Home ধারাবাহিক গল্প আমার সংসার আমার সংসার পর্ব ১৬

আমার সংসার পর্ব ১৬

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আমার_সংসার
.
.
Part:16
.
.
Writer :Mollika Moly
.
.
.
সিফাত দুমগ কফি আর সাথে একটা চাদড় নিয়ে ছাদে গেলো।সিনহার পাশের টেবিল টাতে কফির মগ রেখে আলতো করে সিনহা কে পিছন থেকে চাদড়ে মুড়িয়ে নিলো সিফাত।আচমকা স্পর্শে সিনহা চমকে উঠলো।পিছনে তাকিয়ে দেখে সিফাত।
.
– “এনেছেন চাদর আর কফি?
– ” হুম ম্যাম এনেছি।
বলে সিফাত টেবিলের ওপর থেকে কফির মগ টা সিনহার দিকে বাড়িয়ে দিলো।
– “চাদর নিয়ে আসেননি আমার জন্য?
– ” এনেছিতো।
– “কোথায়?
– ” এইতো।
বলে সিফাত সিনহার পাশে বসে এক চাদরে দুজন গায়ে জড়িয়ে নিলো।
– “একটা চাদরে দুজনে?
– “কেনো কি হয়েছে,,সমস্যা হচ্ছে তোমার?
আমার কিন্তু কোনো সমস্যা হচ্ছে না,বেশ উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে দুজনে একসাথে এভাবে।
.
সিনহা আর কিছুই বললো না কফির মগে চুমুক দিতে দিতে আকাশপানে চাঁদ দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
অনেকক্ষন দুজন চুপ করে আছে,কেউ কিছু বলছে না। এতে সিফাতের খারাপ লাগছে।তার ইচ্ছে করছে সিনহার সাথে গল্প করতে।নিরাবতা ভেংগে সিফাতই বলে উঠলো,,,
– “আজকের দুটো চাঁদই খুব সুন্দর তাই না?
কথাটি শুনেই সিনহা ফিক করে হেসে অবাক চাহনিতে তাকালো সিফাতের দিকে।সিফাতও পলকহীনভাবে সিনহার দিকে তাকিয়ে আছে।
.
– “আজকাল আপনার বুদ্ধি কি লোপ পেয়েছে?
সিনহা প্রশ্ন করলো সিফাত কে।
সিফাত জিঞ্জাসু দৃষ্টিতে তাকালো সিনহার দিকে।
– “কি হলো ওভাবে তাকিয়ে আছেন যে?
– ” আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এটা কেনো বললে?
– “কেনো বলবো না বলুনতো?
– ” কেনো বললে সেটাতো বলো,আমি নির্বোধের মতো কি কাজ করলাম?
– “আমি কি আপনাকে নির্বোধ বলেছি?
– “তাহলে বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এটা কেন বললে?
– ” বললাম কারন আপনি দুটো চাঁদের কথা বলছেন।
– “ঠিকই তো বলেছি এটা,বুদ্ধি লোপের কি হলো শুনি?
-” কখনো দুটো চাঁদ দেখেছেন,চাঁদ তো একটায় হয়।আর আপনি দুটো চাদের কথা বললেন।তাই বললাম।
– “হ্যাঁ দেখেছিতো,এখনো দেখছি দুটো চাঁদ আমার সামনে।
– ” ওমা তাই বুঝি?
– “জ্বী ম্যাম।
– ” আল্লাহ গো পাগল হইছে এনি,কপাল গেলো এবার এনারে পাগলে গারদে দিতে হবে।
– “ঐ চুপ কি যা তা বলো কে পাগল হইছে?
– ” কে আবার আপনি,দুটো চাঁদ দেখছেন একসাথে,আপনি পাগল হইছেন নয়তো পেত্নী ঘাড়ে চেপেছে।
– “হা হা হা।সত্যিই তো পেত্নীই ঘাড়ে চেপেছে আমার। সিনহা পেত্নী ঘাড়ে চেপেছে।মনে মনে বললো সিফাত কথাগুলো।
– “তো মহাশয় এখনো কি দুটো চাঁদ দেখছেন আপনি?
– ” হুম এখনো দেখছি আকাশে একটা চাঁদ, আর আমার সামনে বসে থাকা একটা চাঁদ।
সিনহার দিকে তাকিয়ে আনমনে কথাগুলো বললো সিফাত।
সিফাতের কথা বুঝতে পেরে সিনহা খানিক লজ্জা পেলো।কথা ঘুরানোর জন্য বললো…..
.
– “কফি খাবেন নাকি শরবত করে পরে খাবেন?
– ” ওহো রে ভুলেই গেছিলাম।কথাটি বলে সিফাত কফির মগে চুমুক দিতে লাগলো।
দুজন গল্প প্রচুর গল্প করে একসময় সিনহা সিফাতের কাধে ঘুমে ঢলে পড়ে।
.
নিঝুম মধ্যরাত।চারপাশটা নিঃশব্দ থম থমে।কারো কোনো সাড়া শব্দ নেই।শহরটা ঘুমন্ত শহরে পরিনত হয়েছে।সবাই এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।সিফাত সিনহার দিকে তাকায়।ঘুমিয়ে পড়েছে সে।সিফাতের হাত জড়িয়ে কাধে মাথা রেখে।ঘুমন্ত অবস্থাতেই সিফাতের হাত সে আরো কাছে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে।সিফাতের শরীরের সাথে লেপটে যাচ্ছে একটু উষ্ণতা পাওয়ার আশায়।চারদিকে হিমবাহ বইছে।সিফাতে আর বুঝতে বাকি রইলো না সিনহার ঠান্ডা লাগছে তাই এমন করছে।সে আর এক মুহুর্ত ছাদে না দেরী করে সিনহা কে কোলে করে রুমে নিয়ে এসে বিছানায় শুইয়ে দিলো।গায়ে চাদর টেনে দিলো।সিনহার কপালে ভালবাসার পরশ দিয়ে, অন্যপাশে শুয়ে সিনহা কে দেখতে লাগলো।ঘুমন্ত সিনহা কে অপরুপ সুন্দর লাগছে।সিনহার এই রূপ আগে সিফাত খেয়াল করেনি।আজ সে সিনহার মায়ায় পড়ে যাচ্ছে। সে ভাবছে কাকে ভালবাসে সে জারা কে নাকি সিনহা কে।জারা কে সে ভালবাসে বিয়ে করবে কিন্তু সিনহা কে ছেড়ে থাকবে কথাটি ভাবতেই যেনো সিফাতের বুকের মাঝখানে মোচড় দিয়ে উঠে।তবে কি সে সিনহা কে ভালোবেসে ফেলেছে।হ্যাঁ প্রশ্নের উত্তর আজ পেয়েছে সে, সিনহা কেই সে ভালবাসে জারা কে নয়।জারা কে ভালবাসলেও বর্তমানে যারা তার মন থেকে অপসারিত হয়েছে।সিনহা দখল করে নিয়েছে সেই জায়গা টা।সে সিনহা কে ভালোবেসে ফেলেছে।কিন্তু সিনহা তো অন্যকাউকে ভালবাসে। তাহলে কি করে সে সিনহা কে কাছে পাবে।কথাটি ভেবে সিফাতের মনে অস্থিরতা চলে আসে।সে সিনহা কে ভালোবাসে আর সিনহা অন্যকাউকে এটা সে মেনে নিতে পারছে না।সিনহা কে সে ছাড়তে পারবে না কখনো না কোনভাবেই না।সিনহা শুধু আমার আর কারো না।ও শুধু আমার স্ত্রী, আমার সন্তানের মা।আর কারো হতে দেবো না ওকে।দরকার হলে সিনহার কাছে ভালবাসা ভিক্ষা চাইবো। ওকে ছাড়া থাকা অসম্ভব এইসব ভেবে সিনহার দিকে আবারো তাকালো সিফাত।ওর হাতটা ধরলো।আঙুলে আঙুল ডুবিয়ে ওর দিকে এগিয়ে এসে কপালে কপাল লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
.
সকালে সিনহা জেগে গিয়ে দেখে সিফাত তার অনেক টা কাছাকাছি।কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে আছে।ওর চোখ মুখে বিষাদের ছায়া।সে রুমে কখন এলো।সে তো ছাদে ছিলো,রাতের কথা মনে পড়লো ওর, চাদ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো সে।সিফাত তাকে রুমে নিয়ে এসেছে এটা বুঝতে তার দেরী হলো না।সিনহা উঠতে যাওয়ার জন্য সড়ে আসতেই হাতে টান অনুভব করে।দেখে সিফাত ওর হাত ধরে আঙুলে আঙুল ডুবিয়ে রেখেছে,এমন ভাবে মনে হয় ছেড়ে দিলেই সিনহা ওর থেকে দুরে চলে যাবে।সিনহা হাতটা সামনে নিয়ে এসো আলতো করে সিফাতের হাতে একটা চুমু দিলো।তারপর হাত ছাড়িয়ে উঠে গেলো।ফ্রেশ হয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কিচেনের দিকে পা বাড়াতেই সিফাতের গতকালের বলা কথাগুলো মনে পড়লো।সে তো বারন করেছিলো রান্না ঘরে যেতে কাহ করতে।এখন সে কি করবে।সকালের নাস্তা বানাতে হলে সুবর্ণ কে একটু হেল্প করাই যায়,ভেবে কিচেনে চলে গেলো।
.
আর এদিকে প্রায় সারারাত জেগে ছিলো সিফাত।চোখে ঘুম ছিলো না। শেষরাতের দিকে তার চোখে রাজ্যের ঘুম এসে বিরাজ করেছে।এখন সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সকাল হয়েছে তবুও সে জাগা পায়নি।
.
to be continue,,,,,,!
.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নোনাজলের শহর পর্ব শেষ

