Home"ধারাবাহিক গল্প"তুমিময় অনুভূতিতুমিময় অনুভূতি পর্ব -২৩+২৪,২৫ ও শেষ

তুমিময় অনুভূতি পর্ব -২৩+২৪,২৫ ও শেষ

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম
পর্বঃ২৩ থেকে 25 শেষ পর্ব

হাসির পরে যে কান্না আসে সেটা ছোট বেলা থেকে শুনে আসছিলাম।এমনকি আগে স্কুল থেকে ফেরার সময় বা স্কুলে যদি হাসাহাসি বেশি করতাম বাসায় ঢোকার পূর্বে বার বার দুআ করতাম যে বাসায় যেন সবকিছু ঠিকঠাক থাকে। তখন তেমন কিছু হয় নি।তবে সেদিন হয়েছিলো।সকালে বেশি হাসাহাসি করার ফলস্বরূপ সেদিন বাকিটা দিন আমার কান্নার মাঝেই কেটেছে।ভাইয়া সেদিন ফোন করে জানিয়েছিলো যে বাবা রাস্তায় রিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছে।সেখান থেকে তাকে হসপিটালে নিলে ডাক্তাররা জানান যে বাবা স্ট্রোক করেছেন যার ফলে রিক্সা থেকে পড়ে গেছেন।আর অবস্থা খুব খারাপ। আইসিইউতে রাখা হয়েছে।এই কথা শোনার পর আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো।পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিলো।তাই আমি তাড়াতাড়ি অভ্রের সাথে চলে এসেছিলাম আবার আমার প্রিয় শহরে।৪ ঘন্টার রাস্তাটাও সেদিন আমার মনে হয়েছিলো ৪০০ ঘন্টার মতো হয়ে গিয়েছিলো।রাস্তা শেষ হতে চায় নে যেনো।বিপদের সময় রাস্তার দূরত্ব বেড়ে যায় আর পরীক্ষার সময় ঘড়ির কাটা দ্রুত দৌড়ায়।হসপিটালে বাবাকে এভাবে দেখে আমি মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছিলাম।খুব অপরাধ বোধ কাজ করছিলো আমার নিজের উপর।শুধু বার বার মনে হচ্ছিলো বাবার এই অবস্থার জন্যে আমি দায়ী। আমি যদি চলে যা যেতাম তাহলে এসব কিছুই হতো না।বার বার শুধু আমার মাঝে এই একটা কথাই চরকির ঘুরছিলো।তবে আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া যে বাবা ভালো আছেন।

ঢাকা থেকে আসার প্রায় একসপ্তাহ কেটে গেছে।বাবা এখন আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ।তবে পুরোপুরি নয়।কিছুক্ষন আগে বাবাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।সবার সাথে টুকটাক কথা বলছে বাবা কিন্তু শুধু আমার সাথেই কথা বলছেন না।শুধু ছলছল করে তাকাচ্ছেন।আমি নিজেকে সামলানোর অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।আপু ভাইয়া আমাকে স্বান্তনা দিচ্ছেন কিন্তু আমি পারছি না নিজেকে সামলাতে।রুমে গিয়ে নিশব্দে চোখের পানি ফেলছিলাম কিন্তু অভ্র এসে আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলছেন সব ঠিক হয়ে যাবে।জানি অভ্র ও বেশ কষ্ট পাচ্ছে আমার জন্যে।কিন্তু আমি চেয়েও নিজেকে সামলাতে পারছি না।বাবার সাথে অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেও যখন ব্যার্থ হলাম অভ্র তখন আমাকে বললেন আমাদের সেখান থেকে চলে যাওয়া উচিত।কারন বাবা আমাদের দেখে যদি উত্তেজিত হয়ে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে বিপদ বেড়ে যাবে।আমার ও তাই মনে হলো।তাই অভ্র আর আমি অভ্রদের বাসায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।ব্যাগপত্র গুছিয়ে বাড়ির সকলের থেকে বিদায় নিয়ে বাবার রুমের সামনে গেলাম।কেনো যেনো রুমের ভিতরে যাওয়ার সাহস হলো না।তবে খুব করে ইচ্ছে করছিলো যে বাবার সাথে কথা বলি। কিন্তু বাবা আমার সাথে যে কথা বলতে চান না তাই দরজা থেকে বাবাকে দেখে চলে এলাম ওই বাড়ি ছেড়ে।

