এক্সিডেন্টলি প্রেম পর্ব ৮

#এক্সিডেন্টলি_প্রেম♥
#পার্ট-৮♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

নিশান্তের ঘরের দরজা হাল্কা করে ধাক্কা মেরে ভেতরটায় চোখ বুলিয়ে নিতেই থমকে গেলো অন্বিতা। এসব কি দেখছে সে? যার ঘর দেখলে নিজের গোছালো ঘরটাকেও ডাস্টবিন বলে মনে হয় তার, আজ তারই ঘর একটা আস্ত ডাস্টবিন বৈ কিছুই লাগছেনা যেনো। ঘরের আনাচে-কানাচে কাগজ, কাপড়-চোপড়, বই-খাতা এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সাথে বিছানার চাদর এতোটাই কুঁচকে রয়েছে যে দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলো তাতে। অন্বিতা গোলগোল চোখে বাইরে থেকেই ঘরটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো এমন সমই রকিং চেয়ার ঘুরিয়ে পায়ের ওপর পা উঠিয়ে বসলো নিশান্ত৷ ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে সে অন্বিতার ভয়ার্ত চোখের দিকে স্থির দৃষ্টি ফেলে বললো,

—- আরে এসে পড়েছেন দেখছি। আসুন আসুন….ওয়েলকাম টু হেল, মিস অন্বিতা!

_________________________

তখন আফসানা বেগমের জোরাজুরিতে হাসি মুখে নিশান্তকে টিউটর হিসেবে গ্রহণ করতে হয়েছে অন্বিতার। সে তার ফেল্টুস হওয়ার গপ্প ভুল জায়গায় ভুল মানুষের সামনেই যে বলে ফেলেছে তার উপলব্ধি হওয়ার পরও হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিচ্ছুটি করবার জো ছিলো না তার। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে বাঘের গুহাতেই পা রাখতে হয়েছে তাকে শুধুমাত্র তার নূপুর এবং আফসানা বেগমের জন্য। অন্বিতা চেয়েছিলো কোনোভাবে রাজি হওয়ার পরেও বাহানা দিয়ে ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে। কিন্তু তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে পরিকল্পনা কষতে যাওয়ার মুহুর্তেই নিশান্ত এক ট্যাংকি পানি এনে সোজা ভাসিয়ে দেয় তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে। মায়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলতে বলতেই অন্বিতাকে উদ্দেশ্য করে সে বলে,

—- তাহলে আজ থেকেই পড়ানো শুরু করি নাকি? নেক্সট উইকেই তো আবার সেমিস্টার ফাইনাল। মাগরিবের নামায পড়ে নিয়ে একেবারে হাজির হন মিস অন্বিতা। আমি বাসায়ই আছি!

বলেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে নিশান্ত। শয়তানি হাসি হেসে বাম চোখটা টিপে দিয়ে আগত ঝড়ের পূর্বাভাস জানিয়ে পকেটে দু হাত গুঁজে রিল্যাক্স মুডে ঘরে চলে যায় সে। আর দিয়ে যায় এক বুকভরা বেদনা। অন্বিতা কপাল চাপড়ায়, নূহার ঠোঁট উল্টে রাখা মুখপানে চেয়ে নিজেও ঠোঁট উল্টে সঙ্গ দেয় তার সাথে। মাঝখান থেকে মিষ্টি হাসেন আফসানা বেগম। ছেলের একঘেয়েমিতা হঠাৎ বিন্দু পরিমাণ হলেও কমতে দেখে খুশি ঝিলিক দিয়ে ওঠে উনার বুকের বা পাশের উদ্বিগ্ন হৃদপিন্ডটা।

___________________________

গুটিগুটি পায়ে এদিক ওদিক ভয়ে মাখা চোখ বোলাতে বোলাতে ভেতরে প্রবেশ করলো অন্বিতা। সাথে করে আনা বই-খাতা গুলো নিঃশব্দে টেবিলের ওপরে রেখে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো সে। নিশান্তের ঠোঁটে রহস্যময় বাঁকা হাসি, চোখের দৃষ্টি হাতে ধরে রাখা নিউজপেপারেই স্থির। অন্বিতা নিশান্তের এরকম অদ্ভুত ভাবভঙ্গি দেখে শুকনো ঢোক গিললো, জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জোড় পূর্বক হেসে বললো,

—- ইয়ে মানে আপনি ওদিকে বসে আছেন যে? এখানে টেবিলে পড়াবেন না?

