প্রেমালঘ্ন পর্ব -৩৩+৩৪

#প্রেমালঘ্ন
#লেখিকাঃনওশিন_আদ্রিতা
#পার্টঃ৩৩
,
,
,
,
হস্পিটালের সবাই অবাক হয়ে দেখছে রহমান পরিবারের এই ঘটনা। সবার মুখ জুড়ে র‍য়েছে বিস্ময় কিন্তু রহমান বাড়ির সকলের চেহারায় রাগ। বড় আব্বু মানে আসফির বাবা তিনি চোখ বন্ধ করে পিছনে ঘুরে রয়েছেন মিসেস রহমান উনাকে সামলাতে ব্যাস্ত।কারন এই মহূর্তে যদি তিমি উনার স্বামিকে শান্ত না করেন তাহলে এই হস্পিটালেই কুড় ক্ষেত্র বাধাতে তিনি এক মহূর্ত বিলম্ব করবেন না। এদিকে ছোট মা কে আটকে রেখেছে ছোট আব্বু।ছোট মায়ের চোখে পানি থাকলেও তাতেও ক্রোধ ও রয়েছে

সবার দৃষ্টি এই মহূর্তে আসফির সামনে দাড়িয়া থাকা মহিলার দিকে।সবাই একবার রুদ্ররূপ ধারণ করা মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছে তো এক বার আসফি নামক ছেলেটির দিকে যে এখনো মাথা নিচু করেই রেখেছে না আছে কোন নড়াচড়া না চেহারার কোন অনুভূতির প্রকাশ যেনো কোন পুতুল জ্যান্ত পুতুল।

—আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য শুধুমাত্র তুই দায়ী আশু।বিয়ে করেছিলি ওকে তো কি করে পারলিনা নিজের বউ এর খেয়াল রাখতে।

সবাই নির্বাক। মহিলা যেমন ই হক প্রশ্ন টা তার ভুল না রহমান সাহেব ও এই জন্য কিছু বলেনা কিন্তু মনে মনে ভিষন অবাক ঠিকি হন যে মহিলা তার ৬ মাসের কান্নারত মেয়ে কে ফেলে অন্য লোকের হাত ধরে চলে গেছিলো সে কি করে আজকে তার সে মেয়ের জন্য এই চিন্তার অভিনয় করতে পারেন বুঝতে পারলেন না তিনি এ কোন নতুন রুপ তার।কোন নতুন সরযন্ত্র করতে এই বিষধর নাগিনীর তাদের জীবনে আগমন।

—কি হলো জবাব দে আমাকে

—কোন অধিকারে এই প্রশ্ন করছেন আপনি আমার স্বামিকে মিসেস সরকার। হঠাৎ কেন এতো ভালোবাসা উতলিয়ে পরল আমার প্রতি।আমি তো এতোটা সৌভাগ্যবান নয় তাহলে

সবাই চমকে যায় আমার গলা শুনে সেটা তাদের হতদম্ভ মুখ দেখেউ বুঝা যাচ্ছে।বড় আম্মু ছোট আম্মু দৌড়ে আসেন আমার কাছে দুইজনে দুই দিক দিয়ে আগলে ন্যায় আমাকে। সেটা দেখে আমি মৃদু হাসলাম। আমি জানি এই দুই মা জান দিয়ে ভালোবাসে আমাকে বিশেষ করে আমার বড় মা হ্যা ছেলের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে খারাপ ব্যবহার করেছেন ঠিক কিন্তু সেজন্য কি করে উনার ১৯ বছরের ভালোবাসাকে মিথ্যা বলে দাবি করি।বুকে পিঠে যে এই মানুষ টাই আমাকে বড় করেছে।

—আরু মা আমার

মিসেস সরকার হাত বারিয়ে আমার দিকে এগুতে নিলেই হাত দিয়ে থামিয়ে দি

—ভুলেও কাজটা করবেন না মিসেস সরকার। আমি চায়না অপবিত্রতা আমাকে ছুয়ে আমাকে নষ্ট করে দিক।

