তোর_প্রেমেতে_অন্ধ_হলাম পর্ব ২৫

#তোর_প্রেমেতে_অন্ধ_হলাম
#লেখিকাঃ Tamanna Islam
#পর্বঃ ২৫

একদম সাজ-সকাল বেলা দোলা আর আদিবা সিয়ার রুমে আসে। ভেবেছে সিয়া ঘুম তাই ডেকে তুলবে। তবে রুমে যেতেই দেখে বিছানা পুরো ফাকা, সিয়া নেই। আদিবা করিডরে কিছুটা উঁকি দিয়ে দেখে সিয়া সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। আদিবা তার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। সিয়া আদিবার দিকে তাকালে আদিবার বুক টা কেমন যেনো ধক করে ওঠে। সিয়ার চোখ গুলো যেনো খুলে পরে যাওয়ার উপক্রম। এত্তো টা লাল আর ফুলে গিয়েছে। সে বুঝলো যে অর্নীলের জন্য সারারাত কেদে কেদে গঙ্গা-যমুনা ভাসিয়েছে। এখন বাজে প্রায় সকাল সাড়ে ছ”টা। বাইরে এখনো তেমন প্রখর ভাবে রোদ টা উঠে নি। করিডর থেকে সামনে সুউচ্চ বিল্ডিং গুলো পাহাড়ের ন্যায় লাগছে দেখতে। ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আদিবা;; তুই কি সারারাত ঘুমাস নি?

সিয়া;; ঘুম আসে নি।

আদিবা;; এখান থেকে চল।

সিয়া এসে পরে। দোলা দেখে সিয়ার মুখ টা একেবারেই ফ্যাকাশে৷

দোলা;; সারারাত জেগে ছিলি কেনো?

সিয়া;; না এমনি।

দোলা;; আচ্ছা শোন বাইরে সবাই এসে পরেছে। মানে যারা ডেকোরেট করবে তারা আরকি আমি দ্রুত তাদের আসতে বলেছিলাম। আর আদিবার শশুড় বাড়ি থেকে সবাই হয়তো দশ টার মাঝেই এসে পরবে। এখন তুই ফ্রেশ হ, খা তারপর আস্তে আস্তে রেডি হ।

সিয়া;; হুমম।

আদিবা আর দোলা নিচে চলে যায়, এত্তো কাজ পরে আছে। তাদের চলে যেতেই সিয়া উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। এক রাতেই কি হাল, নিজেকে যেনো নিজেই চিনতে পারছে না। মন তো চাইছে যে যেই আয়নাতে নিজেকে দেখতে সেই আয়না টাই ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিক। আচ্ছা সুইসাইড করলে কেমন হয়!! সিয়া নিচে বসে পরে। হুট করেই মাথা তে এই খেয়াল টা আসে। নিজেকেই শেষ করে দিলে কেমন হবে। নিজেও থাকবে না আর এতো কষ্ট গুলোও থাকবে না। সিয়া একবার সিলিং ফ্যানের দিকে তাকালো। মাথা টা ঘুড়ছে ভনভন করে। সে নিজের হাত দিয়ে চুল গুলো টেনে ধরে।

সিয়া;; নাহ, কেনো এমন করবো আমি? আমি মরবো না। নিজেকে শেষ করে দিয়ে কি লাভ। আমার দোষ, আমারই সব ভূল আমি কেনো অর্নীল কে এতো ভালোবেসেছিলাম যে এখন তাকে ছাড়া নিজেকেই অচল মনে হয় আমার। ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারলে আমি কেনো পারবো না।

