তুমি অতঃপর তুমিই পর্ব ৮+৯

তুমি অতঃপর তুমিই
পর্ব-০৮
Writer Taniya Sheikh

সেদিন শান হুট করেই চলে যায় বীণার বাসা থেকে। ইমা আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখেছিল সেই যাওয়া। শানকে মাথা থেকে সরাতে সময় খুব একটা লাগল না ইমার। তবে হুটহাট ঠিকই মনে পড়ত। ডান হাতের ক্ষতটা দেখলে কিংবা বীণা খালার ছাদের কোনায় তাকালে। মনটা হু হু করত কেন যেন। এই লোককে প্রথম দেখায় ভালো লাগল। পরমুহূর্তে তার ব্যবহারে মনটা বেঁকে বসেছিল। সে হাজারটা অন্যায় করবে, এই লোকটা কেন বার বার তাকে শাস্তি দেয়,ভয় দেখায়? ইমা মুখ ভেংচে আপন মনে বলতো,

” কাইষ্টা একটা।”

প্রায় একসপ্তাহ পরের কথা। ইমা এক বান্ধবীর বিয়ে উপলক্ষে তৈরি হয়ে গেল উত্তরার এক ক্লাবে। বিয়ের পূর্বে ব্যাচেলর পার্টির আয়োজন করা হয়েছে এখানে। ইমার এই বান্ধবীটি ধনীর দুলালী। ইমার স্কুল ফ্রেন্ড। কলেজের গন্ডি ইমা পেরোয় নি। তার আগেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টেনেছে সে। আজকাল মোবাইল যুগ। দেখা না হোক নিয়মিত কথা ঠিকই হতো বান্ধবী আরিশার সাথে। ইমা ক্লাবের সম্মুখে এসে দাঁড়াল। সঙ্গে আসা ইরা চমকিত নয়নে সামনে তাকিয়ে বললো,

” ওয়াও! চোখ ধাঁধানো সুন্দর তাই না আপু?”

” ঐ হলো আরকি?”

” ঐ হলো বলছিস? তুই না! ইশ সবাই কী সুন্দর সুন্দর রেড গাউন পড়েছে। আর আমার টা এদের গাউনের ধারেকাছেও যাচ্ছে না।”

ইরার মলিন মুখটা দেখে ইমা ধমকের সুরে বললো,

” এটাই হলো মানুষের স্বভাব। দূরের বস্তু হামেশাই সুন্দর লাগে। তোরটা কী কম সুন্দর?”

ইরা মুখ খোলে না এই প্রসঙ্গে। মুখ খুললেই থাপ্পড় খাবে নিশ্চিত। সুতরাং প্রসঙ্গ পাল্টে বলে,

” তুই তো পড়লি না গাউন।”

” ওসব আমাকে পড়তে দেখেছিস কোনোদিন? ”

” দেখেছি তো। ঐ যে তোমার ছোটবেলার ছবিতে। কী মিষ্টি লাগত তখন তোমাকে। আর এখন কেমন দজ্জাল দজ্জাল ভাব।”

” কী বললি?”

” না মানে। বলতে চাইছি তুমি বড় হয়ে এমন হয়ে গেছ ক্যান? আগের মতো মিষ্টি মিষ্টি থাকলে ক্ষতি কী ছিল?”

ইমা মুচকি হাসল। বললো,

” আগের মতো মিষ্টি মিষ্টি থাকলে আজ রেডলাইট এড়িয়ার বাসিন্দা হয়ে যেতাম। পড়িয়া বিপাকে গণেশ মাঝি গরু রাখে।”

” মানে?”

” বুঝবি না তুই। মাথায় উপর নিরাপদ আশ্রয় থাকলে কেউ বোঝে না,দেখে না পৃথিবীর আসল চেহারা। এখন কথা থামিয়ে ভেতরে চল।” ইরার হাত টেনে ধরে বিরক্ত মুখে ভেতর ঢুকল ইমা। রঙ বেরঙের আলোয় আলোকিত ক্লাবের ভেতর অংশ। ইংলিশ গানের তালে তালে নাচছে নারী পুরুষ। ইমা ভীর ঠেলে ইরার হাত ধরে এগিয়ে গেল বান্ধবীর কাছে। আরশি তার হবু বরের সাথে কাপল ড্যান্সে মশগুল ছিল। ইমাকে দেখতেই এক চিলতে হেঁসে এগিয়ে আসে। ক্লাবের একপাশে বেঙ্গলি, চাইনিজ, থাই ফুডের সমারোহ। অপরপার্শ্বে নামী দামী ব্রান্ডের তরল জাতীয় নেশার দ্রব্য। ওদিকটাই শোরগোল কম দেখে আরশি সেদিকে নিয়ে আসল ইমাকে। ইরা হাঁ করে দেখছে সবাইকে। এমন পরিবেশ শুধু সে টিভিতে দেখেছে। ঐ যে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে হয় ককটেল পার্টি, এটা তেমনই। আরশির দিকে বিস্ময়ে চেয়ে আছে ইরা। গলার অনেকখানি নিচে নেমেছে তার ড্রেস। ইরাকে ওভাবে তাকাতে দেখে আরশি হাসল। ইরার গালে হাত রেখে বলল,

” ভালো লাগছে না?”

