চিরসখা পর্ব -১০

#চিরসখা (১০)

হিরকের মা ছেলের বউয়ের ওপর সকাল থেকে খ্যাপা।গতবার বাচ্চার মুখে ফিডার ধরাতে নিষেধ করে গেছেন। সই ঠিক বাবুকে বোতলে দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করেছে। হিরকের সাথে সকালে এ নিয়ে কথা বলেননি। সন্ধ্যায় রুমে ডাকলেন।
–তুই খুব ব্যস্ত থাকিস, দেখি।
–চাকরী বাকরী না করলে সংসার চলবে আম্মা?
–আরো দশটা লোকে নয়টা -পাঁচটা চাকরী করে।
–দশটা লোক তার বউ বাচ্চাকে এমন আরামে রাখতে পারে না।
–বউ-বাচ্চা সব তোর দায়িত্ব। তুই করবি না তো করবে কে।
— হা, খালি আমার একার দায়িত্ব। তোমার ছোট মেয়ে এক পয়সা বাড়ি তোলায় দিলো না। ষোলআনা ভাগ তুমি তাকে দিবা । আবার দায়িত্বের বেলায়, হিরকের নাম আগে আসে।
হিরকের মা চুপ করে যান। ছেলে এত হিসাবী কবে হলো। বিয়ের পর সই তাহলে কানপড়া দেয়। কিন্তু, সইকে অমন মনে হয় না। নিজে দেখে যাচাই, বাছাই করে আনা মেয়ে। ভাত টিপলে চাল বোঝা মানুষ তিনি। মানুষ চিনতে ভুল করবেন না।
–বাবুকে ফিডার ধরাইসস কেন।
–সইকে জিজ্ঞেস করো।
–সই তোর কথা বলছে। তুই নাকি বউয়ের শরীর নিয়া কথা তোলস। আবুদ অবুদ হইলে মেয়ে লোকের শরীর বদলাইব না? আমার দুইটা পোলাপান হয় নাই। তোর বাপ দাদায় কোনদিন বউ ঝি গো কিছু বললো না। তোরা এই জামানার পোলাপান এমন কথা কস।
–সই তোমাকে কি বলছে না বলেছে৷ এসব নিয়ে নিজের ছেলেরে ঝাকড়াবে৷ একটু মুড়ি মাখিয়ে দাও, খাই৷
–কথার উত্তর দে। তুই চাস না তোর আবুদের ভালো হোক।
–আরে কি যন্ত্রনা।
হিরক মায়ের ঘর থেকে চলে আসে। আম্মাকে এত কথা বলার দরকার কি ছিলো। সই কিছু বানিয়ে বলে দিতে পারতো। হিরক মেধাকে ফোন করে। কতদিন হয়ে গেলো, দেখা হয় না। মেধার সাথে নিয়মিত ফোনে কথা বলে হিরক। মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে দেখতে চায়। মেধা ঠিক রাজি হয় আবার হয় না। মেধার স্বামী একদিন ফোন ধরেছে। হিরক তারপর থেকে সাবধানে ফোন করে। মেধার কাছ থেকে আসাদের যাওয়া আসার রুটিন জেনে নেয়৷ আজকে সন্ধ্যায় আসাদের মিটিং আছে৷ হিরক মেধাকে দেখা করতে বলেছে। সই চা দিয়েছে। গরম চা গিলতে গিয়ে জিহ্বা সহ গলা পুড়িয়ে ফেললো হিরক। বেশ ভালো ভাবে পুড়েছে। সই কেঁদে কেটে একসারা। ওর দোষে স্বামীর ক্ষতি হলো। হিরকের মা ছেলের বউকে কিছু বললেন না। হিরক বেখেয়ালে বিপদ ডেকেছে। সন্তানের হাবভাব বুঝতে মায়ের দেরী হয় না। বাবুকে কোলে নিয়ে উনি সইয়ের ঘরে এলেন। একটু বেশী সহজ মেয়ে ছেলের গলায় জুটিয়ে দিয়ে এখন উল্টো ঝামেলা হলো। সব বুঝিয়ে দিতে হয়। সই বাবুকে দুধ খাওয়াচ্ছে দেখে খুশী হয়ে ফিরে আসলেন।

