পুতুল খেলা পর্ব -১০+১১

#পুতুল_খেলা
#পর্বঃ১০+১১✨মহাধামাকা✨
#লেখিকাঃদিশা মনি

অন্ধকার ঘরে বসে আছে রিপ্তি। আজ যেন ভেতর থেকে সে পরিতৃপ্ত। রিপ্তির এখনো মনে পড়ে সেইদিনের কথা। দিনটা ছিল ১৮ জানুয়ারি, ২০২২। নিজের বাবা-মায়ের লা’শ দেখতে হয়েছিল রিপ্তিকে। তার চিরচেনা পৃথিবী পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। আজও অতীতের কথা ভেবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে রিপ্তি। তবে তার মনে হয় চলছে শান্তির হাওয়া। চোখ বন্ধ করে বারবার একটি কথাই বলে যাচ্ছে রিপ্তি,
‘আজ আমি সফল। তোমাদের খু’নিকে আমি শাস্তি দিতে পেরেছি। এখন নিশ্চয়ই তোমাদের আত্মা শান্তি পাবে। সুখে থেকো তোমরা। আমার কাছ থেকে তোমাদের যে দূরে করেছিল সে শাস্তি পাবেই। আমার উপর ভরসা রেখো। তোমাদের মেয়ে তোমাদেরকে কোনভাবেই নিরাশ করবে না।’

আচমকা কেউ ঘরের দরজা খুলে বিনা অনুমতিতে ভেতরে ঢুকে আসে। বিরক্ত হয় রিপ্তি কিন্তু নিজের বিরক্তি ভাব প্রকাশ করে না। আশরাফুল রহমান ধীর পায়ে রিপ্তির সামনে আসে। তাকে দেখে বিন্দুমাত্র অবাক হয়না রিপ্তি। আশরাফুল ইসলাম একগাল হেসে বলে,
‘তুমি তাহলে এটা করে দেখালে। আমি খুব খুশি হয়েছি। তোমার বাবা-মা বেচে থাকলে তারাও আজ খুব খুশি হতো। জানো তোমার বাবা আর আমি অনেক ভালো বন্ধু ছিলাম। একসাথে বিজনেসও শুরু করি আমরা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল তারপর হঠাৎ,,,,’

আশরাফুলের কথা সম্পূর্ণ না হতেই তাকে থামিয়ে দেয় রিপ্তি।

‘আমি জানি তো সব। আপনি তো সেদিন রাতেই আমাকে সবকিছু বলেছিলেন। আপনার ছেলে আমান অত্যন্ত লোভী ছিল। সে চেয়েছিল আমার বাবার সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে। তাই প্ল্যান করে আমার বাবাকে এক্সিডেন্ট করিয়ে মে’রে ফেলে। আর এই কাজে আপনার স্ত্রী সিতারা বেগম ছিল তার সহযোগী।’

‘হ্যা, এখন তারা তাদের কাজের শাস্তি পাবে। তোমার মা বাবার আত্মাও শান্তি পাবে। ‘

রিপ্তি বাকা হেসে বলে,
‘না এখনো তারা শান্তি পায়নি। কারণ আসল অপরাধী যে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে।’

রিপ্তির কথাটা শুনে আশরাফুল রহমানের ভ্রু আপনাআপনি কুচকে যায়। খটখটে গলায় তিনি প্রশ্ন করেন,
‘কি বলতে চাইছ তুমি? আসল অপরাধী ধরাছোয়ার বাইরে মানে?’

রিপ্তি চুপ থাকে। এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু একটা খুজতে থাকে। আশরাফুল রহমান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সবকিছু খেয়াল করছিলেন।

‘কি খুজছ তুমি?’

