতে বলছে কেন? আমার সাথে ওর কী কাজ?’

নক্ষত্র নয়নতারার কাছে এলো। মুখে হাসি নিয়ে বলল,

—কোথায় যাচ্ছিলে?’

—হে! না কোথাও না।’

—আচ্ছা। আমাকে এক গ্লাস পানি এনে দাও তো।’

পানি! লোকটা যতই খারাপ হোক। তার কাছে পানি চেয়েছে সে তো আর না করতে পারে না।

—আনছি।’

—ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি এনো। যা গরম!’

—হুম।’

নয়নতারা চলে গেলে নক্ষত্র হেসে ফেলল। পানির তৃষ্ণা না পেলেও নয়নতারার সাথে কথা বলার জন্য এমনি বলল৷ তারা নাকি তাকে ক্যারেক্টারলেস ভাবছে। ভাবুক। আরেকটু মজা নেওয়া যাক। ফিউচার শ্যালিকাকে জ্বালানোর অধিকার তার খুব আছে। নয়নতারা পানি দিয়ে এসে নক্ষত্রর সামনে ধরল। নক্ষত্র তার হাত থেকে গ্লাস নেওয়ার সময় ইচ্ছে করেই হাতে হাত ছোঁয়াল। নয়নতারা ঝট করে হাত সরিয়ে নিয়ে নক্ষত্রর দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল। নক্ষত্র না বোঝার ভান করে হাসল। নয়নতারা কিছু বলল না দেখে নক্ষত্র সাহস পেল, আরেকটু দুষ্টুমি করবে। নয়নতারা চলে যাচ্ছিল। নক্ষত্র আবার ডাকল,

—আরে দাঁড়াও। পানিটা খেয়ে নিই। গ্লাসটা তো নিয়ে যাও।’

দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত হচ্ছে নয়নতারা। এক গ্লাস পানি খেতে এত সময় লাগে কারো? এটা গরম চা নাকি যে ফুঁ দিয়ে দিয়ে ঠান্ডা করে খাবে। এরকম এক ঢোঁক এক ঢোঁক করে না খেয়ে পুরোটা একেবারে খেয়ে নিলেই তো পারে। আড়চোখে নক্ষত্র নয়নতারাকে দেখছে।

—বয়ফ্রেন্ড আছে?’

নয়নতারা বুঝল না কথাটা তাকে বলা হয়েছে কিনা। কপাল কুঁচকে চেয়ে রইল সে।

—বয়ফ্রেন্ড নেই? প্রেম ট্রেম করো না?’

নয়নতারা চোখ মুখ কঠিন হয়ে গেল। ফাজিল লোক এসব কেমন কথা জিজ্ঞেস করছে। অসভ্য বেয়াদব মানুষ।

—তুমি যেন এবার কোন ক্লাসে পড়ো? অহ এইচএসসি দিয়েছ শুনলাম। কলেজ শেষ করে ফেললে অথচ বয়ফ্রেন্ড বানালে না! এটা কেমন কথা হ্যাঁ! এখনই তো তোমার প্রেম করার বয়স।’

—আপনি কি জানেন, আপনি একটা ভীষণ বাজে লোক?’

কথাটা বলে নয়নতারা রেগেমেগে নক্ষত্রের সামনে থেকে চলে গেল। নক্ষত্র শব্দ করে হেসে ফেলল। সিরিয়াস টাইপের মেয়ে। বোনের থেকে একদম আলাদা। ইলাকে কেউ এমন কথা জিজ্ঞেস করলে ইলা ওর ক্লাস নিয়ে ছাড়ত। হেসে হেসে নিমপাতার রসে ডুবিয়ে কতগুলো কথা বলে আসত। তারা ওরকম কিছুই করেনি। শুধু ভদ্র ভাষায় একটা কথাই বলে গেল।

ঝিনুক ইমনের পুরো মুখে হলুদ মাখিয়ে দিলে ইমন সবার সামনেই ওর সাথে খেঁকিয়ে উঠে। রাগ সামলাতে না পেরে বাজে ব্যবহার করে বসে। ও বেচারা তো জানেই ঝিনুক ইচ্ছে করে এসব করছে। প্রতিশোধ নিচ্ছে। কিন্তু বাড়ির কেউ তো জানে না। ইমনের থেকে বকা খেয়ে ঝিনুক এমন বেচারি সাজল যে ইমনের পুরো পরিবার গালাগালি দিয়ে ওর কানে তালা লাগিয়ে দিল। ইমনের মা পারলে ছেলের গালে থাপ্পড় বসিয়েই শান্তি পেত।

—এসব কেমন ব্যবহার হ্যাঁ? ছোট বোন তোর। তোর বিয়েতে ওরা মজা করবে না? তোকে একটু হলুদ মাখাতে পারবে না? তারজন্য এরকম ব্যবহার করবি তুই! না, তোর বিয়ে তুই একাই কর। এমন অসভ্য ছেলে আমি পেটে ধরিনি। কী খিটখিটে মেজাজ! কী চারালে ব্যবহার! মেয়েটাকে সবার সামনে এভাবে ধমকাতে পারলি! তোর ফুপু তোর এই ব্যবহারে কতটা কষ্ট পেয়েছে। ঝিনুকও কি আর কোনোদিন তোর কোন ব্যাপারে থাকবে?’

মামী ইমনকে আচ্ছামত ধুইয়ে দিচ্ছে। ঝিনুকের ঠোঁটে বাঁকা হাসি। ইমন কিড়মিড় করে ওকে দেখে মা’কে বলল,

—মা তুমি জানো না। ও ইচ্ছে করে…

—তোর কোন কথা শুনতে চাই না আমি। এক্ষুনি আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যা। থাক তোর যেতে হবে না। আমিই ঝিনুককে নিয়ে চলে যাচ্ছি।’

নক্ষত্র ইলার পাশে এসে ওকে ধাক্কা দিয়ে বলল,

—দেখলে তো এবার।’

—হ্যাঁ। ঝিনুক আপু হাসছে। ইচ্ছে করে ইমন ভাইয়াকে এমন বেকায়দা অবস্থায় ফেলেছে।’

—আজ এটা তো সাধারণ ট্রেলার ছিল। কাল পুরো মুভি দেখতে পাবে।’

—কী হবে এখন?’

—কী আর হবে? নতুন কোন নাটক হবে। ওই নাটকের হিরোইন আমাদের ঝিনুক আপাই হবে।’

/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here