ঘর অন্ধকার করে মেধা শুয়ে কাঁদছিলো। শাশুড়িকে দেখে উঠে বসলো। সকালে আসাদের সাথে ইচ্ছে করে দুর্ব্যবহার করেছে। ওর ভাগ্য ভালো। আসাদ তাড়ায় ছিলো। নয়ত, বিশাল ঝগড়া হতো। আসাদ কিছু না বলে চুপচাপ অফিস গেছে। মেধার কিছু ভালো লাগে না। বুকের ভেতর কষ্ট পুষে কত হাসি মুখে অভিনয় করা যায়। হিরকের সাথে দেখা করে উল্টো ক্ষতি হয়েছে। পুরনো কথা, পুরনো স্পর্শকাতরতা, পুরনো ভালোবাসার ক্ষত জেগে উঠেছে৷ হিরক কিছু সময় আগে ফোন করে দেখা করবে জানালো। মেধা না করতে পারেনি।
আসাদের মা মেধার কপালে হাত রেখে চমকে ওঠেন।
–জ্বর গায়ে শুয়ে আছো।
–এমনি।
–ভাত খাও না, গোসল করো না। কি হয়েছে।
–কিছু না, ঔষধ খাবো।
–তোমাদের মধ্যে জানাশোনায় সমস্যা হয়, বুঝি।
–না, কোন সমস্যা নেই।
আসাদের মা উঠে আসা বিরক্তি মেশানো দীর্ঘশ্বাস আস্তে আস্তে ছাড়েন। এই জেনারেশন, একটু থেকে একটু মতের অমিল হলে কেঁদে বুক ভাসায়। বিছানা নেয়। অথচ, ওনারা বুকের ওপর পাথর চেপে দেবর -ভাসুর -জায়ের ভরাট সংসার টেনে গেছেন। এরা কম্প্রোমাইজ করতে শিখলো না। শুধু নিজের ভালো চায়।
–রাশাদের বাচ্চার শরীর ভালো না।
–শরীর তো আমারো খারাপ।
–তুমি বড় মানুষ। ও বাচ্চা। দু’জনের তুলনা চলে? কথা বার্তা বুঝে শুনে বলো মেধা।
— আচ্ছা। কি করতে হবে।
–কিছু না। তুমি আগে ওঠো, ভাত খাও।
আসাদের মা চলে যায়। ফিরে আসেন ঔষধ নিয়ে। মেধা অনিচ্ছা নিয়ে ঔষধ খায়। ওর কপালে জলপট্টি দিয়ে ভাত এনে খাইয়ে দেয় শাশুড়ি। মেধা টের পায় জ্বর ছাড়ায় ওর তীব্র ক্ষুধা পেয়েছে। সামান্য সীম ভাজা, ডাল ভুনায় এত মজা করে কেউ ভাত মেখে খাওয়াতে পারে সে ভাবেনি। খেতে খেতে চোখে পানি আসে মেধার। আসাদের মা চোখ মুছিয়ে দেন।
–আমাকে যত খারাপ ভাবো, আমি অতটা খারাপ না।
–আপনাকে খারাপ ভাবি না।
–ছেলে ভালো থাকলে আমিও খুশী৷ আসাদ সকালে নাস্তা খেলো না। অন্য দিন ফোনে খবর নেয়। আজ ফোন বন্ধ।
–মিটিং আছে সন্ধ্যায়। বলছিলো, জরুরী।
–স্বামী -স্ত্রীর ভেতর ঝগড়া হলে ভালোবাসা বাড়ে। তোমাদের যে বয়স, এখন সকালে ঝগড়া হলে বিকালে মিল হবে।
–মিলমিশের দরকার নেই।
–আমার ছেলে বলে বলি না, আসাদ রাশাদের চে’ ভালো স্বামী। ও তোমার পছন্দ অপছন্দ খেয়াল করে। তুমি কিসে খুশী হও, মনে রাখে।
