ভালোবাস কি আমায় পর্ব ১০+১১

#ভালোবাসো কি আমায়া🍁
#Part-10
#Writer #Saima Islam Mariam❤
.
🍁
.

– মায়া বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাসায় চলে আসে। ডোরবেল বাজাতে নিলমা খান দরজা খুলে দেয়। মায়াকে একদম ভিজে গেছে দেখে নিলিমা খান মায়ার মাথায় হাত রেখে বলে

— সরি মায়াপরী। আমি সব কিছু দেখেও প্রটেক্ট করতে পারিনি। পারিনি রেহান কে অমন কাজ করতে বাঁধা দিতে ( নিলামা)
— ইটস ওকে খালামনি,, তোমাকে সরি বলতে হবে না।

নিলিমা খান বোঝতে পারে সকালের ব্যাপারটা নিয়ে মায়া আপসেট তাই আর কিছু বলে নি। মায়া নিজের রুমে চলে যায়।
রুমে গিয়ে সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে ঝরনা ছেড়ে তার নিচে বসে অনেক ক্ষণ কান্না করে। প্রায় ২ঘন্টার মতো শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে। মায়া আজকে ব্ল্যাক কালয়ারের টপস তার সাথে রেড কালারের প্লাজু পড়েছে চুল ভিজা তাই ছেড়ে দিয়েছে। লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে তাই নিচে এসে ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ে।

রেহান আজকে সাদা কালারের টি-শার্ট তার সাথে সাদা জিন্স প্যান্ট, চুল গুলো স্পাইক করা।রেহান সিঁড়ি দিয়ে মায়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,,,,, মায়া আরো একবার রেহান কে দেখে ক্রাশ খেলো। মায়া রেহানের দিকে তাকিয়ে আছে বোঝতে পেরে মুচকি হাসে।মায়া রেহানের হাসি দেখে বোঝতে পারে রেহান কেনো হাসছে তাই চোখ নামিয়ে নেয়

রেহান এসে চেয়ার টেনে বসে পড়ে। নিলিমা খান আর রিফতি মিলে লাঞ্চ সার্ভ করে দেয়। রেহান হঠাৎ করে বলে উঠে

— মাম্মা এই মেয়েটি কি আমাদের সাথে বসে লাঞ্চ করবে নাকি(মায়ার দিকে তাকিয়ে)

— দাদাভাই, মায়া আপু তো আমাদের সাথে বসে খাই, এতে অবাক হওয়ার কি আছে(রিফতি)

— অবাক হওয়ার বিষয় আছে তাই হচ্ছি।আজকে ওই মায়া টা আমাদের সাথে বসে খাবে না।(মায়ার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে)

— রেহান, তুমি এইসব কি স্টার্ট করেছে বলো তো,সকালে ও মায়ার সাথে রোডলি বিহেভ করেছো,এইসব কেনো করতেছো রেহান, হুয়াই?(রিফাত খান)

— আমি আর কিছু বলেতে পারবো না, আজকে মায়া আমাদের সাথে একসাথে বসে খাবে না! দ্যাটসেট (রেহান)

— তাহলে মায়া কোথায় বসে খাবে?(নিলিমা)

— ফ্লোরে বসে খাবে।আমাদের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাবে না!!

রেহানের কথা শুনে সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যায় মায়া এখনও বসে আছে। সবাই একসাথে বলে “ওয়াট দ্যা”

—- রেহান বাড়াবাড়ি করার একটা লিমিট থাকে, তুমি দেখি সব লিমিট ক্রস করে ফেলো।মায়া ম্যাড সার্ভেন্ট না যে ও ফ্লোরে বসে খাবে….. ম্যাড সার্ভেন্ট ও ফ্লোরে বসে খাই না আর সে জায়গায় মায়া!!

কথা এক নিশ্বাসে বলে রিফাত খান।

মায়া এইবার বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।মায়া হাত বলে

— ব্যাস আঙ্কেল তুমি চুপ যাও,, এইবার আমি কিছু বলি!

