প্রেমময় আসক্তি❣️পর্ব ৬+৭

#প্রেমময়_আসক্তি❣️
#পর্ব_৬
#নন্দিনী_চৌধুরী

৬.
দেখতে দেখতে ৪দিন চলে গেছে।রোদেলা এখন একদম সুস্থ আছে।হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে আসছে।রোদেলা বাসায় এসে একদম রেস্টে আছে মুন,রুবা,কাশু ওকে রেস্টে রেখেছে।আজকে রোদেলা কলেজে যাবে।অনেকদিন হয়েছে যায়না সে।অনেক ক্লাস তার মিস গিয়েছে।রোদেলা রেডি হচ্ছে একটা কালো রং এর থ্রিপিজ পরেছে সে।চুল গুলো বেনী করে নিয়েছে।হাতে ঘড়ি পরে ব্যাগ নিয়ে রেডি সে।৪জনেই রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো কলেজের জন্য।কলেজে এসে ওরা দেখলো কলেজে কিসের আয়োজন করা হচ্ছে।ওরা ৪জন বুজতে পারলোনা কিসের আয়োজন করা হচ্ছে।ওরা ৪জন ওদের ক্লাসে গিয়ে অন্যদের থেকে জানতে পারলো আজকে কলেজে কলেজের নতুন ট্রাস্টি আসবে।সেই জন্য কলেজে আয়োজন করা হচ্ছে।রোদেলারা কথায় কথায় জানতে পারে নিউ ট্রাস্টির নাম আদ্রিয়ান খান আমান।অনেক মেয়েরা নাম শুনেই কানাকানি শুরু করে দিয়েছে।কিছু মেয়েরা এভাবেই বলছে,

“ইসস নামটা এতো জোস না জানি লোকটা কত জোস হবে।
” হ্যা যদি হেন্ডু হয় তাহলে আমি সিওর তাকে পোটাবো।

এসব কথা শুনে রোদেলা মুনকে বলে,

রোদেলাঃদেখ মাত্র নাম শুনে এমন করছে আসলে তো মনে হয় খেয়েই ফেলবে।
মুনঃযা বলছিস।আমিতো ভাবি অই বেটা যদি বুইড়া হয় তাইলে কি হইবো।এদের এই এতো স্বপ্ন শুরু হবার আগের শেষ হয়ে যাবে।তাতে আমার কি আমার তো আমার রাফু আছেনা।আমার ওইসবের দিকে কোনো নজর নাই।
রুবাঃরাফু কে আবার?
মুনঃআরে রাফসানের কথাই বলছি রাফসানকেই আমি রাফু বলি।
কাশুঃওওওওওওওও।রাফু দ্যা জামাইভাইয়া।
রোদেলাঃআচ্ছা চল চল অদিকে যাই।

তারপর ওরা চলে আসে নিচে ক্যাম্পাসে।ঘন্টা খানের বাদেই চলে আসে সবার অপেক্ষিত মানুষটা।একটা ব্লাক গাড়ি কলেজের গেট দিয়ে ডুকলো।সবাই তাকিয়ে আছে সেটার দিকে।গাড়িটা থামার পর গাড়ির দরজা খুলে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটা ব্লাক শার্ট ব্লাক পেন্ট ক্লাস সানগ্লাস পরা আদ্রিয়ান।আদ্রিয়ানের আজকের লুক যেকোনো মেয়েকে তার প্রতি ঘায়েল করার জন্য যথেস্ট।রোদেলা সহ সবাই তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে।প্রিন্সিপাল একটা ফুলের বুকে নিয়ে আদ্রিয়ানের কাছে গিয়ে তাকে স্বাগতম জানালো।একে একে সবাই এসে তাকে স্বাগতম জানালো।এরপর আদ্রিয়ানকে নিয়ে প্রিন্সিপাল সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।মেয়েরা আদ্রিয়ানকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।কিন্তু আদ্রিয়ানের চোখ সানগ্লাসের ভিতর থেকে শুধু তার নেশামইয়ের দিকেই।রোদেলার আদ্রিয়ানকে দেখে থমকে গেছে।আসলেই তার ভাবনার থেকে একদম আলাদা লোকটা।আদ্রিয়ান সবার সাথে পরিচয় হতে হতে এভার রোদেলার কাছে আসলো।আদ্রিয়ান রোদেলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