ইরা অপ্রস্তুত হেঁসে বললো,

” অনেক সুন্দর লাগছে। আপনি এমনিতেও তো অনেক সুন্দর। ”

” তাই?” আরও চওড়া হেঁসে ইমার দিকে ঘুরে তাকায়। তিনজনে কথা বলার একফাঁকে আরশি ইমাকে টেনে হবু বরের সামনে হাজির হয়। ইমা ইশারায় ইরাকে ইনজয় করতে বলে আড্ডায় মেতে ওঠে আরশিদের সাথে৷ ইরা এমন পরিবেশে এই প্রথম আসল। একপ্রকার জোর করেই এসেছে সে ইমার সাথে৷ হাতে এক গ্লাস ওরেঞ্জ জুস নিয়ে ঘুরে ঘুরে চারপাশটা দেখছে ইরা। জুসের গ্লাসের স্ট্র ঠোঁটে টেনে বসল বারের চেয়ারটায়। সামনে সবাই নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড় করছে। গলা উচু করে বোনকে দেখে নিল এ ঝলক ইমা। অদূরে দাঁড়ালেও সতর্ক দৃষ্টি ইমার ইরার উপরেই। আরশি ইমাকে তার হবু বরের দু’জন ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ছেলে দু’টোর একজন গায়ে পড়া স্বভাবের। একটু পর পরই ইমার কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করছে। ইমা বিরক্ত হয়ে চোখ দেখাল ছেলেটাকে। না! ছেলেটা দমল না। বরঞ্চ আরও বাড়ল তার ঘেঁষাঘেষির রোগ। শেষে ইমার প্রচন্ড রাগ হল। ছেলেটার সাথে কথা বলার ছলে আড়ালে এনে কষিয়ে দিল দুই চড়। কলার ধরে ধামকি দিতেই ভয়ে মেইয়ে গেল ছেলেটা৷ সরি বলে কোনোমতে পালিয়ে বাঁচল ইমার সামনে থেকে। ইমা ছেলেটার উদ্দেশ্যে পৃথিবী কুখ্যাত গালি বর্ষণ করে হাতটা ধুয়ে এলো পার্টির স্থানে। ইরাকে খুঁজতেই দেখল একটা লম্বা করে লোক ওর হাত ধরে ওকে খারাপ স্পর্শের চেষ্টা করছে। ইমার মুখ রাগে রক্তিম হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। ছুটে গিয়ে লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে বোনকে দু’হাতে কাছে টেনে নিল। ইরা ভয়ে কাঁপছে। ইমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ইরা। ইমা সামনে দাঁড়ানো লোকটার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে চেয়ে বললো,

” কী হয়েছে ইরা?”

” আপু এই লোক আমাকে বাজে কথা বলছে।” ইরার সিক্ত গলার স্বর কাঁপছে।

” কী বলেছে তাই বল?” চিৎকার করে ওঠে ইমা এ পর্যায়ে। ইমার চিৎকারে সবার আমেজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলো। আরশি ওর হবু বরের সাথে ছুটে এলো এদিকে। সবার উৎসুক দৃষ্টি ইমা,ইরাকে ঘিরে। ইরা সামনে মুচকি হাসা লোকটার দিকে তাকিয়ে পরক্ষনেই চোখ খিচে বন্ধ করে বললো,

” ওনার সাথে রাত কাটাতে বলছে।”

ইরার শব্দ করে কেঁদে ওঠে কথা শেষ হতে। ইমা পায়ের জুতা খুলে লোকটার মুখে মারে সঙ্গে সঙ্গে। কলার টেনে ধরতেই আরশি এবং ওর হবু বর ইমাকে জোর করে সরিয়ে আনে। অতিরিক্ত রাগে কন্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে গেছে ইমার। ইমা দেখল আরশি এবং ওর হবু বর লোকটার সামনে মাথা নত করে ক্ষমা প্রার্থনা করছে। ইমা তাতে যেন ফুঁসে ওঠে। আরশি ইমাকে চাপা স্বরে বললো,

