অভিমান পর্ব ৩

#অভিমান❤️
#মুমুর্ষিরা_শাহরীন
পর্ব-৩
ব্রেকাপ!
এই একটি শব্দে রয়েছে না বলা অনেক কথা, অনেক ব্যাথা, অনেক কষ্ট। একটা সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে সব চুকেপুকে নিতে ঠিক যত সংখ্যক কথা বলা দরকার তা যেনো এই একটা শব্দতেই অভিব্যক্তি হয়ে যায়। কত কষ্ট এই শব্দটিতে! কত সহজ এই একটা বেফাঁস ওয়ার্ড বলে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া! তারপর যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথাটি না বলে বর্তমান যুগের ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বন করে বলা হয় তখন যেনো কষ্টগুলো হু হু করে আরো তিনগুন বেড়ে যায়।

বারান্দার কালো বিনব্যাগ টাতে বসে নির্মল বায়ুর নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে নানান আকাশ-পাতাল ভাবনা ভাবতেই বিকেল কেটে যায় ঝুমকোর। এই বেকাপ শব্দটা যখন তার উপর প্রয়োগ করা হয়েছিলো রীতিমতো তখন সে প্রায় মারা পরে যাচ্ছিলো।

কথাটা ভাবতেই ঝুমকো জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস নিজের মাঝে টেনে নেয়। মারা পরে যাচ্ছিলো! সত্যি মারা কেনো যাচ্ছিলো?

বাবা মা জন্ম দিলো, বাবা মা মুখের কথা ফুটালো, বাবা মা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসলো, আদর করলো অথচ কি আশ্চর্য তাদের প্রতি আমাদের এমন মনোভাব জন্মায় না যে, তারা ছেড়ে গেলে আমরা মারা পড়বো। অথচ এই এক রত্তি প্রেমিক প্রেমিকার জন্য আমরা সত্যিকার অর্থে মারা পরে যাই। কেনো? আল্লাহ কেনো পৃথিবীতে ভালোবাসা তৈরি করেছিলো? কি হতো যদি ভালোবাসা তৈরি না তো? পৃথিবীটা আজব এক রমনীয় সুন্দর হতে পারতো!

ঝুমকো আবারও জোরে নিঃশ্বাস নেয়। তার জীবনটা বোধ হয় দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতেই কেটে যাবে। কিন্তু মূলত ঝুমকোর মনে হয় সে অনেক বড় ভুল করেছে। এক প্রতারকের জন্য কষ্ট পেয়ে মারাত্মক পাপ করেছে। প্রতারকের জন্য কষ্ট পাওয়া, মরে যাওয়া কি আদেও শোভা পায়?

অটোমেটিকলি ঝুমকোর ঠোঁটে একটা ধিক তাচ্ছিল্য হাসি ফুটে উঠে। প্রতারকের জন্য সে শুধু করুণাই করে। আর কিচ্ছু না।

___________________________________

বাদামী রকিং চেয়ারে দুলতে দুলতে কপালে ডান হাত রেখে বিষন্ন মনে ভেবে চলেছে রাহান। তার ভাবনা গুলো এমন যে, সে দূর্লভ কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলেছে। অত্যাধিক মাত্রার ইগো আর রাগ তাকে ধ্বংসের পথে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফেলে দিচ্ছে তাকে জাহান্নামের আগুনে। পুড়ছে তার বুক সেই আগুনের উত্তাপে।

রাহান কপাল দু আঙ্গুল দিয়ে ঘষে একটু অদ্ভুত ভাবে হেসে ভাবে,

“জীবনে কিছু স্পেসিফিক মানুষকে আমরা বড্ড বেশি ভালোবাসি। অযথাই তাদেরকে একটু বেশি ভালোবাসি। তাদেরকে ভালোবাসতে কোনো কারন লাগে না। এই যেমন, ছেলেমেয়ে! বলতে গেলে ছেলেমেয়েদের কেও বাবা-মা অকারণেই ভালোবাসে। বাবা-মা তার ছেলেমেয়েকে ঠিক যতটুকু প্রাণ উজাড় করে নিজের জীবন নিঃশেষ করে ভালোবাসে ঠিক ততটা কিন্তু ছেলেমেয়েরা বাবা মাকে ভালোবাসে না। বলাই বাহুল্য, নিজের স্বার্থে তারা বাবা মাকে পাশে চায়। বাবা মার হাতে ছাড়া খেতে পারে না, বাবা মার বুক ছাড়া ঘুমোতে পারে না। বলা চলে এক প্রকার আহ্লাদী। আবার দিনশেষে এই ছেলেমেয়েগুলোই কিন্তু এক বয়সে গিয়ে তাদের ছেলেমেয়েকে অত্যাধিক ভালোবাসবে। এভাবেই চলে নিয়ম।

