অচেনা শহর পর্ব ৩+৪

#অচেনা_শহর 💖
#সিজন (২)
#লেখিকা:–তানজিনা আক্তার মিষ্টি
#পর্ব:–[৩]

বিষন্ন মন নিয়ে বাসায় আসি। কিভাবে সবাইকে ম্যানেজ করব এইসব নিয়ে চিন্তা মাথায় নিয়ে ড্রয়িংরুমে আসতে দেখতে পেলাম দাদাভাই বসে আছে এই সময় দাদাভাই বসে থাকে না। এমনকি বাসায় থাকে না তো এত আগেই বাসায় কি করছে আমি দাদা ভাইকে দেখি কিছুটা ভয় পেয়ে আস্তে আস্তে তার সামনে আসলাম দাদাভাই আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে পরল।
আর আমার এক কাঁধে হাত রেখে বলল,

“তারেক সারাদিন কোথায় ছিলে?”

আমি ভাইয়ার কথায় ভয় পেয়ে যায়। ভাইয়া কিছু জেনে যায় নাই তো আবার।
ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছি দাদাভাইয়ের দিকে।
দাদাভাই আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে আছে তাই আমি ভয়ে কমিয়ে আমতা আমতা করে বললাম,,

“আমি তো..

“সাফাই দিতে হবে না তোমার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে।”

জি দাদাভাই বলেন।

তুমি দেখতে পাচ্ছো তোমার ভাবি অসুস্থ। আর জাবেদ তার বউ নিয়ে বিদেশে আছে। এই অবস্থায় একটা সংসারের দায়িত্ব তোমার ভাবি বহন করতে পারছে না।

দাদাভাই কাজের লোক তো অনেক আছে যদি বলতো আরো কিছু ব্যবস্থা করব।

কাজের লোক দিয়ে কি আর সংসার চলে।

তাহলে তুমি আমাকে কি করতে বলছো?

তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তো। আমি তোমার জীবনে যে ডিসিশন নেব সেটা অবশ্যই তোমার ভালোর জন্যই নেব।

আমি মাথা নেড়ে হ্যা জানালাম।

গুড মাই ব্রাদার। আমি জানি তুমি আমার সমস্ত কথা রাখবে। কী রাখবে তো

আমার মাথায় ঢুকছেনা দাদাভাই কি রাখার কথা বলছে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে কাজের বিষয়ে কিছু হবে এইভাবে অনেকবার দাদা ভাইকাজের কথা বলেছে।

হ্যাঁ ভাইয়া আমি তোমার সমস্ত কথা রাখবো আমার তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল।

আচ্ছা সে পরে বইলো আগে আমার কথাটা শোনো।

জি দাদা ভাই বলো।

তোমাকে কিন্তু আমার এই কথাটা রাখতে হবে। যে কাজটা তোমাকে করতেই হবে। আমাকে ছুঁয়ে প্রমিস করো।

আচমকা ভাইয়া এমন ছুয়ে প্রমিস করা শুনে আমি চমকে গেলাম। ভয় পেয়ে গেলাম অজানা ভয়ে এসে আমাকে গ্রাস করল। কি কাজ করব যাতে তো প্রমিস করার কি আছে।

দাদা ভাই আমি তো তোমার কোন কথা এখনো না করে থাকেনি। সব কাজই করেছি। তাহলে অবশ্যই আমি করব তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না।

হ্যাঁ করি যতটুক করার দরকার কিন্তু আমার মনে হয় তোর প্রমিস করা দরকার।

প্রমিজ করতে বড্ড ভয় হচ্ছে কিনা কি বলবে? আজকে দাদাভাই কথাগুলো আমার কেমন লাগছে। কিন্তু এখনতো আমি প্রমিজ না করল ভাই আমাকে সন্দেহ করবে। তাই আল্লাহর নাম নিয়ে প্রমিজ করে দিলাম।

আর এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় ভুল যে প্রমিস করার পরে ভাই আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। সে নাকি বিবাহ ঠিক করে এসেছে আমি সঙ্গে না করি কিন্তু দাদাভাই বলেন।

“তুমি কিন্তু আমাকে প্রমিস করেছিলে।”

