মান অভিমান পর্ব -০২

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

#মান_অভিমান
#সুমাইয়া_সুলতানা_সুমী
#২_পর্ব
,
এক বস্তা রাগ নিয়ে বাড়ি ফিরল ইয়ানা থাপথুপ পা ফেলে রুমের ভিতর চলে গেলো এখনো আর্দ্র কে বকেই যাচ্ছে,, বাজারের ব্যাগটা রেখে সোজা রুমে চলে গেলো তারপর হাতমুখ ধুয়ে মাথায় একটু পানি নিলো কেননা এখন মাথাটা ঠান্ডা করা দরকার কত খারাপ লোক বড় গাড়ি আছে বলে রাস্তায় এভাবে চালাতে হবে, আল্লাহ না করুক যদি আমার কিছু হয়ে যেতো তাহলে আমার মাকে কে দেখতো, ভাগ্যিস আল্লাহ ঠিক সময়ে বাঁচায় দিছে আবার যদি ওই লোকটার সাথে দেখা হয় তবে ওনাকে বুঝিয়ে দেবো এই ইয়ানা কি জিনিস আর ওনার থেকে কিছু টাকাও নেবো কেননা ওনার জন্য আমার স্কুটির সামনের আয়নাটা ভেঙে গেছে।

কিরে কার সাথে কথা বলছিস আর কাকেই বা এভাবে বকা দিচ্ছিস।

আর বলো না মা জানো আজকে কি হয়ছে,, তারপর ইয়ানা ওর মা কে সবটা বলল, আচ্ছা তুমিই বলো আম্মু যদি আমার কিছু হয়ে যেতো আর তুমি তো জানোই আমি কত সুন্দর করে স্কুটি চালায় একদম এক সাইট দিলো বলো??

তুই যে কেমন করে স্কুটি চালাস সেটা আমি ভালো করেই জানি, স্কুটি নয় মনে হয় প্লেন চালাচ্ছিস ভাগ্যিস ওই ছেলেটার কিছু হয়নি , আমি শিওর যদি আর কিছুক্ষণ ওই ছেলেটা ওখানে থাকত তাহলে তুই ওকে গণধুলায় খাওয়াতি।

কিহ তুমি আমার আপন মা হয়ে আমায় এভাবে বলতে পারলে?? মনে তো হচ্ছে তোমার ওই ছেলেটার জন্য প্রাণ কাঁদছে যাও না যাও গিয়ে ছেলেটাকে মেয়ের জামাই বানাও।

না থাক আমার শুধু শুধু কারো জীবন নষ্ট করার কোনো ইচ্ছে নেই।

আম্মু,, আরে আমি তো মজা করছিলাম আমার মেয়েটা অনেক ভালো একদম সোনা মেয়ে আয় খেতে আয় আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
,,,,,,,
মেহরাব তুই বরং মাহিকে বাসায় দিয়ে আয়, আসলে আমিই দিয়ে আসতাম কিন্তু আমার একটা কাজ পড়ে যাওয়াই যেতে পারছি নাহ আর এই রাতের বেলায় তো আর মাহিকে একা ছাড়তে পারি নাহ।

আর্দ্রর কথা কেন জানি মেহরাব এর বিশ্বাস হলো নাহ তাই ভ্রু কুঁচকে বলল, তোর আবার এখানে কিসের কাজ আর তোর কাজ পড়লে আমি জানতাম নাহ? সত্যি করে বল, আর আমি মাহিকে পৌঁছে দিতে পারবো না পারলে তুই গিয়ে দিয়ে আয় নয়ত ওর বাসায় যাওয়ার দরকার নাই।

মেহরাব এর শেষের কথাটা মাহি শুনে ফেলল আসলে ও ভিতরে গিছিলো রেডি হতে আর সবার থেকে বিদায় নিয়ে খুশি মনে বাইরে গাড়ির কাছে আসতেই মেহরাব এর কথাটা শুনতে পেলো,,মাহির চোখের কোণে পানি জমে গেলো, কোনো রকমে কান্না আটকিয়ে মেহরাবদের সামনে গিয়ে বলল,, আর্দ্র ভাইয়া আপনার যদি সময় হয় তাহলে আমায় দিয়ে আসতে পারেন নয়ত থাক আপনাদের কাউকে আমায় দিয়ে আসতে হবে নাহ আমি একাই যেতে পারবো, আসলে কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে তো আর কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় নাহ,, এই বলে মাহি চলে গেলো।

নে হলোত? ওতো চলে গেলো যা ওকে আটকা.