মূলত বলা চলে, প্রত্যেকে তার বাবা-মাকে ছেড়ে নিজের সন্তানকে প্রায়োরিটি বেশি দেয়। সবসময় মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসে। এই ভালোবাসার কিন্তু কোনো কারন নেই। শুধুমাত্র নিজের রক্তের সম্পর্ক আর নিজের শরীরের অংশ বলেই কি এতো ভালোবাসা! তাহলে বাবা মায়ের প্রতি সেই সমান ভালোবাসাগুলো আসে না কেনো? আমরা তো আবার তাদের অংশ!
অবশ্য এই কথাগুলো সবার ক্ষেত্রে বলা চলে না। কারন কিছু মানুষ আজও বেঁচে আছে যারা সন্তানের থেকে বাবা-মাকে বেশি ভালোবাসে। কিন্তু সেই মহান ব্যাক্তির সংখ্যা খুবই কম।

রাহান স্মিত হেসে নিজের কাছে প্রশ্ন করে,

‘কিসের জন্য যেনো এই কথাগুলো ভাবলাম? আহা! ভুলে গেছি।’

রাহান রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে। দূরের সূর্যটা প্রায় ডুবি ডুবি। লালচে আভা চারিদিকে ছড়িয়ে সন্ধ্যার আধার নৈঋতে ভূমিকা রাখছে। কপাল টা কুচকে রাহান আপনমনে বলে,

‘তাহলে আমরা প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী এদের কেনো ভালোবাসি? এদের সাথে তো আমাদের রক্তের সম্পর্ক নেই।’

তখনই ভেতর থেকে আরেক রাহান বিজ্ঞ সুরে জবাব দেয়,

‘আরে পাগলা, সব ভালোবাসা কি রক্তের হয় না কি রে? কিছু ভালোবাসা স্পেশাল হয়। খুব স্পেশাল.. এসব আল্লাহ প্রদত্ত দান বুঝলি? তাই তো আমরা ভালোবাসি। তা না হলে তো শুধু বাবা মা আর ছেলে মেয়েকেই ভালোবাসতাম। পাগলা, যদি বউকে না ভালোবাসিস তাহলে বাচ্চা কাচ্চা গুলো আসবে কোথা থেকে বল তো? তাদের ভালোবাসবি কি করে হ্যা?’

রাহান সজ্ঞানে ফিরে একটু জোরেই হাসে।

‘সত্যি ই তো! বউকে যদি না ভালোবাসে তাহলে বাচ্চাকাচ্চা আসবে কোথা থেকে? মনের ভালোবাসা যে বড় ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই যদি মনেতে উঁকি না দেয় তবে কি শুধু দৈহিক কারনেই তা সৃষ্টি হয় কখনো?’

রাহান তার দু চোখের পাতা নির্বিঘ্নে বন্ধ করে। বন্ধ করতেই তার দু’চোখের পাতায় হলুদ ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরিহিতা ঝুমকোর কোমল মুখখানা ভেসে উঠে। রাহান চোখ কুচকে আস্তে করে বলে,

‘ও ওয়েস্টার্ন ড্রেস কেনো পড়ে? আর প্রতিদিন ক্লাবে গিয়ে মদ খায়? এতো অধপতন কেনো? আজও কি ভালোবাসে আমায়?’

রাহানের কন্ঠ কেঁপে উঠে। চোখ দুটো হঠাৎই জ্বলমল করে উঠে। বুকে কোথাও একটা প্রেম আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে। মনে পরে যায় অনেক কিছু…..

কাল যখন ঝুমকো ওর বাহুবন্ধনী তে আটকা পরেছিলো তখন অতি যত্নসহকারে রাহান ওকে গাড়িতে উঠায়। ওদের পাশেই এক বৃদ্ধ লোক লেবুর সরবত বিক্রি করছিলো। ফিল্টারে অনেক বড় বড় বরফের ঠান্ডা শরবত। রাহান তার কাছে গিয়ে বলল,

‘দাদু, এক গ্লাস লেবুর শরবত দিবেন তো। চিনি দিবেন না।’

বৃদ্ধ তার সামনের দুই ফোকলা দাঁতের ভেতর হাসি বের করে দিয়ে বলে,

‘আর একটু পরে আইলেই আর পাইতেন না দাদু। এহনি চইলে যাইতাছিলাম। বউডার অনেক অসুখ। টাহা লাগবো দেইখে আশা নিয়ে এই রাত অবধি শরবত নিয়ে বয়ে আছি। জানি কাম হবো না। তাও যদি দুইডা পয়সা যোগাড় করবার পারি। হেই আশায় বয়ে আছিলাম।’

