#তোর_নামেই_এই_শহর
#লেখিকাঃসুমাইয়া_জাহান
#পর্ব_১৭
(৪৯)
স্কুলের যাবার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছে হুরায়রা। কিছুদূর এগিয়ে এসে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলো একটা গাছের আড়ালে নিজেকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। হুরায়রা তাকাতেই কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল সে। হুরায়রার সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে কিছু বুঝার চেষ্টা করে কয়েক পা পিছিয়ে আবরারের সামনে এসে দাঁড়ালো। হুরায়রা সামনে যেতেই ঘামতে শুরু করলো আবরার। ধরা পড়া চোরের ন্যায় মলিন হাসে তাকাতেই হুরায়রা চোখ বড় বড় করে বলল,
“গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে কি করছেন আবরার ভাই?”
আবরার হুরায়রা চোখে চোখ রাখতেই হৃদপিন্ড অসাড় হয়ে এলো। জোরপূর্বক মুখে হাসি টেনে কোনরকম বলল,
“কই কিছু না তো। তুই কোথায় যাচ্ছিস।”
হুরায়রা আবরারের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে বলল,
“আপনি কি আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলেন আবরার ভাই?”
“ক-কই না তো লুকিয়ে দেখতে যাবো কেনো।”
“এমন তোতলাচ্ছেন কেনো।”
আবরার এবার বুঝতে পারলো সে একটু বেশিই ঘাবড়ে যাচ্ছে। নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে বলল,
“তোকে কিছু কথা বলতে চাইছিলাম হুরায়রা।”
“আমার সময় নেই। আর আপনার সাথে আমার এমন কোন কথা আছে বলে মনে হয় না।”
“তুই একটু বুঝতে চেষ্টা কর আমি কি বলতে চাইছিলাম। সেদিনের চিঠি? পড়েছিলি?”
হুরায়রা এবার বেশ বিরক্ত হলো। এই চিঠির জন্য তাকে ইয়াদের কাছে কম অপদস্থ হতে হয় নি। হুরায়রাকে নিশ্চুপ দেখে আবরার কিছু বলতে যাবে তখনি তাকে থামিয়ে দিয়ে হুরায়রা বলল,
“আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আর জানতে চাচ্ছেন আমি জানি না। সেদিন চিঠিতে কি লিখা ছিলো তাও বলতে পারবো না কারণ চিঠিটা আমি পড়ার আগে ইয়াদ ভাইর হাতে চলে গেছে। দেখুন ওই চিঠির জন্য আমাকে উনি অনেক শাস্তি দিয়েছেন আমি চাই না আপনার জন্য আর কোন শাস্তি ভোগ করতে। তাছাড়া আপনি আর আমাকে এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখবেন না, এটা গ্রাম নানান মানুষ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে সবাই এটাকে ভালো নজরে দেখছে না বা দেখবে না। তাই দয়া করে আপনি আর আমার পেছন পেছন আসবেন না।”
