তুমি যে আমার পর্ব -১০+১১

#তুমি_যে_আমার🥀
#Writer_Nondini_Nila
#Part_10

অভ্র প্রতিদিনের মত আজও রাত করে ফিরল। নিদ্রা বিছানায় হাটু উঁচু করে বসে ছিলো পরনে হলুদ শাড়ি। অভ্রের মা ওকে বলেছে শাড়ি পড়তে। শাড়ি পড়ে অস্বস্তি লাগলেও এটাই পরে। অভ্র একটু নজর পাওয়ার জন্য নিজেকে তেমন ভাবে সাজিয়ে রাখে যাতে অভ্রের ওর জন্যে ফিলিংস হয়।বিয়ের পরের দিন অভ্র ওভাবে চলে গিয়েছিলে সকাল-সকাল কাউকে কিছু না জানিয়ে। ও পরে এসে জানায় যে বর্ষাদের বাড়ি গেছিলো।
আমার ভালো লাগেনি কথাটা শুনে। বর্ষা মা অসুস্থ হয়েছে তার জন্য কেন অভ্রকেই ডাকতে হবে। দেশে কি আর ডাক্তার নাই? এটা ভাবা অবশ্য আমার নিচু মানসিকতার দিক কারণ অভ্র তো সেখানে কাজে গিয়েছিলো। একজন অসুস্থ মানুষ কে দেখতে তার চিকিৎসা করতে। কিন্তু আমার ভালো লাগেনি। এতে যে আবার বর্ষা ওর মনে চলে আসে। তার পরিবারের তার কথা আমি চাই অভ্রের সামনে বেশি আসুক।আমি কিছুতেই এবার অভ্র কে হারাতে পারবো না। তার জন্য অবশ্য আমি নিজের ছোট মন মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছি। আবার আমাকে জানিয়েছে ও বর্ষা কে খোঁজার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। নিজের ডাক্তারখানায় যতক্ষণ সময় দেওয়া লাগে তার বাইরে বাকি সময়টা বর্ষাকে নিয়ে পুলিশের কাছে দৌড় পারে। বর্ষার জন্য আমার কষ্ট লাগে। এভাবে একটা মেয়েকে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গেল। ওর কোন ক্ষতি করবে কিনা কে জানে? সত্যিই এই বিষয়গুলো একটা মেয়ের জন্য খুবই কষ্টকর। আর তার পরিবারও সবাই খুব কষ্টে আছে।সবাই চায় বর্ষা যেন ফিরে আসে। তাড়াতাড়ি ওকে যেন ফিরে পাওয়া যায়। বর্ষাকে যখন কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছিল। তখন আমার মনটা এটাই চেয়েছিল। কিন্তু অভ্রের সাথে বিয়ে হওয়ার পর আমারে এই চাওয়াটা পরিবর্তন হয়ে গেছে।আমি মন থেকে কিছুতেই চাইতে পারছি না বর্ষাকে পাওয়া যাক। আমি চাই ও যেখানেই আছে অসুস্থ থাক। যেখানে আছে সেখানেই ভাল থাক। কিন্তু ও যেন এভাবে সবার থেকে আড়ালে থাকে। ততদিন ওকে খুঁজে পাওয়া না যাক যতদিন অভ্র আমাকে না ভালোবাসে। অভ্রের মনে আমার জন্য ভালোবাসার সৃষ্টি হ‌ওয়া না পর্যন্ত।

আমার এই চাওয়াটা হয়তো খারাপ। নিজের স্বার্থের জন্য আমি একটা মেয়ের ক্ষতি চাইছি কিন্তু আমি বর্ষার ক্ষতি চাই না। ও যেখানে আছে সেখানে ওকে আল্লাহ সুস্থ রাখুক। বর্ষা এখন ফিরে আসলে অভ্র আর আমাকে ভালবাসবে না। আর আমি ওর মনে নিজের জন্য ভালোবাসা তৈরি করতে পারবোনা। অভ্রের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমি এইটুকু স্বার্থপর হয়ে ও কষ্ট হচ্ছে না।

১১:১৫ অভ্র বাসায় আসলো। এসে অভ্র নিজের ঘামে ভেজা শার্টটা খুলে ফেলল তার আগে অবশ্য নিদ্রার দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে ছিল এটা অবশ্য ওর সাজগোজ আর শাড়ি দেখি হয়েছে। কারণ কাল ওকে বলেছিল অভ্র,

‘কিরে তুই দেখি সবসময় সেজেগুজে শাড়ি পড়ে নতুন বউ হয়ে থাকিস। ব্যাপার কি তুই তো আগে শাড়ি পড়া খুব একটা পছন্দ করতি না।’

নিদ্রা কিছুটা থতমত খেয়ে বলে,’আমিতো নতুন ব‌উই।’

‘হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু আমরা দুজন তো এই বিয়েটা মানি না। তাহলে শুধু শুধু এসব নাটক করার কি দরকার?’

