ভালোবাসার প্রজাপতি পর্ব -২৫+২৬

#ভালোবাসার_প্রজাপতি
#পর্বঃ২৫
#মাহিয়া_মুন (লেখনীতে)

মেহেন্দি হে রাচনে ওয়ালি
………….হাতো মে ক্যাহরিলালি
কাহি সাখীয়া , আব গালিয়া
…………. হাতো মে খিলনে ওয়ালি হে
তেরে মানকো ____জীবানকো
………..নেয়ি সুখিয়া মিলনে ওয়ালি হে
……………………………………………….

গানের তালে তালে নেচে যাচ্ছে মেঘা সহ আদ্রিজের কিছুসংখ্যক কাজিন।
এই সন্ধ্যায় চৌধুরী পরিবার আনন্দে মেতে উঠেছে। পুরো চৌধুরী বাড়ি বিয়ে বাড়ীতে রুপ নিয়েছে। আত্মীয় স্বজনে ভরপুর হয়ে আছে।
নিহা এবং আদ্রিজের হাতে মেহেন্দি পড়ানো হচ্ছে। আজ আদ্রিজ এবং নিহার মেহেন্দি অনুষ্ঠান।
নিহা চারদিকে তাকাচ্ছে। এতো আনন্দ আয়োজনের মধ্যেও তার মন ভীষণ খারাপ হয়ে আছে। যেভাবেই হোক তার বিয়ে হচ্ছে। আর জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ও তাঁর মা ভাই কেউই তার কাছে নেই। ভাগ্য বুঝি একেই বলে।
কারো ডাকে নিহা সামনে তাকালো।
“ম্যাম, হাতে কি নাম লিখবো?”
নিহা আনমনে আদ্রিজের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে গেল। লোকটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
নিহা তাকাতেই আদ্রিজ হেসে চোখ টিপ মারলো। নিহা দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল। এই লোকটার লজ্জার ল ও নেই। নিহা না চাইতেও পুনরায় আদ্রিজের দিকে তাকালো। লোকটাকে আজ যেন একটু বেশিই সুন্দর সুন্দর দেখাচ্ছে।
আদ্রিজ এবং সে একই কালারের ড্রেস পড়েছে।
আদ্রিজ সবুজ পাঞ্জাবি, আর নিহা সবুজ লেহেঙ্গা শাড়ী। দুজনকেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
আদ্রিজ চোখ ইশারায় বুঝালো,
“এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন?”
নিহা মাথা নেড়ে কিছুনা বুঝালো।
“ম্যাম, নামটা বলুন।”
নিহা হালকা হেসে বলে উঠলো,
“আদ্রিজ।”
নিহা হাতের দিকে তাকালো। মেহেন্দি পড়ানো শেষ।
আনমনে আবারো সামনে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে গেল তার। অ্যাসিসটেন্ট ঊর্মিকে এইখানে দেখে কিছুটা অবাক হলো।
ঊর্মি ও তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। নিহা তাকাতেই ইশারায় বললো,
“ম্যাম, আপনার ফোনটা তুলুন।”
নিহা হাতের দিকে তাকিয়ে বুঝালো,
“আমার হাতে মেহেন্দি। এইখান থেকে যেতে পারবনা। তুমি ইশারায় কন্টিনিউ করো।”
ঊর্মি পূনরায় বুঝালো,
“ম্যাম, নিহান স্যার দেশে এসেছেন আপনার বিয়ের খবর শুনে।”
নিহার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। অবাক হয়ে বুঝালো,
“কিভাবে জানলো?”
“ম্যাম আমি জানিনা। স্যার আমায় ফোনে চৌধুরী বাড়ীর ঠিকানা জানতে চাইলো।”
“তুমি ঠিকানা দিয়েছো?”
“নাহ্।”
নিহা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
“ওকে। আমি রূমে যাচ্ছি। তুমি সাধারণ ভাবেই আমায় ফলো করে আসো যাতে কেউ বুঝতে না পারে।”
এই বলে নিহা সেখান থেকে ঊঠে গেল।
অনুপমা চৌধুরী নিহাকে ঊঠতে দেখে বলে উঠলেন,
“আরেহ নিহা কোথায় যাচ্ছো?”
