তুমি আমার অধিকার পর্ব -০২

#তুমি_আমার_অধিকার(পর্ব ২)
#লেখানীতে_নাফিসা_আনজুম

কি ব্যপার রুহি বেবি তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো।

নাহ রোহান ভাইয়ের সামনে কিছুতেই নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা যাবে না,,
ভাইয়া দেখ না আমি তো আজকে চলে যাব তাই,

কি দেখব ,,(আসলেই রুহির ভয় পাওয়া দেখে রোহান মনে মনে খুব মজা নিচ্ছে)

এমন সময় রুহি চিল্লিয়ে বলে ভাইয়া ‌টিকটিকিইই

এই কোথায় টিকটিকি ,, যাহ বোকা বানিয়ে পালিয়ে গেলো , পালিয়ে যাবেটা কোথায় চড়ুইপাখিকে তো আমার কাছে আসতেই হবে,,,(রোহান)

আমাকে আর পায় কে,আমি তো আজকে চলেই যাবো রোহান ভাই আমাকে আর ধরতেও পারবে না। একমাসেও আর আসবো না হোষ্টেল থেকে(রুহি)
,,

বিকেলে রুহি উঁকি দিয়ে দেখে রোহান এখন নিচে নেই, তাই জলদি নিচে নেমে ওর মাকে বলল মা নাস্তা দাও আর আজকে আমি আর রিপা হোস্টেলে চলে যাব

মেয়ের কথা শুনে জেসমিন বেগম (রুহির মা)তো মহা খুশি, যে মেয়েকে সারাদিন বলে বলেও হোস্টেলে পাঠানো যায় না সে মেয়ে আছে নিজে থেকেই হোস্টেলে যেতে চাচ্ছে

ঠিক আছে মা তুই খেয়ে দেয়ে তৈরি হয়ে নে রোহান তোদেরকে এগিয়ে দিয়ে আসবে

রুহি সবে মাত্র একটা বিস্কুট মুখে দিচ্ছিল কিন্তু মায়ের কথা শুনে হকচকিয়ে উঠে বলল না না মা রোহান ভাইয়াকে যেতে হবে না আমি আর রিপু একাই যেতে পারবো

তা কি করে হয় তোদেরকে এই সন্ধ্যা বেলা একা একা কি করে ছাড়বো

মা তুমিও না সন্ধ্যা হতে এখনো অনেক দেরি আছে আমরা যেতে পারবো তুমি শুধু বাবাকে বলে দিও আমরা চলে গেছি

আচ্ছা ঠিক আছে

রুহিকে নাস্তা দিয়ে রিপার জন্য নাস্তা নিয়ে গেলেন জেসমিন বেগম।রিপা সবসময় একা থাকতে বেশি পছন্দ করে, সেজন্য ওর খাবার ওর ঘরেই দিয়ে আসতে হয়। জেসমিন বেগম রিপাকে বেশি পছন্দ করে, মেয়ে মানুষ ঘরে থাকবে পড়াশোনা করবে এটাই তো ভালো।
রুহির মত একবার নিচে একবার ছাদে একবার বাগানে ঘোরাঘুরি করবে কেন এই নিয়ে রুহির মা ওকে অনেক কথা শোনায়।
রুহি আর রিপার মাঝেও খুব মিল। দুজনে আগে এক রুমেই থাকতো কিন্তু রুহি নিজের রুম আলাদা করে নিয়েছে কেনো না রিপা যখন তখন উঠে পরতে বসে। সেটা রাত একটা হোক কিংবা দুটা। লাইট জ্বালানো থাকলে রুহির ঘুমের ডিস্টার্ব হয় আর ওর মতে এতো পরাশুনা করে কি হবে যে ঘুম নষ্ট করে পরতে হবে। হোস্টেলে না থাকার এটাও একটা কারন।

এমন সময় সাহিদা বেগম আর সাদিয়া কোথা থেকে যেন আসলো,আসলে সাহিদা বেগম সাদিয়াকে মনে মনে খুব পছন্দ করে নিজের ছেলের বউ বানানোর জন্য ,,

কোথায় গেছিলে বড় আম্মু সাহিদা বেগমকে জরিয়ে ধরে বললো রুহি

এইতো মা একটু ডাক্তারের কাছে গেছিলাম পায়ের ব্যথাটা যা বেড়েছে

ওও আচ্ছা, বড় আম্মু আজকে আমরা হোস্টেলে চলে যাবো,,
সে কি রে আজ কি হলো যে নিজে থেকেই বলছিস।

