Home"ধারাবাহিক গল্প"তুমিময় অনুভূতিতুমিময় অনুভূতি পর্ব -২১+২২

তুমিময় অনুভূতি পর্ব -২১+২২

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম
পর্বঃ 21+22

১ মাসের মতো সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে আমার আর অভ্রের বাসা থেকে চলে আসার।এর মাঝে দুজনে মোটামুটি সংসার গুছিয়ে নিয়েছি।অভ্র ও কাজে জয়েন করেছে ১৫ দিন হলো।এর মাঝে বাসায় বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলাম বাবার সাথে কথা বলার জন্যে।কিন্তু বাবা আমার সাথে কথা বলতে চান না।এমনকি একদিন ভাইয়া বাবাকে ফোন দিতে গিয়েছিলো।আমার নাম শুনে ভাইয়ার মুখের উপর বলে দিলো যে,

“মেঘা নামের আমার কোনো মেয়ে নেই আকাশ। সে মরে গেছে আমার কাছে।আমার এখন ২ সন্তান বৃষ্টি আর তুমি।এরপর থেকে মেঘা নামটা যেনো আর এই বাড়িতে না শুনি আমি।”

এই কথাটা শোনার পর আমার আর সাহস হয় নি বাবার সাথে কথা বলতে চাওয়ার।তবে মা-ভাইয়া প্রতিদিন কথা বলে। খোজ খবর নেয়।মামা-মামিও মেনে নিয়েছে।তারাও প্রতিদিন কথা বলে।বলে তাদের কাছে চলে যেতে কিন্তু আমি নিষেধ করে দিয়েছি।বাবা যতদিন না আমাকে ডাকবে আমি আর যাবো না ওখানে।অভ্র গেলে যেতে পারে কিন্তু আমি আর যাবো না।বাবা রেগে আমাকে মৃত বলেছে।তাহলে আমিও তার মেয়ে আমি ও দেখবো কতদিন বাবা এটা মেনে থাকতে পারে।

শাওয়ার নিচ্ছিলাম এমন সময় ফোন বেজে উঠলো।এভাবে ভেজা শরীরে তো আর বাহিরে যাওয়া যায় না।তাই আর ফোনে গুরুত্ব না দিয়ে আমি গোসল করতে লাগলাম।গোসল শেষ করে বেরিয়ে আসতেই কলিং বেল বেজে উঠলো।দরজা খুলে দেখি চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছেন অভ্র।আমার দিকে একবার পুরো দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রাগ আর ভয় মিশ্রিত মুখ নিয়ে আমাকে ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলেন।

“ফোন কোথায় তোমার মেঘ?কতবার ফোন করেছি?সে খেয়াল কি আছে তোমার?হ্যাঁ? খুব মজা পাও আমাকে টেনশনে ফেলে তাই না মেঘ?জানো আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।আমি ভেবেছি তোমার কিছু হয়ে গেলো নাকি?”

“শাওয়ারে ছিলাম।তাই রিসিভ করতে পারি নি।”

আমি ভয়ে ভয়ে কথাটা বলতেই অভ্র আমার দুই হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে কপালে চুমু একে দিয়ে জড়িয়ে ধরলো।

“টেনশন হয় মেঘ।আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তুমি যে একা একা কান্না করো এটা তো আমি জানি।আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম জানো।লাঞ্চ টাইম হওয়ার সাথে সাথেই তাই বেরিয়ে পড়েছি।”

“এতো ভয় কেনো পান।আমি ঠিক আছি।এতো পাগলামো করলে দেখবেন কাজ থেকে বের করে দিয়েছে।”

“দেক।আই ডোন্ট কেয়ার।সব কিছুর আগে তুমি আমার কাছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। ”

“হয়েছে যান ফ্রেশ হয়ে এসে খেয়ে নেন।আবার তো অফিসে যাবেন মনে হয়?”