আমি দাদাভাই কে বাধ্য হয়ে বিয়ের কথা জানিয়ে দেয়।সব শুনে দাদাভাই আমাকে জিজ্ঞেস করে নুসরাতের পরিবারের কথা। আমি সব বলতেই দাদা ভাই ওকে মেনে নেয় না।ডিভোস দিতে বলে। না হলে বাসা থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেবে। আমি দিশেহারা হয়ে পরি।
সিদ্ধান্ত নেয় বাসা ছেড়ে চলে যাব কিন্তু ভাইয়া আরেকটা চাল দেয় আর আমি বিয়ে করি ভাইয়ার কথা মতো লিনি কে। দাদাভাই নুসরাতকে কিডনাপ করে আর বলে বিয়ে না করলে ওকে মেরে ফেলবে।
উপায় না পেয়ে রাজি হয়। দাদাভাই এই বিয়ে দেয় তার কারণ পরে জানতে পারি লিনির বাবার হাত ধরে ভাই ইলেকশনে জেতে তাই কথা দেওয়া ছিলো।আর আমার জীবন নষ্ট হয়ে যায়।
ভাইয়া আমাকে বলে নুসরাতের থাকা খাওয়ার টাকা পয়সা সব দেবে আর আমি যেন না জানে ও আমার বউ। আমি যেন ওর কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলি।
আমি পাথর হয়ে বসে ছিলাম আর একদিন লুকিয়ে নুসরাতকে ভাই এর বাসায় থেকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভাইয়া আবার আমাকে ধরে ফেলে ভাইয়ের হাত বড় ধরা সহজ।পরে আমি ভাইকে বলি নুসরাতের সাথে আমি সম্পর্ক রাখবো সেটা লুকিয়ে কেউ জানবে না।
ভাইয়া বলে লিনিকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে নাহলে নাকি ওর বাবা ভাইয়াকে শাস্তি দিবে এসব জানলে। ভাইয়া সেদিন কেঁদে ওঠে আমি ইমোশনাল হয়ে রাজি হয়। আর তখন থেকে আমি ঘরে বাইরে এভাবেই আছি। সবার আড়ালে লুকিয়ে এখানে আসি।”

কথা শেষ করে কাকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আমি গভীর ভাবে তাকিয়ে আছি তার কষ্টে ভরা মুখের দিকে এতো শক্ত ভেবেছিলাম মানুষ টাকে আর তার জীবনটা এতো আঘাতে আঘাতে আহত হ‌ওয়া। আমার চোখেও পানি টলমল করছে।
ভাই গুলো কি সব সময় এমন খারাপ ই হয়। কেন এই ভাই গুলো ভালো হতে পারে না কেন তারা ভাই বোনের জীবন টা আনন্দ আনন্দে ভরিয়ে না দিয়ে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
আজ কাকার জীবনটা ও সুন্দর হতো যদি সেদিন বাবা তাকে বুঝতো নুসরাত কাকিমাকে মেনে নিতো। জোর করে আরেকজনের সাথে বিয়ে না দিতো।
সেদিন আমার ভাই ও ভাবির কথায় জাচাই না করে মাকে কিছু বলতো আর না বাসা থেকে চলে আসতো তাহলে আজ সবাই বেঁচে থাকতো এক ঘরে থাকতো যেখানে অভাব থাকলেও কষ্ট থাকতো না।
আমাদের ছোট জীবন টা কেন এইভাবে নষ্ট হয়ে যায় আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছি। কতো ভালোবাসতাম ভাইকে আর সেই আমার জীবনটা নরকে পরিণত করেছে। ভাবতেই নিজের আর এই পৃথিবীতে থাকতে ইচ্ছে করেনা আপন মানুষ গুলো কেন আমাদের বুঝে না কেন আমাদের এই ভাবে কষ্ট দিয়ে যন্ত্রণা দিয়ে ভেতর থেকে মেরে ফেলে কেন?

“তুমি কাঁদছ কেন ব‌উমা।”

আমার খুব কষ্ট হচ্ছে কাকা আমাদের জীবন টা আপন মানুষ ধারা নষ্ট হয় কেন বলতে পারেন।

“জানি না। কেঁদো না।”

‘আদ্রর সাথে কথা বলবা।”

“হুম ও কি কল করেছিল?”

“এখনো না গিয়ে করবে।আমার সাথে চলো বাসায়।”

“না কাকা আমি আদ্র আসার আগে ওই বাসায় যাব না!”