এই বলেই সিয়া নিজের মাথায় নিজেই একটা জোরে চড় মারে। এই সব স্টুপিড আইডিয়া মাথায় এনেছে দেখে। সিয়া বিছানায় তাকিয়ে দেখে কমপক্ষে ৪-৫ জোড়া কাপড়। বিয়েতে পড়ার জন্য। যা খুশি তাই পরবে। নিজের বিয়ে নিয়ে কত্তো প্ল্যানই না ছিলো সিয়ার, কতো কি করবে, কত্তো খুশি থাকবে। কিন্তু না তা আর হলো কই, সেগুড়ে বালি। এখন থুম মেরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। একটু বাদেই নাকি মেয়েরা আসবে সিয়াকে সাজাতে। একে তো এই বিয়ের পিড়ি তেই বসতে ইচ্ছে করছে না তার ওপর আটা-ময়দা দিয়ে ভূত সাজিয়ে সং এর মতো করে সবার মাঝে বসে থাকতে হবে। এখনই যেনো এইসব কিছুর ওপর নিজের অস্বস্তি আর বিরক্তি কাজ করছে। সিয়া বিছানার সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরেই দুই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে। কিছুক্ষণ সেভাবেই চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। সোয়াদ, অনু, শান্তি কলেজের কাউকেই কিছুই বলা হয় নি। সিয়া আসলে ওদের বলবে কি বলবে না তা নিয়ে দ্বিধায় পরে গেছে। যেখানে নিজের পছন্দের মানুষটার সাথে বিয়েই হচ্ছে না সেখানে আর কি বলবে। সিয়া চোখ বন্ধ করে রেখে ছিলো, আর কখন যে চোখ গুলোতে ঘুম নেমে এলো বুঝতেই পারলো না। ঘন্টা কয়েক পার হয়ে যায়। তবে বাইরে বিকট কিছুর আওয়াজ শুনে ধরফরিয়ে ওঠে সিয়া। উঠে বাইরে চলে যায়। আরে বাপরে বাপ বাইরে যেতেই দেখে এক প্রকার দৌড়াদৌড়ি। কে কি থেকে কি করবে ধুলাই অন্ধকার। সিয়া ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সাড়ে দশটা বেজে গেছে। তার মানে বসে থেকেই ঘুমিয়েছে সে। বাইরে আগের মতো আরো ঠাস ঠুস করে আওয়াজ আসে। সিয়া বাইরে বাগানের দিকে গিয়ে দেখে অনু, শান্তি আর সোয়াদ এত্তো গুলা আতসবাজি ফুটাচ্ছে। তা দেখে সিয়ার চোখ চড়কগাছ। এই বিচ্ছুবাহীনি গুলা এখানে কীভাবে এলো। মানে সিয়া তো তাদের কে বলেই নি তাহলে এগুলো এখানে কি করে এলো। আর এভাবে বাজি ফুটাচ্ছে কেনো তাও দিন-দুপুরে।

সিয়া;; এই হারামি রা।

সোয়াদ;; আর বউ আসছে।

অনু;; কিরে তুই কই ছিলি এতোক্ষন। আন্টি কে জিজ্ঞেস করলাম আন্টি বললো রুমে। আর রুমের দরজা লাগানো। তুই তাও ছিলি না তাই ভাবলাম….

সিয়া;; তাই ভাবলা যে আকাম গুলা করি তাই না।

শান্তি;; আরে না।

সিয়া;; তোরা কখন এসেছিস?

সোয়াদ;; এক ঘন্টা আগে।

সিয়া;; ওহহ আচ্ছা,

সোয়াদ;; আচ্ছা তোরা থাক আমি ভেতরে গিয়ে দেখি কাজ কতদূর এগোলো।

শান্তি;; কিরে তুই যে এমন মানুষ তা তো আগে জানা ছিলো না। মানে তোর বিয়ে আর আমাদের একবারও বলিস নি।

অনু;; গণধুলাই দে ওরে 🙂

সিয়া;; ঘন্টার বিয়া, এখন রাগে আমার গালি আসতাছে মুখ দিয়া। বিয়ে হইতাছে অন্য কারো সাথে। কি আর বলবো।

সিয়ার কথায় শান্তি আর অনু নিজেদের দিকে তাকিয়ে কিছুটা মুচকি হাসে।

সিয়া;; যাক যাই হোক, আমি আম্মু কে এর আগেও বলেছি কিন্তু আম্মু প্রথমে সায়ন আর তারপর আরেক জনের সাথে আমার বিয়ের কথা তোলে। আর এইবার না জানি কার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি তো ভেবেছি যে এইবারও সব ভেস্তে যাবে কিন্তু না তা হয় নি। অর্নীল আমাকে কি বললো জানিস “সিয়া বিয়ে টা তুমি করে নাও, আমাদের ব্রেকাপ”। বল তাহলে কেমন টা লাগে। তো আমিও ঠিক করে নিলাম যে হ্যাঁ করবো আমি এই বিয়ে। আম্মু কেই আর কতো ভাবে না বলবো বল। রাগের বশে এসে কার সাথে বিয়ে হচ্ছে, সে কে, নাম কি, কি করে, ফ্যামিলি কেমন কিছুই জানি না। দেখিও নি। আসলে ইচ্ছে নেই। যা হচ্ছে নিজের সাথে শুধু তা হতে দিচ্ছি।