‘আমি তোকে কখন বললাম আমি বিয়েটা মানি না?’

কথাটা বলেই নিদ্রা ফেঁসে গেলো ভুলে কথাটা বলে ফেলেছে। অভ্র চোখ বড় করে নিদ্রার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল,’কি বললি?’

নিদ্রা ঢোঁক গিলে বলল,’কিছু নাতো!’

অভ্র সন্দেহ চোখে তাকিয়ে ছিল নিদ্রা হেসে মজা করেছি বলেছে। তারপর অভ্র মেনেছে। সময় করে ওয়াশরুমে থেকে বেরিয়ে অভ্র সোফায় ঘুমানোর জন্য গেলো। এদিকে নিদ্রা অভ্রের জন্য না খেয়ে বসে আছে।
অভ্র কে শুতে দেখে নিদ্রা তাড়াতাড়ি ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,

অভ্র কপাল কুঁচকে নিদ্রার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কি হয়েছে?’

‘ঘুমাচ্ছিস কেন আগেই। খাবি না?’

‘নারে আমি খুব ক্লান্ত এখন ঘুমাবো।’

‘খেয়েছিস কিছু?’

‘না’

‘না খেয়ে থাকবি নাকি পাগল হয়েছিস?’

‘আমার এখন খাওয়ার মত এনার্জি নাই আমি ঘুমাতে চাই।’

‘এত ক্লান্ত কি করছিস এত? রাত হল কেন আসতে? তোর ডিউটি তো নয় টায় শেষ হয়েছে! সেখান থেকে বাসায় আসতে পনেরো মিনিট লাগে।’

‘ওই থানায় গিয়েছিলাম। বর্ষার ইনফরমেশন কিছু পেয়েছে কিনা খবর নিতে।’

বর্ষা কথা শুনে নিদ্রার রাগ উঠে গেল।

‘এত সবের মাঝে আবার সেখানে যাওয়ার কি দরকার ছিল ? এত বর্ষা বর্ষা করে পাগল কেন হচ্ছিস? তোর পাগলামো আমার ভালো লাগছে না।তুই বেশি বেশি করছিস ওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওর ফ্যামিলি আছে।তোর কেন এত এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে তাদের মেয়ে তারা দেখে নেবে। সারাক্ষণ বর্ষা বর্ষা করে দৌড়াদৌড়ি করেছিস ঠিক মতো খাচ্ছিস না আবার ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পরছিস‌। আমি যে তোর জন্য না খেয়ে বসে আছি সেসব খেয়াল করেছিস।একবার জিজ্ঞেস করেছিস আমি কিছু খেয়েছি কিনা। বর্ষা ছাড়া আর কারো দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন মনে করিস না।’

অভ্র হা করে নিদ্রার দিকে তাকিয়ে আছে।এভাবে নিদ্রা কথা বলছে ওর সাথে। বর্ষার নিয়ে ওসব বলায় খারাপ লাগলেও নিদ্রা ওর জন্য না খেয়ে আছে শুনে কিছু বললো না। এজন্য হয়তো রেগে এসব বলেছে মন থেকে না। নিদ্রা থামতেই অভ্র বললো,

‘ আচ্ছা যা খাবার নিয়ে আয়। আমি খুব সরি। আর আমার জন্য না খেয়ে থাকবি না।’

‘ আমার ইচ্ছে আমি থাকবো তোর কি?’

‘ প্লিজ ভাই যা ইচ্ছে কর। না খেয়ে থাকিস না।এতো রেগে যাস আমার হার্ট এ্যাটাক হয়ে যাবে। তোর ধানি লঙ্কা রুপ দেখে।’

নিদ্রা খাবার নিয়ে এলো গরম চোখে তাকিয়ে। দুজনে খেতে লাগলো।

‘ তুই আজ ও সেজেগুজে আছিস কেন?’