আমার এমন তিক্ত বাক্য শুনে উনার পা থেমে গেলো নেত্রপল্লব ভারি হয়ে এলো অশ্রু কণায়।কাপা গলায় কথা বলতে শুরু করলেন

—এই ভাবে বলতে পারছিস আমি যে তোর মা রে ৯ টা মাস এই মহিলার পেটেই যে তোর বাস ছিলো।৬টা মাস যে এই মায়ের বুক টাই তোর সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গা ছিলো কি করে সে আমাকে অপবিত্র বলে আখ্যায়িত করলি রে তোর গলা টা একটাবার কাপলোনা

—আপনার সে বুক টা কাপেনি যখন ৬ মাসের দুধের বাচ্চা কে ফেলে চলে গেছিলেন কষ্ট হয়নি এটা ভেবে যে কিভাবে থাকবে আপনার নাড়ী ছেড়া ধন আপনাকে ছেড়ে। একটাবার মনে হয়নি কি করে মায়ের আচল ছাড়া আপনার মেয়ে এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় বাচবে। একটা বার ভাবেন নি নিজের মেয়েকে ছেড়ে যেতে যে সে মেয়েটা রাতে ভয় পাবে আপনার এই সুরক্ষিত বুকটা ছাড়া। দিব্বি সংসার করে গেছেন একটা বার প্রয়োজন মনে করেন নি এই আকাশের নিচের কোন এক জায়গায় আপনার মেয়েটা আপনার জন্য কান্না করছে।

—মা রে একটাবার আমার কথা শুন আমি তো তোর মা

—জন্ম দিলেই মা হওয়া যায়না মা কাকে বলে যানেন।এই যে দুই নারীকে দেখছেন এরা হলো মা মমতাময়ী মা।যারা নিজের ছেলে মেয়ে কে তো মানুষ করেছে সাথে মানুষ করেছে এক নষ্টা মায়ের মেয়েকে।রাতের বেলা যখন মা বলে কান্না করতাম এই দুই মহিলা এসে ঝাপটে ধরতো আমাকে তাদের বুকে।আপনার মতো মহিলার মুখে মা শব্দ টা মানায় না মিসেস সরকার।আর কি যেনো বলছিলেন আসফিকে বিয়ে করেছিস কি করে পারলিনা ওর খেয়াল রাখতে এবার একটা প্রশ্ন আমি করি দিবেন জবাব

মিসেস সরকার ছল ছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বুকটা ব্যাথা করছে নিশ্বাস টা আটকে আসছে যতোই মুখে তিতা কথা বলি মা হয়।না জানে কতোবার এই মায়ের মুখ দেখতেই স্কুল মিস করে দৌড় দিয়েছি তার ঠিকানাই। মুখে এক রাশ হাসি চোখ ভোরা এক আকাশ সমান ভরসা নিয়ে যখন এই মহিলার সামনে দাড়াতাম একটু তার সান্নিধ্যে পাওয়ার আসাই তখন রাস্তার ভিখারি বলে তাদের বাসার দাড়োয়ান তাড়িয়ে দিতো।জানালা দিয়ে সব দেখলেও কোন দিন নিচে নেমে এসে কান্না রত মেয়েটির চোখ মুছে দেন নাই। আজ কেনো এই মহিলার চোখের পানিতে আমাকে এতোটা কষ্ট দিচ্ছে জানিনা

—আসফি ভাই নাহয় আমাকে বিয়ে করে তার বউ এর খেয়াল রাখতে পারে নাই। আচ্ছা আপনি কেন পারলেন না নিজের নাড়ি ছেড়া ধন কে আগলে রাখতে বলুন

চিৎকার দিয়ে কথাটা বলতেই মাথা টা ঘুড়ে উঠলো। বড় আব্বু এসে আমাকে জোড় করে নিয়ে গেলেন কেবিনে এগিয়ে এলেন না আসফি ভাই।সবার মুখে অস্থিরতা দেখতে পেলেও নির্বাক ছিলেন শুধু আসফি নামক লোকটা।
অভিমানের পাহাড় নামার জায়গায় যেনো আরও উচু হতে লাগলো সামনের মানুষ টা কি এক বিন্দু টের পেলো এই অভিমানের। বুকটা যেমন আসাঢ় হয়ে আসছে তেমনি মুশকিল হয়ে আসছে চোখ দুইটা খোলা রাখা।

