What a হাসবেন্ড পর্ব -০৬

#What_a_হাসবেন্ড
#Tamanna_Tabassum(লেখনীতে)
#পর্ব-৬
আজ প্রায় ২ দিন হলো মহাশয় ফুলে আছে আমার উপর। গম্ভীর ভাবে হু হা করা ছাড়া আর তেমন একটা কথা বলে না। আমি কতকিছু করলাম সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। এখন আমি চুপচাপ বসে আছি। সেও সোফায় চুপচাপ বসে আছে। আমার ননদ, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি যে যার রুমে বসে আছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১১ টার উপরে বেজে গেছে এদিকে আমার জামাই মশাইয়ের কোনো হেলদোল নেই। আমার প্রচুর ঘুম পাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়লো আমি বাসা থেকে একটা ডিব্বা এনেছিলাম ওইটা লাগেজ থেকে বের করি নি। তাই লাগেজ থেকে আমার প্রাণ প্রিয় সেই ঐতিহাসিক ডিব্বাটা বের করলাম। আপনারা কিছু মনে করবেন না, আমি এইটাকে ডিব্বাই বলি 😐। ডিব্বা বলতেই শান্তি লাগে৷ আমার মনে আছে আমি যখন নাইনে পড়ি তখন এই ডিব্বাটা আমি আম্মুর কাছ থেকে নিয়েছিলাম। আম্মু দিতে চায় না😕, পরে জোর করে নিয়েছিলাম। ডিব্বা চেয়েছিলাম বলে আম্মু জিজ্ঞেস করেছিলো, ডিব্বা দিয়ে কী করবি?
আমি বলেছিলাম তুমি কী করো ডিব্বা দিয়ে? আম্মু বলেছিলো আমার চিনি, লবন, হলুদ রাখা লাগে তাই আমার এইগুলো লাগে। আমিও এরপর সোজাসাপটা জবাব দিয়েছিলাম যে আমারও অনেক কিছু রাখা লাগে। আমার এমন কথা শুনে আম্মু রেগেমেগে বলেছিলো,, ‘ডিব্বা দে নাইলে ফোন নিয়া যাবো ‘
ডিব্বা ফোন দুইটাই আমার দরকার, কাকে রেখে কাকে ছাড়বো? শেষে অনেক চিন্তাভাবনা করে ডিব্বাটা দিয়ে দিলাম। এরপর ওইদিন রাতে সবাই যখন ঘুমায় তখন ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে ওই ডিব্বা নিয়ে এসেছিলাম। ফোন যদি দিয়ে দিতাম তাইলে ডিব্বা পেতাম, কিন্তু ডিব্বা দিয়ে দিলে ফোন ডিব্বা দুইটাই পেতাম। এরপর সকালে আম্মু ডিব্বা ডিবনা করে পাগল বানায় দিচ্ছিলো। আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞেসও করেছিলো আমি নিয়েছি কিনা। আমি অত্যন্ত সিরিয়াস হয়ে বলেছিলাম না তো আমি তো নেই নাই। তুমি না কাল নিয়ে গেলা। এরপর আম্মু আর আমি মিলে ডিব্বা অনেক খুজে ছিলাম, কিন্তু কেউই পাই নি 😐,, কোথাউ গেলো ডিব্বা?

আমি মুন আমার আছে মেলা মেলা গুন 😁।

এরপর থেকেই এই ডিব্বায় আমি আমার প্রয়োজনীয় জীনিস রাখি। আমি ডাইরি লিখতে পছন্দ করতাম না। আমার ভালো লাগতো কাগজ ছিড়ে ছোটছোট টুকরো করে নিজের ইচ্ছেগুলো লিখে রাখতে। আমি সারাদিনে যা করি সেগুলো যদি ডাইরিতে লিখতাম তাহলে ডাইরি বোধহয় অজ্ঞা’নই হয়ে যেতো, ডাইরির কথা ভেবে এই পন্থা অবলম্বন করা শুরু করি। i know 😎 i am Very very উদার।
এখন আমার এই ডিব্বাকে সুরক্ষিত একটা জায়গায় রাখতে হবে, কিন্তু কোথায় রাখি? অনেক চিন্তাভাবনার পর আলমারিতে রেখে দিলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আমার উনি আমার দিকে তাকায় আছে। আলমারি লাগায় দিয়ে আমিও তার দিকে তাকায় থাকলাম। সেও আগের মতো তাকায় আছে। আমিও তাকায় আছি। কেউ যদি এখন এসে পড়ে তাহলে আমাদের এই তাকাতাকি দেখে ভরকে যাবে। আমাদের মধ্যে যেন তাকিয়ে থাকার প্রতিযোগিতা চলছে। স্কুলে, কলেজে থাকতে কোনো ছেলে যখন আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতো আমিও তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতাম শেষমেশ ওই ছেলে লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাতো। এখন জামাইয়ের উপর প্রয়োগ করে দেখি কী ফলাফল আসে। আমাকে এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে উনি বলল,” এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন?”