“হুম।ফ্রেশ হয়ে আসছি আমি।তুমি খাবার রেডি করো।”

বলে অভ্র ফ্রেশ হতে চলে গেলো আর আমি খাবার রেডি করলাম।ফ্রেশ হয়ে আসতেই অভ্রকে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজের জন্য প্লেট নিতে গেলে অভ্র আমাকে আটকে দিলো।তার মানে সে আমাকে খাইয়ে দিবে।এটা অভ্রের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।সাথে আমার বদ অভ্যাস।সে সকালে অফিস যাওয়ার আগে আমাকে খাইয়ে দিবে।দুপুরে শুধু একা খেতে হয়।আবার রাতেও সেই আমাকে খাইয়ে দিবে। আর ছুটির দিন হলে তো কথাই নেই।সেদিন সারাদিনের জন্যে আমার নিজের হাতে খাওয়া বন্ধ।অভ্র আমার দিকে এক লোকমা ভাত এগিয়ে দিলে আমি সেটা নিয়ে ওনাকে বললাম,

“আপনি যে দিন দিন আমাকে অলসের ডিব্বা করে দিচ্ছেন সেটা কি জানেন আপনি?আপনার হাতে খেতে খেতে এখন নিজের হাতে খেতে একদম ইচ্ছে করে না।আর পেট ও ভরে না নিজের হাতে খেলে।”

আমার কথার মাঝেই উনি আরেক লোকমা ভাত আমার দিকে এগিয়ে দিলেন।আর বললেন,

“আমার বউ অলস হলে তোমার তাতে কি মেঘপাখি? সে অলস হবে আবার আমি তার আলসেমি ছুটিয়ে দিবো।তোমার এতো ভাবতে হবে না তাকে নিয়ে।”

“আমার কি মানে। নিজেকে নিয়ে ভাববো না?পরে দেখা যাবে আলসেমি করে করে দিন রাত পার করার পর একদম একটা ছোটখাটো হাতির বাচ্চা হয়ে যাচ্ছি।তখন কি হবে?তখন দিন রাত যে নানা খোটা শুনতে হবে না সেটার কি কোনো গ্যারান্টি আছে?”

“না শুনতে হবে না।কারন তোমার দ্বারা আর যাই হোক মোটা হওয়া সম্ভব না মেঘ।”

“কেনো?”

“যে মেয়ে এই একমাস বসে থেকেও একটু মোটা হয় নি।সেই মেয়ে নাকি আরো মোটা হবে।কিছুদিন পর তো পড়াশোনা নিয়ে ঝামেলায় থাকবে।আবার বাচ্চাকাচ্চা সামলাতে হবে।তখন আরো শুকায় যাবা।”

অভ্রের শেষের কথাটা শুনে আমার বেশ লজ্জা লাগলো।লজ্জায় আর মাথা তুলে তাকানোর সাহস নেই।তাই আমি তাড়াতাড়ি করে উঠে চলে গেলাম সেখান থেকে। অসভ্য লোকটার মুখে কিছুই আটকায় না।ওনার লজ্জা নেই বলে কি আমার লজ্জা লাগে না নাকি?

“এখানে চলে এলে যে?আমি কি ভুল কিছু বলেছি মেঘ?বিয়ে হয়েছে।সংসার করছো।বাচ্চাকাচ্চা হবে না?ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে বেরোবে সারাবাড়ি।আধো বুলিতে তোমাকে মা আর আমায় বাবা ডাকবে।ইশ মেঘ কি যে ফিলিংস হচ্ছে আমার তোমাকে কি বলবো আমি।”

আমাকে লজ্জায় ফেলতে যে উনি এইসব কথা বেশি বেশি করে বলছেন সেটা আমার অজানা নয়।ওনার এই লাগামহীন কথার সমাপ্তি ঘটাতে আমি কথা ঘুরানোর চেষ্টা করে বললাম,

“আপনার অফিস আছে না?যান অফিসে চলে যান।”

“ভাবছি আজ আর অফিসে যাবো না।”

“এই একদম বাজে কথা বলবেন না।একমাসও হয় নি অফিসে জয়েন করেছেন।এতেই ফাঁকি দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন।আর একটা কথাও না।এখনি আপনি অফিসে চলে যাবেন।কোনো কথা শুনতে চাই না আর।”

“মেঘ শুনো তো।”

“না। আপনি এখনি যাবেন।কোনো ফাঁকি দেয়া চলবে না।”

বলে ঠেলে ওনাকে রুমে নিয়ে এসে চুল ঠিক করে দিতে লাগলাম।কিন্তু অভ্র আমার কোমড় চেপে ধরে একদম ওনার কাছে টেনে নিলেন।

“এই কি করছেন।আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।”

“হবে না। ”

“ছাড়ুন।কি করছেন কি?”