বিয়ের পর এই বাড়িতে প্রথম এলাম।কিন্তু মামিকে জানানো হয় নি।এখানে আসার সাথে সাথেই এই নিয়ে মামি অভ্রের উপর রাগারাগি করলেন।নতুন বউ এসেছে কিন্তু মামি কোনো কিছু করতে পারলেন না।তাই মামির আফসোসের শেষ নেই।মামি তো পারেন অভ্রকে ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।এদিকে অভ্র এতো করে বুঝাতে চাইছে যে এখানে আমাদের দোষ নেই।কিন্তু।মামি তা শুনতে নারাজ।তাদের মা ছেলের কাহিনী দেখে অন্য সময় হলে আমি হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খেতাম।কিন্তু আজ আমার মাঝে কোনো ফিলিংস কাজ করছে না।খুব কষ্ট হচ্ছে।বুক চেপে আসছে কান্না।আমি একটা ভূল করেছি কিন্তু বাবার অভিমান এতো যে আমার সাথে একটাবার কথা বলা যায় না। বাবা আমার সাথে এরকম করছে এটা নিয়ে আমার আগে থেকেই কষ্ট হতো কিন্তু সেটা ফোনে বলে তেমন একটা খারাপ লাগতো না বা আমি গায়ে মাখাতাম না আবার অভিমান ও বলা যায়।কিন্তু আজ সামনাসামনি এরকম ব্যবহার নিতে পারছিলাম না আমি।আমি মামি আর অভ্রকে উপেক্ষা করে অভ্রের রুমে চলে এলাম।

বেশ কয়েকদিন যাবত আমার শরীরটা খারাপ যাচ্ছে।মুখে কোনো রুচি পাচ্ছিলাম না।আর মাথাটাও ভার ভার হয়ে থাকে।অভ্রকে বললে ও টেনশন করবে তাই ওকেও বলি নি।কিন্তু দিন যত যাচ্ছে শরীর আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে।আগের জব ছেড়ে দিয়ে মামার অফিসে জয়েন করেছে।অনেক কাজ সামলাতে হয়। তাই ওকে বলে আর টেনশনের উপর টেনশন দেয়ার সায় দেয় নি মন।অবশেষে মামিকে গিয়ে আমার সমস্যার কথা বললে মামির চোখে মুখে খুশি দেখতে পেলাম। তার মানে আমার ধারনাটাই হয়তো মামির ও হয়েছে।

“মেঘা রেডি হয়ে আয়।হসপিটাল নিয়ে গিয়ে চেকআপ করিয়ে দেখি আমার ধারনা সঠিক নাকি ভুল।”

মামির কথা শুনে লজ্জা পেয়ে গেলাম আমি।লজ্জায় মাথা নিচু করে সম্মতি জানিয়ে রুমে চলে গেলাম।রেডি হয়ে মামির সাথে হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করে জানতে পারলাম আসলে আমাদের ধারনাই সঠিক।আমি মা হতে চলেছি।আমার আর অভ্রর সন্তান আমার গর্ভে।এই খবরটা শুনে আমার খুশিতে চোখে পানি চলে এসেছে।খুশিতে আমি আর স্থির থাকতে পারছিলাম না।অনেকদিন পর আমার আজ এতো খুশি লাগছিলো।চেম্বারে থাকা অবস্থাতেই অভ্রকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসার জন্যে মেসেজ দিলাম।ডাক্তারের থেকে সকল নির্দেশনা শুনে নিয়ে মামি আর আমি বাসায় চলে এলাম।আর মামিকে নিষেধ করে দিলাম অভ্রকে যেনো কিছু না জানায়। মামিও আমাকে সম্মতি জানালো।

বাসায় এসে ফ্রেশ হতেই অভ্র রুমে প্রবেশ করলো।তার মাঝে চোখে মুখে ভয়ের ছাপ।মনে হচ্ছে খুব টেনশনে আছে।আমাকে দেখেই হন্তদন্ত হয়ে কাছে এসে আমার দুই হাত শক্ত করে ধরলো।

“কি হয়েছে মেঘ?তুমি এভাবে হঠাৎ করে মেসেজ করলে।সব ঠিক আছে তো?তোমার শরীর ঠিক আছে?”

আমি ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে জবাব দিলাম।

“আমি ঠিক আছি।যাও ফ্রেশ হয়ে এসো।”

“সত্যি তুমি ঠিক আছো তো?”

