প্রেমময় আসক্তি ২ পর্ব ২+৩

#প্রেমময়_আসক্তি_২ ❣️
#পর্ব_২
#নন্দিনী_চৌধুরী

২.

নীলাদ্র গান শেষ করে আবার সো শুরু করলো। এভার সবার কুইজের উত্তর গুলো দেখবে সে।

নীলাদ্র: ওকে আমরা আমাদের কুইজের উত্তর গুলো পেয়েছি যার মধ্য আমরা ৩টা উত্তর পেয়েছি সঠিক। আর এই ৩টা উত্তরের মাঝে একটা উত্তর একদম অন্য রকম ভাবে একজন দিয়েছে। আর এই উত্তরের মাধ্যম্যে আজকের কুইজের বিজয়ী সে। সবার আগে আমি আপনাদের তার উত্তরটা বলবো।

তো আগে বলি কুইজে ৩য় যে হয়েছে সে হলো,

মিরপুর থেকে ইশা। তার উত্তর ছিলো ভালোবাসলে ভালোবাসার মানুশকে ভরসা ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে হয়।

২য় হয়েছেন ভোলা থেকে ইমন। তার উত্তর ছিলো ভালোবাসার মানুষকে শাশন ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে হয়।

১ম বিজয়ী যে আমাদের আজকের কুইজের সে হলো ঢাকা থেকে রোদেলা। তার উত্তর ছিলো,,ভালোবাসার মানুষকে বিশ্বাস, ভরসা, শাশন, ভালোবাসা সব দিয়ে আগলে রাখতে হবে। এই ৪টি জিনিশের মাঝে একটি বাদ দেওয়া যাবেনা। একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মুল এই ৪টা জিনিশ। ভালোবাসাকে আগলে রাখতে হলে এই ৪টা জিনিশ মাথায় রাখতে হবে। তাই ভালোবাসার মানুষকে আগলে রাখতে হলে এই ৪টি জিনিশ দিয়েই আগলে রাখতে হবে।

আসলে তার উত্তরটি আমার অনেক ভালোলেগেছে। আমি এরকম একটা আনকোমন উত্তর চাচ্ছিলাম। আমদের আজকের কুইজের বিয়জী উনি। যদিও তার নাম্বার দেননি তিনি যে কল করবো। তবুও আপনাকে অভিনন্দন মিস রোদেলা।

চলুন এবার তাহলে একটা ভালোবাসার গান শুনে তারপর ফিরে আসি।

রোদেলা কান থেকে হেডফোনটা খুলে রেখে দিলো। সে উত্তরে যা লিখেছে বাস্তবে সে কি সেটা করতে পেরেছে। তার কি উচিত ছিলো আদ্রিয়ানকে একবার নিজের দিকে বলার সুযোগ দেওয়ার। কিন্তু সেতো দেয়নি। রোদেলা আসতে করে উঠে আলমারির থেকে আদ্রিয়ানের ছবিটা এনে বুকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো।

সকালে,,,,
নীলাদ্রের বাবা সোফায় বসে চা খাচ্ছে। মিসেস খান এসে তার পাশে এসে বসলো।

মিসেস খান: শুনো।
মিস্টার খান: হ্যাঁ বলো।
মিসেস খান: আজকে কিন্তু বাড়িতে কিছু স্পেসাল মানুষ আসছে।
মিস্টার খান: কারা?
মিসেস খান: তুমি ভুলে গেছো?
মিস্টার খান কিছুক্ষন চুপ করে ভাবতে লাগলেন তারপর চিৎকার করে বললেন,
মিস্টার খান: ও মাই গড আমি একদম ভুলে গেছিলাম। আজকে আরিয়ানরা আসছে। শেম ওফ মি। আমি কিভাবে ভুলতে পারি এটা।
মিসেস খান: আচ্ছা বাবা বুঝলাম। তা ওদের রিসিভ করতে যাবেনা?
মিস্টার খান: হ্যাঁ আমি ও নীলাদ্র যাবো।
মিসেস খান: আচ্ছা যেও তাহলে।
মিস্টার খান: হ্যাঁ। তুমি ওদের জন্য রেডি করে রেখো সব কিছু।
মিসেস খান: আচ্ছা ঠিক আছে।