আদ্রিয়ান:হাই আমি আদ্রিয়ান।
রোদেলা আদ্রিয়ানের সাথে হাত মিলিয়ে বলে,
রোদেলা:হ্যালো স্যার আমি রোদেলা।
আদ্রিয়ান:রোদেলাময়।
আদ্রিয়ানের মুখে এমন একটা কথা শুনে চমকে গেলো রোদেলা।অবাক হয়ে বলে,

রোদেলা:কি স্যার।
আদ্রিয়ান:নাথিং।নাইস টু মিট ইউ।

আদ্রিয়ান বাকিদের পরিচয় হয়ে চলে গেলো প্রিন্সিপালের সাথে।আদ্রিয়ান চলে যেতেই সবাই ওর কথা নিয়ে পরলো।ও কথা হেন্ডসাম,ওর চোখ এমন ওর ঠোঁট এমন।

রোদেলারাও মিলে একই আলোচনা করছে।

রুবা:বাবারে এতো একদক জেন্টালমেন।
কাশফিয়া:হুম কাউকে পাত্তা দেয়না।
মুন:নামের সাথে ভাবের মিল ও আছে।
রোদেলাঃহুম ঠিক বলেছিস।
মুনঃকিন্তু ওনাকে আমার অনেক চেনা চেনা মনে হচ্ছে কোথায় যেনো দেখেছিলাম।
কাশফিয়াঃতুই আবার একে কই দেখলি।
মুনঃসেটাইতো মনে পরছেনা।
রোদেলাঃআচ্ছা চল এখানে না দাঁড়িয়ে থেকে আমরা ক্লাসে যাই।
রুবাঃহ্যা চল।

এদিকে,,,,,,,
রাফসান ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে।তখন রোদেলার মা রাফসানের রুমে আসলো।রাফসানের মা রুমে এসে রাফসানকে ডাক দিলো।

রোদেলার মাঃরাফসান বাবা শোন।
রাফসান ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে ওর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
রাফসানঃহ্যা মা বলো।
রোদেলার মাঃতোর সাথে কিছু কথা ছিলো।
রাফসান ল্যাপটপ পাশে রেখে ওর মাকে বলে,
রাফসানঃহ্যা বলো এদিকে এসে বসে বলো।
রোদেলার মা বিছানায় গিয়ে বসলেন।
মা বসতেই রাফসান মায়ের কোলে মাথা রাখলো।কতদিন কাজের চাপে মায়ের থেকে আদর খাওয়া হয়না।রাফসানের মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন,

রাফসানের মাঃরাফসান শোন তোর বাবা তোর বিয়ে দিতে চাচ্ছে।তুই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিস।এখন তোর বিয়ের বয়স হয়েছে।তাই তোর বাবা তোকে বিয়ে দিতে চায়।সে জানতে চাচ্ছে তোর কোনো পছন্দ আছে কিনা।থাকলে জানাতে আমারা তাহলে সেখানেই তোর বিয়ে দিতাম।

রাফসান মায়ের কথা মন দিয়ে শুনলো।মায়ের দিকে তাকিয়ে সে বললো,

রাফসানঃআমার কোনো পছন্দ নেই মা।বাবার যেটা ভালো মনে হয় সেটাই করুক।
রাফসানের মাঃআচ্ছা ঠিক আছে।
রাফসানঃমা ৩দিন পর আমি ঢাকা যাচ্ছি।অফিসের কাজে আসবো ১মাস পর।
রাফসানের মাঃতাহলেতো ১মাস পর বিয়ের কথা বার্তা শুরু করি।আর তুই যখন যাচ্ছিস রোদেলাকে সাথে নিয়ে আসিস।মেয়েটাকে কতদিন দেখিনা।
রাফসানঃআচ্ছা ঠিক আছে মা।

রাফসানের মাথায় আরো কিছুক্ষন হাত বুলিয়ে রাফসানের মা চলে গেলেন।আর এদিকে রাফসান ফ্যানের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে বলতে লাগলো,

