অপরাজিতা পর্ব -০৯

#অপরাজিতা
#৯ম_পর্ব
#স্নিগ্ধতা_প্রিয়তা

রাজিতাকে নিয়ে আনান ওর বন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। আনানের বন্ধু নিশাদ হাঁ করে রাজিতার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে রাজিতা অস্বস্তিবোধ করতে লাগলো।
নিশাদ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হুট করে বলে উঠল,
“সুবহা!”
রাজিতা একবার আনানের দিকে তাকালো একবার নিশাদের দিকে, তারপর মুখে হাসি আনার চেষ্টা করে বলল,
–“সরি ভাইয়া! আমি রাজিতা। ”
নিশাদ আরোকিছু বলতে যাচ্ছিলো, কিন্তু আনান ওকে টানতে টানতে ওখান থেকে নিয়ে গেলো।রাজিতা কিছুই বুঝতে পারলো না। পরিচয় করাতে এসে এভাবে চলে গেলো কেন! কিছু না বলেই হুট করে!
রাজিতাকেও রিমি খুঁজতে খুঁজতে ওখানে চলে এসেছে। রাজিতা আনান আর নিশাদের যাওয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। “সুবহা” নামটা ও এর আগেও কোথায় যেন শুনেছে! কিন্তু কোথায় শুনেছে মনে করতে পারছে না। এই একটা সমস্যা! যখন যেটা মনে করার দরকার তখন সেটা মনে পড়েনা!
–“কিরে চল! এখনো দাঁড়িয়ে আছিস! ভাইয়াতো অনেক আগেই চলে গেছে। কেউ খেয়াল করলে তোকে ‘স্বামী পাগলী’ আর ভাইয়াকে ‘বউ পাগল’ বানিয়ে দেবে। চল এবার। তোর খালা- শাশুড়ী না কে যেন ডাকছে।”
রিমির কথায় ভাবনার সিড়ি থেকে নেমে আসে রাজিতা। তারপর রিমিকে উদ্দেশ্য করে বলে,
–“থ্যাংকস! ”
–“কেন?”
–“নিয়ন ভাইয়াকে কথাগুলো বলার জন্য।”
–“ওসব নিয়ে আর কিছু বলতে হবেনা। আমি জানতাম তুই বলবি না, তাই আমিই বলে দিয়েছি৷ ওই কথা আর তুলবি না। মা জানতে পারলে আমার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে! মা ভেবেছে যে, তুই নিয়ন ভাইয়ার কানে বিষ ঢেলেছিস! আমিও ভয়ে কিছু বলিনি। তুই ভাই দূরে আছিস, আমিতো কাছেই থাকি সবসময়, তাই আর দোষটা ঘাড়ে নেইনি।”
হাটতে হাটতে কথাগুলো বললো রিমি। রাজিতা ওর মাথায় একটা টোকা দিয়ে বললো,
–“তুই আর বদলাবি না! উপকার করে ক্রেডিট নিবিনা।”
–“ভাইরে ভাই! ওমন বকা খাওয়ার মতো ক্রেডিট নেওয়া একমাত্র তোর শোভা পায়! আমি ওসব থেকে দূরেই থাকি।”
–“আরেকটা হেল্প করতে পারবি?”
–“বলে ফেলেন রাজি, নিয়ে আসব কাজি!”
–“ফাজলামি না! সিরিয়াসলি। ”
–“বল।”
–“ছোট-আম্মু কোথায় আছে দেখতো। বলবি যে, চাচ্চু ডাকছে। আর তুই সব সময় আশেপাশে থাকার চেষ্টা করবি, আমার শশুরবাড়ির কারো সাথে বেশি কথা বলতে দিসনা। জানিস-ইতো উনার স্বভাব!”
–“ওকে ডান! মনে করেন আপনার কাজ হয়ে গেছে। আঠার মতো না সরি গোয়েন্দার মতো আমি আমার মায়ের পিছু লেগে থাকব।”
–“আচ্ছা, এইবার যা। কাজে লেগে পড়!”

