তোমাতেই শুরু তোমাতেই শেষ পর্ব -০২

#তোমাতেই শুরু তোমাতেই শেষ.
#পার্ট:০২
#Writer:#মারশিয়া_জাহান_মেঘ.

ওমাগো আমার জামাই বিয়ের আগেই বিধবা হয়ে গেলোগো। তনয়ার এইসব অদ্ভুত কথা শুনে খিলখিল করে হেসে ফেলে নীল। কারোর হাসির শব্দে চোখ খুলে তাকায় তনয়া৷ নীলকে হাসতে দেখে নিচে একবার তাকাতেই রাগে বললো, এই আপনি আমার কোমড়ে ধরলেন কেনো?
নীল __ আমি না ধরলে আপনি পড়ে যেতেন মিস ঢংগী।
তনয়া__ আমি পড়লে পড়তাম আপনি ধরবেন কেনো আজিব!
নীল__ ওহ তাইনা? [ তনয়া কিছু বলার আগেই তনয়ার কোমড় ছেড়ে দেয় নীল৷ তনয়া পড়ে গিয়ে বললো পচা আলু উপকার করে ঘাড়ে লাথি? নীল হাসতে হাসতে বললো, টাটা মিস ঢংগী তুমি এইখানেই কোমড় ভাঙা নিয়ে পড়ে থাকো।

এইসব শুনে সুমাইয়া রীতিমতো হাসিতো গড়াগড়ি খাচ্ছে আর আমরাতো সবাই আছিই।

এই ভার্সিটিতে আসো কি তোমরা আড্ডা দেওয়ার জন্য? কথাটা শুনেই আমরা সবাই একসাথে পেছনে তাকালাম।

চোখে চশমা,হাতে একটা ব্ল্যাক ব্যান্ডের ঘরি। সাদা শার্ট ম্যাচিং করা সাদা প্যান্ট। শার্টটা ইন করা একটা ছেলে বর্তমানে দাড়িয়ে আছে আমাদের সামনে।

এই মেয়েরা বলো এইটা কি আড্ডা দেওয়ার জায়গা? পুনরায় প্রশ্নটা করার পর আমি বললাম,,আজব আমরা আড্ডা দিলাম কই? আমরাতো কথা বলছি। আর কই ভার্সিটির অন্য কারোর তো কোনো প্রবলেম হচ্ছেনা আপনার এতো প্রবলেম হচ্ছে কেনো আজিব। তখন ছেলেটা বললো, আমার কেনো প্রবলেম হচ্ছে এইটা একটু পরেই টের পাবা৷ যত্তসব কোত্থেকে যে আসে এইসব অসভ্য। আমি তখন রেগে বললাম, এই এই আপনি আমাকে অসভ্য বললেন!

ছেলেটা তখন এমন একটা ভাব করে চলে গেলো যেনো আমি কিছু বলিইনি। আর আমারতো এদিকদিয়ে মনে হচ্ছে বান্দরটাকে মাথা ফাটিয়ে দেয়।

নীলাশা: ভার্সিটির ফার্স্ট ডে তেই এই অবস্থা।
সুমাইয়া: দুর এইসব বাদ দেতো চল আমরা ক্লাসে যায়।
মিমি: হুম ঠিক বলেছিস চল ক্লাসে যায়।

এই ফার্স্টডেতেই আমাদের সাথে অনেক ভাব জমিয়ে ফেলেছে ইশিতা। মেয়েটা আমাদের মতোই বাঁচাল স্বভাবের তবে মনটা অনেক ভালো।

তনয়া: কিরে ইশিতা তোর ওনি আছে নাকি?

সবাই তখন ইশিতার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

ঈশিতা : হুম আছেতো। [ লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে ]
আমরা সবাই তখন একসাথে বলে উঠলাম, ওলে ওলে এতো লজ্জা ঢং[ হাসি দিয়ে ]

ইশিতা বললো, তোদের কারোর নেই? আমি তখন বললাম না আমরা সবাই সিঙ্গেল। [ ক্লোজআপ কেলানো হাসি দিয়ে ]

ঘন্টা পড়েছে এখন ক্লাস শুরু হবে সবাই বসে পড়ি একসাথে। ক্লাসে স্যার কখন ডুকলো আমি জানিইনা সবার দাড়িয়ে আছে আর আমি বসে। বার বার তনয়া আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে আমার খেয়াল ওই নাই আমি পড়ে আছি আমার ব্যাগের বই নিয়ে।

এই মেয়ে কমন স্যান্স নাই? স্যার আসছে তবুও অসভ্যের মতো বসে আছো [ ধমক সুরে ] কারো ধমকের আওয়াজ শুনে আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম সবাই দাড়িয়ে আছে। সামনে দাড়িয়ে তাকাতেই আমি পুরাই থ.

এই ছেলেটা আমাদের টিচার! যেই ছেলেটা আমাকে অসভ্য বলেছে সেই ছেলেটা টিচার ভেবে অনেক রাগ তো হচ্ছেই সাথে এখন আবার অসভ্য বলেছে।

এই মেয়ে স্যার আসলে দাড়িয়ে সালাম দিতে হয় জানোনা? [ ধমক দিয়ে ]
আমি : সরি স্যার। একচুয়ালি আমি খেয়াল করিনি। [ মাথা নিচু করে ] তখন স্যার বললো, কেনো চোখ কোথায় থাকে? অন্ধ নাকি? এনিওয়ে নেক্সট টাইম থেকে যেনো ভুলেও এমন না হয় গট ইট?
আমি: Yes Sir.

স্যার : সবাই বসো।
আমি বসেই মনে মনে এই বজ্জাত বেটার ১৪ গুষ্টি নদীতে ফেলে দিচ্ছি। তনয়া ধাক্কা মেরে বললো, কিরে মনে মনে বকা দেওয়া চেষ হলো? তনয়ার কথা বাকি সবগুলো শুনে মুখ টিপে হাসছে।

এই এতো হাসাহাসি কিসের সাইলেন্ট অল ( স্যার) স্যারের কথায় আমরা সবাই চুপসে যায়।

স্যার : লাস্ট থেকে সবাই একেকজন করে দাড়িয়ে সবার পরিচয় দাও।

স্যারের কথা অনুসারে সবাই পরিচয় দিচ্ছে। আমার পালা আসতেই আমি দাড়িয়ে বললাম, আমার নাম…এতুটুকু বলতে না বলতেই বজ্জাত স্যার আমাকে বসিয়ে দিলো। তারপর বলল, এইবার সবাইকে আমার পরিচয় দেয়।

আমি আবির হাসান রোদ। তোমাদের ইংলিশ টিচার।

তনয়া,মিমি,সুমাইয়া আর নীলাশা আমার দিকে হা করে তাকালো আমিও অবাক নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম রোদ! রৌদ্রানী।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here