Home ধারাবাহিক গল্প আমার সংসার আমার সংসার পর্ব ১৪

আমার সংসার পর্ব ১৪

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

# আমার_সংসার
.
.
Part:14
.
.
Writer :Mollika Moly
.
.
.
সিনহা আর সিফাত রুমে চলে এলো।
.
– “দেখেছো বাবা,মা কতো খুশি হয়েছে?
মুখে হাসি নিয়ে সিফাত কথা বললো।
– “হুম, বাবা,মা অনেক খুশি হয়েছে,নাতী,নাতনীর জন্য।
-” হুম, যাও ফ্রেশ হয়ে এসো,তোমার সাথে কিছু কথা আছে?
– “হুম আসছি,কিন্তু আপনি আগে যান?
– ” না তুমি আগে ফ্রেশ হয়ে নাও,শরীরের এই অবস্থা তারওপর আবার অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছো,যাও ফ্রেশ হয়ে নাও তারপর আমি হয়ে নিচ্ছি।
সিনহা আর কথা না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।আর সিফাত কাউকে কল করলো।
– “হ্যালো,রাতে দেখা করবো,কথা আছে।
কথাটি বলেই সিফাত ফোন কেটে দিলো।
.
ফ্রেশ হয়ে বেরোনোর সময় চুল ঝাড়তেই চুলের পানি ছিটকে গেলো সিফাতে মুখে।সিফাত মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলো সিনহা চুল ঝাড়ছে আর সেই পানি ওর মুখে এসে পড়েছে।অবাক চোখে সিফাত সিনহার দিকে তাকিয়ে আছে।সিনহার মুখে বিন্দু বিন্দু জমে থাকা পানি বেশ লাগছে,আর ওর লম্বা চুল দেখে সিফাত হা হয়ে আছে।সে কখনো খেয়াল করেনি সিনহার এতো সুন্দর আর এতো বড় চুল।কোমড় ছাড়িয়ে পড়েছে।পলকহীন ভাবে হা করে তাকিয়ে আছে সিফাত সিনহার দিকে।
.
সিফাতের দিকে তাকাতেই দেখে সিফাত সিনহার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।সিফাতের এভাবে তাকানো দেখে সিনহা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করলো।
সিফাত তাকিয়েই আছে,সে কোন এক জলে ফোঁটা পদ্ম কে দেখছে,সবে প্রস্ফুটিত হয়েছে এরকম মনে হচ্ছে সিফাতের।অনেকটা সময় পর সিনহা মুখ তুলে নিজেই বললো।
.
– “ফ্রেশ হয়ে আসুন.
– ” কিই?আনমনে বললো।
– “বলছিলাম ফ্রেশ হয়ে আসুন,আমার হয়ে গেছে।
– ” ওহ হ্যাঁ যাচ্ছি।
বলেই সিফাত ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে সিনহা বিছানায় বসে ঝিমুচ্ছে।
– “কি হলো ঘুম পাচ্ছে তাহলে না ঘুমিয়ে এমন বসে ঝিমাচ্ছো কেনো?
-” কই না তো ঘুম পাচ্ছে না।
– “তাহলে ঝিমাচ্ছিলে কেনো?
– ” কই ঝিমাচ্ছি বলুন আপনি কি যেনো বলতে চাইলেন?
– “পরে বলবো এখন শুয়ে রেষ্ট নাও টায়ার্ড দেখাচ্ছে তোমায়?
– ” আরে না আমি ঠিক আছি।বলুন আপনি কি বলবেন?
– “এতো বেশি কথা বলো কেনো। বললাম না রেষ্ট নিতে,রেষ্ট নাও আমি একটু বাহিরে থেকে আসি।
.
সিনহা আর কিছু বললো না,সিফাত সিনহা কে শুইয়ে দিয়ে বাহিরে চলে গেলো।সিনহা কে বলে গেলো না কোথায় যাচ্ছে।কিন্তু সিনহা খুব ভালো করেই জানে সে কোথায় যাচ্ছে। সিনহা চুপ করে শুইয়ে গভীর চিন্তায় ডুব দিলো।তার ভবিষ্যৎ তার সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে, এইসব নিয়ে আকাশ-পাতাল ভাবতে লাগলো।
.
– ” হানিমুন শেষ হয়েছে তোমার,তো বউয়ের সাথে কেমন কাটলো হানিমুন?
– “জারা প্লিজ।
– ” কেনো বলোতো,ভুল কিছু বললাম?
– “জারা প্লিজ কিছু কথা বলতে এসেছি আমি তোমায়।
– ” হুম বলো কি বলবে?
– “আমি বাবা হচ্ছি।
সিফাত কথাটি জারা কে যখন বললো তখন জারা অবাক হয়ে তাকালো সিফাতের দিকে।আর সিফাতের চোখে সে খুশির ছায়া দেখতে পেলো।
– “কি বলছো তুমি এইসব সিফাত?