“হ্যাঁ বাবা আমি ঠিক আছি।তুমি আগে ফ্রেশ হয়ে এসো।”

বলে অভ্রকে ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে ভাবতে লাগলাম কিভাবে বলবো ওকে কথাটা।আর কি রিয়েক্ট করবে এটাও বুঝতে পারছি না।এদিকে অভ্র মশাই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আমাকে এভাবে পায়চারি করতে দেখে ভ্রু কুচকে তাকালেন আমার দিকে আর আমি বোকার মতো হা হয়ে আছি।এই লোক শুধু টাওয়েল পড়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন।

“এই আপনাকে না আমি নিষেধ করে দিয়েছি যে আপনি টাওয়েল পড়ে রুমে আসবেন না।আমাকে বলতে পারতেন। আমি শার্ট- প্যান্ট দিয়ে আসতাম।”

আমার কথা শুনে ওনার কুচকানো ভ্রু আরো কুচকে গেলো।এমন একটা ভাব করলেন যেনো আমি খুব বড় ভুল কিছু বলে ফেলেছি। যার দরুন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে।

“মেঘ রিয়েলি! আর ইউ ওকে?কি হয়েছে তোমার।ইউ হ্যাভ এনি আইডিয়া আমি তোমাকে কতবার ডেকেছি। কিন্তু তোমার কোনো সাড়া নেই বলে আমি ভাবলাম তুমি রুমে নেই।অথচ তুমি রুমেই পায়চারি করছো।সত্যি করে বলো আমাকে তোমার কি হয়েছে।”

আমি সাহস যুগিয়ে নিয়ে বলতে যাবো আমার কি হয়েছে আর আগেই আমার শ্রদ্ধেয় শুভ্র ভাই মিছিল দিয়ে রুমে প্রবেশ করলেন,

“অভ্র তুই বাবা হয়ে যাচ্ছিস আর এদিকে আমি তোর কয়েক সেকেন্ডের ছোট ভাই হয়েও এখনো বিয়ে করতে পারলাম না।এটা কি ঠিক?মানুষ যেই বয়সে বাবা হয় আমি সেই বয়সে চাচা/মামা হবো তাও আবার আমার ছোট বোনের বাচ্চার এটা কিন্তু আনফেয়ার।আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

শুভ্র ভাইয়ের কথা শুনে আমি আর অভ্র উভয়ই চোখ বড় বড় করে তাকালাম।আমি তাকালাম আমার প্ল্যান নষ্ট করে দেয়ার জন্যে।আর অভ্র হয়তো এতো বড় একটা নিউজ শোনার জন্যে।অভ্র শুভ্র ভাইয়ের দিকে একবার আমার দিকে একবার তাকাচ্ছে।আমি আর কিছু করতে না পেরে শুভ্র ভাইকে একটা চিমটি কেটে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম।

শুভ্র ভাইয়ের রুমে বসে আছি ওনার ক্লাস নেয়ার জন্যে।উনি রুমে আসতেই ওনার দিকে একের পর এক বালিশ ছুড়ে মারতে লাগলাম,আর উনি সেগুলো ঠেকাতে ব্যাস্ত।

“আপনাকে কে এতো বেশি কথা বলতে বলে হ্যাঁ? কি সমস্যা আপনার?আমার প্ল্যান পুরো নষ্ট করে দিয়েছেন।জানেন কত সাহস নিয়ে কথাটা বলতে গিয়েছিলাম আপনার ভাই কে।কিন্তু না।আপনার তো বেশি বেশি করতে হবে তাই না?”

বলতে বলতে বিছানার সব বালিশ ছুড়ে মারা শেষ করে আরাম করে বসলাম বিছানায়।শুভ্র ভাই ও সব বালিশ মেঝে থেকে তুলে সোফার একপাশে রেখে অপর পাশে বসে পড়লেন,

“ডাইনি একটা মেয়ে।আমি জানি নাকি তোদের আবার ন্যাকামি চলে।জানলে জীবনেও বলতে যেতাম না।আমি ভেবেছি অভ্র জানে।তাই জোরে জোরে চিল্লাচ্ছিলাম”

“এখন ভুল করেছেন শাস্তি পেতে প্রস্তুত থাকেন।”

“এহ আসছে শাস্তি দিতে।আমি তোর বোর ভাই ভুলে গেছিস?”

“আমি আপনার বড় ভাবি সেটা ভুলে গেছেন?”

