তুমি অতঃপর তুমিই পর্ব ২৪

তুমি অতঃপর তুমিই
২৪
writer Taniya Sheikh

রৌদ্রজ্জ্বল একটা দিন। চারিদিকে নেই কোনো যান্ত্রিক কোলাহল, মানুষের হাঁকাহাঁকি। এ যেন পৃথিবী বুকে এক টুকরো ছেঁড়া দ্বীপ। চারপাশে যতটুকু দেখা যায় প্রকৃতির নিবিড় ছোঁয়ায় তৈরি হওয়া অপার সৌন্দর্য। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের পরে আকাশ নেমেছে। ইমা ছোটো থাকতে ভাবতো, ঐ দিগন্তের শেষ মাথায় গেলে বুঝি আকাশ ধরা যায়। ইমার ভাই ইমতিও ওর মতো ভাবতো। দু’জনে ছাঁদে বসে বসে কত প্লান করেছে বড়ো হয়ে আকাশ ছোঁবে, তারপর মেঘের ভেলায় ভেসে ভেসে উপরে কী কী আছে সব দেখবে। ওদের তো গ্রামের বাড়ি ছিল না। বাবা- মা দুজনই ছিল ঢাকাইয়া। সুতরাং গ্রাম দেখার সৌভাগ্য তখন ওদের হয়নি৷ একবার আম কাঁঠালের ছুটিতে ইমা গো ধরল সে গ্রামে যাবেই যাবে। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে মুখ ফুলিয়ে বসে রইল। ওর বাবা এসে অনেক বোঝাল। বাবার আদুরে ইমা কিছুতেই কারো কথা মানল না। জোরে জোরে কান্না জুড়ে দিল। ইমার মায়ের বেশ রাগ হলো তখন। খুব মারল মেয়েকে। ইমার এখনো সেদিনের স্মৃতি চোখে ভাসে। এনিয়ে ওদের বাবা- মায়ের সেকি ঝগড়া। ইমার গায়ে কক্ষনো হাত তুলতো না ওর বাবা৷ তার মেয়ের গায়ে কেউ হাত তুলুক সেটাও তিনি পছন্দ করতেন না। মায়ের সাথে বাবা ঝগড়া করে সেদিন সন্ধ্যায় বেরিয়ে গেলেন৷ ইমতি কোচিং থেকে ফিরে এসে ইমাকে কাঁদতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করে। ভাইকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে সব বলল। ওর গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছাটা বাবা মায়ের ঝগড়াঝাটি দেখেই উবে গেছে। কাচুমাচু মুখ করে কাঁদল ইমা। ইমতি বোনকে সান্ত্বনা দিল। মায়ের রাগ ভাঙিয়ে বাবাকে খুঁজে আনল সে। রাতে ইমতির মধ্যস্থতায় আবার সব ঠিক হয়ে যায়। তখনই ইমা বোঝে ওর গ্রাম দেখার সাধটা পুরোপুরি উবে নি। এখনো কিছুটা অবশিষ্ট আছে। ইচ্ছা পূরণ হবার নয় ভেবে রাতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল আরেকদফা। ও ভেবেছিল ইমতি ভাই বুঝি কিছুই টের পায়নি। কিন্তু ও কি জানে, পাশের খাটে শুয়ে থাকা ইমতি বোনের ফুপানোর আওয়াজ ঠিকই পেয়েছিল। পরদিন ইমতি ভাইয়ের সাথে অকারণেই ঝগড়া হলো ইমার। এমন ভাইবোন টাইপ ঝগড়া প্রায়ই হতো। মাঝে মাঝে কারনেও হতো আবার। ইমার মনে হতো ওর মা ইমতি ভাইকেই বেশি ভালোবাসে, আর ওর ইমতি ভাইয়ের ধারণা বাবা ইমাকে বেশি ভালোবাসে। ব্যস! লেগে যায় ঝগড়া এতে। ইমার সাথে ইমতি বয়সে বড়ো হলেও পারত না। প্রচন্ড রাগ ইমার। তেমনি জেদি। ইমতির সাথে কথায় পেরে না উঠলে ভাইয়ের চুল টেনে,কামড়ে, খামচে বিজয় হাসিল করত। বেচারা ওর ইমতি ভাই। একেবারে পোলট্রি মোরগ। পরে অবশ্য ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছিল ভাইয়ের হাতে কামড়ের দাগ,খামচির আঁচড় দেখে। ওর মা তো ছেলের ক্ষত স্থানে মেডিসিন লাগাত আর বকত। তার আগে অবশ্য ইমাকে দু’চার ঘা ঠিকই দিতেন তিনি। ছেলেকে প্রশ্নবাণে বার বার বিদ্ধ করতেন, কেন ইমতি ছোটো বোনের কাছে বার বার মার খায়? কেন ইমাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়না। কয়েকবার থাপ্পড়ও মেরেছিলেন রাগের চোটে। কিন্তু যা তাই। ইমতি কখনোই কারো গায়ে হাত তুলতো না৷ সে ইমা হোক কিংবা পাড়ার সবচেয়ে দুষ্টু ছেলেটি, যার হাতে ইমতি বহুবার নিগৃহীত হয়েছে। ইমা একটু ভিন্ন ছিল। রাগ উঠলে যেমন জেদি,আর মারকুটে হয়ে যেত, রাগ পড়লে তারচেয়েও বেশি নরম মনের,মায়াবতী হয়ে উঠত। সবার প্রতি ছিল ওর প্রচণ্ড মায়া। সবচেয়ে বেশি ছিল ওর ভাইয়ের প্রতি। ইমা একটু বড়ো হওয়ার পর, ওর ভাইয়ের গায়ে পাড়ার কোনো ছেলেই হাত তোলার সাহস করেনি৷ কেউ চোখ রাঙিয়ে তাকালে তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে দিয়ে আসতো৷ আর গায়ে হাত তুলতে এলে তো ইমার স্পেশাল ব্যাটের বাড়ি! ইমতি এই নিয়ে মজা করে সবাইকে বলত, “সি ইজ মাই সিস্টার বিকাম ব্রাদার।”

