“প্রমত্ততা তুই পর্ব অন্তিম

#প্রমত্ততা_তুই
#আফসানা_মিমি
||অন্তিম পর্ব ||

ঘননীল আকাশ। সামনে সারি সারি পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের কুন্ডলী। নৈকট্যে গেলে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। মেঘের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণা। নিচে নেমে জল ও পাথরের সম্পর্কে শাঁ শাঁ শব্দ। সেই জলই আবার মিশে যাচ্ছে পিয়াইনের সাথে। পাথরে পাথরে বন্ধুত্ব। পাথরে ও নদীতে মিতালি। পাথরে মানুষে জীবনযাপনের যুদ্ধ। চারিদিকে বিস্তৃত সবুজ। পাহাড়ে পাহাড়ে সবুজের জলকেলি। বিস্তির্ণ মাঠে সবুজের চাদর। এগুলো দৃশ্যকল্প নয়, সিলেটের বিছনাকান্দি জুড়ে এমন দৃশ্য যেন সত্যিই কেউ ফ্রেম বন্দি করে লটকে দিয়েছে আকাশের সাথে। দূর থেকে মনে হবে এই মেঘ, এই মানুষ, এই পাহাড়-নদী কিংবা পাথরের স্থিরচিত্রই এগুলো।দুই পাশে আকাশচুম্বী পাহাড়, তার মাঝে বয়ে চলা ঝরনার স্রোত। পানি একেবারে পরিষ্কার, স্বচ্ছ, এবং টলমলে। আর ছোট-বড় নানান আকৃতি আর রঙের পাথর তো আছেই। পানি এত স্বচ্ছ যে পানির তলার পাথর কিংবা নিজের ডুবে থাকা পা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়।

জারিফ এতক্ষণ সিলেট শহর দেখছিল আর মনে মনে সৌন্দর্যের বর্ণনা দিচ্ছিলো। শ্রীমঙ্গলে এসে ওদের গাড়ি থামল। এখন সন্ধ্যা, সকলের অভিমত আজ রাত বিশ্রাম করে কাল আয়নার খুঁজে নেবে কিন্তু জারিফের তা সহ্য হচ্ছে না তাই সকলের অগোচরে বেরিয়ে যায় রাতের আধারে বোম্বাইমরিচকে খুঁজতে।

অন্ধকার রুমে বন্দি আয়না। কারোর আর্তনাদের আওয়াজে আয়নার জ্ঞান ফিরে। হাতে সেলাইন চলছে আর মুখে অক্সিজেন মাক্স। একহাতে মুখ থেকে অক্সিজেন মাক্স সরিয়ে হাতের দিকে তাকালো শরীর এখনও দুর্বল। কয়েকসেকেন্ড থম মেরে বসে থেকে যখন অনুভব করতে পারলো যে সে কোথায় আর কিভাবে এসেছে একটাকে হাতের সেলাইন খুলে ফেলে। পাশের কক্ষ থেকে চিৎকারের আওয়াজে কেঁপে উঠে আয়না। দুইহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আস্তে আস্তে কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। জারিনকে রকি দুহাত বেঁধে নিজের কার্যসিদ্ধি হাসিল করছে আর জারিন সে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আর দেখতে পারছে না আয়না কালো অতীত চোখের সামনে ভাসছে। হঠাৎ কী যেন হলো আয়নার এক হাত দিয়ে অন্য হাত চেপে দরজা খুঁজতে লাগল আর অবশেষে ছোট্ট এক দরজার খোঁজ পেলো। কোনদিকে না তাকিয়ে দৌঁড়াতে শুরু করল।

পাহাড়ের এঁকেবেঁকে রাস্তা দিয়ে জারিফ। গোপনসূত্রে জানা গিয়েছে শ্রীমঙ্গলের লাল টিলার পাশে এক পরিত্যক্ত বাড়িতে রকি অবস্থান করছে। জারিফ এক মুহূর্তও থামছে না হাঁটার গতি আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাহাড়ের এই নির্জন স্থানে গাড়ি নিয়ে আসা মানে শত্রুদের নিজের অবস্থান জানিয়ে দেয়া। অতি সমর্পণে সামনে আগাচ্ছে জারিফ শুনশান এলাকায় হঠাৎ’ই কারোর পায়ের আওয়াজ পেয়ে জারিফ হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়। কানপেতে শুনতে চেষ্টা করে আওয়াজ কোথায় থেকে আসছে। আওয়াজটা অতি সন্নিকটে আসার পর বোঝা গেল কেউ দৌঁড়াচ্ছে এই নির্জন পাহাড়ার ঢালে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে জারিফ এবার নিজেও অগ্রসর হয়। আচমকা মানবী কেউ এসে জারিফের সাথে ধাক্কা খায়, সাথে সাথে মানবীটি চিৎকার করে উঠে।