আমার কথা শুনে শুভ্র ভাই হাসতে লাগলো।আর আমি রেগে সেখান থেকে উঠে চলে গেলাম আর ফুসতে লাগলাম,

“দুই ভাই এ বদের হাড্ডি।শুধু চেহারার ই অমিল।তাছাড়া বাকি অভ্যাস একদম এক।সবসময় শুধু আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করা।ভালো লাগে না।আর কথা বলবো না আমি কারো সাথে।”

(চলবে)

(আর ২ /১ পর্ব দিয়েই শেষ করে দিবো গল্পটা।হ্যাপি রিডিং)#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম

পর্বঃ২৪

“ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।”

আসলেই একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানুষকে যে কতটা কষ্ট দিতে পারে তা আমি খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছি।তাই জন্যে সব কাজ ভেবে চিন্তে করা উচিত যাতে পরে পস্তাতে না হয়।আমার প্রেগ্ন্যাসির ৯ মাস চলে কিন্তু আজ অব্দি বাবা আমার সাথে কথা বলেন না।আমি প্রেগন্যান্ট শুনে বাসার সবাই খুব খুশি হয়েছিলো।সবাই এসে আমার সাথে দেখা করে গেছেন।শুধু বাবা ছাড়া।দেখা করা তো দূরের কথা বাবা একটাবার ফোন করে জিজ্ঞেস করেন নি আমি কেমন আছি।আর আমি ফোন করলেও রিসিভ করেন নি।বাবার হৃদয় যে এতোটা পাথর হতে পারে তা আমাদের কারো জানা ছিলো না।মামা-মামি তো পারে আমাকে মাথায় করে নিয়ে বেরোয়।মামি সারাদিন আমার কি লাগবে না লাগবে খোঁজ করে। আর সাথে অভ্র তো আছেই।যতক্ষন বাসায় থাকবে সে আমার পিছনে লেগে থাকে।আর অফিসে যখনই ফ্রি হবে ফোন দিয়ে খোজ নিবে যে আমি কি করছি না করছি।খেয়েছি কি না।

অভ্র প্রথম যেদিন আমি প্রেগন্যান্ট জানতে পারলো সেদিন তার সে কি খুশি।সেইদিন তার ঠোট থেকে হাসি নামক জিনিসটা যেনো সরছেই না।এতো খুশি হতে ওকে এর আগে আমি দেখেছি বলে আমার মনে পড়ছিলো না।রাতে আমি রুমে আসতেই ও সেদিন আমাকে কোলে নিয়ে পুরো রুম ঘুরেছে আর ভালোবাসি বলেছে।এরপর আরো সেকি পাগলামি।যেনো ও নিজেই বাচ্চা হয়ে গেছে।

এসব ছাড়াও এই নয় মাসে এতো কাজ করার পর ও ওকে আমি বিরক্ত হতে দেখি নি।খুব ধৈর্য সহকারে সে আমাকে সামলেছে।প্রথম দিকে খাওয়ার রুচি ছিলো না।প্রচন্ড মুড সুইং হতো কিন্তু বান্দা আমার সাথে একটু উচু আওয়াজে কথা ও বলে নি।গভীর রাতে যদি আমি উঠে ওকে ডেকে বলতাম যে আমি আইসক্রিম খাবো বা হাটাহাটি করবো সে আস্তে করে আমাকে নিয়ে বারান্দায় চলে যেতো।সেখানে দুজনে কিছুক্ষন গল্পসল্প করতাম তার পর আবার আমার ঘুম পেলে আমাকে রুমে নিয়ে এসে ঘুম পাড়িয়ে সেও ঘুমাতো।কখনো এমন দিন গেছে যে ও অফিস যাওয়ার জন্যে রেডি হয়েছে ওর উপর বমি করে দিয়েছি। কিন্তু ও আমাকে একটু ও রাগ না দেখিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার রেডি হয়ে অফিস গেছে।কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড জ্বর আসে।আমি জ্বরে আবল তাবল বকছিলাম।সেদিন সারা রাত মামি আর অভ্র আমার পাশে বসে ছিলো।এভাবেই নয় মাস কেটে গেছে।আর কয়েকটা দিন এরপরই আমার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে চলেছে ইনশাআল্লাহ। ওর প্রতিটা মুভমেন্ট আমি বুঝতে পারি।মাঝে মাঝে লাথি মারে পেটে সেই সময় কষ্ট হলেও তার থেকে বেশি আনন্দ অনুভব হয় এই ভেবে যে আমার সন্তান ঠিক আছে।একজন মায়ের কাছে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি থাকতে পারে।

অভ্র অফিসের জন্যে রেডি হচ্ছে আর আমাকে বসিয়ে রেখেছে।মামি বাসায় নেই।তাই আমি উঠে রান্নাঘরে যাচ্ছিলাম খাবার আনতে কিন্তু ও আমাকে আটকে দিলো।

“কোথায় যাচ্ছো তুমি মেঘ?”