“উহু মেঘ এভাবে নাচছো কেনো।”

“আপনি এভাবে ধরেছেন কেনো?ছাড়ুন আমার সুড়সুড়ি লাগছে।”

“লাগুক।”

বলে উনি আমার কপালে চুমু দিলেন।এরপর দুই চোখে চুমু দিয়ে ছেড়ে দিলেন।এই অনুভূতির সাথে প্রথম পরিচয় না হলেও বার বার আমার প্রথমের মতোই লাগে।কি যে আছে এই অভ্রতে জানি না।ও আমার নেশা হয়ে গেছে।

ভালোবাসার জন্যে দিনে ১০০ বার ভালো বাসি বলতে হয় না।প্রিয়জনের করা ছোট ছোট কেয়ার গুলোই তার ভালোবাসার প্রকাশ করে। সেরকমটা অভ্র ও।

রাতের খাবার কি রান্না করবো তা জানতে অভ্রের কাছে গেলে সে জানালো রাতে সে পরোটা খাবে।তাই পরোটা বানানোর জিন্যে রান্না ঘরে গিয়ে আটা আর তেল একসাথে মিক্স করছিলাম তখন পিছন থেকে অভ্র এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

“আপনি এখানে কেনো?ছাড়ুন তো।কাজ করছি দেখছেন না?”

“করো কাজ কে না করেছে।আমি কি তোমাকে আটকে রেখেছি?”

“না আটকে রাখেন নি।কিন্তু যেভাবে ধরে আছেন আমি তো কাজ করতে পারছি না।”

“এভাবে কাজ করলে করো নাহলে থাক কাজ করতে হবে না।”

ওনার কথা শুনে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।কি বলছেন উনি।আর কি হয়েছে ওনার।আজ কেমন যেনো আজব ব্যাবহার করছেন।এই এক মাসে কোনোদিন উনি এমন করেন নি।আমি ওনার দিকে ফিরে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে উনি হেসে আমাকে বললেন,

“বউয়ের নেশা ধরেছে গো।যে নেশা কাটানোর উপায় আমার জানা নেই।তার নেশা আমাকে এমন ভাবে গ্রাস করছে যে আমি তাকে ছাড়া একমুহুর্ত ও থাকতে পারছি না।”

বলে কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলেন।

(চলবে)

#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম

পর্বঃ২২

শীতের মাঝে বৃষ্টি জিনিসটা আমার বেশ লাগে।এই বৃষ্টি শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম।পরিবেশটা বেশ রোমান্টিক।কত মুভিতে দেখেছিলাম বৃষ্টির সময় নায়ক নায়িকা এক চাদরের নিচে বসে এক কাপে কফি খায় আর বৃষ্টি বিলাস করে।সাথে রোমান্টিক খুনশুটি তো মাস্ট।কিন্তু আমার হিরো এখনো অফিস থেকে ফেরে নি।হয়তো বৃষ্টির জন্যে আটকা পড়েছে।একটা ফোন করা প্রয়োজন।কল দিলে কল কেটে দিলো উনি।আর সাথে সাথে ব্যাক করলো,

“আসসালামু আলাইকুম। ”

“ওয়ালাইকুম আসসালাম।”

“কোথায় আপনি?বাসায় কখন ফিরবেন?”

“বৃষ্টির জন্যে আটকা পড়েছিলাম।কিন্তু এখন সিএনজিতে উঠেছি।আসছি”

“ওহ।আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসুন।আল্লাহ হাফেজ। ”

“আল্লাহ হাফেজ। ”