তুমিও না বড় আম্মু, আমি নিজে থেকে একটু পরতে বসলেও তোমরা ভূত দেখার মতো করে দেখো আর আজ নিজে থেকে হোষ্টেলে যেতে চাচ্ছি বলে মজা নিচ্ছো।(রুহি)

আরে না পা*গলি মেয়ে আমার। তুই তো অনেক ভালো।(সাহিদা বেগম রুহিকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললেন।

তুমিও খুব ভালো বড় আম্মু (রুহি)

সাদিয়া নিজের ঘরে যাবার জন্য যেই পা বাড়িয়েছে তখন রুহির হোস্টেলে যাওয়ার কথা শুনে নেয়। আর ও তো মনে মনে মহা খুশি , আর ভাবছে, এই রুহি টা চলে গেলেই বাঁচি , তাহলে আমার আর রোহান ভাইয়ার মধ্যে কেউ আসবে না।

,,,
রুহি আর রিপা হোস্টেলে চলে গেছে আজ তেরোদিন হতে চললো, এই তেরোদিন সাদিয়া বিভিন্ন ভাবে রোহানের কাছাকাছি আসতে চেয়েছিল কিন্তু রোহান প্রত্যেকবার কোনো না কোনো বাহানা দিয়ে সরে গেছে।

আর রুহি,তার তো দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম,দিন গুনছে কবে বাড়ি যেতে পারবে।
এই রিপু আমরা কতোদিন হয় হোস্টেলে এসেছি রে(রুহি)

রিপা লাইট অফ করে যেই না শুয়েছে তখনি রুহি কথাটা বলে উঠলো।

রুহি এবার কিন্তু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে, আজকে অলরেডি তিনবার বলেছি যে তেরোদিন হয় এসেছি আমরা।(রিপা)

আহহ ননদিনী রাগ করিস কেন সময় কেনো শেষ হচ্ছে না আফসোসের সুরে বললো রুহি

তোর সময় শেষ হবেও না ,,এতো দিনে হয়তো সাদিয়া আপুর একা থাকার সময় শেষ হয়ে গেছে

মানে, সাদিয়া আপুর আবার কি হবে,

কেনো, ভাইয়া আর সাদিয়া আপু একি বাড়িতে আছে না,

ম,ম মানে, এই রিপু এসব তুই কি বলছিস। আগে তো এভাবে ভাবি নি। আমার কপাল বুঝি পুড়লো রে।‌ আমি আজকেই বাড়ি যাবো। এক্ষুনি বাড়ি যাবো,, (রুহি)

মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি তোর। এগারোটা বাজতে‌ চলেছে আর তুই বাড়ি যেতে চাচ্ছিস।(রিপা)

রিপু আমি বাড়ি যাবো , আমি রোহান ভাইকে দেখবো রিপু প্লিজ কিছু একটা কর। ওই সাদিয়া আপু যদি ভাইয়ার মনে জায়গা করে নেয় তাহলে আমার কি হবে রিপু, আমি তোর ভাইয়ের সাথে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারবো না, রোহান ভাই আমার না হলে আমি ম*রেই যাবো (কেঁদে কেঁদে)

রিপা এতোক্ষণে বুঝতে পেরেছে যে এই মেয়েকে আর এখানে আটকানো যাবে না।‌ ও যখন রোহানের কাছে যাবে বলেছে তখন ও যাবেই। আর কেউ না জানুক ও জানে রুহি ওর ভাইকে ঠিক কতোটা ভালোবাসে।

রোহানের কাছে ফোন দিয়ে রিপা ফোনটা রুহির কানে ধরে বললো যা বলার তুই বল।
রুহি চোখ মুছে ফোনটা রিসিভ করার অপেক্ষায় আছে আর মনে‌ মনে‌ ভাবছে বকা দেবে না তো।

হ্যলো (রোহান)

রোহান ভাইয়া(রুহি)

হ্যা রুহি বল

এতোক্ষণ কান্না আটকাতে পারলেও প্রিয় মানুষটার গলা শুনে আর কান্না আটকাতে পারলো না রুহি, হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ও

এই পাগলি কি হয়েছে, এভাবে কাঁদছিস কেনো,

কান্নার জন্য রুহি কিছু বলতেও পারছে না,তাই রিপা ওর থেকে ফোনটা নিয়ে বললো ,

হ্যালো রোহান দা,, আসলে রিপা ছোট থেকেই রোহান দা বলে ডাকে

হ্যা রিপা বল, ও কাঁদছে কেনো,

তোকে দেখতে ইচ্ছে করতেছে তাই,

মানে,

মানে ও বলছে‌ রোহান‌ ভাইকে দেখতে ইচ্ছে করতেছে এক্ষুনি বাড়ি যাবো।

আচ্ছা তোরা রেডি হয়ে নে আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বলে এক্ষুনি তোদের নিতে আসছি,,

