হয়ত সিজন ২পর্ব ৩

#ছায়া_হয়ে_মিশে_রব_কল্পনাতে
পর্ব:- ৩
.
-” পথ ছাড়ুন হারুন ভাই।”
-” এতো রাতে কোথায় থেকে ফিরলে?”
প্রিয়তা চোখ গরম করে তাকাল। এই লোকটার সাহস তো কম না। রাস্তায় পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে!
-” সে কৈফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে?”
-” হ্যাঁ দিতে হবে। তুমি আমার হবু বউ?”
-” খেয়ালি পোলাও পাকানো বন্ধ করেন। আমি বিয়েতে মত দেইনি।”
-” দিবে দিবে। আপাতত তোমার মা অর্থাৎ আমার ভবিষ্যৎ শাশুড়ি মা রাজি হয়েছেন।”
প্রিয়তা সামনে দাঁড়ানো লোকটার কথা শুনে বিরক্তিমাখা চাহনিতে চাইলো।
-” ফাজলামি বন্ধ করেন।”
হারুন প্রিয়তার কথায় কোন কটু প্রতিউত্তর করল না। অমায়িক এক টুকরো হাসি উপহার দিয়ে বলল,
-” রাজি হয়ে যাও না প্রিয়তা।”
-” আমার সত্যি এখন বিয়ে করার ইচ্ছে নেই। বিশ্বাস করুন।”
-” আজ চার বছর ধরে তোমার পিছে পড়ে আছি। তুমি রাজশাহীতে যখন থাকতে না, কত কষ্টে ছিলাম জানো? একবার ভালোবাসতে চেষ্টা করো।”
একটু দম নিয়ে প্রিয়তা হারুনের দিকে তাকাল। লোকটা প্রথম শ্রেনির সরকারি চাকরিজীবী। বয়সে মাত্র পাঁচ বছরের বড়। প্রতিষ্ঠিত ছেলে, দেখতেও ঠিকঠাক। প্রতিটি মেয়ের জন্য হারুন যোগ্য। তবে প্রিয়তা যে প্রতিটি মেয়ের মাঝে পড়েনা।
-” আসি হারুন ভাই, মা অপেক্ষা করছেন।”
হারুন প্রিয়তার চলে যাওয়ার দিকে তাকাল। আজকে ওর চলার ভঙ্গিমা অন্যরকম। ভীষণ অন্যরকম। হারুনের মন বলছে, এই প্রিয়তা কখনোই নিজের মন নিয়ে ধরা দিবে না। আজ কিছু তো হয়েছে। মন বলছে, প্রিয়তাকে পাওয়ার শেষ আশা আজ জলাঞ্জলি দিতে হবে।
“একবার ভালোবাসার চেষ্টা করতে পারতে প্রিয়তা।”
___________________________________________
আজকে খাবারের মেন্যু সাদা ভাত, সজনেডাঁটার চচ্চড়ি, পাতলা ডাল,চিচিঙ্গা ভাজি। খাবার দেখেই প্রান্ত নাক সিটকাল। মাছ-মাংস কিছুই নেই নাকি?
-” মা এগুলা খাবো না। মাছ, মাংস করো নি কেন?”
আতিয়া খাতুন গম্ভীরস্বরে ছেলেকে বললেন,
-” আজ খেয়ে নে কাল পোলাও মাংস হবে। প্রতিদিন মাংস খেলে মুখে অরুচি চলে আসবে।”
মা’য়ের উত্তর প্রান্তের পছন্দ হয়নি তা মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। মুখটাকে বাংলার পাঁচ বানিয়ে সে ভাতের দানা হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করছে।
-” হারুন ভাই বললেন তুমি নাকি বিয়েতে রাজি হয়েছ?”
-” না রাজি হওয়ার তো কিছু নেই।”
-” উফ মা, বিয়ে আমার। আমার মতামতের কোন গুরুত্ব নেই? মাত্র কয়েক মাস হয়েছে পড়াশোনার পাট চুকিয়েছি। চাকরি করতে চাচ্ছি, করতে দিচ্ছ না কেন?”