“আন্টি আসলে ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে। তাই ভাবলাম ওষুধ খেয়ে আসি।”
“তুমি বসো আমি কাউকে দিয়ে আনিয়ে দিচ্ছি।”
“নাহ্ নাহ্ আন্টি আমিই যাচ্ছি। সবাই আনন্দ করছে করুক।”
এই বলে নিহা অনুপমা চৌধুরীকে কিছু বলতে না দিয়ে দ্রুত উপরে চলে গেল।
আদ্রিজের রূমে উর্মিকে নিয়ে ঢুকে দ্রুত দরজা আটকে দিল।
সামনে তাকাতেই পূনরায় অবাক হয়ে গেল। চোখ বড় বড় করে উর্মির দিকে তাকালো।
ঊর্মি কানে হাত দিয়ে বলে উঠলো,
“তিন সত্যি ম্যাম। আমি কিছু জানিনা।”
নিহা আবারো সামনে তাকালো। ইনোসেন্ট ফেস করে বলে উঠলো,
“মিস্টার নিহান খান।”
মিস্টার নিহান খান। বয়স কম হলেও ছয় ফুট উচ্চতার সুদর্শন এই ছেলে যে কারো নজর কাড়তে সক্ষম। নিহার মতোই টানা টানা মায়াবী চোখ। যদিও নিহা শ্যাম বর্ণের তবে নিহানের গাঁয়ের রং ফর্সা। চাপ দাড়িতে যেন ছেলেটাকে যেন বয়সের তুলনায় অনেকটাই বড় বড় লাগছে।
নিহান কঠিন চোখে নিহার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে এলো। শক্ত কণ্ঠে বলে উঠলো,
“এসব কি।”
নিহা কিছুটা ভয় পেয়েছে নিহানের শক্ত গলায় কথা শুনে। আজ পর্যন্ত তার ভাই এভাবে তার সাথে কথা বলে নি। যদিও তারা দুজনই বয়সে সমান। তবুও নিহানকে তার থেকেও অনেকটাই বড় বড় মনে হয়।
নিহা কিছুটা হালকা স্বরে বলে উঠলো,
“ভাই তুই বস, আমি তোকে সবটা বুঝিয়ে বলছি।”
নিহান রেগে বলে উঠলো,
“কি বুঝিয়ে বলবি তুই হ্যা। তুই ভাবতে পারছিস তুই কাকে বিয়ে করছিস। আর এতো কিছু করছিস আমাকে একটুও জানালি না।”
“ভাই প্লিজ ঠান্ডা হ। আমি সবটা বলছি তোকে, আগে একটু শান্ত হয়ে বস।”
নিহান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো,
“ওকে আমি শান্ত হলাম। এইবার বল।”
নিহা ভাই এর দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইলো। তারপর সবটাই বললো আদ্রিজের সাথে দেখা হওয়া থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যা যা হয়েছে।
সবটা শুনে নিহান পূনরায় রেগে গেল।
“ওই ছেলের সাহস কি করে হয় তোর অজান্তে রেজিস্ট্রি করা। ওই ছেলেকেতো আমি।”
“Cool cool cool. সে আমায় ভালোবাসে ভাই।”
“কিসের ভালোবাসা, আর তুই এতোটা সিউর কি করে হচ্ছিস যে ঐ ছেলে তোকে ভালোবাসে। তোকে ফাঁদে ফেলতে এইটা তাদের চাল হতে পারে।”
“এরকমটা না ভাই। আদ্রিজ বাবু এসব কিছুই জানেনা। আর তোর বোন কি কিছু না বুঝে এসব করছে। সবটা জেনে বুঝেই করছে।”
“হুম বুঝলাম কিন্তু এতে তোর বিপদ বেড়ে যাবে।”
“নাহ্ ভাই বিপদ বাড়বেনা। বরং সামনে থেকে এইবার মোকাবিলা করবো। তবে তুই আমায় না জানিয়ে কেন আসলি। কেউ যদি জেনে ফেলে বুঝতে পারছিস কি হবে। আর তুই এই রুমে আসলি কি করে।”
“এইগুলা ব্যাপার না আসা। আর কেউ কিছুই জানতে পারবে নাহ। তবে নিগ্গু বিয়েটা ছেলেখেলা না। তুই কি মিস্টার আদ্রিজ কে ভালবেসে ফেলেছিস?”