— শুনেন! মিস্টার রেহান খান। আমি কোনো কাজের লোক না যে ফ্লোরে বসে খাবো। ভুলে যাবেন না আমি এডভোকেট সায়ন চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে মায়া চৌধুরী। আমি মায়া চৌধুরী সবার সামনে বলতেছি আমি আর কোনো দিনও আপনার সাথে একসাথে খেতে বসবো না! ইটস মায়া চৌধুরীর প্রমিস। মাইন্ড ইট!

মায়ার কথা শুনে রেহান মায়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মায়া কথা গুলো বলে উপরে চলে যাওয়ার সময়।

— মায়াপরী তুমি কিছু খাবে না,কাল রাত থেকে তো কিছু খাও নি(নিলামা)
মায়া পিছন ফিরে তাকিয়ে শুকনো হাসি দিয়ে বলে

— না খালামনি, আমার পেট ভরে গেছে।

মায়া নিজের রুমে চলে যায় দরজা অফ করে ঘুমিয়ে পড়ে

— দিলিতো মায়াপরী কে রাগিয়ে তোর আসার কথা শুনে গত রাত থেকে মেয়েটি খুশিতে কিছু
খাইনি(নিলিমা)

— মাম্মা বাদ দাও,দাদাভাই লন্ডন থেকে এসেছে,ও অনেক বদলে গেছে ও আর আগের দাদাভাই ভাই নেয় মাম্মা(রিফতি)

রেহান আর কারো কথায় কিছু বলেনি,লাঞ্চ শেষ করে নিজের রুমে চলে যায়।
.
🍁
#রাত ১১টা বাজে ২০মিনিট

সবাই ডিনার করে ঘুময়ে পড়ে।মায়াকে অনেক ডাকা ডাকি করার পরেও মায়া ডিনার করতে যায়নি, ঠায় নিজের রুমে শুয়ে ছিলো।

— মায়ার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়,ওর মনে হচ্ছে ও-কে কেউ অনেকক্ষণ যাবৎ এক ধ্যানে চেয়ে আছে। মায়া চোখ খুলতে দেখে রেহান সোফায় পায়ের উপর পা দিয়ে বসে আছে।

— মায়া শুয়া থেকে ওঠে বলে। হোয়াট’স হ্যাপেন মিস্টার রেহান খান? আমার রুমে আপনি করতেছেন তাও আবার এতো রাতে?

রেহান সোফা থেকে উঠে মায়া কে বেডের সাথে চেপে ধরে।

— সমস্যা কি তোর।তুই নাকি গতকাল রাত থেকে কিছু খাস নি।আর দুপুরে এতো রাগ কাকে দেখালি?(দাঁতে দাঁত চেপে)
— তাতে আপনার প্রবলেম কোথায়। আমি খেলাম কি খেলাম না সেটা আমার ব্যাপার আপনাকে ইন্টারফেয়ার করতে কে বলেছে?(রেহান কএ ধাক্কা দিয়ে)
— আমার অনেক প্রবলেম!!

— লিসেন মিস্টার রেহান খান! আমার কোনো ব্যাপারে আপনি ইন্টারফেয়ার না করলে হ্যাপি হবো! আর আপনার লজ্জা করে না এতো রাতে একটা মেয়ের রুমে এসে এমন বিহেভ করতেছেন তাও আবার তার পারমিশন ছাড়া(রেগে)

রেহান এইবার প্রচণ্ড রেগে যায়।মায়াকে বেড থেকে তুলে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে

— কি বললি তুই! তোর রুমে আসতে হলে আমাকে, এই রেহানকে তোর পারমিশন নিতে হবে? হাউ ফানি!

— অভিয়াসলি নিতে হবে,আপনার রুমে যেতে হলে আমাকে যেমন আপনার পারমিশন নিতে ঠিক সেভাবে আপনাকেও আমার রুমে আসতে পারমিশন নিতে হবে!!

— মায়া ভুলে যাস না এটা আমার বাসা!!

— আমি ভুলে যায়নি মিস্টার রেহান খান, যে এটা আপনার বাসা।বাট যেহেতু আমি এই রুমে থাকি নিশ্চয় এটা এখন আমার রুম। এম আই রাইট মিস্টার খান!