” সরি বল ইমা। মাহিব খানের গায়ে হাত তোলা আর নিজের মৃত্যু ডেকে আনা একই কথা। সরি বল তাড়াতাড়ি।” বান্ধবীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বোনকে নিয়ে বেরিয়ে আসে ক্লাব থেকে। আশেপাশে একটা ট্যাক্সিও পেল না। ইরা ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ইমা বোনের মুখ দু’হাতে তুলে বললো,

” বুঝেছিস তো কেন আমি মিষ্টি মিষ্টি না এখন। মিষ্টি দেখলেই ওমন মাছি ছুটে আসে। কাঁদিস না। চোখ মোছ।”

” আপু আমার ভয় করছে।”

” ভয় নেই। তোর বোন থাকতে কোনো ভয় নেই।” ইরার চোখ মুছে এক হাতে জড়িয়ে বাস স্ট্যান্ডে দিকে হাঁটল। কিছুদূর এগোতেই সামনে এসে দাঁড়াল একটা হোয়াইট কালার কার। জায়গাটা বেশ নির্জন হওয়ায় ওরা দুজনই ঘাবড়ে গেল। জড়োসড়ো হয়ে পেছতেই কার থেকে মাহিব খানকে রাগত ভঙ্গিতে বেরোতে দেখে ইরা চিৎকার করে ইমার পেছনে লুকায়। ইমার যে ভয় করছে না তা নয়। ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছে সে। মাহিব খান এগিয়ে এসে ইরাকে ছুঁতে গেলে ইমা হাত ধরে ফেলে। ঝাঁঝালো স্বরে বলে,

” একবার জুতার বারি খেয়ে হুশ ফেরে নাই? তোর চৌদ্দ গুষ্ঠির নাম ভুলিয়ে দেব ফের হাত বাড়ালে।” মাহিব খান নিজের হাত ছাড়িয়ে ইমার হাতটা মুচরে ধরে নিজের কাছে টেনে আনে। কানের কাছে মুখ এনে বলে,

” তো ঠিক আছে। আগে তুমি চলো পরে না হয়,,!”

ইমা সর্বশক্তি ব্যয়ে গায়ের জোরে মাহিব খানকে ঠেলে সরিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। তারপর ঘুরিয়ে দেয় চড়। এতোজোরেই চড়টা দিয়েছে যে হাতের তালু জ্বলছে ইমার। মাহিব চোয়াল শক্ত করে ইমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। টেনে তুললো গাড়ির মধ্যে। ইরা চিৎকার করতে গেলে শামীম মুখ চেপে ধরে। গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে আসে নির্জন স্থানে। শামীমকে ইশারায় ইরাকে নিয়ে গাড়ির বাইরে যেতে বলে। বিনাবাক্য ব্যয়ে বসের হুকুম তামিল করে শামীম। ইমাকে হাত মুখ বেঁধে কারের ব্যাক সিটে ফেলে গাল টেসে ধরল মাহিব। ইমার মনে হলো গালের দু’পাশ ছিঁড়ে মাহিবের আঙুল গেঁথে যাচ্ছে। মাহিব ইমার সিক্ত ঘৃণা ভরা চোখের চাহনী উপেক্ষা করে বললো,

” আমার গায়ে আজ পর্যন্ত হাত দেওয়া সাহস আমার বাবা -মায়েরও হয়নি। আর তুই সামান্য একটা মেয়ে হয়ে আমাকে চড় মেরেছিস। মাহিব খানকে? এর মাশুল তো তোকে দিতেই হবে তাই না?” মাহিব ইমা গাল ছেড়ে ক্রমশ গলার নিচে হাত নামায়। ইমা আতঙ্কিত চোখে চেয়ে অনুনয় করছে। মাহিব যেন তাতে আনন্দ পেল। ইমার শার্টের সামনের অংশ এক টানে ছিঁড়ে ফেলতেই চোখ বন্ধ করে আর্তচিৎকার করে ওঠে ইমা। মুখ বাঁধায় সে চিৎকারের ধ্বনি বেশিদূর অব্দি গেল না। মাহিবের মুখ ধীরে ধীরে ইমার দিকে নেমে এলো। ঠিক তখনি কারের দরজা খুলে যায়। মাহিব বিরক্ত মুখে ঘার ঘুরাতেই সেখানে ঝুঁকে দাঁড়ানো শানকে দেখল। শান রক্তবর্ণ চোখে একবার মাহিবকে দেখছে একবার ইমাকে। দরদর করে ঘাম ঘামছে তার শরীর। মাহিব রাগত স্বরে কিছু বলবে তার পূর্বেই টেনে বের করে আনে তাকে শান। গাড়ির বাইরে ছুঁড়ে ফেলে ইমার পাশে গিয়ে বসে। শানকে অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়ে ইমা বাচ্চা শিশুর মতো কাঁদতে লাগল। শান দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে ইমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। দু’হাতে নিজের ছেঁড়া শার্ট আঁকড়ে জবুথবু বসে কাঁদছে ইমা। এতোটা লজ্জা সে এর আগে কোনোদিন পায়নি। শানের কম্পনরত হাতটা ইমার মাথায় রাখতেই ইমা ঝাপিয়ে পড়ে শানের বুকে। গগনবিদারী চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। দু’হাতে ইমাকে জড়িয়ে বেরিয়ে এলো গাড়ি ছেড়ে শান। মাহিব হুঙ্কার দিয়ে বললো,