–আমাকে আমার মতো থাকতে দিলে হলো। অত কিছু লাগবে না।
আসাদের মা মেধার চুল আঁচড়ে দেন। মেধা মানা করতে পারে না। ওর একদিক থেকে ভালো লাগছে। উনি তাহলে ওকে আদর করে, গুরুত্ব দেয়।
–সময় চলে যাবে মেধা৷ পরে আফসোস হবে। এখন শরীর ভালো লাগলে উঠে আসাদকে ফোন দাও। শুয়ে থাকলে মন আরো খারাপ লাগবে।
মেধা হিরককে ফোন করে। ও দেখা করতে যাবে না। হিরকের ফোন ‘আনরিচেবল’। রুপার ঘর থেকে বাবুর কান্নার আওয়াজ শুনে ওদিকে যায়। বাচ্চাটার শরীর খুব খারাপ, ঘ্যানঘ্যান করছে। মেধা ওকে কোলে নেয়। মানব শিশু অন্যের ওপর কত নির্ভরশীল। রাস্তার কুকুর বেড়াল নিজের খাবার খুটে খেয়ে বেঁচে থাকে। আর মানুষের বাচ্চাকে সব করে দিতে হয়। বড় হয়ে তো নির্ভরশীলতা কমে না। মেধা যেমন হিরকের ওপর আশ্রয় করে। আসাদের সাথে চেষ্টা করে ও মন মেলাতে পারছে না। মেধা দেখে রাগে রুপার মুখ কালো হয়ে আছে।
–ওকে ডাক্তার দেখাও।
–পারব না। বাচ্চার বাপের কোন দায় নেই, আমি সব করবো।
–ওর শরীর আরো খারাপ করলে।
–তুমি সাথে যাবা ভাবী? আমার ভালো লাগছে না। আম্মাকে বলতাম, ওনার হাঁটু খুব ব্যাথা।
মেধার খেয়াল হয়, আসাদের মা ধীরেধীরে চলাফেরা করছিলো। শরীর খারাপ নিয়ে ওনার শুয়ে থাকার কথা। সেখানে, মেধাকে কত যত্ন করলো। মেধার খারাপ লাগে। রুপাকে তৈরী হতে বলে আসাদের মায়ের ঘরে যায়। হাঁটু নিচে হট ওয়াটার ব্যাগ নিয়ে আসাদের মা শুয়ে ছিলেন। মেধা ওনার পাশে বসে গায়ে হাত দেয়।
–আসাদের সাথে কথা বলেছো।
–না, রুপার বাবুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাই।
–শুনে ভালো লাগলো।
–ওকে জানিয়ে দেব।
–ফোন দিয়ে জানাবা, তোমরা কি মেসেজ চালাচালি করো। ওগুলা করো না।
–রাতের খাবার কিনে আনি। আপনিও অসুস্থ।
আসাদের মা একবার ভাবেন ‘না’ করবেন। তারপর সম্মতি দেন। মেধা নিজ থেকে কাজ করতে চাইছে। একটু আগে কাঁদছিলো। একবেলা ছেলের বউদের ইচ্ছায় চললে যদি সংসার ঠিক থাকে, চলবেন।
— সাবধানে যাবা। নিজের মানুষকে ভালোবাসলে শুধু হয় না মেধা৷ তার চারপাশের সব কিছুকে ভালোবাসতে হয়। কখনো কখনো মানুষটাকে ভালো লাগে না। কিন্তু, তাকে ছেড়ে যাওয়া যায় না। ঐ ছেড়ে না যাওয়ার বিষয়টাকে ‘মায়া’ বলে। সংসার হলো ‘মায়ার খেলা’। যত তুমি মায়ায় পরবে তত বুঝবে ভালোবাসা বলতে দুনিয়ায় কিছু নাই।