বিকেল গড়াতেই দুই ভাইবোনের মধ্যে আবার সব মিটে গেল। ভাইয়ের গলায় ঝুলে ঝুলে গল্প করতে লাগল ইমা৷ ভাই ব্যথা পেয়েছে কি’না, কষ্ট পেয়েছে কি’না জিজ্ঞেস করে খুব আহ্লাদ করত। ইমতি বোনের বোকা বোকা কথায় হাসে তখন। ইচ্ছা করেই আবার রাগাতে চেষ্টা করে কিন্তু ইমা এবার আর রাগে না। সে ভাইকে অনেকগুলো কিস্সি দেয় গলা ধরে পিঠে ঝুলতে ঝুলতে।

পরদিন ছিল ইমার বার্থডে। ইমতির কলেজে ভর্তি পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায় সে মাসে। তাই ওর বাবা – মা এবার আর ইমার বার্থডে পালন করবে না বলে জানায়। এটা শুনে ইমা চেঁচিয়ে, কেঁদে পুরো এলাকা মাথায় তোলে। লজ্জায় ইমার মায়ের মাথা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থা। ইমার বাবা ধার করে সব আয়োজন করতে চাইল কিন্তু ইমার মা তাতে রাজি না। মেয়ের এই জেদি স্বভাব তার বিন্দুমাত্র পছন্দ না। মেয়েকে শিক্ষা দেবেন বলেই সেবার সত্যি সত্যি বার্থডে পালন করা হলো না। রাগে,ক্ষোভে যা পেয়েছে তাই ভেঙেছিল,ছিঁড়েছিল ইমা। মার ও খুব খেয়েছিল মায়ের কাছে। কাঁদতে কাঁদতে না খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালে চোখ মেলতেই দেখল বিছানার পাশে ইমতি ভাই ওর জন্য গিফট রেখে গেছে। সাইজে বেশ বড়ো ছিল সেটা। আনপ্যাক করতেই অবাক হয়েছিল ইমা। কাঠ, কাগজে তৈরি একটা ছোট্ট গ্রামের বাড়ির আদলে গড়া শোপিচ। সত্যিকারের গ্রামের বাড়ি না হলেও ওটা পেয়ে অনেক খুশি হয়েছিল সেদিন ইমা। বার্থডে না পালনের দুঃখটা একেবারেই ঘুঁচে গিয়েছিল ভাইয়ের দেওয়া গিফট পেয়ে। বিকেলে ভাই আসতেই দু’হাতে জড়িয়ে ধরল। সেদিন ইমার মনে হয়েছিল পৃথিবীতে ভাইয়ের চেয়ে বেশি ও কাওকে ভালোবাসে না। পরদিন মা ভালো ভালো রান্না করল। ইমতি ভাই ও তার পছন্দের বিফ বিরিয়ানী। মা নিজ হাতে একটা কেক ও বানিয়েছিল ইমার জন্য। ইমার খুশি সেদিন দেখে কে! গত ইদের প্রিন্সেস ড্রেস টা পড়ে সেজেগুজে বসে রইল বাবা এবং ভাইয়ের আশায়। সন্ধ্যা গেল,রাত গেল। বাবা – ভাই আর ফিরে এলো না। পরদিন এলো তাদের নিস্তেজ, প্রাণহীন দেহ। ইমার বলায় হলো না ভাইকে,
” ভাইয়া তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি। আমার চেয়েও বেশি, পৃথিবীর সবার চেয়ে বেশি।” ইমতি ভাইয়ের শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হয়নি আর বরং শূন্যতা দিনে দিনে বিশালাকার খাদে পরিণত হয়েছে। বাবা-ভাইয়ের হত্যাকারীর নাম শোনার পর সেই খাদ হয়েছে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড। জ্বলছে ইমা, আপনজন হারানোর শোক তাকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বানিয়েছে। এখন ভালোবাসা আসে না, আসে তো কেবল ভস্মীভূত করার বাসনা। এই শানকে শেষ করে দেওয়ার তীব্র আকাঙ্খা জাগে। তাতেও সফল হয়না মনটার জন্য। আপনজন হারা মেয়েটি হেরে যায় ভালোবাসা কাতর প্রেমিকার কাছে। তার পায়ের তলার মাটি সরে যায় শানের ক্ষতির কথা ভাবতেই। এই হাতেই সে শানকে ছুরিকাঘাত করেছিল! এই হাত দিয়ে শানকে আঘাত করেছে। মাঠের পাশে পড়ে থাকা কোদালটার ধারালো পাত চেপে ধরে। দু’চোখ বন্ধ করে অপর হাতটা দিয়ে ঠেলতেই অনেকখানি ধারালো পাত ইমার হাতে ঢুকে যায়। চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে আসে মুখ দিয়ে। ব্যথায় চোখ ভিজে আসে।

