Lover boss part 9

#Lover_Boss
#Season_2
#part_9
#Mihika_Rahman

মাথাটা কয়েকদিন ধরেই হঠাৎ হঠাৎ চক্কর দিয়ে উঠছে মিহির । এতদিন গুরুত্ব দেয়নি কিন্তু এখন সমস্যাটা জটিল মনে হচ্ছে । খাওয়ার রুচিটাও চলে গেছে,খাবার দেখলেই বমি বমি লাগে । বাবাকে আপাতত বিষয়গুলো জানায়নি সে আর মা তো নেই যে মাকে জানাবে । অবশেষে ঠিক করল একাই যাবে ডাক্তারের কাছে । রেডি হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলো মিহি । ব্যস্ত রাস্তা,গাড়ির কোলাহলে অস্থির লাগছে মিহির । হঠাৎ মাথাটা আবার ঘুরে উঠলো,আশেপাশের সবকিছু ঝাপসা দেখতে লাগল ।ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে আসতে লাগল তার । জ্ঞান হারানোর আগে শেষবারের মতো উপলব্ধি করতে পারল কারো কোলে সে মাথা রেখেছে ।

।।

–কনগ্র্যাটস,আপনি বাবা হতে চলেছেন ।

–মা….মানে?

–আপনার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট ।

মাথা ঘুরে ওঠে দীপের । মুখে এক ধরনের আনন্দের ঝলক দেখা যাচ্ছে । বাবা হওয়ার আনন্দে মিহির সমস্ত প্রতারণাকে যেন ভুলেই গেছে দীপ । কেবিনের বাইরে থেকে তাকিয়ে আছে মিহির মুখের দিকে । ঘুমন্ত নিষ্পাপ চেহারাটা দেখে ভেতরটা কেঁপে ওঠে দীপের । এতটা মায়া জড়িয়ে থাকে মুখটায় অথচ এই মেয়েটাই ভালোবাসার নামে এতবড় একটা প্রতারণা করেছে তার সাথে । মুহূর্তেই মস্তিষ্ক নানা কুমন্ত্রণা দিতে থাকে দীপকে । বারবার বলতে থাকে,”মিহি প্রেগন্যান্ট সেটা তো ও কয়েকদিন অবধিও বলেনি আর যা হয়েছিল সেদিন তারপর মিহি একবারো যোগাযোগ অবধি করেনি দীপের সাথে । আর দীপের সামনে এসেই কেন অজ্ঞান হয়ে তার কতলে ঢলে পড়ল মিহি?এটা নতুন কোন ষড়যন্ত্র নয় তো মিহির?দীপের জীবনে ফিরে ওকে নতুন করে কষ্ট দেওয়ার?”কথাগুলো ভেবেই চোখ রাগে লাল হয়ে ওঠে দীপের ।হসপিটালের বিল পে করে বেরিয়ে যায় সেখান থেকে ।

ধীরে ধীরে চোখ খোলে মিহি । মাথাটা এখনো ঝিমঝিম করছে । উঠে বসতেই একজন নার্স মিহির পাশে এসে দাঁড়ায় ।

–সিস্টার,আমি এখানে কিভাবে?

–আপনার স্বামী নিয়ে এসেছেন ।

–আমার স্বামী?দীপ এখানে কেন আসবে?কোথায় তিনি?

–তিনি তো বাইরে গেলেন ,সম্ভবত মিষ্টি আনতে ।

–মি….মিষ্টি??মিষ্টি কেন?

–আপনি মা হতে চলেছেন আর তিনি বাবা ।

–কিহহহ!