বৃদ্ধ শরবত বানিয়ে দেয়। বেশ দুই-তিনটে টক লেবু দিয়ে কড়া শরবত বানিয়ে দেয়। রাহান বৃদ্ধর হাতে ধরিয়ে দেয় দশ হাজার টাকার বান্ডেল। বৃদ্ধ লোকটি টাকাটা হাতে ধরে চোখে ভয় সাথে কৌতুহল নিয়ে তাকায়। রাহান হালকা হেসে বলে,

‘রেখে দিন। দাদু ডেকেছেন না? এ পৃথিবীতে ভালোবাসার খুব অভাব। সেখানে আপনি অনায়াসে আমার সাথে কত কথা বলে ফেললেন কত আদর করে দাদু ডাকলেন! ‘

বৃদ্ধর চোখ খুশিতে চকচক করে। রাহান বলে,

‘টাকাটা রেখে দিন। আপনার বউ তো অসুস্থ তাকে ঔষধ খাওয়াবেন নিয়ম করে। আজ আসি।’

রাহান চলে যাওয়ার পর বৃদ্ধটা নিজের ময়লাযুক্ত গামছা দিয়ে চোখ মুছে। আল্লাহ কাছে হাত তুলে দোয়া করে।

রাহান ঝুমকোর কাছে গিয়ে খুব কষ্টে লেবুর শরবত টা খাইয়ে দেয়। তার কিছুক্ষন পরেই দেখা যায় ঝুমকো অজ্ঞানেই বমি করছে। রাহান ঝুমকোর মাথা চেপে ধরে গাড়ির দরজা খুলে ঝুমকোর মাথা বের করে দেয়। তার বমিতে পানি ব্যাতীত আর কিছুই নেই। শুধু কেমন উটকো গন্ধ। বমি করে ক্ষান্ত হলে ঝুমকো ঢলে পরে রাহানের বুকে। রাহান ঝুমকোর মুখ পরিষ্কার করে দেয় সযত্নে। এরপর ঝুমকোকে নিজের কোলের উপর আবার শুইয়ে দেয়। তার কিছুক্ষন পরই এই উগ্রপন্থি মহারানীর জ্ঞান ফিরে আসে।

ভাবনা থেকে ফিরে রাহান খুব কষ্টের সহীত মর্মান্তিক কন্ঠে ঠিক একই সুরে বলে উঠে,

‘থেমে গেলে নিঃশ্বাস। হারাবে না বিশ্বাস।’

,

‘রাহান….বেইবি….’

চারিপাশে যখন সন্ধ্যার পরের কালো আধার ছড়িয়েছে তখন সেই নিবিচ্ছন্ন পরিবেশে এই অসহ্যকর ভাবে ডাক দেওয়ার মানুষটিকে খুঁজতে ব্যস্ত রাহান। উপর-নিচ আশেপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে এমন লেইম এবং সস্তাভাবে কে তাকে ডাক দিলো। এমন ভাবে তো একটা উটকো ঝামেলাযুক্ত মেয়েই তাকে বারবার বিরক্ত করে। আজ দুদিন থেকে তো সে তার দ্বারপ্রান্তেও নেই। তবে এই ডাকের উদয় কোথা থেকে?

আশেপাশে তাকিয়ে রাহান নিজের ঘরের দিকে অগ্রসর হতেই খেয়াল করলো বাদামী চুলের বিদেশী ড্রেস আপে ফর্সা মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে একদম নাকের ঢগায়। মেয়েটি হাটু থেকে পা অবধি খোলা, গলা এবং বাহুর কিছু অংশও খোলা। মেয়েটির গায়ের কড়া পারফিউমের গন্ধে ভরে গেছে পুরো ঘর। ঘরটা কেমন জানি এখন বিদেশী বিদেশী গন্ধে ছেয়ে গেছে। রাহান একটু না বেশ অনেক টাই অবাক হলো। বিস্ময় খেলতে লাগলো দু’চোখের ভাজে, শক্ত চোয়ালের প্রান্তরে, দু’ঠোটের ফাঁকে ফাঁকে। বিস্মিত হয়েই সে প্রশ্ন করলো,

‘তুমি? তেথি?’

তেথি বেশ উৎসাহের সাথে রাহানের সারা ঘর ঘুরতে ঘুরতে বলল,

‘ইয়েস ইয়েস। আই। কেনো? চমকে গেছো তাই না? আর ইউ সারপ্রাইজড?’