আবরার কে কিছু বলতে না দিয়ে হুরায়রা জোরকদমে হেঁটে চলে গেলো। আবরার অবনত দৃষ্টিতে সেখানে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো অন্তঃকরণ থেকে। আজ অবধি সে হুরায়রাকে বলেই উঠতে পারলো না ভালোবাসার কথাটা। মেয়েটাও বুঝে উঠতে পারে নি যে সে কতটা তাকে ভালোবাসে। আবরার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ নিশ্বাসের সাথে কষ্ট গুলো বের করে দেয়ার চেষ্টা করলো।
আবরারকে পিছনে ফেলে অনেকটা পথ এগিয়ে এলো হুরায়রা। চলার গতি কমিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগুতে থাকলো সে। কিছু দূর এসে একবার পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলো সে না আবরারকে আর দেখা যাচ্ছে না। হুরায়রা জানে আবরার তাকে কি বলতে চায় অথচ সব জেনেও না জানার ভান করলো সে। আর যাই হোক আবরার যে তাকে ভালোবাসে এতটুকু বুঝার মত ক্ষমতা বা বুদ্ধি তার নিশ্চই হয়েছে। তাছাড়া বুঝেও আর উপায় কি সে তো আর অন্য কাউকে মন দিতে পারবে না। তার মন,প্রাণ, আত্না, ইহজন্ম সব তো ওই একটা মানুষকেই দান করে দিয়েছে তা তো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অথচ ইয়াদ সে কেনো এত অবুঝ? আবরারের ভালোবাসা দেখেও যেমন সে না দেখার মতো করছে, বুঝে না বুঝার ভাণ করছে প্রতিনিয়ত ইয়াদও কি তার সাথে এমনটাই করছে? ভাবতে ভাবতে হুরায়রা অন্যমনস্ক হয়ে উঠলো। হয় তো এটাই নিয়ম যে যাকে চায় সে আবার অন্যকে চায়। এই চাওয়া পাওয়ার খেলায় মানুষ কেবলি দর্শকমহল।
ক্লাসে এসে হুরায়রা চুপচাপ লিরার পাশে গিয়ে বসলো। আজ ক্লাসে ঢুকতে কিছুটা দেরি করে ফেলেছে সে। লিরা ইতিউতি দেখে গলা খাদে নামিয়ে বলল,
“ক্লাসে আসতে এত দেরি করলি কেনো? আমি কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম তোর জন্য।”
হুরায়রা আবরারে কথাটা লিরাকে বলতে গিয়েও বলল না। কথা ঘুরিয়ে নিয়ে অন্য প্রসঙ্গ টেনে বলল,
“বাংলা ক্লাস শেষে একটু অফিস রুমে যাবি আমার সঙ্গে?”
“অফিস রুমে যাবি! কিন্তু কেনো?”
“তিন দিনের ছুটি নিতে হবে, বড়দির শ্বশুড় বাড়ি যাবো সন্ধ্যে বেলায়।”
“হঠাৎ ওখানে কেনো?”
“বড়দির ননদের বিয়ে পুরো বাড়ির সকলেই যাবে ছুটি না নিলে চলবে না। বাবা অবশ্য বলে দিয়েছেন স্যারকে আমি শুধু দরখাস্ত টা দিতে যাবো।”
“ঠিক আছে তাহলে ক্লাস শেষ করে যাই।”
“হু।”
ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে সামিরের সঙ্গে দেখা হলো হুরায়রার। সেদিনের পর তাদের মধ্যে আর কোন দেখা সাক্ষাৎ হয় নি। হুরায়রাকে দেখে কিছুটা এগিয়ে এলো সামির। অধর যুগল প্রসারিত করে বলল,
“এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবি নি। স্কুলে গিয়েছিলে?”
“হু। কিন্তু আপনি এই দিকে?”