-” আমি চাকরি করতে দিচ্ছি না?”
-” দিচ্ছ কই? বিয়ের পর ওই আধা পাগল হারুনের আম্মা আমাকে চাকরি করতে দিবে বলে তোমার মনে হয়?”
-” হারুন তোকে পছন্দ করে প্রিয়তা।”
প্রিয়তা ভাতের প্লেট সাইডে সরিয়ে আতিয়া খাতুনের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি মেলে চাইল। ওর মা এখন ওকে তুই করে ডাকছে মানে মা রেগে নেই। এখন বুঝালে কাজ হবে।
-” মা ,বাবা মারা গেছে কয়েকটা দিন হলো। আমি চাকরি করলে পরিবারটা একটু স্বচ্ছল থাকবে। বাবার পেনশনের টাকায় আর কত চলে বলো? প্রতিমাসে এগারো হাজার টাকার বাড়ি ভাড়া টানতে হয়। গ্রাম থেকে চাচারা ঠিকমতো ফসল বেঁচার টাকা দেয়না।”
-” তোর দুই পয়সার চাকরির ফুটানি দেখাবি না ,প্রিয়তা। তোর টাকায় আমার ঘর চলে না। সামান্য দুই টাকা নিজের আর ভাইয়ের জন্য খরচ করিস বলে এতো ফুটানি? আজ যদি তোর বাবা বেঁচে থাকতেন তো এমন বলতে পারতি? আমি একলা মানুষ। পাড়ার মানুষ যা পারে শুনিয়ে দেয়। ঘরে এতো বড় অবিয়েত্তা মেয়ে রেখে কোন মা শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারে? তোর বাপ থাকলে আমি এতো চিন্তা করতাম নাকি?”
আতিয়া খাতুন ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদছেন। ফরসা মুখ খুব দ্রুত লাল হয়ে উঠছে। পুরানো লক্ষণ। কান্নাকাটির জন্য যেকোনো সময় অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
প্রিয়তা একটা গভীর নিশ্বাস ত্যাগ করে বলল,
-” আচ্ছা, আসুক ওরা।”
আতিয়া খাতুন মহা উৎসাহ নিয়ে মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন। প্রিয়তা মা’য়ের দিক তাকিয়ে মৃদু হাসল। ওর মা আসলেই খুব বোকা। খুব সহজেই যে কেউ উনার মগজধোলাই চলতি কথায় ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়ে যেতে পারে। যখন মা’র কথা কেউ না শুনে তখন চলে কান্না দিয়ে কাজ হাসিলের চেষ্টা।
প্রিয়তার গ্লাসে পানি ভরে দিতে দিতে আতিয়া খাতুন বললেন,
-“কাল কোথাও যাবি না। পাশের ফ্ল্যাটের পার্লারে কাজ করে যেই মেয়েটা, কী যেন নাম? ওহ হ্যাঁ আশা। আশাকে বলে দিয়েছি ও তোকে সাজিয়ে দিবে।”
-” সাজিয়ে দিবে মানে? হারুন ভাইয়ের মা আমাকে আগে কখনো দেখে নি? সাজানোর কী হলো?”