” পালতু কুত্তা হয়ে আমার গায়ে হাত তুলিস? এই মেয়ে আমার শিকার। ভালোয় ভালোয় ফিরিয়ে দে শান।”

শান কোনো কথার জবাব না দিয়ে ইমাকে নিয়ে সামনে হাঁটছে। ওদিকে শামীমকে বেদম পিটিয়ে ইরাকে নিয়ে আগেই নিজেদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছে ইমরোজ। ইরা বোনকে নিরাপদ দেখে কান্না গতি কমায় কিছুটা। শানকে নিরুত্তর দেখে আরও যেন খেঁপে গেল মাহিব। শানের বুক থেকে টেনে আনার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই শান হাত ধরে ফেলে। স্থির চোখে মাথা নাড়িয়ে থমথমে গলায় বলে,

” নো ভাই।”

মাহিব চেঁচিয়ে বলে,
” এই মেয়েকে আমার চাই শান। ওকে ফেরত দিয়ে যা।”

শান থেমে চোখ বন্ধ করে শ্বাস ছেড়ে পুনরায় চোখ খুলল। কপালের রগ দপদপ করছে শানের। শান বললো,
” আমার জান চাইলে সেটা দিতে পারব ওকে নয়।”

” কেন? কী হয় এই মেয়ে তোর?”

” সবকিছু। আমার পৃথিবী ও। আমার সমস্ত কিছু। ওকে ছুঁয়ে তুমি ভালো করো নি। মোটেও ভালো করো নি। আমার সামনে থেকে চলে যাও নয়ত খুন করে ফেলব তোমাকে। চলে যাও বলছি।”

শানের চিৎকার করে বলা কথায় মাহিব চমকে ওঠে। ঢোক গিলে শানের রক্তচক্ষু দেখে পিছিয়ে যায়। শামীম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ছুটে এসে দ্রুত মাহিবকে নিয়ে গাড়িতে ওঠে। চোখের পলকে ছুটে চলে যায় ওদের গাড়ি।

শান দু’হাতে ইমাকে নিজের বুকে মিশিয়ে নিরবে অশ্রু ফেলল। ইমার সে’সময় কোনো হুশ নেই। ভয়ে,আতঙ্কে সে জড়পদার্থের ন্যায় মুখ লুকিয়ে আছে শানের বুকে। শান গাড়িতে চড়ে বসল ইমাকে বুকে নিয়ে। গাড়ি চলছে শানের নিজ ফ্লাটের উদ্দেশ্যে। ইমার অচেতন মুখে তাকিয়ে শান মনে মনে বললো,

” তুমি আমার সেই, একথা জানার পর আমি অস্থির ছিলাম। ভেবেছিলাম অস্থিরতা কেটে যাবে। ভোলা যাবে সহজে তোমাকে। অপছন্দ করতাম তো তোমাকে। আমি বুঝি নাই আমার অপছন্দ নয় পছন্দের সমস্তটা জুড়ে বসেছিলে তুমি। হ্যাঁ তুমি অতঃপর তুমিই। দূরে গিয়ে তুমিময় হয়েছি আমি। মাহিব জানে না ও কী করেছে? কাকে ছুঁয়েছে? আমার কলিজা ক্ষত করার অপরাধে কঠিন শাস্তি পাবে ও। তোমাকে না দেখিয়ে সে শাস্তি আমি ওকে কী করে দেই বলো? আমার প্রাণ চলে যাক তবুও তোমার ক্ষতি করার সাধ্য কারো নেই। কারো নয়। আমার হৃদয় জুড়ে যে ঝড় উঠেছে তাকে থামাতে তোমাকে স্বাভাবিক হতে হবে ইমা। আমাকে ভালোবাসতে হবে। আমি বুঝেছি তোমাকে ছাড়া আমি আমি নই। আমি কিছু না। আমাকে সম্পূর্ণ করতে তোমাকে আমার হতেই হবে। নয়ত আমি ক্ষয়ে যাব, নিঃশেষ হয়ে যাব চিরতরে একনিমেষে।”