নার্সের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল মিহির । সে দীপের সন্তানের মা হতে চলেছে?দীপ কি কখনোই মেনে নেবে এটা?এতবড় একটা প্রতারণার পর দীপ কখনোই মানবে না । চোখ বন্ধ করতেই চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরতে থাকে মিহির । নতুন অস্তিত্বের এ আগমন কি মিহির বাবা মেনে নিবে নাকি দীপের রক্ত ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দিতে বলবে?নাহ।এমনটা ভাবতেও অস্থিরতা বাড়ছে মিহির । নিজের গর্ভে বেড়ে ওঠা এ অস্তিত্বকে সে নিজের সবটুকু দিয়ে হলেও রক্ষা করবে । তার জন্য তাকে যদি তার বাবার বিপক্ষে যেতে হয় তাও যাবে । মিহির চোখে এবার আনন্দের ঝলকানি দেখা যায় । এক অদ্ভুত সুখকর অনুভূতির আবেশে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে সে । “আচ্ছা,দীপ কি জানে সে বাবা হতে চলেছে?জানলে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?আমার প্রতারণার কথা ভেবে কি রেগে যাবে নাকি বাবা হওয়ার আনন্দে আমায় কোলে করে ঘুরবে?”ঠোঁটের কোণা এক অনুভূতির দরুন প্রসারিত হয় মিহির ।

🖤

–রিত্ত, তুমি অফিসে কেন?

–আজ তো ছুটি না স্যার যে অফিসে আসব না ।

–এমনটা বলিনি আমি । আচ্ছা, কেবিনে আসো । কয়েকটা ফাইলের কারেকশন করে দাও ।

–ওকে স্যার ।

রিত্তর ব্যবহারে চমকে গেছে রিশাদ । এতটা স্বাভাবিক কিভাবে আছে রিত্ত? এই স্বাভাবিকের মাঝে অপার অস্বাভাবিকতা দেখতে পাচ্ছে সে যেন এটি ঝড় ওঠার পূর্বের নিস্তব্ধতা । রিশাদের চিন্তা কিছুতেই শেষ হচ্ছে না । খারাপ কাজগুলো থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল রিশাদ । একটাই কারণ,রিত্তর সাথে জীবনটা সুন্দরভাবে শুরু করা কিন্তু এখন আদৌ কি তা সম্ভব হবে?মাহিন সাহেবের যেকোন কাজ বিরূপ প্রভাব ফেলবে রিশাদ-রিত্তর জীবনে ।
রিত্তর দৃষ্টি ভাবলেশহীন,চুপচাপ ফাইলে মুখ ডুবিয়ে বসে আছে । রিশাদ যে কাজ বাদ দিয়ে হা করে তার দিকে তাকিয়ে আছে সেদিকেও ধ্যান নেই তার । আচমকা মুখ তুলে তাকাতেই রিশাদের চোখে চোখ পড়ল রিত্তর । সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিল দুজনেই । রিত্ত কি কিছুই অনুভব করছে না?রিশাদের অনুভূতি তো আকাশছোঁয়া যেন নব্য প্রেমে পড়েছে সে । প্রেমিকার চোখে চোখ পড়তেই লজ্জা পেয়ে চোখ নামানো-এ যেন পৃথিবীর সেরা অনুভূতি । নতুন করে এসব অনুভূতির সাথে জড়াবে এমনটা কখনো ভাবেই নি রিশাদ ।

🖤

দীপ ছাদের এককোণে দাঁড়িয়ে আছে,সময় যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে তার জন্য । বাবা হওয়ার অনুভূতি,এত সুখকর একটা অনুভূতি অথচ সামান্যতম সুখ অবধি উপভোগ করতে পারছে না । প্রতারণার রেশটা কি কাটিয়ে উঠতে পারবে না সে?এমন সময় দীপের মনে হলো মিহিকে হসপিটালে একা রেখে সে চলে এসেছে । মিহির জন্য চিন্তা না দেখালেও চিন্তাটা হচ্ছে ঠিকই । গাড়ি নিয়ে আবার হসপিটালের দিকে গেল দীপ ।

🖤

–এই সন্তান নষ্ট করে ফেল তুই । দীপের রক্ত তোর শরীরে-কোনভাবেই এটা আমি মেনে নিব না ।

–বাবা,আমি পারবো না এটা করতে । দীপের রক্ত আছে , হ্যাঁ দীপ বাবা ওর কিন্তু আমার কি কেও না ও?