“এইতো আসছি।তোমার খাবার টা প্লেটে উঠিয়ে দেই।খেয়ে তো যাবে তাই না?তুমি রেডি হও আমি ৫ মিনিটে আসছি।”

“না তার প্রয়োজন নেই।মাকে বললে মা খাবার বেড়ে দিবে এখন।তোমার যেতে হবে না।তুমি এখানে বসো।”

“মামি একটু বাহিরে গেছেন।আমি দিচ্ছি সমস্যা নেই।সারাদিন তো বসে বসেই থাকি।একটু কাজ করলে কি এমন হয়ে যাবে।”

“ওহ আচ্ছা যাও তাহলে। তবে সাবধানে যাও।দেখে শুনে চলো।”

অভ্রের কথা শুনে সম্মতি জানিয়ে আমি রান্নাঘরে এলাম।খাবার সব রান্না করাই আছে শুধু বেড়ে দিবো তাতেও তার আমাকে আটকাতে হবে।মনে হচ্ছে আমি ছোট বাচ্চা।

নিম্ন শব্দে বিরবির করতে করতে রান্না ঘরে গেলাম।খাবার বেড়ে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরোতে যাবো আর পেটে হঠাৎ অসহ্য ব্যাথা অনুভব করলাম।হাতে থাকা প্লেট ফেলে দিয়ে পেট চেপে ধরে বসে পড়লাম আমি।প্লেট পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে অভ্র দৌড়ে রান্নাঘরে চলে এলো।আমাকে এভাবে দেখে ও বয় পেয়ে গেছে সেটা মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।কিন্তু আমি কোনো কিছু বলার মতো শক্তি পাচ্ছিলাম না।প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে পেটে।

“মেঘ কি হয়েছে?এভাবে আছো কেনো?এই মেঘ তাকাও আমার দিকে দেখো আমি অভ্র।”

অভ্র আমার গালে হাত দিয়ে ডাকছে কিন্তু ওর কথার উত্তরে আমি শুধু আস্তে করে ওকে বললাম যে আমার পেট ব্যাথা করছে।আর এরপর যে কি হয়েছে আমার মনে নেই।

চোখ খুলে নিজেকে হসপিটালের বেডে আবিষ্কার করলাম।রুমটার চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখি অভ্র,মামা-মামি,বাবা-মা সবাই বসে আছেন।সবার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।তবে হসপিটাল বা সবাইকে দেখে অবাক হলাম না।অবাক হলাম বাবাকে দেখে।বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বসে আছেন।আমাকে চোখ খুলতে দেখে বাবা উঠে আমার কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।বাবার দুচোখ ছলছল করছে।বাকি সবাই ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর সবার চোখে মুখেই কষ্টের ছাপ।বিষন্নতার ছাপ।তাহলে কি কিছু হয়েছে।

“আমার বেবি?”

বেবির কথাটা মাথায় আসতেই নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সব কিছু ঠিক আছে।তাহলে কি হয়েছে সবাই এভাবে আছেন।

“বাবা কেমন আছো তুমি?আমাকে মাফ করে দাও বাবা।আমি ভুল করেছি।আমাকে মারো কাটো কিন্তু তুমি এভাবে আমার সাথে রেগে থেকো না বাবা প্লিজ।আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।আমার খুব কষ্ট হয় তো তোমাকে এভাবে দেখে।”

“তুই শান্ত হয়ে যা মা।বেশি উত্তেজিত হলে তো তোরই ক্ষতি হবে।চুপ কর মা।আমি রেগে নেই দেখ আমি এসেছি তোর কাছে তো।”

“আগে বলো আমাকে মাফ করে দিয়েছো?”

