অচেনা শহর পর্ব ৩৫+৩৬

#অচেনা_শহর💖
#সিজন(২)
#লেখিকা:–তানজিনা আক্তার মিষ্টি
#পর্ব:–[৩৫]

ইয়ারফোর্টে সারা দিন কাটিয়ে সন্ধ্যায় বাসায় এসেছে ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিশাত। বাথরুমের থেকে গোসল সেরে বিছানায় শুয়ে পরলো। খুব ক্লান্ত লাগছে ওর। এতো সময় থেকেও হৃদয় এর খোঁজ পেলাম না তাহলে কি ও আসে নি মাইশা মিথ্যা বলেছে। চোখ বন্ধ করে র‌ইলো।
হৃদয় কে পাবে কি করে? ও তো ছদ্রবেশে এসেছে সাথে নাম ও চেন্জ ওর পাসপোর্ট এ। যার জন্য ওকে নিশাত ধরতেই পারেনি।

অয়ন নিশাতের আশার খবর পেয়ে পড়া অফ করে নিশাতের রুমে এসে দেখে ও শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। অয়ন পা টিপে টিপে ওর পেটের উপর উঠে বসে। আর চিৎকার করে পাপ্পা বলে উঠে। কেবল ঘুম ধরছিলো নিশাতের তখন চিৎকার শুনে ধরফরিয়ে উঠে বসতে গিয়ে দেখে অয়ন ওর মুখের দিকে তাকিয়ে হা হা করে হাসছে।

অন্তরা রান্না ঘরে থেকে চা করে নিয়ে আসে নিশাত এর জন্য।

ভাইয়া আপনার চা।

কথাটা বলেই তাকিয়ে রেগে উঠে অয়নকে পড়া ছেড়ে উঠে আসতে দেখে।

তুই এখানে কি করছিস? তোকে তো পরতে দিয়েছিলাম।

বলেই গরম চোখ করে তাকিয়ে এগিয়ে যায়।

নো মাম্মা আমি এখন পাপ্পার কাছে থাকবো। তুমি যাও এখানে থেকে।

না এখন পাপ্পা টায়ার্ড তুমি আমার সাথে চলো পাপ্পাকে রেস্ট নিতে দাও।

অয়ন কথা শুনছে না জেদ করে নিশাত এর সাথে চেপে আছে। নিশাত উঠে অন্তরার থেকে চা নিয়ে বলল,

থাক। তুই যা।

কিন্তু।

আমি সামলে নেব।

অন্তরা বাধ্য হয়ে চলে গেলো। বাইরে এসে বুড়ির কাছে যাবে তখন কলিং বেল বাজলো কাজের মেয়ে খুলে দিয়েছে কে এসেছে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। তখন দেখলো আদ্র কাকা‌।ও সালাম দিল তিনি গম্ভীর মুখ করে উওর নিয়ে নিশাতের মায়ের রুমে চলে গেল।
অন্তরা আর তার কাছে গেল না। নিজের রুমে এলো।

রাতে পরলো ঝামেলায় দুজনেই। অয়ন বায়না ধরেছে আজ ও মা বাবা দুজনেই মাঝে ঘুমাবে‌। সেই নিয়ে রাগ করে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। খাচ্ছেও না। নিশাত আর অন্তরা দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে ওকে ডেকে যাচ্ছে।

অয়ন দরজা খুল।

না মাম্মা আগে তোমরা রাজি হয়ে তারপর।

থাপ্পড় দিবো কিন্তু একটা বেশি বেড়ে গেছিস তুই!

অন্তরার রাগ উঠে গেছে নিশাত অন্তরার হাত ধরে টেনে দরজার কাছে থেকে আনলো।

কি করছিস বকসিস কেন?

দেখছেন না কি সব বলছে ফাজিল ছেলে।

বকিস না যদি কিছু করে বসে বাচ্চা ছেলে। রাজি হয়ে যা।

কিহহ?