‘তাহলে এখন কোথায় যাবে।”

“তাও জানি না। যেদিকে দুচোখ যায় চলে যাব ঠিক একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।”

“পাগল নাকি আমি তোমাকে এইভাবে রাস্তায় থাকতে দিতে পারি না।”

তাহলে কি করবেন?

তাই তো ভাবছি এখানে কি ভাবে রাখবো।আমার ছেলেটা এতো ঘাড়তেরা আমি তোমাকে এখানে রাখলে নিশ্চিত কালকেই ঘাড় ধরে বের করে দিবে।

মানে।

আরে আমার ছেলে।

আপনার ছেলে মেয়ে তো বিদেশে।

হুম সেগুলো না এখানকার টা আমাকে তো সহ্য করতে পারেনা তার মার সাথে মে অন্যায় করেছি আমি তাই।

বলে কাকা ভাবতে লাগলো এখানে আমাকে রাখবে কি করে?
#অচেনা_শহর 💖
#সিজন (২)
#লেখিকা:–তানজিনা আক্তার মিষ্টি
#পর্ব:–[৪]

ছোট একটা রুমে বসে আছি একটু আগে ওই মহিলাটা আমাকে এইখানে রেখে গেছে কাকার কথায়। কাকা শশুর তার ছেলেকে কোন ভাবে ম্যানেস করবে বলেছিল আমি বলেছি তার দরকার নেই আমাকে রাত থাকতে দিন কাল আমি চলে যাব নিজের ব্যবস্থা করবো।‌ কাকা আমার হাত ধরে বলে এটা সে করতে পারবে না এইভাবে আমাকে একা রাখতে পারবে না।
তারপর ওই মহিলা মানে যাকে আমি মিথ্যে বলে খেয়েছিলাম তাকে ডেকে রুমে দিয়ে যেতে বলে।মহিলাটা কেমন করে যেন তাকায় ছিলো আমার দিকে।
তখনকার ব্যবহার এর জন্য জানি।কাকা বাসায় চলে গেছে আর এইখানে ওই কাকিটা অসুস্থ সে ঘুমে। বাথটবে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিলাম পা ধুতে গিয়ে জ্বলে উঠলো। জুতা ছাড়া হাঁটার ফলে পায়ের পাতা ছিলে গেছে চোখ বন্ধ করে আস্তে করে ধুয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখটি মুছে নিলাম। আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না এখন একটু ঘুম দরকার আমি বিছানায় দিকে তাকিয়ে থপ করে শুয়ে পড়লাম।

ক্লান্তে চোখ বন্ধ হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস ফেলতেই চমকে উঠলাম। আদ্রর হাসি মুখ ভেসে উঠছে ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে মুখে চমৎকার হাসি নিয়ে।
সাথে সাথে চোখ মুখে ফেললাম কোথায় আপনি আদ্র আমাকে একা ফেলে না গেলেও তো পারতেন। আপনি ছাড়া কেউ যে নাই আমার। সামান্য ভালোবাসি বলিনি বলে এইভাবে নিঃস করে চলে যেতে পারলেন।
আপনি চলে গেলে আমার কি হবে ভাবলেন না কেন? বিরবির করতে লাগলাম। বুকটা ফেটে কান্না আসছে কিছুতেই থামাতে পারছিনা।হু হু করে কেঁদে উঠলাম।
কাঁদতে কাঁদতে গলা শুকিয়ে গেছে। পানি না খেলে ঘুম ও আসবে না উঠে দাঁড়ালাম রুমে পানি নেই নিচে যেতে হবে উঠে নিচে আসলাম। পানি খেয়ে সিরির কাছে আসতেই গুঙরানি শব্দ পেলাম ওইটা তো কাকিমার রুম এমন শব্দ হচ্ছে কেন আমি দৌড়ে গেলাম।
কাকিমা বুকে হাত দিয়ে কেমন জানি করছে আমি তাড়াতাড়ি তার পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

“কি হয়েছে আপনার এমন করছেন কেন?”