– আমাকে ছুঁবেন না, দয়া করে দূরে যান। আমি আমি আপনার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইছি।

আয়নার কন্ঠস্বর শুনে জারিফ কিছুক্ষণের জন্য চমকে গেল। আয়নাকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে জারিফের অন্তরে পীড়া হচ্ছে। কাঁপা কাঁপা গলায় আয়নাকে সম্বোধন করল,

– বোম্বাইমরিচ।

জারিফের কন্ঠস্বর শুনে আয়না চুপ হয়ে রইলো। কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হবার পর আয়না জারিফের বক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

– জামাই সাহেব, ঐ লোকটা ভালো না। ঐ ঐ লোকটা আমাকে কষ্ট দিতে চায়। যেমনভাবে আমার আপুকে কষ্ট দিয়েছিল। আমি পালিয়ে এসেছি ঐ লোকটা এখন জারিনের সাথে,,,,,

আয়না আর কিছু বলতে পারছে না।বাচ্চাদের মত ফুঁপিয়ে কান্না করছে। জারিফ আয়নার কষ্ট দেখে আয়নাকে আরো শক্ত করে বক্ষগহ্বরে আটকে রাখে।

– আমার বউ।
জারিফ আয়নাকে কাছে টেনে বলল।

– জারিনকে বাঁচাতে হবে জারিফ, সে অনেক বিপদে আছে। ঐ রকি আপাইয়ের মত জেরিনের সাথে,,,,,

– হ্যাঁ বউ, জেরিনকে বাঁচাবো, তাঁর আগে তুমি শান্ত হও।

মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আয়না কিছুটা শান্ত হয়। আয়নাকে এক হাতে জরিয়ে রেখেই জারিফ তাঁর সহকারীদের ফোন দিয়ে এখানে আসতে বলল।
জারিফ আয়নাকে জরিয়ে ধরা অবস্থায়-ই একটি গাছের গোড়ায় বসে পড়লো।
আয়না যেন আজ ছোট বাচ্চাদের মতো হয়ে গিয়েছে। একমুহূর্তের জন্যও আয়না জারিফকে ছাড়ছে না। আয়নাকে স্বাভাবিক করতে জারিফ বলতে শুরু করল।

– এই মিষ্টি বোম্বাইমরিচ, আমি না আমার সেই ঝাল বোম্বাইমরিচকে অনেক মিস করছি কোথাও কি দেখেছো তাকে?

জারিফের কথায় আয়না হতভম্ব হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর জারিফের বক্ষবন্ধনীতে কুটুস করে কামড় বসিয়ে দেয়। যার অর্থ আয়নাকে ক্ষেপালে তোমার খবর আছে।

– আউচ, রাক্ষসী হয়ে গেলে নাকি? এভাবে কেউ কামড়ায়? দেখো তো, তোমার ঐ খরগোশের মতো লম্বা লম্বা দাঁত বসিয়ে দাগ বানিয়ে ফেলেছো।

আয়নার শরীর ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আয়না নিজের শরীরের সমস্ত ভর জারিফের উপর দিয়ে আস্তে করে বলল।

– আমার কষ্ট হচ্ছে। আদর করে দিন।

——–

চারপাশে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে আয়নার ঘুম ভাঙে কিন্তু চোখ খুলতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছে করছে না তার। কারোর গরম নিশ্বাস মাথার কাছটায় অনুভব করে বুঝতে পারে সে এখন কারোর বাহুতে আবদ্ধ। গায়ের সুবাসে বুঝতে পারে মানুষটা তার স্বামী জারিফ। চট করে কালকের কথা মনে পড়ে যায় তাই চোখ খুলে আশেপাশের পরিবেশ দেকে উপলব্ধি করে কোথায় আছে তাঁরা। বিছানায় শায়িত নতুন কামড়ায় নিছেদের পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে আয়না। কিছু একটা ভেবে আস্তে করে জারিফের বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়।