শান্তি;; আচ্ছা আচ্ছা তুই এতো চিন্তা করিস না, কুল ডাউন। যা হবে বা হচ্ছে সব ঠিকই হচ্ছে। হতে দে। আর তুই আমাদের বলিস নি তো কি হয়েছে আদিবা আপু আর আন্টিই আমাদের বলেছে। তো এসে পরেছি। আমরা বুঝতে পেরেছি যে তোর মন ভালো না, তাই তুই বলিস নি।

সিয়া;; আচ্ছা থাক তোরা আমি ওপরে যাই।

অনু;; এই এই আবার কোথায় যাস। সারাদিন রুমে বসে থাকতে ভালো লাগে নাকি। নিচেই থাক আমাদের সাথে। আর এখন তো তুই একা না আমরাও আছি। এখানেই থাক।

শান্তি;; শোন ভুলে যা সব। বিয়ে টা হাসি মুখে করে নে। আর এভাবে মন মরা হয়ে থাকিস না তো প্লিজ।

সিয়া;; হুমম হুমম।

শান্তি, অনু সিয়াকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো। সিয়া এখন সবার সাথে বসে আছে। দোলা প্লেটে খাবার এনে জোর করেই সিয়াকে কিছুটা খাইয়ে দেয়। তারপর সবাই বসে আড্ডা দিতে লাগে। সিয়াও মাঝে মাঝে কথা বলছে। এভাবেই দেখতে দেখতে বেশ বেলা চলে গেলো। বিকেলের দিকে সিয়াকে রেডি করা হয়। লাল টুকটুকে একটা ভারি লেহেঙ্গা পরেছে। মাথার পেছনে বিশাল আকাড়ের ওরনা পরানো। হাত ভর্তি চুরি, চোখ ভর্তি কাজল, মুখে ভারি সাজ। আয়নার সামনে বসিয়ে রেডি করা হচ্ছে সিয়াকে। আর সিয়া একটা বারের জন্যও মাথা তুলে নিজের দিকে তাকায় নি। পেছন থেকে একটা মেয়ে এসে সিয়ার গলাতে একটা ভারি ন্যাক্লেস পরিয়ে দিলো। এতোকিছুর মাঝে সিয়া শুধু নিজের চোখ দুটো নামিয়ে রেখে দিয়েছে। সাজানো শেষ। মেয়েরা সিয়ার সৌন্দর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে সিয়া নিজের মাথা তুলে দেখে নি। মন সায় দিচ্ছে না। যার জন্য বউ সাজার কথা ছিলো তার জন্য তো সাজতে পারলো না। তাহলে দেখে আর কি করবে। সিয়া কে একটা লাল টুকটুকে বউ লাগছে। বিয়ে হবে সন্ধ্যে বেলা। বাইরে সব কিছু রেডি। কাজিও হয়তো কিছুক্ষন পর এসে পরবে। মেয়েরা এক এক করে রুম থেকে চলে গলো। রয়ে গেলো শুধু সিয়া। এবার সিয়া তার মাথা তুলে সামনে তাকায়। আয়নাতে নিজেকে দেখছে। কান্না যেনো আর বাধ মানছে না। চোখ দিয়ে টুপ টাপ করে পানি ঝড়ছে। তখনই দরজাতে কারো টোকা পরে, নিজের সামনে টিস্যু পেপার ছিলো তা থেকে টিস্যু নিতে সাথে সাথে নিজের চোখের কার্নিশ গুলো আলতো করে মুছে নেয়।

দোলা এসে সিয়ার পেছনে দাঁড়িয়ে পরে। সিয়ার গালে হাত রেখে হেসে দেয়। সিয়াও আয়নাতে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসে।

দোলা;; আমার মেয়ে এতো বড়ো কবে হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না।

সিয়া;; এখন তো ভাগিয়ে দিচ্ছো।

দোলা;; কে বলেছে? আমার কি আর কোন ছেলে মেয়ে আছে নাকি তোকে ছাড়া। তাহলে ভাগাবো কেনো।