চোখ কপালে তুলে।

নিশাত শ্বাস ফেলে বলে,

এখন রাজি হ। ও ঘুমিয়ে গেলে আমি তোদের রুমে ঘুমিয়ে যাব নি এসে।

কিন্তু,,

ওর মন খারাপ করিস না ও তো আর জানে না আমরা নিজের স্বামী স্ত্রী মানি না। ওর সামনে আমি নিজেকে খারাপ করতে চাইনা।

আচ্ছা।

অন্তরা রাজি হতেই অয়ন দাঁত বের করে হেসে বেরিয়ে এসে জরিয়ে ধরলো অন্তরাকে।
_________________

আমি সকালেই চলে এসেছি এই বাসায় আদ্র অফিস থেকে আমাকে ফোন করলো,

হ্যালো, স্নেহা আমি তোমাকে নিতে আসছি রেডি হয়ে থেকে।

আরে শুনুন আপনি আইসেন না।

আদ্র গম্ভীর কন্ঠে বললো,, কেন তুমি কি আজকেও থাকবে। এটা কিন্তু ঠিক না তুমি আজ চলে আসবে বলেছিলে!

স্নেহা হঠাৎ হেসে ভাবলো আমার আসছি বলবো না।
হুম আজ না আমি কাল যাব আপনি বাসায় চলে যান।

স্নেহা আমি আজকেই তোমাকে নিয়ে যাবো।রেডি থাক আমি আসছি।

আমি যাব না। এসে লাভ নেই।

আমি জোর করে নিয়ে আসবো।

তাও যাব না। ভাইয়া আমাকে আজ যেতেই দিবে না‌। আপনি চলে যান। আসলে আপনাকেও থাকতে হবে।

আচ্ছা আমিও থাকবো।

ধুর এখন কি বলবো? দাঁত দিয়ে আংগুল কামাড়াচ্ছি।
আদ্র বলল,
আসছি তাহলে।বাই।

না না রাইখেন না।

কেন? আমি এখন ড্রাইভ করবো।

আইসেন না আমি বাসায় এসেছে।

মানে কোন বাসায়।

ধুর ওইবাসায় যাইয়েন। আমি এখানেই আছি।

কখন আসছো?

সকালে!

তাহলে না করলে কেন? আর একা কেন গেছো?

আমি আপনাকে সারপ্রাইজ দিতে চাইছিলাম। কিন্তু আপনাকে সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে নাকি। জোর করে চলে যাবেন ওইখানে।

হুম যাব‌ই তো।

রাখি সাবধানে আসবেন।

হুম। এসে তোমার খবর করবো আমাকে মিথ্যা বলা তাইনা‌।
_________________

অন্তরা বিছানার বাম সাইডে জরোসরো হয়ে শুয়েছে। ওর খুব আন‌ইজি ফিল হচ্ছে। ভাইয়ার সাথে এক খাটে ঘুমাতে হবে কখনো ভাবেনি। কিন্তু এই দুষ্টু ছেলের জন্য তাও করতে হচ্ছে।
মাঝখানে তৃপ্তির হাসি দিয়ে শুয়ে আছে অয়ন আরেকপাশে নিশাত। অয়ন নিশাত এর উপর হাত পা দিয়ে জরিয়ে ধরে আছে। আর কথা বলছে হাসছে।

এই দুজন কে একসাথে দেখলে অন্তরার বুকটা ভরে যায়। যেখানে নিজের সন্তানের খোঁজ না নিয়ে অন্যের সন্তান নিয়ে লুকিয়ে পরেছে হৃদয়। নিজের সন্তানের একটু ও খোঁজ নেয়নি।স্নেহা জানিয়েছিলো সে না করে দিয়েছে অস্বীকার করেছে। এতোটা ঠুনকো ছিলো আমার ভালোবাসা। ভালোবাসিস না কাছে কেন এসেছিলি। কেন ? অন্তরা বাদ দিয়ে দিলো ওর চোখ জল চিকচিক করছে তারাতাড়ি মুছে নিলো ওই প্রতারকটার জন্য কখনো কাঁদবো না আমি।

নিশাত এর দিকে তাকিয়ে ওর মায়া হয় ভাইয়া আর জীবনটা আমার জন্য নষ্ট হয়ে গেলো। ফুপি জোর করে আমার সাথে তাকে বিয়ে দিলো।আমি বিয়ের আগেও ভাইয়াকে বলেছিলো,
সেদিন,

ভাইয়া আমি এই বিয়ে করবো না আপনার চিন্তা করবেন না।ফুপি যা বলার বলুক। উনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে উনি ভুলেই গেছেন আপনার কতো ক্ষতি করছে। আমার মতো একটা নষ্টা মেয়েকে আপনার সাথে জরিয়ে আপনার ক্ষতি করছে। আপনি কেন অন্যের সন্তান কে মেনে নেবেন।আপনার ভালো একটা মেয়েকে বিয়ে করবেন পছন্দ মতো। আর তার সাথে আপনাদের সন্তান হবে।

