ছায়া হয়ে থাকবো পাশে পর্ব -২১+২২

#ছায়া_হয়ে_থাকবো_পাশে (পর্ব ২১)
#Humayra_Khan
.
.
.
আহানঃ তোমার দাম দেওয়া লাগবেনা।।।আমিই দিয়ে দিচ্ছি।।। তুমি গিয়ে গাড়িতে বসো গিয়ে।।।
চারু ঃ ইসস আমাকে কি আপনার বোকা মনে হয়।
আমি কি কিছুই বুঝিনা।।।আমি সব বুঝি(ভাব নিয়ে)
আমি চলে গেলে আপনি লোকটাকে একশো টাকাই দিয়ে দিবেন।।।
লোকটি শুধু অবাক হয়ে চারুর কথা শ্রবণ করছিল।
লোকটিঃ আচ্ছা ম্যাডাম আপনেই দিয়া দেন টাকা।।
লোকটির কথা শুনে চারু তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিয়ে দিল।।
চারু ঃ ওই খানে ষাট না পয়ষট্টি টাকা আছে।।
আমার মন বিশাল বড়। তাই পাঁচ টাকা বেশি দিয়ে দিলাম।
লোকটিঃ কয় কি আমার পয়এিশ টাকা লস করাইয়া, এহন কয় আমি পাঁচ টাকা বেশি দিসি।।।।
কার মুখ দেইক্ষা যে আজ ঘুম থেইকা উঠসিলাম।
যে সকাল সকাল এমন কাস্টমার আইসে।।
(মনে মনে)
জ্বি ম্যাডাম হাচা কইসেন আপনার মন বিশাল বড়(শুকনো একটা হাসি দিয়ে)
আহানঃ হয়েছে।এখন চল
চারুঃ হুম চলেন।।।
চারু চলে গেলে লোকটির সস্তির নিশ্বাস ছাড়ে।।।
চারু ঃ তো বললেন না আপনি এই খানে কি করছেন।
আহানঃ আমার বউ কে নিতে আসছি(হেসে)
চারু ঃ কি সবজি বাজারে??? মানুষ তো বউ নিতে শ্বশুর বাড়ি যায়।।।(হেসে)
আহানঃ উফ আমি কেন আসলাম কি কারনে আসলাম সেই গুলো বাদ দাও।।।।।।
চলো বাসায় চলো লেট হয়ে যাচ্ছে।।।এমনি তোমার শরীর টাও বেশি ভালো দেখাচ্ছেনা।।।
চারু ঃ আমি আইস্ক্রিম খাব।। গলাটা আমার শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।।।।
আহানঃ তাই নাকি।।আচ্ছা তুমি গাড়িতে গিয়ে বসো
আমি গিয়ে নিয়ে আসি।।।
তারপর আহান চারুকে গাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে ওকে গাড়িতে বসিয়ে চলে যায় আইস্ক্রিম কিনতে।।।।
কিছুক্ষণ পর আহান এসে গাড়িতে ঢুকে-
চারুর হাতে একটা ডাবের পানি ধরিয়ে দেয়।।।
চারু ঃএইটা কি(অবাক হয়ে)
আহানঃ এইটা আইস্ক্রিম।।। (হেসে)
চারু ঃ দেখুন মজা করবেন না।।।আমার আইস্ক্রিম কই???