কেন এতোদিন পরে ফিরে এলেন মিসেস সরকার তিনি কি জানেন না তার মেয়ে যে তার ছায়া থেকেও নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চায়। সে যে যায় না সেও তার মতো হয়ে উঠুক বেঈমান। কিন্তু তার মেয়ে যে বড্ড লোভী তার মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে মা মা ঘ্রাণ নেওয়ার টার ইচ্ছা টা যে তার তীব্র এই ঘ্রান টা যে শুধু মা দের মাঝেই পাওয়া যায়। একদিকে মা একদিনে স্বামি।কেন আমি এতো অভাগী কেন আমি সব সময় তাদের ই অবহেলা পায় যাদের এক আকাশ সমান ভালোবাসি। কেন তাদেরকেই আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয় যারা আমার বুকের বাম পাশটাই থাকে

—আপনি কই আসফি আমার যে আপনাকে বড্ড প্রয়োজন আপনার শ্যামাঙ্গিনী ভেংগে পরছেন এসে তাকে সামলে নিন।সে চায়না তার এই অসহায় রুপ টা কেউ দেখুক। এতো এতো মানুষের ভিরেও যে আমার আপনার সান্নিধ্যেই প্রয়োজন আপনার বুকের উষ্ণ ছোয়া চায়।আপনার ঠোঁটের নরম পরশ চায় আপনার ভালোবাসা চায়।

আমার মনের কথা গুলো আমার মনেই চাপা থেকে গেলো গলা দিয়ে বেরিয়ে আসার সাহস টুকু করলোনা। কড়া ঔষধের জন্য আখি জোড়া ঘুমে তলিয়ে গেলো

—–

ঘুম ভেংগে আসতেই টের পেলাম সারা মুখ জুড়ে কারো উষ্ণ ভালোবাসার স্পর্শ বুঝলাম আমার পাগল টা এসেছে। তার শ্যামাঙ্গিনীকে তার ভালোবাসা দিয়ে পাগল করতে।হটাৎ ঠোঁটে তার স্পর্শ পেতেই কেপে উঠলাম উনি দূরে সরে যেতে নিলেই হাত ধরে ফেললাম উনি সাথে সাথে আমার দিকে ঘুরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন যেনো ছেড়ে দিলেই পালিয়ে যাবো বহুদূরে

কানে তার মাতানো স্বর আসতেই দুই হাত দিয়ে তাকে আরও শক্ত করে চেপে ধরলাম তার মাঝে ঢুকে যাওয়ার অপ্রান এক চেষ্টা আর কি

-সময় খসে ঘড়ির থেকে অপেক্ষাতে প্রহর গুনি

প্রতিধ্বনী ফিরে এলে আবছায়াতে শব্দ শুনি,

আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামুক
অচেনা সব মেঘের ঘরে

সাগর দেখুক নদীর সাহস
শূন্যতার এই দুপ্রহরে,

তুমি কেন দেখোনা শ্যামাঙ্গিনী তুমি
বিহীন এই পুরুষের শুণ্যতাই ভরা বুকটাকে
এতো নিষ্ঠুর কি করে হয়ে গেলে
বনলতা
#প্রেমালঘ্ন
#লেখিকাঃনওশিন_আদ্রিতা
#পার্টঃ৩৪
,
,
,
,
,
পরেরদিন ডিসচার্জ নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম পুরো পরিবার ডাক্তার বলেছিলো আরও ৩ দিন সেখানেই থাকতে কিন্তু আমি রাজি হয়নি।কারন বাসাতে থাকলে মিসেস সরকার আসবেন না কিন্তু হস্পিটালে থাকলে ঠিক কোন না কোন বাহানা আসতেন যা আমি চায়না।চায়না আমার পরিবারে আমার স্বামি আমার সংসারের উপরে ওই মহিলার ছায়া যে মহিলা আমার বাবার মৃত দেহ দেখতে অব্দি আসে নাই।