রিপ্তি এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়না। রিপ্তির চোখ যায় মাটিতে পড়ে থাকা রিমোটের দিকে। রিমোটটা হাতে নিয়ে রিপ্তি টিভিটা অন করে। টিভি অন করে একটি সিসিটিভি ফুটেজ চালু করে দেয় রিপ্তি।

১৯.
সিসিটিভিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আশরাফুল রহমান নিজের অফিসে বসে একটা লোককে টাকা দিচ্ছে।

পরবর্তীতে আরো একটা সিসিটিভি ফুটেজ চালু করে। যেখানে দেখা যাচ্ছে সেই লোকটাই পার্কিং লটে রিপ্তির বাবার গাড়ির কোন একটা তার কে’টে দিচ্ছে।

ফুটেজ দুটি দেখানোর পর রিপ্তি টিভি অফ করে। টিভি থেকে পেনড্রাইভটা বের করে। আশরাফুল রহমানের মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয়েছে। রিপ্তি তার দিকে রুমাল এগিয়ে দিয়ে বলে,
‘নিন। ঘামটা মুছুন। এখনই এত হাইপার হবেন না। আপনার অন্যায় গুলো সবেমাত্র একটু একটু করে সামনে আসছে। এটা তো শুধু ট্রেলার ছিল। পুরো সিনেমা তো এখনো বাকি।’

আশরাফুল রহমান রুমাল দিয়ে ঘামগুলো মুছে নেয়। রিপ্তি মৃদু হেসে বলে,
‘জানেন আমার আব্বু না খুব সৎ লোক ছিলেন। কখনো কোন অন্যায়ের সাথে আপস করেন নি। এই কারণে আমার আব্বুকে সবাই খুব শ্রদ্ধা করত, তার অনেক নামডাকও ছিল। আপনি কিভাবে আশা করেছিলেন আমার আব্বু আপনার সাথে মিলে চোরাকারবারি করবে?’

আশরাফুল রহমান বিস্ময়ের দৃষ্টিতে রিপ্তির দিকে তাকান। রিপ্তি হাসি প্রসারিত করে।

‘কি ভাবছেন? আমি এসব কিভাবে জানলাম। দাড়ান আমি একে একে সবকিছু বলছি আপনাকে। তার আগে এই নিন একটু পানি খান।’

আশরাফুল রহমান পানি খায়।

‘আমার আব্বুকে খুব বোকা ভেবেছিলেন তাইনা? আমার আব্বুর আড়ালে আপনি চোরাকারবারি করবেন আর আমার আব্বু সেটা বুঝতেও পারবেনা! এতই সহজ। আপনি জানতেন না আমার আব্বু কতোটা সজাগ ব্যক্তি ছিলেন। আপনি যখন প্রথম আমার আব্বুকে একসাথে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন তখনই আমার আব্বু সন্দেহ করেছিল যে এখানে নিশ্চয়ই কোন ঘাপলা আছে। আর হলোও তাই। একসাথে ব্যবসা করার সময়ই আব্বু জেনে গিয়েছিল আপনার চোরাকারবারির কথা। বাড়িতে এসে আম্মুকেও সবকিছু বলেছিল। আমি সেইসময় পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিলাম। আব্বু রান্নাঘরে আম্মুকে সবকিছু বলছিল। রান্নাঘর পাশেই হওয়ায় আমি আব্বু আম্মুর কথা সব শুনে ফেলি। আর এর পরের দিনই আব্বু আম্মুর মৃত্যু। আমি সেদিনই আপনার উপর সন্দেহ করেছিলাম। বাট আমার হাতে কোন প্রমাণ ছিলনা। তার উপর ওনাদের মৃত্যুতে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম আমি।’

আশরাফুল রহমান বুঝে যান রিপ্তি সব জেনে গেছে। তাই তিনিও আর কোন কিছু গোপন করেন না।

‘হ্যা একদম ঠিক ধরেছ তুমি। আমিই তোমার মা-বাবাকে মে’রে ফেলেছি। সবকিছু আমারই প্ল্যান ছিল। তোমার আব্বু খুব ভালোমানুষ ছিল। আর এই ভালোমানুষিই তার জন্য কাল হয়ে দাড়ালো। আমার ব্যাপারে সবকিছু জানার পর থেকে আমায় হু’মকি দিতে লাগল। আমাকে আশরাফুল রহমানকে পুলিশের ভয় দেখালো। আমি তো সেটা সহ্য করার লোক না। তাই নিজের লোক লাগিয়ে দায়িত্ব নিয়ে তোমার মা-বাবার হাতে মৃত্যুর টিকিট ধরিয়ে দিলাম।’