নিহা থমকে তাকালো ভাই এর দিকে। কথা ঘুরাতে বলে উঠলো,
“ভাই তুই আবার আমায় নিগ্গু ডাকছিস।”
“কথা ঘুরিয়ে লাভ নেই। যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটা বল।”
নিহা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো,
“ভালোবাসি কিনা জানিনা । তবে……তবে যতদিন দেহে প্রান থাকে তার হাত ধরেই বাকিটা জীবন পার করতে চাই। যাই হোক ওসব কথা বাদ দে, তুই এখন এখান থেকে যা। যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে কি হবে বুঝতে পারছিস নিশ্চই।”
নিহান কিছু না বলে হেসে উঠলো। সে বুঝতে পারছে তার বোন মুখে না বললেও মন থেকে মিস্টার আদ্রিজকে ঠিকই ভালোবেসে ফেলেছে।

নিহা অনেক্ষন পর রুম থেকে বের হলো। সামনে তাকিয়ে ঊর্মিকে ইশারায় বুঝালো সব ঠিক আছে কিনা।
ঊর্মি বললো সব ঠিক আছে ।
নিহা হেসে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল। হটাৎ একটি স্বু-মধুর গানের সুর কানে আসতেই দাড়িয়ে গেল। সামনে তাকাতেই অবাক হয়ে গেল।
আদ্রিজ তার দিকে তাকিয়েই গান গাইছে। নিহা পলকহীন তাকিয়ে রইলো তার আদ্রিজ বাবুর দিকে। তার আদ্রিজ বাবুর এতো সুন্দর গানের গলা, কই সেতো আগে কখনোই শুনে নি।
নিহা হাড়িয়ে যাচ্ছে তার আদ্রিজ বাবুর গানের মাঝে।

আমি ফুল ছিঁড়ে ভুল করেছি
………কাটার আঘাত পেয়েছি
সেই ব্যাথা ভুলেছি তোমার
………… খুশি যখন দেখেছি
ও…আমি একটা গান লিখেছি
…………সেই গানে সুর বেধেছি
সেই সুরে ভাসিয়ে তোমার
………..মনের দখল নিয়েছি
ও…. প্রেমে প্রেম হয়ে গেল রে
……… আর বাঁধা দিবে কে এসে
.#ভালোবাসার_প্রজাপতি
#পর্বঃ২৬
#মাহিয়া_মুন

হলুদ লেহেঙ্গা, গর্জিয়াস মেকআপ, সব মিলিয়ে বিরক্ত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে নিহাকে। কিছুক্ষন পূর্বেই তাকে এভাবে জোকার সাজিয়ে দিয়েছে কয়েকজন মেকআপ আর্টিস্ট।
আপাতত তাকে বসে থাকতে হচ্ছে তাঁর প্রেমিক পুরুষ/জামাইয়ের জন্য।
নিহা আনমনে হেঁটে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। তার কাছে এই মুহুর্তে সব কিছুই বিরক্ত লাগছে। সে চেয়েও পারছে নাহ নিজের মায়ের কাছে যেতে। ফ্রী ফায়ার এর এনিমির মত সবাই তার পিছে পড়ে আছে।
লাস্ট পর্যায়ে যাকে এসব বিষয়ে জড়িত দেখলো, সেটা ছিল তার জন্য অপ্রত্যাশিত। সবকিছু গোলক ধাঁধার মত জড়িয়ে গেল।
নিচের দিকে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে গেল নিহার। তার প্রিয় শশুর মশাইকে কারো কাছ থেকে কিছু একটা নিতে দেখে হেসে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর দেখা গেল তার শশুর মশাই এর সাথে থাকা লোকটা নিহার দিকে তাকিয়ে হাত ইশারায় বুঝালো যে সব ঠিক আছে।
নিহাও হেসে লোকটাকে বিদায় দিল।
আনমেই বলে উঠলো,
“মিস্টার চৌধুরী, কিছু নিতে গিয়ে আবার নিজের অজান্তেই কিছু দিয়ে দিচ্ছেন নাতো।”
কোমড়ে ঠান্ডা কিছুর স্পর্শে চমকে উঠলো। দ্রুত সরে যেতেই আদ্রিজকে বসা অবস্থায় দেখলো।
“কি হলো সরে গেলে কেন?”
“আপনি কখন আসলেন?”