-” দেখতে আসবে বুঝিস না? অন্য দিন আর কাল এক নাকি? সুন্দর করে সাজবি। ওহ হ্যাঁ যা যা প্রশ্ন করবে সঠিক উত্তর দিবি। যদি কিছু করতে বলে করে দেখাবি।”
-” বউ নিতে আসবে নাকি কুরবানির পশু? সিটি হাটে চলে যেতে বলো। বেশি দূরে না।”
-” প্রিয়তা…”
সেই মধ্যযুগ থেকে রূপের জন্য নারীর শরীরের উপর পরীক্ষা- নিরীক্ষা চলছে। একজন মেয়েকে সৌন্দর্যের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কম কষ্ট করতে হয়নি।
ছোট পা সৌন্দর্যের প্রতীক হওয়ায় চীনে শিশুবেলা থেকে মেয়েদের পরিয়ে রাখা হতো লোহার জুতা। নাগাল্যান্ডে নারীর গলায় পরিয়ে রাখা হতো লোহার বলয় যাতে তারা মরাল গ্রীবার অধিকারী হোন। মধ্যযুগে এমনকি উনবিংশ শতকেও ইউরোপে সরু কোমর লাভের আশায় শিশুবেলা থেকে নারীকে লোহার জালির তৈরি করসেট পরিয়ে রাখা হতো। তাতে অস্বাস্থ্যকর রকম সরু কোমর হতো নারীর। আবার বলা হতো, পুরুষ যেন দুহাতের মুঠোয় একজন নারীর কোমর ধরতে পারে। ভাঙা গাল ও টোল সৌন্দর্যের প্রতীক হওয়ায় ঊনবিংশ শতকে মাড়ির দুটি দাঁত ফেলে দিতেন ইউরোপের নারীরা।
আজ এতো এতো বছর পরও নারীর গুণের চেয়ে রূপের কদর বেশি হয়। গুণ বলতে পড়াশোনা, চাকরি ইত্যাদি ইত্যাদি নয়। বরং হাতের কাজ। রূপ দেখে গুণ বিচার করা পরিবারগুলোর কাছে গুণ হলো সব পদের রান্না পারা, ঘর ঝাড় দেওয়া, বাচ্চা মানুষ করা। বাচ্চা যাতে বড় হয়ে শিক্ষিত হয় সেই জন্যই এতো ঘটা করে শিক্ষিত মেয়ের সাথে পুত্রের বিয়ে দেন ইনারা।
-” কি ভাবছিস?”
-” হারুন ভাই কী খুব ব্রেভ?”
-” অবশ্যই ব্রেভ। কত কষ্ট করে চাকরি পেয়েছে। ওর যোগ্যতা দেখেছিস?”
-” তাহলে ঠিকই আছে।”
-” কী? এই তুই কী ভাবছিস রে?”
-” মধ্যযুগে পুরো এশিয়াতেই কোন রাজার হারেমে বা অন্দরমহলে কতজন সুন্দরী আছেন (স্ত্রী হোক বা রক্ষিতা) তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলত। সুন্দরী নারী বিবেচিত হতো সম্পদ হিসেবে। ইউরোপেও সুন্দরী নারী সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত হতো। সেখানে রাজাদের ঘরে একজন মাত্র রানী থাকলেও সুন্দরী ‘মিসট্রেস’ বা প্রেমিকা ও রক্ষিতা থাকত একাধিক। ‘ওনলি দা ব্রেভ ডিজার্ভ দ্য ফেয়ার’ প্রবাদ বাক্যটি বীর নাইটদের আরও বেশি বীরত্বে প্ররোচিত করার জন্য যথেষ্ট। (নবীন কণ্ঠ পেজ হতে সংগৃহিত) ”
-” মানে?”
-” মানে বীর হারুনের স্বয়ংবউ আয়োজিত করা উচিত, কী বলো?”
আতিয়া খাতুন বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছেন মেয়ের দিকে। এই মেয়ে বাপের মত ঠোঁট কাটা স্বভাবের। কাল কোন অঘটন ঘটাবেনা তো? রাত করে বাড়ি ফেরা, প্যান্টশার্ট পড়া নিয়ে তো পাড়ার মানুষের কম কথা শুনতে হয়না তাকে।
-” বড্ড বাড় বেড়েছে তোর। চুপ কর।”
-” তুমি বলো, এসব শুনেও আমাকে সাজিয়ে ওদের সামনে বসাতে চাও? রূপের কেনা- বেচা করতে চাও?”
-” প্রিয়তা ল্যাংগুয়েজ..”
-” সরি মা। আমার আর খিদা নেই। উঠি।”
প্রিয়তা জানে এই এতো এতো ভাষণ ওর মা কানেই নিবেন না। বরং রাতে ঘুমানোর আগে প্ল্যান করবেন কাল মেয়েকে কীভাবে কীভাবে সাজানো যায়?
