তোমাতেই শুরু তোমাতেই শেষ পর্ব -০৩

#তোমাতেই শুরু তোমাতেই শেষ.
#পার্টঃ০৩
#Writer:#মারশিয়া_জাহান_মেঘ.

ভার্সিটি থেকে বের হতেই আমরা সবাই দেখলাম ফুচকা। নীলাশা এক লাফ দিয়ে বললো, ফুচকাাা…আমরা সবাই দৌড়ে ফুচকাওয়ালার কাছে গিয়ে বললাম, মামা ৫ প্লেট ফুচকা দিন।

এই যে মিস ঢংগী….ফুচকা মুখে নিতেই কারো এমন ভাবে ডাকাতে তনয়া চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে পিছনে তাকালো। নীল একটা চায়ের দোকানে বসে..চা খাচ্ছে।

তনয়া রাগে বললো বেটা খাটাশরে মনটা চাইতাছে কচু গাছে বাইধা রাখি।
মিমি : কিরে ওই ছেলেটা কে?
আমরা বাকিরাও সবাই উৎসুক চোখে জানতে চাইলাম আসলেইরে ছেলেটা কেরে তনয়া?
তনয়া : ওরে বান্দরনীর দল এইটা ওই বান্দরটা যেইটা আমাকে ফেলে দিয়েছিলো।

আমরা সবাই একসাথে বললাম কিইইই?
তনয়া রাগে গজগজ করে বললো হুমমম।
আমাদের সবার কথার মাঝেই হঠাৎ ইশিতা আসলো। কিরে তোরা সবাই আমাকে ফেলেই ফুচকা খাচ্ছিস?[ মুখটা মন খারাপের মতো করে ]

সুমাইয়া: তুইতো বফের সাথে রোমাঞ্চ করতে গেছিলি [ মুখ বেংচি কেটে ]

আমি তখন বললাম যা সব বাদ দে…নে ফুচকা খা [ ইশিতার মুখে একটা ফুচকা দিয়ে ]

ইশিতা: তোরা এইখানে দাড়া আমি আমার ভাইয়ার কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে আসি।

আমি, সুমাইয়া,নীলাশা,মিমি,তনয়া তখন একসাথে বললাম…তোর ভাইয়া!
ইশিতা : হুম আমার ভাইয়া। এই ভার্সিটিতেই পড়ে। এইটা বলেই ইশিতা যার কাছে গেলো সেইটা দেখে আমাদের সবার চোখ বড় বড় করে আছি।

তনয়া : এই বাঁদরটা ইশিতার ভাই!
আমি _ ওরে আল্লাহ তাইতো দেখছি!!
সুমাইয়া: তনয়া তুইওনা…ছেলেটাতো দেখতে কত্ত হ্যান্ডসাম। এমন একটা ছেলেকে কেউ বাদঁর বলে?[ মুখটা ভেঙে ]

তনয়া রাগি লুক নিয়ে তাকালো সুমাইয়ার দিকে…
সুমাইয়া তখন আমতা আমতা করে বললো,, না মানে ইয়ে আরকি..

এর মধ্যেই ইশিতা চলে এসে বললো…এই চল বাই কাল দেখা হবে।
আমরাও সবাই কোনো কথা না বাড়িয়ে বললাম। বাই।

ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরতেই.. আম্মু বললো আজকে আব্বু দেশে ফিরছে।
আব্বু দেশে ফিরার আনন্দে আমারতো লাফানোর ইচ্ছে হচ্ছে। আজকে ৫ বছর ধরে আব্বুকে দেখিনা। ব্যবসার কাজে বাইরে গেছে।

আম্মু : কিরে আজকে তোর ক্লাস কেমন হলো?
আমি: আম্মু আজকে একদমি ক্লাস হয়নি. আজকে জাস্ট পরিচয় জানাজানি হয়েছে.
আম্মু: যা তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি।
আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বললাম.. ওকে মাই ডিয়ার মম।

রওশানী( আমার ছোট বোন): আপু….তুমি একটু সেজে গুজে থাকতে পারোনা? দেখোতো তোমারি ছোট বোন হয়ে আমি কতো সেজে গুজে থাকি ( গাল টা ধরে গুড়িয়ে বলছে)
আমি মুখ বেংচে বললাম..এই তুই যাতো…এইখান থেকে এই ছোট্ট বয়সে বেশি পাকা হয়ে গেছিস না?
রওশানী: ওমা…আমি পাকলাম কই? আবার কাঁচাই বা ছিলাম কবে?[ ভাবনার বেশ ধরে ]
আমি তখন রেগে বললাম..এই তুই যাবি?নাকি আমি আম্মুকে ডাকবো?
রওশানী মুখটা বেংচি কেটে বললো, আচ্ছা যাচ্ছি যাচ্ছি।

আর অন্যদিকে…
নীল: কিরে ইশিতা..আজকে সবুজ কালার টপস পড়া মেয়েটাযে দেখলাম ওর নাম কিরে?[ ইশিতার রুমে এসে কথাটা বললো নীল ]
ইশিতা ফেইসবুকিং করছিলো ভাইয়ের মুখে কোনো মেয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে বললো…কি বললে ভাইয়া?
নীল আবার বললো,ওই যে সবুজের মধ্যে একটা টপস পড়া ছিলো যে ওই মেয়েটার নাম কি?
ইশিতা এইবার মোবাইলটা রেখে বললো, দেখি তোমার কিছু হয়েছে কিনা [ নীলের কপাল আর গলায় হাত রেখে]
নীল হাত সরিয়ে বললো, ইশশশ ইশিতা..মজা বাদ দে বলনা।

ইশিতা : ওর নাম তনয়া।
নীল হেসে বললো: তনয়া! বাহ সুন্দর নাম।
ইশিতা: ভাইয়া প্রেমে টেমে পড়লে নাকি?
নীল রাগি লুকে বোনের দিকে তাকিয়ে বললো এই পড়া নেই?যা পড়তে বস [ ধমক দিয়ে] এইটা বলেই নীল চলে গেলো।

ইশিতা পুরাই বোকা বনে গেলো। এই যা এইটা কি হলো?!

রোদ বাসায় এসেই কম্পিউটারে দেখছে একটা মিষ্টি মেয়ের ছবি। আর আনমেই বলছে…ভালোবাসি অনেক তোমায় মিস গোলাপি।

রোদের বাবা অরুপ খাঁন ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললেন…বাবা আরও ২ বছর মাত্র বাকি। চিন্তা করিসনা। রোদ হেসে বললো বাবা…ওর জন্য দুই বছর কেনো? সারাজীবন ওয়েট করতে রাজি আমি।

চলবে……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here