– “সত্যি বলছি জারা,আমি বাবা হবো,আজ আমি অনেক খুশি।
কথাটি শুনা মাত্রই জারা মুখ কালো করে ফেললো।
– “ওহ বুঝলাম তোমার আর সিনহার সন্তান, তাই এতো খুশি।দেখলো তো আমি যেটা বলেছিলাম সেটাই হলো।
– ” না জারা আমার আর সিনহার না আমার আর তোমার সন্তান।
– “মানে?
অবাক চোখে তাকালো জারা সিফাতের দিকে।
– “হ্যাঁ জারা সিনহা গর্ভে ধারন করলেও সন্তান আমার আর তোমার হবে।
– ” মানে কি বলছো তুৃমি,আমি বুঝতে পারছি না?
– “সিনহা কে আমি বউ বলে মানি না সেটাতো জানো?
– ” হুম তো?
– “এখন আসল বিষয় হলো সিনহার সাথে বিয়ে হয়ে আমিও সুখী না সেও সুখী না।
– ” কি বলতে চাইছো তুমি ক্লেয়ার করে বলোতো?
– “আমি যেমন তোমায় ভালবাসি ঠিক তেমনি সিনহাও অন্য একজনকে ভালোবাসে।
– ” হোয়াট???
– “হ্যাঁ,সে যেহেতু অন্য কাউকে ভালবাসে তাই আমাদের ডিভোর্সের পর তো সে তার ভালবাসার মানুষের কাছে চলে যাবে তাই না?
– ” ডিভোর্স কবে হবে তোমাদের?
– “কবে আবার,বাচ্চা হওয়ার পর,প্রেগন্যান্সিতে তো আর ডিভোর্স দেওয়া যায় না।
– ” বাচ্চা হওয়ার পর ডিভোর্স হবে তোমাদের?
– “অফকোর্স তারপরই তুমি আর আমি।
– ” আর বাচ্চা টা,বাচ্চা টা কি হবে?
– “বাচ্চা টা কি হবে মানে কি,আমাদের বাচ্চা আমাদের কাছে থাকবে।
– ” হোয়াট???
– “কি হলো?
– ” অন্যের বাচ্চা আমি ক্যারি করবো নেভার।
জারার কথা শুনে সিফাত ভ্রু কুচকে তাকালো জারার দিকে।
– “কি বলছো তুমি এইসব জারা?
– ” লিসেন আমি অন্যের বেবি ক্যারি করতে পারবো না।
– “জারা এটা অন্যের বাচ্চা না,এটা আমার বাচ্চা আমাদের বাচ্চা।
– ” হ্যা তোমার বাচ্চা, তোমার আর সিনহার বাচ্চা আমার না ওকে।
– “জারা সিনহা তো আমাদের মাঝে থেকে সরেই যাবে,তবুও কেনো?
– ” সে যাবে বাট আরেকটা আপদ তো রেখে যাবে।
– “জারা আমি বাবা হবো,আর এটা খুব ভালো হয়েছে,তুমি তো কখনো মা হতে পারবে না কারন প্রথম বার আমাদের সন্তান এসেছিলো তুমি তা রাখতে চাওনি এব্রোশন করার ফলে তোমার মা হওয়ার ক্ষমতা হারাও তুমি কখনো আমায় সন্তান দিতে পারবে না জারা সো আমার মনে হয় সিনহার আর আমার সন্তানকে কে নিজের সন্তান মনে করবে।আর আমার সাথে থাকতে হলে আমার সন্তান কে মেনে নিতে হবে তোমার মনে রেখো।
কথাগুলো বলে সিফাত সোজা চলে গেলো।আর জারা এদিকে সব জিনিষ ভাংচুর করতে লাগলো রাগে।সে মেনে নিতে পারবে না সিনহার সন্তান কে কখনো।
.
এদিকে অনেক রাত হয়ে গেলো অথচ সিফাত বাড়ি আসেনি।সিনহা চিন্তায় বসে আছে।রাতে খাবারো খায় নি সে।সিফাতের খাবার রুমে এনে রেখে দিয়েছে।সে যখন ফিরবে তখন খাবে এটা ভেবে। সিফাত অনেক দিন পর আজ অনেক রাত হলো বাহিরে আছে। সিনহার মনে ভয় করছে,চিন্তা করছে প্রচুর সে।ঘুম পাচ্ছে খুব সিনহার, ঘরির দিকে তাকালো ১২ঃ৫০ বাজে অথচ সিফাতের আসার কোনো নামই নেই।সিনহার ইচ্ছে করছে ঘুমিয়ে পড়তে কিন্তু সে ঘুমোচ্ছে না,অনেকটা সময় এভাবে থাকার পর কখন যে সে বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে সেদিকে খেয়াল নেই। ঘুম ভাংলো ফজরেরে আজানের ধ্বনি তে।চোখ খুলে দেখে সে বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে।পুরো রুম ফাঁকা। ওর আর বুঝতে দেরী হলো না যে সিফাত রাতে ফিরেনি।তারাতারি উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে বাহিরে ড্রয়িং রুমে এসে থ হয়ে গেলো।এটা কি দেখছে সে।ভাবতে পারছে না এরকম দেখবে।