চলবে,,,
তুমি অতঃপর তুমিই
পর্ব-০৯
Writer Taniya Sheikh

আবছায়ার মাঝে চোখ মেলল ইমা৷ অনুভব করল নরম তুলতুলে বিছানায় শায়িত সে। এই অনুজ্জ্বল আলোয় পুরো রুমটায় এক ঝলক নজর বুলিয়ে নিল। বেশ বড়সড় রুমটা। ইমা উঠে বসল। মাথার কাছের থাই গ্লাস ঠিকরে বাইরের আকাশের চাঁদের আলো মুখে পড়ছে। তাতেই নিজের অর্ধ ছেঁড়া শার্ট চোখে পড়ল। অন্তর্বাস সহ বুকের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে আছে। পরক্ষনেই মনে পড়ল তখনকার ঘটনা। ইমার কান্না পেল খুব। কিন্তু এলো না কান্না। ভেতরে সব যেন গুমোট বেঁধে আছে। ভার ভার লাগছে সব। বুকের শার্ট দু’হাতে জড়ো করে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল ইমা। সঙ্গে সঙ্গে পাশ্ববর্তী কিছুর সাথে ধাক্কা লাগতেই ঝনঝন শব্দে কী যেন পড়ল ফ্লোরে। দুই হাতের কনুই বুকে ঠেসে, মুঠে ঠোঁট চেপে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল ভয়ে৷ সেকেন্ড সময়ের ব্যবধানে বন্ধ চোখের পাতার উপর বৈদ্যুতিক বাতির তীক্ষ্ণ আলো উপলব্ধি করে। ভীরু চোখজোড়া মেলতেই শানকে দেখল সে। ইমার দৃষ্টি আঁটকে গেল শানের চোখে আর ঠোঁটে।

” কী হয়েছে? ইমা, কথা বলো প্লীজ! হেই আর ইউ ওকে? ”

ইমা নিবিড়ভাবে দেখছে শানকে। এমন করে উদ্বিগ্ন হতে মা’কে ছাড়া আর কাউকে সে দেখেনি। এমন মায়াও কারো চোখে ছিল না কোনোদিন তার জন্য। ইমার কান্না পাচ্ছে আবার। ” ধ্যাৎ! বার বার কেন কান্না পাচ্ছে? আমি কী তবে ছিঁচকাদুনে মেয়ে হয়ে যাব?” ঠোঁট উল্টাতেই শানের হাতের হালকা ঝাঁকুনিতে ঘোর কাটল। শান উদ্বিগ্ন স্বরে প্রশ্ন করল ফের,

” আর ইউ ওকে?”

” হু।” অস্ফুটে বের হলো ইমার গলা থেকে।

শান যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ঝুঁকে বললো,

” ভয় পেয়েছিলে?”

” হু!”

” ভয় নেই। আমি আছি তো। বসো এখানে।”

শানের ” আমি আছি তো” কথাটা ইমার হৃদয় ছুঁয়ে গেল। বিমোহিত নয়নে চেয়ে রইল অ্যাশ কালার টিশার্ট পরিহিত সুদর্শন পুরুষটার দিকে। শান নিজ হাতে টুকরো হওয়া শোপিচের অংশবিশেষ তুলে ডাস্টবিনে ফেলে। শানকে এগোতে দেখে আবার দাঁড়িয়ে যায় ইমা। শান খেয়াল করল দু’হাতে শার্ট ধরে বুক ঢাকার চেষ্টা করছে ইমা। ঘুরে আলমারি খুলে সেখান থেকে ব্লাক টিশার্ট এনে এগিয়ে ধরল ইমার সামনে।

” এটা পরো। আমার বাসায় লেডিস ড্রেস নাই। সো এটাই সম্বল। তোমার সমস্যা নেই তো এতে?”

