তুমি আসবে বলে পর্ব -৫২+৫৩+৫৪+৫৫

#তুমি আসবে বলে
#অপেক্ষার প্রহর
#Sondha Halder
#পর্ব-৫২

অর্ণব কি করছো কি তুমি আমাকে ছাড়ো, দেখো আনভি আমাদেরকে এভাবে দেখেছে ও কি ভাবে ছাড়ো… বলে অন্তু নিজেকে অর্ণবের কাছ থেকে ছাড়াতে লাগলো। কিন্তু অর্ণব আরো গাঢ় ভাবে অন্তুকে তার সাথে জড়িয়ে ধরে অন্তুর ভেজা চুলের মাঝে মুখ ডুবিয়ে বললো….

অর্ণবঃ দেখতে দাও সেও তো দেখুক তার পাপা তার মাম্মামকে কতোটা ভালোবাসে।

অর্ণবের খাপছাড়া কথা শুনে অন্তু প্রচন্ড রেগে যায়। ফোস করে নিঃশ্বাস ছাড়ে, একটু আগে সে আনভিকে নিয়ে কিচেনে এসেছে আনভির খিদা লেগেছে তাই তার জন্য নুডলস্ রান্না করছে সাথে অর্ণবের জন্য চা আর নুডলসে্র বড়া করছে ঠিক তখনি অর্ণব এসে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, সেটা দেখে আনভি খিলখিল করে হাসতে লাগলো। অন্তু আবার ছাড়াতে নিলে অর্ণব তার ঘাড়ে ছোট্ট একটা কামর দিলো অন্তু ব্যাথায় আর্তনাদ করে ওঠে কিন্তু অর্ণব তাকে ছাড়ে না। অন্তু বললো…

অন্তুঃ অর্ণব তেল ছিটে লাগবে তোমার প্লিজ। আর আমাদের এভাবে দেখলে আনভির ওপর খারাপ এফেক্ট পরবে প্লিজ।

অর্ণব গাল ফুলিয়ে অন্তুকে ছেড়ে দেয় তা দেখে অন্তু মুচকি হেসে কাজে মন দেয় আবার। অর্ণব আনভিকে তার কোলে নিয়ে আফসোস করে বললো…

অর্ণবঃ আম্মু তোমার বোধয় আর ভাই বলে কাউকে ডাকা হলো না।

অর্ণবের কথা শুনে আনভি কি বুঝলো জানে না সে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। এদিকে অর্ণবের কথা শুনে অন্তুর স্তব্ধ হয়ে যায় তার হাত থামিয়ে অর্ণবের দিকে তাকায় সে জানতে চায় অর্ণব একটু আগে কি বললো। অন্তুর তাকানো দেখে অর্ণব হেসে বললো…

অর্ণবঃ এভাবে তাকিয়ে কি দেখছো হে এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আনভি তার ভাই চায় তাই তো এতো ভালোবাসছি তোমাকে এর বেশি কিছু না। হু হু আর চা বেশি করে করো আদি, অরনি আর প্রাপ্য আসছে তাই।

বলে অন্তুকে কিছু না বলতে দিয়ে অর্ণব অন্তুর গালে চুমু খেয়ে হাসতে হাসতে চলে যায় আনভিকে নিয়ে। অন্তু অর্ণবের কথা শুনে হতভম্ব কিন্তু ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি লাগিয়ে কাজ করতে লাগলো।
_____________________________________

অনেকক্ষন হলো আদি অরনি প্রাপ্য এসেছে অন্তু তাদের জন্য চা আর বড়া দিয়ে রাতের রান্না করতে চলে যায়। প্রাপ্য ফ্রেশ হতে চলে যায় নিজের রুমে। অরনি আনভিকে নিয়ে খেলতে লাগলো আর অর্ণব আদি কি নিয়ে যেনো কথা বলছে কথা বলা শেষে অর্ণব চিন্তিত হয়ে বলে… কিন্তু

আদিঃ কিন্তু কিছু না অর্ণব অনেক হয়েছে আর না। আমি তোমার সব কথা মেনে নিয়েছি যেমন এখন আমার সব কথা তোমাকে মানতে হবে এটাই ফাইনাল।

অর্ণব হতাশ ভরতি শ্বাস নিলো সে জানে আদি তার একটা কথাও এখন মানবে না সে যা চায়বে সে তাই এখন করবে। অর্ণব বললো…

অর্ণবঃ ভাইয়া যদি কেউ না মানে তখন কি হবে? আর যদি আমার সত্যি সবাই যেনে যায় তখন।

আদিঃ আমি সব দেখে নেবো তুমি চিন্তা করবে না। তুমি বরং তোমার বাবাই সাথে এই বিষয়ে কথা বলে নাও। আমি আজ বাড়ি গিয়ে সবার সাথে কথা বলছি।

অর্ণব আর কিছু বলো না তারা আরো কিছু কথা বলে নিলো ঠিক তখনি কলিংবেল বাজে তাই অর্ণব গিয়ে দরজার খুলতেই আদিবাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সে অবাক হয়। অর্ণব আদিবাকে এখন এখানে আসা মোটেও আশা করেনি। অর্ণব আদিবাকে নিয়ে ড্রইংরুমে রুমে আসলে আদিবার চোখ আটকে যায় সেখানে বসে থাকা আদির দিকে। আদিবা জানতো না আদি এখন এখানে আছে যদি জানতো তাইলে সে কখনো আসতো না এখানে সে শুকনো ঢোক গিলো। আদি ও তার দিকে তাকালে সে চোখ নামিয়ে নিয়ে অর্ণবকে বলে…

আদিবাঃ ভাইয়া কাল সকালে এই টেন্ডার টা দিতে হবে আপনি একটু দেখে নিয়ে বলবেন সব ঠিক আছে কি না…

বলে একটা ফাইল অর্ণবে দিকে এগিয়ে দিলো। অর্ণব সেটা নিয়ে দেখতে লাগলো। আদিবার আড়চোখে আদির দিকে তাকালে আদির অগ্নদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে ভয় পায়। অর্ণবের কথা শুনে সে অর্ণবের দিকে তাকায় অর্ণব বলে…

অর্ণবঃ সব ঠিক আছে তুমি কাল এটা দিয়ে দিও।

বলে ফাইলটা আদিবাকে দেয়। সে ফাইলটা নিয়ে বলে.. তাইলে এখন আসি ভাইয়া।

অর্ণবঃ তুমি এখন কোথাও যাবে না। এখানে বসে চা আর বড়া খাও তোমার বান্ধবী বানিয়েছে। আমি অন্তুকে ডেকে আনছি। তুমি বসো…

অর্ণব বলে কিচেনে চলে যায়। এদিকে আদিবা একবার আদির দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে আনভির সাথে বসে গল্প করতে লাগলো। কিন্তু একজোরা চোখ ভয়ংকর রাগ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে যেন তাকে গিলে খাবে সে আর কেউ না আদি। আজ সে আদিবার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে সে হাত ছাড়া করতে চাই না কিছুতেই না।

এদিকে, অর্ণব কিচেনে গিয়ে দেখে অরনি অন্তুকে কিছু বলছে কিন্তু অন্তু শুনছে না তাই অরনি চোখের জল মুছে চলে আসতে নিলে তাকে দেখে ফেলে। এদিকে, অরনি অর্ণবকে দেখে ভড়কে যায় সে মুল্যত অন্তুর সাথে কথা বলতে এসেছিলো যাতে সে তাকে মাফ করে দেয় কিন্তু তার কথা অন্তু শুনলো না। কয়েকদিন যাবত অন্তু সবার সাথে কথা বলেও অরনির সাথে কথা বলে না, কেন বলে না সেটা অরনি জানে তার দিদিয়া তার ওপর অভিমান করেছে তাকে সত্যি না বলায়। অরনি চুপচাপ চলে যায় অর্ণব অন্তু কাছে এসে দেখে সেও কান্না করছে তার বুঝতে বাকি নেয় যে দুইবোনের মান অভিমানের পর্ব এখনো চলছে। অর্ণব বললো…

অর্ণবঃ এতোই যখন বোনকে কষ্ট দিয়ে নিজে কষ্ট পাও তাইলে তাকে কষ্ট দাও কেন?

অন্তুঃ সে আমার থেকে কথা লুকিয়েছে। তাকে শাস্তি পেতে হবে ওকে।

অর্ণব অন্তুকে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে নিয়ে বললো.. জান কথা তো আমি, আদি, দিদুন ও লুকিয়ে ছিলাম তাইলে আমাদেরকে মাফ করলে তাইলে অরুকে কেন করছো না।

অর্ণবের কথায় অন্তু চমকায় হে সে সবাইকে মাফ করে দিয়েছে তাইলে কেন অরুকে মাফ করতে পারছে না। হয়তো সে তার বোনকে বেশি বিশ্বাস করতো তাই। অর্ণব আবার বললো….

অর্ণবঃ অন্তু যাও গিয়ে অরুকে সরি বলো দেখে মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে যাও।

অন্তু ছলছল চোখে তাকায় অর্ণবের দিকে অর্ণব তা দেখে মুচকি হেসে তার চোখের জল মুছে তার কপালে চুমু দিয়ে সরে আসে। অন্তু দৌড়ে বাইরে গিয়ে অরনিকে জড়িয়ে ধরে হঠাৎ এমন হয় অরনি হচকে যায় কিন্তু যখন বুঝতে পারে, তাকে যে ধরেছে সে তার দিদিয়া তখন সে কান্না করে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে…

অরনিঃ সরি দিদিয়া

অন্তুঃ ধুর পাগলি মেয়ে আমি তো তোকে ক্ষমা করেই দিয়েছে কিন্তু এর পরে আর এমন করবি না।

অরনি হ্যাঁ বলতেই অন্তু তাকে ছেড়ে দেয়। দু’বোন হাসতে লাগলো অর্ণব এসে বললো…. তো আধিঘারবালি ফ্লুঘারবালির সাথে মিটমাট হয়েগেছে।

অরনিঃ হ্যাঁ জিজু হয়েছে

অর্ণবঃ তা বেশ ভালো এখন শান্তিতে দুজনকে নিয়ে সংসার করতে পারবো। [দুষ্টুমি করে বলে উঠলো]

অন্তু সরু চোখে বললো…. কি বলে তুমি?

