অভিমান পর্ব -১২

#অভিমান
#পর্বঃ১২
#তানিশা সুলতানা

মাঝরাতে বাড়ির মধ্যে হট্টগোল। মারিয়া নামের মেয়েটা তার বাবা মা চোদ্দ গুষ্টি আর মিডিয়া নিয়ে এসে দাবি করছে ও মেঘকে বিয়ে করবে। দরজা ধাক্কানোর শব্দে মেঘ এসে দরজা খুলে দিতেই জাপ্টে জড়িয়ে ধরে মারিয়া মেঘকে। মেঘ কপালে ভাজ ফেলে তাকায়। কিছুখন আগেই মারিয়া খবর পেয়েছে যে মেঘ ঢাকায় ফিরেছে। খবর পেয়েই বাবা মাকে নিয়ে ছুটে এসেছে।
তোহাও মেঘের পিছু পিছু চলে আসে।
মারিয়াকে মেঘের বাহুডোরে দেখে তোহা সিঁড়িতেই দাঁড়িয়ে যায়। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।

“কি হচ্ছে এসব
মেঘ গর্জে উঠে বলে। মারিয়াকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। মারিয়া গিয়ে মায়ের ওপর পরে। মা সামলে নেয়।
” এতো রাতে এখানে ড্রামা করতে এসেছেন আপনারা? কি চাই?
হাত মুঠো করে বলে মেঘ।
“আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে তোমাকে।
গম্ভীর গলায় বলে মারিয়ার বাবা।
মেঘ ভ্রু কুচকে তাকায়।
” করতে হবে। আদেশ করছিস? মেঘরাজকে আদেশ?
হাত তালি দিয়ে বলে মেঘ। ভরকে যায় মারিয়ার বাবা মা। মারিয়া কাঁদছে।
“তোর মেয়ে আমার বাড়ির রাধুনি হওয়ার যোগ্যও না। আমার এক রাতের বেডপার্টনার হয়েছিলো। তার জন্য অনেক টাকা দিয়েছি। এটার যোগ্যই ও। মেঘরাজ চৌধুরীর বউ হওয়ার অধিকার এরকম মিডেল ক্লাস ব* দের নেই।
চোয়াল শক্ত করে বলে মেঘ।
তোহা চোখ বন্ধ করে নেয়। ছি কি ভাষা। ভুল তো মেয়েটার একার না। পুরো দোষটা তো ওনার তবুও কেমন খারাপ বিহেব করছে।
মারিয়ার বাবা মা লজ্জিত হয়। সাথে করে নিয়ে আসা সাংবাদিকরা ভিডিও করে যাচ্ছে। আজকের ব্রেকিং নিউজ এটা। ভেবেছিলো মেঘকে মিডিয়ার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করাবে মারয়াকে। কিন্তু হলো তার বিপরিতটা।
” মেঘ তোমার কাছে রিকোয়েস্ট করছি। আমার মেয়েটার বদনাম হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ভীষণ ভালোবাসে ও তোমাকে। বাঁচবে না তোমাকে ছাড়া। আমার যত টাকা আছে সব দিয়ে দেবো তোমাকে। প্লিজ
হাত জোর করে বলে মারিয়ার বাবা।
মেঘ হাসে। কপাল চুলকায়।
“মেঘরাজকে টাকার গরম দেখাস? গ্রেট।
তোর মেয়ে আর কতো ছেলেকে ভালোবাসা দেখিয়েছে?
চোখ বন্ধ করে নেয় মারিয়া। সয্য হচ্ছে না আর। পাগল পাগল হয়ে গেছে মেঘের জন্য। এতো অপমান করছে ওকে। একটুও মায়া হচ্ছে না।
” দুই মিনিট সময় দিলাম। বেড়িয়ে যা এখান থেকে। না হলে
বাকি টুকু বলে না মেঘ।
মারিয়া চোখ মুছে এগিয়ে আসে।
“সব অপমানের জবাব দেবো। বিয়ে আমি তোমাকেই করবো। ভিডিও আছে আমার কাছে। রাতটা ভাবার জন্য সময় দিলাম।
বলেই হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় মারিয়া। পেছন পেছন মারিয়ার বাবা মা। মিডিয়ার লোকেরাও বেড়িয়ে যায়। মেঘ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। মেঘ জানতো এটাই হবে।
দরজা বন্ধ করে পেছনে তাকাতেই দেখতে পায় তোহা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।
” কি হয়েছে?
“মেয়েদের আপনি সম্মান করতে পারেন না। আর পারবেনও না। এটা আমি আপনার থেকে আশাও করি না। কিন্তু বাবার বয়সী একটা মানুষকে তুই তরকারি করতে আপনার বিবেকের বাঁধে না? লজ্জা করে না?
একটা মেয়েকে আপনি কি বললেন? তা কে আপনি ব্যবহার করেছেন। তাহলে এখন কেনো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন? আর আমার লাইফটা কেনো শেষ করলেন? আমার সাথেও না হয় তাই করতেন যা এই মেয়ের সাথে করেছেন। তবুও তো আপনার সাথে থাকতে হতো না। ঘৃণা করি আপনাকে আমি। মরে যাবো আমি তবুও আপনার সাথে থাকবো না। নোংরা আপনি। আপনার মুখটাও দেখা পাপ। আই হেট ইউ।
বলতে বলতে কান্না করে ফেলে তোহা।
মেঘ দুই হাতপাখা মাথা চেপে ধরে। আবারও ভুল বুঝলো তোহা ওকে। সব হলো ওই মারিয়ার জন্য। মারিয়াকে তো ও ছাড়বে না। খুন করে ফেলবে।