বলে ফোন কেটে দিলেন উনি।ফোন রাখতেই হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি এলো।ভাবলাম শাড়ি পড়া যাক।অভ্র আমার জন্যে বেশ কয়েকটা শাড়ি নিয়ে এসেছিলো।তবে সেগুলো পরা হয়ে ওঠে নি আর।আজ শাড়ি পড়ে অভ্রকে সারপ্রাইজ দিলে মন্দ হয় না।যেই ভাবা সেই কাজ।তাড়াতাড়ি করে শাড়ি বের করে পড়ে নিলাম।কলিং বেলের আওয়াজে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মাথা বের করে মুচকি হাসি দিলাম।বিপরীতে উনিও ক্লান্ত মুখে হাসি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন।ভিজে গেছেন উনি অনেকটাই।শার্ট আর মাথা বেশি ভেজা।দরজা আটকে দিয়ে আমি ওনার পিছু পিছু রুমে প্রবেশ করলাম।কিন্তু অভ্র এসেই ওয়াশরুমে গিয়েছে ফ্রেশ হতে তাই আমি বিছানায় বসে পা দোলাতে লাগলাম।এভাবে কিছুক্ষন বসে আছি তখন অভ্র ওয়াশরুম থেকে বললেন যে উনি কাপড় নিয়ে যান নি।তাই ওনাকে কাপড় আর তোয়ালে এগিয়ে দিয়ে এসে রান্নাঘরে গেলাম ওনার জন্যে কফি বানাতে।কফি নিয়ে এসে দেখি উনি মাথা মুছছেন।আমি উপস্থিতি বুঝাতে উহু উহু করতেই উনি আমার দিকে তাকালেন।

“আপনার কফি”

বলে কফি এগিয়ে দিলাম।কিন্তু ওনার কোনো রেসপন্স নেই।উনি আ।আর দিকে তাকিয়ে আছেন।ওনাকে এভাবে দেখে আমি আবার আপনার কফি বললাম।কিন্তু নাহ ওনার কোনো রেসপন্স নেই।আমি ওনার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওনার হাত নিয়ে গরম কফিতে চুবিয়ে দিতেই উনি উফফ বলে লাফিয়ে উঠলেন।হাত ঝাড়তে ঝাড়তে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“উফফ কি সমস্যা মেঘ।এক তো আমার ১২ বাজিয়ে দিয়েছো শাড়ি পড়ে।এখন একটু দেখছি সেটাও দেখতে দিচ্ছো না।ধুর।”

বলে হাতের তোয়ালে ফেলে দিয়ে কফি হাতে নিয়ে টেবিলের উপর রেখে আমাকে টেনে নিয়ে কপালে চুমু দিলেন।

“মাশাল্লাহ খুব সুন্দর লাগছে।আমার জিন্যে আমার বউ যে এতো সুন্দর সারপ্রাইজ রেডি করে রেখেছিলো তা তো আমার ধারনাই ছিলো না।”

“ভালো লাগছে আমাকে?”

“হুম অনেক সুন্দর লাগছে আমার বউ কে।মনে হচ্ছে আবার বিয়ে করি।এই চলো না আবার গিয়ে বিয়েটা সেড়ে ফেলি।সেদিনের বিয়েতে তো তুমি শাড়ি পড়ে বউ সাজো নি।আজ বউ সাজিয়ে বিয়ে সেরে ফেলে পেন্ডিং বাসরটা সেরে ফেলি।”

ওনার কথায় লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললাম।আর উনি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।যেনো আমাকে প্রথম দেখছেন।এই লজ্জার হাত থেকে বাচতে আমি অভ্রকে বললাম,

“আপনার কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

“যাক।আবার বানিয়ে আনবে।”

“ইশশ আমার আর কাজ নেই বুঝি।বারবার কফি বানাবো।আমি আর পারবো না।”

বলে ওনার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কফির কাপ ওনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আমি বারান্দায় চলে গেলাম।এখনো বৃষ্টি হচ্ছে বাহিরে।হঠাৎ আমার ইচ্ছেটার কথা মাথায় আসতেই আমি আবার রুমে গিয়ে অভ্রকে টেনে নিয়ে বারান্দায় এলাম।উনি কি হয়েছে জিজ্ঞেস করছেন কিন্তু তার উত্তর না দিয়ে ওনাকে বারান্দায় নিয়ে এসে বললাম

“আমার সাথে একটু বৃষ্টি বিলাস করবেন প্লিজ।আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে।”

অনুরোধের সুরে কথাটা বলতেই উনি হেসে বললেন,

“সেটা এভাবে বলার কি আছে। তোমার বরকে তুমি অর্ডার করবে এখানে এভাবে অস্বস্তি নিয়ে বলছো কেনো।”