সিয়া;; হুমমম।

দোলা;; অন্নেক মিষ্টি লাগছে দেখতে।

সিয়া;; হুম।

আদিবা;; জেঠিমা দেখো না আমি, আমি এটা লাগাতেই পারছি না।

আদিবা তার জামার ফিতা লাগাতে পারছে না দেখে দ্রুত দোলার কাছে আসে আর দোলা তা লাগিয়ে দেয়। তখনই সায়ন রুমে আসে।

সায়ন;; আহাম আহাম…

দোলা;; আরে সায়ন ভেতরে এসো।

সিয়া সায়নের দিকে তাকায়। আর সায়ন যেনো কয়েক মূহুর্তের জন্য থমকেই দাঁড়ায় সিয়াকে দেখে।

সায়ন;; হলো তোমাদের সবার নিচে কিন্তু কাজি এসে পরেছে।

আদিবা;; হ্যাঁ সন্ধ্যা তো হয়ে গেছে। তাই দ্রুত এসে পরেছে। যাক ভালোই হলো। সিয়া তুই বোস আমি এসে তোকে নিয়ে যাবো কেমন!

সিয়া;; হুমম

দোলা;; চল দেখি আমরা আগে বাইরে যাই।

আদিবা;; চলো।

দোলা আর আদিবা নিচে চল যায়, রুমে থেকে যায় সায়ন আর সিয়া।

সিয়া;; কেমন আছেন?

সায়ন;; বেশ ভালো।

সিয়া;; ওহহ।

সায়ন;; অনেক সুন্দর লাগছে তোমাকে।

সিয়া;; এই সৌন্দর্যের এখন কোন মূল্যই নেই।

সায়ন;; হ্যাঁ তা তো নিজের শশুড় বাড়িতে গেলেই টের পাবে (ফিসফিস করে)

সিয়া;; কিছু বললেন?

সায়ন;; না না, বললাম যে তাড়াতাড়ি নিচে চলে এসো। আমি এখন যাই।

সিয়া;; আচ্ছা।

এই বলেই সায়ন চলে যায়। সিয়া আবার বসে থাকে। নিচে সবাই এসেছে। সবাই একে ওপরের সাথে কুশল বিনিময় করছে। সোয়াদ, জাবেদ, সায়ন সবাই বসে গল্প করছে। আদিবার বাবা আর শশুড় এক জায়গায়। অনু, শান্তি, আদিবা, আফসানা মানে আদিবার ননদ আরকি আরেক জায়গায়। আর আদিবার শাশুড়ী, সিয়ার মা, নানু আরেক জায়গায়। কাজি এসে বসে পরেছে। এর মাঝে জামাই নিজেও হাজির। জামাই এর আসতেই নিচে আরেক দফা হৈচৈ পরে যায়। যা সিয়া ওপরে নিজের রুম থেকেই শুনতে পায়। কাজি মাঝখানে বসে আসে। আদিবা আর অনু সিয়াকে নিয়ে আসতে যায়।

আদিবা;; দিয়া বোন চল। সবাই এসে পরেছে কাজিও এসেছে চল।

সিয়া;; হুম।

সিয়া উঠে পরে। এক কদম এক কদম করে যতোই এগোচ্ছে সিয়ার যেনো ভেতরের কলিজা-আত্না ততই শুকিয়ে যাচ্ছে। সিয়া কে নিয়ে এসে বসিয়ে দেওয়া হয়। এক পাশে বর আরেক পাশে কণে কে বসানো হয়েছে। তাদের মাঝখানে একটা সুন্দর সাদা কারুকাজ করা কাপড় রয়েছে। যার ফলে আবছা ভাবে দেখা যাচ্ছে সব। কিন্তু সিয়া চোখ নামিয়ে রেখেছে। সবাই একত্র হয়ে দাঁড়িয়ে পরে। বিয়ের সব নিয়ম-নীতি শুরু হয়। কাজি প্রথমে গিয়ে বরের পাশে বসে বরকে কবুল বলতে বলে। বর তিন বার কবুল বলে দেয়। সবাই শব্দ করে বলে ওঠে আলহামদুলিল্লাহ। কাজি এইবার কণের কাছে গিয়ে কবুল বলতে বলে। সিয়া মাথা নিচু করে রেখেছে। অর্নীলের হাসিমাখা মুখ টা মনের দেওয়ালে কড়া নারছে। চোখের সামনে ভাসছে। সিয়ার এখন বুক টা ফেটে যাচ্ছে কান্নায়। কিন্তু তবুও কান্না চেপে খুব কষ্টে কবুল বলে ওঠে। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে। তারপর সই করে দেয় কাবিন নামায়। সিয়া নিজের সামনে কিছুই ঠিক ঠাক ভাবে দেখতে পারছে না। চোখে এতো পরিমাণে নোনাজল এসে বাসা বেধেছে যে তাতে সবকিছু ঘোলা ঘোলা দেখতে লাগছে।