“দিয়েছি তো মা।দিয়েছি তোকে মাফ করে।এখন শান্ত হয়ে যা।”

বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে বাবা কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন মনে হলো বাবা আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছেন।সাথে বাকি সবাই ও গেলেন অভ্র ছাড়া অভ্র আমার কাছে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আমার কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে আমার কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রইলেন।আমার কেনো যেনো এইসব খুব একটা ভালো লাগছিলো।সন্দেহ হচ্ছিলো যে কোনো খারাপ কিছু হয়েছে কি না।

“কি হয়েছে তোমারা সবাই এইরকম আজব বিহেভ করছো কেনো।বলো আমাকে।আমার মনে হচ্ছে তোমরা সবাই আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছো।

“কিছু হয় নি তো।তোমাকে এভাবে অসুস্থ হতে দেখে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলো তাই সবাই একটু আপসেট।আর তুমি টেনশন নিও না সব ঠিক আছে।ডক্টর বলেছেন আজই অপারেশন করবে। তোমার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় ছিলো সবাই।চিন্তা করো না সব ঠিক আছে।”

অভ্র কথা শেষ করে রুমের বাহিরে গেলো।একটু পর আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হবে এর আগেই ভাইয়া আর শুভ্র ভাই আমার কেবিনে এলেন।ভাইয়া এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু দিলেন।শুভ্র ভাই ও মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

“পিচ্চি তুই ঠিক আছিস?কেনো এরকম করিস তুই বল তো সাবধানে চলাফেরা করতে পারিস না।আজ যদি তোর কিছু হয়ে যেতো।তুই কি একা এখন নাকি?তোর সাথে এখন তোর বাচ্চাও আছে।নিজের খেয়াল তো রাখিস না।অন্তত বাচ্চার খেয়াল তো রাখতে হবে তোকেই তাই না?

” সরি ভাইয়া।”

কথা বলা শেষে আমাকে থিয়েটারে নেয়া হলো।এখানে আসার আগে সবার দিকে একপলক তাকিয়ে দেখলাম।আমার বার বার মনে হচ্ছিলো এখানে ঢোকার পর থেকে আমার জীবনে অনেক বড় কিছু পরিবর্তন আসবে।

(চলবে)#তুমিময়_অনুভূতি
#আয়েশা_ইসলাম
পর্বঃ২৫

অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে আমাকে কেবিনে দেয়া হয়েছে ঘন্টা খানিকের মতো।কিন্তু এখন অব্দি আমাকে আমার বাচ্চার সাথে দেখা করতে দেয়া হয় নি।ইন ফ্যাক্ট কেউ কেবিনে এসে আমার সাথে দেখা অব্দি করে নি। শুধু নার্সরা এসে বারবার চেক করে যাচ্ছেন।এদিকে আমার মাঝে এক শূন্যতা অনুভব হচ্ছে।জানি না কেনো। তবে মনে হচ্ছে আমার কাছে কি যেন নেই কি যেন নেই।অবশেষে অভ্রের দেখা পেলাম। ওর চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে।শুকনো মুখটা দেখে আমার অন্তরাত্মা কেপে উঠলো। আজকে এরকম একটা খুশির দিকে ওর চোখ মুখ ফ্যাকাশে কেনো।এদিন শুনেছিলো আমি প্রেগন্যান্ট সেদিন তো চোখ মুখ খুশিতে চকচক করছিলো।আর আজ বেবি হওয়ার পর ও ওর মুখে হাসি নেই।আর এদিকে কেউ আবার আমাকে আমার বাচ্চার সাথে দেখা করতে দিচ্ছে না।

“মেঘ কেমন আছো এখন?মন খারাপ কেনো তোমার?”

“আলহামদুলিল্লাহ।তবে দেখো না কেউ আমাকে আমাদের বেবির সাথে দেখা করতে দিচ্ছে না।বাবুকে একটু নিয়ে এসো না।আমি দেখবো।”

“ওহ এই জন্যে মন খারাপ।আরে আসলে বেবিকে ডাক্তার স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন তাই আলাদা রাখা হয়েছে।”

“স্পেশাল ট্রিটমেন্ট? কেনো আমার বাবু ঠিক আছে তো?কি হয়েছে বাবুর।”

“হুম বাবু ঠিক আছে।আসলে বাবুর ভালোর জন্যেই বাবুকে ডাক্তার ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে।ট্রিটমেন্ট শেষ হলেই আবার তোমার কাছে দিয়ে যাবে।”