জারিফের ঘুম ভাঙে আরো দুই ঘন্টা পরে। চোখ বন্ধ অবস্থায় নড়াচড়া করতে গিয়ে অক্ষম হয়। চোখ খুলে জারিফির বোধগম্য হয় যে সে বর্তমানে আটকে আছে বিছানার সাথে দুই হাত পা বাঁধা অবস্থায়। হাতে পায়ের দিকে লক্ষ্য করে দেখে যে হাত পায়ের বাধন খোলা জারিফের দুই মিনিটের ব্যপার। কিন্তু জারিফ বাঁধনগুলো খোলার চেষ্টা করল না বরঞ্চ সেই অবস্থায় শুয়ে রইলো মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে। জারিফ জানে এটা তাঁর ঝাল মিষ্টি বোম্বাইমরিচের কাজ।

জারিফের ভাবনার মাঝেই আয়না আগমন ঘটে। হাতে ফল কাঁটার ছুরি নিয়ে আপেল খেতে খেতে জারিফের নিকট আসে।

– মিস্টার তাযিন জারিফ, কেমন বোধ করছেন এভাবে থেকে?

আয়নার কথার প্রত্যুওরে জারিফ কিছুটা হতাশ মুখে বলে।

– আমাকে এভাবে বেঁধে রেখেছো কেন বোম্বাইমরিচ? কষ্ট হচ্ছে তো!

– উহ, কিছু প্রশ্নের উওর জানতে চাই পতি সাহেব। ঠিকঠাক ওর না পেলে এই ছুরি দিয়ে আপনার পেট ফুঁটো করে ফেলব।

আয়নার হাতের ছুরি দেখে জারিফের হাসি পাচ্ছে তবুও ভয় পাবার নাটক করে বলে।

– দেখো বোম্বাইমরিচ, ঐ ছুরিটা ফেলে দাও আমি ভয় পাচ্ছি তো! তুমি যা জানতে চাইবে সব বলব।

– আচ্ছা প্রথমেই বলুন আমরা কোথায়?
আয়নার প্রশ্নে জারিফ এবার কেবলা মার্কা হাসি দিয়ে বলল।
– মিনি হানিমুন করতে সিলেট আছি আপাতত।

জারিফের এমন সোজা সাপটা উওর আয়না আশা করেনি। আয়না ভেবেছিল জারিফ আগের ন্যায় ত্যারা জবাব দিবে। এবার আয়না কিছুটা বাঁকা হেসে জারিফের উদ্দেশ্যে বলল।

– বাহ দুই মাসে এত উন্নতি। এমন জানলে তাহলে তো আরো আগেই নিজের ইচ্ছেতেই কিডন্যাপ হয়ে যেতাম।
এখন বলুন ওই জানোয়ার রকি আর জারিনের সাথে কি করেছেন?

রকি আর জারিনের কথা শুনে জারিফের চোখমুখ শক্ত হয়ে যায়। গম্ভীর স্বরে আয়নাকে উত্তর দেয়।

– জারিন আপাতত হাসপাতালে ভর্তি, রকি পুলিশের কাস্টডিতে। জারিন আমার বোন বলে সে রেহাই পাবে তা না। সুস্থ হলেই তাকে শাস্তি পেতে হবে।

– আচ্ছা শান্ত হোন।

আয়না এবার জারিফের মুখোমুখি ঝুঁকে ছুরি দিয়ে গালে স্লাইড করতে করতে বলল।

– আয়নার প্রতিবিম্বে বন্দি হবেন তো? আয়নাকে আবারও ধোঁকা দিয়ে চলে যাবেন না তো!