নিশাত পুরোটা সময় চুপ করে অন্তরার দিকে তাকিয়ে ছিলো।
তোর কথা শেষ হলে আমি বলেছি এবার।আমি এই বিয়েটা নিজের ইচ্ছায় করতেছি।কেউ জোর করছে না।

অন্তরা অবাক হয়ে তাকালো।
তারপর বলল,
কেন করছেন? আমি দয়া চাই না। পাপ আমি করেছি তার মাশুল আমিই দেবো। আপনি রাজি থাকলেও আমি করবো না বিয়ে।

তুমি কি চাস? তোর জন্য মামু মামির মুখ সবার সামনে নিচু হোক। সবাই তাদের কথা শুনাক।

কিন্তু আমি আপনাকে মানতে পারবো না কখনো।

আমিও আর আমি জোর করবো না কখনো তুই তোর মতো থাকবি আমি আমার মতো সবাই জানবে আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ কিন্তু আমরা জানবো আমাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নাই‌।

অন্তরা নিশ্চুপ হয়ে সব শুনছে।

কি রে রাজি থাকলে চল।

অন্তরা কথা বলছে না।ও একটুও রাজিনা।

নিজের পরিবারের কথা ভাবিস। তোর সিদ্ধান্তের উপর অলির ভবিষ্যত নির্ভর করছে। ও বড় হচ্ছে কিন্তু।

অন্তরার কিছু ক্ষন ভেবে চোখ বন্ধ করে মুছে বেরিয়ে এলো নিশাত ও এলো।

মাম্মা কথা বলছো না কেন কি ভাবছো তুমি?

অয়ন ঘুরে অন্তরাকে ডাকে অন্তরা চিন্তায় মশগুল ছিলো শুনতে পায়নি।অয়ন হাত বাড়িয়ে অন্তরার হাত ঝাকাতে লাগে।অন্তরা চমকে উঠে দেখে দুই জোরা চোখ ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।

কি হয়েছে?

তুমি কি ভাবছো কখন থেকে ডাকছি।

কিছু না তুই ঘুমাবিনা। তারাতাড়ি ঘুমা। তোর কথা শুনলাম।
অয়ন মন খারাপ করে চোখ বন্ধ করলো।
___________________

হৃদয় মাইশা কে লোক দিয়ে তুলে এনেছে। আর নিজে‌ এখন মরার মতো ঘুমিয়ে আছে।
সপ্নে ও অন্তরাকে দেখলো।অন্তরাকে কাঁদতে কাঁদতে বলছে,
কেন আমাকে ঠকালে হৃদয় আমার কি দোষ ছিলো‌। আমি তো তোমাকে সত্যি ভালোবাসেছি। তুমি কেন আমার ভালোবাসা নিয়ে অভিনয় করলে।কেন আমার মনটা ভেংগে দিলে।

তখন পেছনে থেকে একটা চার পাঁচ বছরের এর ছেলে মাম্মা বলে ডাকলো।

নাকের জল চোখের জল এক করে কাঁদছে অন্তরা। হৃদয় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি।
হৃদয় ধরফরিয়ে উঠে বসলো।

ঘেমে একাকার হয়ে গেছে হৃদয়। গ্লাস ভর্তি পানি ঢকঢক করে খেয়ে নেয়।
_______________

আদ্র বাসায় এসেই রুমে এসে স্নেহাকে পেছনে থেকে জরিয়ে ধরে ঘাড়ে কামড়ে ধরে।
আমি আকষ্মিক ঘটনায় হতভম্ব হয়ে আহ করে উঠে।

চাপা রাগ করে নিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে বললো,
পাগল হলেন নাকি ছারুন রাক্ষস এর মতো কামড়াকামড়ি করছেন কেন?

ছারানোর চেষ্টা করতে করতে।
আদ্র কে কি ইচ্ছে করলেই ছারানো যায়। সে ছাড়ার বদলে আরো শক্ত করে চেপে করে। আদ্র নিজের থুতনি আমার কাঁধে রাখে আমি কেঁপে উঠলাম।

ছারুন কি করছেন?

তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছি তার শাস্তি এটা‌।

ছারুন তো আপনার শরীর দিয়ে ঘামের গন্ধ আসছে। আমার বমি পাচ্ছে।

নাক সিটকে উঠলাম আমি। আদ্র তা দেখে আমাকে ছেড়ে দিলো আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সরে আসবো তার আগেই আমাকে ঘুরিয়ে দেয়ালে চেপে ধরলো আমি ইয়া বড় চোখ করে আদ্রর দিকে তাকালাম কি হলো মারতে বললাম এ তো আরো চেপে ধরেছে।

আদ্র মুখে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে আমার একদম কাছে এসে গেল।

কি করছেন?

