মাতাল_হাওয়া পর্ব ৭

#মাতাল_হাওয়া
#৭ম_পর্ব
#তাসনিম
রাতে হোটেলে ফিরে এলো নিরব, তুলি, রায়না আর রাকিব। তুলি আর রায়না ওদের রুমে চলে গেল নিরব আর রাকিব ওদের রুমে। রায়না ফ্রেশ হয়ে তুলি, নিপা, সুমিকে বললো,
“তোদের সাথে কিছু কথা বলতে চাই”।
সবাই উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে অধীর আগ্রহ নিয়ে রায়নার কথা সুনার জন্য।
“রাকিব আমাকে প্রপোজ করেছে। আমাকে অনেক ভালবাসে। আমি আজকে অনেক খুশি রে! তোদের আমি বলে বুঝাতে পারবোনা”।
লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে রায়নার কথা সুনে সবার চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। নিপা বললো,
“আরে ব্যাস! কি বলিস! তোদের দুইজনের ভিতর এতকিছু হয়ে গেলো আর আমরা কেউ টেরই পেলাম না। ডুবে ডুবে জল খাওয়া হচ্ছিলো তাই না!”
“আচ্ছা রাকিব ভাইকে তো তুই সহ্যই করতে পারতি না সারক্ষন খিটখিট করতি আর এখন উনার প্রেমেই হাবুডুবু খাচ্ছিস বাহ ব্রো! তোর জুড়ি নেই।” এই বলে হাসতে লাগলো সুমি।
“ইশ! তোরা থামবি! আমাদের রায়না প্রেমে পরেছে আর তোরা মজা নিচ্ছিস। আমি তো ভেবেছি এইমেয়ে সারাজীবন চিরকুমারী থাকবে যেই তেজ উনার কোনো ছেলে ধারের কাছে আসবে কিনা সন্দেহ ছিল। বেচারা রাকিব ভাই! ফেসে গেলো!” এই বলে তুলি শব্দ করে হাসতে লাগলো সাথে নিপা আর সুমিও যোগ দিলো।
রায়না রাগ করে মুখ ফুলিয়ে ওদের তিনটাকে বালিশ দিয়ে মারতে লাগলো।
“তোরা সবকটা শয়তানের হাড্ডি! আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছি আর উনারা আমার মজা উরাচ্ছে”। মুখ উলটে বললো রায়না। হাসিঠাট্টা করে ওদের সবার রাত পার হল।

পরদিন সবাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সবার অনেক মন খারাপ এই দুইদিন অনেক বেশি আনন্দ করেছে যা ভুলার মতো না। আবার চলে যাচ্ছে সেই ব্যস্ত নগরীতে যেয়ে যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পরবে।

“কিরে বেটা! তুলিকে প্রপোজ করলি নাকি দেবদাস হয়ে আছিস এখনো।”

“কি মনে হয় তোর?”

“ওরে সালা! বলে দিছিস নাকি?”

“হুম”।

মুচকি হেসে সব কাহিনী বললো নিরব। রাকিব তো আকাশ থেকে পরলো। ও জানতো নিরব ওর মনের কথা বলবে তুলিকে কিন্তু এতো তারাতারি বলবে তা বুঝেনি। নিরব একটু ইনট্রোভাট টাইপের ছেলে ও সহজে কাউকে ওর মনের কথা বুঝতে দেয়না কিন্তু সেই ছেলে কিনা প্রপোজ করে ফেললো তাও এত ফিল্মি রোমান্টিক স্টাইলে রাকিবের যেন বিশ্বাসই হচ্ছেনা এইকথা।

“দোস্ত আমারেও কিছু আইডিয়া দেনা! তোর প্রপোজাল এর কাহিনী শুইনা তো আমার হিংসা লাগতাছে। ইশ! তোর কাছ থিকা আগে কি লিগগা আইডিয়া নিলাম না।”

“কেন তুই আবার কারে প্রপোজ করবি? কেউ আছে নাকি যে আমি জানিনা?” নিরব ব্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো।

“আরে না! কি যে বলিস আমার কেউ থাকবে আর তুই জানবি না তা কি হয় বন্ধু। কিন্তু তাই বইলা যে কেউ আসবে না ভবিষ্যতে তার কোন ঠিক আছে। একটু আইডিয়া নিয়া রাখলে ভালো না? এইজন্য জিগাইলাম আর কি দোস্ত।” ঢোক গিলে রাকিব আমতা আমতা করে বললো।