মেধা ‘আচ্ছা ‘বলে মাথা নামিয়ে বসে থাকে। হিরককের জন্য তার এত অনুভূতির সবই কি ‘মায়া’। আসাদের প্রতি এমন ‘মায়া’ জন্মায় না কেনো। সংসার-সমাজ বলছে স্বামীর ঘর করো। মন বলছে, প্রেমিকের কাছে যাও। মেধা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। শেষ হয়েও সব শেষ হয় না। এই দোটানা শেষ হবার অপেক্ষায় থাকবে আর কত দিন। আসাদকে ফোন করে মেধা। মুখে ‘হাহু’ বললেও মেধা বোঝে ও ফোন করায় আসাদ খুশি হয়েছে। ফোন ছাড়ার আগে, ‘লাভ ইউ বউ’ বলে আসাদ। মেধা দাঁতে ঠোঁট কামড়ে ফোন কাটে। হিরক ওকে ‘বউ’ বলতো প্রায়ই।

বাবুকে ডাক্তার দেখিয়ে মেধা রুপা সহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচে অপেক্ষা করছে। আসাদ গাড়ি নিয়ে আসবে। বাবুর সিজনাল ফিভার, ভয়ের কিছু নেই। রুপা টুকটাক কথা বলে। মেধা ওদের জন্য আইসক্রিম কিনে আনে। দোকানের আয়নায় সইকে দেখে জমে বরফ হয়ে যায় মেধা। হিরক এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে। মেধার মোবাইলে মেসেজ আসে। হিরক পাঠিয়েছে, ‘শরীর খারাপ, আসতে পারলাম না। আগামীকাল দেখা করি।’ সই ঔষধ কিনে হিরকের কাছে যেতে সইয়ের চোখ থেকে কিছু একটা ফু’ দিয়ে সরিয়ে দেয় হিরক। সই হেসে হিরকের গালে হাত বোলায়৷ মেধার চোখ জ্বালা করছে। হিরক ওকে আবার মিথ্যে কথা বললো। বউ নিয়ে ঘুরছে। বাড়ি ফিরে আসাদ মেধাকে ‘সরি’ বলে। রাতে কিছু না খেয়ে শুয়ে পরে মেধা। আসাদ ওর জন্য অনেক করে। তারপরেও মেধা সহজ হতে পারছে না। ওর জীবনের সব সুখ থেমে আছে হিরকের স্মৃতিতে। তাহলে, হিরক যে বলে মায়ের চাপে পরে বিয়ে করেছে, ও এখনো মেধাকে ভালোবাসে। মেধা ওকে কি সুখ দিতে পারত, যা সই পারে না।

হিরকের জন্য নরম জাউ বানিয়েছে সই। হিরক ফোন দেখছিলো। বউকে দেখে ফোন রেখে উল্টো ঘুরে শুয়ে পরলো। বাজে একটা মেয়ে, এর জন্য মেধার সাথে ডেটিংএ যাওয়া হলো না। বাবুকে শাশুড়ীর কাছে রেখে এসেছে সই। আজকের রাতটা ওখানে থাকুক। হিরকের কখন কি লাগে, সই পরে দেখতে পারবে না। সই আঁড়চোখে দেখে হিরক ফোন বালিশের নিচে ঠেলেছে। তখন শরীর খারাপ লাগলেও এখন ভালো আছে। ডাক্তার ব্যাথার ঔষধ দিয়েছে।
–তোমাকে খাইয়ে দেবো?
–রাখো, পরে খাবো।
–কালকে পাশের ফ্লাটের ভাবীর মেয়ের জন্মদিন, দাওয়াত দিয়েছে।
–যাও, আম্মাকে নিয়ে যেও।
সই একটু থেমে হিরকের গা ঘেষে বসে। নিজেকে দোষী ভাবা কমাতে পারছে না। রাতে সেও কিছু খায়নি।
–তুমি যাবে না।
–যাবো, এক হাজার টাকা দিয়ে দিও।
–লাঞ্চের পর তোমার অফিসে আসি? ছোট গিফট কিনলাম। গিফট কিনলে টাকা কম লাগবে।
হিরক চেঁচিয়ে ওঠে, –অফিস না আমার বাপের সম্পত্তি। চাইলেই লাঞ্চের পর বউ সহ মার্কেটে যাবো। চাকরী তো করো না। করলে বুঝতে।
সই মুখ ফিরিয়ে নেয়। হিরক এত অল্পতে এভাবে রেগে যায়৷ ও খরচ কমাতে বলেছে৷ বাতি নিভিয়ে শাশুড়ীর ঘরে যায় সই। বাবু ঘুমিয়ে গেছে। সইয়ের থমথমে মুখ দেখে হিরকের মা যা বোঝার বোঝেন। হিরকের চিৎকার তার কান এড়ায়নি।
–ধৈর্য ধরো মা। ওর শরীর খারাপ।
–শরীরের জন্য না আম্মা। হিরক এমনি খারাপ ব্যবহার করে।
–তুমি মন খুশি রেখে চলবা।
–মন আর কিভাবে খুশী রাখা যায়, জানি না আম্মা। কত কিছু করি, হিরকের মন পাই না।
–পুরুষ লোকের একটু মতি লাড়া থাকে। আসো, ঘুমায় যাও। এখন আর ঐ ঘরে যাওয়ার দরকার নাই।
সই শুয়ে পরে। ওর হিরকের জন্য চিন্তা হচ্ছে।

