এখানে আকাশটা ভালোবাসার পর্ব ৪

#এখানে_আকাশটা_ভালবাসার
#লেখিকাঃ নয়নতারা নাতাশা
#পর্বঃ ০৪
.
পা টিপে টিপে রান্না ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো নওশি, আস্তে গিয়ে মায়ের চোখ ধরল পিছন থেকে…
জাহরা এক মূহুর্তে চিনে ফেললেন মেয়েকে…
“কে ধরল আমার চোখটা… আমার নাশু বুড়ি টা মনে হচ্ছে……..!”
“আম্মু তুমি বুঝলে কি করে?”
“আমার নাশু মা কে আমি চিনব না? তাই কি হয় নওশি?”
“হিহিহি, কি রান্না করছ মা? দাও আমিও রান্না করব…”
“তুই যা তো”
“না মা আমিও… উমমম…”
“আচ্ছা নে বাকি তরকারী গুলো কেটে দে।”

নওশির দিকে তাকিয়ে আছেন জাহরা, এত্ত চঞ্চলতা এই মেয়ে টার মাঝে। সব ছেলেমেয়েগুলো মাঝে রায়ান আর নওশি লেখাপড়াতে প্রচন্ড ভালো, আর সায়ান নিশিকাও ভালো কিন্তু রায়ান আর নওশির মতো না।
রোশনিটা বড্ড ফাঁকিবাজ হয়ে গেছে, আদুরে ছোট মেয়ে তো! খেয়াল করতে হবে আরো।
“আম্মু?”
“কি হলো হাত কেটে ফেললি নাকি?”
“না আম্মু।”
“তাহলে?”
কোনো কথা না বলে মাকে জড়িয়ে ধরল নওশি…
বাবা মাকে বড্ড ভালোবাসে সে।
“মা আমি একটু বারান্দায় যাচ্ছি…”
“আচ্ছা… যাওয়ার সময় নিশিকাকে একটু পাঠিয়ে দিস তো মা…”
“ঠিক আছে।”

বড় বোন নিশিকাকে ডেকে দিয়ে বারান্দায় এসে বসল নওশি…
মায়াবতী নওশি….
নওশির মন মানসিকতা একটু অন্যরকম এখনকার মেয়েদের মতো না। বেশ কনজারভেটিভ মানসিকতা।
সবাইকে হাসি খুশি দেখতে ওর খুব ভালো লাগে, বন্ধুবান্ধবদের মাঝেও নওশি মানে “একটু হাসি একটু খুশি”
নওশিকে পরিবারের সবাই সবকিছু শেয়ার করে, যেমনটা নিশিকার বেলায় দেখা যায়….

“বাবু কি করছিস?”
রায়ান প্রশ্ন করল পাশে এসে…
“কিছু না রে ভাইয়া আম্মুর সাথে রান্না ঘরে ছিলাম, তাই বারান্দায় এসে বসলাম..”
“ও আচ্ছা লেখাপড়া কেমন যাচ্ছে?”
“এই তো ভাইয়া যাচ্ছে তো মাথার উপর দিয়ে, হিহিহি…”
“কেন রে? ফিজিক্স খুব কঠিন লাগছে নাকি?”
“আরে এমনি বললাম। তোর কি খবর ছোট ভাইয়া..?”

“তোমরা আমাকে রেখে চুপে চুপে কি বলছ???”
রোশনী এসে বলে উঠল…
“কিছুনা রুশু, পড়াশোনার কথা বলছিলাম
তোর পড়া কেমন চলছে? অনেক দিন তোর পড়াশোনা খবর শোনা হয়নি, এসাইনমেন্ট আর সেকেন্ড ইয়ারের ইয়ার ফাইনাল নিয়ে এত্ত ব্যস্ত ছিলাম!”
উত্তর দিল রায়ান।
রোশনী ভাবছে একি করলাম! তাড়াতাড়ি বলল,
“ছোট ভাইয়া আমাকে মনে হয় আম্মু ডাকছে, জ্বিইইইইইইইইইইইইই! আসছি আম্মু…”
বলেই তড়িঘড়ি করে চলে গেল রোশনী।

অবাক হয়ে নওশির দিকে তাকাল রায়ান, “মা ওকে কখন ডাকল রে নওশি?”