অর্ণব ভয় পাওয়ার অভিনয় করে বললো… কই কি বলাম আমি আবার।

অর্ণবর কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো। অর্ণব হাসি থামিয়ে দেখে এখানে আদি আদিবা বাদের সবাই আছে। তারা দুজন কোথায় গেলে ভেবে সে ওপরের দিকে খুজতে যায়….
___________________________________

কেন এমন করছো তুমি হ্যাঁ কেন? আমাকে ইগনোর কেন করছো তুমি? আমার ফোন ধরছো না, দেখা হলে এরিয়ে যাও আমার থেকে কি হয়েছে বলবে আমাকে। আমি আবার কি ভুল করেছি বলো.. স্পিকআপ আদিবা… বলে হুংকার দিয়ে উঠলো আদি। আদির রাগমিশ্রিত কথা শুনে আদিবা ভয়ে চুপসে যায় সে, তখন সে আনভির সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ আদি তাকে নিয়ে ওপরে নিয়ে আসে, সে আসতে না চায়লে তাকে টেনে হেচরে নিয়ে এসে এই রুমে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে এই কথা গুলো বলো আদি। আদিবা সাহস করে আদির দিকে তাকালো রক্তলাল হওয়া চোখ দেখে চোখ নামিয়ে নেয় সে, নিজের মনকে শক্ত করে নিয়ে আদিকে ধাক্কা দিয়ে তার থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়ে আদিবা। এদিকে আদি আদিবার কাজে বিস্মিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদিবা শক্ত গলায় বললে….

আদিবাঃ আপনাকে কতো বার বলবো আমি আপনাকে আর ভালোবাসি না। আপনি কেন বুঝতে চাচ্ছে না বলুনতো। আজ আবার বলছি কান খুলে শুনুন আমি আপানে ভালোবাসি না, বাসি না ভালো…

আর বলতে পারে না আদিবা, তার আগে তার গালে সজরে থাপ্পড় পরে আদিবা স্তম্ভিত হয়ে যায় আদির কাজে। আদিবা গালে হাত নিয়ে আদির দিকে তাকায় আদি দেখে মনে হচ্ছে জোওলামুখি যেখন তখন ফাটবে। আদিবা ভয়ে গুটিয়ে নেয় নিজেকে, আদি আদিবার বাহু ধরে বলে…

আদিঃ অনেক হয়েছে আর না তোকে আমার জীবনের এনে ভুল করেছে হে শুনে নাও ভুল করেছে। যে মেয়েকে আমি নিজের জীবন থেকে বেশি ভালোবেসেছি সে আজ আবার আমার ভালোবাসাকে ছোট করলো। কিন্তু আর না তুই আমাকে ছেড়ে ভালো থাকতে পারলে আমিও থাকতে পারবো হে আমি ও পারবো।

বলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে এদিকে আদিবা কান্না করেই যাচ্ছে। আদি আবার বললো… একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ আমার জীবনে তুই ব্যতিত্য অন্য কেউ আসবে না। তোকে ভালোবাসি অজীবন বসবো, তাই বলে তোকে আমি আর আমার জীবনে আসতে বলবো না তুই যেদিন নিজের সইচ্ছায় আসবি আমি মাথা পেতে তোকে গ্রহণ করবো। কিন্তু আমি নিজে তোকে আনতে যাবো না বুঝলি। এখন যা এখান থেকে না হলে এমন কিছু হয়ে যাবে সেটা আমি মোটেও করতে চাই না যা…

বলে চিতকার করে উঠলো আদি। আদির চিতকারে আদিবা কেঁপে ওঠে সে কান্না করতে করতে দৌড়ে বাড়ি থেকে বাইয়ে চলে যায় সে তো এটাই চেয়েছিলো যেন আদি তার কাছে না আসে, সে তো তাই পেলে আজ কিন্তু তার বুকে এমন জ্বলছে কেন, বুকটা শূন্য শূন্য লাগছে কেন। এদিকে আদি আর আদিবার সব কথা অর্ণব শুনেছে অর্ণবে মনে মনে বলে… না এটা কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না আদিবার সাথে কথা বলতেই হবে তাকে। অর্ণব আদিকে একা ছেড়ে নিচে চলে আসে। আদি নিজেকে শান্ত করে নিচে এসে অরনি অন্তুকে নিয়ে বাড়িতে চলে যায়…….
________________________________________

কোথায় ছিলে তোমরা সবাই। অন্তু তোমার আর্ট ক্লাসে তো সকালে তাইলে এতো রাত হলো কেন আর অরনি তুমি কোথায় ছিলে। কয়েক দিন ধরে দেখছি তোমরা তিনজনে রাত করে ফিরছো কি চলছে তোমাদের মধ্যে আর কোথায় বা যাও তোমরা…. মির্জা বাড়িতে আদি অন্তু আর অরনি ঢুকতেই না ঢুকতেই আজাদ মির্জা গম্ভীর কন্ঠে এগুলো বলেন। আজাদ মির্জা কথা শুনে আদির রাগ লাগলো কিন্তু নিজের রাগ দাবিয়ে বললো…

আদিঃ আজ কেন এতো মাথা ব্যথা করছেন আপনি। এই বাড়িতে কি হচ্ছে না হচ্ছে, কে কোথায় যায় না যায় এতো কৌতুহল কেন হচ্ছে আপনার আগে তো ছিলো না এতো কৌতুহল…

তাচ্ছিল্য ভাবে কথাশুলো বললো আদি। আদির কথায় আজাদ মির্জা গর্জে ওঠে বললো… আদি আমি তোমার বাবা হয়। বাবার সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় ভুলে যাওনি নিশ্চয়।

আদি কিছু বলতে যাবে তার আগে তার দিদুন বললো… আহ তোরা থাম তো ছেলেমেয়ে গুলো সবে বাড়ি আসলো আর তোরা সবাই কি শুরু করেছিস।

আজাদ মির্জাঃ আম্মাজান আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছি ওরা সবাই কোথা থেকে আসলো। কিন্তু তুমি দেখেলে আদি আমার সাথে কি ভাবে কথা বলছে। এমন অধপতন কি করে হলো আদির যে ছেলে আমার সাথে উচুু করে কথা বলতো না সে আজ আমার মুখে মুখে কথা বলছে।

আদিঃ হে বলছি যে যেমন তার সাথে তেমন করে কথা বলতে হয়।

আজাদ মির্জাঃ আদি..

জোরে চিতকার করে বলে উঠলো আজাদ মির্জা। বাড়ির সবাই বাপ ছেলে কথা কাটাকাটি দেখে আবাক, কে বিশ্বাস করতে পারছে না আদি এভাবে তার বাবার সাথে কথা বলছে। আকাশ মির্জা বললো…

আকাশ মির্জাঃ ভাইয়া তুমি শান্ত হও আমি আদির সাথে কথা বলছে। আদি কি হয়েছে তোমার এমন করে কথা বলছো কেন তুমি…

আদিঃ সত্যি চাচ্চু সত্যি। সত্যি যতোই গভীরে লুকিয়ে থাকুক না কেন, সত্যি একদিন সবার সামনে চলে আসে।

আজাদ মির্জা চমকে যায় আদির কথায় আদি কি সত্যির কথা বলছে সে কি তার সব কাজ সম্পর্কে যেনে গেছে। আদি তার বাবাকে ভয় পেতে দেখে হাসলো আকাশ মির্জা বললো… কি সত্যি আদি। আদি কথা কাটার জন্য বললো..

আদিঃ সবাই যখন এখানে আছো তাইলে তোমাদের সবার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে। যা এখনি বলতে হবে।

আদির কথার মাঝে আয়ান চলে আসে। সে এসে বাড়ির পরিবেশ দেখে বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে কিন্তু সে কিছু না বলে চুপ করে দাড়িয়ে থেকে দেখতে লাগলো। আজাদ মির্জা বললো…. কি কথা। আদি তার বাবার দিকে একবার তাকিয়ে অরনি অন্তুর দিকে তাকিয়ে বললো…

আদিঃ অন্তু অরনি তোমরা রুমে যাও। এখানে থেকে তোমাদের লাভ নেই। যাও

আদির কথা শুনে তারা দুজনে ওপরে চলে যায়। তাদের চলে যাবার পরে নিহিতা মির্জা বললো… আদি কি বলবে আমাদের বলো।

আদিঃ চাচী অরনির জন্য ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। আমি তোমাদের সবার সাথে সেই নিয়ে কথা বলতে চায়।

আদির কথা শুনে নিহিতা মির্জা খুশি হলো আকাশ মির্জা বললো… কে প্রস্তাব দিয়েছে আদি।

আদিঃ রোদ তার ভাই প্রাপ্যর জন্য অরনিকে পছন্দ করেছে তাই আমাকে বলেছে তোমাদের সাথে কথা বলতে। তোমাদের মতামত নিতে বলেছে। এখন তোমরা কি বলো।

আকাশঃ তা ভালো কথা আমরা সবাই চৌধুরী পরিবার সম্পর্কে জানি আর প্রাপ্য ছেলে হিসেবে ভালো। এতে আমাদের অমত নেয় তুমি যখন এই বিয়েতে রাজী তাইলে আমাদের কোনো কথা থাকে না। কি বলো আম্মাজান, নিহিতা।

দিদুনঃ হে আকাশ ঠিক বলেছে আমার এই প্রস্তাবে অমত নেয়।

নিহিতা মির্জাঃ আমি কি বলবো আদি যা ভালো মনে করে তাই করুক সে তো তার বোনের খারাপ চায়বে না। তাই আমি এতে বাধ্য প্রদান করবো না।

আদি সবার কথায় খুশি হয়, মনে একটু সাহস সঞ্চয় করে নেয় এর পর যা বলবে সেটা শুনে সবাইকে নাড়িয়ে দেবে। কেউ নাও মানতে পারে কিন্তু সে সেটা করেই ছাড়বে। আদি আবার বললো… আরো একটা কথা আছে।

