বলব_কবে_ভালোবাসি পর্ব ১৩

#বলব_কবে_ভালোবাসি
#পর্ব_১৩রহস্য_ভেদ
#Marufa_Yasmin

” বল কেনো ডেকেছিস?তোকে দেখে দিন দিন অবাক না হয়ে পারছি না ।কি করে পারছিস নিজের বোনের ক্ষতি করার কথা? আরু তোর বোন আদি! ওর সাথে তোর কি শত্রুতা আমি সেটাই বুঝতে পারছি না। ”

” উফফব দীপ চুপ কর তুই। আর আরু আমার আপন বোন নয়। তুই জানিস কেনো করেছি এইসব শুনবি। চল তাহলে আমার সাথে। ”

আদি দীপ্ত কে একটা জাগায় নিয়ে গেলো একটা বড়ো বাড়ি চারিদিকে জঙ্গল। কেমন থমথমে পরিবেশ। ভুতের টাইপের।বড়ো জঙ্গলের মাঝে বাড়িটা চারিদিকে বড়ো বড়ো গাছ শুকনো পাতায় ভর্তি হয়ে আছে মাটি।এক পা ফেললেই আওয়াজ হচ্ছে।আদি দীপ্ত কে ভেতরে নিয়ে গেলো।বাড়িটায সব জিনিস পত্র সাদা কাপড়ে ঢাকা।মাকড়সার জাল এ ভর্তি।আদি আর দীপ্ত শিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। একটা বড়ো রুমের ভেতর ঢুকল। আদি একটা বাচ্চা মেয়ের ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তার চোখ ভরে এলো দীপ্ত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল

” আদি কে মেয়েটা? ”

” আমার বোন আরু। ”

” কি বলছিস তুই এটা কি আরুর ছোট্ট বেলার ছবি? ”

” এই আরু তোর আরু নয় আমার বোন আরু যাকে ছোট বেলায় আমি নিজের থেকেও বেশি ভালবাসতাম।আর তোর আরুর জন্য ওকে হারাতে হয়েছে। ”

” কি সব বলছিস আদি আমি তোর কথা কিছুই বুঝতে পারছি না প্লিজ ক্লিয়ার করে বল দোস্ত। ”

” দীপ তোকে সব বলব বলার জন্যই এখানে এনেছি। শোন তাহলে। আমি আরতি মা বাবা অনেক হেপি ছিলাম জানিস আরতি ছিল আমার কলিজার ঢুকরো।

ফ্লাসব্যাক …………………..

” আরতি বুনু আমার এত জিদ করিস কেনো আমারা যাবো তো ঘুরতে। ”

ছোট্ট আরু আদির দিকে তাকিয়ে ছলছল চোখে বলল

” দাভাই তুমি সত্যিই বলছো? আমাকে নিয়ে যাবে তো।আমি কিন্তু পাহাড়ে যাবো। ঘুরবো এএএএএ কি মজা দাভাই ইজ বেস্ট । ”

খুশিতে নাচতে লাগে আরু। আদি তার বাবার কাছে গিয়ে বলল

” বাবা বনু কে নিয়ে ঘুরতে চলো প্লিজ বাবা ও না হলে খুব কাঁদবে আর ও কাঁদলে আমি সহ্য করতে পারবো না। ”

” বেশতো কথায় যাবি তাহলে? ”

” বাবা কানচনজঙ্গা যাবো ”

” ও বাবা অসম যাবে বেশ তাহলে তাই হলো আমারা অসম যাচ্ছি। ”

সবাই অনেক খুশি অসম যাচছে।ছোট্ট আরু তো নেচে নেচে বেড়াচ্ছে পাহাড়ে যাবে সে তো পাহাড় কি এখনো বোঝাই না বই এ ছবি দেখেছিল।সেটাই তার দাভাই কে দেখিয়ে বলেছিল দাভাই আমি এখানে যাবো। বেশ দাভাই বাবা কে বলে ঠিক করেনিলো অসম যাবে।
আরুর বয়স তখন চার বছর।

অসম এসে আরু আদি তাঁদের মা বাবা পাহাড়ের রাস্তায় গাড়ি করে যাচ্ছিল হঠাত দেখে সামনে একটা বাচ্চা মেয়ে জোরে কাঁদছে আশেপাশে কেউ নেই।আরুর মা আদি আরুর বাবা এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার কাছে গিয়ে বলল

” কি হয়েছে মা কাঁদছো কেনো? ”