বিদায়ের পালা। তবে বিদায়ের টাইমে সিয়া কান্না করে নি, শুধু মূর্তির মতো দাড়িয়ে ছিলো। মুখের কোন হাবভাবও নেই। শুধ মূর্তি। চোখের পলক না ফেললে তাও বুঝা যেতো না। তবে এইবার হয় একটা উল্টো জিনিস। সিয়া খেয়াল করে যে তার হবু শশুড় বাড়ি থেকে তেমন কাউকেই দেখছে না। শুধু একটা এশ কালারের বড়ো গাড়ি। আর কেউ কিছু বলছেও না। সিয়াকে সেই গাড়িতে তুলে দেওয়া হলো। সিয়া ছোট বাচ্চার মতো করে গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে রেখেছে। সিয়া ভাবছে বিয়ে কি একাই করলো নাকি সে। জামাই কই? একটা সময় সবার থেকে বিদায় নিয়ে এসে পরে। সিয়ার গাড়ির সামনে ড্রাইভার। আর পেছনে সিয়া একাই। কিছুক্ষণ পর গাড়ি সাই করে চলে গেলো। সিয়া ভরকে যায়, আজব তো। আরে সিয়াকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। সিয়ার জামাই কই? গাড়িতে কি তাকে একাই নিয়ে যাবে নাকি তাহলে গাড়ি কেনো পালকিই নিয়ে আসতো। সিয়া গাড়ি থেকে মাথা বের করে খানিক পেছনে তাকিয়ে দেখে পেছনে আরো একটা গাড়ি হয়তো সেই গাড়িতেই তার গুণধর জামাই বসে আছে। এই ভেবেই সিয়া আবার বসে পরে। প্রায় এক ঘন্টা পর সিয়ার গাড়ি থামে। ড্রাইভার গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দেয়। সিয়া আস্তে করে নেমে পরে। সামনে তাকিয়ে দেখে একটা বিশাল বাড়ি। সিয়া চিনে না, জানে না কিছুই। ভেবেছে তাদের গাড়ির পেছনে যে গাড়ি ছিলো সেটাও হয়তো এখানেই থামবে তবে কোন গাড়ি নেই। সিয়া এগুলোই ভাবছিলো তখন একজন লোকের ডাকে সিয়ার হোস ফিরে।

–ম্যাম ভেতরে আসুন প্লিজ।

লোকটাও সুন্দর করে পাঞ্জাবি টাঞ্জাবি পরে আছে তাই সিয়া আসলে বুঝলো না যে কে উনি। যাই হোক সিয়া বাড়ির ভেতরে যেতেই অনেক গুলো মানুষ বের হয়ে আসে। সিয়া এদের কে চিনে না। তাদের মাঝ থেকে একজন মেয়ে বলে ওঠে….

–ম্যাম আসুন প্লিজ, আমরা এখানেই কাজ করি।

সিয়া;; আব… না মানে আসলে আমার হাসবেন্ড এর বাবা মা তারা কোথায়?

