তুমি ফিরে এসো পর্ব ২

#তুমি_ফিরে_এসো🍂
#পর্বঃ০২
#Arshi_Ayat

আহিনের হাত ধরে আয়ুশী হাটছে।এই হাত ধরে হাটা টা তার অনেক প্রতিক্ষিত।পুরো সপ্তাহ অপেক্ষা করে শুধু শুক্রবার এই হাতের মালিক কে পাওয়া যায় যাকে আয়ুশী ভালোবাসে।কিন্তু এখন আহিনকে কি বলবে?কেনো সে আজকে ওকে ডাকলো?ওকে ডাকার কারণ হলো ওকে খুব করে দেখতে ইচ্ছে করছিলো।ইতিমধ্যেই আহিন জিগ্যেস করা শুরু করলো

“তখন থেকে হাটছি কিন্তু তুমি কিছু বলছো না।বলো না কেনো ডেকেছো?”

“তেমন কোনো কারণ নেই কিন্তু তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছিলো।”

“তোমার ফোনে তো আমার অনেক ছবি আছে দেখে নিলেই পারতে শুধু শুধুই ডাকলে তাছাড়া এইতো দুদিন আগেই দেখা হলো তারপরও দেখতে হবে?জানো একটা টিউশনি মিস দিয়ে এসেছি দেখা করতে।”

“সরি,আর হবে না।মুখটা গোমড়া করে রেখেছো কেনো?একটু হাসো তো।”

হাটছিলো দুজনেই কথাও হচ্ছিলো হঠাৎ একটা হাত এসে আয়ুশীর ডান হাত টেনে ধরলো।আয়ুশী আর আহিন দুজনেই ঘুরে তাকালো।সামনের মানুষটাকে দেখে আয়ুশীর মুখের প্রশান্তিটা যেনো কোথাও উবে গেলো।শক্ত মুখে লোকটাকে জিগ্যেস করলো

“আপনি?আপনি এখানে কেনো?আর আমার হাত ধরার সাহস কোথায় পান।”

লোকটা ঈষৎ হেসে বলল

“আপনাকে আপনার এক্সের সাথে দেখলাম হাটতে তাই চলে এলাম আর হাত ধরার সাহস কেনো পাবো না কয়দিন পর আমাদের বিয়ে তাই হবু বউয়ের হাত ধরতেই পারি।”

লোকটার কথা শুনে আহিন রেগে বলল

“আয়ু এই লোকটাকে?আর এগুলো কি বলছে?”

লোকটা হেসে আহিনের দিকে হাত বাড়িতে বলল

“হাই আমি তন্ময় চৌধুরী।আর আপনার এক্স আমার হবু বউ।”

“আমার এক্স মানে?” (আহিন)

“মানেটা তো সহজ আমার সাথে বিয়ে হয়ে গেলে ও আপনার এক্স ই তো।”

“আয়ু তুমি কিছু বলছো না কেনো?এগুলো কি সত্যি?”(আহিন)

আয়ুশী মাথা নেড়ে বলল

” হ্যাঁ সত্যি।”

আহিনের মুখের ভঙ্গি পাল্টে গেলো খুব ব্যাস্ত গলায় বলল

“তাহলে তুমি আমায় বললে না কেনো?”

“কি বলবো বলো?বললে তোমার চিন্তা হবে তাই বলি নি।”

সবার মধ্যেই নিরবতা।হঠাৎ আহিন তন্ময়ের হাত ধরে বলল

“ভাইয়া আপনি ওকে বিয়ে কইরেন না।আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি।আপনি বিয়েটা ভেঙে দেন প্লিজ।”

“আমি বিয়ে ভাঙলে আপনি কি ওকে বিয়ে করতে পারবেন?”

“আমি চাকরি যোগাড় করেই ওকে বিয়ে করে ফেলবো।”

তন্ময় হেসে বলল

“ততদিনে যদি অন্যকেউ এসে ওকে নিয়ে যায় তখন?আচ্ছা বাদ দিন আমাদের বিয়ে সামনের শুক্রবারে।আমি আপনাকে কবুল বলার আগ পর্যন্ত সময় দিলাম এর আগে যদি আপনি চাকরি যোগাড় করতে পারেন তাহলে আমি আপনাদের মাঝ থেকে সরে যাবো।”

এটা বলেই তন্ময় আয়ুশীর হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গাড়িতে তোলে।আর আহিন চোখ ভর্তি জল নিয়ে ওদের দেখতে থাকে।আহিন এখন বুঝতে পারলো কেনো আয়ুশী তাকে আজকে দেখা করার কথা বলল।আচ্ছা মধ্যবিত্ত পরিবারে বোধহয় এমনই হয়।ভালোবাসার স্বপ্ন গুলো সত্যি হয় না দুঃসপ্ন হয়ে ঝরে পড়ে।আর মাত্র পাচদিন পর আয়ুশীর বিয়ে এর মাঝেই আহিন কিভাবে চাকরি পাবে কিছুই জানে না।

তন্ময় আয়ুশীকে বাসায় দিয়ে গেলো।আয়ুশী রুমে ঢুকেই ফোনটা হাতে নিয়ে আহিনকে ফোন দিলো।দুইবার কল হতেই সে রিসভ করলো।আয়ুশী আগে বলল

“কি করবে এখন?”

“বুঝতে পারছি না।”

“চল পালিয়ে যাই।”

“আমার মা বোনদের ছেড়ে আমি পালাতে পারবো না।”

“তাহলে আর কোনো উপায় ও নেই।”

কিছুক্ষণ পিনপতন নিরবতা।তারপর আয়ুশী আবার বলল

“ভুলতে পারবে আমায়?”