‘ইয়েস অবিয়াসলি’

তেথি একটু হাসে। মূলত তার জন্ম বাংলাদেশের মাটিতে। কিন্তু একটু বড় হতেই বাপের টাকা পয়সার জোরে সে চলে যায় বিদেশে। সেখানের কালচার ই শরীরে গেথে ফেলে। আর সেখানেই দেখা হয় রাহানের সাথে। তিনবছর ধরে রাহানের সাথে পরিচয় ওর।

রাহান অবাক হয়ে বলে,

‘তুমি হঠাৎ বাংলাদেশে?’

‘হুম হুম। তুমি চলে এসেছো আমাকে কিছু না জানিয়ে। আমি কি না এসে পারি? তুমি জানো না তোমাকে দেখা ছাড়া আমার দিন কাটে না। দিনে একবার হলেও তোমার দেখা চাই। তাইতো ইমারজেন্সি টিকিটে চলে এলাম।’

‘কতবছর পর এলে?’

‘উমম..ইটস ফাইভ ইয়ারস মে বি।’

রাহান একটু লুকিয়ে হাসে। কেমন যেনো সেই হাসি। খানিকটা তাচ্ছিল্যের মতো। সত্যি বলতে এই বাঙালি বাবু ইংলিশ গায়ে পড়া ম্যাম কে তার বিন্দুমাত্র সহ্য হয় না। এই মেয়ে তার বাড়ি চিনলো কি করে? হায়হায়! তার বাবা মা কোথায়? দেখেছে না কি?

‘ইয়ে মানে, তেথি।’

‘ইয়েস ডিয়ার। স্পিক। ‘

‘তুমি আমার বাড়ি চিনলে কীভাবে?’

‘ও মা তুমি তো একদিন বলেছিলে? আর ইউ ফরগেটেড? একদিন গল্প করতে করতে যে বললে মিরপুর ১ সি ব্লক ১১ নাম্বার রোড রহমান ভিলা।’

রাহান মাথায় হাত দেয়। এই পাগল মেয়েটাকে সে বাসার ঠিকানা বলেছিলো সেটা সে বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো। গলা পরিষ্কার করে রাহান বলে,

‘তুমি কখন এসেছো? এসেছো যে বাবা মাকে দেখোনি ড্রইংরুমে? কথা বলেছো তো?’

‘নাহ তো। আমি তো এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তোমার রুমে এসেছি। নিজের বাসায়ও যাই নি। আর ড্রইংরুমেও কাউকে দেখেনি।’

রাহানের তখন মনে পরে তার বাবা মায়ের আজ সন্ধ্যায় একসাথে জরুরি একটা কাজে যাবার কথা ছিলো। তাই বোধ হয় তারা বাসায় নেই। কিন্তু ছোটো ভাই তামিম তো বাড়িতেই আছে। ও যদি তেথি কে দেখে কি ভাববে? কি ভাবে নিবে ব্যাপারটা? রাহানের এতো এতো ভাবনার মাঝে তেথি বেসুরা গলায় নেকা স্বরে বলে উঠলো,

‘বেইবি…….’

রাহানের দাঁত কটমট করে উঠলো। তবুও জোরপূর্বক হাসলো। বাংলা ভাষায় যাকে বলে দাঁত কেলানো। এমন ভাবে হেসে ভ্রু নাচিয়ে বলল,

‘ইয়েস মাম্মাম….’

তেথি চোখ কপালে তুলে আশ্চর্যজনক স্বরে বলল,

‘হোয়াট ডিড ইউ ছে নাও?’

রাহান আবারো তার বিখ্যাত দাঁত কেলানো হাসি দিয়ে বলে উঠলো,

‘নাথিং নাথিং। ইটস জাস্ট অ্যা জোক মাম্মাম..স্যরি তেথি। ফরগেট ইট।’

কথাটা বলে নিজের মনে নিজেই একটা বিটকেল রুপেক হাসি দেয় রাহান। বিরবির করে বলে,

‘ঠিক বলেছি। সারাক্ষন চিপকায় থাকবে আর বেবি বেবি করবে। বলি, তুই কি আমার মা লাগোস? যদি মা হোস তাহলে বাপের খোঁজ দে আবাল মহিলা। যত্তসব, মাথাব্যাথা বিরক্তিকর পাবলিক।’

চলবে❤️

আগেই ঘাবড়াবেন না। আমি বলেছি ৫-৬ পর্ব পর্যন্ত নতুন মানুষের এন্ট্রি হতে হতেই যাবে। এরপর থেকে আসল কাহিনী শুরু। Be patience ❤️

নিচের যেই ছবিটা এটা কালকের পর্বে দেওয়ার দরকার ছিলো। কিন্তু কালকে খুজে পাই নাই😑

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here