রাজিতাকে আসতে দেখেই আনানের ছোট খালামনি হাসতে হাসতে বলতে লাগল,
–“এই যে দেখ রুকমা, এই তোর নতুন ভাবি, রাজিতা। দেখেছিস, কি মিষ্টি দেখতে! বলেছিলাম না।”
রাজিতা ভাবলো, এই তাহলে ওর সেই মামি শাশুড়ীর মেয়ে রুকমা! যার সাথে আনানের বিয়ের কথা বলেছিল! দেখতে অতোটাও খারাপ নয়। তবে স্বভাব মায়ের মতো না হলেই হয়!
রাজিতা সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
–“কেমন আছেন, আপু?”
রুকমাও নিজের মায়ের মতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে বলল,
–“পড়াশোনা কতদূর? ”
রাজিতা হাসিমুখে উত্তর দিল,
–“জ্বি, অনার্স সেকেন্ড ইয়ার।”
কথাটা বলতেই ঠিক ওর মায়ের মতো নাক সিটকিয়ে বলল,
–“আনান ভাইয়া শেষ পর্যন্ত এত ছোট একটা মেয়েকে বিয়ে করলো! রাফসান ভাইয়ের বউ ওই ভাইয়ার মতই ডাক্তার! কি সুন্দর মানিয়েছে দুজনকে! আর আনান ভাই এটা কি করল!”
রাজিতা বুঝতে পারলো যে, এটা ওর মামি শাশুড়ীর জেরক্স কপি। তাই মুখে আরো হাসি আনার চেষ্টা করে জোরে জোরে বলতে লাগল,
–“ওহ! এই ব্যাপার! সমস্যা নেই আপু, আমার অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আপনার ভাইয়ের মতো কোনো একটা ভার্সিটিতে জয়েন করে নিবো। তাহলেইতো হয়ে যাবে। নাকি?”
রুকমা বলল,
–“আরে আমি কি তা বলেছি।”
তারপর নিজের ছোট ফুপুর দিকে তাকিয়ে বলল,
–“ফুপি তুমিই বলো, একে আমি কীভাবে ভাবি বলব? আমার চেয়ে কত ছোট, তাকে কি ভাবি বা আপনি বলা যায়?”
রুকমার কথা শুনে রাজিতার শাশুড়ীর হাসিমুখ কালো হয়ে গেলো। নিজের ভাইজির ব্যবহারে তিনি চটে গেছেন বোঝা যাচ্ছে। কিছু বলতে যাচ্ছিল রুকমাকে, তার আগেই রাজিতা বলে উঠল,
–“আপনার ভাই আপনার চেয়ে বড় বলে, বিয়েও যদি আপনার থেকে বড় কাউকে করত, তাহলে তাকে ভাবি না, ‘বুড়ি’ বলে সম্বোধন করতেন বলে আমার মনে হয়!”
রাজিতার কথা শুনে ওখানে থাকা সবাই হো-হো করে হেসে উঠল।
রুকমা তখন রাজিতার শাশুড়ীকে লক্ষ্য করে বলল,
–“ফুপি! তুমিও ছেলে বউয়ের কথা শুনে হাসছো! আমি আনান ভাইয়াকে বলে দিবো যে, তার বউ আমার সাথে মজা করেছে। তোমাদের সবার আদরের একমাত্র মেয়ে আমি! চার-ভাইয়ের আদরের বোন! আর আমার সাথে সবাই মজা করছো!”
আনানের মা হাসি থামিয়ে বলল,
–“তুই যা বলেছিস আমার বৌমাতো শুধু তার জবাব দিয়েছে৷ ভুল কিছুতো বলেনি। আর ভাবিরাইতো মজা করবে৷ ”
আরেকটু থেমে আনানের মা আবার বলল,
–“তোর মাকেতো দেখছি না। কোথায় গেলো দেখতো। আমরা সবাই এখানে, আর উনি কোথায়।”
আনানের ছোট খালা বলল,
–“আনানকেতো আশেপাশে দেখছি না! ও মনে হয় ততটা বউ পাগল নয়। আর রাফসানকে দেখো! বউ ছাড়া এক পাও নড়ছে না। মনে হচ্ছে আড়াল হলেই ওর বউকে কেউ তুলে নিয়ে যাবে।”
এটা শুনে রাফসানের মা বলল,
–“তোমার আবার আমার ছেলেটাকেই চোখে পড়ল! নতুন বিয়ে করেছেতো! কয়দিন যেতে দাও, দেখবে বউ পাগল হয় কিনা। এখনকার ছেলে!”
রাজিতা সবার কথা শুনছিল। আর মাথা নিচু করে মিটিমিটি হাসছিল।