ইমা চট করে টেনে বুকে জড়িয়ে নিল টিশার্টটা। শান ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই লজ্জায় আরক্ত হয়ে উঠল ইমার মুখ। এভাবে খপ করে নেওয়াটা যে ঠিক হয়নাই ভেবেই তার যতো লজ্জা। শান মুচকি হেঁসে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো,

” কাপড় পাল্টে বসার ঘরে আসো।” বাইরে থেকে দরজা টেনে চলে গেল শান৷ ইমা ঠোঁট টিপে নিজের অদম্য অনুভূতিকে সামাল দিতে চেষ্টা করল, হয়ত পারল না। বুকে জড়ানো শানের টিশার্টখানা ধীরে ধীরে নাকের কাছে এনে লম্বা শ্বাস নিল। মুহূর্তে শিহরণ জাগে দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

শান চুলায় খাবার গরম করে একে একে টেবিলে সাজাতে ব্যস্ত। ইমাকে জড়তা নিয়ে বেরোতে শান আড়চোখে দেখল। ঘোর লেগে যায়। এই রাত হতে কী পারত না তার মধুচন্দ্রিমা মধুক্ষণ। হায়ঃ এ যে কেবলই সবরের রাত। এমন আরও কতো রজনী সবর করতে হবে কে জানে? শান নিজের উত্তেজনায় লাগাম টানে। খাবার টেবিল ছেড়ে রান্নাঘরে যেতে যেতে বলে,

” বসো। খেয়ে নাও।”

শানের জিম করা পেশিবহুল বডি। ইমার চেয়ে ঢের প্রসস্থ দেহগড়ন। টিশার্টি তাই ঢুলা হয়েছে খুব। তবুও বেমানান হয়ত লাগছে না। লাগবেই বা কেন? ইমা যেন নিজেকেই নিজে পাল্টা জবাব দিল। ইতস্তত ভঙ্গিতে এসে বসল চেয়ারে। মাঝরাতে ঘুম ভাঙে না তেমন ইমার। আজ অভুক্ত শুয়েছিল বলেই জেগেছে। এই যে শান তার এতো কেয়ার করছে। নিজে প্লেটে তুলে দিচ্ছে খাবার। এই মাঝরাতে কোনো পুরুষ কী এতোটা করে? একি কেবলই স্বপ্ন! নাকি তার ঘোর। শান কেন এতো কেয়ার করবে তার? কিসের জন্যে? সে তো ইমাকে দু’চোখে সহ্যই করতে পারত না। ইমা এসব ভেবে আনমনা হয়ে যায়। ইমাকে আনমনে খাবার নাড়াচাড়া করতে দেখে শান বললো করে,

” কী হলো খাও?”

” হুমম।” না এ যে সত্যি। সে সত্যিই বাস্তবে আছে। শানের চোখে চোখ পড়তেই মাথা নুয়ে চুপচাপ খাচ্ছে ইমা। আজ নিজেকে দূর্বল মনে হচ্ছে। ঠিক সময় শান না আসলে মরা ছাড়া তার হয়ত কোনো গতিই আর থাকত না। সবাই তখন বলত এমন ধেড়ে মেয়ের এই হওয়ার ছিল। মেয়ে মানুষ হবে নম্র, সভ্য। এ তো ছিল ফুলন দেবী। ঠিকই হয়েছে এমন হয়ে। ইমার কষ্ট তো কেউ আগেও বোঝে নি, পরেও বুঝবে না। ফুলন দেবী ইচ্ছা করে কী কেউ হয়? ইমার কী মন চাই না অন্য সব মেয়ের মতো সাজানো গোছানো সুন্দর জীবনের। কিন্তু সে আট কপালে। পিতৃ, ভাতৃ বিয়োগ তাকে বাধ্য করেছে এমন হতে। যেদিন মামীরা তার মা’কে বাড়ি ছাড়া করে রাস্তায় নামানোর জন্যে উৎপাত জুড়েছিল, সেদিন যে তাকে বদলাতেই হয়েছিল। ওমন সহজ সরল থাকলে তো কবেই পথে নামতে হতো ওদের। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কতোকিছু হতে হয়। ইমার গুমোট বাঁধা ভেতর ক্ষয়ে দু’ফোটা নোনাজলে সিক্ত হয়। শান অদূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল সব। ইমাকে ঘিরেই যে তার সকল ধ্যান জ্ঞান। একদন্ড চোখের আড়াল হলেও বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে এখন। শান তরকারির বাটিটা টেবিলে রাখতেই ইমা চোখ মোছে। নিচু গলায় বলে,

” আমার বোন কই?”

” বাসায় পৌঁছে দিয়েছি ওকে।”

ইমার মুখে চিন্তার রেশ দেখে শান ফের বললো,

” ভয় নেই। ওকে বলেছি বাসায় যেন এসব না বলে এবং তুমি ফ্রেন্ডের বাসায় আছ এটা জানায় সবাইকে।”

” এতো কেন করছেন আমার জন্যে? ”

” করলে কী ক্ষতি আছে?” শান চেয়ার টেনে বসল। গ্লাসে পানি ঢেলে এক চুমুক দিতেই ইমা বললো,

” তা বলিনি।”

” তবে কী? ভয় হচ্ছে একা আমার সাথে থাকতে?”