শান রেডি হয়ে নিচে নামতেই দেখে সদর গেট খোলা। মতিনটা আশেপাশে নেই। ইমাকেও দেখা যাচ্ছে না। উদ্বিগ্ন শান ঝড়ের বেগে ছুটে আসে গেটের বাইরে। অদূরে মাঠের পাশে বসে থাকা ইমাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়।

” কী করছিলে এখানে?”

” ভয় পেয়েছেন, ভেবেছিলেন আবার পালিয়ে গেছি?”

” তোমার ভরসা কী? বরকে ছেড়ে পালানোর কোনো ম্যারাথন প্রতিযোগিতা হলে নিশ্চিত জিতবে তুমি।”

” বর,বর! কিসের বর? আপনি আমার বর নন। কিছুই নন আপনি আমার।”

ইমা মুখোমুখি দাঁড়ায় রক্তিম চোখে চেয়ে। বিধ্বস্ত চেহারা ওর। শান এগোতেই সরে দাঁড়ায়।

” কাঁদছিলে কেন তুমি?”

” আপনাকে জবাব দিতে বাধ্য না ইমা।”

ইমা পাশ কাটতেই হাত টেনে ধরে শান। এটা সেই হাত যে হাতে একটু আগে আঘাত করেছে ইমা। শানের হাতটা মাখামাখি হয়ে গেল রক্তে। ইমার শরীর দূর্বল হয়ে আসছে। নিজেকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সে। শান আর্ত কণ্ঠে চেঁচিয়ে ওঠে

” মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার? কী করছিলে এসব!” গায়ের টিশার্ট খুলে কাটা স্থানের উপর বাঁধে। ইমার বাধা উপেক্ষা করে কোলে তুলে ছুটতে থাকে বাড়ির দিকে। ইমার চোখের সামনে ঝাপসা হচ্ছে ক্রমশ। শানের হাতের বাঁধন থেকে ছুটতে চাইছে। ঠিক তখন ঝাপসা চোখে দেখল শানের বুকের ঘা। দু’চোখে ভরা প্লাবন নামে। আলতো করে হাত বুলিয়ে বিরবির করে,

” আপনি কেন আমার বাবা, ইমতি ভাইকে মারলেন শান? কেন আপনার কারনে আমি আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে পারলাম না? কেন আজ এতো কষ্ট আমাদের? আমাকে মেরে ফেলুন, শেষ করে দিন আমাকে। শান আমি আপনাকে ভালোবাসি,অনেক ভালোবাসি। কেন ধোঁকা দিলেন আমাকে? আমার অপরাধ কী ছিল? কী ছিল অপরাধ আমার বাবা,আমার ইমতি ভাইয়ের? আমাকে মরতে দিন। আমি মরে গেলেই আপনি ভালো থাকবেন। আমাকে মরতে দিন।”

শানের পা কাঁপছে। দু’পা এগোলেই গেট। ইমিডিয়েটলি ইমার হাতের রক্ত বন্ধ করতে হবে। কিন্তু পা চলছে না। ইমাকে ধরে রাখা দু’হাত দূর্বল হতে লাগল।