কি বললে আমার শরীর দিয়ে গন্ধ আসছে।

হুম।

ওকে এভাবেই থাকবো গন্ধ শুকো একটু।
বলেই এগিয়ে নিলো আমার নাকের কাছে।

আমি হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে বললাম।

আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ছারুন।

না ছারবো না। আমার শরীর দিয়ে গন্ধ আসে তাই না‌। এখন এইভাবেই আধা ঘন্টা থাকবো।

অসহায় মুখ করে আদ্রর দিকে তাকিয়ে আছি।লোকটার মাথা গেছে একেবারে।

ছারুন না সত্যি খারাপ লাগছে।

আদ্র হাত বাড়িয়ে আমার কপালে থেকে চুল সরিয়ে বলল,
আচ্ছা ছারতে পারি একটা চুমু দাও। প্রমিজ ছেড়ে দেবো।

আমি কড়া চোখে তাকিয়ে আছি।

কি হলো এভাবে তাকিয়ে লাভ নাই যা বলছি তাই করো না হলে কিন্তু…

তখন দরজা খুলে আশা এলো। ভাবি ভাবি করতে করতে আদ্র তা শুনে চমকে ছেড়ে দাঁড়ালো।
#অচেনা_শহর💖
#সিজন(২)
#লেখিকা:–তানজিনা আক্তার মিষ্টি
#পর্ব:–[৩৬]

হৃদয় রাগে গজগজ করতে করতে একটা রুমে এলো যেখানে মাইশা কে তুলে এনে ওর লোক বেঁধে রেখেছে মাইশা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। হৃদয় এসেই মাইশার গলা চেপে ধরলো।
মাইশা কে সকালেই তুলে এনেছে কিছু লোক এনে হাত পা বেঁধে রেখেছে। কে এমন করে ধরে আনলো ওর মাথা আসছে না। ও বিস্ময় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে হৃদয় এর দিকে এসেই ওর গলা চেপে ধরলো। রাগে চোখ লাল হয়ে আছে।
মুখ বাধা তাই কথাও বলতে পারছে না এদিকে ওর দুম বন্ধ হয়ে আসছে।
চোখ উল্টে যাবে তখন হৃদয় ছেড়ে দিলো আর চিৎকার করে উঠলো,

তোর সাহস কি করে হলো আমার খবর পুলিশ কে দেওয়ার।

মাইশা চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিচ্ছে। হৃদয় এর কথা শুনে চকিতে তাকালো ও জানালো কি করে এসব?
হৃদয় ওর মুখের বাঁধন খুলে দিলো।

মাইশা বলল, তুমি তো বিদেশে ছিলে এলে কবে
আর কোন দেশে ছিলে।

আমাক কি তোর পাগল মনে হয় তোকে সব বলবো। আমার পেছনে ছুড়ি চালাতে চাস তাইনা।

না আমি কি করলাম?

একদম মিথ্যা বলবি না তুই ওই নিশাত কে আমার খবর দিয়েছিস আমি খুব ভালো করেই জানি।

মাইশা ঢোক গিলে তাকিয়ে র‌ইলো

বিদেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এইভাবে থাকবি তুই।চালাকি কিছু করলে তোকে মারতে আমার হাত কাঁপবে না।

বলেই গটগট করে চলে গেলো পেছনে থেকে মাইশা অনেক কিছু বললো শুনলো না। একটা লোক এসে মুখ বেঁধে দিলো।কতজনের কাছে এমন বাধা পরতে হবে আমাকে।
_____________

আদ্রকে নিশাত জরুরি তলব দিয়ে ডেকে এনেছে।এখন ওরা বসে আছে রেস্টুরেন্টে এ।

আদ্র কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বলল,
তোমাকে এতো চিন্তিত লাগছে এনি প্রবলেম?

নিশাত কফিতে চুমুক দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,,
হুম।

কি নিয়ে এতো চিন্তা? অবাক হয়ে।

কাল থেকে মাইশা কে পাওয়া যাচ্ছে না।

হোয়াট?
বিষ্ময়ে হতভম্ব হয়ে।

হুম কাল থেকে ওর খোঁজ পাচ্ছি না।ফোন অফ বাসা খালি।কেউ ওর খোঁজ দিতে পারলো না। আমার মনে হচ্ছে ওকে কেউ কিডন্যাপ করেছে?