নিশান্ত অন্বিতার কথা ঠোঁটের কোণে ঝুলানো বাঁকা হাসির রেখা প্রসারিত করলো। বাম দিকের ভ্রু উঁচু করে নিউজপেপারে দৃষ্টি রেখেই জবাব স্বরূপ বললো,

—- পড়াবো না কেনো? অবশ্যই পড়াবো। আগে কাজ শেষ করুন। সব গোছানো কমপ্লিট হলে আমায় ছোট্ট করে একটু ডেকে দিবেন, পড়ানো শুরু করবো। নাও ডু ইউর টাস্ক প্রোপারলি মিস অন্বিতা।

এবার বড়সড় ধাক্কা খেলো অন্বিতা৷ বিস্ময়ে চোখ বড়বড় করে একপ্রকার চিৎকার করেই সে বললো,

—- মানে?

বিনিময়ে ভ্রু কুঁচকে বিরক্তির জানান দিলো নিশান্ত। নিউজ পেপার ভাঁজ করতে করতেই বেখেয়ালি ভাবে বললো,

—- আহা চেঁচাবেন না। এমনিতেই মাথাটা বড্ড জ্বালা করছে আমার। এই শরীর নিয়ে আপনাকে পড়াতে রাজি হয়েছি এই অনেক। এখন কথা না বাড়িয়ে কাজে লেগে পড়ুন। আমি বারান্দায় আছি। আপনাকে ১০ মিনিট টাইম দিলাম এর মধ্যে যেনো সব ক্লিন হয়ে যায়।

বলেই পকেট থেকে অন্বিতার নূপুর এক হাতের মুঠোয় ধরে দেখালো তাকে নিশান্ত। নূপুরটাকে দেখে অন্বিতা চোখ চিকচিক করে উঠতেই ফট করে আবারও পকেটে নূপুরটা ঢুকিয়ে ফেললো সে। এ যে রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল তা খুব করে বোঝা হয়ে গিয়েছে অন্বিতার। সে না পারবে নূপুরের বিচার নিয়ে আফসানা বেগমের দরবারে যেতে আর না পারবে রাগ দেখিয়ে বই-খাতা হাতে ধরে ফেরত যেতে। এক কথায় ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে টাইপ অবস্থা হয়েছে অন্বিতার।

__________________________

দশ মিনিটের জায়গায় পুরো কুড়ি টা মিনিট সময় নিয়ে তবে পুরো ঘর গুছানো শেষ করলো অন্বিতা। এর মাঝে বেশ কয়েকবার বারান্দা থেকেই তাড়া দিয়েছে নিশান্ত। বেচারির এদিকে যে নাজেহাল অবস্থা তাতে বিন্দুমাত্রও যায় আসছে না তার। অবশেষে ঘর গুছানো হয়ে গেলে হাঁপাতে শুরু করলো অন্বিতা। দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছতে মুছতে আধো আধো গলায় নিশান্ত কে ডাকবার জন্য মুখে বুলি ফোটালো সে,

—- আ…আমার কাজ হয়ে গেছে। আপনি এবার আসতে পারেন…।

অন্বিতার ডাকে ঘোর কাটলো নিশান্তের। হাতে থাকা ছবিটা ওয়ালেটে ঢুকিয়ে নড়েচড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে। পুরোনো দিনের স্মৃতির পাতা উল্টেপাল্টে দেখে নিয়ে বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পা বাঁড়ালো সে ঘরে ঢোকার উদ্দেশ্যে।

কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফেলে হাত ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নিলো নিশান্ত। ৬ টা বাজতে আর মাত্র ৬ মিনিট বাকি। তারমানে ১০ মিনিটের জায়গায় পুরো কুড়িটা মিনিট লাগিয়েছে অন্বিতা। যার দরুন কপালের ভাঁজ আরো খানিকটা প্রকট হলো নিশান্তের। সে আড়চোখে অন্বিতার মুখপানে এক পলক তাকালো। মেয়েটা যে খুব তড়িঘড়ি করেই সবটা গুছিয়েছে তা তার চোখমুখের ভাবে স্পষ্ট। ক্লান্ত চোখের অস্থির চাহনি, কপালে বেয়ে বয়ে যাওয়া স্বেদজল, নাকের ওপর বিন্দু বিন্দু ঘাম সাথে বুক চিরে বেড়িয়ে আসা ঘনঘন শ্বাস, সব মিলিয়ে বড্ড নাজেহাল অবস্থা তার। নিশান্তের না চাইতেও সামান্যতম মায়া হলো তার ওপর। চেয়েছিলো আরো খানিকটা খাটিয়ে নিতে তবে বিবেকে বাঁধা দিলো। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটিয়ে বিছানা থেকে এসির রিমোর্ট নিয়ে টেম্পারেচার কমিয়ে দিলো সে। অন্বিতার অস্থিরতা কমাতে টেবিলের পাশে চেয়ার টেনে ইশারায় তাকে বসতে বলে মুখ ফুটে বললো,