–ম্যাম আসলে তা পরেই বুঝতে পারবেন। এখন চলুন আগে আপনাকে ওপরে রুমে দিয়ে আসি।

সিয়া দুইজন মেয়ের সাথে চলে গেলো। এ কোন জায়গায় এসে দাড়ালো সে। কাউকে চিনে না,জানে না। শশুড় শাশুড়ী কেউই নেই। কোন এক অজানা জায়গায় পা রাখলো। সিয়ার বেশ ভয়ই লাগছে। কাচুমাচু করছে। সিয়া মেয়েদের সাথে চলে গেলে তারা তাকে একটা সুন্দর রুমে নিয়ে আসে। রুম টা পুরো টাই বলতে গেলে সাদা। সাদা ধবধবে বিছানার ওপর লাল টকটকে গোলাপের পাপড়ি দেওয়া আছে। ফুটে ওঠেছে যেনো। তার ওপর সিয়াকে বসিয়ে দেওয়া হয়। তারপর মেয়েরা সিয়াকে রেখে চলে যায়। সিয়া এবার রাগে তার মাথার পেছন থেকে ওরনা টা খুলেই ফেলে এক ঝটকায়। কি এগুলো, কোথায় এলো। আচ্ছা লোকটা এসেই কি সিয়ার ওপর ঝাপিয়ে পরবে নাকি আগে কিছু কথাও বলবে? আচ্ছা লোকটা কি বখাটে টাইপের হবে নাকি শান্ত ভদ্র রকমের? সিয়া কে কি খুব কড়া শাসনে রাখবে নাকি সিয়ার দিক টাও বুঝবে? হাজারো চিন্তা মাথায় আসছে। সিয়া এতো অস্বস্তি নিয়ে আর বসে থাকতে না পেরে উঠেই পরলো বিছানা ছেড়ে। সিয়া কয়েক কদম এগোতেই দেখলো রুমের ঠিক সামনে একটা করিডর আছে ঠিক যেমন টা তার বাসায় ছিলো। এটা দেখে সিয়ার একটু ভালো লাগলো। সিয়া পায়চারি করা শুরু করে দেয় রুমের মাঝেই। লোক টা রুমে এলেই তাকে কি কি বলবে তা ঠিক করে নিলো। জোরে জোরে বুক ভরে কিছুটা দম নিয়ে নিলো। তখনই নিজের পেছনে দরজা লাগানোর আওয়াজ আসে। সিয়ার বুক টা ছাত করে ওঠে। যেমন প্রচুর গরম কড়াইয়ে পানি পরলে যেমন ছাত করে ওঠে ঠিক তেমনই। কারো ভারি ভারি কদম ফেলে এগিয়ে আসার শব্দ টের পাচ্ছে সে। একটা সময় তা থেমে গেলো। সিয়া বুঝলো যে লোকটা একদম সিয়ার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে। সিয়া চোখ টা খিচে বন্ধ করে ঘুড়ে দাঁড়ায়। মানে লোকটার দিকে দাঁড়ায়।

সিয়া;; দেখুন আমি আপনাকে চিনা না জানি না। তাই আমার কিছুদিন সময় লাগবে সব মানিয়ে নিতে। আমার সময় দরকার। প্লিজ আগে আমরা একে ওপর কে আগে ভালো ভাবে জেনে নেই ওকে। আপনি আমার কাছেও আসবেন না, আমাকে ধরবেনও না। আমি আজ প্রথন দিনেই আপনাকে স্বামীর অধিকার দিতে পারবো না। প্লিজ একশ হাত দূরে থাকুন আমার থেকে। আমাকে একা থাকতে দিন।

সিয়া এক নাগারে চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে কথা গুলো বলে গেলো৷ কোন দিকে তাকায় নি, চোখও খুলে নি। হাত দিয়ে লেহেঙ্গার পাশ টা খামছে ধরে এইসব বলেছে।

— ওহ আচ্ছা, দুই বছরের কাছাকাছি প্রেম করে বিয়ে করেছি, আর এখন তুমি বলছো কিনা আরো সময় দরকার তোমার। সিরিয়াসলি সিয়াজান!!

সিয়া কার কন্ঠ শুনলো তা বুঝে উঠতে না পেরে ফট করে চোখ মেলে তাকায়। দেখে অর্নীল শেরওয়ানি পরে তার হাতা গুলো ফোল্ড করে রেখেছে। দুই হাত ভাজ করে, এক পাশের ভ্রু কিছুটা উঁচু করে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সিয়ার দিকে। সিয়ার বর্তমান অবস্থা লাইক “আমি জ্ঞান হারাবো, মরেই যাবো। বাঁচাতে পারবেনা কেউ”। সিয়া অর্নীল কে এভাবে হুট করেই রুমে দেখে সত্যি ভূত দেখার মতো চমকে গিয়েছে।

সিয়া;; ওওওওও আল্লাহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহহ!!

সিয়া এই বলে এক চিৎকার দিয়েই অর্নীলের কোলে ঢলে পরে। অর্নীল দ্রুত সিয়াকে ধরে ফেলে। সিয়াকে নিজের বাহুতে রেখে গালে ধরে ডাকছে সিয়া সিয়া বলে। কিন্তু সিয়ার কোন হুস নেই। অর্নীল বুঝলো যে সিয়া সত্যিই অজ্ঞান করে গেছে।





চলবে~~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here