আজাদ মির্জা ভ্রু কুচকে বললো… কি কথা।

আদিঃ অন্তুপাখি জন্য একটা প্রস্তাব এসেছে।

আদি কথা শুনে সবাই চমকায় শুধু আয়ান বাদে তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে আগে থেকেই এই কথা জানতো আয়ানের ঠোঁটের কোণে হাসি। আজাদ মির্জা গম্ভীর হয়ে বললো… কে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

আদি এবার যা বলো সেটা শুনে সবাই বিস্মিত হলো। কেউ এটা ভাবতেও পারেনি যে এটা হতে পারে কখনো। আদি বললো… মি.চৌধুরী অন্তুকে রোদরে জন্য চেয়েছে….
#তুমি আসবে বলে
#অপেক্ষার প্রহর
#Sondha Halder
#পর্ব-৫৩

আদির কথায় যেনো মির্জা বাড়িতে বাজপড়ে। সবাই
বিমূঢ়, বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে৷ কেউ যেন বিশ্বাসি করতে পারছে না কথাটা সবাই কিন্তু সবাই জানে এই কথাটা অন্তুর কানে যদি যায় তাইলে আজ লংকাকান্ড বেধে যাবে এই মির্জা বাড়িতে। সবাই জানে অন্তু অর্ণবের জন্য কতোটা পাগল, আর কি কি করতে পারে, যে মেয়ে অর্ণব মারা যাবা সত্ত্বেও পাগলামি করছে এখন যদি বিয়ের কথা জানতে পারে তাইলে কি হবে। নিহিতা মির্জা বললো…

নিহিতা মির্জাঃ আদি বাবা এটা কি বলছো, অন্তু যদি এই কথা জানে তাইলে আজ বাড়ি মাথায় তুলে ফেলবে।

আকাশ মির্জাঃ আদি তোমার চাচী ঠিক বলছে। তাই তুমি তাদেরকে না করে দাও অন্তুর বিয়ে নিয়ে। আর অন্তু কিছুতেই এই বিয়ে মানবে না।

আদি দিদুনের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু বলে দিদুন তাকে আশ্বস্ত দিয়ে সবাইকে বললো… আদি দাদুভাই না বলবে না আকাশ। অন্তুর বিয়ে আমি রোদের সাথেই দেবো।

দিদুনের কথা শুনে সবাই তার দিকে তাকায় আজাদ মির্জা বললো… আম্মাজান আপনি জানেন অন্তু কেমন, তাইলে আপনি কি ভাবে হ্যাঁ বলছেন।

আদিঃ আমি জানি আমার বোন কেমন। আমি এটাও জানি আমি যদি তাকে কিছু করতে বলি সে নিশ্চিত সেটা করবে।

আদির কথা শুনে নিহিতা আর আকাশ বুঝতে পারে আদি কিছুতেই তাদের কথা মানবে না। আর আদি যদি অন্তুকে কিছু বলে তাইলে অন্তু সবাইকে মানা করলেও আদিকে না করতে পারবে না আর আদি যখন অন্তুর সুখ চাচ্ছে তাইলে সে যেনে বুঝে করছে এটা। তাইলে তারা কেন আদির কথা মানবে না তারাও তো অন্তুর সুখ চায় হোক এর মাঝে। আজাদ মির্জা রেগে গিয়ে বললো…

আজাদ মির্জাঃ তুমি জানো রোদের একটা মেয়ে আছে তাইলে তুমি কি ভাবে অন্তুর বিয়ে দিতে চাও রোদের সাথে।

আদি তাচ্ছিল্য হাসি বললো… আমি তো শুধু অন্তুকে রোদের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছি তাও অন্তুর সুখের জন্য। কিন্তু আপনি তো ওই জানোয়ার আশিকের সাথে অন্তুর বিয়ে দিতে চেয়েছে শুধু রাজনৈতিক আরো কি কি না ক্ষমতা লাভের জন্য।

আদির কথা শুনে আজাদ মির্জা ভড়কে যায় সাথে ভয়ও পেয়ে যায় যে আদি অনেক কিছু যেনে গেছে, কিন্তু সে কি করে এতো সব জানলো আর সেটা তাকে কে বলছে। আয়ানের আজাদ মির্জা থমথমে মুখ দেখে হাসি পাচ্ছে কিন্তু তার হাসি দামিয়ে রেখে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। সবাই আদির কথায় বিস্ময় হয়। আজাদ মির্জা আবার গর্জে বললো…

আজাদ মির্জাঃ এই বিয়েতে তুমি অন্তুর সুখ কোথায় দেখলে। আর তুমি অন্তুকে কিভাবে মানাবে সে কখনো এটা মানবে না।

আদিঃ অন্তুকে কি করে মানাতে হয় সেটা আমি বুঝে নেবো। আর রইলো অন্তুর সুখের কথা, এখানে উপস্থিত সবাই জানে অন্তু আনভির প্রতি কতোটা দূর্বল তাই সে যদি আনভিকে কাছে পায় তাইলে অন্তু সত্যি সুখি হবে।

আদির যুক্তি সবার মনে লাগে সবাই জানে অন্তু আনভিকে কতোটা ভালোবাসে আর আনভি ও অন্তুকে ভালোবাসে। অন্তু সুখি থাকবে কিন্তু অন্তু কি মানবে সেটা এখনো সবার মনে একটু সংশয় আছে। আজাদ মির্জা আবার বললো…

আজাদ মির্জাঃ আমি কিছুতেই রোদের সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দেবো না তুমি না বলে দাও। অন্তু বিয়ে আমি অনত্ররে ঠিক করে রেখেছি অন্তু একটু ভালো হলে আমি সেখানে বিয়ে দেবো। আমি জানি আমার মেয়ে কিসে ভালো থাকবে।

আদিঃ আপনি যদি সত্যি জানতেন অন্তু কিসে ভালো থাকবে তাইলে এই ৪ বছর অন্তুকে কষ্ট পেতে হতো না আর না পাগল হয়ে থাকতো। আপনি তো এই ৪ বছর অন্তুর কোনো খোজ খবর রাখেনি আর না চিন্তা করেছেন, অন্তু কেমন আছে, তার কিসে অসুবিধা, কিসে সুবিধা, সে সুখে আছে না কষ্টে আছে। আপনি তো সব সময় আপনার রাজনীতি নিয়ে পরে থাকতেন তাইলে কি করে বুঝলেন অন্তুর কিসে ভালো থাকবে। আর রইলো বিয়ের কথা আমি তো অন্তুকে রোদের সাথেই বিয়ে দিয়ে ছাড়বো দেখি কে আটকায় আমাকে।

আদি জেদ ধরে কথাগুলো বলো। আজাদ মির্জা চমকা যায সাথে বাড়ির সবাই যে আদি অন্তু সব কথা যেনে গেছে। আজাদ মির্জা আর কথা না বলে চলে যায় সে তো অন্তুর বিয়ে অন্য জায়গায় করতে চাচ্ছে শুধু টাকার জন্য কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হবে না আদির জন্য তাই তিনি নিজের রুমে চলে যায় না হলে আরো সত্যি বাইরে আসার ভয় তাকে যেকে ধরেছে। আদির কথায় আকাশ বললো…

আকাশঃ আদি তুমি ভেবে চিন্তে করছো তো সব

আদিঃ চাচ্চু আমি সব ভেবে করছি। আমার অন্তুপাখি ভালো থাকবে রোদকে বিয়ে করে।

কেউ আর কোন কথা বলো না আদি আয়ানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো… দিদুন পরশুদিন অরনিকে তারা আংটি পরাতে আসবে। আর সেদিনেই রোদের সাথে অন্তু বিয়ে দেবো।

আদির কথায় সবাই হতভম্ব পরশু বিয়ে কি করে হবে সব। এই বাড়ির প্রথম মেয়ের বিয়ে হবে তাও কোন আয়োজন ছাড়া। দিদুন বললো…

দিদুনঃ দাদুভাই এটা কি করে হয় আমাদের বাড়ির প্রথম মেয়ের বিয়ে সেটা কোনো আয়োজন ছাড়া হবে। তুমি কিছুদিন পর বিয়ে দাও

দিদুনের কথায় সায় দিয়ে নিহিতা মির্জা বললো… আদি আম্মাজান ঠিক বলছে তার ওপর অন্তু কেওতো এখনো রাজী করাতে পারলে না…

আদিঃ আমি মানছি আমাদের বাড়ির প্রথম মেয়ের বিয়ে কিন্তু আমি পরশুদিন অন্তুর বিয়ে দেবো। আর অনুষ্ঠানে সেটা অরনির বিয়েতে করা হবে।

আদি সব দিক থেকে আটঘাট বেঁধে নেমেছে তা তার কথার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে। তাই কেউ আর কিছু বললো না সবাই সবটা মেনে নেয় তারপরও বিয়ে বলে কথা কিছু আয়োজন তো করতে হবে তাই আকাশ, দিদুন, নিহিতা সব কথা বলতে দিদুনের রুমে গেলো, তার জানে আজাদ মির্জা এই বিয়েতে থাকবে না তাই তাদেরকেই সব করতে হবে। সবাই চলে গেলে আয়ান এসে আদির কাঁধে হাত দিয়ে দিয়ে বললো…

আয়ানঃ দাদাভাই বোম তো ভালোই ফাটালি কিন্তু সাবধান সেই বোমাকে আগুনে যেনো নিজেদের কারোর হাত না পুরে যায়।

আদিঃ আমি জানি কি করতে হবে আর কতোটুকু করতে হবে। তুই শুধু নিজের কাজটুকু কর তাই হবে। যা আয়রাকে খবরটা দে মেয়েটা খুশি হবে।

আয়ান মাথা নাড়িয়ে নিজের রুমে চলে যায়। আদি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সে এতোখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো তা না হলে আজ সে অনেক গোপনীয় কথা সবার সামনে বলে দিতো। মাথাটা ভীষণ ধরেছে আদির একে তো আদিবার কাজে তার পরে বাড়ির সব ঘটনা নিয়ে, আদি তার রুমে চলে যায় কাল বাদে পরশু বোনকে বিয়ে দেবে সে সেটা নিয়ে চিন্তা সব ভালোই ভালো হলে ভালো কিন্তু অন্তুকে ছাড়ে সে কি করে থাকবে তার ছোট্ট অন্তুপাখি তাকে ছেড়ে একেবারে বিয়ে করে চলে যাবে ভাবতেই মনটা বিষন্ন হয়ে যায়…