সবাই আমাকে রাজশাহীতে নিয়ে যেতে চাইলেও বাধ সাজলো আসফি ভাই তিনি কোনমতেই৷ চান না আমাকে এই অবস্থায় সেখানে পাঠাতে।
সবাই আসফি ভাইয়ের জেদ এর কাছে হেরে গিয়ে ফিরে গেলেন রাজশাহী বড় আম্মু থাকতে চাইলে বিনা বাক্যে নিষেধ করে দিয়ে গম্ভির গলায় বলে উঠলেন

—আমার বউ এর খেয়াল আমি রেখে নিবো কারো প্রয়োজন নেয় আমার বউকে দয়া করার।

তার এহেন কঠিন বাক্য শুনে কারো সাহস হয়নি আমাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার। আমি নিশ্চুপ ছিলাম সারা টা সময়।ঘড় টা এখনো সে রাতের মতোই সজ্জিত শুধু শাড়িটা জোড় পোল্টো করে খাটের এক কোণায় বড্ড অযত্নের সাথে পরে আছে।বিছানায় বসে শাড়িটা হাতে নিয়ে ঠোঁট ছোয়ালাম। এই শাড়িটা আসফি ভাই দিয়েছিলেন আমাকে আমার সপ্তাদশীতে পদর্পণ করার দিনে।ভাজ করে আলমাড়ির এক কোণেই রেখে দিয়েছিলান কোন দিন ভাজ ভাংগা হয়েছিলোনা শাড়িটার সেদিন আলমারি হাতরে এই শাড়িটা দেখতেই পুরানো সৃতি মনে পরে গিয়েছিলো বলে সব শাড়ি থুয়ে এটাই জড়িয়েছিলাম শরীরে।খুব সুন্দর ভাবে নিজেকে পরিপাটি করে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম আমার সেই একাবত ব্যাক্তিগত মানুষ টার জন্য। অপেক্ষা করছিলাম প্রেমালঘ্নে আরও একটি সুন্দর মহূর্ত যোগ করার জন্য। কিন্তু আমার সকল অবশান নিমিশেই চুর্মার করে নোটিফিকেশন টোন টা বেজে উঠে

ফোন হাতে নিতেই সর্বপ্রথম চোখে পরে আসফি ভাইয়ের ম্যাসেজ সেখানে সেখানেই৷ গোটা গোটা বাংলা শব্দে লেখা

“আমার আসতে দেরি হবে মনে হয় তুই খেয়ে দেয়ে ঘুমায় পড়িস আমার জন্য না খেয়ে থাকিস না আবার আমি খেয়েই ফিরবো। শ্যামাপাখি রাগ করিও না।

চোখ দুইটা আপন মনেই ভরে উঠেছিলো অশ্রুতে। তাও ভেবেছিলাম হয়তো বারোটার আগেই ফিরবেন উনি তখন বাজে ১১ টা ৩০ ম্যাসেজ দিয়েছিলেন ৮টার সময়।সেভেবেই নিজেকে স্থির রেখে বসে ছিলাম কিন্তু অপেক্ষার প্রহর যেনো শেষ হওয়ার নাম ই নিচ্ছিলোনা দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটা যেয়ে ছুলো ১২ টা ৩০ এর ঘড়। ধৈর্যের সমস্ত সীমা ভেংগে আসফি ভাইকে ফোন দিতেই মার্জান এর আইডি থেকে একটা ভিডিও আসে।ওন করতেই দেখা যায় প্রিয়ন্তিকা আর আসফি ভাইয়ের হ্যাস্বজল মুখ।আসফি ভাইয়ের হাতের উপর নিজের হাত রেখে কি দারুন ভাবে কেক কাটছে প্রিয়ন্তিকা। যার চোখ দুইটা আসফির ভাইয়ার দিকেই স্থির।বুকটা কেপে উঠলো। আখিজোড়াও অশ্রুতে ভিজে উঠলো।সারা শরীর আষাঢ় হতে শুরু করলো।হাত থেকে কখন ফোন পরে গেছিলো টের ই পেলাম না।কোন রকম নিজের রুমে যেয়ে শরীরে লেপ্টে থাকা শাড়িটা খুলে ফ্লোরে ছুড়ে মেরে সাওয়ার এর নিচে নিজের শরীর এলিয়ে দিয়েছিলাম।শরীর টা যেনো নিস্তেজ হতে শুরু করেছিলো বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো আসফি ভাইয়ের সে হাসি মুখটা আর সে হাস্যজ্বল মুখটার দিকে প্রিয়ন্তিকার মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকা দৃশ্যটা।