‘ আমার ইচ্ছা তাই। আচ্ছা আমাকে কেমন লাগছে বল না।’

‘ ভালোই।’

‘ শুধু ভালো।’

‘ তোর মতলব কি বলত?’

‘ আমার আবার কি মতলব থাকবে? এই শাড়িটা তোর মা দিছে।’

‘ ওহ।’

ছোট করে বলে আবার বললো।
‘ তোকে হলুদ পরী লাগছে।’

আমি চমকে তাকালাম। অভ্র আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

খাওয়া শেষে ও গিয়ে সোফায় শুয়ে পরলো। আমি বিছানায় বসে থেকে ওর দিকে তাকিয়ে আছি।

‘ কি রে আজ কি ঘুমাবি না এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?’

‘ তোর সোফায় ঘুমাতে কষ্ট হয় অনেক তাই না অভ্র।’

‘ তা তো একটু হয়‌ই ।’

‘ বিছানায় ঘুমা আমি সোফায় ঘুমাই।’

‘ পাগল নাকি‌। তোর ও কষ্ট হবে। আমি ঠিক ম্যানেজ করে নেবো।’

‘দুজনের ই কষ্ট হবে। তাহলে আয় দুজনে বিছানায় ঘুমাই। তাহলে আর কারো কষ্ট হবে না।’

অভ্র বিস্মিত হয়ে তাকালো।

.

তূর্য বর্ষার কাঁধ শক্ত করে ধরে কান্না থামাতে বলছে। বর্ষা চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে কাঁদতে কাঁদতে।
তূর্য ওর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলছে,

‘ স্টপ ক্রাইং।’

বর্ষা থামছে না ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আর তূর্য কে নিজের থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।এই লোকটাকে ঘৃণা লাগছে ওর। রাতের কথা মনে পরলেই ভয়ে গুটিয়ে যায়।
তূর্য ওর কান্না থামানোর চেষ্টা করেও পারছেনা। ধমক দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এবার ও একটা কাজ করে বসলো। এ ছাড়া এই ইডিয়েট মেয়ের কান্না থামানোর ইম্পসিবল। তূর্য বর্ষার ওষ্ঠে সাথে নিজের ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়। বর্ষা এটা দেখে আরো রেগে যায়। কিল ঘুষি দিতে লাগে। বর্ষার চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে।
#তুমি_যে_আমার🥀
#Writer_Nondini_Nila
#Part_11

বর্ষা পাথর হয়ে বসে আছে। নড়তে পারছে না! কথা বলতে পারছনা! ওর ভাষা যেনো হারিয়ে গেছে। ও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।
এই কিডনাপার ওকে কি বলে গেল? ও কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে বুঝতে পারছে না। এমন সময় এমন কথা শোনার জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিল না। প্রস্তুত থাকার কথাও না।ও যে পরিস্থিতিতে আছে যেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে সেখানে এমন কিছু অসম্ভব।লোকটার দুর্দান্ত চালাক। লোকটা কি ভেবেছে বর্ষা বোকা। লোকটা তাকে যেন তেন ভাবে যা কিছু একটা বলবে আর বর্ষা বোকার মত তার কথা বিশ্বাস করে নেবে। ইম্পসিবল। আমি ছেলেমানুষি হতে পারে, খামখেয়ালি হতে পারি, কিন্তু অতটা বোকা না। লোকটার মতলব আমি খুব ভালোমতো বুঝতে পারছি।লোকটা আমাকে এইসব বলে আমার কাছে আসার চেষ্টা করবে। ভালোবাসার জালে ফাসাবে। নিজের ওই সুন্দর চেহারা দেখিয়ে আমাকে ফাসাবে আমার আগেও কথা শত মেয়েকে না ফাঁসিয়েছে আল্লাহ জানে। আগে ভেবেছিলাম লোকটার বোদহয় মেয়েদের দিকে খারাপ নজর নেই। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমার ধারণা ভুল। কত খারাপ লোকটা। সেদিন মাঝরাতে ওইসব করে আবার আজকে এইভাবে আমাকে জোর করে আমার কাছে এলো‌। বলতে বলতে বর্ষা নিজের হাত নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। ওর এখন এই ঠোট কেটে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে অসভ্য ফাজিল লোক। লোকটাকে খুন করতে ইচ্ছে করছে।গেঞ্জি উপরে তুলে ঠোট ঘষতে লাগলো। অসভ্য লোকটা ছোঁয়া মুছে ফেলতে চাইছে। ঠোট জ্বলছে তাই বাধ্য হয়েই সরাতে হলো হাত।

