ধূসর প্রেমের অনুভূতি পর্ব -৩৯

#ধূসর_প্রেমের_অনুভূতি
#ফারহানা_ছবি
#পর্ব_৩৯
.
.
ফারিহার কথা শুনে মেঘ খানিকটা বিরক্ত হয়ে বলল,” ফারিহা বোকা বোকা কথা বলো না৷ তুমি খুব ভালো করেই জানো ফারুপাখি কেন বাড়িতে ফিরে আসছে না৷ এনিওয়েস আমাকে এখন বের হতে হবে তুমি ততোক্ষণ না হয় বাড়িটা সামলাও আমি আসছি৷”

মেঘ চৌধুরী ম্যানশন দিয়ে বের হতে নিলে হঠাৎ সামনের মানুষটাকে দেখে থমকে যায় মেঘ৷ বিধ্বস্ত অবস্থায় এলোমেলো পায়ে হেটে আসছে তনু৷ মেঘ তনুকে দেখে বুঝতে পারে তনুর মারাত্মক বিপদ কিছু হয়ে গেছে৷ তনু এলোমেলো পায়ে মেঘের সামনে এসে হঠাৎ সেন্সলেস হয়ে যায়৷ তনু পড়ে যাওয়ার পূর্বে মেঘ তনুকে ধরে ফেলে৷ মেঘ তনু বলে চিৎকার করতে ফারিহা দৌড়ে আসে ৷ তনুকে এমন বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে ফারিহাও বিমূঢ় হয়ে তনুর দিকে তাকিয়ে রইল৷ ফারিহার এমন কান্ড মেঘ রেগে গিয়ে বলে ওঠে,” ফারিহা স্টুপিটের মত দাড়িয়ে না থেকে মমকে আর বাকিদের ডেকে আনো আমি ততোক্ষণে তনুকে তার রুমে নিয়ে যাচ্ছি আর হ্যাঁ ডক্টরকে এখুনি কল করে আসতে বলো ৷” ফারিহা মেঘের ধমক শুনে দৌড়ে আবার ভিতরে চলে গেল৷ মেঘ তনুকে কোলে নিয়ে তনুর রুমের দিকে যেতে সবাই ঘিরে ধরে তনুকে দেখে তার এই অবস্থা হলো কি করে এটাই বার বার প্রশ্ন করতে লাগলো৷ ফারিহা সবার কথা শুনে এক প্রকার বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো,” তোমরা থামবে প্লিজ? তনুর এই অবস্থা কি করে হলো? কি ভাবে হলো সেটা না হয় তনুর জ্ঞান ফিরলে আমরা সবাই জানতে পারবো৷ এখন দয়া করে তোমরা চুপ করো৷”

মেঘ তনুকে তার রুমে শুইয়ে দিয়ে ফারিহাকে বলে,” ফারিহা তনুর ড্রেস চেন্জ করে দেও ৷ ততোক্ষণে ডক্টর এসে পড়বে৷”

” ওকে জিজু৷”

সবাই রুম থেকে বেরিয়ে যায় রোজা আর ফারিহা ব্যতিত৷ রোজা ফারিহাকে সাহায্য করে তনুর ড্রেস চেন্জ করার জন্য, বিশ মিনিট পর ডক্টর এসে তনুকে চেকয়াপ একটা ইনজেকশন পুশ করে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে মেঘের সামনে আসতে মেঘ তনুর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডক্টর জানায় তনুকে রেপ করা হয়েছে৷ তনুর শরীরের চিন্হ গুলো সেদিকে নির্দেশ করছে৷ ডক্টর তনুকে হসপিটালে নিয়ে চেকয়াপ করানোর কথা বললে মেঘ তনুর সন্মানের কথা ভেবে বাড়িতে থেকে ট্রিটমেন্টের করানোর কথা জানায়৷ পারিবারিক ডক্টর বিধায় তিনি মেঘের কথায় রাজি হয়ে যায়৷

(৭১)

চারিদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত৷ ঘন জঙ্গল হওয়ায় সূর্যের তীর্যক রশ্মি গাছের পাতার ফাঁক গলে ভেতরে তেমন একটা প্রবেশ না করতে পারায় ৷ জঙ্গলে ভেতরটা বেশ অন্ধকারময় ৷ কাঁচা মাটির গন্ধ বন ফুলের সুমিষ্ট ঘ্রান সব মিলিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশের মধ্যে আছে ফারহা৷ জন মানবহীন এমন বনের মাঝে যে পুকুর থাকতে পারে এটা সত্যি অবিশ্বাস্য ৷ তবে ফারহার এখানে এসে প্রচন্ড ভালো লাগছে৷ যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্ত হয়ে এমন পরিবেশে থাকাটা ফারহার জন্য ভিষণ রকম প্রয়োজন ছিলো৷ ফারহা পাশের একটা পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা পেরে খেতে খেতে পুকুরে পা ভিজিয়ে বসে পড়লো৷ সময় যতো গড়িয়ে যাচ্ছে জঙ্গলের ভেতর টা অন্ধকারে আরো ছেয়ে যাচ্ছে৷ এমন পরিবেশে থেকেও ফারহা কেন যেন খুশি হতে পারছে না৷ সব কিছু যেন ফারহার কাছে বিষাদময় লাগছে৷ নিজেকে বাঁচানো আবার মেঘ আর তার পরিবার থেকে এই দুরুত্বটা ফারহার ভেতর টা পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে৷ আর সবটাই হচ্ছে সেই মানুষটার জন্য যে আড়ালে থেকে ফারহা এবং তার পরিবারের ক্ষতি করে যাচ্ছে ৷ নিজের পরিবার এবং মেঘের কেউ ক্ষতি করবে এটা ভাবতেই ফারহার চোখ মুখ শক্ত হয়ে উঠলো৷

ফারহা নিজের ফোন নিয়ে রুমে বসে আছে৷ ফোনটা অন করে মেঘের সাথে কথা বলার জন্য ইচ্ছেটা দমিয়ে রাখতে পারছে না৷ ফারহা মনে মনে ঠিক করে নিলো ফোনে কথা নয় বরং এবার মেঘের সামনে গিয়ে দাড়াবে৷

_________________

মেঘ পাগলের মতো ফারহাকে খুজে যাচ্ছে৷ শহরের প্রত্যেকটা অলিগলি তার থেকে বাদ পরেনি৷ মেঘ গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ মনে পড়ে যাই সেই দিনের কথা৷ যে দিন ফারহা আর তার উপর এট্যাক হয়েছিলো৷ আর তখন এক আগন্তক এসে তাদের হেল্প করে৷ ফারহা তাকে ভাই বলে সম্মোধন করে৷ হতে পারে ফারহা সেই আগন্তকের কাছে আছে! মেঘ এক মুহূর্ত দেরি না করে ফারহার ফুফির বাড়ির আশে পাশের সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে লাগলো ৷ মেঘের কাছে আইনি পাওয়ার থাকায় কেউ মেঘকে বাধা দেওয়ার সাহস পেল না৷ মেঘ এক এক সি সি ক্যামেরার ফুটেজ গুলো দেখে আন্দাজ করতে পারছে ফারহা শহরের বাইরে আছে আর কেউ নয় ফারহাকে সেই আগন্তক সাহায্য করেছে৷ মেঘ এবার নিশিন্ত হলো তবে পুরো পুরি নয়৷ যতোক্ষণ না মেঘ তার ফারুপাখিকে বুকে নিতে পারছে ঠিক ততোক্ষণ মেঘ শান্তি পাচ্ছে না৷

ব্লাক জিন্স আর হুডিয়ালা জ্যাকেট চোখে ব্লাক সানগ্লাস মুখে মাক্স আর কোমরে রিভালবার নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ফারহা৷ টর্চ লাইটের আলোতে ঘন বনের মধ্যে দিয়ে হেটে যাচ্ছে ফারহা৷ এদিকে হিংস্র বন্য প্রানী গুলো হাক ডাকছে বারংবার৷ এমন এক অদ্ভুতরে পরিবেশে এমন হিংস্র বন্য প্রানীর আওয়াজ গুলো প্রচন্ড ভয়ংকর লাগছে৷ একজন নরমাল মানুষের পক্ষে এমন এক জায়গায় থাকাটা অসম্ভব রকমের; ফারহা নিঃশব্দে বন থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তায় এসে হাটতে লাগলো৷

মেঘ একাই তার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে৷ অন্যদিকে তনুর জ্ঞান ফিরে আসতে ফারিহা রোজা দু’জনে মুখে হাসি ফুটে ওঠে৷ তনু চোখ মেলে তাকিয়ে ফারিহাকে ফারহা ভেবে আর রোজাকে দেখে তার ভয়টা কিছুটা কমে আসে৷ তখনি ফারিহা বলে ওঠে,” তনু তুই ঠিক আছিস তো? এখন কেমন লাগছে?”