এদিকে নিচে যা কিছু হলো সব অরনি আর অন্তু ওপর থেকে দেখেছে। আদির সব কথা যুক্তি সব তারা শুনেছে। অন্তু এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না তার সাথে অর্ণবের বিয়ে হবে সে অর্ণবের কাছে চলে যায় ভাবতেই খুশিতে চোখে জল এসে গেলো। অরনি তো সেই খুশি নিজের এনগেজমেন্টর জন্য না তার দিদিয়া তার ভালোবাসার কাছে চলে যাবে সেই খুশিতে কিন্তু তার দিদিয়া চলে যাবে ভেবে কষ্টও পাচ্ছে কিন্তু এই নরক থেকে যে তার দিদিয়া বাঁচে যাবে তাতে সে হেপ্পি। অরনি অন্তুর চারিদিকে ঘুড়তে ঘুড়তে বললো…

অরনিঃ আমার দিদিয়ার বিয়ে কি মজা, আমার দিদিয়ার বিয়ে। আহ্ আমার দিদিয়ার বিয়ে খামু বিরানী দিয়ে সাথে থাকবে রোস্ট শেষ পাতে দই। আহ্ আমার দিদিয়ার বিয়ে।

অন্তু অরনির কথা শুনে লজ্জা পায় সে অরনিকে মিছে রাগ দেখিয়ে বললো…

অন্তুঃ কি শুরু করেছি কি অরু। যা নিজের ঘরে যায়

অরনিঃ হু আমাকে বলে এখন এখান থেকে পাঠিয়ে বরের সাথে কথা বলবে তাইনা। আমি জানি তো এসব জিজু করিয়েছে তার তো বউ ছাড়া চলছে না তাই তো এতো তাড়া বউকে নিতে তার।

অর্ণর কথায় অন্তু আরো লজ্জা পায় সে বললো…. আমকে নিয়ে পরেছিস কেন তোরও তো এনগেজমেন্ট তাইলে এখন আমি খেপাই তোকে। কি করো।

অরনিঃ করলে কর আমি কি ভয় পাই তোকে। আমাদের বাড়ির কাউতো আর জানে না যে আমার দিদিয়া রোদ ভাইয়াকে বিয়ে করতে এক পায়ে খারা জানলে হয়তো বিয়েই দিতোই না।

অন্তু অরনির দিকে তেরে আসলে অরনিকে আর পায় কে সে ভো দৌড়। অন্তু তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো অরনি ঠিক বলছে কিন্তু একটু ভুল বলেছে সে যদি অর্ণবের সত্যি না জেনে তাকে বিয়ে কথা বলতো তাইলে সে এই বাড়িতে দক্ষযজ্ঞ লাগিয়ে দিতো কিন্তু সে অর্ণবের সত্যি জানে তাই সে এক পায়ে খারা বিয়ে করতে। অন্তু হাসলো তার কাছে সব নতুন নতুন লাগছে সে আবার অর্ণবকে বিয়ে করবে তার কাছে যাবে তার সাথে আনভির সাথে থাকবে ভবতেই ভালো লাগছে সে ফোন হাত নিয়ে অর্ণবকে ফোন করবে বলে কিন্তু কিছু ভেবে ফোন রেখে তার পুরোন ডায়রীটা বার করে বসে লিখতে লাগলো….

হারানো কিছু প্রাপ্যর মাঝে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হয়ে এসেছো তুমি আমার জীবনে….
হারানো অনেক স্বপ্নে মাঝে নতুন স্বপ্ন হয়ে এসেছো তুমি….
হারানো কিছু পথ ছেড়ে নতুন কোনো পথের আগমনী হয়ে এসেছো তুমি….
___________________________________

এ তুমি কি বলছো অর্ণব, বিয়ে তাও পরশু… মি.চৌধুরী বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলো অর্ণবের দিকে। (আসলে আদি আর অন্তুকে মির্জা বাড়িতে রাখতে চায়না সে কোনো ভাবে জানতে পারে আজাদ মির্জা অন্তুর বিয়ে দিতে চাচ্ছে তাই তো এসব করছে) অর্ণব মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। মি.চৌধুরী বললো…

মি.চৌধুরীঃ এতো তাড়াতাড়ি কেন?

অর্ণবঃ আজাদ মির্জা অন্তুর বিয়ে দেবে সেটা আদি কোথা থেকে জেনে গেছে তাই সে আমাদের বিয়েটা দিতে চায় তাও পরশু মির্জা বাড়ির সবাই রাজী। আর সেদিনকে অরনি প্রাপ্য এনগেজমেন্ট করে রাখা হবে। অরনির ২মাস পর এক্সাম শেষ হলে বিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে লন্ডন চলে যাবো।

মি.চৌধুরীঃ কিন্তু এভাবে বিয়ে..

অর্ণব মি.চৌধুরীকে বলতে না দিয়ে বললো… এতে অসুবিধা কিছু দেখছিনা তো বাবাই এতে সুবিধা হবে অন্তুকে নিয়ে আমার চিন্তা হবে না আর আনভি তার মাম্মামকে সব সময় কাছে পাবে।

মি.চৌধুরীঃ তুমি ঠিক বলেছো এটাই ভালো। ওকে তুমি সবটা দেখে নাও আমি তাইকে আসি

মি.চৌধুরী চলে যান অর্ণব স্বস্তি নিশ্বাস ফলে সে মনে করেছিলো তার বাবাই মানা করবে কিন্তু না সে বুঝেছে। অর্ণব ঘুমন্ত আনভিকে দেখে হাসলো যখন থেকে শুনেছে তার মাম্মাম পরশু থেকে সবসময়ের জন্য তার কাছে থাকবে সেতো আকাশে উড়ছে অনেক কষ্টে তাকে ঘুম পাড়িয়েছে অর্ণব। অর্ণব ফোন নিয়ে অন্তুকে ফোন দিতে দিতে বেলকনিতে গিয়ে দাড়ায় ফোনের ওপাশ থেকে মিষ্টি কন্ঠে বললো…

অন্তুঃ আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ

অন্তু এক নিঃশ্বাসে অনেক বার ভালোবাসি বললো, অর্ণব হাসলো তার অন্তু যে ভীষণ খুশি সে তার আই লাভ ইউ বলাতে বুঝতে পারে। অর্ণব বললো…

অর্ণবঃ এতো ভালোবাসা আজ আমাকে কেন জান?

অন্তুঃ কারণ আজ আমি ভীষণ খুশি আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। আমি তোমার কাছে চলে যাবো সারাজীবনের জন্য আমি ভাবতে পারছিনা।

অর্ণবঃ জান আমি ও ভীষণ খুশি তোমাকে খুশি দেখে। তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না আমি কি পরিমাণ খুশি।

অন্তুঃ আনভি কোথায় সে জানে?

অর্ণবঃ হে জানে সে খুশিতে আটখানা হয়ে গেছে অনেক কষ্টে তাকে ঘুম পারিয়েছি। অন্তু তুমি খুশিতো সত্যি

অন্তুঃ আমি ভীষণ খুশি অর্ণব। আই লাভ ইউ

অর্ণবঃ আই লাভ ইউ জান আই লাভ ইউ। আই প্রমিস তোমাকে নিজের সাথে বেঁধে রাখবো এর পরে থেকে কোথাও যেতে দেবো না। সারাজীবন এই বুকে জড়িয়ে রাখবো।

অন্তুঃ যদি কখনো আমার কিছু হয়ে যায় তখন। কখন যদি আমার প্রানপাখি পালাতে চাই তখন তাইলে কি করবে তুমি।

অন্তু কথা শুনে অর্ণবে বুক কেঁপে ওঠে সে অন্তুকে ছাড়া তার জীবন ভাবতে ও পারে না। অর্ণব রেগে গিয়ে বললো…

অর্ণবঃ এসব কোন ধরনের কথা অন্তু। তোমার কিছু হবে না আমি কিছু হতে দেবো না। যদি কিছু হয় তাইলে আমি আল্লাহর কাছ থেকে তোমাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসবো না হয় আমি তোমার কাছে চলে যাবো৷ তাও তোমাকে ছাড়বো না কিছুতেই না

অর্ণবের গলা ধরে আসে অন্তু বুঝতে পেরে খারাপ লাগলো সে কি বললে এটা সে কেন অর্ণবকে কষ্ট দেয় বার বার। অন্তু বললো…

অন্তুঃ সরি আমি ওভাবে বলতে চায়নি

অর্ণবঃ তুমি যে ভাবেই বলতে চাও না কেন আর কখনো এটা বলবে না প্লিজ জান… তেমার একটা কথায় এখন নিজেকে পাগল পাগল লাগছে…

অন্তুঃ সরি আর বলবো না। এখন বলো…

অর্ণব দুষ্টুমি করে বললো… তাইলে বাসরটা সাজিয়ে ফেলি কি বললো জান। প্রথম বার তো বাসরঘর সাজাতে পারি নি কিন্তু এবার সঠিক নিয়মে বাসর হবে কোনো ছাড় নেই তোমার…

অর্ণবের কথায় অন্তু গাল লাল হয়ে যায় এই ছেলে যেখানে সেখানে শুরু হয়ে যায়। অন্তু কপট রাগ দেখিয়ে বললো…

অন্তুঃ অসভ্য একটা যেখানই চান্স পাও শুরু হয়ে যাও তাই না…

অর্ণবঃ হে হয় তো বউকে আদর করতে সময় সুযোগ পরিবেশ দেখে করবো নাকি। আদর যখন করতে মন চাইবে তখনই করবো। এই ধরো এখন তোমাকে আদর করতে মন চাচ্ছে তোমাকে টাইট করে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে মন চাচ্ছে।

অর্ণবের হাজালো কথার সাথে অন্তু লজ্জা নুয়ে যাওয়া মুখ খানি দেখার মতো। এতো দিনের ধৈর্যের ফল তারা পাবে মিষ্টি ফল। মানুষের বলে না সবুরে মেওয়া ফলে… সেই ফল সব সমায় মিষ্টি হয়। তাদের জীবনেও যেনো মিষ্টি সময় বয়ে আনে….
#তুমি আসবে বলে
#অপেক্ষার প্রহর
#Sondha Halder
#পর্ব-৫৪ (বিয়ে স্পেশাল)