– আমি তো সাদা এই বোম্বাইমরিচ নামক আয়নায় বন্দি হতে চাই, ঠিক এভাবে।

কথাগুলো বলেন জারিফ দুই হাতের বাধন খুলে আয়নাকে জড়িয়ে ধরে। আর আয়না সে তো হতভম্ব জারিফের কান্ড দেখে। হাত থেকে ফল কাঁটার ছুরি ছুঁড়ে মেরে জারিফের বুকে খুঁজে।

পাঁচ বছর পর,

– বাবা, মাম্মাম কাছে যাবো।
– মাম্মাম তো এখন ব্যস্ত আয়রা মামুনি।
– ই আমি যাবো মাম্মাম কাছে। তুমি প্রমিজ করেছো এই জুসটুকু শেষ করলেই নিয়ে যাবে।

জারিফ ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিল। পাকা বুড়ির কথার সাথে না পেরে হার মানল। ল্যাপটপ পাশে রেখে মেয়েকে নিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে গেল। বাবা মেয়ের যাওয়ার উদ্দেশ্যে হলো পাশের কবরস্থান।

নির্দিষ্ট স্থানে এসে বাবা মেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। জারিফের চোখ বেয়ে অবাধ্য অশ্রুকণা অনবরত ঝড়ে যাচ্ছে। আয়রা অতি সমর্পণে বাবার চোখের পানি মুছে বলল।
– বাবাই, আজও কী মাম্মাম আসবে না?
ছোট্ট আয়রার প্রত্যুওরে কী বলবে জারিফ বুঝে উঠতে পারছে না। জারিফ কখনও মিথ্যে বলতে পারে না আয়রাকে। তাই আয়রার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই আয়ু সম্বোধনে কেউ ডেকে উঠে।
পেছনে ফিরে দেখে আয়না হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে জারিফের সামনে। আয়রা বাবার কোল থেকে নেমে দৌঁড়ে চলে যায় মাম্মাম মানে আয়নার কাছে।

আয়না মেয়েকে পরম যত্নে কোলে তুলে নিয়ে গালে আদর করে বলে।
– মিস ইউ সো মাচ আয়ুবেবি।
– আমিও অনেক মিস করেছি মাম্মাম।
– খালামনি আর দাদুকে বাই বলেছো তো!
আয়নার কথার প্রত্যুওরে আয়রা জ্বিভ কেঁটে বলে।

– সরি মাম্মাম, একটুও মনে ছিল না এখনই বলে আসছি।

ছোট্ট আয়রা দাদুর কবরের পাশে এসে বলে।

– দাদু তুমি চুপ করে ঘুমিয়ে থাকো চিন্তা করো না।আমি বাবাকে সামলে নিবো। তোমার আয়ু দাদামনি তোমার সাথেই আছে। আমি আবার কাল আসবো তোমাকে দেখতে লক্ষি বাচ্চার মতো থাকো টাটা।

একসাথে দুই দুটি কবরে শায়িত আছেন জারিফের মা এবং জারিফের মামাতো বোন জারিন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর জারিন মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায় ফলে মানসিক হাসপাতালে দীর্ঘ দুই বছর থাকার পর সুইসাইড করে নেয়। জারিফের মা গতবছর স্ট্রোক করে মারা যান। যার জন্য আয়না প্রতিদিন মা কে দেখতে এখানে আসে আয়রার অনুপস্থিতিতে। আয়রা বায়না ধরে বিধায় জারিফ এভাবেই প্রতিদিন এটা সেটা বাহানা করে রেখে দেয় কিন্তু আজ আর আটকাতে পারেনি তাই তো ছুটে এসেছে মাম্মামকে খুঁজতে।

– আমাকে কারো চোখে পড়ে না! মা মেয়ের দিব্যি আদর করছে একে অপরকে। তা আমি কী করলাম আমি কেন আদর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবো?

মা ও মেয়ের খুনসুটির মাঝে জারিফ গাল ফুলিয়ে বলতে শুরু করে।

– আয়ু মা, ঠিকই তো! এটা কেমন বাবাকে আদর দিচ্ছো না যে!

