Home"ধারাবাহিক গল্পক্ষণিকের বসন্তক্ষণিকের বসন্ত পর্ব শেষ

ক্ষণিকের বসন্ত পর্ব শেষ

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#ক্ষণিকের_বসন্ত
#পাট:১২
#লেখিকা:Angel Frozen (Ñîşhì)

তারা তিন জন এক সাথে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
অফিসে যাবার সময় জুরাইন গাড়ি ড্রাইভ করে তার পাশে মেঘা বসে,,,
আর ত্বায়িহা পেছনের ছিটে বসে।
অফিসে পৌঁছে তিন জন একসাথে ভেতরে প্রবেশ করে।।।
সবাই জুরাইন কে স্যার আর ত্বায়িহা কে মেডাম বলে সম্বোধন করছে,,
মেঘা ভাবে তাকে হয়তো করছে,,,
সে এটা জানে না ত্বায়িহা এ অফিসের একজন।
যথারীতি সময় মতো যে যার কোবিনে চলে যায়,,,
ত্বায়িহা কে পিএর স্থানে বসতে হয়ছে,,
মেঘার জন্য আলাদা কেবিন।
একটু পর ত্বায়িহা জুরাইনের কেবিনে যায় একটা ফাইলে ওন সাইন নিতে।

জুরাইন :ত্বায়িহাকে দেখে নিজের চেয়ার থেকে উঠে ওর কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।

ত্বায়িহা :এসব কি হচ্ছে,,এটা অফিস কোনো পার্ক নয়।

জুরাইন :জানি এটা আমাদের অফিস,,,পার্ক না,,
কিন্তু তুমি আমার বউ যা ইচ্ছে করতেই পারি।

ত্বায়িহা :ছাড়ো বলছি কেউ চলে আসবে।

জুরাইন :আচ্ছা একটা চুমো দাও তাহলে ছাড়বো।

ত্বায়িহা :আচ্ছা সমস্যা নাই,,
কিন্তু এর পর ফাইজলামি না,,
বলে ওর কপালে একটা চুমা দিয়ে দেয়।।আর জুরাইন কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
তখনি মেঘা এসে পড়ে কেবিনে।।।

মেঘা :জুরাইন তুমি ওভাবে দাড়িয়ে আছো কেনো??

জুরাইন :বসে থাকতে ভাল লাগছে না তাই।

মেঘা :আরে ত্বায়িহা তুমি এখানে কি করতে আসছো।।

ত্বায়িহা :উনি আমার বর তো তাই রোমান্স করতে আসছি।

মেঘা :কি সব ভালতু কথা বলো,এসব।

ত্বায়িহা :আপনি যেমন ভালতু প্রশ্ন করছেন তার তেমন উওর।

মেঘা :মানে কি।

ত্বায়িহা :মেম আমি সারের পিএ আমি তার কেবিনে না থাকলে কে থাকবে বলেন তো শুনি একটু?

মেঘা :তাই বলে এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলার কি আছে,,,দেখেছো জুরাইন তোমার পিএ কোন ভাবো কথা বলে আমার সাথে।

জুরাইন :এতো সময় সব শুনে ত্বায়িহা কে রেগে বলে,,,তুমি সোজা ভাবে উওর দিলে কি হতো,
মেম কে সরি বলো এখুনি,, Now

ত্বায়িহা :এমন কোনো খারাপ কথা বলি নাই যার জন্য সরি বলতে হবে।

জুরাইন :মুখে মুখে তর্ক না করে যা বলতে বলছি তাই বলো।।।

ত্বায়িহা :মন খারাপ করে মেঘাকে সরি বলে চলে যায় নিজের কেবিনে।
কেবিনে বসে বসে ভাবে,,,
প্রথম প্রেম তো সত্যি হয়,,,
আমার সাথে তো তার দায়িত্বের সম্পর্ক।
থাক কি আর করার।
তারপর সারাদিন আর জুরাইনের কেবিনে যায় নি,,,
জুরাইন ও তাকে ডাকে নাই।

এরপর অফিস ছুটি হবার পর মেঘা আর জুরাইন এক সাথে চলে যায়,,,
ত্বায়িহা তাদের যাওয়া দেখে মন খারাপ করে।।।