আহানঃ আইস্ক্রিম ওর মামা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছে।
তাই আপাতত তুমি এইটা খাও।
ডাবের পানি হেলথ এর জন্য অনেক ভালো।
আর তোমার সর্দি লেগেছে তাই আইস্ক্রিম টাইস্কিম খাওয়া যাবেনা।
চারু ঃ এই কারনেই ডাক্তার দের সাথে থাকতে নেই।
তারা শুধু লেকচার দিতে থাকে।।
আহানঃ হ লেকচার দেই।।আর আমার লেকচার শুনতে তুমি বাধ্য।
চারু ঃ আপনি কেন আসলেন আমাকে নিতে ড্রাইভার আংকেল কে পাঠিয়ে দিতেন।।এমনি আপনার হাতে ব্যথা। গাড়ি চালাতে আপনার কষ্ট হবে।
আহানঃ তোমাকে কে বলল আমি তোমাকে নিতে আসছি? আমি তো এমনি ঘুরতে আসছি।
আমার হাতে এখন ব্যথা নেই।অনেক টা কমে গেছে।
তাই আমি ড্রাইভ করতে পারব।
কথাটি বলে আহান গাড়ি স্টাট দেয়।আর আপন মনে গাড়ি চালাতে থাকে।।।।
চারু মুখে পাইপ নিয়ে আহানের দিক এ তাকিয়ে থাকে।।
আহানঃ এই ভাবে বেশি ক্ষন আমার দিক এ তাকিয়ে থাকলে কিন্তু আমার প্রেমে পরে যাবা।।।।(সামনের দিক এ তাকিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে বেশ লজ্জায় পরে যায়।
তাড়াতাড়ি করে অন্য দিক এ মুখ সরিয়ে নেয় ও
আহান গাড়ি চালার ফাঁকে ফাঁকে চারুকে দেখে যাচ্ছিল
পুরোই বাচ্চাদে মতো করে আওয়াজ করে ডাবের পানি খাচ্ছে চারু।।।

কিছুক্ষন এর মধ্যে বাড়ি পৌছালো ওরা।
দরজার নক করলে মিসেস সাবিনা এসে দরজা খুলে দেয়।চারু আর আহানকে এক সাথে দেখে
তার হাসি মাখা মুখ টা নিমিষেই ফ্যাকসে হয়ে পরে।।
সাবিনাঃ আহান তুই বাহিরে গেলি কবে আর বাইরে বা গিয়েছিস কেন এই অসুস্থ শরীর নিয়ে।।।
আহানঃ আসলে মা(আমতা আমতা করে)
চারু ঃ আসলে আন্টি ভাইয়া আমাকে নিয়ে আসতে গিয়েছিল বাজারে।
আহানঃ ধুর পাগল কি বলছিস আবল তাবল।
আমি তো একটা জরুরি কাজের জন্য বাহিরে গিয়েছিলাম। আর ভাগ্যক্রমে তোর সাথে রাস্তায় দেখা হয়ে যায়।। তাই ভাবলাম তোকেও সাথে করে নিয়ে আসি।
আচ্ছা মা আমি আমার রুমে যাচ্ছি ফ্রেশ হতে।।
তারপর সেখান থেকে তাড়াতাড়ি করে কেটে পরে আহান।
চারুঃ আচ্ছা কাকিমা এই বাজারের ব্যাগ টা রান্না ঘরে রেখে আসি।।।।
চারু চলে যেতে নিলে মিসেস সাবিনা চারুর ডান হাত টা ধরে ওকে থামিয়ে দিয়ে–
সাবিনা ঃ তুই কি এতো নাজক কলি যে তোকে নিয়ে আসার জন্য আরেকজন কে যেতে হয়।।।আমি জানি আহান আমার সাথে মিথ্যা বলেছে।।।আহানের বলা কথা শুনে নিজেকে ভুলেও এই বাড়ির সদস্য ভাবিস না চারু।।। তুই এই বাড়ির বোঝা ছাড়া আর কিছুই না।
সাবিনা চারুর হাত শক্ত করে ধরায় বেশ কষ্ট পাচ্ছে চারু।।।।
সাবিনা তার কথা বলে চারুর হাতটা ছেড়ে চলে যায় সেই খান থেকে।।।।।।
কিছুক্ষন পর……………….
আহানঃ উফ এই চারুকে তো দেখছিনা কত ক্ষন ধরে।
তারপর নিজের রুম থেকে বের হয়ে সোজা চলে যায় আবির আর দিশার রুমে।।।
আহানঃ ভাবি চারুকে কোথায় দেখেছ??
দিশাঃ না কেন???
আহানঃ না এমনি
কথাটি বলে চলে যায় আহান।।।
বাসার পত্যেক টা রুমে চেক করে কিন্তু কোথাও খুজে পায়না আহান।
আহানঃ হয়ত চারু ছাদে আছে।।।
তারপর আহান ছাদে গিয়েও চারুকে খুজতে থাকে পাগলের মতো করে। কিন্তু ওর হাতে আসে শুধু ব্যর্থতা।
আহানঃ উফ আহান সব রুম চেক করলি। কিন্তু চারুর রুম টাই তো চেক করলি না।।
কথাটি বলে তাড়াতাড়ি করে চলে যায় চারুর রুমে।।।
রুমের দরজা নক করলে কারো রিসপনস না আসলে-
আহান চারুর রুমের ভিতর ঢুকে পরে।।
চারু চারু………
বলে ডাকতে থাকে আহান।
চারু ঃ আমি এইখানে ভাইয়া(কান্নার কণ্ঠে))
আহানঃ কোথায় তুমি????