“একটা কাজে এসেছি। বাড়ির দিকেই তো যাচ্ছো চলো এগিয়ে দেই।”
সামির হুরায়রা গ্রামের সুরু কাঁচা পথ ধরে হাঁটছে। রাস্তার দুপাশে সবুজ ফসলের মাঠ আর সারি সারি তাল গাছ। বেশ হাওয়া বইছে সেখানে। সামির হাঁটতে হাঁটতে বেশ কয়েকবার হুরায়রাকে আঁড় চোখে দেখলো। হুরায়রা এলোমেলো চুল গুলো বাতাসে বার বার মুখের কাছটায় আছড়ে এসে পড়ছে। মাঝে মাঝে সেগুলোকে সামলে নিতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে সে। স্নিগ্ধ বিকেলে হুরায়রা ক্লান্ত চোখ দুটিতে তাকিয়ে সামিরের বুকের ভেতরটা কেমন মুচড়ে উঠলো। প্রথম দেখার অনুভূতিটা তিরতির করে অন্তঃকরণে বইতে লাগলো। এই অনুভূতির নামটা যে কি ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সামির। সদ্য নব যৌবনে পদার্পণ করা এক ষোড়শী কি করে একটা পুরুষের হৃদয় হরণ করার ইন্দ্রজাল বুনতে জানে ভেবে পেলো না সে। হুরায়রা সাথে তার পরিচয় বেশিদিনের নয় তবে যে কয়দিনের পরিচয়ই হোক না কেন অতি অল্প সময়ে মেয়েটা তার অন্তঃকরণে বিশাল বড় জায়গা করে নিয়েছে।
বাড়ির কাছাকাছি এসে থামলো দুজন। সামির চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে হুরায়রাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ইয়াদ বসে আছে ঘাটের সিঁড়িতে। আমাদের দুজনকে এক সাথে আসতে দেখেছে বোধ হয়।”
হুরায়রা দৃষ্টি অবনত ছিলো সামিরের কথায় ঘাটের দিকে তাকালো। অরা সহ ইয়াদ বসে আছে সেখানে। ইয়াদকে দেখে অন্তঃকরণ হতে প্রশস্ত শ্বাস বেড়িয়ে এলো হুরায়রার যেটা সামির লক্ষ্য করতে ভুল করলো না। হুরায়রা উজ্জ্বল চেহারায় বিবর্ণতা ফুটে উঠেছে। সামির খানিকটা সময় হুরায়রাকে লক্ষ্য করলো। বলল,
“কিছু ভাবছো?”
“উঁহু।”
“বাড়ি চলে এসেছো।”
“আপনি আসুন না ভেতরে।”
“আজ আর যাবো না অন্য একদিন।”
“মিথ্যে কেন বলছেন?”
“মানে?”
“আপনি কখনোই আমাদের বাড়ি যাবেন না।”
“এটা কে বলল তোমায়।”
“উনার সাথে আপনার ব্যাক্তিগত শত্রুতা আছে জানতে পেরেছি।”
হুরায়রা কথায় কিঞ্চিৎ হাসলো সামির। বলল,
“ইয়াদ বলেছে?”
“উঁহু তিনি কখনোই কিছু বলেন না।”
“তবে কি করে জানলে।”
“বুঝতে পেরেছি। বুঝার জন্য কেউ বলে দিতে হয় বুঝি। তাছাড়া উনি আপনাকে পছন্দ করেন না সেটা বাড়ির সকলেই জানেন।”
“তুমিও কি সকলের মধ্যে একজন?”
সামিরের শেষের কথাটা বুঝতে কিছুক্ষণ সময় নিলো হুরায়রা। পুনরায় বলল,
“আপনার কেন মনে হচ্ছে সেটা?”
“এই যে তুমি প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত আমার সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই কথা বলছো।”
“আপনার সাথে তো আমার কোন শত্রুতা নেই আর আমি আপনাদের শত্রুতা মধ্যে পড়িও না।”
“পড়তেও তো পারো বলা যায় না।”
হুরায়রা একবার পুকুর ঘাটের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। ইয়াদ তখনো একিভাবে বসে কথা বলছে, আর শুধু কথাই বলছে না কথার ফাঁকেফাঁকে দু একবার তাদের দেখছেও। হুরায়রা সেদিক থেকে নজর ফিরিয়ে এনে বলল,