ত্বায়িহা :যদি সাথে না রাখতে পারবে তাহলে কাছে কেনো আসলে,,
আমি তো তোমার কাছে কোন অধিকার চায় নি। যা দিয়ে রাখতে পারো না তা দাও কেনো বুঝি না।
আমি এখন ঐ বাড়িতে যেতে পারবো না,,,
যাবো কোথায়,,,তুমি তো #ক্ষণিকের_বসন্ত এই আছো এই নাই।
সে মন খারাপ কে খামার বাড়িতে চলে যায়।


জুরাইন আর মেঘাকে বাড়িতে ফিরে আসতে দেখে সবাই অবাক যাবার সময় তিনজন গেলো এখন দুজন আসলো কেনো???

কেউ ওদের আর কিছু জিজ্ঞাস করার সাহস করে না।

মেঘা আর জুরাইন গল্প করতে করতে অনেক রাত হয়ে যায়।তারপর দু জন দুজনার রুমে ঘুমাতে চলে যায়।যাবার সময় জিরান জুরাইন কে বলে,,,

জিরান :বাহ ভালই গার্লফ্রেন্ড কে পেয়ে বৌ কে ভুলে গেছো??

জুরাইন :কি বলতে চাইছিস বল তো শুনি।?

জিরান :সব তো ক্লিয়ার,, যে মেয়েটা তোকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়ে আনছে,,,তুই তাকে ভুলে মেঘার পিছনে ঘুরছিস?? ভাবীর কথা একবার ও ভাবতে পারিশ না??

জুরাইন :আমি আমার দায়িত্ব খুব ভাল করে জনি,,আর তোর ভাবি আমাকে বাঁচাতে এমন কিছু করে নাই,,তার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না,,মেঘা যদি সঠিক সময়মত না আসতো তাহলে আমাকে ফাঁসি দড়ি পরতে হতো।

জিরান :এই না হলে মীরজাফরের ভাতিজা,, তোমার রক্তে মিশে আছে রাজনীতি।। বলে চলে যায়।

জুরাইন :কি একটা মেয়ে তার জন্য কি আমি আমার জীবন টা সুন্দর করে সাজাতে পারবো না।
বলে রুমে যায়।।।তার রুমে জেসমিন এসে বলে,,

জেসমিন :ত্বায়িহা কোথায় জুরাইন???

জুরাইন, :উফফ নাটক করতে মেয়েটা অফিস থেকে বাড়িতে না এসে কোথায় গেছে জানি নাহ।।

জেসমিন :সে তোমার বউ,,এবাড়ির বড় বৌ কথাটা ভুলে যাবে না।

জুরাইন :আমি ভুলতে চায়লে কি তোমরা ভুলতে দিবে,,, মনে করিয়ে দিতে আছো তো তোমরা।

জেসমিন :হুম,,অফিস থেকে মেঘাকে যখন অনতে পারছ তখন না হয়।ত্বায়িহা কে সাথে আনতে পারতে।।
আমরা মেঘাকে ফেলে দিবো এ কথা কখনো বলি নাই,,,
তার মানে এই না যে ত্বায়িহা কে তুমি ছেড়ে দিবে।

জুরাইন :জোড় করে বিয়ে দিয়ে আর কি চাও,,,
জোর করে আর যায় হোক সুখে থাকা যায না,,,
আমার সুখ মেঘাতে ত্বায়িহার মাঝে না।

জেসমিন :এতো কথা শুনতে চায় না,,,
অনেক রাত হয়ছে এবাড়ির বউ যেনো সকালে দেখি এ বাড়িতে আছে,,বলে চলে যায়।

জুরাইন :মহারাণী করবে নাটক আর আমি করবো তার সেবা।
বাহ কি জীবন আমার।।
তারাতারি খামারবাড়ি গিয়ে দেখি মেডাম বারান্দায় গুটিসুটি হয়ে ঘুমিয়ে আছে,,
কোন কথা না বলে কোলে করে গাড়িে বসিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি।।
সে এমন ঘুম দিছে যে কোনো কিছুই জানে না,,
তার সাথে কি হয়ছে।
সে কোথায় থেকে কোথায় চলে আসছে।