” আমি বাড়ি যাবো। প্লিজ দিয়ে আসেন। এখানে থাকলে আমি মরে যাবো। আমাকে একটু দয়া করেন। একটু দয়া করেন। আমি বাঁচতে চাই।
হাত জোর করে কাদতে কাঁদতে বসে পড়ে মেঘের পায়ের কাছে।
মেঘ তোহার পাশে বসে। তোহার হাত দুটো ধরে।
“প্রথম দিন তো তাই কষ্ট হচ্ছে। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
শান্ত গলায় তোহার হাতে চুমু দিয়ে বলে মেঘ।
চোখ মুছে তাকায় মেঘের দিকে। ঘৃণাটা আরও বেরে যায়। এই লোকটার মনে দয়া মায়া নেই। পাথর উনি।
মেঘের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় তোহা।

” তুমি যা বলবে আমি করবো। সব বাজে স্বভাব পাল্টে ফেলবো। ওই মেয়েটার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো তোমাকে দেখার আগে। পোস্ট ও আমার। আমি প্রমিজ করছি আমার পেমেন্ট ওর ফিউচারে তুমি কোনো বাজে কিছু শুনবা না। প্রমিজ।
কান ধরে করুন গলায় বলে মেঘ।
“আমি পরিবারের সাথেই থাকতে চাই। একা থাকতে পারবো না। আমার ভরা সংসার চাই। যেখানে শশুড় শাশুড়ী সবাই থাকবে। যেখানে ভালোবাসা থাকবে। পারবেন?
আপনার বাবা মাকে আপনার এই প্রাসাদে আনতে? বাবাকে বাবা বলে ডাকতে?
সোজা হয়ে বসে বলে তোহা।
মেঘ উওর দেয় না। তোহা মলিন হাসে।
” আপনি শুধু মেয়েদের ব্যবহার করতে পারেন। কারো মন বুঝতে পারেন না। আই হেট ইউ। আপনি কখনোই আমার মন পাবেন না।
তোহা উঠে হনহনিয়ে চলে যায়৷ রুমে গিয়ে ধরাম করে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজার সাথে লেপ্টে বসে কাঁদতে থাকে তোহা। মা বাবার কথা খুব মনে পড়ছে।

মেঘ চোয়াল শক্ত করে হাত মুঠ করে নেয়।
“ছাড়বো না ওই মারিয়াকে।

কিচেনে গিয়ে নুডলস গরম করে রুমে চলে আসে মেঘ। তোহা যে দরজা বন্ধ করে দেবে এটা জানতো মেঘ। তাই এক্সটা চাবি নিয়ে আসে। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখে তোহা ফ্লোরে হাঁটু মুরে বসে কাঁদছে। মেঘ বিছানার ওপর নুডলসের বাটি রেখে তোহার হাত ধরে।
” উঠো
শক্তি খাটিয়ে টেনে উঠায় তোহাকে।
তোহার দুই গালে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।
তোহা অভিমানে মাথা নিচু করে আছে। পণ করেছে আর কখনোই কথা বলবে না এই বাজে লোকটার সাথে। আর সকাল হলেই পালিয়ে যাবে এখান থেকে।
“এখানে সত্যি সত্যিই ভুত আছে। যারা বেশি কাঁদে তাদের ঘাড় মটকে দেয়।
মিষ্টি করে হেসে বলে মেঘ।
তোহা তাতেও কোনো রেসপন্স করে না। মাথা নিচুই থাকে। ফুঁপাতে থাকে।
মেঘ তোহাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে হাত মুখে পানি দিয়ে দেয়। নিজে যত্ন সহকারে মুখ মুছিয়ে দেয়। তোহা কিছুই বলছে না।
খাটে বসিয়ে তোহার মুখের সামনে খাবার ধরে।
তেহাই বিনা বাক্যে খেয়ে নেয়। খিধে একদম সয্য করতে পারে না মেয়েটা। তাই আর খাবারের ওপর রাগ দেখালো না। নাহলে ছুঁড়ে ফেলে দিতো।
” তুমি যদি আমাকে প্রমিজ করো আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না তাহলে আমি তোমাকে ভরা একটা সংসার দেবো। যেখানে সবাই থাকবে। কিন্তু আগে আমাকে প্রমিজ করতে হবে। আর আমি জানি তুমি কথার খেলাপ করো না।
মেঘের কথা শুনে তোহা খাবার চিবানো বাদ দিয়ে মেঘের মুখের দিকে তাকায়।
“প্রমিজ করছো তো।
হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে মেঘ।

চলবে

অগোছালো হয়েছে। একটু মানিয়ে নেবেন প্লিজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here