চারু ঃ আমি খাটের নিচে।।।(কান্নার কন্ঠে)
আহান চারুর কথা শুনে বেশ অবাক হয়ে পরে।।
খাটের সামনে নিজের হাটু গেড়ে বসে –
আহান খেয়াল করল চারু ঘাটের নিচে লম্বা হয়ে মাথা নিচু করে শুয়ে আছ।।
আহানঃ এই তুমি এই খানে খাটের নিচে কি করছ।।।??
চারু ঃ দেখতে পারছেন না আমি কান্না করছি
(আহানের দিক এ তাকিয়ে)
আহান খেয়াল করল চারু চোখের পানি নাকের পানি একাকার করে ফেলেছে কান্না করতে করতে।।।।।
আহানঃ কি হয়েছে এই ভাবে কান্না করছ কেন??? সেটা তো বলবে।।
চারু ঃ বাবার কথা খুব মনে পরছে ভাইয়া।।
সে আমাকে একা রেখে কেন চলে গেল।আমাকে কেন সাথে করে নিয়ে গেল না??
তাকে ছাড়া যে আমি বড্ড বেশি একা হয়ে গেছি।
দুনিয়াতে আমার আপন বলতে কেউ নেই(কান্না করে)
আহানঃ ঘাটের নিচে থেকে বের হও চারু।।।
চারু ঃ আমি বের হব না
আহানঃ দেখো চারু লাস্ট বারের মতো করে বলছি বের হও।। না হলে কিন্তু ভালো হবেনা (রেগে)
চারু আহানের কথা শুনে বেশ ভয় পেয়ে যায়।
তাড়াতাড়ি করে খাটের নিচ থেকে বের হয়ে পরে চারু।
আহান চারুর এক হাত টেনে রুম থেকে বের করে সোজা বাড়ির বাইরে এনে দাঁড় করায়।
যে যার রুমের মধ্যে থাকায় চারুকে এইভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়ায় কারো প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়নি আহানকে।।।।।।।।
আহানঃ গাড়িতে উঠ চারু।
চারু ঃ কি??
আহানঃ উফ কি কি না করে গাড়িতে উঠে বস (চেচিয়ে)
চারু আহানের কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে উঠে পরে।
আহান ও গাড়িতে উঠে –
আহানঃ চারু সিট বেল্ট টা লাগাও।
চারু খেয়াল করল আহান প্রচুর রেগে আছে তাই কথা না বাড়িয়ে বাধ্য মেয়ের মতো সিট বেল্ট টা লাগিয়ে নেয়
চারুর সিট বেল্ট টা লাগানো হলে আহান খুব স্পিড এ গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে।।।
গাড়িতে বসে চারু হাজারো প্রশ্ন করতে থাকে কিন্তু আহান শুধু মুখ টা গম্ভির করে ড্রাইভিং ই করে যায়।
একটা উচু পাহাড়ের সামনে এসে আহান গাড়ি টা থামিয়ে দিয়ে–
আহানঃ গাড়ি থেকে নামো চারু।।
চারু আহানের এমন রাগান্বিত ফেস দেখে কোন কথা না বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নেমে পরে।।
আহান ও গাড়ি থেকে নেমে চারুর হাত ধরে পাহাড়ের উচু চড়ায় নিয়ে দাঁড় করায়।
চারপাশে শুধু গাছগালি আর পাখির ডাক।।
চারু ঃ আমাকে এই খানে নিয়ে আসলেন কেন??
আমাকে মেরে ফেলার প্লেন করেছেন নাকি এই খানে এনে???
আহানঃ হুম।ঠিক ভেবেছ।।
চারু ঃ এ্যাা….ভাইয়া আমার হাত ছাড়ুন।। আমি এতো তাড়াতাড়ি মরতে চাইনা।।।
আহানঃ সরি চারু ইটস বেরি লেট..বললে না তোমার বাবা তার সাথে করে তোমাকে কেন নিয়ে যায় নি। তাই তোমার বাবার কাছেই পাঠাচ্ছি তোমাকে।।চোখ টা বন্ধ কর মরতে কিছুটা কম কষ্ট হবে।।
চারু ঃভাইয়……(কান্না করে)
আহানঃ আই সেইড ক্লোস ইউর আইস।। আর কান্না করা বন্ধ কর।।
চারু ঃ করছি তো মরার আগে কি একটু কান্নাও করতে দিবেন না নাকি।।।
তারপর চারু ওর চোখ গুলো বন্ধ করে নিলে আহান চারুর দিক এ তাকিয়ে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে আকাশের দিক এ তাকিয়ে নিজেও নিজের চোখ গুলো বন্ধ করে –
আহানঃ আই লাভ উ চারু…………..(চিৎকার দিয়ে)
আহানের বলা কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে পাহাড়েরর চারপাশে ভেসে উঠে
চারুঃ………………..#ছায়া_হয়ে_থাকবো_পাশে (পর্ব ২২)
#Humayra_Khan
.