“তুমি পারবে?”

“তোমার উল্টো প্রশ্ন করার স্বভাবটা আর গেলো না।বলো পারবে?”

“ভুলতে তো কেউই পারে না অযথাই ভোলার চেষ্টা করে।সে হিসেবে আমিও পারবো না তুমিও পারবে না।”

“কি চিন্তা করলে তুমি?”

“এখনো কিছুই না।যদি পালাই তবে তোমাকে জানাবো।”

“আচ্ছা বলো তো ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে কি লাগে?”

“বিশ্বাস,ভরসা,মায়া সম্মান এগুলোর মিশ্রণ।”

“না গো এখন ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে টাকা লাগে ভালো চাকরি লাগে তবেই ভালোবাসা টিকানো যায়।”

“কথায় যুক্তি আছে।”

আয়ুশী প্রচন্ড উদাস হয়ে গেলো কিছু না বলেই ফোন কেটে দিলো তারপর আরশিকে ফোন দিলো।

“হ্যাঁ, বল।” (আরশি)

“তুই কি কলকে সত্যিই আসবি?”

“না রে মা আসতে দিবে না।একবারে শুক্রবার আসবো।”

“তাহলে কি করবো আমি?”

“তোর আর আহিনের ব্যাপারটা ওই ব্যাটাকে বলেছিস?”

আয়ুশী আজকের পুরো ঘটনা আরশিকে বলল।আরশি শুনে কিছুক্ষণ নিরব থাকলো পরে বলল

“আমি বুঝতে পারছি না কি বলবো!!”

আয়ুশী হতাশ গলায় বলল

“লাভ নেই কিছু করে।বিয়েটা করেই নেবো।”

“কি বলছিস হাবি জাবি।আহিনের কি হবে তাহলে?”

“আমি জানি না,আমি কিচ্ছু জানি।”

আয়ুশী ফোনটা কেটে দিলো।দুচোখ বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।কোনো বাধ ই মানছে না।ভালোবাসা গুলো বোধহয় এভাবেই হারিয়ে যায় অতল কৃষ্ণগহ্বরে।আচ্ছা তন্ময় কি কখনো কাউকে ভালোবাসে নি?ও যদি কাউকে ভালোবাসতো তবে আয়ুশীর কষ্ট টা হয়তো বুঝতো।আর হবে না আহিনের হাত ধরে পথচলা।ওর ঘর্মাক্ত মুখ মুছে দেওয়া।হয়তো কনো একদিন কোন এক বসন্তে তাকে দূর থেকে দেখা হবে।কাছে যাওয়া হবে না ছুয়ে দেখাও হবে না।

আয়ুশীর এখনো মনে আছে সেদিনের কথা।প্রতিদিনের মতো সেদিনও সে ঘর থেকে বেরিয়ে ছিলো পড়তে যাওয়ার জন্য পথেই আহিন বাধ সাধলো গুন্ডাদের মতো।তারপর এক গুচ্ছ কদম দিয়ে বলল

“গোলাপ আমার ভালো লাগে না।কদমটাই ভালো লাগে।এই কদমটাকে যত ভালোবাসি তোমাকে তারচেয়েও বেশি ভালোবাসি।আমার ভালোবাসা গ্রহণ করো।”

কি নিঃসংকোচ আবদার ছিলো তার।আয়ুশী সেদিন কিছু বলে নি।তার ঠিক কিছুদিন পর সেও একগুচ্ছ কদম দিয়ে গুন্ডাদের মতো আহিনের সামনে দাড়ালো।তারপর বলল

“কদম আমার ভালো লাগে না।তবে ভালোবাসার শহরে সবকিছুই তুচ্ছ।হ্যাঁ আমি তোমার ভালোবাসা গ্রহণ করো এবার তুমিও আমাকে তোমার বাহুডোরে আবদ্ধ করো প্রিয়।”

ভালোবাসার শুরু সেখান থেকেই।একসাথে দুটো বসন্ত পেরিয়ে গেলো।আজ সবকিছুই কেমন যেনো মনে পড়ে যাচ্ছে আয়ুশীর।এইতো সেদিন দুজনে বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরলো।সেই বৃষ্টিময় দিনের কথা এখনো চোখে ভাসছে। আজ হঠাৎ এতো কিছু একসাথে মনে হওয়ার কারণ কি?

আয়ুশীর ভাবনায় ছেদ ঘটলো আরিশার ডাকে।

“আপু তন্ময় ভাইয়া রেডি থাকতে বলছে তোমাকে।”

“কেনো?”

“তোমাকে নিয়ে বের হবে রাত নয়টায়।”

এটা বলেই আরিশা দৌড়ে চলে গেলো।

রাত নয়টা বাজতে চলল।আয়ুশী আগের মতোই বসে আছে।এইদিকে তন্ময় আয়ুশীর রুমে এসে দেখে ও এখনো বসে আছে রেডি হয়নি।তৎক্ষণাৎ তন্ময়ের মেজাজ গরম হয়ে গেলো।সে রেগে বলল

“এখনো রেডি হও নি কেনো?”

“আমি যাবো না আপনার সাথে।”

“আহিন ডাকলে তো ঠিকই যেতে।”

“আহিনের সাথে নিজের তুলনা করবেন না।”

“কেনো আমি কি খারাপ?”

“আপনি কাউকে কখনো ভালোবেসেছেন?”

“হ্যাঁ বেসেছি।”

আয়ুশী কৌতুহলে কন্ঠে বলল

“কে সে?”

চলবে….🍁

(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।ধন্যবাদ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here