রিপ্তির খুব ঘৃণা হতে থাকে লোকটার উপর। কত গৌরবের সাথে নিজের সব অপরাধ স্বীকার করছেন। দেখে মনে হচ্ছে বিন্দুমাত্র অনুতাপ তো নেই বরং কোন মহান কাজ করেছেন।

‘আপনাকে দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। এত অপরাধ করার পরেও আপনি এভাবে বলছেন।’

‘বোকা মেয়ে। তুমি কি জানো আমার ব্যাপারে? এসব আমার কাছে ছেলেখেলা। আমি যে আরো কত কি করেছি তার হিসেব নেই।’

২০.
আশরাফুল রহমানের কথা শুনে শুকনো ঢোক গিলে রিপ্তি। প্রশ্ন করে,
‘আর কি কি অন্যায় করেছেন আপনি?’

‘জানতে চাও? বেশ শোন তাহলে। আমার এই অন্যায়ের শুরু হয় আমার বাল্যকালেই। তোমার বাবা আর আমি ছোটবেলায় একই গ্রামে থাকতাম, একই স্কুলে পড়তাম। আমাদের মাঝে খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তোমার দাদা ছিল গ্রামের মেম্বার। আমার আব্বা ছিলেন একজন সাধারণ কৃষক। তবুও আমাদের মাঝে কোন ভেদাভেদ ছিল না। তোমার আব্বু আমাকে নিজের ভাইয়ের মতোই দেখত। সব ঠিক ছিল কিন্তু যত বড় হতে থাকি আমার মধ্যে লোভ ঈর্ষা সব বাড়তে থাকে। তোমার আব্বুকে দেখে খুব হিংসা হতো আমার। কত সুখী ছিল সে। বড় বাড়ি, ভালো খাবার, পোশাক আশাক কোন কিছুর কমতি ছিলনা। এদিকে আমি ছিলাম এক গরীব কৃষকের ছেলে। আমাদের ছিল মাটির বাড়ি। ছেড়া জামা পরে থাকতে হতো। পান্তাভাত খেয়ে আমার দিন যেতো। তখন থেকেই আমার মনে এক অদম্য ইচ্ছা জন্ম নেয়। আমাকে বড়লোক হতে হবে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে হোক আমাকে বড়লোক হতেই হবে।’

রিপ্তি প্রশ্ন করে,
‘এই বড়লোক হওয়ার জন্য কতটা নিচে নেমেছিলেন আপনি?’

আশরাফুল রহমান বাকা হাসেন। আবার বলতে শুরু করেন,
‘ছোটবেলা থেকে অনেক মেধাবী ছিলাম আমি। তোমার আব্বুর থেকেও বেশি। তোমার দাদার টাকা ছিল তাই ম্যাট্রিক পাশের পর তাকে পড়াশোনার জন্য শহরে পাঠানো হয়। আমার আব্বার ওতো টাকা ছিলনা। তাই তার সাধ্যি ছিলনা আমাকে শহরের কলেজে পাঠানো। বাধ্য হয়ে ম্যাট্রিক পাশের পর কৃষিকাজে নেমে যেতে হয় আমায়। কিছুদিনের মধ্যেই আব্বা আমার সাথে গ্রামেরই একটা সাধারণ মেয়ে মতিয়ার বিয়ে দেয়। মতিয়াকে শুরু থেকে আমার অপছন্দ ছিল। পরিবার থেকেই জোর করে ওকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। আমিও বাধ্য হয়ে ওর সাথে সংসার করতে থাকি। কিন্তু এভাবে বেশিদিন থাকতে পারিনি। গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে শহরে চলে আসি। শহরে এসে একটা বড়লোক বাড়িতে দারোয়ানের কাজ নেই। ছোটবেলা থেকে দেখতে শুনতে খুব সুন্দর ছিলাম। চাষার ঘরে জন্ম নিলেও ফর্সা বলিষ্ঠ শরীর ছিল আমার। যার কারণে অল্প সময়ে বাড়ির একমাত্র মেয়ের নজরে আসি আমি। যখন বুঝতে পারলাম বাড়ির মেয়ে আমাকে পছন্দ করে তখন যেন হাতে চাদ পেয়ে গিয়েছিলাম। বড়লোক হওয়ার চাবি যেন হাতে পেয়ে যাই। শুরু করে দেই প্রেমের নাটক। এভাবে মেয়েটার মন জয় করে নিয়ে তাকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নেই। রিপ্তি,,,বুঝতে পারছ তো সেই মেয়েটা কে?’