কিডন্যাপ করে আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমাকে মাম্মি বাপির কাছ থেকে কিডন্যাপ করে এখানে এনে বন্দি করে রেখেছে। এখন সেই আমাকে এসে বলছে,

‘আমার মনে হচ্ছে আমি তোমার উপর ভুলবশত দুর্বল হয়ে পড়েছি। জানিনা কি হচ্ছে যেখানে যাচ্ছি সেখানেই তোমার এই মুখটা ভেসে উঠছে। তোমাকে মিস করছি। তোমার চিন্তা মস্তিষ্ক থেকে বের হচ্ছে না। যুদ্ধ ময়দানে দাঁড়িয়েও কিনা আমি তোমার কথা ভাবছি। What is happening to me. Why are you thinking of me? Tell me why?’

লোকটা আমার দুগালে নিজের দুই হাত চেপে ধরে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলছে। আমি কঠিন দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নিজের হাত সুযোগ বুঝে লোকটা কে মারার জন্য উদ্যত হচ্ছিলাম। লোকটা খুব চালাক সাথে সাথে আমার হাত ধরে নেয় খপ করে। আর নিজের একহাতে আমার দুই হাত মোচড় দিয়ে ধরে।আমি আহ্ করে উঠি।লোকটা আমার দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বলে,

‘দুটো ভালো কথা বলেছি বলে গায়ে হাত দেওয়ার সাহস দেখাবে না। ইডিয়েট গার্ল।’

বলে লোকটা আমার হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।

আর নিজের বুকের কাছে শার্টের বোতাম খুলে উন্মুক্ত করে দিলো বুক। আর ফর্সা স্থানে লাল হ‌ওয়া দেখালো যা আমি একটু আগে খামচি দিয়ে করেছি। কপালের রগ ফুলিয়ে রেগে নিজের বুকের দিকে তাকিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো লোকটা। তারপর আমার কাছে এসে হাত উঠালো থাপ্পর দেওয়ার জন্য। আমি বাম কাত হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম ভয়ে। কিন্তু গালের উপর কোন আক্রমণ না পেয়ে আস্তে আস্তে চোখ মেলে দেখলাম হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিচে নামিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি তাকাতেই গম্ভীর গলায় বলল,

‘ আজকে মাফ করলাম নেক্সট টাইম আমার গায়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে হাত কেটে রেখে দেবো।’

বলেই চলে গেলো।
তখন থেকে আমি এমন পাথর হয়ে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর লোকটা এসে মুড়ির বয়াম আরেকটা চিনির কৌটা রেখে গেল। আর আমার দিকে একবার তাকিয়ে বলল,

‘ তোমার খাবার খেয়ে নিও!’

বলে শয়তানি হাসি দিয়ে লোকটা চলে যাচ্ছিল।আমি সাথে সাথে পেছন থেকে বলে উঠলাম,

‘ আমি এসব খেতে পারব না আমাকে ভালো খাবার দিন। ‘

‘এর থেকে ভালো খাবার তোমার কপালে আর জুটবেনা বর্ষামনি।’
বলেই বাঁকা হাসলো।

‘এই মনিটা আবার কে? আমার নামে কোথাও মনি টনি নাই আমার নাম শুধু বর্ষা।’

‘আমি কি বলছি নাকি তোমার নামে মনি আছে এটা তো আমি এড করে নিয়েছি।’

‘আপনি আমার নামে এসব এড করবেন কেন? আমার নাম শুধু বর্ষা বলতে চাইলে বর্ষা বলবেন না হলে কিছুই বলার দরকার নাই!’

লোকটা কিছুই বলল না। দরজাটা আমার মুখের উপর ঠাস করে বন্ধ করে চলে গেল। তখন আমি বাসায় আরেকজনকে দেখলাম। যাকে দেখে আমার চোখ গুলো রসগোল্লার মতো বড় হয়ে গেল।
এই লোকটা এখানে কি করছে?

.