রেহান আর কিছু বলেনি মায়াকে জোরে করে খাইয়ে দিতে বলে ঘুমিয়ে পরতে। রুম থেকে বের হওয়ার আগে রেহান বলে যায়
— আজকে এই বিহেভ টার জন্য তোকে পানিশমেন্ট পেতে হবে

মায়া দরজা লক করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরে।

# সকাল ৯টা

মায়া ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে কলেজ চলে আসে। কলেজ এসে নেশাকে নিয়ে ক্যান্টিনে যায়, মায়া নেশা কে নিয়ে একটা টেবিল বসে। বার্গার, স্যান্ডুইচ আর কোকের অর্ডার দেয়। আচমকা একটা ছেলে এসে মায়ার পাশে বসে।

— হাই মায়া বেবী। কেমন আছো
— আপনি! আপনাকে না বলেছি আমার পিছনে ঘুরা ঘুড়ি করবেন না।

ছেলেটি হু হা করে হাসতে শুরু করে দেয়, ক্যান্টিনের সবাই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে!
#ভালোবাস কি আমায়🍁
#Part-11
#Writer #Saima Islam Mariam❤️
.
🍁
.

— মায়া বেবী আমি তোমার পিছনে আমি ঘুরাঘুরি না করলে কে করবে বলো ত।(নিলয় আহমেদ)

— রেহান লন্ডন চলে যাওয়ার পর থেকে নিলয় আহমেদ মায়া যে ডিস্টার্ব করে, অবশ্য মায়া পাত্তা দেয় না।
— (অনেকটা বিরক্ত নিয়ে) আমি আপনাকে আর কতবার বলবো বলুন তো।আমি আপনাকে ভালবাসি না (মায়া)
— বাট আমি ত তোমাকে ভালবাসি মায়া বেবী এন্ড আই স্টিল লাভ ইউ(বাঁকা হেসে)
— লাভ! লাভ মাই ফুট। লিসেন নিলয় আহমেদ ভালোয় ভালোয় বলছি আমার পিছন ঘুরা অফ করুন না হয় আপনার কোপালে দুঃখ আছে(মায়া)
— আমি ত তোমার চোখে আমার নিজের সর্বনাশ দেখিছে।(চোখ মেরে)
— ইউ! জাস্ট সাট আপ।(দাঁতে দাঁত চেপে)

মায়া হন হন করে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যায়।

— আরে মায়া বেবী না খেয়ে কোথায় যাচ্ছো(নিলয় আহমেদ)

মায়া নিলয় এর কোনো কথা না শুনে চলে যায়।
— হেই ইউ, তোমার ফ্রেন্ড না খেয়ে চলে গেলো আর তুমি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছো(রেগে)

নেশা নিলয়ের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলছে।নিলয়ের চোখ অসম্ভব লালা হয়ে আছে!
— আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেনো,,,,, কথা গুলো আমি তোমাকে বলছি…. যাও নিজের ফ্রেন্ড কে ক্যান্টিনে নিয়ে আসো,আমি এখন যাচ্ছি,,,,,, এসে যাতে শুনি আমার মায়া বেবী খেয়েছে,,,,,গট ইট!

রেহান নেশাকে কথা গুলো বলে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যায়।অন্য দিকে আরেক জন ক্যান্টিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রাগে ফোঁস ফোঁস করতেছে।সে আর কেউ না রেহান।
— মায়া ব্রেকফাস্ট না করে কলেজ চলে এসেছে শুনে রেহানও কলেজ চলে আসে, এসে দেখে এইসব কান্ড।রাগে রেহানের মাথায় রক্ত চেপে গিয়েছে। কলেজ থেকে বেরিয়ে আসার পথে রেহানের, লিজা আর মিথিলার সাথে দেখা হয়।