ফারিহার কথার ধরন দেখে তনু বুঝতে পারলো এটা ফারহা নয় বরং ফারিহা৷ তনু তার চোখ জোড়া বন্ধ করে হ্যারি লিওয়ের সেই নির্মম নির্যাতনের কথা ভাবতেই তনুর পুরো শরীর আতঙ্কে কেঁপে উঠলো৷ রোজা তনুর অবস্থা দেখে ফারিহাকে বলল,” আপু এখন এই সব কথা থাক৷ তার চেয়ে বরং আমি গরম সুপ নিয়ে আসছি সেটা তুমি তনু আপুকে খাইয়ে দেও৷”

” ঠিক আছে নিয়ে এসো৷” রোজা রুম থেকে বের হওয়ার পর পর ফারিহা কঠিন দৃষ্টিতে তনুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,” তোর এই অবস্থা কে করেছে তনু?” তনু ফারিহার কথার কোন জবাব না দিয়ে চুপ করে রইল৷ ফারিহা বুঝতে পারছে এখানে কিছু গন্ডগোল আছে৷ কারণ এখনকার তনু আর আগের তনুর মাঝে বিস্তর ফারাক৷ এই তনু বড্ড অচেনা৷ ফারিহা তার প্রশ্নের উওর না পেয়ে বেশ রেগে যায় আবারও তনুকে প্রশ্ন করে কিন্তু এবারও তনু নিরত্তর৷ ফারিহা এবার তার রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে তনুর গলা চেপে ধরে ৷ তনু এমনিতে অসুস্থ থাকায় ফারিহার শক্তির সাথে পেরে ওঠে না৷ এদি ফারিহা আবার ও প্রশ্ন করে তনুকে , কিন্তু এবার তনু নিজে প্রানে বাচঁতে বলে ওঠে,” ব,,বলছি আমার এই অবস্থার জন্য হ্যা,,রি আর লিও দ্বায়ি৷ ওরাই আমাকে জোড় পূর্বক রেপ করেছে৷”

তনুর কথা শুনে ফারিহা থেমে গেল৷ হ্যারি লিও যে এমন কিছু তনুর সাথে করবে এটা ফারিহা ভাবতে পারেনি৷ কিন্তু হ্যারি লিও তনুকে কি করে পেলো? আর তনু যদি ওদের খোজ পেয়ে থাকে তাহলে ফারহা বা ওকে কেন বললো না? আরো অনেক প্রশ্ন ফারিহার মাথায় ঘুরছে কিন্তু এই মুহূর্তে তনু তার প্রশ্নের উওর দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই৷ ফারিহা তনুকে ছেড়ে দিতে রোজা সুপ বোলের ট্রে নিয়ে রুমে ঢুকে৷ রুমে ঢুকে তনুকে কাশতে দেখে রোজা ট্রে রেখে দ্রুত তনুকে পানি খাইয়ে দেয়৷ ফারিহা তনুর দিকে কটমট করে তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়৷ ফারিহা বের হতে তনু স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে রোজার দিকে তাকিয়ে বলে ,” রোজা আমাকে ওয়াশরুমে যেতে একটু হেল্প করবে? ”

” কেন নয় আপু ৷ আমি তোমাকে হেল্প করছি৷”

” হুম৷”

______________

চোখের সামনে নিজের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়ে মেঘ নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেনি৷ আষ্টেপিষ্ঠে একে অন্যের সাথে জড়িয়ে আছে মেঘ ফারহা৷ বেশ কিছুক্ষণ পর ফারহা নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলতে লাগলো,” মেঘরাজ তুমি ঠিক আছো তো? বাড়ির সবাই ঠিক আছে তো?”

মেঘ ফারহার ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলল,” হুসস আর কোন কথা নয়৷ তুমি এখুনি আমার সাথে চৌধুরী ম্যানশনে যাবে৷ সেখানে তোমার জন্য পুরো পরিবার অপেক্ষা করছে৷ আর হা এখন থেকে তুমি আমার পারমিশন ব্যতিত বাড়ি থেকে এক পাও বের করবে না৷”