আমি কেনো যাবো ও তোর হবু বউ আর তোর হবু বউ এভাবে রাতের বেলায় একা বেরিয়ে গেলো তুই নিজে আনতে না গিয়ে একটা পর পরুষ কে যেতে বলছিস কেনো? তোর একটা দায়িত্ব আছে তুই এভাবে তোর দায়িত্ব আমার উপরে চাপাতে পারিস নাহ আর্দ্র ।

কি বললি মাহি আমার হবু বউ তাই তো? ওকে ও যেহেতু আমার হবু বউ তাই ওর সব দায়িত্ব আমার আর আমার এখন ইচ্ছে করছে না ওকে দিয়ে আসতে যেহেতু ও আমার হবু বউ তাই আমি ওকে পৌঁছে দেবো কি দেবো নাহ সেটা নিতান্তই আমার ব্যাপার ওকে,, এই বলে আর্দ্র মাহি যে রাস্তায় গিয়েছে সেদিকে না গিয়ে তার উল্টো রাস্তায় চলে গেলো।

আরে মাহি তো এই রাস্তায় গিয়েছে তুই অন্য রাস্তায় যাচ্ছিস কেনো,, আর ও সেই কখন গিয়েছে যদি কোনো বিপদ হয়।

তোর যখন মাহিকে নিয়ে এতই চিন্তা তাহলে তুই যা আমাকে কেনো বলছিস আমি এখন রাতের এই ঠান্ডা হাওয়া খাবো আর রাত টাকে উপভোগ করবো কতো দিন পরে দেশে আসলাম জ্যাকেটের পকেটে হাত দিয়ে,, হাঁটতে হাঁটতে বলল আর্দ্র,, কেননা ও জানে মেহরাব ঠিক মাহিকে ওর বাসায় পৌঁছে দেবে তাও সহী সালামতে।
,,,,,,,
হাঁটতে হাঁটতে প্রায় অনেক দূরে চলে আসছে মাহি রাতের শহর চারিদিকে আলো জ্বলছে যেনো মনে হচ্ছে রাত নয় এখনো দিন রাস্তা দিয়ে সাঁই সাঁই করে একের পর এক গাড়ি চলে যাচ্ছে মাহি সেদিকে তাকিয়ে বলল,, আচ্ছা আমি যদি এখন এই গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যাই তাহলে কি মেহরাব ভাই কাঁদবে?? নাকি বলবে যে বাঁচলাম অবশেষে আপদ দূর হলো,, মাহির ভাবনার মাঝেই মেহরাব গাড়ি নিয়ে এসে মাহির সামনে দাঁড় করায়ে বলল, রাস্তার দিকে তাকিয়ে ওভাবে কি দেখছিস?? যেটা করার কথা ভাবছিস সেটা মন থেকে আর মাথা থেকে পুরোপুরি ভাবে মুছে ফেল নয়ত মেরে এসব ফালতু ভাবনা ভাবার জন্য মাথা ফাঁটায় দেবো, যলদি গাড়িতে উঠ।

ওনি তো আমার মনের সব কথায় বুঝতে পারে তাহলে আমি ওনাকে ভালোবাসি এটা কেনো বুঝতে পারে না নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করে থাকে।

কিরে কথা কানে যাচ্ছে না?? রাস্তার মধ্যে এমন নাটক না করে গাড়ি ওঠ অনেক জার্নি করে এসেছি ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তোকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে লম্বা একটা ঘুম দেবো।

তো জান আপনাকে কে আসতে বলেছে আমি নিজেই বাসায় চলে যেতে পারবো কাউকে পৌঁছে দিতে হবে নাহ,।

মাহি রাস্তার মাঝে ঝামেলা করিস নাহ চুপচাপ গাড়িতে উঠে বস তোর সাথে ঝগড়া করার মুড নেই অনেক খারাপ লাগছে,,।