বিকালে,,,,,
নীলাদ্র আর ওর বাবা এসেছে এয়ারপোর্টে। তারা অপেক্ষা করছে তাদের কাংখিত মানুষগুলোর জন্য। কিছু সময়ের মাঝে নীলাদ্র ওর বাবাকে বললো,

নীলাদ্র: ড্যাড ওইযে।

নীলাদ্রের বাবা তাকালো সামনে। একজন তার বয়সী লোক সাথে একজন মহিলা আর তাদের পিছনে আসছে একটা ছেলে। ব্লাক কালারের শার্ট পরা যার উপরের দুটো বোতাম খুলা। চোখে কালো সানগ্লাস, হাতে কালো ঘড়ি পরা। নীলাদ্র তাকে দেখেই তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে জরিয়ে ধরে খুশি হয়ে বলে,

নীলাদ্র: ভাই আই মিস ইউ।
ছেলেটা নীলাদ্রকে জরিয়ে ধরে বলে,
ছেলেটা: আই মিস অউ টু।

মিস্টার খান তাদের দিকে এগিয়ে এসে মিস্টার হাসানকে জরিয়ে ধরলেন।

মিস্টার হাসান: আরিয়ান তুমি আর নীলাদ্র কি আলাদা আসবে?
আরিয়ান: ইয়াহ বাবা। আমি নীল এখন একটু ঘুরবো তারপর বাসায় যাবো।
মিস্টার খান: আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে আমরা এগোলাম।
আরিয়ান: ওকে চাচ্চু।
মিস্টার হাসান আর মিস্টার খান চলে আসলেন।
নীলাদ্র: ব্রো কই যাবা বলো।
আরিয়ান: উম চল যাবো একটা জায়গায়।
নীলাদ্র: ওকে।

আরিয়ান আর নীলাদ্র গাড়িতে উঠে আর বেরিয়ে পরে।

আবরার হাসান আরিয়ান। মিস্টার হাসানের এক মাত্র ছেলে। একজন নাম করা সিংগার। দেশ বিদেশের সবাই তাকে চেনে। আরিয়ানের বাবা আর নীলাদ্রের বাবা দুইজন ভাই। নীলাদ্রের বাবার এতো সাকসেসের পিছনে আরিয়ানের বাবার অনেক অবদান আছে। আরিয়ান আর নীলাদ্র ৩ বছরের ছোট। তবে দুইজনের অনেক ভাব। একদম আপনা ভাইয়ের মতো দুইজন দুইজনের সাথে থাকে।

______________________________

রোদেলার জন্য একটা মেয়েকে আনা হয়েছে। মেয়েটার নাম হলো রাত। মেয়েটা একদম নিজ ইচ্ছায় রোদেলার জন্য এসেছে। রাফসান একবার বলায় রাজী হয়ে যায় মেয়েটা। রাফসান রাতকে নিয়ে রোদেলার রুমে আসে। রোদেলা তখন ঘুমিয়ে আছে। রাফসান রাতকে সব বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসে। রাত রোদেলার পাশে এসে বসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর মনে মনে বলে,,

রাত: কোথায় এই সময় স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার কথা। তা না কি হয়ে গেলো মেয়েটার জীবনে।

রুবা বাসায় আরাভের কথা জানিয়েছে। রুবার বাবা অমত করেছেন এতে। তিনি রুবার বিয়ে অন্য কোথাও দেবেন। তিনি বলেছেন আরাভকে ভুলে যেতে। রুবা এখন এই চিন্তায় কিছু ঠিক করতে পারছেনা। রুবা আরাভের সাথেও কথা বলছেনা দুইদিন ধরে। আরাভ কল দিলে কল ধরছেনা। রুবা বুঝতে পারছেনা সে কি করবে।

আরিয়ান আর নীলাদ্র কিছু জায়গা ঘুরে বাসায় আসলো। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর খাবার খেয়ে নেয় দুইজনে। নীলাদ্র রেডি হচ্ছে রেডিও স্টেশনে যাওয়ার জন্য। তখন রুমে নন্দিনী আসে।

নন্দিনী: এই লাভ স্টেশন করে কি লাভ যদি নিজে রুমান্টিক না হতে পারো।
নীলাদ্র: মানে?🙄
নন্দিনী: মানে বাসায় যে আমি আছি তাতো চোখেই লাগেনা।
নীলাদ্র এভার নন্দিনীর দিকে ঘুরে ওর কোমরে হাত রেখে ওকে কাছে টেনে নিলো। নন্দিনী লজ্জায় লাল হয়ে যায়। নীলাদ্র নন্দিনীর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