.
.
আহানঃ আই লাভ উ চারু……(চিৎকার দিয়ে)
আহানের বলা কথা গুলো প্রতিধ্বনি হয়ে পাহাড়ের চারপাশে ভেসে উঠে।।।
চারু আহানের বলা কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে নিজের চোখ জোড়া খুলে আহানের দিক এ অবাক দৃশটিতে তাকিয়ে থাকে।।।
আহানঃ অবাক হচ্ছো তাইনা।।।
চারু মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক উত্তর দেয়।।
আহানঃ আসলে যে দিন তোমাকে প্রথম দেখি সেই দিন ই তোমাকে ভালোবেসে ফেলি।।
কিন্তু কখনোও তা বলার সাহস আর সুযোগ কোনটাই হয়ে উঠেনি।।।।
কিন্তু আজ আমি চিৎকার দিয়ে বলতে চাই আই লাভ উ চারু।
আউ লাভ উ সো মাচ (চিৎকাার দিয়ে)
চারু ঃ আসলে ভাইয়া……….
আহানঃ কি?? বলো চারু? (চারুর গালে হাত রেখে)
চারু ঃ আসলে ভাইয়া আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।
ওর ফ্যামিলির মানুষ কেউ রাজি হচ্ছেনা বিশেষ করে ওর মা।।তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওর কোন ভালো চাকরি হলে আমরা কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলব।। আর আমার সাক্ষী হিসেবে আপনাকে আর ভাইয়া ভাবিকে সাথে করে নিয়ে যাব।
কিন্তু সত্যি আমার এমন কোন ধারণা ছিলনা যে আপনি আমাকে……..
না হলে আগেই আপনাকে আমার ভালোবাসার কথা বলে দিতাম।।।
আহানঃ তোমার কোন দোষ নেই চারু।। থাক বাদ দেই ওসব কথা।। আর আমি মোটেও কষ্ট পাইনি।।
সত্যি বলছি একটুও কষ্ট পাইনি আমি(শুকনো একটা হাসি)।।।
আহানঃ আমার সাথে এমন কেন হলো আল্লাহ।।।
নিজের ভালোবাসার মানুষ থেকে শুনতে হচ্ছে সে আমাকে নয় অন্য কাউকে ভালোবাসে।।।
আমি যে নিতে পারছিনা এইসব।
কিন্তু চারুর সামনে এইভাবে ভেঙে পরলে চলবে না
ওর সামনে আমাকে শক্ত থাকতে হবে।
তা না হলে চারু গিলটি ফিল করবে।।।।(আনমনে)।
চারু ঃ কি হলো ভাইয়া???
আহানঃ কই কিছুনা তো।।কিছু হয়নি
চারু ঃ থ্যাংক গড আপনি কষ্ট পাননি।আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাহলে ভাইয়া বলেন আমার বিয়ের দিন আমার পক্ষে থেকে সাক্ষী হবেননা???
আহানঃ কি ভাগ্য আমার সরি ভাগ্য না দূর্ভাগ্য নিজের ভালোবাসার মানুষ এর সাক্ষী হতে হবে।। আনমনে
পরের টা পরে দেখা যাবে চারু এখন বাসায় চলো।
লেট হয়ে যাচ্ছে।।।
চারু ঃ ওয়েট ভাইয়া আপনার মতো আমিও চিৎকার দিয়ে আমার ভালোবাসার মানুষ টার নাম নিয়ে কিছু বলতে চাই।।।
চারুর মুখের কথা শুনে আহানের কষ্ট যেন হাজারো গুন বাড়িয়ে দিল।।।
আহানঃ আচ্ছা আমি গাড়িতে তোমার জন্য ওয়েট করছি।।। তুমি তাড়াতাড়ি করে চলো এসো।।
কথাটি বলে৷ সামনের দিক এ হাটা দেয় আহান
চারু আকাশের দিক এ তাকিয়ে –
আই লাভ উ(চিৎকার দিয়ে)
চারুর কথা শুনে আহানের চোখ দিয়ে দুইফোটা জল গড়িয়ে পরে। আর ও খুব দ্রুত হাটা শুরু করে।
চারু ঃ আই লাভ উ টু আহান …..(চিৎকার দিয়ে)
চারুর কথা শুনে আহান থেমে গিয়ে
পিছনে ঘুরে তাকায়।।।
আর খুব দ্রুত চারুর সামনে দাঁড়িয়ে –
আহানঃ এই কি বললা তুমি???