“যাহ বাবা! বাইচা গেলাম বুঝে নাই। যদি কই মামা তোরে যে তোর বইনের প্রেমে হাবুডুবু খাইতাছি তুই আবার আমারে মাইরা না হসপিটালে পাঠাস! ভয় লাগে মামা তোমারে।” বুকে ফু দিয়ে মনে মনে ভাবলো রাকিব।

তুলি চুপচাপ করিডোরে দাঁড়িয়ে পাখিগুলোর সাথে খেলছিল। জাহাজের পিছনে কতগুলো পাখি উড়ছে। তুলি চিপস দিচ্ছিল ওদের। হুট করে নিরব পিছন থেকে তুলিকে জরিয়ে ধরে। আচমকা আক্রমণে তুলি চমকে উঠে কিন্তু যে পিছন থেকে ধরে আছে তার গায়ের মিষ্টিগন্ধটা তুলি খুব ভালভাবে চিনে এইটা যে ওর প্রিয় মানুষটা ছাড়া যে আর কেউ হতে পারেনা তা খুব ভালোভাবে জানে তুলি। লজ্জা পেয়ে বললো,

“এই ছাড়ুন কেউ দেখে ফেলবে!”

“দেখুক”।

“ইশ! এমনভাবে বলছেন যেনো আমি আপনার বিয়ে করা বউ! কেউ দেখলে খুব লজ্জা পাবো। প্লিজ ছাড়ুন।”

“ছাড়বোনা! তুই আমার বউই তো। মন থেকে তোকে বউ মেনে নিয়েছি শুধু তিন কবুল বলা বাকি। আর বাকি মানুষের কথা তুইতো জানিসই আমি কারো ধার ধারি না। আমি যেমন ওইভাবেই থাকতে পছন্দ করি। বাসায় যেয়েই মাকে তোর কথা জানাবো। তারপর শুধু তিন কবুল বলার অপেক্ষা।”

তুলি প্রচন্ড পরিমানে লজ্জা পেল কিন্তু অদ্ভূত এক শান্তি পেলো নিরবের কথায়। ওর মতো অনাথ মেয়েকেও যে কেউ এতোটা ভালবাসতে পারে, নিজের বউ করতে চায় তা যেন তুলির সপ্ন ছিলো। নিরব তার সপ্নদুত হয়ে যেনো ওর সপ্ন পূরণ করতে এসেছে। তুলি নিরবকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। নিরব তুলির চুলের মাতাল করা ঘ্রাণ নিয়ে কাধে চুমু খেল। তুলি শিউরে উঠে চোখ বন্ধ করে নিল।

রাত ১০টায় সবাই বাসায় পৌছালো। রাকিবও বাস থেকে নেমে বাসায় চলে গেল। যাওয়ার আগে রায়নাকে ইশারা করে বলে গেল রাতে ফ্রী হয়ে ফোন দিতে রায়না ও ইশারায় বললো ঠিকাছে। সালেহা বেগম নিজের বাচ্চাদের পেয়ে যেন প্রাণ ফিরে পেল।

“এতদিন ঘরটা ফাকা ফাকা লাগত এখন ঘরে প্রাণ ফিরে এলো। এই অধমের কথা যেন সবাই ভুলেই গেছিলি।” মুখ ফুলিয়ে সালেহা বেগম বলে উঠলো।

“ছোট মা” বলে নিপা, সুমি, রায়না জরিয়ে ধরলো সালেহা বেগমকে।

“খালামনি” বলে তুলিও জরিয়ে ধরলো সালেহা বেগমকে।

“এইটা কেমন কথা মা! মেয়েদেরকে পেয়ে তুমি আমাকে ভুলে গেলে!” মন খারাপ করে নিরব বললো।

“ওরে আমার বাদড় ছেলে তোকে কি নিমন্ত্রণ করতে হবে নাকি!”

“মা!” বলে জরিয়ে ধরলো নিরব সালেহা বেগমকে।

চলবে কি?????…………….

[বিঃদ্রঃ দয়া করে কার্টেসি ব্যাতীত কপি করবেন না।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here