ভালোবাস কি আমায় পর্ব শেষ

#ভালোবাস_কি_আমায়🍁
#Part_18(last_part)
#Writer_Saima_Islam_Mariam❤️
.
🍁🍁
.

— কিরে ভাই সবাই প্রেম করে বিয়ে করে নিলি… বাট আমাদের কি হবে? আমরা তো এখনো একটা প্রেম ও করতে পারলাম না।

কথা গুলো লিজা মুখ গুমড়া করে বলেছে।ফাহাদ এসে লিজা কে বলে

— বেবী নো টেনশন। আমি আছি না তোমার জন্য! ( লিজা কে চোখ মেরে)

— এই হারামি কি তুই আমার জন্য আছিস এটার মানে কি হ্যাঁ?

— মানে টা হলো এখন থেকে আমি তোর সাথে প্রেম করবো(দাঁত কেলিয়ে)

— এ্যাঁ….. এটা কি হলো? এইবার দেখি ফাহাদ আর লিজা ও সেট হয়ে গেলো…. এইবার আমার কি হবে আল্লাহ গো…আমার জন্য কাউকে পাঠাও আল্লাহ আর কত সিঙ্গেল হয়ে থাকবো এই জীবনে আর কতো(মিথিলা)

মিথিলার কথা শুনে সবাই হাসতে হাসতে মাটিতে ঘড়াঘড়ি খাওয়ার অবস্থা। তখন ফাহাদ মিথিলার কাছে গিয়ে বলে

— উফফ! বেবী আমি কি বলেছি যে শুধু লিজার সাথে প্রেম করবো…. আমি তোমাদের দুই জনে সাথেই আছি…. আমি তোমাদের দুইজনের জন্য সমান।

—- এই খাটাশ.. শুন ফাহাদ আমি না তোর মতো ছেলের সাথে রিলেশন করবো না….আমার জীবনেও না রেহান আর নিলয় ভাইয়ার মতো কোন রাজকুমার আসবে।বুঝলি?(লিজা)

— তোর এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে!! আমার থেকে আর বেটার কাউকে পাবি না,, হুহ(মুখে ভেংচি কেটে)

— শুন না ফাহাদ আমি তোর সাথে রিলেশন করবো যদি তুই রাজি থাকিস(মিথিলা)

এমা এখানে দেখি এর একটা প্রেম ট্রেলার চলতেছে। তা শুনি এইবার কাদের প্রেমের কথা চলতেছে।

রাফি আর আনিতা কথা গুলো বলতে বলতে রেহানদের দিকে আসছে।

— আমার প্রেমের কথা চলতেছে রাফি…বাট কেউ রাজি হচ্ছে না( ফাহাদ)

— আহারে…বেচারা…তোর আর এই জীবনে প্রেম করা হবে না।

সবাই মিলে ফাহাদ,, মিথিলা,,লিজার সাথে মজা করতেছে।

মায়া আনিতার কাছে যায়।

–আনু শাঁকচুন্নি তুই আসতে এতো লেট করলি কেনো?(মুখ গুমড়া করে)

— সরি ইয়ার..আরিশার জন্য লেট হয়ে গেছে…ও বিষণ কান্না করতেছিলো তাই

মায়া আনিতার থেকে আরিশা কে নিয়ে বসে থাকে…আর সবার সাথে অনেক মজা করে।

আজকের রাতটা সবার গল্প আর আড্ডা করে কেটে…মায়া অনেক বার ঘুমাতে যেতে চেয়ে বাট সবাই মিলে ওকে জোর করে বসিয়ে রেখেছে… বেচারী সারা রাত না ঘুমিয়ে পাড় করে দিলো।





# পরের দিন

আজ মায়া আর রেহানের বিয়ে। সকাল থেকে নেশা, আনিতা, মায়াকে পাগল বানিয়ে ফেলছে…আনিতা তো রিতিমতো মায়া কে বলতেছে

— মায়া পরী আজকে তোমার বাসের ১২টা না বাজিয়ে আমরা ১৩টা বাজাবো(আনিতা)

—- শুধু আনিতা নয় মায়া সাথে আমিও আছি(নেশা)

— মায়া ওদের দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।

— প্লিজ মায়া এইভাবে তাকাস না আমার ভয় লাগে।আনিতা কথাটা বলে হু হা করে হেসে দেয়।

নেশাঃ আচ্ছা.. আচ্ছা তোকে আর রাগাবো না…কিছুক্ষণ পর পার্লার থেকে মেয়েরা আসবে তোকে সাজাতে।

এটা বলে আনিতা আর নেশা মায়ার রুম থেকে বেরিয়ে যায়।মায়া যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। ওরা যাওয়ার পর মায়া ওয়াশরুমে চলে যায় শাওয়ার নিতে।

শাওয়ার নিয়ে মায়া রুম থেকে বেরিয়ে উপরে দাঁড়িয়ে সবাই কে দেখতেছে। সবাই অনেক ব্যস্ত কাছে…. রেহান সোফায় বসে আছে আর সবাই তাকে নিয়ে মজা করতেছে। মায়া এইসব দেখে আবার নিজের রুমে চলে যায়।