—- ওয়েল ডান! তবে এটা তো জাস্ট ট্রেইলার, পুরো পিকচার এখনো বাকি আছে মিস। নিশান্তের পেছনে লাগার ফল তো ভোগ করতেই হবে। আপাতত লেট ইট গো। কাজের কথায় আসা যাক। আপনার কোন কোন চ্যাপ্টারে ল্যাগস আছে আমায় বলুন আমি সুন্দর মতো বুঝিয়ে দিচ্ছি।

বিনিময়ে বিস্ফোরিত চোখে তাকালো অন্বিতা। যাতে রয়েছে হাজারো অভিযোগের ছড়াছড়ি, তবে তাতে বিন্দুমাত্রও পাত্তা দিলো না নিশান্ত। অন্বিতার চাহনির বিপরীতে ভ্রু কুঁচকালো সে। আবারও চেয়ারে বসবার জন্য গম্ভীর গলায় বললো,

—- কি হলো? এক্সামে ফেইল করবার ইচ্ছে আছে নাকি আপনার? সেরকম হলে বলুন আম্মুকে বলি যে মিস অন্বিতার নিজেরই পাশ করবার ইচ্ছে নেই। সেমিস্টার ড্রপ খেয়ে কোনো হ্যাবলা টাইপ ভ্যানওয়ালা অথবা রিক্সাওয়ালাকে বিয়ে করে সংসার পাতানোই তার মূখ্য উদ্দেশ্য।

নিশান্তের কথায় রেগে পুরো গা জ্বলে উঠলো অন্বিতার। এই মুহুর্তে নিশান্ত কে কুচিকুচি করে কেটে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার। কিন্তু নিয়তি যে বড্ড বেইমান, সবথেকে কঠিন সময়েই এসে ধোঁকা দেয় বারেবার।

___________________________

পুরো ৩ টে ঘন্টা ওয়েব ডিজাইনিং, ইলেক্ট্রনিক্স এর ওপর লেকচার ঝাড়তে ঝাড়তেই অন্বিতার মাথা ঘুরিয়ে ফেলেছে নিশান্ত। অথচ ৩ ঘন্টা যাবৎ এতো বকবক করবার পরও মুখ ব্যাথা করছে না তার। এখনো তাকে ৩ ঘন্টা আগের সেই ক্লান্তিহীন নিশান্তই বলে মনে হচ্ছে। অথচ এদিকে নেতিয়ে পড়েছে অন্বিতা। গায়ে আর বিন্দুমাত্র শক্তি অবশিষ্ট নেই যেনো তার। এই ছেলেটা কি কোনো মানুষ নাকি রোবট এই নিয়ে দ্বিধা-সন্দেহে ভুগতে হচ্ছে তাকে।

নিশান্ত পড়াতে পড়াতেই একটা সময় অন্বিতাকে পুরোপুরি নিঃশব্দে চুপ হয়ে যেতে অনুভব করে ভ্রু কুঁচকে আড়চোখে তাকালো। অন্বিতার চোখ বন্ধপ্রায়। ঘুমে চোখ টুইটুম্বুর! গালে হাত দিয়ে টেবিলের সাথে ঠেস দিয়ে রয়েছে সে। ভাবখানা এমন যেনো এতোক্ষণ নিশান্ত নয় বরং সেই নিশান্তকে পড়াতে পড়াতে অবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে ঘুমে টুপছে।
অন্বিতার এমন উল্টাউল্টি টাইপ অবস্থা দেখে কপালের বিরক্তির ভাঁজ ফেললো নিশান্ত। হাত ঘড়িতে দৃষ্টি ফেলতেই ওষ্ঠদ্বয় থেকে বিরক্তির আওয়াজ সৃষ্ট হলো তার। দেখতে দেখতে তিন তিনটে ঘন্টা পেড়িয়ে গিয়েছে অথচ টেরই পায় নি সে এতোটুকুও। ঠিক এই জন্যেই আফসানার বেগমের এতো বকা খেতে হয় তাকে। পড়তে বসলে যে দিন দুনিয়া ভুলে ঘন্টার পর ঘন্টা পাড় করে ফেলে অথচ মায়ের ডাক তার কান পর্যন্তই পৌঁছোয় না, ব্যাপারটায় চরম বিরক্ত আফসানা বেগম।