কে করবে এই কাজ? ওর আবার এতো বড় শত্রু কোথা থেকে উদয় হলো।
অবজ্ঞা সুরে বললো আদ্র।

হৃদয় করেছে এই কাজ আমি নিশ্চিত।

হোয়াট? হৃদয় কোথা থেকে এলো ওকে কি পেয়েছো তোমরা?
উত্তেজিত হয়ে বলল।

নিশাত দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাইশার জানানো থেকে ইয়ারফোর্টে অপেক্ষা করা সব বললো।

কোন দেশে জানো?

না মাইশা তা বলতে পারেনি।

আমার মেয়ে নিয়ে ও বিদেশে বেগে গেছে ওকে আমি খুন করে ফেলবো। তার মানে ও এখন দেশে আছে আর আমার মেয়েও তাই তো।

হ্যা তা থাকতে পারে।

আদ্র রাগে চেয়াল শক্ত করে বসে আছে। বেরিয়ে এলো এসব স্নেহাকে জানানো যাবে না ওকে সাবধানে রাখতে হবে। হৃদয় আবার কোন খারাপ কিছু করতে এসেছে।
________________

স্নেহা রান্না করছে সবাই মানা করেছে কিন্তু শুনে নি এভাবে বসে থাকা যায় নাকি সারাদিন।তাই জোর করে রান্না করছে আদ্রর ফেবারিট খাবার।
তখন ওর ফোন বেজে উঠল রুমে থেকে কাজে মেয়েকে বলে ফোন আনালো ভেবেছিলো আদ্র কল করেছে কিন্তু না এটা রং নাম্বার তাই রিসিভ না করে রেখে দিলো তখন আবার ফোন বেজে উঠলো,

এক‌ই নাম্বার থেকে দরকারি হতে পারে ভেবে রিসিভ করে কানে দিতেই, ওপাশ থেকে ভেসে এলো একটা কন্ঠ পরিচিত লাগছে খুব না।
কিন্তু কথাটা শুনেই চমকে উঠলো এটা তো হৃদয়।ও কিভাবে?

হ্যালো স্নেহা জান কেমন আছো?

স্নেহা চমকে ফোন নামিয়ে আবার কানে দিলো। ওর হাত পা কাপছে।

কাল হলো জানেমন কথা বলছো না কেন? এতো দিন পর তোমায় কল করলাম আর তুমি চুপ করে আছো?

স্নেহার কাপার মাত্র বেড়ে গেল। ওর হাতে খুন্তি ছিলো তা হাত থেকে পরে পায়ে লাগলো গরম ছিলো বিদায় পায়ে ছাকা লাগলো আর স্নেহা চিৎকার করে উঠল, বাসার সবাই ভয়ে ছুটে এসে দেখে স্নেহা পা ধরে কাঁদছে।

রাতে আদ্র বাসায় এসে সব শুনে ছুটে রুমে আসে।
পা লাল হয়ে আছে। শুরু হলো চেঁচামেচি আদ্র চিৎকার করছে স্নেহা রান্না ঘরে গেছিলো বলে।
চেঁচামেচি করে নিজেই থমথমে মুখ করে বাথরুমে চলে গেছে।
বের হতেই স্নেহা গিয়ে দাঁড়ালো তোয়ালে নিয়ে মাথা মুছে দিতে আদ্র রেগে হাত থেক তোয়ালে নিয়ে একাই মুছে নিলো।‌ পায়ের ওতো ব্যাথা না তাই হাঁটতে পারছে স্নেহা।
স্নেহা পেছনে পেছনে ঘুরেছে আর সরি বলছে আদ্র কানে নিচ্ছে না।স্নেহা হৃদয় এর ব্যাপার টা বলতো তাও বলতে পারলো না।

তাই গোমড়া মুখে বসে র‌ইলো। আদ্র এক নজর তাকিয়ে নিচে গিয়ে খেয়ে এলো। হৃদয় এর কথাটা ওকেও ভাবাচ্ছে। বিছানায় না শুয়ে বারান্দায় চলে গেলো।
স্নেহা শুয়ে ঘুমিয়ে পরলো ইদানিং অতিরিক্ত ঘুম আসে ওর চাইলেও বেশি জেগে থাকতে পারেনা।
আদ্র অনেকটা সময় বেলকনিতে কাটিয়ে এসে দেখে স্নেহা ঘুমিয়ে করছে।
ও এগিয়ে এসে ওর পায়ের কাছে বসে ভালো করে জায়গাটা দেখে। তারপর পাশে শুয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরে‌। এমনিতে হৃদয় এর কথা শুনে টেনশনে আছে আবার এসব মাথা গরম হয়ে গেছিলো ওর।
__________________