ফারহা মেঘকে কিছু বলতে নিলে মেঘ তা শুনতে চায় না৷ বরং ফারহাকে পেয়ে মেঘ আর কিছু শুনতে রাজি নয়৷ মেঘ ফারহাকে গাড়িতে ওঠাতে নিলে তখনি সেই আগন্তক এসে মেঘকে বাধা দেয়৷ মেঘ ঘাড় ঘুড়িয়ে সেই আগন্তককে দেখে চিনতে মনেও অসুবিধা হয় না৷ মেঘ কিছু বলতে নিলে সেই আগন্তক বলে ওঠে,” মেঘ এখনো সময় হয়নি আপনার ওয়াইফকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার৷ আজ যদি সবাই আরু মানে ফারহা বেঁচে আছে জানতে পারে তাহলে আপনার পরিবারের উপর এট্যাক হতে পারে৷ আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না আপনার পরিবারের কোন ক্ষতি হোক? আজ যদি ফারহা চৌধুরী ম্যানশনে প্রবেশ করে তাহলে ফারহার সাথে সাথে আপনার এবং আপনার পরিবারের উপর বিপদ হতে পারে৷”

” সো ওয়াট! তাই বলে আমি আমার ফারুপাখিকে নিজের থেকে দুরে সরিয়ে দিতে পারবো না৷ লড়াই করতে হলে আমরা এক সাথে করবো৷”

” মেঘরাজ বোঝার চেষ্টা করো৷ আমার এখন ফিরে যাওয়াটা একদম উচিত হবে না৷ ও যা বললো সেটা ঠিক বলেছে৷ আমি আমার জন্য পরিবারের কোন ক্ষতি হতে দিতে পারি না৷ তুমি ফিরে যাও আর মম ড্যাড ফারিয়া ওদের সিকিউরিটির ব্যবস্থা করো৷ কারণ এর পর ওদের উপর এট্যাক হওয়ার খুব বেশি সম্ভাবনা আছে৷ ”

” কিন্তু কে তোমার আমার ক্ষতি করতে চাইছে ফারুপাখি?”

ফারহা মেঘকে কিছু বলতে নিবে তখনি দুরে চোখ পড়তে দেখে একটা গাড়ি তাদের দিকে এগিয়ে আসছে৷ ফারহা মেঘকে জড়িয়ে ধরে বলে ,” মেঘ নিজের এবং আমার পরিবারের খেয়াল রেখো আর খুব শীগ্রই তোমার সাথে আমার দেখা হবে৷ তবে এখুনি আমাকে বের হতে হবে নিজের খেয়াল রেখো আল্লাহ হাফেজ ৷”

ফারহা মেঘকে ছেড়ে দিয়ে মুহূর্তে ভ্যানিস হয়ে যায়৷ মেঘ চারিদিক তাকিয়ে ফারহাকে এবং সেই আগন্তককে খুজে না পেয়ে বুঝতে পারে ফারহা আবার কোথাও আড়ালে চলে গেছে৷ মেঘ চোখ বন্ধ করে কয়েকবার জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিয়ে ফারহার বলা প্রত্যেকটা কথা মনে করতে লাগলো৷

অন্যদিকে মেঘের গাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দুরে দাড়িয়ে থাকা গাড়িটা মেঘকে ফলো করতে লাগলো আর সাথে সাথে সব ইনফরমেশন ফোনে কাউকে দিতে লাগলো৷ ফোনের ওপাশে থাকা মানুষটা টেবিলের উপর রাখা কাঁচের গোলকটা ঘুড়াতে ঘুড়াতে লোকটির কথা সব শুনতে লাগলো৷ তবে ফারহার কোন ইনফরমেশন না পেয়ে ফোনের ওপাশের ব্যক্তিটি বলতে লাগলো,” ভালো করে নজর রাখ মেঘের উপর, মেঘ কি করে? কোথায় যায়? কার সাথে দেখা করে কথা বলে সব ইনফরমেশন আমার চাই৷”

” ওকে বস আমি মিনিটে মিনিটে সব ইনফরমেশন আপনাকে দিতে থাকবো৷”

” গুড৷ মেঘ এই নির্জন জায়গায় কেন এসেছে? কার সাথে দেখা করতে এসে দ্রুত খোজ নেও৷”

” ওকে বস৷”

মেঘ ড্রাইভিং সিটে বসে ব্যাক মিররে তাকাতে দুরে একটা গাড়ি দাড়িয়ে থাকতে দেখে বুঝতে পারে তার ফারুপাখির এভাবে চলে যাওয়ার কারণ; মেঘ দাঁত কিড়মিড় গাড়িটার দিকে তাকিয়ে নিজের গাড়ি স্টার্ট দেয়৷
.
.
.
#চলবে…………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here