‘সিতারা বেগম,,,,’

২১.
‘একদম ঠিক ধরেছ তুমি। সিতারা। ও আমার কাছে সাফল্যে পৌছানোর চাবি ছিল মাত্র। বিয়ের পর সিতারাকে নিয়ে ওর বাড়িতে হাজির হই৷ সিতারার বুড়ো বাপটার খুব তেজ ছিল। কিছুতেই নাকি আমাকে মেনে নিবে না। তবুও কি আর করবে। নিজের একমাত্র মেয়ের জেদের কাছে হেরে গিয়ে আমাকে মেনে নিতে বাধ্য হলো। সিতারার বাবার অনেক বড় ব্যবসা ছিল। সবকিছুর একমাত্র মালিক ছিলেন তিনি। আমি ব্যবসায় যোগ দিয়েই বিভিন্নভাবে টাকা সরাতে থাকি। প্রথমে কেউ না বুঝলেও একসময় সিতারার বাবা সব বুঝে যায়। ব্যাস আমাকে সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। আমার মাথায় রাগ চেপে যায়। সেদিনই আমি সিদ্ধান্ত নেই যে করেই হোক এই পুরো ব্যবসাটা দখল করে নেবোই। সুযোগ পেয়েও যাই। একদিন যখন ঐ বুড়োটা রাতে ঘুমিয়ে ছিল। আমি চুপিচুপি ওর ঘরে ঢুকে বালিশ চা’পা দিয়ে ওকে মে’রে ফেলি। পরে ব্যাপারটা এমনভাবে সাজাই যে সবার মনে হয় এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। বাপের মৃত্যুর পর সিতারা খুব ভেঙে পড়ছিল। অথচ বাপের একমাত্র সন্তান হওয়ায় সব সম্পত্তি এখন তার! এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিতারার হয়ে আমি ব্যবসার হাল ধরি। ব্যাস আমাকে আর পায় কে।’

ঘৃণায় রিপ্তির পুরো শরীর জ্ব’লে ওঠে। একটা মানুষ কিভাবে এতটা নিকৃষ্ট হতে পারে সেটাই ভেবে পাচ্ছেনা রিপ্তি।

‘কি এতটুকুতেই অবাক হচ্ছো। এখনো তো পুরোটা শোনোই নি। আমি যে আর কত কি করেছি সবটা আগে শোন। তো ব্যবসা দখল করার পর আমি গ্রামে ফিরে যাই। মতিয়াকে অনেকদিন পর দেখি। আগে ছোট থাকলেও ততদিনে যৌবনে পা দিয়েছে মতিয়া। ওকে দেখে আমার মাথা ঘুরে যায়। ততদিনে সিতারার কোল আলো করে সিরাজ ও আমানের জন্ম হয়েছে। আমি মতিয়ার সাথেও পুনরায় সংসার স্থাপন করি। যার ফলস্বরূপ মোর্শেদ আর পুতুলের জন্ম হয়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল হঠাৎ একদিন মতিয়া সবকিছু জানতে পারে। মতিয়া সবকিছু জেনে চুপ থাকে নি ও সিতারাকেও সবকিছু জানিয়ে দেয়। পরে কোনভাবে আমানও সবকিছু জেনে যায়। এতে মতিয়ার উপর আমার রাগ জমে যায়। এই কারণে একদিন রাগের বশে বাড়িতে ফিরে মতিয়াকে এলোপাতাড়ি মা’রতে থাকি। এত মা’র সহ্য করতে না পেরে বেচারি,,,’