‘আমি ছিলাম না। তুই একা সব সামলালি। তোর এতো বড় কাজে আমি পাশে থাকতে পারলাম না। আমার ভালো লাগছে না।’

বলেই শাওন মুখটা বাংলার পাঁচের মত করে ফেলল।

‘এখনো বাচ্চাদের মত করিস নাতো শাওন! আমি তোর সাথে সিরিয়াস কথা বলতেছি।’

‘আমি তো সিরিয়াস কথাই বলছি আরিয়ান আমাকে পেছন থেকে আঘাত না করলে কি আমার সাথে পারতো না কি? একবারওকে কাছে পায়। আমাকে পেছন থেকে আঘাত করা শাস্তি আমি ওকে দেবোই।’

‘আরিয়ানের যা ব্যবস্থা করা পরে করা যাবে!’

‘তো এখন কি সিরিয়াস কথা বলতে চাইছিস?’

‘ আমার মনে হচ্ছে আমি এসব করতে পারবো না আমার হয়ে তুই কাজটা কর প্লিজ।’

‘বর্ষা ব্যাপারে কথা বলছিস?’

তূর্য এবার রেগে শাওন এর বাহুতে ঘুসি দিতে লাগল। শাওন ব্যথিত মুখ করে বলল,

‘ ভাই মারিস না কেবল সুস্থ হয়েছি। তোর মার খেয়ে তো আবার আমাকে বিছানায় পড়তে হবে। ‘

‘ আজ আমি তোকে আধমরা করে বিছানায় ফেলবো। কখন থেকে এক কথা বলে যাচ্ছি আর তুই কিনা না বুঝার ভান করছিস।’

‘ আচ্ছা সরি ভাই। এবার থাম আর বল কি বলেছিলি বর্ষা কে নিয়ে।’

তূর্য থেমে গেলো আর বললো, ‘ যা ছেড়ে দিলাম। এবার আমার সাথে মজা করলে তোকে আমি…

‘ আর করছি না। এবার বল‌।’

বর্ষাকে কিডন্যাপ করা থেকে সব বললো শাওন কে তূর্য। বর্ষাকে কিডন্যাপ করার কথা ছিলো শাওন এর কিন্তু সেটা তূর্য কে করতে হয়েছে। শাওন আহত হ‌ওয়ায়। সেই দিন শাওন আরিয়ানের সাথে মারামারীতে লিপ্ত হয়। আরিয়ান শাওনকে পেছনে থেকে আঘাত করে। আরিয়ান বিপক্ষে দলের বস।
কালো জগতের অনেক নাম ডাক ওর কিন্তু তূর্য এর থেকে কম। এজন্য আরিয়ান তূর্য কে মারতে চায়। তূর্য ওর বড় শত্রু। আর তূর্য বন্ধু শাওন ও তাই‌ তূর্যের হয়ে শাওন গেছিল আর বল স্বরুপ এসব হয়েছে।

শাওন সব শুনে বলছে, ‘ আমাদের তো এটাই ভাবা ছিলো‌। কিন্তু আমার মনে হয় কাজটা করা অপরাধ হবে। বাবার ভুলে মেয়েটাকে এতো বড় শাস্তি দেওয়াটা অন্যায় এখানে ওর তো কোন দোষ নাই।’

‘ তুই ওই মেয়ের হয়ে কথা বলছিস কেন? আর শোন শাস্তি দিতে হলে বর্ষাকেই ব্যবহার করতে হবে। কারণ ওই নিবিড় আহমেদ এর প্রাণ ভোমড়া ওনার মেয়ে। ওনার মেয়ের ক্ষতি হলে উনি সবথেকে বড় শাস্তি পাবে। যখন জানতে পারবে উনার ভুলে উনার মেয়ের সর্বনাশ হয়েছে তখনই এমনিতেই উনি ভেঙ্গে পড়বে। আর যেটা আমি চেয়েছিলাম সেটাই হবে।’

‘ তাহলে প্ল্যান মত কাজ শুরু করে দে।’

‘আমার হয়ে তুই কাজটা কর প্লিজ। আমি এসব করতে পারছিনা। ‘

‘হোয়াট!’

শাওন এক প্রকার চেঁচিয়ে উঠলো।

‘আমি অসম্ভব ভাই! তোর জন্য জান দিয়ে দেবো। সব করতে রাজি আছি। কিন্তু এটা আমাকে করতে বলিস না। আমি পারবো না।’

#চলবে

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here