বুক চিড়ে গভীর নিশ্বাস বের হয়ে আসলো প্রিয়তার। ওর বাবা থাকলে মনে হয় এমন কিছুই হতো না।
___________________________________________
বর্ষণ ও রৌদ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছে তিনদিনের জন্য। রৌদের ধারণা তিনদিনে ওরা তাপৌষিকে পেয়ে যাবে। তারপর ওকে নিয়েই ঢাকা যাবে।
-” ভাইয়া ফুপাকে ফোন দিয়েছি। উনি বললেন কাজ হয়ে যাবে। উনি নিজে ফোন করে বিশেষভাবে রিকুয়েস্ট করবেন।”
-” কাজ হলে ভালো। কী যুগ এলো দেখলি? কাজ হাসিল করার জন্য উপর মহলের আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পাততে হয়।”
-” তাই তো দেখছি। আচ্ছা এএসপি ওবায়দুল হককে তোমার কেমন লাগল?”
-” ভালোই, খারাপ না। লোকটা নিজের কাজ সম্পর্ক ওয়াকিবহাল।”
-” কিছু বলেছেন কীভাবে এগোবেন?”
-” সকালে তাপৌষির হোস্টেলে যাবে। জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ”
-” ওহ।”
রৌদ আর বলার মতো কথা খুঁজে পাচ্ছেনা। ও তো বর্ষণকে ব্যস্ত রাখার জন্য কথার পশরা সাজিয়ে বসে ছিল। কিন্তু এখন তো বলার মতো কোন কথাই পাচ্ছে না।
অনেক ভেবে একটু সময় অতিবাহিত করে বলল,
-” ভাইয়া ঘুমাবে না?”
-” তুই ঘুমিয়ে পড়।”
-” কিন্তু ভাইয়া..”
-” আহ রৌদ।” বর্ষণের চিল্লানী শুনে রৌদ মিনমিনে গলায় বলল,
-” ঠিক আছে, ঠিক আছে। গুড নাইট ভাই।”
বর্ষণ বারান্দায় যেয়ে পকেট থেকে তাপৌষির দেওয়া চিঠিটা বের করল। কাগজটা ঠোঁটের সামনে এনে ঠোঁটের পরশ দিল তাতে। ভিতর থেকে কেউ একজন বলে উঠল,
“এখন কেন এতো দরদ? অবহেলা করেছিলি না একসময়? এখন ভোগ। এটা তোর শাস্তি। সবে শুরু।”
বর্ষণ স্পষ্ট কথাগুলো শুনতে পেল। চিঠির কাগজটা বুকে চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলো ও।
“অবহেলা নয়, অপ্রাপ্তি নয়,
দ্বিধা নয়, ক্লান্তি নয়,
দুঃখ নয়, দুর্দশা নয়,
শান্তির ছায়াতল খুঁজে পাবে
আমার ভালোবাসায়।”
___________________________________________
-” বুবু আসবো?”
-” আয়।”
-” ঘুমিয়ে পড়ছিলে?”
-” না ঘুমাতে যাচ্ছিলাম। কিছু বলবি?”
-” কফি খাবে? বেশি করে দুধ চিনি দিয়ে?”
-” তুই বানাবি?”
-” তুমি শুধু দশ মিনিট অপেক্ষা করো। আমি যাবো আর আসবো। ”
ভাইয়ের কথায় প্রিয়তা হাসল। ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষার্থী। অথচ জ্ঞানের দিক দিয়ে সে প্রিয়তাকেও হার মানাবে। একটু দুষ্টু তবে অসম্ভব মেধাবী। আতিয়া খাতুন ছেলের রেজাল্ট নিয়ে সকলের সামনে গর্ব করে বেড়ান। প্রিয়তা প্রান্তর মতো এতো ব্রিলিয়ান্ট ব্রেন নিয়ে জন্মায়নি। ওকে অনেক পড়তে হয়েছে। এখনো মনে পড়ে মাঝে মাঝে, পরীক্ষার আগের দিন রাতে প্রিয়তা কখনোই ঘুমাতে পারেনি। ওর রুমের উপর দিয়ে ছোটখাটো সাইক্লোন বয়ে যেত রাতগুলোতে। প্রতি পরীক্ষার আগে মা’য়ের এক ডায়লগ শুনতে হতো,
” আগে পড়েনি। এখন এতো পড়ে কী লাভ হবে?”