চারু ঃ বলেছি আই লাভ উ টু আবুল(হেসে)
আহানঃ ফান করো না প্লিজ।।।
তুমি এইটা বলোনি তখন।।
চারু ঃ আহান আমি সেই দিনই বুঝে গিয়েছি আপনি আমায় কত টা ভালোবাসেন যে দিন আপনি আপনার এই রক্তাক্ত হাত আমার গাল টায় রেখে বলেছিলেন যে আমি ঠিক আছি নাকি।।
একটা ভালোবাসার মানুষ ই তো একমাত্র পারে নিজে কষ্টের মধ্যে থাকার পর ও নিজের ভালোবাসার মানুষ টার কথা চিন্তা করা (আহানের হাত নিজের গালে রেখে)।।।।
আহানঃ তো এতো দিন অ্যাকটিং করছিলে কেন না বুঝার( মুখ বাকা করে)
চারু ঃ জানেন আমার ছোট কাল থেকে অ্যাকটিং করার ইচ্ছা ছিল তাই ভাবলাম একটু অ্যাকটিং করে নেই।(হেসে)
চারু ঃ কিন্তু আপনিও কেমন?? আমি বলেছি আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি আর আপনি??
আহানঃ ভালোবাসলে এইনা যে ওই মানুষ টাকে তোমার পেতেই হবে।।।ভালোবাসার মানে হলো যাকে তুমি ভালোবাসো ছায়ার মতো তার পাশে থাকা।
তার খুশির জন্য সব কষ্ট হাসি মুখে সহ্য করে নেওয়া।।।
আর তোমার মুখের ছোট একটা হাসি আমার কষ্টের সামনে কিছুইনা চারু।।।।
চারু ঃ হইসে কবি আপনার ডায়লগ বলা(হেসে)
আমি এই সব শুনতে চাইনা।।।
আহানঃ তো কি শুনতে চাও(শয়তানি হাসি হেসে)
তারপর আহান চারুর হাত দুটো নিজের হাত এ রেখে-
আই লাভ উ চারু অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায়।
সারা জীবন তোমার ছায়া হয়ে তোমার পাশে থাকতে চাই
চারু ঃ হয়েছে।। যতই যাই বলেন আমি আপনার থেকে বেশি ভালোবাসি
আহানঃ মোটেও না।
চারু আহানের কথা শুনে রেগে পাহাড়ের চড়ায় পা ঝুলিয়ে বসে পরে।।
আহানও চারুর পাশে গিয়ে বসে পরে।।
চারু ঃআচ্ছা একটা গেম খেলি
আহানঃ কি?(ভ্রু কুচকিয়ে)
চারু ঃআমি একবার লাভ উ বলব একবার আপনি বলবেন যে একশো পর্যন্ত যাবে সেই বেশি ভালোবাসে ঠিক আছে??
আহানঃ ওয়াট??
চারু ঃ ওয়াট বলা বন্ধ করুন বলেন ওকে।
আহানঃ আচ্ছা বাবা ওকে।।
চারুঃআচ্ছা আমি শুরু করি। লাভ উ…
আহানঃ লাভ উ টু..
চারু ঃ লাভ উ থ্রি..
আহানঃ লাভ উ হানড্রেড( হেসে)
চারু ঃঅই আপনাকে কোন পাগলে ডাক্তার বানিয়েছে-
ওয়ান টু ও দেখি পারেননা বলতে। থ্রির পর ফোর হয়। ফোর।
আহানঃ যাই বলো আমিই কিন্তু জিতেছি (হেসে)
তাই আমিই তোমাকে বেশি ভালোবাসি।।।
চারু ঃ এইভাবে ভালোবেসে যাবেন তো আমায়।।
মাঝ পথ এ আমাকে একা ফেলে চলে যাবেন না তো কখনো???(নিজের মাথাটা আহানের ঘাড়ে রেখে।।
আহানঃ হুম।।কোন সুন্দরী মেয়ে চোখ এ পরলে হয়ত তোমার পিছু ছেড়ে ওই মেয়ের পিছু নিতে পারি।।(হেসে)
চারুঃ……….
.
.
চলবে………….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here