৪ দিন পর আমাকে হসপিটাল থেকে রিলিজ করে দেয়া হয়েছে।কিন্তু আজ অব্দি আমাকে আমার বাচ্চার সাথে দেখা করতে দেয়া হয় নি।এ নিয়ে অভ্রের সাথে বাড়ির সবার সাথে রাগারাগি ও করেছিলাম।কিন্তু আজ অব্দি আমাকে বাচ্চার মুখ ও দেখতে দেয়া হয় নি।এটা যে একটা মায়ের জন্যে কতটা কষ্টের কতটা যন্ত্রনার তা বলে বুঝানো সম্ভব না।সবাই আমাকে খুব ভালোভাবেই দেখাশোনা করেছে। কিমতু বাচ্চার কথা উঠলেই সবাই বলে যে ডাক্তার যেদিন বলবেন সেদিন আমার কাছে দিয়ে যাবে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আবার অভ্রকে আমার বাচ্চার কথা বলতেই অভ্র আমাকে বললো যে,

“মেঘ তুমি এখন সুস্থ আছো তো।আমার তোমার সাথে কিছু কথা আছে যা তোমাকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে। একডম উত্তেজিত হবে না।যদি হও তো আমি তোমাকে বাবুর সাথে দেখা করতে দিবো না।এখন বলো তুমি কি করবা?”

“আচ্ছা বলো।আমি ধৈর্যের সাথেই শুনবো।”

আমার কথা শুনে অভ্র আমার দুই হাত ধরে হাতে চুমু দিয়ে আমার মুখের দিকে বললো,

“তুমি যেদিন অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলে সেদিন তোমাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তোমাকে চেকআপ করার পর কিছু টেস্ট করতে দিয়েছিলো।টেস্ট গুলো করার পর ডাক্তার আমাকে বলেছিলে যে, আপনার বেবির কন্ডিশন খুব একটা ভালো নয়।হার্টবিট একদম স্লো।আর এমন একটা পজিশনে আছে যে বাচ্চাকে বাচাতে গেলে মায়ের লাইফ রিস্ক আছে।আর মাকে বাচাতে হলে বাচ্চাকে বাচানো সম্ভব না আমাদের পক্ষে।এখন ডিসিশন আপনাদের।আর একটা কথা বাচ্চাকে আমরা বাচালেও সে সারভাইভ করতেভপারবে কি না সেটা আমাদের পক্ষে এখন বলা সম্ভব নয়।এখন আপনি কি করবেন সেটা আমাদের জানিয়ে দিবেন।আর আপনার ওয়াইফের সেন্স আসার সাথে সাথেই আমাদের অপারেশন করতে হবে । তাই তাড়াতাড়ি জানাবেন।।
ডাক্তারের কথাশুনে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিলো।আ।ই পড়ে যাই দোটানায়।একদিকে আমার ভালোবাসা,আমার স্ত্রী।যাকে আমি মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি।আরেকদিকে আমার সন্তান। আমার আর তোমার অস্তিত্ব। যাকে অনুভব করেই আমি ভালোবেসেছি।ডাক্তারের কেবিন থেকে বেরিয়ে বাসার সবাইকে এটা জানানোর পর সবাই একবাক্যে আমাকে বলেছিলো যে যে করেই হোক মেঘা কে বাচাতে হবে।মেঘা বেচে থাকলে আরো সন্তান আসবে।কিন্তু তুই যদি মেঘাকে বাদ দিয়ে তোর সন্তানকে নির্বাচন করিস তাহলে সে ডাক্তার তো বলেছেন যে বাচ্চাটা সারভাইভ করবে কি না সেটা ডাক্তার গ্যারান্টি দিতে পারছেন না।মেঘ বিশ্বাস করো আমি সেই মুহুর্তে কিছু ভাবি নি।শুধু তোমাকে ছাড়া।আমি সবাইকে বলে দিয়েছিলাম যে আমার মেঘকে চাই।এই সময় তোমার বাবা আসেন হসপিটালে।উনি এই কথাটা শুনে খুব ভেঙে পড়েন। কিন্তু পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।আর তোমার জ্ঞান ফেরার আগেই আমরা ডাক্তারকে জানিয়ে দেই যে আমাদের তোমাকে লাগবে।”

অভ্রের কথা শুনে আমার দুচোখ বেয়ে জলধারা টপটপ করে বইছে।আমি আমার সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখাতে পারি নি আমি ব্যার্থ।আমার সন্তান আমার জন্যে এই পৃথিবীতে আসতে পারে নি সব দোষ আমার।নিজেকে আমার খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে।আমার জীবনটা আজ আমার সন্তান আমাকে দান করেছেন।যেখানে আমার উচিত ছিলো আমার সন্তানকে জীবন দেয়া।