“পালিয়েছে ভাইয়া”
“পালিয়েছে মানে?”
“পড়ার ভয়ে! হিহিহি।”
“খেয়াল করিস তো নওশি, আমিও দেখছি” বলেই হেসে ফেলল রায়ান।
“আচ্ছা বাবু তুই থাক, আমি রুমে যাচ্ছি”
চলে যেতে যেতে বলল রায়ান।
মুচকি হাসল নিশিকা।
পরিবারের সবার মধ্যমনি হয়ে সবার আদরের মায়াবতী হতে পারা নওশির জীবনে একটা অনেক বড় পাওয়া বলে নওশি মনে করে।
প্রত্যেকটা ভাইবোন নওশিকে একটু বেশিই আদর করে, রোশনির থেকেও বেশি, সেটা বোঝে নওশি, রোশনি নিজেও নওশিকে অনেক ভালবাসে। নওশি নিজের জীবনের এসব ভালবাসা গুলোর যথার্থ মূল্য দিতে চায়।
আজ ভার্সিটির রাহাত ভাইয়ের কথা ভাবছে নওশি।
“নওশি?”
বাসায় ফিরবে বলে গেট পার হবে, এমন সময় ডাকলো রাহাত।
“হ্যাঁ বলেন রাহাত ভাইয়া”
“ভালবাসি তোমাকে নওশি, এভাবে সবার মতো আমি চেপে থাকতে পারব না নওশি তাই বলে দিলাম”
“আচ্ছা আমি আমার বাবা মায়ের পারমিশন নিয়ে আসি, কাল জানাব” বলেই দ্রুত পা চালিয়ে চলে এসেছে নওশি।
রাহাত সব রকম প্রিপারেশন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এমন কোনো উত্তর আশা করেনি তাই অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে নওশির চলে যাওয়া দেখতে থাকে।
“কিরে তোর নওশি রানি রাজি হলোনা?”
বন্ধুর এমন প্রশ্নে কি উত্তর দেবে ভেবে না পেয়ে বলল….
“কি জানিহ! কাল জানাবে বাবা মাকে বলে”
“বলিস কিরে!!”
“হুম”
“ও আচ্ছা। বাদ দে কাল দেখা যাবে। চল ক্যান্টিনে যাই, ক্ষুধা লাগছে”
“হুম চল”।
রাতে খাওয়ার টেবিলে বাবা মা আর সবার সামনে নওশি বাবাকে বললো “বাবা, রাহাত নামের এক সিনিয়র ভাইয়া আমাকে প্রোপোজ করেছে, আমি কি করব,
আর মা… শোনো, ভাইয়া বাবা সবাইকেই বলছি… আমি আগেই বলে রাখি আমি তোমাদের বাইরে গিয়ে কিছুই করব না তাই প্রেমও না। পরে তোমরা মুখ কালো করে আমাকে বিয়ে দেবে নয়তো অন্য জায়গায় মুখ কালো করে আমাকে বিয়ে করতে হবে কোনোটাই আমার ভালো লাগবে না।
উত্তরটা খাওয়ার পরে আমাকে জানিও” বলেই টেবিল থেকে উঠে নিজের রুমে চলে গেল নওশি।
সবাই অবাক হয়ে এতক্ষণ নওশির কথা শুনছিল।
নওশির জন্য নতুন করে গর্ববোধ করলেন সাহরাফ সাহেব।
সবাই এতটাই অবাক হয়েছিল যে খাওয়ার টেবিলে কেউ আর কিছু বলেনি।
সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো নওশির বলা কথাগুলোই ভাবছে।
খাওয়ার পরে স্ত্রী জাহরাকে নিয়ে সাহরাফ সাহেব গেলেন নওশির রুমে…
“নওশি মা? আসব মামনি?”
“হ্যাঁ বাবা আসো” টেবিলে বসে ফিজিক্সের ম্যাথমেটিকস টার্ম সলভ করতে করতে উত্তর দিল নওশি।
“কি করছিস নাশু?” প্রশ্ন করলেন জাহরা।
“এইতো মা পড়ছিলাম একটু…, বলো তোমরা” মুখ তুলে বাবা মায়ের দিকে ঘুরে বসল নওশি।
.
(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here