অনেকক্ষণ সবাই গল্প-গুজব করল। তারপর খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করে একে একে সবাই বিদায় নিলো।
রাজিতাকে দেখে-দেখে আনানের আত্মীয়রা সবাই উপহার দিয়েছে।আনানের বড় খালা কানের ঝুমকা দিয়েছেন। ছোট খালা দিয়েছেন হাতের বালা। আর ওর মামি দিয়েছে সুন্দর একটা নেকলেস।যদিও রাজিতার সবগুলো উপহার-ই পছন্দ হয়েছে, তবে নেকলেসটা ওর বেশি পছন্দ হয়েছে।রাজিতা সব ওর শাশুড়ীর কাছে দিয়েছে তুলে রাখার জন্য। বিয়ের দিনের ভারি গহনাগুলোও ওর শাশুড়ীর কাছেই রেখেছে।

সারাদিন ভারি গহনা আর লেহেঙ্গা পড়ে থাকতে থাকতে রাজিতা ক্লান্ত হয়ে গেছে। সবাইকে বিদায় দিয়ে রুমে গিয়েই শুয়ে পড়েছে৷ লেহেঙ্গা চেঞ্জ করারও আর এনার্জি নেই। পরে ভাবল যে, আনান এসে আবার লেকচার দেয়া শুরু করবে এভাবে থাকলে, তাই লেহেঙ্গা চেঞ্জ করে ফ্রেস হতে গেলো।

আনান সবাইকে বিদায় দিয়ে একটু বাইরে গিয়েছিলো৷ রুমে এসে দেখে যে রাজিতা বাথরুমে৷ রাজিতা বের হতেই আনান বলল,
–“বাহ! আজকে ঠিক-ই ড্রেস চেঞ্জ করা শেষ! ”
রাজিতা হেসে-হেসে বলল,
–“দেখেছেন! আজ আর আপনার জ্ঞান দিতে হবে না।”
–“তুমি আসলেই একটা গর্দভ!”
–“আবার কি করলাম?”
–“সারাদিন এত ব্যস্ত ছিলাম যে, তোমাকে একটু দুচোখ ভরে দেখতেও পারিনি। ভাবলাম এখন একটু আমার বউটাকে বউ সাজে দেখব! তাহলে নিজেকেও একটু বর-বর লাগবে। আর তুমি আজকেই..”
এটুকু বলেই থেমে গেলো আনান৷ সারাদিন এতকিছু হয়ে গেলো, তবুও আনান রাজিতাকে দেখা নিয়েই পড়ে আছে! এত ভালো কেন আনান! ভাবতে থাকে রাজিতা।
রাজিতাকে চুপ থাকতে দেখে আনান বলল,
–“আচ্ছা ঠিক আছে। বুঝতে পেরেছি যে, সারাদিন ওসব পড়ে থাকতে থাকতে তুমিও ক্লান্ত! তারপরেও আমার কথাটা একটু ভাবতে। বিয়ের দিনও কান্নাকাটি করে নাজেহাল অবস্থা ছিল। আবার আজকেও! ”
–“আপনি চাইলে এখন আবার পড়তে পারি, এখানেই আছে। ”
–“থাক। এখন আর পড়তে হবেনা। যাই, আমিও ফ্রেস হয়ে নিই। তুমি যাও শুয়ে পড়ো। কাল আবার সকালে ক্লাস আছে।”
–“আমারতো কাল সকালে ক্লাস নেই, পরের শিডিউল থেকে শুরু।তাহলে আপনি কি আগে চলে যাবেন?”
–“ওই ঘন্টাখানেকের জন্য আবার বাসায় থাকতে হবে কেন! আমার সাথেই যেও।”
বলেই বাথরুমে চলে গেলো আনান।
রাজিতা ভাবলো, ও হয়ত কখনো ঠিকঠাক কাজ করতে পারেনা৷ যখন যেটা করার দরকার না সেটা করে বসে থাকে, আবার যখন যেটা করার দরকার সেটা করে না।