কেনো আমার মানুষ টার দিকে অন্যকেউ তাকাবে কেনো সে আমার হাতে হাত না রেখে অন্য কারো হাতের উপর তার হাত রাখবে কেন তার শরীরের সাথে অন্য কারো শরীরের স্পর্শ পাবে।কেনো তার হাসির কারন অন্য কেউ হবে কেনো তার সবচেয়ে স্পেশাল দিনটাই অন্য কেউ তার জন্য স্পেশাল কিছু করবো। আমার ব্যাক্তির সব কিছুই হবে আমাকে ঘিরে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে আখিজোড়া অন্ধকারে ঢেকে গেছিলো বিন্দু মাত্র টের পেয়েছিলাম না।

হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে চমকালাম দ্রুত শাড়িটা বাস্কেটে রেখে ঘুড়ে দাড়ালাম। আসফি ভাইয়ের সাথে প্রিয়ন্তিকা কে দেখে অবাক হলাম। মহিলা আমার গলার কাটা হয়ে গেছে।

—আসতে পারি আরু

—আরু না আয়রা

আমার কঠিন করে বলা কথাটাই হয়তো দুজনেই চমকালেন তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসলোনা যে যা ভাবার ভাবুক আমার কি।

—আরে রাগ করছো কেনো। আচ্ছা রাগ করোনা সরি আসলে আয়রা কে শর্ট এ আরু বলেই তো ডাকে আসফি তাই আমিও ভাবলাম আমিও ডাকি

—আসফি ভাই আর আপনি নিশ্চয় এক না

—তোমার ভাই তো তারমানে ঠিক ই বলেছে তার বোন ধানিলংকা

—উনি বলেছেন উনার বোন ধানিলংকা

—হুম বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞেস করো এখানেই তো দাঁড়িয়ে আছে

আমি নির্লিপ্ত ভংগিতে তাকালাম উনার দিকে আমি উনার বোন হিসেবে উনার বন্ধুমহলে পরিচিত সেটা আমার জানা ছিলোনা।অবশ্য বিয়েতে উনার কোন বন্ধু উপস্থিত ও ছিলোনা ক্যাম্পাসে যারা যারা আমাকে চিনে তারা আসফি ভাইয়ের চাচাতো বোন হিসেবেই আমাকে জানে।আমি তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বলে উঠলাম

—আপনি বসুন আমি আপনার জন্য কফি নিয়ে আসছি
—উহু তুমি অসুস্থ বসো আমি করে আনছি আমি তো আর এই বাসার মেহমান না।

—দুইজনেই এখানে বস আমি নিয়ে আসছি।

আসফি ভাই কথাটা বলে দাড়ালেন না হাটা দিলেন কিচেনের দিকে আমি প্রিয়ন্তিকা কে বিছানাই বসতে বলে নিজেও বসলাম

—হঠাৎ সাওয়ারের নিচে জ্ঞান হারালা কি করে।জানো কতো কি প্ল্যান করেছিলাম আমি আসফি কে নিয়ে সারাদিন ঘুরবো ইঞ্জয় করবো রাতে ডিনার করে তারপরে যায়ে বাসায় ফিরবো কিন্তু তুমি অসুস্থ হয়ে পরায় আসফিকে সব ক্যান্সেল করতে হয়। সেদিনটা তোমার পিছনে ভাগ দৌড় করতেই কেটে যায় আমাদের আর বের হওয়া হয়না

—ওহ সেজন্য আমি দুঃখিত
—হুম জানো আমি তো এইজন্যই দেশে ফিরেছিলাম এতো তাড়াতাড়ি নাহলে ফিরার কথা ছিলো মাস খানেক পরে