আমি তোমাকে কি ভালোবাসি।আমি সেটা জানিনা।কিন্তু আজকে বিয়ের কথা শুনে খারাপ লাগছে কেন তোমার জন্য।মনে হচ্ছে তোমার থেকে দুরে সরে যাবো।জানিনা এটা কেন হচ্ছে।

রোদেলারা কলেজ শেষ করে বাসায় চলে আসে।বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নেয়।রোদেলার মাথায় এখনো আদ্রিয়ান ঘুরছে।কেন জানি লোকটাকে দেখার পর থেকে এমন হচ্ছে।রোদেলা বাসায় কল দিয়ে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে।তারপর একটু ঘুমিয়ে নেয়।সন্ধ্যায় রোদেলা পড়তে বসেছে মুন নাস্তা বানাচ্ছে রুবা লেখছে কাশফিয়া মটিতে মাথা রেখে আর খাটে পা উঠিয়ে দিয়ে বই পড়ছে।তখন হঠ্যাৎ ওদের দরজায় কড়া নাড়ে কেউ।রোদেলা উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখে কেউ নেই।দরজার নিচে একটা পার্সেল।রোদেলা পার্সেলটা হাতে নিয়ে আসেপাসে তাকিয়েও কাউকে পেলোনা।রোদেলা পার্সেল নিয়ে রুমে আসলো।রোদেলার হাতে পার্সেল দেখে রুবা,মুন,কাশু অবাক হলো।
রোদেলা পার্সেল নিয়ে খাটে বসলো।

রুবাঃএটা কে দিলো?
রোদেলাঃজানিনা দরজার সামনে কে জানি রেখে গেছে।
কাশুঃখুলে দেখ কি আছে ভিতরে।
মুনঃএভাবে একটা অচেনা পার্সেল খোলা ঠিক হবে?
রোদেলাঃআসছে যখন খুলে দেখি।

রোদেলা পার্সেলটা খুললো।অনেক গুলো জামা, চোকলেট,চুড়ি পার্সেলে।সাথে একটা চিরকুট,,,

“নেশামই এগুলো আমার থেকে তোমাকে কিছু ছোট উপহার।অনেক আগে এগুলো তোমার জন্য কিনেছিলাম।আজ পাঠিয়ে দিলাম।আশা করি তোমার ভালো লাগবে।ভালোবাসি নেশামই।”

চিরকুট পরে রোদেলা অবাক হয়ে যায় সাথে বাকিরাও।

কাশফিয়াঃএ আবার কে এলোরে🙂।
রুবাঃনেশামই👻আহা।
মুনঃতোর কোনো গোপন প্রেমিক।
রোদেলাঃদুর কিসের প্রেমিক।আমিতো জানিইনা এটা কে দিছে।আর এই পার্সেলে না আছে না না আছে ঠিকানা।কিভাবে বুজবো কে দিছে।
মুনঃআচ্ছা চিন্তা করিস না। দেখ এরপর এরকম করে কিনা।তাহলে রাফুকে বলবি।

রোদেলা পার্সেল রেখে আবার পড়তে বসে যায়।আর বাকিরাও নিজেদের কাজে মন দেয়।

রাত,,,৩টা,,,,

আদ্রিয়ানের সুইমিংপুলে বেধে রাখা হয়েছে একজনকে।আদ্রিয়ান তার সামনে দাঁড়ানো।লোকটার চোখে মুখে আতংক।আর আদ্রিয়ানের মুখে বাঁকা হাসি।

আদ্রিয়ানঃকিরে এখন এতো ভয় পাচ্ছিস কেন।আমার জানকে যখন মারতে গেছিলি তখন তো এই ভয় পাসনি।তাহলে এখন ভয় পাচ্ছিস কেন।
লোকটাঃআদ্রিয়ান আমাকে মাফ করে দেন আমার ভুল হয়েগেছে।
আদ্রিয়ান লোকটার কথা শুনে হোহো করে হাসতে লাগলো।তারপর চিল্লিয়ে বললো,

