আমার সংসার পর্ব ১৭

আমার_সংসার
.
.
Part :17
.
.
Writer :Mollika Moly
.
হাসি আনন্দ সিফাতের যত্নে সিনহার গর্ভের সন্তান একটু একটু করে বড় হতে লাগলো।আর বেশি সময় নেই তার আগমনের।নতুন অতিথি আসছে পৃথীবিতে সেই খুশিতে ইয়াত্তা নেই সিফাতের।সে কয়েকদিনে সিনহার সাথে থেকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে।সিনহা তার মনে জায়গা করে নিয়েছে।এখন সে বুঝে গেছে জারা কে নয় সিনহা কেই সে ভালোবাসে,সিনহা কেই সে চায়।কথাগুলো ভেবে জারার বাড়ির দিকে চলে গেলো সিফাত।বাড়ির দরজা লক না করাতে সে সোজা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করলো।দু একজনের গলার আওয়াজ ভেসে এলো সিফাতের কানে। সিফাত জারার বেডরুমের দিকে যত এগোতে লাগলো তত আওয়াজ স্পষ্ট শুনতে পেলো।জারা রাগান্বিত হয়ে কথা বলছে একটা ছেলের সাথে।ছেলেটির কন্ঠও চেনা চেনা লাগছে সিফাতের।দরজা একটু ফাক করে উকি দিয়ে দেখে জারা আকাশের সাথে কথা বলছে।সিফাত রুমের ভিতরে না গিয়ে দরজার পাশে দাড়িয়ে জারা আর আকাশের কথা শুনতে লাগলো।জারা বলছে আকাশ কে,,,
– “পাগল হয়েছো তুমি আকাশ।আমাদের কি প্লান ছিলো আর কি হচ্ছে?
– ” কাম অন বাবু,তুমি বুঝতে চাইছো না কেন।আমাদের প্লান টা তোমার জন্য সাকসেস হবে না এখন মনে হচ্ছে।
– “আকাশ আমি প্লান মতোই এগুচ্ছিলাম।বাট মাঝখানে সিনহা প্রেগন্যান্ট হলো।
– ” হ্যা তো কি হয়েছে,সিফাত তো তোমাকে ভালবাসে, ওকে ডিভোর্স দিয়ে তোমায় বিয়ে করবে।
– “আমায় বিয়ে করবে বাট ওদের বাচ্চা কে পালবে।আমি সিনহার বাচ্চা বড় করব।আকাশ আামদের প্লান ছিলো সিফাত কে বিয়ে করে ওদের সব প্রপার্টি নিজের নামে করে ওকে ছেড়ে দেওয়া।ওর বাচ্চা মানুষ করা নয়।
– ” জারা তুমি কেনো বুঝতে চাইছো না কিছু পেতো হলে তার জন্য একটু তো মানিয়ে নিতেই হয়।
– “নেভার আমি কখনোই ঐসব বাচ্চা সামলাতে পারবো না।
– ” কাম অন জারা বোঝার চেষ্টা করো তোমার সিফাতের সাথে বিয়ে না হলে সব ভেসতে যাবে।
– “কিন্তু ঐ বাচ্চা ওটার কি হবে।
– ” কিছু হবে না তুমি জাষ্ট ওকে কেয়ার করবে না তাহলেই হবে।আপাতত কয়েকটা দিন মানিয়ে নাও,কাজ হয়ে গেলেই তো সব শেষ।বুঝেছো ডিয়ার?
– “হুম বুঝেছি।
জারা কথাটি বলতেই সিফাত দরজার আড়ালে থেকে বের হয়ে জারার আর আকাশের গালে সজোরে দুজনকে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিলো।
– “আর কতো ঠকাবি তোরা আমায়।আর কতো প্লানিং করবি বল।তুই হলি সেই বন্ধু যাকে কলিজায় জায়গা দিয়েছিলাম,বিশ্বাস করতাম।আর জারা তুমি হলে সেই মেয়ে যাকে জিবনের চাইতেও বেশি ভালোবেসে ছিলাম।তোমার জন্য সিনহার মতো ভালো মেয়ে কে অনেক কষ্ট দিয়েছি আর সেই তোমরা আমাকে ঠকালে।একবার নয় দু দুবার ঠকালে।কেনো বলোতো।কি দোষ আমার।ভালবাসি বিশ্বাস করি বার বার এটাই দোষ আমার।সত্যিই আমার বেকামি তোমায় আবারো বিশ্বাস করে।আমার মনে রাখা উচিত ছিলো কয়লা ধুলে কখনো ময়লা যায় না।সব চাইতে নিকৃষ্ট তুমি।আর ভালোই হয়েছে সব টা জেনে গেলাম আজ আমি। আজ সব টা না জানলেও তোমাকে আমি ছেড়ে দিতাম আজ।কারন আমি সিনহা কে ভালোবাসি তোমার সাথে আমি আর থাকতে পারবো না।এটা বলতেই এসেছিলাম।
.