লালরঙা শাড়িতে অন্তুকে বেশে মানিয়েছে তার সাথে হালকা মেকাপ, কপারে মাঝে লাল টিপ, ঠোঁটের লিপস্টিক, গলায় হালকা কাজের সোনার গয়না, কানে সোনার ঝুমকো, নাকে নকাফুল, হাত ভরি লাল চুরি, চুলগুলো খোপা করা তার সাথে গোলাপের গাজরা দেওয়া ঘাড় থেকে নেমে এসেছে। অন্তু আজ অর্ণবের পছন্দে সেজেছে আর সেই সাজ আয়রা তাকে করিয়ে দিয়েছে। শাড়ির আঁচলে পিন মেরে আয়রা অন্তুকে ছেড়ে দিয়ে তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বললো…

আয়রাঃ মাশাল্লাহ আমার ননদীনিকে যা বেশ মানিয়ে আজ দেখছি ভাইয়া দেখে ছোট্ট খাটো হাট-অ্যাটাক করবে। সাবধান কিন্তু অন্তু…

আয়রার কথায় অন্তু লজ্জা পায়, অন্তু লজ্জা পাবা মুখ দেখে আয়রা হাসে। মেয়েটা তার প্রাপ্য সুখ গুলি পাচ্ছে ভেবেই সে খুশি। বাড়ির সবাই আবাক অন্তু বিয়ে করতে রাজী হওয়াতে সবার থেকে আবাক আজাদ মির্জা হয়েছে সে জানতো তার মেয়ে কিছুতেই রাজী হবে না কিন্তু তার বিশ্বাস অন্তু ভেঙে দিলো এক নিমিষে বিয়েতে রাজী হয়ে। সবাই মনে করে অন্তু বিয়েতে রাজী হয় শুধু আদির আর আনভির জন্য তাই অন্তুকে নিয়ে তারা বেশি আয়োজন করে না। শুধু কাজি আর রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হবে আর অর্ণব আজকেই তাকে নিয়ে যায়বে। বাড়ির সবাইকে যে যার কাজে ব্যস্ত, আদি আয়ান তার বোনের বিয়েতে কোন কমতি রাখেনি তারা নিজে সব কিছু করেছে। আয়রা বলে…

আয়রাঃ তুমি খুশি থাকলে সবাই খুশি হয়। তাই নিজে খুশি থাকো আর অর্ণ… মানে রোদ ভাইয়া কেউ খুশি রেখো।

অর্ণব বলতে গিয়ে আয়রা থতমত খেয়ে কোন মতো সামলে নেয়। অন্তু ভ্রু কুচকে আয়রার দিকে তাকায় সেই সময় অরনি আনভিকে কোলে নিয়ে অন্তুর রুমে এসে বলে…

অরনিঃ দিদিয়া তোর মেয়েকে সামলা তুই। সেই কখন এসে থেকে মাম্মাম কোথায় মাম্মামের কাছে যাবো বলে বলে হয়রান করে দিয়েছে আমাকে।

বলে আনভিকে অন্তুর কোলে দিয়ে দেয় আয়রা হাফ ছেড়ে বাচে সে জানে অন্তু তার কথা বুঝতে পেরেছে তাই কিছু প্রশ্ন নিশ্চিত করতো কিন্তু আনভি আসাতে সে চুপ হেয়ে যায়। অন্তু আনভিকে পেয়ে আয়রার বলা কথা ভুলে যায়। আনভি আজ লালা জামা পরেছে, চুল গুলো ছেড়ে কিলিপ দিয়ে আটকানো। অন্তু আনভিকে বলে…

অন্তুঃ আমার মামুনি কে তো খুব কিউট লাগছে।

আনভিঃ না আমার মাম্মামে সুন্দর লাগছে একে বারে পুতুল পুতুল।

বলে অন্তুর সারা মুখ তার ছোট্ট হাত দিয়ে নাড়তে লাগে তা দেখে অন্তু হাসে। আয়রা অরনিকে দেখে মেয়েটা বেগুনী রঙের শাড়ি পরেছে, হালকা সাজেছে সে। আয়রা বলে…

আয়রাঃ অরনি তোমার না আজ এনগেজমেন্ট তাইলে তুমি এদিক ওদিক ঘুরছো কেন?

অরনিঃ ভাবি আজ আমার দিদিয়ার দিন তাই সব কিছু আমার দিদিয়াকে ঘিড়ে হবে আমাকে না। তাই আমাকে নিয়ে চিন্তা না করে দিদিয়াকে নিয়ে করো।

আয়রা হাসে মেয়েটা পুরো দিদিয়া পাগল। অয়নের কান্নার শব্দে আয়রা তার কাছে যায় গিয়ে তাকে থামায়। ছোট্ট বাচা দেখে আনভি ছোট ছোট চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর কি হলো অন্তুর কোল থেকে নেমে অয়নের কাছে গিয়ে তাকে ধরে খিলখিল করে হাসতে লাগে। সবাই আনভিকে দেখে অবাক আনভি অয়নকে হাত গাল নাক মুখ নেড়ে দিয়ে বললো…

আনভিঃ মাম্মাম দেখো কি নরম হাত, কতো ছোট বাবু আমার নিয়ে যাবো ওকে।

অন্তুঃ না মামুনি অয়ন ভাইয়াকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সে তো অনেক ছোট্ট তাই সে তোমার মামির কাছে থাকবে। বড় হলে আমরা নিয়ে যাাবো।

আনভি তো জেদ ধরে নিয়েছে সে অয়নকে নিয়ে যাবে তার সাথে অন্তু অনেক বোঝা কিন্তু কিছু হয় না। আনভি কাঁদো কাঁদো মুখে বললো…

আনভিঃ তাইলে আমার ভাই এনে দাও। আমি ওকে নিয়ে যাবো না তখন।

আনভির কথা শুনে সবাই বিহ্বল বিমূঢ়। অন্তু আনভিকে কোলে নিয়ে তার কানে কানে কি যেন বলে সে হেসে বললো… সত্যি। অন্তু বললো… হ্যা সত্যি। আনভি আর কান্না করে না অয়নের সাথে খেলতে লাগে, খেলতে খেলতে সে বলে…

আনভিঃ মামু কোথায়?

অন্তুঃ কেন নিচে তো তোমরা আদি মামু আছে।

আনভিঃ ওই মামু না যে আমার সাথে প্রতিদিন ফোনে কথা বলতো সেই মামু।

আনভির কথা শুনে অন্তু ভ্রু কুচকে আনভি কি বললো যেই মামু প্রতিদিন ফোনে কথা বলতো মানে কি কার সাথে আনভি কথা বলতো। আনভির কথা শুনে আয়রা বিষম খায়, সে কাশতে কাশতে বললো…

আয়রাঃ অন্তু চলো নিচে থেকে ডাকছে তোনাকে। আগে তোমার রেজিস্ট্রি হবে তারপর অরনির এনগেজমেন্ট চলো…

আয়রার তারা দেওয়াতে সে আর কিছু বলতে পারে না। তাদের বিয়েতে বাইরের কেউ নেই শুধু দু-পরিবার। অন্তুকে নিচে নিয়ে আসলে নিহিতা আর দিদুন তাকে নিয়ে অর্ণবের কাছে বসিয়ে দেয় আর আনভি অর্ণবের কোলে বসে থাকে। এদিকে অর্ণব অন্তুর দিকে ‘হা’ করে তাকিয়ে থাকে অন্তুকে নিজের মনের মতো সাজে দেখে সে মন্রমুগ্ধ। অর্ণবকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অন্তু লজ্জা পায় সে আড়চোখে অর্ণবকে দেখে মেরুন কালারের পাঞ্জাবি, হাতে ঘড়ি, চুলে জেল দিয়ে সেট করা তাকে হ্যান্ডসাম লাগছে। দিদুনের কথায় তাদের ধ্যন ভাঙ্গে…

দিদুনঃ অন্তু দিদিভাই সই করে দাও।

দিদুনের কথায় অন্তু তার সামনে থাকা কাগজগুলো দেখে একবার সবার দিকে তাকিয়ে দেখে তার বাবা নেয় সে বলে…

অন্তুঃ দিদুন আব্বু

অন্তুর কথায় দিদুনের মন খারাপ হয়ে যায়, সে অনেক বার আজাদ মির্জাকে ফোন করে ডেকেছে কিন্তু সে আসবে না বলে দিয়েছে তাই আদি তাকে আর ডাকতে না করে। দিদুন মুচকি হেসে বললো…

দিদুনঃ তোমার আব্বু নেই বাড়িতে তার কি কাজ আছে তাই সে সেখানে গেছে। তুমি তাড়াতাড়ি করো তো। রোদ দাদুভাই সই করে দাও।

অর্ণব রেজিস্ট্রি পেপারে আগে সই করে অন্তুর দিকে পেপারসগুলো দিলো। অন্তু কলম হাতে নিয়ে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে আবার আদির দিকে তাকায় আদি অন্তুর চোখের ভাষা বুঝতে পেরে চোখের ইশারায় আশ্বস্ত করে তাকে। অন্তু চোখ নামিয়ে কাপা কাপা হাতে অর্ণবের সাইন করে জায়গার পাশে নিজে সই করে। তারপর কাজিকে দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পূর্ণ করে, আবার ও তিন কবুলের মাধ্যমে তার বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ৪বছরের বিশাল বিচ্ছেদের পর তারা দুজনে মিলিতো হলো নতুন করে। অন্তু চোখ থেকে একফোঁটা অশ্রু পরে তা দেখে অর্ণব তার হাতে হাত রেখে দাবা গলায় বললো….