সকালে ত্বায়িহা ঘুম ভেঙ্গে দেখে ও জুরাইনের বুকের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিল।
মনে মনে ভাবতে থাকে ওখান থেকে এখানে কখন কি ভাবে আসছি কিছু তো মনে পড়ে না,,,না কি স্বপ্ন দেখছি

জুরাইন :স্বপ্ন নয়,,,এটাই সত্যি , কুম্ভকরণের মতো ঘুমাই থাকলে কিছু বুঝতে পারবো না।।।
তাই বলে ত্বায়িহা কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সে ফ্রেশ হতে চলে যায়।।ফ্রেশ হয়ে এসে ত্বায়িহা কে বলে তাড়াতাড়ি যেনো তোমাকে অফিসে দেখতে পায়,,,এক্সট্রা কোনো ড্রামা নয়।

ত্বায়িহা :এই লোকটার সমস্যা কি?? সে কি চায় আমার থেকে !!! আমি তো কিছুই বুঝি না,,সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।।।

জারা :ভাবী তোমার বিনা অনুমিত তে তোমার রুমে আসছি সরি।।

ত্বায়িহা :আরে সরির কি আছে তুমি আসতেই পারো,,,আমার কাছে না আসলো কার কাছে যাবে।।

জারা :জ্বি ভাবি তোমাকে একটা কথা বলবো,,রাখবে??

ত্বায়িহা :হুম অবশ্যই রাখার মতো হলে তো রাখবো।

জারা :তুমি ভাইয়ার জীবন থেকে চলে যাও,,সে মেঘা আপুকে ভালবাসে,,,তোমার জন্য তাকে সে গ্রহণ করতে পারছে না,,তুমি ওদের মাঝ থেকে চলে যাও প্লিজ।।

ত্বায়িহা :আচ্ছা এসবের মাঝে আমার দোষ কোথায়????
আমি তো তোমার ভাইয়ের অতীত না জেনে তার জীবনে আসছি!!
তার কলঙ্কের দাগের মাঝেও তাকে ছেড়ে যায় নি,,,
তার সুখের সময় আমি তার রাস্তার কাটা হয়ে গেলাম।।।

জারা :জানি না,,,কিছু বুঝি না,,
শুধু আমি আমার ভাইয়ার খুশি চায়,,,
তার জন্য তোমাকে যা করতে হবে তুমি তাই করো।

ত্বায়িহা :তা তো করবোই,,,
আমার যা করার আমি তাই করবো।
তোমার ভাই আমার যে কে হয় তোমার বুঝলে না।।।
যার বোঝার সে যখন আমার মন বোঝে না তখন তার থেকে কি বা আশা করা যায়।



ত্বায়িহা :এবার মীরজাফরের শাস্তির সময় হয়ে গেছে,,তাকে তার পাপের শাস্তি আমি দিবো।।
তার সব ব্যবস্থা করবো।

এভাবে বেশ কিছুদিন পার হয়ে যায়,,,
ত্বায়িহা মীরজাফর কে জেলে পাঠানোর জন্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করে,,,
আর অন্যদিকে জুরাইনের অবহেলা সহ্য করতে থাকে,,,
এই কখনো মনে হয় জুরাইন তার,,,
কিন্তু পরের মুহূর্তে মনে হয়।

সব মিথ্যে সব সত্যি মিথ্যার মাঝে ত্বায়িহা বুঝে গেছে জুরাইন তার জীবনে #ক্ষণিকের_বসন্ত ছাড়া আর কিছু না।
কারণ হয় ত্বায়িহা বা মেঘা কেউ তো হবে জুরাইনের বসন্ত তাই এখন সঠিক সময়ের অপেক্ষা।
না জনি জীবন তার কোন বসন্ত দেখাবে স্বল্প ভালবাসার খেলায়।
(ইনশাআল্লাহ কাল কে যদি সম্ভব হয় গল্পটা শেষ করে দিবো আশা আছে,,,বাকিটা জানি না😁)



চলবে….

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

6 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!