“যখন বিড়বিড় করছিলে একা একা তখন।”
নিহা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। তার মানে লোকটা কিছু শুনতে পায় নি।
আদ্রিজ পূনরায় নিহার কোমড়ে হাত দিল।
নিহা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। আদ্রিজ হাতে থাকা হলুদ পূনরায় লাগিয়ে দিল নিহার কোমড়ে।
নিহার দিকে তাঁকিয়ে দেখলো নিহার চোখ বন্ধ হয়ে আছে। বাঁকা হেসে নিহার কোমড়ে নিজের গাল স্পর্শ করালো।
নিহা চমকে আদ্রিজের দিকে তাকালো। বড় বড় শ্বাস ফেলতে লাগলো। অদ্ভূত অনুভুতি হৃদয় বয়ে যাচ্ছে। নাহ্ পেরে আদ্রিজের চুল খামচে ধরলো।
যদিও আদ্রিজ নিহাকে কিছুটা ভয় পাইয়ে দিতেই এতোটা কাছে এসেছিল। তবে এই মুহুর্তে সে নিজেই বেসামাল হয়ে পড়ছে।
নিহার পেট থেকে হালকা পরিমাণ কাপড় সরিয়ে নিজের নাক ডুবিয়ে দিলো। নিহার শরীলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন তাকে আরো বেসামাল করে দিচ্ছে। মেদহীন মসৃন পেট ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগল। দুজনেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে অন্য কোনো দুনিয়ায়। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
আদ্রিজের ফোন বেজে উঠায় দুজনেই চমকে দ্রুত সরে গেল।
নিহা লজ্জায় বেলকনির শেষপ্রান্তে চলে গেল।
আদ্রিজ চোখ বন্ধ করে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিয়ে পূনরায় চোখ খুলে নিহার দিকে তাকালো। মেয়েটা যে ভীষণ লজ্জা পেয়েছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
মাথা চুলকে নিহার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।
“আসলে…….আসলে আমার এমন করার ইচ্ছে ছিল না তবে….. তবে নিজের অজান্তেই বেসামাল হয়ে পড়েছি।”
নিহা কিছু বললো নাহ। মূলত সে লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না।
আদ্রিজ নিহার লজ্জা উপলব্ধি করতে পেরে হেসে নিহার কানের কাছে গিয়ে বলে উঠলো,
“আজ সবার আগে আমার বউকে আমিই হলুদ লাগলাম।”
আদ্রিজ আবারো নিহার দিকে তাকালো। নাহ মেয়েটা এখনো তার দিকে তাকাচ্ছে না।
“কালকের রাতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখো। এখনি এই অবস্থা, কালকের পর থেকে তো মনে হয় আমার সামনেই আসবে না।”
নিহা আর না পেরে আদ্রিজকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দ্রুত বেলকনি থেকে চলে গেল।
আদ্রিজ হেসে বুকের বাম পাশে হাত রাখলো। অবশেষে তাহলে সে তার এলোকেশীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
*
*
রাত প্রায় গভীর। নিহা এবং নিহান দাড়িয়ে আছে সেই নদীর তীরে। দুজনেই চুপচাপ তাকিয়ে আছে নদীর পানিতে।
কিছুক্ষণ এভাবে যেতেই নিহান বলে উঠলো,
“নিগ্গু, মাম তোকে দেখার জন্য পাগলামি শুরু করেছে। একটু কথা বল।”
“নাহ্।”
“এখনো তোর অভিমান গলে নি।”
নিহা কিছু বললো না।
“দেখ বোন তোকে আর কতবার বলবো তখন সেই কন্ডিশন ছিলো না। মাম তো আমায় তাই বললো। হ্যা এটা ঠিক চাইলেই তোকে খুঁজে পাওয়া যেত। কিন্তু মাম এর দিক টাও তো বুঝবি তুই। এতগুলো শক একাধারে নিতে পারে নি। তাই তোকে খুজার মানসিকতা ছিল না তখন।”