নীলাদ্র: আর তো কয়েকটা দিন। তারপর তো আপনি মেডাম আমার সাথে বন্ধি হয়ে যাবেন। তখন পালানোর জায়গা পাবেননা।
নন্দিনী নীলাদ্রের কথায় অনেক লজ্জায় পায় তাড়াতাড়ি নিজেকে নীলাদ্রের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। তারপর নীলাদ্রকে ভেংচি কেটে বেরিয়ে আসে ওর রুম থেকে। নীলাদ্র তা দেখে হেঁসে দেয়।

______________________

আরিয়ান সোফায় বসে আছে। নীলাদ্রকে বের হতে দেখে আরিয়ান ওকে বলে,

আরিয়ান: কই যাচ্ছিস?
নীলাদ্র: রেডিও স্টেশন। ১২টায় সো আছে।
আরিয়ান: আমিও যাবো তোর সাথে।
নীলাদ্র: Wow Great. তুমি গেলেতো ভালো হবে। তুমি আমার আজকের সো এর স্পেসাল অথিতি হয়ে যাবে।
আরিয়ান: আচ্ছা চল।

নীলাদ্র আরিয়ানকে নিয়ে বেরিয়ে আসলো। আরিয়ান একটা হুডিওয়ালা জ্যাকেট মাস্ক সানগ্লাস পরেছে। আরিয়ান দেশে আসছে এটা সব টিভি নিউজে ইতিমধ্য প্রচার হয়ে গেছে। তাই সে এখন কারো সামনে পরতে চাচ্ছেনা। নীলাদ্র আর আরিয়ান রেডিও স্টেশনে চলে আসলো। নীলাদ্র তার সো রুমে আরিয়ানকে নিয়ে আসলো। তারপর শুরু করলো তার সো।

নীলাদ্র: Hello Everyone. চলে আসলাম আজকে আবার তবে আজকে আমি একা না। আজকে আমাদের এই Love To Heart Connection সো তে একজন বিষেশ অতিথি আছে। যার গানের জন্য সবাই পাগল। Yes The On And Only Abrar Hasan Ariyan. আজকে আমাদের সো এর অতিথি। সো মিস্টার আরিয়ান ওয়েলকাম টু মাই সো।

আরিয়ান: ধন্যবাদ। আমার এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।

রোদেলা আরিয়ানের নাম আর গলা শুনে চমকে যায়। তবুও সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সো শুনতে থাকে।

নীলাদ্র: ওকে সো আজকে আমরা আমাদের সো শুরু করবো আপনার একটা গান দিয়ে।
আরিয়ান: ওকে।

নীলাদ্র একটা গিটার এগিয়ে দিলো আরিয়ানের দিকে। আরিয়ান চোখ বন্ধ করে গান শুরু করলো।

“বিষাদের দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে”
“চাঁদ নামেনি এখনো প্রানহীন সন্ধ্যাতারা ফুঁটেছে”
“ইচ্ছে স্বপ্ন মিশে গেছে আঁধারে ”
“তোমার চলে যাওয়া বদলে দিয়েছে আমাকে”
“অহেতুক তুমি ছুঁটেছো”
” মিঠি সস্তি খুঁজেছো”
“তোমার আমার ব্যাবধান এখনো সর্বোচ্চ ”
“আয়নায় চেয়ে দেখো চোখ কি বলে”
“ঠোঁটে হাঁসি নেই তোমার ”
“আমি আজ নেই বলে”

আরিয়ান গানটা শেষ করে চোখ খুললো। নীলাদ্র তারপর আরেকটা গান বাজালো।

রোদেলা আরিয়ানের গান শুনে চুপ হয়ে গেছে। গানের প্রতিটা লাইনে যেনো আরিয়ান কোনো চাঁপা কষ্ট অনুভব করাচ্ছিলো।

সো শেষ করে আরিয়ান আর নীলাদ্র ক্লাবে গেলো।

রাত রোদেলা কিছু খাইয়ে ঘুম পারালো।

সকালে,,,,,

আরিয়ানের আজকে একটা গানের কনসার্ট আছে। ওর ম্যানেজার ওকে জানাইয়েছে সকালে। বিকালে কনসার্ট আছে। আরিয়ান ফোনে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে ব্রেকফাস্ট করতে নিচে যায়।
#প্রেমময়_আসক্তি_২❣️
#পর্ব_৩
#নন্দিনী_চৌধুরী

৩.