মাথা চেপে বসে আছে হৃদয় ও জানতে পেরেছে অন্তরার কাছে ছেলেটা ওর। মাইশাকে ছেড়ে দেওয়াল লোভ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো মাইশা বলে দিয়েছে।
জানার পর থেকে নিজের ছেলেকে পাবার আশায় আছে কিন্তু অন্তরাকে নয়। ও চায় ওর ছেলে ওর কাছে থাকবে ওর আর স্নেহার সাথে।
ছেলেকে চায় ও নিজের ছেলে কেন অন্যের কাছে রাখবে নো নেভার।

লোক লাগিয়েছে সব ডিটেলস আনার জন্য। তখন একটা লোক এলো আর সব বললো সব শুনে হৃদয় বাঁকা হাসলো।

পরদিন চলে গেল ছেলের স্কুলে ও জানতে পেরেছে ওকে এখানেই ভর্তি করা হয়েছে।
বাইরে ছদ্রবেশে দাড়িয়ে আছে। স্কুল ছুটি হতেই সব বাচ্চারা বেরিয়ে এলো ও চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে তখন দেখা মিললো এগিয়ে যাবে তখন অন্তরাকে দেখলো ওর আগে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিলো ও তারাতাড়ি লুকিয়ে পরলো।

আশায় জল ঢেলে অন্তরা ওকে নিয়ে চলে গেলো। বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হলো।লোক লাগিয়েছে স্নেহার বাসায় ও কখন বের হয় জানার জন্য। ফোন করেছিলো কথা বলতে পারেনি।তারপর নাম্বার অফ।সবার সামনে ঘুরে বেরাতে পারে ও কেউ ওকে চিনতে পারেনা।
______________

সরি,
মুখটা মলিন করে বললো।

আদ্র গম্ভীর হয়ে বলল, তোমাকে আমি কাজ করতে মানা করেছিলাম।

আচ্ছা আর করবো না। আপনার সাথে আমার জরুরি কথা ছিলো।

কি কথা? ভ্রু কুঁচকে।

স্নেহা কাঁপা কাঁপা গলায় এগিয়ে এসে আদ্রর হাত ধরলো আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

আমি সব খুলে বললাম। আদ্র সব শুনে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। যেটা জানাতে চাইছিলো সেটা স্নেহা জেনেই গেলো।
কি বলবে বুঝতে পারছে না।
স্নেহা আদ্র কে স্বাভাবিক ভাবে থাকতে দেখে অবাক হলো।

কি হয়েছে আপনি চমকালেন না?

আদ্র মাইশার কথা বললো।স্নেহা শুনে থমকে গেলো।

কি বলছেন আপনি?

আমি ঠিক বলছি।

তাহলে আমার আদ্রিতাকে আমি ফিরে পাব বলেন।
স্নেহার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক।

আদ্র স্নেহার দিকে তাকিয়ে আছে। ও বুঝতে পারছে না সামনে কি হবে কিন্তু ওর ভয় হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব ওকে পেতে হবে।
কারো ক্ষতি করার আগে।
________________

অন্তরা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো অয়ন এর স্কুলে আজ আসতে লেট করে ফেলেছে। এসে দেখে স্কুল ফাঁকা সবাই চলে গেছে চারপাশে তাকিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেল দাড়োয়ান বাদ সাধে।

কি হয়েছে আমাকে যেতে দিচ্ছেন না কেন?

আপনি কোথায় যাচ্ছে স্কুল তো ছুটি হয়ে গেছে।

হুম জানি আমার ছেলে আছে আমি আস্তে লেট করেছি আমাকে ভেতরে যেতে দিন।

কেউ নেই তো ভেতরে সবাই তো চলে গেছে।

কি সব বলছেন?

হুম ম্যাডাম।

কিন্তু আমি তো নিতেই আসিনি।

অন্য কেউ এসেছিলো বোধহয় ওর বাবা ও আসতে পারে।

অন্তরা ততক্ষনাৎ নিশাত কে কল করলো।

চলবে~~~
চলবে~~~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here