আদ্রিয়ানঃক্ষমা!এই আদ্রিয়ানের ডিকশোনারিতে ক্ষমা নামক শব্দ নেই।আমার কাছে অন্যায়ের শাস্তি একটাই আর সেটা এখোনি দেখবি তুই।

আদ্রিয়ান জনকে ইশারা করতে জন একটা বড় ধারালো চাকু এনে আদ্রিয়ানের হাতে দিলো।লোকটা ভয়ে এভার শেষ।সে বুজে গেছে আজ তার শেষদিন।

আদ্রিয়ানঃএই হাত দিয়েই তো আমার রোদেলাকে ধাক্কা মেরেছিলি তাইনা নে এভার।

বলেই আদ্রিয়ান এক কোপে লোকটার হাত ওর বাহু থেকে আলাদা করে দিলো।আর লোকটা গলা কাঁটা মুরগির মতো ধরফর করতে লাগলো।একে একে কোঁপ দিতে দিয়ে লোকটা পুরা দেহ আলাদা করে দিলো আর সব গুলা খন্ড টুইংকেল আর টাইগারকে খেতে দিলো।

আদ্রিয়ান নিজে নিজে বলতে লাগলো,

আমার নেশামই আমার জীবন।ওর দিকে চোখ তুলে তাকালেও তাকে এভাবে মরতে হবে।আমার নেশামইয়ের দিকে কারো হাত বাড়াতে দেবোনা আমি।খুব শিগ্রই নেশামইকে নিয়ে আসবো নিজের কাছে।
#প্রেমময়_আসক্তি❣️
#পর্ব_৭
#নন্দিনী_চৌধুরী

৭.

আদ্রিয়ান আর আরাভ বসে আছে এয়ারপোর্ট আজকে আরাভের বোন আসছে লন্ডন থেকে।আরাভ আর আরাভের বোন লন্ডনেই থাকে।আরাভের মা বাবা ওরা ছোট থাকতে মারা গেছে।তারপর ওর চাচা ওদের তার লন্ডনে নিয়ে যায়।আরাভ ডাক্তারি পাশ করে ডাক্তার হয়ে দেশে চলে আসে।কিন্তু ওর বোন সেখানের স্কুলে থাকায় সে আসতে পারেনি।কিন্তু এখন তার স্কুল শেষ তাই সে চলে আসছে বাংলাদেশে।আজকে আসছে সে তাই আরাভ আদ্রিয়ান এসেছে তাকে নিতে।আরাভ আর আদ্রিয়ান ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছে।প্লেন কিছুক্ষনের ভিতরে লেন্ড করবে।আধা ঘন্টার ভেতরে প্লেন লেন্ড করলো।আরাভ আদ্রিয়ান অপেক্ষা করছে কখন আরাভের বোন আসবে।কিছুক্ষনের মাঝে একটা ১৭ বছর বয়সি মেয়ে আসলো পরনে তার পিংক টপস হাতে লাকেজ।কাধে ব্যাগ।চোখে চশমা।আরাভ মেয়েটাকে দেখে বলে,

“জুঁই এদিকে”

মেয়েটা আরাভকে দেখে খুশি হয়ে তার কাছে জলদি করে এসেই আরাভকে জরিয়ে ধরে।আরাভ পরম মায়ায় বোনকে জরিয়ে ধরে।এতোদিন পর বোনকে পেয়েছে।জুঁই আরাভকে ছেড়ে এবার আদ্রিয়ানকে জরিয়ে ধরে।আদ্রিয়ানকেও সে তার ভাইয়ের মতো ভালোবাসে।আদ্রিয়ান ও জুঁইকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসে।আদ্রিয়ান আরাভ জুঁইকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো এয়ারপোর্ট থেকে বাড়ির দিকে।