-” কিসু কিসু ভালুপাসা তাকিয়ে তাকিয়েই হয় ”
-” কীহ😒”
-” না কিছু না। ঘুমাবেন না?”
-” হুম ”
-” আসুন ”

উনি কিছু না বলে শুয়ে পড়লো। আমি লাইট বন্ধ করে দিলাম। এরপর ঘুমিয়ে পড়লাম।

________________________

সকালে আম্মু ফোন দিয়ে বলল আব্বু নাকি অসুস্থ। আমি শ্বাশুড়িকে বিষয়টা জানালে সে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেয়। ওনাকে বলে দিলো আমাকে যেন দিয়ে আসে। উনি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। এরপর আমি উনি বেরিয়ে পরলাম। বাসে উঠলাম। রাস্তায় আমার সাথে কথা বলল না, এমনকি জানালার পাশের সীটটাও আমাকে দিলো না। উনি আমার সাথে কথা বলতে চান না ভালো কথা তাই বলে জানালার পাশেও বসতে দিবে না! ইচ্ছা তো করে মূলা খাওয়ায় দেই। এর প্রতি’শোধ তো আমি নিবোই নিবো, জানালার পাশে বসার শখ জনমকার মতো মিটায় দিবো।
.
প্রচুর বিরক্ত আমি ওনার উপর। বাতাস আমার কাছে আসতে চাচ্ছে কিন্তু উনি ঘুরে বসে আছে যার জন্য একটু বাতাসও আমার কাছে আসতেছে না। বাতাসের যদি মুখ থাকতো তাইলে ওনার গলা টি’পে বলতো ওই ভূতের মূভিটার মতো বলতো, ” যেতে দিবি না? আমাকে যেতে দিবি না?”
কিন্তু আফসোস বাতাস এমন কিছুই বলল না। আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে মানুষদের দেখতেছি। কেউ ফোন টিপতেছে, কেউ ঘুমাচ্ছে। হঠাৎই বাসে একটা লোক জোরে জোরে বলতে লাগলো, ” আমড়া নিবেন?” কেউ নিলো। আমি থম মে’রে বসে আছি, কেননা এইসব আমি খাই না। বাসের প্রায় অনেকেই লোকটার থেকে আমড়া কিনল। আমার পাশে তাকিয়ে দেখলাম উনি প্রকৃতি দেখছে খুবই মনোযোগ দিয়ে, এখন যদি এদিকে তাকায় তাহলে অনেক বড় ধরনের কিছু হয়ে যাবে। সময় ভালো কাটছে না তাই আমি আমড়া চাইলাম লোকটার কাছ থেকে। উনি দিলো। আমিও খেলাম। দেখলাম নাহ, ততোটাও খারা’প না খেতে। খাওয়া শেষ করে আবার নিলাম, সেটা শেষ করে আবার নিলাম। এরপর ঝালমুড়িওয়ালা আসলো, আমি ঝালমুড়ি নিলাম। বুঝলাম না আমার উপর অদৃশ্য কোন আত্মা এসে যেন ভর করলো। আমি উড়াধুরা খেতে লাগলাম। পায়ের কাছে কাগজগুলো ফেলছি আর খাচ্ছি। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম উনি আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। আমি খাওয়া শেষ করে আবার চাইলাম। এরপর চানাচুরওয়ালা আসলো আমি চানাচুরও নিলাম। লোকেরা টাকা চাইলে বললাম,” উনি দিয়ে দিবে আমাকে খালি দিতে থাকেন।”
আমার জামা থেকে শুরু করে বাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চানাচুর, আমড়ার পলিথিন, কাগজ পড়ে আছে।এদিকে আমার খাওয়া আরও বাকি আর ওদিকে লোকগুলো চলে যাচ্ছে। আমি তারাতাড়ি করে ওনাদের ডাকলাম।

-” ওও চাচা আমাকে চানাচুর, আমড়া সব….
আর কিছু বলতে পারলাম না। তাকিয়ে দেখলাম উনি আমার মুখ চেপে ধরে রাখছে। চানাচুরওয়ালা -রা বাস থেকে নেমে যেতেই উনি আমার মুখ ছেড়ে দিয়ে বললেন, ” আসো জানালার পাশে বসো। ”

আমি দাঁত কেলিয়ে বসে পড়লাম। উনি পড়ে থাকা পলিথিন গুলো উঠাতে লাগলেন। আমার কেন যেন খুব হাসি পাচ্ছে। তাহলে……?শেষ পর্যন্ত জানালার পাশে বসতে পারলাম 😉।

চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here