–আমি কিচ্ছু শুনতে চাচ্ছি না । এই সন্তানের এবর্শনের সকল ব্যবস্থা আমি করব ।

–আমি এবর্শন করাবো না বাবা ।

–তুই এবর্শন না করানো পর্যন্ত তোকে আমি বাড়িতে তুলব না ।

–বাবা!!

মাহিন সাহেব রাগ দেখিয়ে বেরিয়ে গেলেন হসপিটাল থেকে । মিহি মেঝেতে বসে পড়ল । এমনটা কেন হলো তার সাথে?দীপকে তো সে হারিয়েই ফেলল কিন্তু নিজের বাবাকে অবধি সে পেল না । চিৎকার করে কাঁদতে মন চাচ্ছে কিন্তু পারছে না । কারো পায়ের শব্দ পেতেই চোখ মুছে ওপরে তাকায় মিহি,দীপ দাঁড়িয়ে ।

উঠে দাঁড়ায় মিহি,দীপকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে । দীপ ধরে না মিহিকে । মিহিকে নিয়ে বাইরে এনে গাড়িতে বসায় । মিহি কেঁদেই যাচ্ছে কিন্তু দীপ চুপচাপ । কিছুই বলছে না সে । বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামায় দীপ । মিহিকে নিয়ে ভেতরে ঢোকে দীপ ।

–আমার সন্তান না আসা পর্যন্ত তুমি এই বাড়িতে থাকবে । আমার সন্তান আমাকে দিয়ে তুমি এ বাড়ি ছেড়ে এবং আমার জীবন থেকে চিরতরে চলে যাবে ।

–সন্তানটা কি তোমার একার,দীপ?

–হুম,আমার একার ।

কথাটা বলেই দীপ উপরে চলে যায় । সিঁড়ির একপাশে দাঁড়িয়ে দীপের চলে যাওয়া দেখছে মিহি । কতটা অবহেলা আর অবজ্ঞা মনে জমিয়েছে দীপ যে মিহির দিকে ফিরেই তাকাচ্ছে না । যন্ত্রণাগুলো কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে মিহিকে । উঠে নিচতলার রুমে গিয়ে বসল মিহি । কান্না থামছে না কিছুতেই । দীপ নিজের রুমে এসে সিগারেট ধরায় । ঠোঁটের অধিকারটা আজ সিগারেটকে দিতে মন চাচ্ছে দীপের । সিগারেটের উপর সিগারেট জ্বালিয়ে যাচ্ছে দীপ । নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে,বুকে ব্যথা করছে । আধখাওয়া সিখারেটটা ফেলে দিয়ে নিচে আসে দীপ । সিঁড়ি দিয়ে নামতেই চোখ যায় নিচতলার রুমটার দিকে । মিহি ঘুমিয়ে পড়েছে । এত ঘুম কই পায় এই মেয়েটা? প্লেটে খাবার নিয়ে মিহির রুমে আসে দীপ । মিহিকে ডাকতে মন চায় না । কি সুন্দর গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে । এত মায়া মুখ জুড়ে কিন্তু দীপ কিছুতেই পারছে না মিহিকে ক্ষমা করে দিতে । মন আর মস্তিষ্কের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝে নিজেকে ক্ষয় করে ফেলছে সে । জীবনের কিছু সেরা মুহূর্তকে প্রতারণার গর্ভে বিলীন করে দিয়েছে সে । বাবা হওয়ার অনুভূতিটাকে অবধি অন্তরালে চাপা ফেলেছে । এত প্রতিকূলতার মাজে আর কি কখনো এক হতে পারবে দীপ-মিহি?হয়তো না কিন্তু এত সহজে তো আর ভালোবাসা ভুলে থাকা যায় না । দেখা যাক,কি হয় তাদের এই নতুন সূচনায় ।

চলবে…..
[ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here