রাফসানরা এসেছে মেয়ে দেখতে আজকে।রাফসান চেয়েছিলো ঢাকা থেকে এসে বিয়ের ব্যাপারে জরাবে। কিন্তু ওর বাবার কথা বিয়ে নাহয় পরে করো কিন্তু মেয়ে দেখতেতো ক্ষতি নেই।তাই আজকে রাফসান,ওর বাবা মা এসেছে মেয়েকে দেখতে।মেয়ে রোদেলার বাবার পছন্দের।রোদেলার বাবার বন্ধুর মেয়ে।মেয়ের নাম রিয়া।রাফসানরা বসে আছে সোফায়।তাদের সামনে অনেক নাস্তা দেওয়া হয়েছে।রিয়ার মা বাবা কথা বলছে রাফসানের মা বাবার সাথে।কিছুক্ষনের মাঝে রিয়াকে নিয়ে আসলো ওর বোন রিফা।রিয়াকে রাফসানের সামনের চেয়ারে বসানো হলো।রাফসান তখনো মাথা নিচু করে আছে।বাবার ডাকে মাথা তুলে মেয়ের দিকে একবার তাকায়।রিয়াও মাথা নিচু করে আছে।ওদের আলাদা কথা বলার জন্য ছাঁদে পাঠানো হলো।বেশ কিছু সময় পর তারা নিচে আসলো।রাফসানের বাবা রাফসানকে জিজ্ঞেশ করলো,

রাফসানের বাবা:রাফসান তোমার কি রিয়াকে পছন্দ হয়েছে?
রাফসান:জ্বী বাবা হয়েছে।কিন্তু আমি বিয়ে এখন না আরো ৪মাস পর করবো।
রাফসানের বাবা:কেন তুমিতো বলেছিলে এক মাস পর এসেই করবে তাহলে এখন ৪মাস কেন?
রাফসান:বাবা রিয়ার সেমিস্টার পরিক্ষা ৪মাস পর সো পরিক্ষার পর বিয়েটা হক।
রাফসানের বাবা:আচ্ছা ঠিক আছে।তাহলে আংটি পরিয়ে যাই আমরা কি বলেন।
রাফসান:ঠিক আছে।

এরপর রিয়া আর রাফসানের আংটি পরানো হলো আর ৪মাস পর বিয়ের তারিখ ঠিক করা হলো।

এদিকে,,,,

রোদেলারা ক্লাস করছে।ক্লাস শেষ করে রোদেলা আর মুন গেছে তাদের প্রেক্টিকাল জমা দিয়ে আসতে আর রুবা গেছে ওয়াশরুমে।কাশফিয়া মাঠে এসে দাঁড়িয়ে আছে তখন এক দল মেয়ে এসে ওকে ঘিরে ধরলো।কাশফিয়া প্রথমে ভয় পেয়ে যায়।মেয়েগুলো মধ্য থেকে একট সাদা শর্ট ড্রেস পরা মেয়ে এগিয়ে এসে কাশফিয়াকে বললো,

নিশি:এইযে মিস চাশমিস।
কাশফিয়া:জ.জ্বী।
নিশি:মিস চাশমিস নিউ তাইনা?
কাশফিয়া:জ্বী।
নিশি:সো নিউ চাশমিস তোমাকে ইদানিং দেখেছি আমার কাউসারের দিকে তাকিয়ে থাকো।লিসেন আমার কাউসারের দিকে যদি নেক্সট তাকাতে দেখি তাহলে খবর আছে তোমার।
কাশফিয়া:আপনার কাউসার মানে?
নিশি:বোকা মেয়ে কাউসার আর আমি বয়ফ্রেন্ড গার্ল্ফ্রেন্ড।আর তুমি আমার বফের দিকে তাকিয়ে থাকো।এটাই না করছি।
কাশফিয়া:জ্বি আপু ঠিক আছে।

নিশি আর বাকি মেয়েরা চলে গেলো।কাশফিয়ার চোখের কোণে পানি জমে গেছে।একদিন কেমন জানি অভ্যাস হয়েগেছিলো কাউসার তার।কিন্তু সেতো অন্য কারো।কাশফিয়া পানিটা মুছে একা একা চলে আসলো হোস্টেলে।

রান্না ঘরে রান্না করছে জুঁই।আজকে ভাইয়দের জন্য নিজ হাতে সব বানাবে সে।আরাভ আদ আদ্রিয়ান বসে আছে সোফায়।দুজনে কফি খাচ্ছে আর কথা বলছে।