আরিয়ান বিকালে গানের কনসার্টে গিয়ে সেখানে সো করে সন্ধ্যায় বাসায় আসলো। বাসায় এসে নীলাদ্রের সাথে কিছু সময় আড্ডা দিলো। আরিয়ান আর নীলাদ্ররা প্ল্যান করেছে তারা বান্দরবন যাবে ঘুরতে। আরিয়ানের অনেক নাকি পাহাড় দেখার ইচ্ছা। তাই সবাই মিলে দিন ঠিক করছে কবে যাওয়া যায়। আরিয়ান নিচ থেকে আড্ডা দিয়ে রুমে এসে ফোন বের করে একজনকে কল দিলো,,,,

আরিয়ান:হ্যা সব ঠিক আছে।

……………

আরিয়ান:ঠিক আছে খেয়াল রেখো।

আরিয়ান ফোন কেঁটে বারান্দায় চলে গেলো।

এদিকে,,,,

রাত রোদেলার জন্য আচাড় বানিয়েছে। রোদেলা আচাড় খাচ্ছে আর রাত ওর মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। মুন রোদেলার জন্য ফল আর দুধ নিয়ে রুমে আসলো। রাতকে রোদেলার এতো সেবা করতে দেখে মুনের অনেক ভালো লাগছে। মুন রোদেলার পাশে বসে রোদেলাকে বললো,

মুন:রোদেলা নে এই ফল আর দুধটা খেয়ে নে।
রোদেলা:উহুম দুধ গন্ধ লাগে।
মুন:গন্ধ লাগলেও তোকে খেতে হবে।
মুন জোর করে রোদেলাকে দুধ আর ফল খাইয়ে দিলো। তারপর চলে গেলো রান্না ঘরে। রাত রোদেলাকে গল্প শুনাচ্ছে আর চুলে বেনি করে দিচ্ছে।

রাতে সবাই একসাথে খাবার খাওয়ার পর। যে যার যার রুমে চলে গেলো। মুন রুমে এসে দেখে রাফসান কি জানি চিন্তা করছে। মুন রাফসানের পাশে বসে ওর কাঁধে হাত রেখে বললো,

মুন:কি ভাবছো?
রাফসান:না তেমন কিছুনা। আসলে অফিসের একটা কাজের জন্য আমাকে ১মাসের জন্য বান্দরবন যেতে হবে। এখন আমি চলে গেলে তোমাদের সাথে থাকবে কে। তাই ভাবছিলাম তোমাদের সাথে নিয়েই যাবো।
মুন:হ্যা সেটা খারাপ হয়না। তোমার ইচ্ছা এটা।
রাফসান:হুম।
মুন:আচ্ছা চলো আজকে গল্প করি।
রাফসান:আচ্ছা🥰।

তারপর মুন রাফসানের কাঁধে মাথা রেখে গল্প করতে লাগলো।

__________________________

রোদেলার ঘুমের মাঝে মনে হচ্ছে কেউ ওর হালকা ফুলে উঠা পেটের উপর চুমু খাচ্ছে। রোদেলার ঘুমের মাঝে এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছে। রোদেলা চোখ খুলে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। আদ্রিয়ান তার পেটের উপর চুমু খাচ্ছে। রোদেলা অবাক হয়ে বলে,

রোদেলা:আদ্রিয়ান আপনি?
আদ্রিয়ান রোদেলার দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলে,
আদ্রিয়ান:হ্যা আমি। কেন আমাকে দেখে তুমি খুশি হলে না নেশামই।
রোদেলা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। পাশে থাকা রাতকে ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু রাত উঠছেনা। রোদেলা আসতে করে নিজের হাতে চিমটি কাটলো না সেতো স্বপ্ন দেখছেনা। আদ্রিয়ান আসলেই তার সামনে। রোদেলা আবার বলে,
রোদেলা:আপনি এখানে কিভাবে আসলেন।
আদ্রিয়ান:আসলাম কোনো ভাবে। কিন্তু তোমার এই অবস্থা কেন হুম। আমার বেবি গুলার এতো অযত্ন করছো কেন হুম। ঠিক মতো খাও না ঘুমাও না দেখছো চোখের নিচে কালো দাগ পরেগেছে শরীল কই এখন গুলুমুলু হবে তা না পাটকাঁঠি হয়ে যাচ্ছো আরো। এভাবে চললে আমার বেবি গুলাতো কষ্ট পাবে।