বলেই হাসতে থাকে আশরাফুল রহমান। রিপ্তি আর দাড়িয়ে থাকতে পারছিল না। ইচ্ছা করছিল মে’রে আশরাফুলের নাকমুখ ফা’টিয়ে দিতে। রিপ্তির আচানাক মনে পড়ে মোর্শেদের বোন পুতুলের কথা। চকিত হয়ে আশরাফুলকে প্রশ্ন করে,
‘আচ্ছা পুতুলের কি খবর? তার সাথে কি করেছিলেন আপনি?’

‘ঐ মেয়ের কথা বলছ। ওতো আরেকটা আ’পদ। ওর মা’কে যখন মে’রেছিলাম ও নিজের চোখে সব দেখেছিল। চার বছরের মেয়ে মাকে মা’র খেতে দেখে ট্রমা থেকে বোবা হয়ে গিয়েছিল। আমি ভয়ে ছিলাম ও মুখ খুললে তো আমার বিপদ হয়ে যাবে। সিতারার আদর যত্নে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছিল পুতুল। আমার মনে ভয় বাসা বাধে যে এই মেয়েটা যদি আবার কথা বলার শক্তি ফিরে পায় তাহলে আমার কি হবে? এই কারণে একদিন রাতে সুযোগ বুঝে ওকে রুম থেকে বের করে আনি। তারপর বিক্রি করে দেই। ১০ লাখ টাকায় মেয়েটাকে বিক্রি করেছিলাম।’

‘আপনি কি মানুষ? নিজের মেয়েকে এভাবে বিক্রি করে দিলেন ছি!’

‘নিজের স্বার্থের জন্য আমি সব করতে পারি। তুমি হয়তো জানো না তোমার বাবার মৃত্যুর পেছনে যে আমি দায়ি এটা তোমার চাচাও জেনে গিয়েছিল৷ সেইসময় সে আমাকে হুমকি ধমকি দিতে আসলে আমি তোমার চাচাকে টাকার লোভ দেখাই। বলি এখন তার পথ পরিস্কার। তোমাকে দূর করতে পারলে তোমার আব্বুর সব সম্পত্তি হাতে পাবে৷ সাথে আমিও কিছু টাকা দেবো। লোভ খুব খারাপ জিনিস, মনুষ্যত্ব ন’ষ্ট করে দেয়। তোমার চাচার সাথেও সেটাই হলো। লোভের বশবর্তী হয়ে নিজের ভাইয়ের খু’নির সাথে হাত মেলালো। এদিকে আমি জানতে পারলাম আমান তোমাকে পছন্দ করে। তোমার চাচার মুখ বন্ধ করতে তোমার বিয়ে দেওয়াটা জরুরি ছিল। তাছাড়া অন্য কোন ঘরে বিয়ে হলে তারা সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে চাইতে পারত যার কারণে তোমার চাচা বেকে বসত। এই কারণেই আমি আমানের সাথে তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করি। কিন্তু তোমাদের বিয়ের দিন মোর্শেদ কোথা থেকে যেন জানতে পারে তার মা-বোনের অবস্থার জন্য আমি দায়ি৷ সেদিন আমাকে অনেক মা’রল সে। আমি তো প্রায় ম’রতে ম’রতে বেচে ছিলাম। আমি বুঝতে পারি এমতাবস্থায় সুস্থ হয়ে ফিরে আসলে ওরা আমায় পুলিশে দিতে পারে। তাই এতদিন যাবৎ কোমায় থাকার নাটক করলাম। সিরাজ বাদে বাকি সবাই জানত আমি কোমায় চলে গেছি। সিরাজকে আমি স্বেচ্ছায় সবকিছু জানিয়েছিলাম কারণ ও আমার বাধ্য ছেলে। আমার কথামতোই সিরাজ তোমার স্বামী হওয়ার নাটক করে। কারণ আমান বিদেশে চলে যাওয়ার কথা জেনে তুমি যদি আবার তোমার বাড়িতে ফিরে যেতে তাহলে তোমার চাচা মুখ খুলত। সেটা আমার জন্য ভালো হতো না।’