উনি কি বলছেন আমি বুঝতে পারছি না। অস্পষ্ট সুরে বলছে আমি উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছি উনি কষ্ট পাচ্ছে।

“আমি বুঝতে পারছি না আপনার কথা প্লিজ বুঝিয়ে বলুন।”

এবার উনি হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো পানি। টেবিলের উপর রাখা আমি আন্দাজ করতে পারলাম উনার পানি দরকার তাড়াতাড়ি পানি এনে উনাকে খাইয়ে দিলাম পানি খেয়ে উনি অক্সিজেনের কৌটা নিয়ে মুখে দিলো।
এবার আমি সিউর উনার হাঁপানি আছে। গায়ে হাত দিয়ে বুঝেছি উনার গায়ে ঝড়। উনি চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে।
গায়ূ জ্বর অনেক কি করবো ভেবে একটা কাপড়ের টুকরা খুঁজে জল পট্টি দিতে লাগলাম হয়তো আরাম পাচ্ছে এবার চোখ খুলল স্বাভাবিক ভাবেই। আমার দিকে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে। এটা স্বাভাবিক কারণ আমাকে উনি চেনে না।

‘কে তুমি?”

জি আমি স্নেহা।

উনি ভ্রুকুটি করে বলল,,” তোমাকে আগে কখনো দেখেছি বলে মনে পরছে না। এখানে কিভাবে এলে।”

“সেসব না হয় কাল বলবো আপনি এখন ঘুমান।”

“কিন্তু..

“আপনার কি আমাকে খারাপ মনে হচ্ছে। আমি কি আপনার ক্ষতি করবো এমন।”

উনি বললেন,,” একদম ই না। তুমি খুব ভালো এটাই মনে হচ্ছে অচেনা একজনের এতো সেবা করলে। তুমি আমার ক্ষতি করবে না আমার বিশ্বাস।”

“তাহলে ঘুমান আমি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।”

উনি চোখ বন্ধ করে ফেললাম আমি পরম যত্নে উনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। উনার নিঃশ্বাস ঘন হতেই উঠে বেরিয়ে এলাম। রুমে এসে শুয়ে পরলাম।

পরদিন সকালে উঠে নিচে আসলাম। কাকিমা সোফায় বসে আছে চোখে চশমা পরা গায়ে রং তার ফর্সা গোলগাল চেহারা ভারি মিষ্টি যৌবনে তার চেহারা অত্যান্ত সুন্দর ছিলো বুঝা যাচ্ছে। আমি এসে উনার পাশে বসলাম উনি আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো।

“এখন কেমন আছেন আপনি?”

“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি?”

‘আলহামদুলিল্লাহ। এতো সকালেই উঠেছেন যে?”

“নিশাত কাজে যাবে তো উঠতেই হতো।”

নিশাত নাম শুনে চমকালাম। আবার ভাবলাম এক নাম কতো মানুষের ই তো হয়।

“আপনার ছেলে।”

“হুম। আচ্ছা তোমার পরিচয় দিলে না তো।”

আমি পরিচয় দেবো তখন পুলিশের ড্রেস পরে নিচে আসলো নিশাত যাকে দেখেই চমকে দাঁড়িয়ে পরলাম।
বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি। নিশাত ও আমাকে এখানে আশা করে নি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। স্তব্ধ হয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলো আর বললো,,

“স্নেহা তুমি এখানে কি করছো?”

আমি হতদম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

“এটা আপনার বাসা।”

“হুম কিন্তু তুমি এখানে কি ভাবে আই মিন আমার বাসা চিনলে কি করে আর সাতসকালে আসলেই বা কেন? এ্যানি প্রবলেম?”

তার মানে নিশাত কাকা ছেলে আর নুসরাত কাকিমা তার মা। ও মাই গড কি সব হচ্ছে।

কাকিমা সোফায় তো থেকে অবাক হয়ে বলল,,”তোরা দুজন দুজনকে চিনিস?”

নিশাত বলল,,”হ্যা আম্মু।”

কাকিমা বলল,, “কি ভাবে?”