সারাদিনের কথাগুলো মনে করতেই রাজিতার চাচির বলা কথাগুলো কানে বাজতে লাগলো৷ নিজের অজান্তেই চোখের কোণবেয়ে টপাটপ জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
নিজের গলায় থাকা লকেটটার ভাঁজ খুলে অনেক পুরনো ছবি দুটো দেখতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো যে, আল্লাহ কেন ওর মা-বাবাকে এত আগেই নিজের কাছে ডেকে নিলো! আর ডেকে যখন নিলোই ওকে একা কেন বাঁচিয়ে রাখলো!
ওর গলার চেন আর লকেটটা ছোটবেলায় ওর বাবা উপহার দিয়েছিলো, ভেতরে রাজিতার বাবা আর মায়ের ছবি দেওয়া। রাজিতা হাইস্কুলে উঠার পর চেনটা আর পড়তে পারতো না, ছোট হয়ে গিয়েছিলো বলে। পরে ওর নিয়ন ভাইয়া চেনটাতে আরো সোনা লাগিয়ে বড় আর মোটা করে বানিয়ে দিয়েছে৷ রাজিতা এই চেনটা আর লকেটটা কখনো গলা থেকে খোলে না।

আনানকে পাওয়ার থেকে হারানোর ভয়টা রাজিতার বেশি। যদি কখনো আনান ওকে ভুলবুঝে দূরে সরিয়ে দেয়, তাহলে ও কোথায় যাবে! ওরতো এই পৃথিবীতে আনান এখন সবচাইতে আপনজন! এই কয়দিনেই যে ও আনানকে নিজের অস্তিত্বের মাঝে মিশিয়ে নিয়েছে৷

আনান বাথরুম থেকে বের হয়ে ভেবেছিল যে, রাজিতা হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছে৷ কিন্তু রাজিতাকে নিরবে কান্না করতে দেখে ও এগিয়ে গিয়ে চোখের পানিগুলো মুছতে মুছতে বলল,
–“রাজিতা রেদোয়ানের চোখের পানি এত সস্তা হলে চলবে না। তুমি আর এখন সাধারণ কোনো মেয়ে নও। যে কোনো একটা কিছু হলো আর কেঁদে-কেটে নদী বানিয়ে ফেললে! এসব ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে চোখের পানি ফেলবে না। কেউ ইট মারলে পাটকেল না মারতে পারো অন্তত ইটের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষাতো করতে হবে। তারপর সেই ইটগুলো দিয়েই নিজের চারপাশে এমন দেওয়াল গাঁথতে হবে যেন পরেরবার কেউ ইট মারলেও তা তার নিজের দিকেই ফিরে যায়।”
আনানের একসাথে এতগুলো কথা বলা শুনে রাজিতা কান্না থামিয়ে হাঁ করে আনানকে দেখছে। রাজিতার চুপ থাকা দেখে আনান আবার বলল,
–“তুমি যে দোষটা করোনি তার জন্য যে যাই বলুক না কেন সেটা কখনো কানে তুলবে না। কারণ তুমি জানো তুমি নির্দোষ! ”
রাজিতা অবাক হয়ে বলল,
–“আপনি সত্যি ছোট-আম্মুর কথা বিশ্বাস করেননিতো?”
–“আমি জানি উনি মিথ্যে বলেছেন৷ কিন্তু কতটুকু মিথ্যে বলেছেন সেটা আমার থেকে তুমি ভালো জানো। ”
–“মানে?”
–“আমি তোমাকে ভুল বুঝছি না। আমি জানি সেরকম কিছু হলে তুমি আমার সাথে এত ফ্রাঙ্কলি কথা বলতে পারতে না। কিন্তু নিয়ন ভাইয়ার দিকটাও তোমার জানা জরুরি। ”
–“মানে, আপনি কি বলতে চাইছেন?”
–“আমি এটা বিশ্বাস করছি যে, তুমি নিয়ন ভাইয়াকে কখনো ওইচোখে দেখোনি৷ তারজন্য আমি তোমার মধ্যে যা দেখেছি সেটাকে পিওর ভ্রাতৃত্ববোধ বলে৷ কিন্তু নিয়ন ভাইয়া তোমাকে কি ভাবে সেটা কি তুমি জানো?”
রাজিতা আনানের কথার কিছু বুঝতে পারছিলো না।
–“দেখুন আপনি কি বোঝাতে চাইছেন জানিনা৷ তবে এটুকু বলতে পারি যে, নিয়ন ভাইয়া আমাকে ছোট-বোন ছাড়া আর কিছু ভাবে না। তার চাহনিতে আমি কখনো কোনো বাজে ইঙ্গিত দেখিনি।”
–“তাহলেতো এটা একদম পানির মতো ক্লিয়ার যে, তোমার চাচি তোমাকে ফাঁসাতে চাইছে। আশা করি নেক্সট টাইম এই ব্যাপারটা নিয়ে সাবধানে থাকবে। আর হ্যাঁ, শুধু এই ব্যাপারটা নয়, যে-কোন বিষয়ে, যে কারো ব্যাপারে সাবধান থাকবে। মনে রাখবে, আমাদের আশেপাশেই ছুরি নিয়ে ওৎ-পেতে আছে আমাদের ঘাতক! কখনো শত্রুর বেশে, আবার কখনো বন্ধুর বেশে।তাই আমাদের সব সময় সাবধান থাকা উচিৎ। আর আমি যেভাবে বলব সেভাবেই চলবে৷ ”