অর্ণবঃ জান কান্না করো না আমাদের সুখের সময় এখন থেকে শুরু তাই অতীতে কি হয়েছে সেটা নিয়ে মন খারাপ করবে না। আমরা নতুন করে সব শুরু করবো কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না। তাই চোখের পানি মুছো আর একটু হাসো প্লিজ…

অন্তু চোখ মুছে নিয়ে সামান্য হাসে তা দেখে অর্ণব ও হাসে। আনভি অন্তুর গালে চুমু দিয়ে অর্ণবের গালে চুমু দেয় তার খুশি যেন কমছেই না তার মাম্মা পাপার বিয়ে আর তার মাম্মাম এখনে থেকে তার কাছেই থাকবে সেই খুশি তো আছেই। অর্ণব অন্তুর বিয়ে কমপ্লিট করে অরনি আর প্রাপ্যকে এক সাথে বসিয়ে আংটি বদল করায়। সব ভালোভাবে সম্পূর্ণ হলে তারা দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে বসে কথা বলে। আনভি আয়ানের কোলে বসে কটুরকটুর করে কথা বলছে আর হাসছে আদি অর্ণবের সাথে কথা বলছে, অরনি অন্তুকে রেড়ি করাছে একটুপর তাকে নিয়ে যাবে অর্ণব। অন্তু তার রুমে বসে আছে অরনি আয়রা তার ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছে আর নাক টানছে। অন্তু বললো…

অন্তুঃ তোমরা যে কোন একটা কাজ করো হয় কান্না করো না হয় ব্যাগ গুছাও।

অন্তুর কথা শুনে অরনি তার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়। আয়রা পাশে দাড়িয়ে আছে কিছু বলো না কিন্তু চোখ থেকে পানি পরছে। অন্তুর নাক টেনে বললো…

অন্তুঃ অরু আমি কি একেবারে যাচ্ছি নাকি। আমি তো আবার আসবো তা না হলে তুই চলে যাস আমার বাড়িতে। কান্না করিস না বুনু

অরনিঃ যাস না দিদিয়া আমাদের ছেড়ে। আমি কি করে তোকে না দেখে থাকবো। সব সময় কে আমাকে শাসন করবে বলবে অরু এটা করিস না ওটা করিস না।

বলে কান্না করতে লাগলো। অন্তু এতখনে নিজেকে সামলিয়ে রাখলেও এখন আর পরলো না সে ফুপিয়ে কেঁদে দিয়ে বললো…

অন্তুঃ অরু কান্না করিস না আমি তাইলে যেও শান্তি পাবো না। তুই আমার কাছে গিয়ে থেকে আসিস কয়েকদিন তারপর তোর পরীক্ষা হলে আমরা তো এক সাথে থাকবো।

অন্তুর কথা অরনি জবাব দিলো না সে কিছুখন অন্তুকে জড়িয়ে থেকে সরে আসে ব্যাগ গুছাতে লাগে। অন্তু অরনিকে দেখে আয়রাকে বললো…

অন্তুঃ ভাবি জানি আমি অনেক ভুল করেছি পারলে ক্ষমার করে দিও।

আয়রা অন্তুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো… তুমি কোনো ভুল করো নি করলে আমি করেছে তোমার সাথে। সরি অন্তু, আমি চায় তুমি সুখে থাকো তাই প্লিজ এই বাড়িতে এসো না আর রোদ ভাইয়া আনভিকে নিয়ে সুখে থাকো।

অন্তুঃ দিদুন আর বাড়ির সবার খেয়াল রেখো ভাবি।

আয়রা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। অরনি চোখে মুছে অন্তুকে নিয়ে নিচে চলে যায়। সবার মন খারাপ তাদের আদরের মেয়ে চলে যাবে, আদি দূরে দাড়িয়ে অন্তুকে দেখছে তার চোখে কোণে জল, আয়ানেরও তাই। অর্ণব আনভিকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে সাথে প্রাপ্য আর তার বাবাই। অন্তু দিদুনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো, দিদুন চোখের জল মুছে বললো…

দিদুনঃ ধুর পাগলি এভাবে কান্না করিস না একদিন তো তোকে যেতেই হতো তাই না। সব মেয়েদের একদিন বাবার বাড়ি ছেড়ে শশুর বাড়ি যেতেই হয় এটা নিয়ম। যাও দিদিভাই তোমার সামনে নতুন একটা ভবিষ্যতে আছে সুখে থাকো। ও বাড়ির কাউকে অসম্মান করো না মানিয়ে নিয়ে চলবে।

অন্তু তার দিদুনকে ছেড়ে আকাশ মির্জা কাছে গেলে তার চাচ্চু তাকে বুকে নিয়ে বললো… মামনি কান্না করে না তুমি তো আসবে এখানে। নিজের যত্ন নিও সাথে ওবাড়ির সবার।

অন্তু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে। নিহিতা মির্জা এসে বললো… অন্তু মা অনেক খারাপ করেছি তোমার সাথে তাই মাফ করে দিও তোমার চাচীকে। ভালো থাকবে।

অন্তুঃ চাচী আপনি যা করেছেন ভালো জন্য করেছে আমার আমি কিছু মনে করিনি। চাচী আয়রা ভাবি আর অয়নকে মেনে নেবে পারলে প্লিজ।

বলে অন্তু চলে আসে আদি কাছে। আদি বোনকে দেখে নিলো মন ভরে, তার ছোট অন্তুপাখি কতো বড় হয়ে গেছে যে তার আজ বিয়ে। নতুন কর জীবন শুরু করতে যাচ্ছে সে। অন্তু কাঁপা গলায় বললো….

অন্তুঃ দাদাভাই…

আদি অন্তুকে জড়িয়ে ধরে অন্তু আর কিছু বলতে পারে না। অন্তুর কান্নার শব্দের বাড়তে থাকে, অন্তুর কান্না দেখে অর্ণবের ভেতটা ফেটে যাচ্ছে সে নিজেকে বেধে রেখেছে শুধু আজকের জন্য অন্তুকে সে কান্না করতে দেবে এরপর আর তার চোখে পানি আসতে দেবে না কিছুতেই না। আদি চোখের জল মুছে বললো…

আদিঃ অন্তুপাখি সব সময় হেপ্পি থাকবি। তোর কষ্ট আমি দেখতে পারি না তুই জানিস তাই কখনো যদি কষ্ট পাস আমাকে বলবি আমি সব ঠিক করে দেবো। আনভি আর অর্ণবের সাথে সুখে থাক সেটা আমি চায়। অন্তুপাখি কান্না করে না চলো দেড়ি হয়ে যাচ্ছে…

আদি অন্তুকে নিয়ে যেতে নিলে কিছু মনে পরলে আদি আয়ানের দিকে তাকিয়ে তার কাছে আসতে বলে কিন্তু আয়ান আসতে না করে তা দেখে আদি চোখ গরম করে। আয়ান সুরসুরিয়ে তাদের কাছে আসলে অন্তুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলে….

আয়ানঃ ভালো থাকিস বোনু…

আয়ানের স্নেহময়ি হাত পরলে অন্তু মনে কি হলো সে আয়ানে জড়িয়ে ফুপিয়ে কেঁদে দিলো। আয়ান স্তব্ধ হয়ে যায় সাথে চোখ থেকে অঝোরে পানি পরতে থাকে। আয়ান অন্তুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো কিছু না বলে। আকাশ মির্জা এসে অন্তুকে নিয়ে গিয়ে মি.চৌধুরী সামনে গিয়ে বললো…

আকাশ মির্জাঃ ভাইজান আমাদের সবার আদুরে মেয়ে অন্তু। তার কাছে থেকে ভুল হলে ছোট মনে করে ক্ষমা করে দেবেন।

মি.চৌধুরীঃ কি যে বলেন অন্তুমা আমাদের বাড়ির বউ না মেয়ে হয়ে যাচ্ছে। তাই আমার মেয়ে যত ভুল করুক না কেন সেটা নিয়ে আপনাদের মাথা ব্যাথা করতে হবে না।

মি.চৌধুরী কথায় আকাশ মির্জা স্বস্তি পায়। তাদের বাড়ি মেয়ে ভালো থাকবে সেখানে গিয়ে। অন্তুকে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে দেয় আকাশ মির্জা। আদি অর্ণবকে বলে…

আদিঃ অর্ণব আমার অন্তুপাখিকে ভালো রাখবে সেই ভরসা তোমার হাতে তুলে দিয়েছি আমার ভরসা ভেঙ্গে দিও না।

অর্ণব আদিকে আশ্বস্ত করে বললো…. ভাইয়া আপনার বোনকে আমার জীবন দিয়ে আগলে রাখবো। কষ্টের ছিঠে ফোঁটাও তাকে ছুতে দেবো না আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন।

অর্ণব গাড়িতে গিয়ে বসে আনভি তার দাদুর আর চাচ্চুর সাথে সামনে গাড়িতে যাচ্ছে। গাড়ি চলতে শুরু করলে অন্তু বাইরে তাকিয়ে বাড়িটা একবার দেখে নেয় এখানে তো সে তার শৈশব কাটিয়েছে কতো স্মৃতি আছে তার। সবার সাথে কতো দুষ্টুমি করেছে, কান্না করেছে, মেরেছে, আনন্দ করেছে আজ সব ছেরে তাকে চলে যাতে হচ্ছে। অন্তু ফুপিয়ে ওঠে অর্ণব তাকে তার বুকে মাঝে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করতে করতে বললো….

অর্ণবঃ আজ শেষ কান্না জান এরপরে আর কান্না না। তুমি আমি আর আনভি আমরা মিলে নতুন করে সব শুরু করবো। নতুন করে পথ চলবো, নতুন স্মৃতি করবো, নতুন ভাবে বাঁচতে শিখবো, তাই চোখের জল ফেলবে না। আমাদের ভালোবাসা দিয়ে সব কষ্ট মুছে দিয়ে সুখের সাগরে ভাসবো….