আরাভ:তুই কি কিছু ভেবেছিস রোদেলাকে নিয়ে?
আদ্রিয়ান:হুম রোদেলাকে খুজ শিগ্রই আমি বিয়ে করে সিডনি নিয়ে যাবো।
আরাভ:কিন্তু ওর বাবা ভাই কি মানবে?
আদ্রিয়ান:তাদের মানা না মানা নিয়ে আমার কিছু যায় আসেনা।রোদেলাকে সেফ রাখাই আমার আসল কাজ।
আরাভ:আচ্ছা আদ্রিয়ান এগুলো ছেড়েতো দিতে পারিস তাইনা।দেখ আজ তুই একা কিন্তু সামনে রোদেলা তোর জীবনে আসবে।অন্তত ওর কথা ভেবে তো ছাড়তে পারিস।
আদ্রিয়ান:হ্যা ছেড়ে দেবো যেদিন আমি ওই লোকটাকে শেষ করবো।আমি আজ ও ভুলতে পারিনা সেই চিৎকার গুলো।
আরাভ:আমি জানি সব কিন্তু এভাবে কতদিন তুই বল।একবার রোদেলার উপর আক্রমণ হয়ে গেছে এরপর যদি বড় কিছু হয়ে যায়।আল্লাহ না করুক তোর কিছু হলে তখন কি হবে ভেবেছিস।
আদ্রিয়ান:আমি সব ব্যাবস্থা করে রেখেছি।তুই চিন্তা করিস না অহেতুক।

আরাভ আর কোনো কথা বলেনা আদ্রিয়ানকে।বেশকিছুক্ষন পর জুঁই ওদের খাবার খেতে ডাকলো।দুইজনে খাবার খেতে চলে গেলো।

রোদেলা,মুন,রুবা হোস্টেলে এসে দেখে কাশফিয়া শুয়ে আছে খাটে।রুবা এসে কাশফিয়াকে একটা বারি মারে ব্যাগ দিয়ে আর বলে,

রুবা:চুড়েল তুই আমাদের না বলে একা একা আসছস কেন জানস তোরে পুরা কলেজ চুষে বেরিয়েছি আমরা😾।
মুন:কিরে তুই বলতো আমাদের জানিয়ে আসতেতো পারতি জানিস আমরা কত ভয় পাইছিলাম।
রোদেলা:আরে থাম তোরা দুইজনে এক সাথে শুরু করছিস কেন।

রোদেলা গিয়ে কাশফিয়ার মাথার কাছে বসলো কাশফিয়ার গায়ে হাত দিতেই দেখে ওর গায়ে জ্বর।

রোদেলা:আল্লাহ ওর গাঁ দেখি জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
মুন:সেকি দাঁড়া আমি জল পট্টি দেওয়ার ব্যাবস্থা করছি।
মুন:ভালো মেয়েটার কলেজে গেলো এই জ্বর হঠ্যাৎ আসলো কেন।

মুন একটা বাটিতে করে পানি আর কাপড় নিয়ে আসলো।রোদেলা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ভালো মতো নিংড়িয়ে সেটা কাশফিয়ার কপালে রাখলো।

তারপর তিনজনে ফ্রেশ হয়ে নিলো।রুবা ফ্রেশ হয়ে কাশফিয়ার পাশে এসে বসলো আর ওকে একটু পর পর পট্টি ভিজিয়ে দিতে লাগলো।রোদেলা আর মুন মিলে রান্না করতে গেলো।

লিজা আজকে আবার এসেছে আদ্রিয়ানের কাছে।আদ্রিয়ান বিকালে আরাভের বাসা থেকে অফিসে আসছে।এসে দেখে লিজা এখানে।লিজা আদ্রিয়ানকে দেখে ওর কাছে এগিয়ে এসে ওকে জরিয়ে ধরতে নিলে আদ্রিয়ান সরে যায়।লিজার এতে বেশ অপমানবোধ হয়।আদ্রিয়ান নিজের গায়ের কোর্ট খুলে চেয়ারে বসতে বসতে লিজাকে বলে,