পেছন থেকে কারোর আওয়াজ পেয়ে আয়রা সেদিকে তাকিয়ে দেখে, সাজিয়া এবং দর্পণ হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। আয়রা খালামনি বলে এক দৌড়ে চলে যায় সাজিয়ার কাছে। সাজিয়া এবং দর্পণের এংগেজমেন্ট হয়ে আছে তাদের পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে সানাই বাজবে।

জারিফ সকলকে বিদায় জানিয়ে অফিসে চলে যায়। কাল জারিফ এবং আয়নার বিয়ের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে তাই সাজিয়া দর্পণ আয়নার জন্য সারপ্রাইজ পার্টির প্ল্যান করছে।
——–
রাত একটা বাজে দশ মিনিট। সোফা থেকে শুরু করে ফ্লোরে যে যেখানেই জায়গা পেয়েছে সেখানেই শুয়ে পড়েছে। এই পর্যন্ত আয়না জারিফকে ত্রিশ বারের মত কল করেছে কিন্তু জারিফের কল রিসিভ করার নাম গন্ধ নেই। বেশি রাত হওয়ায় রাতের খাবার খেয়ে যে যার মত চলে গিয়েছে আর কয়েকজন এই বাসায় রয়ে গিয়েছে।

সদর দরজা খুলে চুপি চুপি প্রবেশ করে জারিফ। আজ অফিসে কাজের খুব চাপ থাকায় জারিফের ফিরতে দেরি হয়। জারিফ জানত না জারিফের জন্য এমন একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছিল। সবার অবস্থান দেখে জারাফ কিছুটা আফসোস করল। নিজ কক্ষে ফ্রেস হয়ে একেবারে সবাইকে জাগাবে এই ভেবে কক্ষের দিকে অগ্রসর হয়। কক্ষের দরজা খোলার সাথে সাথে মুখে তরল জাতীয় কিছু পড়ে। লম্বা নিশ্বাস টেনে কয়েকমিনিটের মধ্যে জারিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় বসে আছে জারিফ। চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিতেই চোখ খুলে তাকায়। বদ্ধ ঘরে জারিফ বসা অবস্থায়। ঘরের আলো জ্বালাতেই জারিফের আঁখি যুগল বড়ো হয়ে যায়।
সামনে যে স্বয়ং আয়না বসে আছে কপালে গান ঠেকিয়ে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জারিফের পানে। জারিফ ভীত সমেত ঢোক গিলে আয়নাকে বলল।

– আয়না বউ আমার, গুন্ডিরুপ ধারন করেছ কেন? আমি সরি বোম্বাইমরিচ আজ অফিসে অনেক কাজ ছিল তাই আসতে পারিনি, সরি বউ।

– আয়না ক্ষমা করতে জানে না। বিশেষ করে আপনজন যদি কষ্ট দেয় তো আরো আগে না।

আয়নার এই রুপের জন্য একমাত্র জারিফ দায়ি।জারিফ মনে মনে ভাবছে, ” কিছু একটা করে আগে ছাড়া পাই তো তোমাকে বোঝাবো এই জারিফ কি।”

জারিফের ভাবনার মাঝেই আয়না আবার বলতে শুরু করল।
– কেন আমাকে রাগালেন, এর শাস্তি তো পেতেই হবে। খুব শখ আয়নার আগের রুপ দেখার তাই না!

জারিফ বুঝতে পেরেছে আজ তাঁর রেহাই নাই তাই আয়নার দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

– বউ, আমার হাতে খুব ব্যথা পাচ্ছি রক্ত বের হচ্ছে দেখো! কত শক্ত করে বেঁধেছো।

ব্যাস এটুকুই যথেষ্ট ছিলো আয়নার মন নরম করতে। জারিফের ব্যথা যে আয়না সহ্য করতে পারে না। হাতের গান ফেলে জারিফের হাতের বাঁধন খুলে দেয়। আর এমনিই জারিফ আয়নার হাত ধরে পেছনে মুড়ে শব্দ করে চুমু খায় আয়নার গালে।

– কি বউ, কেমন দিলাম? তুমি যদি গুন্ডি হও তো আমি তোমার গুন্ডা। সুতরাং নড়চড় করে লাভ নেই।

আয়না এখন আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আর সব কিছু সম্ভব হয়েছে জারিফের জন্য।

ছাঁদের রেলিং ঘেসে বসে আছে জারিফ আর তাঁর বুকে গুটিশুটি মেরে লেপ্টে আছে আয়না। জারিফ তৃপ্তির নিশ্বাস ত্যাগ করছে এইভেবে যে অবশেষে এই আয়নার প্রতিবিম্বে বন্দি করেই ছেড়েছে তাঁর বোম্বাইমরিচ।

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here