—- এই রেহান!!(মিথিলা)
নিজের নামটা শুনে দাঁড়িয়ে যায় পিছন দিকে ঘুরে তাকাতে দেখে, লিজা আর মিথিলা দাঁড়িয়ে আছে….. রেহান তাদের কাছে যায়
— কিরে তোরা কেমন আছিস?(একটু হেসে)
— আমরা তো ভালোয় আছি….তুই কেমন আছিস? লন্ডন গিয়ে তো আমাদের ভুলেই গেছিস!!!,,,,,,,,না কোনা টেক্সট করেছিস না কোনো কল (মিথিলা)
— নারে…তোদের কে ভুলবো কি করে…ছোট বেলা থেকে তোদের সাথে পরিচয় (রেহান)
—- সেটা আমাদের জানা হয়ে গেছে রেহান আর বলতে হবে না!(লিজা)
আরো কিছুক্ষণ কথা বলার পর রেহান বলে.
— আচ্ছা চল আমরা কোনো রেস্টুরেন্ট বা কফিশফে গিয়ে বসে আড্ডা দি
— হুম… প্রপোজাল টা মন্দ না কি বলিস লিজা?(মিথিলা)
— হুম..ঠিক বলেছিস.. চল রেহান যাওয়া যাক

দেন ওরা ৩জনে একটা কফি শফে যায়।

— তোরা তোদের ফেভারিট ফুড অর্ডার কর, বিল আমি পেমেন্ট করবো (রেহান)

লিজা মিথিলা দুই জনে ওয়েটার কে ডেকে তাদের পছন্দের খাবার অর্ডার দেয়।

অনেক বিষয় নিয়ে গল্প করতে করতে এক পর্যায়ে রেহান ফাহাদের কথা আস্ক করে।
— আচ্ছা ফাহাদের কি খবররে,ফাহাদ এখন কি করে?

রেহান ফাহাদের কথা আস্ক করাতে লিজা ২বছর আগে ঘটনা রেহান কে বলে।রেহান একবার ও রাফির কথা আস্ক করেনি তাই লিজা কিছু বলেনি রাফির ব্যাপারে।
—মায়া আগে লিজাকে বারণ করে দিয়েছিলো লিজাকে যাতে রাফি আর আনিতার বিয়ের ব্যাপারে রেহান কে কিছু না বলে

মায়া যেহেতু রেহান কে সত্যি টা জানানোর জন্য অনেক ট্রাই করেছে কিন্তু রেহান তাকে বলার সুযোগ দেয় নাই তাই মায়া আর রেহান কে কিছু জানাতে চাই না।

#বেলা ১২টা

মায়া ক্লাস শেষ করে নেশা কে নিয়ে রাস্তার ধারে বসে ফুসকা খাচ্ছে। হুট করে কোথা থেকে নিলয় এসে মায়ার হাত থেকে ফুসকার প্লেট টা নিয়ে ফেলে আর হাতের ইশারায় নেশা কে চলে যেতে বলে।
—-নেশা নিলয়ের হাতের ইশারা পেয়ে মায়া কে কিছু না বলে পিছন থেকে চলে যায়

— হাউ ডেয়ার ইউ! আপনার সাহস কি করে হয় মায়া চৌধুরীর হাত থেকে খাবার কেড়ে নেন(রেগে)
— ওমা.. এতে আবার সাহস লাগে নাকি মায়া বেবী(হেসে)
— মায়া তো রেগে বোম।
এই নেশা এইখান থেকে চলতো কথাটা বলে পিছন ফিরে তাকাতে দেখে নেশা নেই এইবার আরো রেগে যায়। নিলয় মায়ার রাগ দেখে মুখ চেপে হাসছে

— এই আপনি হাসছেন কেনো?
— তোমার কান্ড দেখে হাসছি মায়া বেবী!!
মায়া এইবার প্রচণ্ড ভাবে রেগে যায়।রাগের ছোটে ব্যাগ নিয়ে হনহন করে হাঁটা শুরু করে

নিলয় মায়ার পিছুপিছু আসছে।মায়া দাঁড়িয়ে বলে

— এইই যে মিস্টার আপনি আমাকে ফলো করছেন কেনো?
— আমি আবার তোমাকে ফলো করলাম কখন.? আমি তো পাবলিক রোডে হাটছি