আদ্রিয়ান:তুমি এখানে?
লিজা:হ্যা তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম।
আদ্রিয়ান:হেয়ালি ছেড়ে বলো কেনো এসেছো?
লিজা:আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই আদ্রিয়ান।

আদ্রিয়ান বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায় আর বলে,

আদ্রিয়ান:What!!!Are You Made.
লিজা:হ্যা আদ্রিয়ান।প্লিজ তুমি আমাকে বিয়ে করো আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।কেন সেটা বুজোনা।প্লিজ আই লাভ ইউ।আই মেরি ইউ।
আদ্রিয়ান:আমি তোমাকে আগেও বলেছি আমি তোমাকে ভালোবাসিনা।আমি রোদেলাকে ভালোবাসি আর ওকে বিয়ে করবো।ফারদার তুমি যদি আর একদিন এখানে এসে এসব বলেছে সো ইউ নো আমার টুইংকেল টাইগারের পেটে যেতে ৫মিনিট লাগবেনা তোমার আর ভাবতেও ৫মিনিট লাগবেনা।সো নাউ লিভ।

লিজা আদ্রিয়ানের কথা শুনে ভয়ে রাগে বেরিয়ে আসলো।তবে যেটা জানার সে জেনে নিয়েছে।

রাতে,,,,,

কাশফিয়ার জ্বর কিছুটা কমেছে।ওকে কিছু খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দিয়েছে রোদেলা।রোদেলা হাতের কিছু কাজ করছিলো।মুন কেক বানাচ্ছে ওর নাকি কেক খেতে মন চাচ্ছে তাই।রুবা বসে বসে চুল বাধঁছে।

রোদেলার কাজের মাঝে কল আসলো ওর ফোনে।

রাফসান কল দিয়েছে রোদেলাকে।রোদেলা হাতের কাজটা রেখে কল রিসিভ করলো।

রোদেলা:আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
রাফসান:ওয়ালাইকুমুস সালাম।কেমন আছিস।
রোদেলা:হ্যা আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া তুমি কেমন আছো?
রাফসান:আমিও আলহামদুলিল্লাহ।
রোদেলা:আম্মু বাবা কেমন আছে?
রাফসান:হ্যা আলহামদুলিল্লাহ।কি করছিস?
রোদেলা:এইতো একটু কাজ করছিলাম।তুমি?
রাফসান:হ্যা আমি বসে।আমি আগামিকাল ঢাকা আসছি।
রোদেলা:সত্যি।ওয়াও তাহলেতো ভালোই হবে।
রাফসান:হ্যা।আমি ঢাকায় একটা ফ্লাট নিয়েছি।তোরা ওখানে থাকবি হোস্টেলে আর থাকতে হবেনা।
রোদেলা:ওহ আচ্ছা
রাফসান:আরেকটা কথা।
রোদেলা:কি?
রাফসান:বিয়ে ঠিক করছে বাবা আমার।আমিও অমত করিনি।রাজী হয়ে গেছি।কাল এসে তোকে মেয়ের ছবি দেখাবো।

রাফসানের এই কথাটা শুনে রোদেলা চমকে গেলো জোরে বললো,

রোদেলা:কিহ!!!তুমি বিয়েতে রাজী হয়েছো।
রাফসান:হ্যা।আচ্ছা আমি রাখি এখন একটু কাজ করবো।

রাফসান ফোন রাখতেই রোদেলা ধপ করে বসে পরে এভার সে মুনকে কি বলবে কিভাবে বলবে এই কথা।রুবা রোদেলা এভাবে দেখে ওর কাছে আসলো।

রুবা:কি হয়ছে রোদু?
রোদেলা:ভাইয়ার বিয়ে ঠিক করছে বাবা।আর ভাইয়াও বিয়েতে রাজী।
রুবা:কিহ!!!

ওদের কথার মাঝেই কিছু পরার আওয়াজ পেলো ওরা।সামনে তাকিয়ে দেখে মুন দাঁড়ানো ওর হাতের কেক মাটিতে পরে গেছে।ওর চোখে পানি।মুন বিড়বীড় করে বলছে,

“এটা হতে পারেনা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here