“আপনাদের দুজনের মধ্যকার ঝামেলার মাঝে আমি কোন ভাবেই পড়ি না। তাছাড়া উনার কাছে আমার এতটাও মুল্য নেই যার জন্য আপনার সাথে কথা বললে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।”
“ইয়াদ তোমাকে খুব শাসন করে শুনেছি।”
“আপনি কার কাছে জানলেন।”
“এমনি জেনেছি। যাই হোক অনেকটা দেরি হয়ে গেছে এবার তোমার যাওয়া দরকার। মি.ইয়াদ বোধ হয় পছন্দ করছেন না আমাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলাটা।”
হুরায়রা জবাবে আর কিছু বলল না। দৃষ্টির ইশারায় বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে চলে গেলো।
সামির ধীরে ধীরে রাস্তায় এসে দাঁড়াল। হুরায়রার প্রতি কেমন যেন দূর্বলতা কাজ করে অন্তঃকরণে। রাত বাড়ার সাথে সাথে মেয়েটা সারা অন্তর জুড়ে বিছরণ করে বেড়ায়। একেই কি বলে তবে প্রথম প্রেমের অনুভূতি? না আর ভাবতে পারলো না সে। মাথাটা কেমন ধরে আসছে। আর যাই হোক একটা বাচ্চা মেয়ের প্রেমে সে কিছুতেই পড়তে পারে না। এটা অন্যায়, অপরাধ।
(৫০)
মায়ের সামনে নতজানু হয়ে বসে আছে হুরায়রা। হুমায়রা মেয়ের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা পরখ করে বললেন,
“আমার কাছ থেকে কিছু লুকাইবি না হুরায়রা সত্যি কইরা বলবি কাল রাতে তুই ইয়াদের ঘর থেইকা দৌড়াই বাহির হইছিলি কেনো? এত রাতে তোর কি কাজ পড়ছিলো যে ইয়াদের ঘরে যাইতে হলো।”
হুরায়রা মায়ের কথার জবাব দিতে পারলো না। পাংশুবর্ণ মুখে অবনত নেত্রে তাকিয়ে রইলো। হুমায়রা আরো কিছু সময় অপেক্ষা করলেন। তারপর বললেন,
“তুই এখনো ছোট হুর। আবেগ দিয়ে সব চিন্তা করিস আমি তোর মা আমি সব বুঝি। তুই যেটার পেছন ছুটতেছিস সেটা তোর জন্য মঙ্গল হবে না আর আমি চাই না তুই ইয়াদেরে নিয়া কিছু,,,। ”
আর বলতে পারলেন না তিনি। গলা ধরে এলো। হুরায়রা নত দৃষ্টিতে মায়ের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। ইয়াদ তাকে কখনো নিজের করে নিবে না এই চরম সত্যিটা সে খুব ভালো করেই বুঝে গেছে কিন্তু তাই বলে তো নিজের ভালোবাসাটাকে সে খুন করে ফেলতে পারবে না। ইয়াদ তাকে যতটা কষ্ট দিয়ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট সে দিবে। নিজেকে অনেক হেলা করেছে সে। ইয়াদের প্রতিটা বাক্য প্রতিটা শাস্তি এক কথায় মেনে নিয়েছে কিন্তু তাতে এতটুকু লাভ হয় নি। ইয়াদের পাথর খণ্ডের ন্যায় হৃদয়খানি এতটুকু গলে নি। প্রিয় মানুষটা যখন অবহেলাভরে তাকায় তখন যে কতটা কষ্ট হয় সেটা ইয়াদের বুঝা দরকার।
হুমায়রা মেয়ের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পাশে এসে বসলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে মেয়েকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলেন। মায়ের স্পর্শ পেতেই হুরায়রা বিড়াল ছানার মতো মায়ের বুকে মুখ লুকায় অচিরেই সে ডুকরে কেঁদে উঠলো। রাগ, ক্ষোভ, অভিমান সব যেন এক জায়গায় এসে জড়ো হয়েছে। মায়ের ভালোবাসার আলতো পরশ পেতেই যেনো সেগুলো অঝোর ধারা হয়ে নেমে এলো।