হুমম আচ্ছা,,

এই যে মহারানি তারাতাড়ি সব গুছিয়ে নে, ভাইয়া আসছে (রিপা)

রিপার মুখ থেকে এই কথাটা শুনে রুহি তো মহা খুশি, তারমানে ভাইয়া ব*কা দেয় নি। ইয়েএএ আজ বাড়ি যাবো

রিপা মনে মনে ভাবছে পাগলি একটা, তোকে রোহান দা কতোটা ভালোবাসে তুই যদি বুঝতি তাহলে খুশি ধরে রাখতে পারছি না। আমি বলতাম কিন্তু রোহান দা চায় না এতো তারাতাড়ি তুই এসব জেনে নিজের পড়াশুনা নষ্ট কর। এমনিতেই তুই খুব আবেগময়ি।

এই রিপু এতো কি ভাবছিস, তারাতাড়ি রেডি হয়ে নে ভাইয়া এসে যদি দেখে এখনো বের হই নি তাহলে বকা দিবে ,,
,,

এদিকে রোহান তার প্রেয়সীর কান্না শুনে আর একটুও দেরি করে নি, সাথে সাথে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে। আর ফোন এ হোস্টেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে নেয়। রোহান যতোটা কঠোর হতে চায় রুহি ততো বেশি ওর মন নরম করে দেয়। কেনো জানিনা মনে হয় এই মেয়েটা কথার মাঝেও মায়া দিয়ে রাখে।
,
হোস্টেলের নিচে রোহানকে দাঁড়াতে দেখে রুহি এক দৌড়ে নিচে নামে, জালানায় দাঁড়িয়ে এতোক্ষণ রোহানের আসার অপেক্ষায় ছিলো ও।

রিপা ব্যাগ নিয়ে রুহির পেছন পেছন আসে,,

দুর থেকে রোহান রুহিকে আসতে দেখে আনমনেই হেঁসে ওঠে,,
হালকা গোলাপি কালার লং টপস, কালো প্লাজু আর গায়ে একটা সোয়েটার আর তার ওপর কালো চাদর চুলগুলাও ঠিকভাবে আচরায় নি শুধু ওপরে একটা ব্যান দিয়ে আটকে রেখেছে।

রোহান ভাই আমি না আর এখানে আসবো না,

রুহির কথায় ধ্যান ভাঙ্গে রোহানের, গাড়ি ছাড়তে ছাড়তে বলে কেনো,

আমার একদম ভালো লাগে না এখানে,

কেনো এখানে কোনো ছেলে নেই বলে।

কিইহহ, এসব কি বলছিস। গাড়ি থামা আমি যাবো না।

রোহান রাগ দেখিয়ে বলে, রিপা ওকে বলে দে কুয়াশার মধ্যে এমনি গাড়ি চালাতে সমস্যা হয় এমন নড়াচড়া করলে এই মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে যাবো
আর এমন পাগলামী করার মানে কি, যখন তখন কান্না করে ভাষিয়ে ফেলবে কেনো। ছোট বাচ্চা নাকি।

রোহানের কথার ধরন দেখে রুহি একদম চুপ হয়ে গেছে, এই কি আমার রোহান ভাই। মাত্র তেরো দিনে এতোটা বদলে গেছে যে আমার সাথে এভাবে কথা বলছে।

পুরোটা রাস্তা রুহি আর একটা কথাও বলে নি। বাড়ি এসে গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়েছে।
রোহান ভাই আমার সাথে এমন করতে পারলো, ওকে দেখার জন্য আমি কতোটা অস্থির হয়ে গেছিলাম আর ও আমাকে ,,,, নাহ আর ভাবতে পারছে না রুহি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে বারবার। সবসময় কেয়ার করা মানুষটা যদি একদিন রাগ হয়ে কথা বলে তাহলে সেটা মানতে তো কষ্ট হবেই।
আচ্ছা রোহান ভাই তো আমার থেকে অনেক বড়, ও কি বুঝতে পারে না আমি ওকে ভালোবাসি। নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে। ওর মনে কি তাহলে সত্যি অন্যকেউ আছে ,,

চলবে,,,

ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন। ❌❌কপি করা নিষেধ ❌❌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here