রাজিতা মাথা নাড়িয়ে আনানের কথায় সায় দিলো। আনান রাজিতার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিতেই রাজিতা ব্যাথায় হাতটা ছাড়িয়ে নিলো। তখনকার কথা মনে হতেই আনান আবার হাতটা আস্তে করে নিয়ে বলল,
–“খুব বেশিই জোরে ধরেছিলাম?”
–“কিছু হয়নিতো।”
–“আসলে কথাগুলো শুনে রাগ কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না৷ আর তুমি ওখানে গিয়ে কি করতে? মাঝখান থেকে এই নিয়ে পুরো বাসায় একটা সিনক্রিয়েট হয়ে যেতো। যেমন তোমার চাচি, তেমন আমার মামি। ”
–“আরে বললামতো কিছু হয়নি।”
–“কিছু হয়নি মানে! পুরো হাত লাল হয়ে আছে এখনো। আর তুমি বলছো কিছু হয়নি! মুভ লাগিয়েছিলে?”
–“না, আসলে…”
–“তুমি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে, সব সময় আমাকেই খেয়াল রাখতে হবে! আমি তোমার দায়িত্ব নিয়েছি মানে এই নয় যে, সব আমিই করব।আমার কথা বাদ-ই দিলাম, অন্তত নিজের খেয়াল রেখো। তাতেও আমার কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। ”
কথাগুলো বলে ড্র‍য়ার থেকে মুভ বের করে রাজিতার হাতে লাগিয়ে দিলো। রাজিতা মুগ্ধ হয়ে আনানকে দেখছে। তারপর বলল,
–“আপনার কি সেবা করব আমি? আপনিই বলে দিন।”
–“বেশি কিছুতো আর করতে বলছি না। এই টুকটাক আমাকে এটা-সেটা এগিয়ে দিলেই হবে৷ আমারোতো একটু ইচ্ছে করে বউয়ের সেবা পেতে।”
রাজিতা মৃদু হেসে বলল,
–“আপনি কথাগুলো এমনভাবে বলছেন, যেন কত যুগ হয়ে গেছে আমাদের বিয়ের!”
আনান অভিমানের সুরে বললো,
–“যে কয় দিন-ই হোক! বলো তুমি আমায় কোনো হেল্প করেছো?”
রাজিতা হেসে বলল,
–“আচ্ছা, নেক্সট টাইম থেকে করব। খুশি?”
–“হুম, অনেক খুশি! এবার লক্ষী বউয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।”
–“না, এখনি ঘুমাবো না৷ আপনার সাথে গল্প করব।”
–“কি গল্প করবে?”
–“আপনার যা খুশি বলুন।”
তারপর আনান ওর জীবনের ছোট-খাটো গল্প বলতে বলতে এক সময় দেখে যে রাজিতা ঘুমিয়ে পড়েছে। তার কিছুক্ষণ পর আনান নিজেও ঘুমিয়ে পড়ে।

চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here