রোদেলা শোয়া থেকে উঠে বসলো। আদ্রিয়ান আবার ওর পেটের কাছে মুখ নিয়ে সেখানে আদরে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে। রোদেলার দুই চোখ বেয়ে পানি পরছে। সে চাইলেও কিছু বলতে পারছেনা। আদ্রিয়ান রোদেলার পেটে মুখ গুঁজে রেখেই বলে,,,

আদ্রিয়ান:আমাকে তুমি নিজের হাতে মেরে ফেললেতো ঠিকি, কিন্তু দেখো আজ সেই আমার অংশকেই নিজের মাঝে জায়গা দিয়েছো। তাকে নিজের ভেতরে একটু একটু করে বড় করছো। আমার অস্তিতদের মাঝেই আমাকে অনুভব করো তাইনা রোদেলা।
রোদেলা:……….
আদ্রিয়ান:আচ্ছা রোদেলা একবার কি আমার কথা শোনা যেতোনা। একবার আমার কথা শুনতে আমাকে একবার বলার সুযোগ দিতে। তারপর নাহয় আমাকে শাস্তি দিতে। কিন্তু না তুমি আমাকে অবিশ্বাস করলে। আজ তোমার জন্য আমি আমার বেবিদের থেকে দূরে। আমি তোমাকে কোনোদিন মাফ করবোনা কোনোদিন না।

রোদেলা আদ্রিয়ানকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই চারপাশটা ধোঁয়া হয়ে গেলো। রোদেলা কিছু দেখতে পাচ্ছেনা ধোঁয়ায়। আদ্রিয়ান ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেলো আর রোদেলা ধোঁয়ায় জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।

~সকালে~

রাতের ডাকে ঘুম ভাঙলো রোদেলার। রোদেলা আশে পাশে ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখে কাল রাতের কথা মনে পরে যায়। সাথে সাথে সে রাতকে বলে,

রোদেলা:রাত জানিস কাল আদ্রিয়ান আসছিলো আমাদের রুমে।
রাত:এহ! কি বলো আপু। আদ্রিয়ান আসবে কোথা থেকে।
রোদেলা:আমি সত্যি বলছি আদ্রিয়ান এসেছিলো এই রুমে।
রাত:আরে কি বলো। তুমি ভাইয়াকে নিয়ে বেশি ভাবো তাই স্বপ্ন দেখছো। মৃত মানুষ কোনোদিন আসে শুনছো।
রোদেলা:না আমি স্বপ্ন না সত্যি দেখেছি। আমি তোকে ডাক দিছি তুই উঠিস নাই।
রাত:তুমি আমাকে কই ডাক দিলা। আমি ডাক দিলে উঠিনা এমন হইছে কোনোদিন। আমি বলছিতো তুমি স্বপ্ন দেখছো। নেও উঠো মুখ হাত ধুঁয়ে নেও এরপর নাস্তা করবা।

রোদেলা আর কথা বাড়ায় না। সে বুঝতে পারছে রাত তার কথা বিশ্বাস করবেনা। রোদেলা উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর নাস্তা করতে নিচে যায়।

_______________________________

আশরাফ আর লিজা বসে আছে পাশাপাশি। হাতে তাদের মদের গ্লাস। লিজা গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে আর আশরাফকে বলছে,,

লিজা:এটাকি সত্যি যে আদ্রিয়ান বেঁচে আছে?
আশরাফ:আমি কিভাবে জানবো। আমাকে তো আমার ছেলেদের মধ্য একজন জানালো। কোন এক কনসার্টে ওরা আদ্রিয়ানকে দেখছে।
লিজা:ওরা মিথ্যা তো আর বলেনাই সিওর। আমার মনে হয় আমাদের খোঁজ নেওয়া দরকার।
আশরাফ:হ্যা আমি খোঁজ নেওয়ার জন্য লোক লাগিয়ে দিয়েছি।
লিজা:হ্যা কোনো রিস্ক নেওয়া যাবেনা।
আশরাফ’চিন্তা করোনা।