অন্তু চুপ করে অর্ণবের বুকের মাঝে মুখ দিয়ে থাকলো। এই মানুষটার জন্য এতো কাল কষ্ট করেছে আর আজ সে মানুষটার সাথে আজ থেকে নতুন করে সংসার করবে। ভালোবাসার সংসার, যেখানে কষ্ট, দুঃখ থাকবে না থাকবে শুধু ভালোবাসা, আনন্দ, সুখ। অর্ণব অন্তুর কপালে চুমু দিয়ে চোখ বুজে রইলো তাদের তো কেবল নতুন করে পথ চলতে শুরু হলো এখনো জীবনের অনেকটা পথ চলতে হবে তাদের…..
#তুমি আসবে বলে
#অপেক্ষার প্রহর
#Sondha Halder
#পর্ব-৫৫

মৃদু ঠান্ডা বাতাস চলছে বইয়ে যাচ্ছে বাইরে, এখন শীতটা আস্তে আস্তে বাড়ছে। রাতের নিস্তব্ধতার মাঝে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে অন্তু, তার চোখ বাইরে অন্ধকার থেকে সরিয়ে পেছন ঘুরে রুমের ভেতরে বেডের ওপরে দেয়। সেখানে হাজারো গোলাপ দিয়ে সাজানো হয়েছে তার আর অর্ণবের বাসরঘর, সেই বেডের মাঝে হাত-পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুমিয়ে আছে আনভি অন্তু মুচকি হেসে আবার বাইরের দিকে তাকায়। গোলাপের ঘ্রাণ বাইরে পর্যন্ত আসছে অন্তু, জোরে নিশ্বাস নিয়ে ভাবছে কিছুখন আগের কথা সে বাড়িতে আসলে মি.চৌধুরী তাকে সদরে আমন্ত্রণ করে ঘরে নিয়ে আসে তারপর সে ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেয়ে সবার সাথে গল্প করে, বাড়িতে ফোন করে কথা বলে। দেখতে দেখতে রাত হলে প্রাপ্য আনভিকে তার সাথে ঘুমাতে বলে সে কিছুতেই তার সাথে যাবে না সে তার পাপা মাম্মামের কাছে থাকবে। অনেক বুঝিয়ে যখন লাভ হলো না তখন প্রাপ্য মাথা নিচু করে চলে যায় তা দেখে অন্তু হাসে। সে আনভিকে নিয়ে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছে অর্ণব কোথায় গেছে সে জানে না সন্ধায় বলো আসতে রাত হবে তারপর থেকে খোঁজনেয় না জানি কার সাথে আছে। হঠাৎ গায়ে চাদর জাতীয় কিছু অনুভব হলে হচকে যায় অন্তু, পরক্ষণে কারোর বাহু ডোরে আবদ্ধ হলে তার বুঝতে বাকি নেয় সে ব্যাক্তিটি কে তাই সে চুপ করে তার বুকে মাথাটা হেলে দেয় তা দেখে অর্ণব হসলো। হে সেই মানুষটি অর্ণব সে বাইরে থেকে এসে রুমে ঢুকতেই বেডে আনভিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে বুঝলো আনভি অন্তুকে ছেড়ে কোথাও যানি, তারপর সে অন্তুকে খুজতে খুজতে বেলকনিতে এসে দেখে সে ঠান্ডার মধ্যে দাড়িয়ে আছে তাই সে চাদর নিয়ে এসে তাকে পড়িয়ে দিয়ে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। অর্ণব ধীরে বললো…

অর্ণবঃ কি হয়েছে জান এমন করে ঠান্ডার মধ্যে দাড়িয়ে আছো কেন?

অন্তু অর্ণবের হাত আরো শক্ত করে ধরে বললো… এমনি ভালো লাগছিলো তাই।

অর্ণবঃ মেডিসিন নিয়েছো

অন্তুঃ হ্যাঁ

দুজনের মাঝে কিছুটা নিরবতা নিমে এলো। অর্ণব বললো… অন্তু তোমার এখানে অসুবিধা হচ্ছে না তো মানে ভালো না লাগলে বললো আমাকে, আমরা না হয় অন্য কোথাও চলে যাবো।

অন্তুঃ আমার এখানে ভালো লাগছে অর্ণব। বাবাই আমাকে তার মেয়ের মতো মনে করে। প্রাপ্য আমাকে ভাবির থেকে বোন বেশি ভাবে। তাইলে আমি কি করে তাদের ছেড়ে অন্য কোথাও ভালো থাকতে পারবো বলো। আমি মির্জা বাড়ি থেকে এখানে অনেক ভালো আছি।

অন্তু উত্তরে অর্ণব সন্তুষ্ট, কেন না সে ও তাদের কে ছেড়ে থাকতে পারবে না। তাদের প্রতি এতোবছরে একটা মায়া, অধিকার বোধ তৈরি হয়েছে সে কিছুতেই তা হারাতে চায় না। অর্ণব অন্তুর ঘাড়ে থুতনি দেখে বলে…

অর্ণবঃ জান…

অন্তু কেঁপে ওঠে অর্ণবে আবেগ পূর্ণ ডাক শুনে। অন্তু…হুমম

অর্ণবঃ কিছু না…

অন্তু কিছুক্ষণ চুপ থেকে অর্ণবকে বললো… অর্ণব আমার কিছু চাই..

অর্ণবঃ বলো কি চাও

অন্তু কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিজেকে মানিয়ে বললো… আমার বেবি লাগবে…

অন্তুর কথা শুনে অর্ণব তাকে ছেড়ে দিয়ে বিস্ময় নিয়ে বললো… মানে?

অন্তু পিছনে ঘুরে অর্ণবের চোখে চোখ রেখে বলো… আমার বেবি লাগবে অর্ণব। তুমি সেদিন বলে না আনভির ভাই লাগবে আমি রাজী হচ্ছি না আমি আজ রাজী। প্লিজ অর্ণব আমার বেবি লাগবে।

অন্তুর আকুতি ভরা চোখে দেখে অর্ণব থমকে যায়। মেয়েটা কতো সাধ করে তার কাছে এটা চাচ্ছে কিন্তু সে এটা এখন দিতে পারবে না কেননা অন্তুর শরীল এখন নতুন করে একটা প্রানে বহন করার মতো প্রস্তুত না। অর্ণব বলে…

অর্ণবঃ জান আমি তো মজা করে বলেছিলাম। আমার কথা তুমি সিরিয়াসলি নিওনা।

অন্তুঃ কিন্তু আমি সিরিয়াসলি বলছি অর্ণব। প্লিজ আমার কথাটা বোঝো আজ আনভি অয়নকে দেখে আমাকে বলেছে তার ভাই লাগবে আমি তাকে প্রমিস করেছি আমি তাকে ভাই দেবো আর তার থেকে বড় কথা আমার বেবি লাগবে। আমি অনুভব করতে চায় একটা বাচ্চার স্পর্শ কেমন হয়, তাকে খাওয়াতে চায়, ঘুম পড়াতে চায়, তার মুখে অদো অদো ভাষায় মা ডাক শুনতে চায়, তার ছোট ছোট পায়ে হাটতে দেখতে চায়, নিজের মাতৃত্ব অনুভব করতে চায় যেটা আমি আনভির বেলাতে করতে পারিনি প্লিজ অর্ণব।

অন্তুর আবেগ প্রনয় কথা শুনে অর্ণব হতভাগ্য মেয়েটা মা হয়েছে কিন্তু মা হবার অনুভব করতে পারেনি সে। অর্ণব অন্তুর গালে হাত রেখে বললো…

অর্ণবঃ তোমার সব স্বপ্ন পূরণ করবো আমি। তুমি বেবি নেবে আমি দেবো কিন্তু কিছুটা সময় পরে রাজী…

অর্ণব যে না বলেনি এতেই অন্তু খুশি হয়ে মাথা নাড়ায়, তা দেখে অর্ণব হেসে তাকে নিয়ে রুমে এসে লাইট অফ করে দিয়ে বেডে মাঝে শুয়ে অন্তুকে বুকের এক পাশে নিলো তারপর আনভিকে। অন্তু অর্ণবকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইলো সে এই মূহুর্তটা অনুভব করতে চায়। আস্তে আস্তে সে ঘুমিয়ে পরে অন্তুকে ঘুমাতে দেখে অর্ণব মনে মনে বলে… আমিও চায় আমাদের বেবি হোক কিন্তু সামনে যে ঝড় আসছে সেটার জন্য তুমি আবার ভেঙ্গে পরতে পারো আর সেই মুহূর্তে আমি চায়না তোমার ভেতরে বেড়ে ওঠা আরো একটা প্রানটা কষ্ট পাক। তাই কিছুটা সময় তো নিতে হবে তোমাকে। বলে অন্তু আর আনভিকে ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে ঘুমিয়ে গেলো…..
__________________________________

সকালের শিশির ভেজা রোদে আলোতে ঘুম ভাঙে অন্তুর। চোখে খুলতে অর্ণব আর আনভিকে দেখে অবাক হয় কেননা তারা দুজনে তার সামনে বসে হাসছে দেখে। অন্তুকে জেগে যেতে দেখে অর্ণব, আনভি এক সাথে বললো….

অর্ণবঃ আই লাভ ইউ জান…

আনভিঃ মাম্মা লাভউ

অন্তুর কাছে আজকের সকালটা স্বপ্নের মতো সে তো এটাই সব সময় চেয়েছে। তার ভালোবাসার মানুষকে দেখে সুন্দর একটা দিন শুরু করতে আর তার সাথে যদি তার সন্তানের ভালোবাসা স্নেহময় ডাক থাকে। অন্তু খুশিতে চোখ ঝলমলিয়ে উঠে, তার ভয় হয় এখন এই এতো এতো সুখ তার কপালে সয়বে তো, না-কি নতুন কোনো ঝড় এসে সব তচনচ করে দেবে। অর্ণব অন্তুকে অন্য মনুষ্যক দেখে অন্তু হাতে হাত রাখে, এতে অন্তু অর্ণবের স্পর্শে কেঁপে ওঠে। সে অর্ণবের দিকে তাকালে অর্ণব ইশারায় বলে.. কি হয়েছে। অন্তু মাথা নাড়িয়ে কিছু না বলে আনভিকে কোলে নিয়ে বললো…

অন্তুঃ আই লাভ ইউ মামুনি… আই লাভ ইউ অর্ণব। আমার দিনটাকে এতোটা সুন্দর করার জন্য

অর্ণব আনভি সহ অন্তুকে তার কোলে নিয়ে বললো… কে তোমার দিনটা কে সুন্দর করেছে। আমি তো আমার দিনটা কে সুন্দর করেছি বুঝলে।

বলে অর্ণব অন্তুর গালে টুপ করে চুমু খায়। অন্তু অর্ণবের কথায় ভ্রু কুচকে থাকে কিছুখন তারপরে ফিক করে হেসে ফলে। অর্ণব অন্তুকে হাসতে দেখে অন্তু আর আনভিকে কাতুকুতু দিতে লাগলো। আনভি, অন্তুকে কাতুকুতু দেয়ার ফলে তারা খিলখিল করে হসে বিছানায় গড়াগড়ি খায় আর অর্ণব তাদের দেখে মন ভেরে নেয়। এটাই তো তাদের ছোট সংসার, সুখের সংসার, অনন্দের সংসার, ভালোবাসার সংসার, এই খুশি যেন না হারায় সে এই কামনা করে…..
__________________________________