একটু ভালো করে বললে কি হয় আমি কি এতোই খারাপ যে আমার সাথে একটু ভালো করে কথা বলা যায় নাহ,, নিজের মনে কথাগুলি বলে এক রাশ অভিমান নিয়ে মাহি গাড়িতে চড়ে বসল,, মাহি গাড়িতে বসতেই মেহরাব গাড়ি স্টার্ট দিলো তারপর শুধুই পিনপিন নিরবতা কেউ কোনো কথা বলছে নাহ, গাড়ি মাহিদের বাসার সামনে আসতেই মেহরাব মাহিকে নামতে বলল কিন্তু মাহি না নেমে সামনের দিকে তাকিয়েই বলল,, আচ্ছা মেহরাব ভাই আমি কি অনেক খারাপ?? আমাকে কি একটুও ভালোবাসা যায় না?? কথাটা বলে মেহরাব এর দিকে তাকালো মাহি আর ওর চোখ থেকে টুপ করে এক ফোঁটা পানি পড়ল।

বেশি কথা না বলে ভিতরে যা অনেক রাত হয়েছে নিশ্চিত তোর বাবা মা তোর জন্য চিন্তা করছে, আর এসব চিন্তা বাদ দিয়ে পড়ায় মন দে আর সামনের মাসে তো তোর বিয়ে সে কথা ভুলে যাস না,, সামনের দিকে তাকিয়ে বলল মেহরাব।

নিরাশ হয়ে কিছুক্ষণ মেহরাব এর দিকে তাকিয়ে থেকে মাহি গাড়ি থেকে নেমে চলে গেলো মেহরাব কিছুক্ষণ মাহির যাওয়ার পানে চেয়ে থেকে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সিটে গা এলিয়ে দিয়ে মাহির দিকে তাকিয়ে আছে যতক্ষণ না মাহি বাসার ভিতরে যায় ততক্ষণ।
,,,,,,,
ওফ এই স্কুটিটার ও এখনি খারাপ হতে হলো আর হবেই বা না কেনো সকালে ওই লোকটা যে জোরে ধাক্কা দিয়েছে এতে যে ও বেঁচে আছে এটাই অনেক এই রাতেই বেলায় এখন একে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যেতে হচ্ছে একে তো সুনশান রাস্তা তারউপর রাস্তায় আবার দু পা ওয়ালা কুকুর থাকে মানে ফালতু ছেলেরা,, তাদের নিয়েই বেশি ভয় হাতের দিকে তাকিয়ে একবার চেক করে নিলো যে ওর সেপটি কিটটা আছে নাকি, দু হাতে স্কুটি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে তবে ডান হাতের মুঠোই একটা ধারালো খুর আছে যেটা ও সব সময় নিজের কাছে রাখে সেফটির জন্য যদি কোনো সম্যসা হয় তাহলে এটা দিয়ে নিজেকে প্রোটেক্ট করবে,,,আসলে ইয়ানা একটা টিউশনি করে ফিরছিলো কিন্তু মাঝ রাস্তায় ওর স্কুটিটা নষ্ট হয়ে যাওয়াই এখন সেটা ঠেলে নিয়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে ,, ভিতরের এই রাস্তাটা নিরব আর শুনশান হওয়ায় আর্দ্র এদিকেই হাঁটতে বেরোয়েছে, গাড়ি হর্ণ আর শব্দ ভালো লাগছে না তাই গলির এই রাস্তা দিয়েই একা হাঁটছে আর ভাবছে কীভাবে মাহির সাথে ওর বিয়েটা আটকানো যায়,, তখনি রাস্তায় থাকা ল্যাম পোস্টের আলোই দেখলো ইয়ানা ওর স্কুটি নিয়ে ঠেলতে ঠেলতে এদিকেই আসছে,, আরে সকালের ওই ঝগড়ুটে মেয়েটা না এতোরাতে এখানে কি করছে, হুমম দাঁড়াও এবার বাগে পেয়েছি এখন বুঝাবো মজা, কথাটা বলে আর্দ্র ইয়ানার দিকে এগিয়ে গেলো।

চলবে,,,,,,,,??

"এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে। আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার। আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন "

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম আল আমিন on তোমাকে ঠিক চেয়ে নিবো পর্ব ৪
error: Alert: Content is protected !!