আশরাফ আর লিজা বিয়ে করে নিয়েছে। হ্যা সেইদিন লিজাকে যখন ওর ভাই পালাতে সাহায্য করেছিলো তখন আশরাফ লিজাকে পেয়েছিলো। তারপর আশরাফ লিজাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে। তারপর দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে আদ্রিয়ানকে সরানো যায়। এরপর আশরাফ আর লিজা মিলে আদ্রিয়ান আর রোদেলা বিরুদ্ধে এক কঠিন সরযন্ত্র করে। যা ফল রোদেলা আদ্রিয়ানকে বিশ্বাস না করে আদ্রিয়ানকে মেরে ফেলে। এরপর আশরাফ আর লিজা বিয়ে করে নেয়। লিজাও বুঝে যায় আশরাফের মতো সেফ জায়গা আর কোথাও নেই। তার উপর আশরাফ এতো ধনী।

-অন্যদিকে-

রুবা আজকে কলেজে আসছে। কলেজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার জন্য বের হতেই দেখে আরাভ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রুবা দেখেও না দেখার মতো করে চলে যেতে নিলে আরাভ এসে ওকে টেনে গাড়িতে নিয়ে বসায়।

আরাভ:চুপ!একদম লাফালাফি করবান। এই মেয়ে এই আমি যে তোরে এই তিনদিন এতোগুলা ফোন ম্যাসেজ দিছি তার কোনো রিপ্লাই দেস নাই কেন তুই। ওই তোর কি আমাকে মানুষ মনে হয়না। আমাকে পাগল মনে হয় তোর। সমস্যা কি তোর বল?

রুবা:আপনি আমাকে ভুলে যান আরাভ। আমাদের এই সম্পর্ক আর না আগানোই ভালো।

আরাভ:মানে?
রুবা:আমি আর আপনার সাথে এই সম্পর্ক রাখতে চাইনা।
আরাভ:কেনো?
রুবা:এমনি আমার আপনাকে ভালো লাগেনা।
আরাভ:মজা মনে হয় তোর কাছে সম্পর্কটা যে তুই বললি আর আমি তোকে ছাড়লাম। তোর কি মনে হয় এই আরাভের জন্য অনেক মেয়ে পাগল কিন্তু এই আরাভ তাদের না তোকে ভালোবাসছে। আর তুই এখন বলছিস তোর আমাকে ভালোলাগেনা। এই সম্পর্ক আর না আগাই।
রুবা:হ্যা আমার আপনাকে ভালো লাগেনা। আমি আপনার সাথে রিলেশন রাখতে চাইনা।
আরাভ:ঠিক আছে যা তুই মুক্ত। আজ থেকে আমি আর তোকে আমার মুখ দেখাবোনা। বের হো গাড়ি থেকে।

রুবা আসতে করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। আরাভ রুবার দিকে না তাকিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। রুবা আরাভের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

রুবা:আমাকে ক্ষমা করবেন আরাভ। সত্যিটা আমি আপনাকে বলতে পারলাম না। আমি চাই আপনি আমাকে ঘৃণা করুন। আমাকে মাফ করবেন পারলে।

রুবা কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসে।

______________________

মিস্টার হাসান:আমি একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
মিস্টার খান:হ্যা ভাইয়া বলো।
মিস্টার হাসান:আমি আরিয়ানের বিয়ে দিতে চাই।
মিস্টার খান:এটাতো ভালো কথা। তা মেয়ে দেখেছো?
মিস্টার হাসান:হ্যা মেয়ে আমার পছন্দ আছে। আর আমার মনে হয় আরিয়ানের ও তাকে পছন্দ।
মিস্টার খান:কে সে?
মিস্টার হাসান:আরিয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড রুহি।
মিস্টার খান:বাহ্। তা মেয়েটা কোথায় থাকে?
মিস্টার হাসান:আমি আজকে ওকে আসতে বলেছি। এই শহরেই থাকে মেয়েটা।
মিস্টার খান:কখন আসবে?
মিস্টার হাসান:এই এলো বলে।

তাদের কথার মাঝে একটা মেয়ে আসলো বাসায়। মিস্টার হাসান মেয়েটাকে দেখে হাস্যউজ্জ্বল মুখে বললো,

“আরে রুহি মামনি এসো এসো। ”

#চলবে
#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here