.
সিনহা খারাপ কিছুই দেখেনি, ড্রয়িং রুমে এসে দেখে সিফাত সোফার ওপর ঘুমিয়ে আছে।এটা দেখে সিনহা অবাক হয়ে ভাবছে উনি রুমে না গিয়ে এখানে ঘুমিয়েছে এভাবে।অপলক তাকিয়ে থাকলো সিনহা সিফাতের দিকে। চোখমুখে ক্লান্তির ছাপ, ড্রেসও চেঞ্জ করেনি,ওভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আচ্ছা ওনার শরীর ঠিক আছে তো,জ্বর আসেনিতো আবার, সিনহা এটা ভেবে সিফাতের কপালে হাত দিতেই সিফাত চোখ খুললো।সিনহা খানিক ইতোস্ত বোধ করে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো,,।
– “সারারাত এখানে ঘুমিয়ে ছিলেন?
– ” হুম।
– “কেনো,রুমে যাননি আপনি?
– ” তোমায় বিরক্ত করতে চাইনি তাই।
– “কিসের বিরক্ত রুমে যাবেন এতে বিরক্তির কি আছে।
– ” অনেক রাতে ফিরেছে ভাবলাম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো আর এই শরীরে ঘুম থেকে জাগাতে চাই নি।
– “আমি ঘুমায় নি জেগেই ছিলাম,ডাকলেই পারতেন?.
– ” জেগে ছিলে কেন তুমি এই শরীরে?শোন একটা কথা নিজের শরীরের কেয়ার নিবে এখন থেকে ওকে?
– “হুম নিবো মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
– “রাতে খাবার খেয়ে ছিলে?মিথ্যে বলবে না?
– ” মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো।
– “কেনো খাওনি,রাগী ভাবে বললো সিফাত।
– ” আসলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
– “কে বলেছে তোমায় আমার জন্য অপেক্ষা করতে নিজে না খেয়ে।রাগী গলায় বললো সিফাত ধমক দিয়ে।
সিনহা আতকে উঠলো ওর ধমকে।
– “আর কখনো এমন গাফলতি যেনো না হয়।আমি থাকি না থাকি খাই বা না খাই,তুমি খাবে মনে থাকবে।
– ” মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো সিনহা।
– “ওকে দেখবো,নেক্সটবার এমন হলে বুঝবে।বলেই সিফাত উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
.
to be continue……
.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নোনাজলের শহর পর্ব শেষ

নোনাজলের শহর #লেখিকা_হৃদিতা_আহমেদ পর্ব-২৭ আদিব হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়।মিমন আদিবকে রেগে বের হতে দেখে দৌড়ে পিছু গেলেও আদিবকে ধরার আগেই...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৫+২৬

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৫ আদিবের পাগলামি সামলাতে না পেরে বাধ্য হয়ে গতকাল ডক্টরের কাছে গিয়েছিল মুমু।ডক্টর সব জেনে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট সহ আরো...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৩+২৪

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৩ -" মুমু পাগলামি করিস না, ফর গড সেক হাত থেকে চাকুটা সরা।" আদিব অস্থির হয়ে মুমুকে বার বার কথাটা বলছে।আদিব...

নোনাজলের শহর পর্ব ২১+২২

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২১ মুমুকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে আদিব প্রথমে অবাক হলেও হঠাৎই মনে হলো মুমু অসুস্থ হয়ে যায়নি তো? ভেবেই তড়িঘড়ি...

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৯
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৪
error: Alert: Content is protected !!