নিশাত বলল,,” আম্মু তোমার মনে আছে ওই যে বলেছিলাম। একটা মেয়েকে তার মৃত বাবা সহ গ্ৰামে রেখে এসেছি। আর অন্তরার ফ্রেন্ড সে।”

“হুম বলেছিলি। মেয়েটার জন্য আমার খুব কষ্ট হয়েছিল।”

“এই তো সেই মেয়ে।”

আমাকে আর কিছু কাকিমাকে বলতে হলো না সে সব শুনে টেনে বসিয়ে আমার গালে কপালে হাত দিলো। আর চোখ চিকচিক করে তাকিয়ে আচমকা জরিয়ে ধরলো।

“তোমাকে আমার দেখতে ইচ্ছে হয়েছিল কি কষ্ট না পেয়েছো এই টুকু বয়সে।”

উনার মমতার ছোঁয়া পেয়ে আমি ও কেঁদে উঠলাম। পুরোনো কষ্ট টা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।উনার বুকে মাথা দিয়ে পরম সুখের আবাস পেলাম কেমন মা মা লাগছে। মনে হচ্ছে আমার মা আমাকে আদর করে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে।
নাক মুখ লাল করে ফেললাম কেঁদে কেটে।

চোখ মুখ মুছে সোজা হয়ে বসলাম। আমি এখানে কিভাবে এখন বলতে হবে। তখন কাকা এলো বাসায় আর আমাকে ডেকে উঠলো,,

” বউমা কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি এদিকে আসো।আদ্র কল করেছে।”

আদ্রর কলের কথা শুনে আমার মেরুদন্ড সোজা হয়ে গেল। এক ছুটে ফোনটা কাকার হাত থেকে নিয়ে সোজা দৌড়ে উপরে রুমটায় চলে এলাম।

ফোনে আদ্রর নামটা ভেসে আছে আমি ছলছল চোখে নামটার দিকে তাকিয়ে আছি। কানে নিতৈ পারছি না। বুকের ভেতরটা ধুকধুক করছে। আমি কাঁপা হাতেই ফোনটা কানে নিলাম ওপাশ থেকে আদ্রর কন্ঠ আসছে ও আমাকে বকছে।

“স্নেহা স্পিক আপ।তুমি এতটা কেয়ারলেস হয়ে গেলে আমি আসতে আসতে কোথায় ভাবলাম আমি তোমায় ছেড়ে এলে তুমি আমার বিরহে কেঁদে কেঁদে ভাসিয়ে দিবে। আমাকে ফোন করতে করতে পাগল করে দেবে। তা না উল্টো আমার ফোন রিসিভ করছো না।কাকার ফোনে তোমার সাথে কেন কথা বলতে হচ্ছে। অ্যানসার মি।”

আদ্র গম্ভীর শক্ত মুখ করে কথাগুলো বলছে।আমি নিরব হয়ে আর কণ্ঠস্বর শুনছি আমার বুকটা ফেটে কান্না আসছে মুখ ছেপে কাদচ্ছি।আমি আপনাকে সত্যি কথা বলতে পারবোনা। আপনি সব জানতে পারলে চিন্তা করবেন এতে ওইখানে আপনি এক মুহুর্তে থাকবেন না। আমি জানি যদি সবকিছু ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেন। এতে আপনারই ক্ষতি হবে আমি আপনার ক্ষতি চাই না আদ্র আপনাকে একটু দুশ্চিন্তা রাখতে চায় না।

“স্নেহা কথা বল এরকম নীরব হয়ে আছো কেনো।তুমি কি আমার সাথে কথা বলতে চাইছ না তারমানে আমি দূরে এসেছি তুমি এতে খুশি তাই তো।”

আমি এবার শব্দ করে কেঁদে উঠলাম। আদ্র এখনও আমাকে ভুল বুঝছে।
আদ্র আমার ফুপিয়ে কান্নার শব্দ পেয়ে হকচকিয়ে গেল। উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলো,,

“কি হয়েছে বউ। কাঁদছো কেন? আমি বকেছি বলে আচ্ছা সরি কেঁদো না।”

আমি আদ্র মুখে নরম কথা শুনে আরো বেশি করে কাঁদছি কান্না যেন থামছেই না।

“সরি বললাম তো। প্লিজ স্টপ। তুমি কাঁদলে আমার ভালো লাগে না কেঁদো না আর। নিজের ফোনটা কাছে রেখো তুমি তো জানো তোমার সাথে কথা না বললে আমি থাকতে পারিনা। আমার কষ্ট হয় খুব। কাল রাতে এখানে আসার পর থেকে কতো কল করেছি জানো। আই রিয়েলি মিস হার।”

“হুম।’

“তুমি আমাকে মিস করেছো?”

আমি চুপ করে আছি আর মনে মনে বলছি। আমি আপনাকে খুব বেশি মিস করেছি আদ্র!

“কি হলো বললে না তার মানে মিস করো নি।”

~~চলবে~~
~~চলবে~~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here