” আপনি এখানে একা থাকেন?” বিস্ময়ে গলা চড়ে গেল ইমার। শান নির্বিকার।

” হ্যাঁ!”

” আপনার ফ্যামিলি?”

” এই যে এখানেই তো আছে।”

ইমা আশপাশে দেখে শানের দিকে তাকিয়ে ভ্রুকুটি করে কাঁপা গলায় বললো,

” মানে?”

শান গ্লাস টেবিলের উপর রেখে মুচকি হাসল। চোখ তুলে ইমার দিকে তাকিয়ে বললো,

” আমার ফ্যামিলি বলতে আমিই আছি।”

” মানে?”

” কী মানে মানে করছ বলো তো?”

” সরি!” ইমাকে পুনরায় মন খারাপ করতে দেখে শান এক নিবিষ্টে চেয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর বললো,

” আমি এতিম ইমা।” শান কথাটা বলে উঠে রুমে চলে গেল। ইমার বুকটা ধ্বক করে ওঠে কথাটা শুনে। মনে পড়ে গেল গণবিয়ের আসরের কথা। গলায় আর খাবার ঢুকছে না। হাত ধুয়ে বসে পড়ল পাশের সোফায়।

শান কিছু সময় পরেই বেরিয়ে দেখল ইমা সেখানে নেই। এদিক ওদিক তাকাতেই ব্যালকনিতে ছায়া দেখে শান্ত হলো হঠাৎ অশান্ত হওয়া শানের মন। টেবিল পরিষ্কার করে, খাবার ফ্রিজে রাখল। দু’কাপ কফি হাতে চলে এলো ব্যালকনিতে। ইমা একমনে চেয়ে ছিল দূর আকাশের চাঁদের দিকে। শান মৃদু কাশতেই তড়িৎ গতিতে ঘুরে দাঁড়াল। কফির কাপটা এগিয়ে ধরে শান বললো,

” চলবে?”

ইমা মৃদু মাথা ঝাঁকিয়ে কাপটা হাতে নিল। সে কফি খেতে অভ্যস্ত নয় তবুও নিল কেন জানে না। শুধু জানে তার ভালো লাগছে এই মানুষটার সঙ্গে সময় কাটাতে, তার সকল কথা চুপচাপ শুনতে,তাকে দেখতে নয়ন ভরে। আচ্ছা এমনটা কখন হয়? কী জানি! ইমার ভাবনায় ছেদ পড়ে শানের ভরাট গলার স্বরে,

” এতোটা চুপচাপ তোমাকে দেখব ভাবি নি আমি।”

” আমাকে নিয়ে ভাবেন নাকি আপনি?” কথাটা বলেই জিহ্বা কামড়ে চোখ বন্ধ করে মুখ ঘুরিয়ে নিল। শান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললো,

” ভাবলে কী অপরাধ হয়ে যাবে?”

ইমা অবনত মুখে মাথা নাড়ায়। শান ব্যালকনিতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে, ইমার দিকে চেয়ে কফির কাঁপে চুমুক দিচ্ছে। কফির স্বাদ যেন বেড়ে যাচ্ছে তাতে বহুগুন। ইমার এই রূপ সত্যি শান আশা করে নি। ওর সেই মারমুখী রূপে যতোটা না মুগ্ধ হয়েছিল এখন যেন তারচেয়ে বেশি হচ্ছে। নিজেকে দূরে রাখায় দায় হচ্ছে শানের। দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়ানো। একজন মুখ নুয়ে কাপ ঘুরাচ্ছে হাতের উপর, অপরজন তাকে দেখে দেখেই রাত্রি না ফুরানোর দোয়া মাগছে। ইমার দমবন্ধ হয়ে আসার উপক্রম এভাবে এই মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে। এখানে থেকে সরে দাঁড়াবে দাঁড়াবে করেও সরা হচ্ছে না ওর। খুবই সতর্কে একবার চোখ তুলতেই বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হলো ঐ মোহময় নজরে বিদ্ধ হয়ে। নিজেকে আবার আগের মতো চটপটে করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালালো ইমা। কিন্তু পারছেই না। মনটা বার বার দূর্বল হচ্ছে সেই সময়ের আতঙ্কে রেশ কাটাতে না পেরে। বহুক্ষণ এভাবে দাঁড়ানোর পর ইমা চোখ তুলে শানের দিকে তাকাল। শান চোখ সরিয়ে বাইরে দৃষ্টি রাখে। ইমা ঠোঁট শক্ত করল তা দেখে। অনুতপ্তের সুরে বললো,

” সরি!”