বলে উনি আমাকে সামনে দাড় করিয়ে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কফি খেতে খেতে আমার সাথে নানান কথাবার্তা বলতে শুরু করলেন।

রাতের খাওয়া শেষে অভ্র অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।এদিকে আমার বেশ রাগ লাগছে।বিয়ের পর থেকে এই লোকের বুকে মাথা দিয়ে ঘুমানো অভ্যাস হয়ে গেছে।কিন্তু আজ উনি কাজ নিয়ে ব্যস্ত।আবার আমাকে বললেন ঘুমাতে।

“আপনার কাজ শেষ হতে আরো কতক্ষন লাগবে?”

“লেট হবে মেঘ।তুমি ঘুমাও।”

“ঘুম আসছে না।”

আমার কথা শুনে উনি একবার আমার দিকে তাকালেন।এরপর আবার ওনার সামনে থাকা কাগজের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলেন।এরপর সব কাগজ তুলে রেখে বিছানায় এসে আমাকে বললেন,

“আমাকে ছেড়ে থাকতে কষ্ট হয় বুঝি।”

“অভ্যাস হয়ে গেছেন তো আপনি।ঘুম আসে না এখন আর আপনার বুকে মাথা রেখে না ঘুমালে।”

“ভালোবাসি বউ।”

বলে উনি আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।নেশা ভরা চাহনি ওনার।যা আমার মাঝেও এক অন্য রকমের নেশা তৈরি করলো।

আজকের সকালটা আমার কাছে আর ১০ টা সকালের মতো লাগছে না।আজকের সকালটা আমার কাছে স্পেশাল।অভ্র আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন খুব শক্ত করে।আর নিজে ছোট বাচ্চার মতো ঘুমাচ্ছেন।কি যে নিষ্পাপ লাগছে ওনাকে সেটা বলার ভাষা আমার জানা নেই।সত্যি এই লোকটা আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে।কিছু চুল কপালে পড়ে আছে ওনার।চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে দিয়ে ওনার এলোমেলো চুল আরো এলোমেলো করে দিয়ে উঠে পড়লাম। শাওয়ার নিয়ে আজও শাড়ি পড়েছি।অভ্রকে জাগানো প্রয়োজন তাই ওনাকে জাগানোর জন্যে মাথায় হাত বুলিয়ে আলতো সুরে ডাকলাম,

“অভ্র সকাল হয়ে গেছে উঠে পড়ো।”

আমার ডাক যে এভাবে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে সেটা আমি জানতাম।আমি জানি।উনি চোখ খুলে আমাকে ভুত দেখার মতো তাকিয়ে আছেন।

“তুমি আমাকে তুমি ডেকেছো মেঘ?”

“হুম।”

আমার বলতে দেরি নেই উনি লাগিয়ে বিছানা থেকে নেমে আমাকে কোলে নিয়ে পুরো রুম ঘুরলেন আর আমাকে বলছেন,

“ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি…”

ফোনের আওয়াজে অভ্র থেমে গেলেন।আমাকে নামিয়ে দিয়ে উনি ফোন হাতে নিয়ে দেখেন ভাইয়ার ফোন।উনি ফোন আমার হাতে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলেন।আমি ফোন রিসিভ করে সালাম দিতেই ওপাশ থেকে ভাইয়ার ভয়ার্ত কন্ঠ শুনে আমার অন্তরাত্মা কেপে উঠলো।সব কিছু ঠিক আছে তো।আমি ভয়ে ভয়ে ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম,

“ভাইয়া সব ঠিক আছে?কি হয়েছে?তোমার কন্ঠ কেমন যেনো লাগছে।”

এরপর ভাইয়ার কথা শুনে আমার হাত থেকে ফোন পড়ে গেলো।আমি জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করলাম।আমার কান্না শুনে অভ্র ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ধরে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করছে।কিন্তু কান্নার জন্যে আমি কথা বলতে পারছি না।শুধু অভ্রকে বললাম

“অভ্র আমাকে বাসায় নিয়ে চলো প্লিজ।”

বলে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লাম। আর অভ্র আমাকে সামলে যাচ্ছে।

(চলবে)

(

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!