নিশান্ত ভাবনা ফেলে বইয়ের খোলা পাতা বন্ধ করলো। অন্বিতার সদ্য ঘুমন্ত মুখখানায় স্থির দৃষ্টি ফেলে কপাল কুঁচকালো। কেনো যেনো বড্ড চেনা চেনা লাগে মেয়েটাকে তার। কিন্তু কেনো? এর আগে তো কখনোও একবারের জন্য হলেও দেখে নি তাকে নিশান্ত তবুও কেনো মনে হয় মেয়েটা তার চেনা? খুব করে চেনা!
ঘুমন্ত অবস্থায় কতোটা স্নিগ্ধ, কতো অমায়িক, কতোটা নিষ্পাপ লাগছে অন্বিতাকে। অথচ জেগে থাকলে দেখো, আস্ত একটা রাক্ষুসি বোধহয় যেনো। সুযোগ বুঝেই কালনাগিনীর মতোই ছোবল মারে সে।

অন্বিতার মুখপানে চেয়ে এমন উদ্ভট সব চিন্তার বেড়াজালে আবদ্ধ ছিলো নিশান্ত। হঠাৎ কারো মুখ চোখের সামনে ভেসে আসায় চটজলদি দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো সে। নিজের বেহায়া চোখ দুটোর প্রতি বড্ড রাগ লাগছে তার। কেনো বারবার না বলার সত্ত্বেও অন্বিতাতেই আটকে যেতে চায় তার অবাধ্য চোখ দুটো? কেনো বারবার বারণ করা সত্ত্বেও অন্বিতাতেই মগ্ন থাকতে চায় তার অনিয়ন্ত্রিত ভাবনাগুলো? উত্তর জানা নেই নিশান্তের। নিজের কপালে এক হাতে স্লাইড করতে করতে নিজেকেই খানিক বকে নিলো সে। চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে অন্বিতাকে জাগাবার জন্য ডাকতে শুরু করলো নিশান্ত,

—– মিস অন্বিতা…অন্বিতা…এই যে শুনছেন? আরে এটা কোনো ঘুমোনোর সময় হলো? উঠুন! অন্বিতা….!

নাহ গলা ফাটিয়ে ডেকেও কোনো কাজ হলো না। অন্বিতা এতোক্ষণে ঘুমের অতল রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে নির্দ্বিধায়। নিশান্তের চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠলো। এই মেয়েটাকে ঠিক এই জন্যেই অসহ্য লাগে তার। এখানে আসার দুদিন হতে না হতেই ক্রাইসিস এর মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাকে বারংবার। এই সময় কি কেউ মরার মতো ঘুমোয়? মাত্র তো তিন ঘন্টার ব্যাপার। এতেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সারারাত জেগে পড়বে কিভাবে সে ভেবে উত্তর পায় না নিশান্ত।

অন্বিতাকে জাগাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে হাঁফ ছাড়লো সে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার বাহু ঝাঁকিয়ে ঘুমের রাজ্য থেকে বেড় করবার জন্য হাত বাড়ালো নিশান্ত।
হঠাৎ শরীরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হওয়ায় হকচকিয়ে উঠে লাফ মেরে দাঁড়ালো অন্বিতা। তবে ভাগ্য বড্ড বাজে খেলায় নেমেছে তার সাথে যার দরুন দাঁড়াতে গিয়ে স্লিপ কেটে সোজা নিশান্তের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো সে। হঠাৎ এভাবে নিজের ওপর অন্বিতার পড়ে যাওয়ায় ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে তাকে নিয়েই ফ্লোরে ধপাস করে পড়ে গেলো নিশান্ত। দূর্ভাগ্য বশত অন্বিতার ঠোঁট গিয়ে লাগলো সোজা নিশান্তের ঠোঁটের ওপর। ঘটনার আকস্মিকরায় চোখ বড়বড় করে হতভম্ব হয়ে রইলো দুজনেই। ঠিক সেই মুহুর্তেই হাতে টেডিবিয়ার নিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো নূহা। ঘরে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠে গেলো তার। ভাইয়ের ওপর তার মিষ্টিপুর এভাবে ঠোঁটে ঠোঁট লাগানো অবস্থায় উবু হয়ে শুয়ে থাকাতে টেডিবিয়ার ছেড়ে দিয়ে দুহাতে চোখ ঢেকে ফেললো সে। চোখ-মুখ কুঁকচে আধো আধো বুলিতে সে বললো,

—- তোমরা প্রেম প্রেম খেলছো ভালো কথা তাই বলে দরজা আটকাবা না? এভাবে খুল্লাম খুল্লাম কেউ প্রেম প্রেম খেলে? আরেকটু হলেই তো আম্মু দেখে নিতো। বুদ্ধিশুদ্ধি কবে হবে ভাইয়ু তোমার?

.
.
.
.
চলবে………………….💕

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here