কথাগুলো বলে সিফাত আর এক মুহুর্ত দেরী করলো না চলে এলো বাড়ি।আর জারা আর আকাশ রাগে ফেটে যাচ্ছে। বাড়ি ফিরেই সিফাত দেখে সিফাত আধা শোয়া হয়ে বই পড়ছে।সিফাত কোনো কথা না বলেই ধপ করে বসে পড়লো সিনহার কাছাকাছি।
– “কি হয়েছে আপনার,চোখ মুখ এমন দেখাচ্ছে কেনো?
– ” কই কি হবে কিছু না।
কথাটি বলেই সিফাত উঠে বেলকুনিতে চলে গেলো। সিনহা নির্বাক হয়ে সিফাতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকলো।সিনহা ভাবছে হয়তো সে জারার কাছে গিয়ে ছিলো আবারো সিনহা কে নিয়ে ওদের মাঝে ঝামেলা হয়েছিলো।কারন সিনহা জানতো সিনহা কে নিয়ে সিনহা আর জারার মাঝে ঝামেলা হয় সেটা সিফাত বলতো ওকে।আর ঝামেলা হবে না আপনাদের মধ্যে আমি চলে যাবো আপনাদের ছেড়ে অনেক অনেক দুরে।বাধা হয়ে আসবো না আর।কথাগুলো মনে মনে বললো সিনহা।মনের অজান্তেই চোখের কোনে পানি জমেছে ওর।কষ্টে, এটা তার নতুন কোনো কষ্ট না। অনেক আগের।সেতো জানেই তার সাথে এমনটাই হবে তবুও সে নিজের মন টাকে মানাতে পারছে না।বড্ড বেশি ভালোবাসে যে সে সিফাত কে।কি করে থাকবে সে একা একা।ওর সাথে কাটানো সময় গুলো সিফাতের কেয়ারিং কি করে ভুলবো।ভালবেসে হোক বা যেভাবেই হোক সিফাত ওকে অনেক কেয়ার করেছে।এগুলো সে কখনোই ভুলতে পারবে না।একা একা বসে একাধারে কেঁদে যাচ্ছে সিনহা।
.
আর এদিকে সিফাত বেলকুনিতে দাড়িয়ে একের পর এক সিগারেটের ধোয়ায় নিজেকে শেষ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।যদিও সে বুঝতে পেরেছে সে সিনহা কে ভালবাসে তবুও এটা ভেবে তার কষ্ট হচ্ছে জারা ওকে ঠকিয়েছে।আরো ঠকাতো যদি না সে সিনহা কে ভালোবাসতো।সে আবারো জারা কে বিশ্বাস করে ভুল করেছে।সিনহা কে কতো কষ্ট দিয়েছে।এখন সে শুধু সিনহা আর তার অনাগত সন্তানকে ভালবাসে কিন্তু সিনহা সেতো অন্যকাউকে ভালবাসে।কি করবে সিফাত এখন বুঝে উঠতে পারছে না। সিনহা শুধুই আমার ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না কিন্তু আমিতো সিনহার না।সিনহা তো ভালোবাসে অন্য কাউকে। কি করবে সে নিজের সুখের জন্য সিনহার সুখ কেড়ে নিবে।কি করে পাড়বে এতোদিন সিনহা কে সে অনেক কষ্ট দিয়েছে।ওর ভালবাসার মানুষটির কাছে থেকে ওকে কেড়ে নিলে ও কি মানতে পারবে আমায়।সুখে থাকবে আমায় নিয়ে।কিছু ভালো লাগছে না আমার কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।সিফাত এবার রাগে,কষ্টে,যন্ত্রনায় নিজের মাথার চুল নিজে ছিড়তে লাগলো।এইসব ভাবতেই হঠাৎই সিনহা চিংকার দিয়ে উঠলো।ছুটে চলে গেলো সিফাত রুমে।গিয়ে দেখে সিনহা ব্যাথায় ছটফট করছে।ওর এরকম অবস্থা দেখে সিফাত ভয় পেয়ে গেলো।সিফাতেড চোখের কোনে পানি চলে এসেছে সিনহা ছটফট করা দেখে।
– “সিনহা কি হয়েছে বলো কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার?
অস্থির হয়ে বললো কথাগুলো সিফাত।
-” অসহ্য পেইন হচ্ছে আমার।কাদো কাদো হয়ে সিনহা কথাগুলো বললো।
সিফাত ওর মা কে ডাকলো।অতঃপর খুব তারাতারি করে সিনহা কে হসপিটালে নিয়ে গেলো।
.
সিনহা কে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।অনেকটা সময় পর ডাক্তার বের হলে সিফাত ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে?
– “ডাক্তার সিনহা এখন কেমন আছেন,সব ঠিক আছে তো?
– ” পেশেন্টের কে হোন আপনি?
– “আমি ওনার হ্যাসবেন্ড।
– ” মিষ্টি খাওয়ান,খুশির খবর আছে।আপনার ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে।আর মা মেয়ে দুজনেই সম্পুর্ণ সুস্থ আছে।ওনাকে বেডে দেওয়ার পর দেখা করতে পারবেন।
– “ওকে থাংকু ডাক্তার।
ডাক্তার চলে গেলো। একটু পর সিনহা কে বেডে দেওয়া হলো।সিফাত ওর বাবা মা সবাই সিনহার কাছে গেলো।
.
to be continue….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here