কিছুক্ষন পর পার্লার থেকে মেয়েরা আসে মায়াকে কনে সাজাতে।

মায়া আজকে লাল লেহেঙ্গা পড়েছে.. গাঁয়ে লেহেঙ্গার সাথে মেচিং জুয়েলারি.. হাতে লাল চুড়ি কোপালে একটা চোখে মোটা করে কাজল লাল টিপ ঠোঁটে লাল লিপস্টিক। চুলে খোপা করে বেলী ফুলের মালা পড়েছে। মায়া কে খুব সুন্দর লাগছে।

মায়া কে সাজিয়ে নেশা রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিলয় নেশার সামনে দাঁড়ায় হাতে একটা প্যাকেট। প্যাকেটা নেশার হাতে দিয়ে বলে

— আজকে এই গুলা পড়ে বিয়েতে আসবে।

নেশা কে কিছু বলতে না দিয়ে নিলয় হনহন করে চলে যায়। নেশা ভ্যাবাচ্যাকার নিলয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে

— নেশা রুমে গিয়ে প্যাকেটা গুলে ১০০০ বল্ডের শক খাই।প্যাকেটা ভিতরে একটা লাল লেহেঙ্গা সাথে মেচিং করা জুয়েলারি!

— এমা এইসব তো বউয়ের জিনিস। এইগুলো নিলয় আমাকে দিলো কেনো?

নেশা অনেক ভাবে বাট ভেবে কোনো লাভ হয় নি।তাই বাধ্য হয়ে নিলয়ের দেওয়া লেহেঙ্গা আর জুয়েলারি গুলো পড়ে বিয়েতে আসে

নেশা, মায়া দুই জনে একসাথে বিয়ের জায়গায় এসে নিলয় আর রেহান দুই জনকে দেখে পুরো থ।

রেহান আর নিলয়কে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

রেহান মায়ার সাথে মেচিং করে শেরওয়ানি পড়েছে।আর নিলয় নেশার সাথে মেচিং করা

নেশা মায়া কে রেহানের সাথে বসিয়ে নিলয়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।





কিছু সময় পর কাজি এসে মায়া আর রেহানের বিয়েটা পড়ায়। দুই জনে কবুল বলার পর…….নিলয় নেশার হাত ধরে কাজির সামনে এসে দাঁড়ায়

— কাজি সাহেব আপনার কাজ এখনো শেষ হয়নি।আরেকটা বিয়ে পড়ানো বাকি আছে!

— আরেকটা বিয়ে? সেটা কার বিয়ে নিলয়?

নেশা অবাক হয়ে নিলয়কে প্রশ্ন করে

— নেশা আমাদের বিয়ে!!

— কিন্তু নিলয়

— কোনো কিন্তু না নেশা।

তারপর নেশা আর নিলয়ের বিয়েটা হয়ে গেলো

—- ভাইয়া আমাকে কিছু জানাও নি কেনো? যে আজকে তুমি নেশা কে বিয়ে করবে(ফাহাদ)

—- সারপ্রাইজ ছুটু ভাই।তোরা দুই জন মিলে তো আমাকে একটা সারপ্রাইজ দিলি তাই আমি রেহান আর মায়া মিলে তোদের একট। সারপ্রাইজ দিলাম!

— মায়া রেহানও সব কিছু জানতো(নেশা)

— হুম ওরাও সব জানতো বাট আমি ওদের বারণ করেছি যাতে তোমাকে কিছু না জানায়



হঠাৎ সবার মাঝ খান থেকে রিফাত খান আর সাইয়ন চৌধুরী বলে উঠে

—- অবশেষে আমরা বাড়া থেকে বেয়াই হয়ে গেলাম।দুই জন দুই জনকে জড়িয়ে ধরে

— আর আমরা বোন থেকে বেয়ান। (নিলিমা, আশা)

মায়া রেহান একদিকে আর নেশা,নিলয় অপর দিকে দাঁড়িয়ে আছে। দুইটা কাপল কে দারুন মানিয়েছে

— মায়া আর নেশা আচমকা এক সাথে রেহান আর নিলয় কে বলে উঠে।#ভালোবাস_কি_আমায়

— রেহান আর নিলয় বলে।

— হুম ভালোবাসি নিজের থেকেও বেশি

তোমরা তো সবাই মিঙ্গেল হয়ে গেলে আর আমরা ৩জন সিঙ্গেল রয়ে গেলাম। তাই আমরা এখন তোমাদের ৪জনে রোমান্স দেখবে বাসার ঘরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে। মিথিলা,লিজা,আর ফাহাদের কথা শুনে বিয়ে বাড়িতে থাকা সকল গেস্ট উচ্চস্বরে হেসে দেয়

——–সমাপ্ত———

[ গল্পটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ করে দিলাম।বাট আজকে রাত থেকে আমার লেখা নতুন স্টোরি #সাদা_কালো_শহর দিবো। সবাই পড়বেন আশা করি সবার ভালো লাগবে😊]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here