নোনাজলের শহর #লেখিকা_হৃদিতা_আহমেদ পর্ব-২৭ আদিব হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে যায়।মিমন আদিবকে রেগে বের হতে দেখে দৌড়ে পিছু গেলেও আদিবকে ধরার আগেই...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৫+২৬

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৫ আদিবের পাগলামি সামলাতে না পেরে বাধ্য হয়ে গতকাল ডক্টরের কাছে গিয়েছিল মুমু।ডক্টর সব জেনে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট সহ আরো...

নোনাজলের শহর পর্ব ২৩+২৪

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২৩ -" মুমু পাগলামি করিস না, ফর গড সেক হাত থেকে চাকুটা সরা।" আদিব অস্থির হয়ে মুমুকে বার বার কথাটা বলছে।আদিব...

নোনাজলের শহর পর্ব ২১+২২

নোনাজলের শহর লেখিকা: হৃদিতা আহমেদ পর্ব-২১ মুমুকে অস্বাভাবিকভাবে বসে পড়তে দেখে আদিব প্রথমে অবাক হলেও হঠাৎই মনে হলো মুমু অসুস্থ হয়ে যায়নি তো? ভেবেই তড়িঘড়ি...

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৯
Elezhabeth Fernandez on তোলপাড় পর্ব ২৪
error: Alert: Content is protected !!