মেয়েকে কাঁদতে দিলেন হুমায়রা। কাঁদলে মন হাল্কা হয়। মেয়েটা যে ইয়াদকে ভালোবেসেছিলো সেটা তিনি প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তো এতদিন ভয়ে ছিলেন। নিজেকে কখনো হুরায়রার কাছে ধরা দিবে না ইয়াদ। ছেলেটা বড্ড গম্ভীর প্রকৃতির। নিজের আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করতে জানে না। আর শুধু জানে না নয় প্রকাশ করতে চায় না। একটা খোলসের আবরণে নিজেকে সর্বক্ষণ ঢেকে রাখে। ইয়াদকে তিনি ছোট থেকেই চেনেন। ছেলেটা সহ্য করার অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে। যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখতে জানে। বাহিরটা দেখলে কেউ বুঝার উপায় নেই ভেতরে কি চলছে। কখনো ব্যাথা পেলেও টু শব্দটি করে নি। ইয়াদের গাম্ভীর্যতা দেখেই হুমায়রা মনে মনে ভয় পান। এই ছেলের মনে মাথায় কি চলছে ধরার কাবু নেই। এমন শক্ত ব্যাক্তিত্বের লোক তিনি বোধ হয় তার পঁয়তাল্লিশ বছরের জীবনে দ্বিতীয়টি দেখেন নি। শ্বাশুড়ির কাছে শুনেছিলেন ইয়াদের দাদাজানও নাকি এমন একজন ছিলেন। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিয়াশার নানীকে কিন্তু কি হলো? না আর ভাবতে পারলেন না তিনি চান না নিজের মেয়ের সাথেও এমন কিছু ঘটুক।
মেয়েকে কিছুতেই কষ্ট পেতে দিবেন না তিনি। সাময়িক কষ্ট পেয়ে যদি সারাজীবন সুখে থাকা যায় তবে এই কষ্টটুকুই শ্রেয়। তিনি কিছুতেই ইয়াদের সঙ্গে মেয়েকে মেনে নিতে পারবেন না। এই পৃথিবীতে তার দুটি ছেলে মেয়েই সম্বল। তাদের জন্যই তো তিনি এখনো বেঁচে আছেন। ছেলেটাও কাছে নেই আজ সাত বছর মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়েই তো তিনি বেঁচে আছেন। ছেলের কথা মনে পড়তেই চোখের কোণে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। হুরায়রাকে আরো কাছে টেনে নিয়ে মাথায় চুমু এঁকে দিয়ে বললেন,
“গোসল করে খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নে হুর। সন্ধ্যের পর আমাদের ও বাড়ি যেতে হবে। একটু ঘুমিয়ে না নিলে শরীর খারাপ করবে।”
হুরায়রা ধীরে ধীরে মায়ের বাঁধন থেকে মুক্ত হলো। দুই হাতে চোখ মুছে নাক টেনে বলল,
“আজকে তুমি খাইয়ে দাও না মা। অনেক দিন তোমার হাতে খাই না।”
হুমায়রা মেয়ের চিবুক স্পর্শ করে বললেন,
“ঠিক আছে তুই মুখ হাত ধুয়ে খেতে আয়।”
মা চলে গেলে হুরায়রা উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। হুরায়রার জানালা থেকে পুকুরপাড়টা স্পষ্ট দেখা যায়। ইয়াদ এখনো সেখানে একি ভাবে বসে আছে তবে পাশে অরা নেই। হুরায়রা জানালার কাছ থেকে সরে এসে বিছানায় গিয়ে বসলো। দুই হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছে বিড়বিড় করে বলল,
“আবহেলায় যে জিনিস হারিয়েছেন তার জন্য একদিন খুব আফসোস হবে আপনার। সেদিন আপনার আফসোস দেখে হয় তো আমারও আফসোস হবে। তবে সেটা নিজের জন্য নয় আপনার জন্য। হেলায় যে জিনিস আজ হারিয়েছেন তা ফিরে পাবার পথ খুজে পাবেন না বলেই আফসোস হবে আমার। অবশ্য আপনি তো আফসোস করতেই বেশি পছন্দ করেন। আপনার পছন্দটাকেই না হয় সম্মান করলাম আমি।”
চলবে,,,।
সবাই রেসপন্স করবেন অবশ্যই।