ধীরে ধীরে প্রিয়ন্তিকা নিজের আর আসফির ব্যাপারে বলতে শুরু করলো।না পারছিলাম সেখানে বসে থাকতে না পারছিলাম উঠতে।কোন দিন কল্পনাও করিনি আসফি ভাই কারো এতোটা কাছে ছিলো যে আসফি ভাইয়ের বিষয়ে সব কিছু এর জানা

আচ্ছা আমি কোন ভাবে এদের মাঝে চলে এসেছি।প্রিয়ন্তিকার বর্নণা অনুযায়ী তারা একে অন্যকে অনেক পছন্দ করতো কিন্তু বলা হয়নি।আচ্ছা সত্যি যদি ভালোবাসা থেকে থাকে লুকায়িত অবস্থায় আর সেটা যদি এখন পুনরায় একে অন্যের সাথে থাকতে থাকতে অসামপ্ত ভালোবাসা পুর্ণতা পেয়ে যায়।গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। টেবিল হাতরে পানি নিয়ে গলা ভিজিয়ে নিলাম।

এরই মাঝে সেখানে উপস্থিত হলো আসফি হাতে ট্রে তে তিনটা কাপ নিয়ে প্রবেশ করলো।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে সাথে নাকেও। শুনেছিলাম মেয়েদের নাকে ঘাম জমলে নাকি স্বামির আদর ভালোবাসা পায় বেশি।ছেলেদের বেলাতেও কি একই নিয়ম

আমি আসফি ভাইয়ের দিকে আগানোর আগেই প্রিয়ন্তিকা আসফির ভাইয়ার ঘাম সযন্তে নিজের শাড়ি দিয়ে মুছে দিলো। আমি সেখানে পাথরের মুর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম কারন আসফি ভাই প্রিয়ন্তিকার এমন কাজে বিরোধিতা করে নি বরং হেসে দিলো

—তোর অভ্যাস এখনো যায়নি
—উহু তোর ঘাম দেখলে আমার শাড়ি আমাকে বলে যা প্রিয়ু আসফির ঘাম মুছে দে নাহলে তুই শাড়ি হিসেবে কলংক। তুই প্রিয়ুর শরীরে আছিস শুধু আসফির ঘাম মুছে দেওয়ার জন্য

প্রিয়ন্তিকার এমন বাক্যতে আসফি হাসলেও রাগে আমার শরীর জ্বালা করছে।

—আসফি সেদিন তো বেরুতে পারলাম না আজকে চল না ঘুরে আসি প্লিজ ৫ বছরের মতো হয়ে আসলো ঢাকা শহরটাকে দেখা হয়না

— কিন্তু আরু অসুস্থ তাকে একা থুয়ে কি করে যায় বলতো সবাই আমার দ্বায়িত্বে ওকে ছেড়ে গেছে

—আরে ওই তো এখন সুস্থ। আর বেশিক্ষন থাকবো না তো
—বুঝার চেষ্টা কর

—প্লিজ প্লিজ

—আচ্ছা

আসফির ভাইয়ের আচ্ছা নামক বাক্যটা যে এতোটা কষ্টদায়ক এর আগে সেটা বুঝতে পারিনি।আমার অসুস্থতা তাকে যে এতোটুকু ভাবায় না সেটা আজ বুঝলাম। নাকি গুরুত্ব কমে গেছে

—তুই একা থাকতে পারবিতো

আমি কিছু না বলে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম

—আরে হ্যা হ্যা পারবে আয়রা কি ছোট নাকি।

—আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম

আমি তখন ও নির্বাক চুপচাপ আসফির ভাইয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি তার চোখ পড়ার নিছোক চেষ্টা। আমার বোধগম্য হচ্ছেনা এই শান্ত চোখ দুইটার ভাষা।কেমন প্রিয়সী হলাম যে নিজের প্রেমিক পুরুষের চোখের ভাষাই বুঝতে পারছিনা।তবে কি প্রেমিকা হিসেবে আমি ব্যর্থ।

চলবে!
চলবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here