সময় সাথে পালা দিয়ে কেউ চলতে পারে না, তেমন মানুষের মধ্যে একাকিত্ব বোধ ও পালা দিতে পারে না। সময়ের সাথে সাথে একাকিত্ব বাড়তে থাকে যেমনটা আদিবার সাথে হচ্ছে। সেদিন আদির সাথে খারাপ ব্যবহার করে সে আদিকে নিজের থেকে ঠিক দূরে সরিয়ে দিয়েছে কিন্তু নিজের মধ্যে আদি বিহনে একাকিত্ব তাকা গ্রাস করে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে ২মাস হয়ে গেছে। আদি সেদিনের পরে আদিবার সমূখীন আর হয়নি আর না তার ভালোবাসার কথা নিয়ে এসেছে। আদিবার দিনে দিনে নিজেকে আদির প্রতি আসক্তি বাড়ছে বুঝছে নিজেকে দাবিয়ে রেখেছে। এই সময় আদিবা অর্ণবের কেবিনে বসে আছে মাথা নিচু করে আর তার সামনে অর্ণব শান্ত দৃষ্টিতে তাকে দেখে যাচ্ছে। সেদিন আদি আর আদিবার মধ্যে যা কিছু হয়েছে অর্ণব দেখেছিলো কিন্তু কিছু করতে পারেনি কেন না তখন অন্তুকে নিয়ে সে ব্যস্ত ছিলো কিন্তু এখন সে আদিবা কে নিয়ে আদির বিষয়ে খলসা করে কথা বলতে চায়। তাই তাকে তারা কেবিনে নিয়ে এসে বসিয়েছে কথা বলার জন্য, নিস্তব্ধতা ভেঙে অর্ণব বললো…

অর্ণবঃ আদিবা আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি তোমার কাছে কেন করছো তুমি এমনটা। তুমি জানো না আদি ভাইয়া তোমাকে কতোটা ভালোবাসে তাইলে এমন ছেলেমানুষী কেন করছো।

অর্ণবের কথা শুনে আদিবা মাথা উঁচু করে কান্নাত্ব কন্ঠে বললো… ভাইয়া আপনি জানেন আমি কেন এমটা করছি তারপরও কেন জিজ্ঞেস করছেন আমার কাছ থেকে। আমি আদিকে নিজের সাথে জড়ানো তো দূরে থাক তাকে বলতে পর্যন্ত পারছিনা কেন আমি তাকে আপন করতে পারছি না।

অর্ণবঃ আদিবা তুমি হয়তো বেশি ভাবছো আদি কখনো তোমাকে ভুল বুঝবে না। তুমি একটা বার তাকে বলো তোমার সাথে কি হয়েছে তাইলে…

অর্ণবকে কিছু না বলতে দিয়ে সে বললো…. ভাইয়া আমি যদি আদিকে কিছু বলি তাইলে আদি হয়তো আমাকে মানবে কিন্তু সেই লোকগুলো তো আমাকে শেষ করে দেবে হয় আদিকে মারবে না হয় ভিডিওটা লিক করে দেবে। তাইলে আমার কাছে কি থাকবে তখন না আদি থাকবে আর না সম্মান আমি দু’টোকেই হারাবো। এখন আদি আমার থেকে দূরে আছে সে বেচে আছে আর আমার সম্মানও।

আদিবার কথা শুনে অর্ণব চোখে বন্ধ করে চেয়ারে হেলান দিলো সে বুঝতে পারছে আদিবা যা বলছে তা সত্যি। সে যদি আদির কাছে যা আদি সব শুনে তাকে মানবে কিন্তু যদি একবার ভিডিওটা কোন ভাবে লিক হয় তাইলে আদিবার নিজেকে শেষ করতে দুমিনিটও সময় নেবে না। অর্ণব কি করবে ভাবতে লাগলো এদিকে আদিবা কান্না করেই যাচ্ছে। অর্ণবের ফোনে একটা মেসেজ আসলে সে ফোনটা নিয়ে দেখতে লাগলো, সে যতো মেসেজটা পড়ছে ততো তার ঠোঁটের কোণার বাকা হাসি ফুটে উঠছে। অর্ণব ফোনটা রেখে আদিবাকে বলে….

অর্ণবঃ আদিবা তুমি আমার আর অন্তুর সাথে যা কিছু হয়েছে তা তুমি দেখেছো। আমি যতটা অন্তুকে কাছে পাবার জন্য কষ্ট পেয়েছি ঠিক তুমিও আদিকে পাবার জন্য কষ্ট পেয়েছো।

আদিবা মাথা নাড়িয়ে অর্ণবের কথায় সায় দেয়। অর্ণব আবার বললো…. তুমি এখনো দেখছো আমি কতটা কষ্টে অন্তুকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছি। তাই তোমাকে একটা কথা বলি আমার সত্যি যদি ওই লোকটা জানতে পেতো তাইলে আমাকে শেষ করে দিতো কিন্তু সে এখন নিজের জোড়ানো জালে নিজে ফাঁসছে তাই তুমি যে ভয়টা পাছো সেটা ভুলে আদিকে নিয়ে ভালো থাকো।

আদিবা বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে আছে অর্ণবের দিকে সে অর্ণবের কথার মানে বুঝতে পারছে না। অর্ণব আদিবার মুখের ভাব দেখে বুঝেছে সে কিছু বঝেনি তাই সে বললো…

অর্ণবঃ তুমি চিন্তা করো না যেই ভিডিওটা নিয়ে এতো সমস্যা সেটা এখন আমার কাছে…

আদিবা বিস্ময় নিয়ে বললো…. মানে?

অর্ণবঃ মানে এটা আমি সেদিন আদি আর তোমার কথা সব শুনে ফেলেছিলাম। সব শোনার পর তোমার ভয়ের কারনটা গোড়া থেকে উপরে ফেলতে চেয়েছিলাম আর সেই কারনটা উপরে ফেলতে হলে মূল কারনটা হলো ভিডিও তাই তো। সেই ভিডিওটা এখন আমার হাতে।

আদিবাঃ আপনার কাছে মানে সেটা ও ওনার কাছে ছিলো।

অর্ণবঃ হ্যাঁ ছিলো কিন্তু এখন আমার কাছে আছে।

আদিবাঃ আপনি মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে আমাকে যাতে আমি আদিকে মেনে নিই।

অর্ণবঃ আমি কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছি না। তোমার বিশ্বাস না হয় তাইলে ওয়েট করো।

বলে সে কেবিন থেকে বাইরে চলে যায়। এদিকে আদিবা অর্ণবের কথা, কাজে হতভম্ব সে বুঝতে পারছে না সেই ভিডিওটা অর্ণবের হাতে আসবে কি করে সেটা তো ওনার কাছে আছে। আদিবার ভাবনা সমাপ্ত হয় অর্ণবের ডাকে, আদিবা অর্ণবের দিকে তাকালে সে তার দিকে একটা পেনড্রাইভ তাকে দেয় আর বলে এটা চালিয়ে দেখেতে। অর্ণব তার জায়গায় গিয়ে বসে আর আদিবা পেনড্রাইভটা চালিয়ে যা দেখে তাতে সে স্তব্ধ সে বিশ্বাস করতে পারছে না এটা হতে পারে সে ভিডিওটা দেখে চোখ বন্ধ করে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। অর্ণব বলে…

অর্ণবঃ আদিবা এটা অরেজিনাল কপি এটা ব্যতিত আর কোথাও এই ভিডিওটা নেই। তাই নিজেকে আদির থেকে দূরে রেখো না, ভালোবাসা না পেলে কতোটা কষ্ট লাগে সেটা তুমি ভালোভাবে জানো তাই আদিকে কষ্ট দিও না। যাও গিয়ে তাকে সব খুলে বলো যদি তুমি চাও, না হলে তাকে না বলে আপন করে নাও। কিন্তু দুজন দুদিকে দাড়িয়ে কষ্ট পেয়েও না যাও।

আদিবা পেনডাইভটা নিয়ে তার ব্যাগে রেখে অর্ণবের দিকে কৃর্তকার্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো… ধন্যবাদ ভাইয়া। আজ আপনি আমাকে যে উপকার করেছেন আমি কখনো ভুলবো না। থ্যাংকইউ সো মাচ

অর্ণবঃ যাও আদি তোমার জন্য ওয়েট করছে।

আদিবা আর এক মূহুর্তে না দাড়িয়ে চলে যায় তার আদির কাছে। এতো দিনের কষ্ট আজ অবসান ঘটবে, আবার ভালোবাসা দিয়ে রাঙিয়ে তুলবে তাদের জীবন। আদিবার মনে ভয় হচ্ছে আদি কি তাকে ক্ষমা না করবে, তার করা ভুলগুলোর জন্য যদি তার জীবনে তাকে না নেয়, তাইলে সে আদির পা জড়িয়ে তার জীবনে ফেরত আসতে বাধ্য করবে। এদিকে অর্ণব আদিবার দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আজ আবার একটা ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে, ভাবতেই তার গা শিউরে ওঠে। অর্ণব ফোন হাতে নিলো অন্তুকে ফোন করবার জন্য মেয়েটা ইদানীং কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে, খেতে চায় না ভালো করে, সব কিছুতেই নাক ছিটকায়, সে ভেবে পাচ্ছে না কি হয়েছে মেয়েটার। সামনে অরনি আর প্রাপ্যর বিয়ে তারপর তারা এখান থেকে চলে যাবে সব কিছু তৈরি হয়ে গেছে শুধু বিয়েটা হলে তারা চলে যাবে। তার আগে মেয়েটার শরীল খারাপ হলো, কতো বার ডক্টর দেখাতে বলেছে কিন্তু সে জেদ ধরে আছে সে ডক্টর দেখাবে না। অর্ণব অন্তুকে ফোন দিয়ে কথা বলতে লাগলো…

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here