” কেন?” শান না তাকিয়ে প্রশ্ন করায় ইমা ভেতরে ভেতরে অভিমান করল। বললো,

” জানি না।” দ্রুত পদে বসার ঘর ডিঙিয়ে চলে গেল রান্নাঘরে। কাপের সবটা কফি ফেলে কাপ ধুয়ে পাশে রেখে ঘুরতেই শানের বুকে নাক লাগল। নাকেট ডগায় হাত বুলিয়ে চলে এসে দাঁড়াল ডায়নিং টেবিলের পাশে। শান টিস্যুতে হাত মুছতে মুছতে বললো,

” আচ্ছা তোমার ভয় করছে না? ”

” কেন?” গাল ফুলিয়ে প্রশ্ন করল ইমা। শান খেয়াল করল ইমা তার দিকে না ফিরেই জবাব দিয়েছে। টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলে ইমার দিকে এগোতে এগোতে বললো,

” আমি একা একটা পুরুষ আর তোমার তেমন চেনাও নই। সুতরাং ভয় পাওয়ার কথাই তো তাই না?”

” চেনা নন? হ্যাঁ তাই তো! তাহলে এখানে আছি কেন? চলে যাই।”

ইমা দরজার দিকে পা বাড়াতেই শান সামনে দাঁড়ায়। বলে,

” রাগ করলে নাকি?”

” অচেনা, অজানা মানুষের উপর রাগ করব কেন?”

” তাই তো?” শান ইমার অভিমানের সুর বুঝে মুচকি হাসে। সে হাসি ইমার চক্ষুগোচর হয় না। ইমা সরে দাঁড়িয়ে বলে,

” আপনি আপনাকে বাঁচালেন কেন? না বাঁচালেই পারতেন? চেনা তো আর নই।”

” হুমম! তবে চিনব বলেই না বাঁচালাম।”

ইমা ভ্রু তুলে অভিমানি দৃষ্টিতে তাকাতেই শান ঘুরে গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে বসল। রিমোট হাতে নিয়ে বললো,

” ভাবলাম গুন্ডি মার্কা একটা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করি। কিন্তু তেমন মেয়ে পাচ্ছিলামই না। ঠিক তখন নুসরাতের কল্যাণে তোমার সাথে দেখা। ব্যস ভেবে নিলাম তোমাকে বন্ধু না বানিয়ে ছাড়ছি না।”

” বন্ধু?” ব্যগ্রস্বরে বলে কিছুটা এগিয়ে দাঁড়াল ইমা।

” হ্যাঁ! কেন হতে কী পারিনা তোমার বন্ধু? ” আরও আয়েশ করে বসে টিভি দেখায় মনোযোগ দিল। আসলে তো এসব ছলনা। তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু কেবল ইমা।

ইমা ভীষণ রকম রাগল মনে মনে। দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মনে মনে বললো,
” হালায় সত্যি একটা কাইষ্টা। এতোকিছু থাকতে বন্ধু বানাবে বন্ধু। তোর বন্ধুর গুষ্ঠি কিলায়। হমু না বন্ধু। বন্ধু বানিয়ে অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করবি আর আমাকে সেটা সহ্য করতে হবে? কেন প্রেমিকা বানালে কী জাত চলে যেত?” প্রেমিকা! ছিঃ ইমা৷ কী বলোস এসব তুই? প্রেমিকা হওয়ার শখ উদয় হলো তোর শেষমেশ? ” জিহ্বা কামড়ে দাঁত কামড়ে বিরবির করে ছি!ছি! করল।

শান দূরে বসে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসছিল ইমাকে আড়চোখে ওমন করতে দেখে। ইমা না বলুক শান তো বোঝে ইমার ভেতরে কিসের দ্বন্দ্ব চলছে এই মুহূর্তে। শান গম্ভীর ভাব নিয়ে বললো,

” ঘুমাবে, না বসবে একটু?”

” বসব না।” বলেই একপ্রকার দৌড়ে চলে আসে রুমে। রুমের বন্ধ দরজায় তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে শান।

দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ইমা। নিজের কাছেই নিজে অচেনা সে। কোন হাওয়া বদলে তার এই দশা! ইমা আরক্ত মুখখানি করতলে ঢেকে বিরবির করে,

“ভালোবাসতে আমার ভীষন ভয় করে।
আমি তো তোমায় ভালোবাসি না বলে বলেই মরছি শরমে।”

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here