বাচ্চা মেয়েটা ভালো কথা ও বলতে পারছিল না।তখন তার বসযটা তিন বছর।মুখে আঙ্গুল ভোরে কেঁদে চলেছে। মাথায় অনেক চোট পেয়েছে।হাত পা ছিড়ে গেছে রক্ত ও ঝরছে।
এদিকে আরু যে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ের একদম কাছে চলে গেছে সেটা কেউ বুঝতে পারেনি হঠাত আদির চোখ যায় রাস্তায় আরু একদম কাছে চলে গেছে কিন্তু আদির যাওয়ার আগেই আরু পাহাড় থেকে পরে যায়।আদি চেঁচিয়ে উঠে

” বনুনুউ ”

আদি স্তব্ধ হয়ে যায়। আদির মা বাবা বাচ্চা মেয়ে টাকে কোলে তুলে এগিয়ে এসে আদি কে বলল

” কি হল আদি আরু কই ।”

আদি অঙ্গুল দেখিয়ে বলল

” বনু নিচে পরে গেছে। ”

আরুর মা চেঁচিয়ে কেঁদে ওঠে।

তারপর বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে কলকাতা ফিরে আসে।আরুর মা অসুস্থ হয়ে মেয়েকে হারানোর বেদনায়।তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন ছোট বাচ্চা মেয়েটা এসে মঙ্গলা দেবীর হাত ধরে বললেন

” মা মা খাবো ।”

বাচ্চার কথা শুনে বুকে টেনে নেয়।মঙ্গলা দেবী।এবং নিজের মেয়ের নামেই নাম দেন আরতি।এটা আদি মেনে নিতে পারলো না।ঘরের সব জিনিস পত্র ভাঙ্গতে শুরু করল

” এই মেয়েটার জন্য আমি আমার বোন কে হারিয়েছি শুধু মাত্র এর জন্য আমি কোনোদিন একে মেনে নেবো না। ”

হ্যা আদি আরু কে কোনোদিন সহ্য করতে পারতো না।

____________________________

বর্তমান

আদির চোখে পানি ছলছল করছে।দীপ্তর চোখে ও পানি।দীপ্ত বলল

” কিন্তু দেখ আরু তখন বাচ্চা একটা মেয়ে ওকে তুই এভাবে দোষ দিতে পারিস না ভগবান হয়তো এটা আরুর কপালে লিখেছিলেন। ”

” আমি পারি না ওই মেয়েকে সহ্য করতে। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড দীপ তুই আরুকে ভিক্ষা চেযেছিলি আমার কাছে ।তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিলাম আরু কে বাবা মা এর চোখে খারাপ আর তোকে তোর আরু পাইয়া দেওয়া।”

” আরু যদি কখনো জানতে পারে এইসব? ”

” জানলে জানবে ।”

” তখন তো আমাকে ভুল বুঝবে। ”

আদি কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বলল

” সন্ধ্যা হয়েছে চল। ”

হঠাত যেতে নিলে পেছনে ঘুরে দেখে হৃদ দাঁড়িয়ে।
আদি হৃদ কে দেখে বলল

” হৃদ তুই? ”

” হুম তোমাদের সব কথা শুনেছি।দীপ্ত আর আদি তোমরা দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড! আর আরু তোমার নিজের বোন না।কিন্তু দীপ্ত দা তুমি আরু কে এভাবে বিয়ে করেছ শুধু আদি দা এর কথায়।”

দীপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
” বলছি আদি আর আমি মুম্বই এ পড়াশুনা করতাম তখন থেকেই ওর সাথে পরিচয়। আর আদির ফোনে আরু অনেক পিক পাঠাতো তার কিন্তু আদি পিক দেখে বিরক্ত হয়ে ফোনটা বিছানায় ফেলে চলে যেতো।আমি আরুর পিক দেখে দেখে আস্তে আস্তে কেমন ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পরলাম আদির কাছে আরু কে চেয়ে বসলাম কিন্তু আদি এমন একটা শর্ত দিল।আরু কে আমি পাবো তবে তাকে সবার সামনে সিঁদুর পরাতে হবে আচমকা গিয়ে।কলকাতা ফিরি।
আদি জানায় যে আরুর স্কুলে সরস্বতী পূজো আছে আর সেই দিনই আমাকে সিঁদুর পরাতে হবে আমি তাই করি ।আদি ভেবেছিল হয়তো তার মা বাবা আরু কে ঘৃনা করবে তাই সে এমনটা করতে বলেছিল আমাকে কিন্তু আরু কে ওর মা বাব ঘৃনা না অনেক ভালোবাসা দিল। আমি আদির কথায় রাজি হতাম না কিন্তু আদি ওর ভাই এভাবে বিয়ে না করলে হয়তো আরু কে হারাতে হবে তাই।”

” বাহহ অনেক সুন্দর খেলা সাজিয়ে ছিলে তো দুজন।

বাকি

|| ভালো না লাগলে ইগনোর করুন ||

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here