” না, শান না৷ কিছুতেই ছাড়িস না ইমাকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধর। সমস্ত শক্তি দিয়ে আগলে ধর তোর ইমাকে।” শান পারছে না। ইমা অচেতন হয়ে পড়ে আছে দু’হাতের উপর। তাদের বিচ্ছেদের এমন কারণ বের হবে শান ভাবতেও পারেনি।

“ইমতি,ইমতি।” নামটা কয়েকবার উচ্চারণ করতেই দমবন্ধ হয়ে আসে শানের৷ এবার শুধু পা নয়,সর্বশরীর কাঁপছে।

মতিনের সহযোগিতায় ইমাকে রুমে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কল করা হয়েছে ডাক্তারকে। ডাক্তার এলো, প্রচুর রক্তক্ষরণে ইমা দূর্বল হয়ে পড়েছে। স্যালাইন দেওয়া হলো। ইনজেকশন দেওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে দ্রুত হসপিটালে ভর্তি করতে হবে বলে জানিয়ে গেল ডাক্তার। মোবারক অনেকটা সময় ছিল স্বস্ত্রীক। সান্ত্বনা দিল শানের পাশে থেকে। কিন্তু ও কি জানে! পৃথিবীর কোনো সান্ত্বনায় আজ শানের জন্য নয়। আসমা সন্ধ্যা পর্যন্ত ইমার শিওরে বসেছিল বাচ্চাকোলে নিয়ে। রাত হতেই শান ওদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। সারারাত ইমার শিওরে জেগে রইল সে। পরদিন ইমরোজকে কল করে সব জানাতেই ইমরোজ কিছু সময়ের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে কী করতে হবে শান বুঝতে পারছে না। ইমরোজ ওকে সত্যের মুখোমুখি হতে বলে। ইমাকে সবটা বিস্তারিতভাবে জানাতে বলে। শান তাতে সম্মত হতে পারেনা৷ কী করে হবে,কী ভাবে হবে? ইমার ভাইকে প্রত্যক্ষভাবে সে খুন না করলেও পরোক্ষভাবে এই খুনের পেছনে ওর হাত আছে। শান নিজে সেদিন ওদের ধরে এনে মাহিব,বড়ো বাবার হাতে তুলে দিয়েছিল। খুনিতো সে নিজেও। খুনের সাহায্যকারীও তো খুনিই হয়। শান ভেঙে পড়ে। ইমার জ্ঞান ফেরার আগে নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইমরোজ সেটা বুঝতে পেরে নিষেধ কর,বোঝাতে থাকে। শান কিছুই কানে তোলে না৷ মোবাইল বন্ধ করে শেষবারের মতো ইমাকে দেখে নেয়৷

” বলেছিলাম তোমার অনুমতি ছাড়া এমন কিছুই করব না যা তুমি অপছন্দ করো। শেষবারের মতো ক্ষমা করো আমায় তুমি।”

অচেতন ইমার দু ঠোটে চুম্বন করতেই চোখের জলে ঠোঁট ভিজে আসে। ইমার কপালে,গালে চুম্বন এঁকে কান্নায় ভেঙে পড়ে শান। ইমার দু’হাত ধরে মাথা ঠেকিয়ে বলে,

” বিশ্বাস করো আমি স্বেচ্ছায় কিছুই করিনি। গোলামরা স্বেচ্ছায় কিছুই করেনা। আমি কারো গোলামি করতে গিয়ে অপরাধী হয়েছি সবার চোখে, তোমার চোখে। আমি তোমার বাবা ভাইকে নিজ হাতে খুন করিনি। একথা যেমন সত্য, তেমন এও সত্য তাদের মৃত্যুতে আমারও হাত আছে৷ আমি পাপী। আমি তোমার যোগ্য নই৷ সেদিন যদি একথা জানতাম,তোমার হাতের ছুরি অবলীলায় বুকে পেতে নিতাম। একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, আমার মৃত্যু আরো করুন হওয়া উচিত।”

উঠে দাঁড়াতে হাত ধরে ফেলে ইমা। সচকিত হয়ে ঘুরে তাকায় শান। ঘুমের ঘোরে ইমা অস্ফুটে বলে,

” আমাকে একা ফেলে চলে যাবেন না শান। প্লিজ,যাবেন না।”

” তোমার মুখোমুখি হওয়ার সাহস,মুখ কোনোটাই যে নেই ইমা। আমার ভুলে আমি আজ স্বর্বস্বান্ত হতে চলেছি।”

দু’চোখের জল অবাধে গড়ায়। শান আস্তে করে হাতটা ছাড়িয়ে চলে আসে সিঁড়ির কাছে৷ এক সিঁড়ি, দুই সিঁড়ি শেষ হচ্ছে না যেন,শেষ হচ্ছে বাঁচার আশা!

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here