‘আপনার সব অন্যায় এবার সামনে এসেছে। এতক্ষণ ধরে আপনার বলা সব কথা আমি রেকর্ড করেছি এবার আইন আপনাকে শাস্তি দেবে।’

রিপ্তি ঘর থেকে বের হতে যাবে তখনই আশরাফুল তাকে আটকে ধরে। পকেট থেকে ব’ন্দুক বের করে রিপ্তির কপালে তাক করে। রিপ্তি ভয় পায়না।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমান এসে এক ধা’ক্কায় আশরাফুলকে সরিয়ে দেয়। এবং সাথে সাথেই পুলিশ এসে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়।

২২.
আশরাফুল বিস্ময় কা’টিয়ে উঠতে পারেনি এখন। হতবাক হয়ে আছে। রিপ্তি মৃদু হেসে বলে,
‘নিজেকে খুব চালাক মনে করেছিলেন তাইনা? আপনি কি ভেবেছিলেন আমি এতটাই বোকা? আপনি যা বলবেন আমি তাই বিশ্বাস করে নেব? সেদিন আমার বাড়িতে গিয়ে যখন আপনি বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা গল্প বলছিলেন যে আমান ও সিতারা বেগম আমার মা-বাবার খু’নি তখনই আমি সব ধরে ফেলছিলাম। আমি তো সেদিন আব্বু আম্মুর কথা শুনেছিলাম। যে আপনি চোরাকারবারি করেন এবং আব্বু আপনাকে সতর্ক করায় আপনি আব্বুকে মে’রে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। তাই আমার আর বুঝতে বাকি থাকেনা কিছু। তারপর আমি এই বাড়িতে এসে সিতারা বেগমের সাথে মিলে আপনাকে ধরার প্ল্যান করি। প্ল্যান অনুযায়ী আমি সিতারা বেগম, আমান সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করি। যাতে আপনি কিছু বুঝতে না পারেন। এসব ঘটনায় আপনি ভেবেছিলেন আমি আপনার হয়ে কাজ করছি কিন্তু আপনি ভুল ছিলেন। আমান,সিতারা বেগমকে পুলিশে গ্রেফতার করাও আমাদের সাজানো নাটক ছিল। এসব কিছুতে আপনি ভেবেছিলেন আপনি জিতে গেছেন। অথচ দেখুন আমরা কিভাবে আপনাকে হারিয়ে দিলাম।’

আশরাফুল রহমান রাগে ক্রোধে তাকাচ্ছিল। সিতারা বেগম এসে থা’প্পর মা’রতে থাকে।
‘তুই আমার সাথে অনেক অন্যায় করেছিস। আমার আব্বুর খু’নি তুই। আমারই ভুল ছিল তোকে বিশ্বাস করে বিয়ে করেছিলাম। যার কারণে জীবনে এত কষ্ট সহ্য করতে হলো।’

মোর্শেদও চলে এসেছে ইতিমধ্যে। সে বলে,
‘আমার মা-বোনের খু’নি তুই। তোকে চরম শাস্তি পেতে হবে।’

পুলিশ আশরাফুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শেষ হলো তার পাপের অধ্যায়।
চলবে ইনশাআল্লাহ ✨
✨আজ অনেক বড় করে একসাথে দুটো পর্ব দিছি। সবার মন্তব্য আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here