.
-” বুবু কফি।”
প্রিয়তা প্রান্তর হাত থেকে কফি নিয়ে বিছানায় বসলো।
-” ছাদে যাব, উঠো।”
-” এখন?”
-” হ্যাঁ এখন।”
-” মা জাগলে দুজনকেই ধরে পিটাবে।”
-” আস্তে পা টিপে টিপে যাব। তুমি এমন ভান করছ যেন এর আগে কখনো আমরা মা’কে লুকিয়ে ছাদে যাই নি। চলো তো।”
.
আকাশে আজ অনেক তারা। ছাদের একপাশের কোণায় দাঁড়িয়ে আছে দুই ভাইবোন। প্রান্ত একটু পরপর প্রিয়তার মুখের দিকে তাকাচ্ছে তো আবার নিজের হাত ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে।
-” কী হয়েছে?”
-” কিছু না বুবু।”
হাতের কফিতে এক চুমুক দিয়ে প্রিয়তা দূর অজানায় তাকাল। দৃষ্টি এলোমেলো। নির্দিষ্ট কোন কিছু দেখছে না ও।
“আজকের আকাশে অনেক তারা,
দিন ছিল সূর্যে ভরা,
আজকের জোছনাটা আরো সুন্দর,
সন্ধ্যাটা আগুন লাগা
আজকের পৃথিবী
তোমার জন্য ভরে থাকা ভালো লাগা
মুখরিত হবে দিন গানে গানে আগামীর সম্ভাবনা
তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছ ,শুভেচ্ছা তোমায়
তাই অনাগত ক্ষণ হোক আরো সুন্দর
উচ্ছল দিন কামনায়
আজ জন্মদিন তোমার।”
শুভ জন্মদিন বুবু……
আজ নিজের জন্মদিন? ভুলেই গেছিল ও একদম।
-” ধন্যবাদ পিকু।”
-” তোমার বিয়ে হয়ে গেলে আমি কার সাথে দাঁড়িয়ে কফি খাবো? ”
-” বিয়ে তো এখন হচ্ছে না।”
-” আই উইল মিস ইউ বুবু।” বলেই প্রিয়তাকে জড়িয়ে ধরল প্রান্ত। প্রিয়তা খেয়াল করেছে, পিকু নামে ডাকায় আজ প্রান্ত মোটেও রাগ করেনি। এই আবেগঘন পরিবেশে দুজনের চোখেই পানি।
.
প্রিয়তা ঘরে এসে শুয়েছে একঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু ঘুম আসছে না কিছুতেই। এপাশ ওপাশ করে বালিশের নিচে থেকে ফোন বের করে গ্যালারিতে ঢুকল। তাপৌষির তিনটা ছবি আছে এখানে। সকালের দিকে রৌদ ছবিগুলো শেয়ারইটে দিয়েছে। এই ছবি দিয়ে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দিতে যেয়েই আজ আটটা বেজে গেছে।
মেয়েটা অসম্ভব রূপবতী। এমনি এমনি বর্ষণ ভাই পাগল হয়নি এর প্রতি। রূপের সাথে হয়ত গুণও আছে। মেয়েটার সাথে কোথায় যেন মিল পাচ্ছে নিজের। হাতে ফোন নিয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল প্রিয়তা।
এইতো মিল। হাসি আর চোখের নিচের তিলটা। তবে তাপৌষির তিল ডান চোখের নিচে আর প্রিয়তার বাম চোখের নিচে। প্রিয়তা হাসল। যাক মানুষটার প্রিয়জনের সাথে নিজের কিছু তো মিল পাওয়া গেল। মানুষটাকে না হয় নাই বা পেলাম।
.
.
চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here