— উফফফফ! আপনার সাথে কথা বলাই এক্সট্রা একটা ঝামেলা!
মায়া অনেকটা পথ হেটে চলেছে তার সাথে নিলয় ও। নিলয়কে নিজের পিছুপিছু আসতে দেখে মায়া একটা রিকশা দাঁড় করিয়ে রিকশায় উঠে চলে যায়। নিলয় পিছন থেকে রিকশাওয়ালা কে বলে।
— মামা আমার মায়া বেবীকে সাবধানে তার বাসায় পৌঁছে দিও ওর যদি কোনো অসুবিধা হয় তাহলে তোমার কোপালে খুব দুঃখ আছে।

মায়া চলে যায়।নিলয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে
— মায়া বেবী আর কতো দিন আমাকে ইগনোর করবে।একদিন আমাকে তোমায় ভালোবাসতে হবেই!(বাঁকা হেসে)

🍁

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। রেহান এখনো বাসায় আসেনি। নিলিমা খান, রিফাত খান, রিফতি সবাই মিলে রেহানের সাথে কন্টাক্ট করার জন্য অনেক ট্রাই করে বাট রেহানের মোবাইল সুইচ অফ। মায়া এইবার একটু টেনশানে পড়ে যায়

#রাত ১১টা সবাই ডিনার করে যে যার মতো ঘুমিয়ে পরে…. রেহান এখনো বাসায় ফিরেনি।সবাই ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছে, শুধু এক জোড়া চোখ এখনো সজাগ আছে সে চোখ জোড়ায় ঘুমের লেশ মাত্র নেই। হ্যাঁ,মায়া, সে এখন ও ঘুমায়নি, অপেক্ষা করছে কখন রেহান আসবে।
মায়া নিজেকে যতই নিজেকে চেঞ্জ করার চেষ্টা করছে ততবারি রেহানের মায়াই পড়ে যাচ্ছে। সারাদিন নিজের সাথে যুদ্ধ করে রাতের বেলায় ক্লান্ত হয়ে পরে, রাতের বেলা আর নিজের সাথে নিজে পেড়ে উঠে না।

মায়ার ধ্যান ভেঙে বাস্তব জগতে ফিরে আসে কলিং বেলের সাউন্ডে। মায়া দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতে দেখে, রেহান ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছেনা।রেহানের শরীর দেখে বাজে গন্ধ আসছে… মায়া গন্ধ শুঁকে বোঝে যায় রেহান আজকে ড্রিংক করেছে।
!
রেহান লিজা আর মিথিলাকে বিদায় জানিয়ে আসার সময় দেখে মায়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছে! রেহান এইসব দেখে রেগে গিয়ে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে একটা ভাড়ে যায়, ওখানে বসে ড্রিংক করে!

— আপনি কবে থেকে ড্রিংক করা শুরু করেছে। ছিঃ মিস্টার খান! আপনি এতোটা খারাপ হয়ে গেছেন আমার ভাবতেই অবাক লাগে

রেহানের দিকে তাকাতে দেখে রেহান পড়ে যাচ্ছে। রেহান পড়ে যাওয়ার আগে রেহানকে ধরে ফেলে। মায়া দরজাটা লক করে…. রেহানের এক হাত মায়ার কাঁধে দিয়ে কোনো রকমে রেহানের রুমে নিয়ে যায়।

— রেহান নেশার ঘোড়ে সকালের কথা গুলো বলতে থাকে….. রেহান এতোটাই ড্রইং করেছে যে যার কথা স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে না!

মায়া একটা গ্লাসে লেবু পানি নিয়ে আসে।… তা রেহানকে খাওয়ানোর আগে তার মুখ থেকে একটা কথা শুনতে পাই
— মায়া আমি তোকে…. বাকিটা আর শুনতে ফেলো না মায়া রেহান কে লেবু পানি খাইয়ে দিয়ে । রেহান কে বেডে শুয়ে দিয়ে গাঁয়ে একটা চাদর টেনে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়

#রাত ২টা

মায়া ছাদের রিলিং ধরে দাঁড়িয়ে দূরে আকাশপানে তাকিয়ে আছে। আচমকা মায়ার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে রেহান ভাইয়া তুমি আদৌ #ভালোবাস কি আমায়….

চলবে…
(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here