হিরকের সাথে মেধার পরদিন দেখা হয় না। ঠিক এক মাস পর বনানী এগারো নাম্বারের একটা কফিশপের সামনে হিরকের জন্য অপেক্ষা করছে মেধা। সালোয়ার কামিজের সাথে চুল ব্লো-ডাই করে ছেড়ে রেখেছে। হাতে পায়ে মেহেদী দেয়া। দূর থেকে মেধাকে দেখে হিরক একটু থমকায়। মেধা সব সময় একটু আদুরে, নরম। এখন চোখে মুখে একটু স্থিরতার ছাপ।
–কেমন আছো মেধা।
–ভালো, তুমি? শরীর ঠিক হলো।
–হা, বাবুর শরীর খারাপ গেলো।
কথাটা বলে হিরক বুঝতে পারে, মেধা খেয়াল করছে। বাচ্চার কথা বলার সময় হিরকের গলা কেঁপে যায়। গত এক মাসে চোখের সামনে বাচ্চার কষ্ট দেখে ওর মনে টান লাগে।

–মেধা, একটা ডে লং ট্রিপে যাবে।
–কোথায়।
–ঢাকার বাইরে।
–আমি জবে ঢুকেছি।
— তাই এত কনফিডেন্ট লাগছে। মানে সুন্দর হয়েছো।
মেধা ঘড়ি দেখে। লাইভ এসিটেন্ট হিসেবে তিনটা কাজ করছে। দুই জায়গায় কাজ শেষ। বিকাল থেকে এদিকে এক বাসায় জুয়েলারি লাইভ আছে।
–তাড়া আছে? চলো, বাইকে ঘুরি।
–আজকে পারব না। শুক্রবার?
হিরক উশখুশ করে। শুক্রবার বাসায় থাকতে হয়। সইয়ের সাথে সংসারটা করতে হয়৷ কিন্তু, আম্মা আছে, বাবু তাকে খুব চিনে গেছে। ঘরে বাবা, বাবা করে ডাকে। অফিস থেকে ফিরে বাবুকে নিয়ে বাসার নিচে হাঁটতে যায়। টুকটুক করে বাচ্চা যখন হাঁটে, হিরক মুগ্ধ হয়ে দেখে।
–কই বললে না।
–ছুটির দিন, তুমি বের হতে পারবা।
–আমি কাজের কথা বলে বের হবো।
–কোথায় যাবে।
–ল ইয়ারের কাছে, সেপারেশনের জন্য কথা বলবো।
হিরক চোয়াল ঝুলিয়ে মেধার কথা শোনে। দম নিয়ে আবার মেধা বলে,–তুমি সইকে ডিভোর্স দিতে পারবে, হিরক?

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here