আমাকে এভাবে কান্না করতে দেখ অভ্র আমাকে ধরে কান্না করতে নিষেধ করছে।কিন্তু আমি তা করছি না।বরং আমার কান্নার গতি বেড়ে গিয়ে বারবার হেচকি উঠে যাচ্ছে।বেশ কিছুক্ষন এভাবে কান্না করার পর পেটে ব্যাথা অনুভব হলো।কিন্তু এখন চেয়েও কান্না থামাতে পারছি না।ব্যাথায় আমার চোখ মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে আমাকে এভাবে দেখে অভ্র খুব ভয় পেয়ে গেছে।ও মা আর মামিকে ডেকে নিয়ে এসে আমাকে সামলাতে বলে ডাক্তারের কাছে কল করে কথা বলছে।এদিকে আমি ব্যাথায় কুকড়ে যাচ্ছি।অভ্র ডাক্তারের সাথে কথা বলে আমাকে নিয়ে হসপিটালে গেলো।সেখানে ডাক্তার আমাকে অনেক বুঝালেন যে এভাবে কান্না করলে আমার সমস্যা হবে।আমি আবার মা হতে পারবো তাই এতো চিন্তার কিছু নেই।তাই আমাকে এখন সাবধান থাকতে হবে।

৬ মাস কেটে গেছে।এখন আমি পুরোপুরি স্বাভাবিক। তবে প্রতিরাতে আমার সন্তানের কথা মনে আসলেই আমি একা একা কান্না করি।আজও মাঝ রাতে একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলো।বিছানায় বসেই দুচোখের পানি ফেললাম।স্বপ্ন টা এমন ছিলো যে,

“একটা ছোট বাচ্চা গুটি গুটি পায়ে হাটছিলো।আশেপাশে কেউ নেই বাচ্চাটার।শুধু আমি ওর সামনে।বাচ্চাটা মা মা করে হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার দিকে ছুটে আসছে আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি।মনে হচ্ছে যে ও আমাকে মা বলছে।তাই আমি খুশিতে দৌড়ে ওর কাছে যাচ্ছিলাম।কিন্তু বাচ্চাটার সামনে যেতেই একটা ঘন ধোয়া এসে বাচ্চাটাকে আমার সামনে থেকে নিয়ে গেলো।কোথায় নিয়ে গেছে তা জানি না।আমি চার দিকে পাগলের মত খুজছি বাচ্চাটাকে কিন্তু না আর পেলাম না ওকে।আর তখনি ঘুম ভেঙে গেলো।শরীরটাও ভালো নেই।কান্নার ফলে মাথাটা ভন ভন করে ঘুরছে।কয়েকদিন ধরে আমার একটু সন্দেহ হচ্ছে।আজ সকালে তাই উঠে কাজ যা ছিলো সব শেষ করে অভ্রের সাথে হসপিটালে গেলাম।সব টেস্টের পর আমার ধারনা সত্যি হলো।আমি দ্বিতীয় বারের মতো প্রেগন্যান্ট। তবে প্রথমবারের মতো খুশি হতে পারলাম না আমি।তবে অভ্র খুব খুশি হয়েছে।জানি না কি হবে ভবিষ্যতে তবে যাই হোক আমি ধৈর্য ধারন করবো।মহান আল্লাহর কাছে চাওয়া শুধু একটাই এইবার যেন আমার কোল আলো করে তিনি আমার সন্তানকে এই পৃথিবীর আলো দেখার তৌফিক দান করেন।

ডাক্তারের কেবিন থেকে বেরিয়ে অভ্রের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখে প্রাপ্তির হাসি।ওর দিকে তাকিয়ে আমিও হাসি দিয়ে ওর হাত ধরে চললাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।

তুমি বৃষ্টিভেজা শীতের অনুভুতি।
তুমি আমার অন্ধকারের সূক্ষ্ম আলোর জ্যোতি
তুমি আমার হৃদয় মাঝের হারিয়ে যাওয়া গান
তুমি আমার হৃদ মাঝারের জোয়ার ভাটার টান।

আমার যা কিছু অভিযোগ সব তোমার প্রতি
তুমি যে আমার তুমিময় অনুভূতি।

(সমাপ্ত)

(

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!