“হুম সেটাই, আমায় খুজার মানসিকতা ছিল না তখন। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মানসিকতা তৈরী হয়ে ছিলো। বাবার খণ্ডিত দেহ পেয়েছে তাই বাবাকে মৃত বলেছে। আমার দেহ তো পায় নি। তাহলে পুলিশ বললো আমিও মরে গেছি আর তোর মাম বিশ্বাস করে নিল।”
“নিহা বেশি হচ্ছে কিন্তু।”
“বেশি না ভাই। তুই যদি আমার জায়গায় থাকতি তাহলে বুঝতে পারতি। এটা তো বুঝিস এই সমাজে একা একটা মেয়ে টিকে থাকা কতটা টাফ।”
নিহান কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো নিজের বোনের দিকে। তার বোনটা আসলেই অনেক কষ্ট পেয়েছে। যেটা হয়তো সে চাইলেও সবটা বুঝতে পারবে না।
নিহান নিহাকে টেনে জড়িয়ে ধরলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
” আচ্ছা থাক কথা বলতে হবে না মাম এর সাথে। কাল পূনরায় বিয়ে সেদিকে ফোকাস কর। আর কাগজ চেঞ্জ করেছিস তো।”
“হুম সব ইনশা আল্লাহ্ ঠিক আছে।”
“আচ্ছা তাহলে চল বাসায় দিয়ে আসি অনেক রাত হয়েছে।”
“নাহ্ আমি যাচ্ছি। কেউ যদি ভুলেও জেনে ফেলে তুই দেশে আছিস তাহলে বুঝতেই পারছিস।”
“হুম। আচ্ছা তাহলে সাবধানে যা।”
নিহা হেসে ভাইকে বিদায় দিয়ে চলে গেল।
নিহা যেতেই নিহান বুক পকেট থেকে ফোনটা বের করলো। ফোনের স্কিনে ভেসে আছে একজন মহিলার ছবি, যে দেখতে অনেকটাই নিহার মত। মহিলার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি।
মহিলাটি অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো,
“আমার পুতুল মা।”
নিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো,
“হুম। দেখলে তো কতটা অভিমান পুষে রেখেছে নিজের মনে।”
“তুই ওকে সাথে করে নিয়ে আয় নয়তো আমি চলে আসি। আমায় দেখলে আমার পুতুল মা কখনোই অভিমান করে থাকতে পারবে না।”
“না মাম এমন করো না। কি পরিস্থিতি যাচ্ছে সবটাই তো জানো।”
মহিলাটি চুপ হয়ে গেল। হয়তো পুরনো দিনের কথাগুলো মনে হয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ পর মহিলাটি বললো,
“পুতুলের বিয়ে করাটা কি খুব দরকার।”
“হ্যা মাম।”
এভাবেই কথোপকথন চলতে লাগলো মা এবং ছেলের মাঝে।
*
*
আদ্রিজ এবং নিহা বসে আছে। তাদের সামনেই মিস্টার আজিজ চৌধুরীর নিয়ে আসা কাজি বসে আছে।
সবাই খুশিমনে তাদের পাশেই দাড়িয়ে আছে।
নিহা লক্ষ্য করে দেখলো সব থেকে খুশি আজ আদ্রিজ চৌধুরী কেই দেখাচ্ছে।
নিহা নিজেও আজ খুশি। এইরকম সময়ের অপেক্ষায় সেও ছিলো।
আজিজ চৌধুরী হেসে বলে উঠলেন,
“কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করুন।”
কাজি নিহার দিকে তাকালো।
নিহা ইশারায় বুঝালো শুরু করতে।
কাজি সম্মতি পেয়ে বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন।
এক পর্যায়ে অপেক্ষিত সেই সময় চলেই আসলো।
কাজি সাহেব বলে উঠলেন,
“কোনে এবং বর দুজনেই এখানটায় সাইন করুন।”
আদ্রিজ সাইন করার পর নিহা সাইন করতে গিয়ে একটু থামলো।
আজিজ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে দেখলো লোকটি এদিকটায় খুশি মনে তাকিয়ে আছে।
নিহা নিজেও খুশি মনে সাইন করে দিল।
এইবার কাজি সাহেব পুনরায় বলে উঠলো,
“সাক্ষীস্বরূপ যারা সাইন করবেন তারা আসুন।”
এই কথা শুনা মাত্রই আজিজ চৌধুরী দ্রুত এসে সাইন করে দিল।
আজিজ চৌধুরীর সাইন করা দেখে নিহা বাঁকা হেসে উঠলো।
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আদ্রিজ এবং নিহা সবার থেকে দোয়া নিতে ঊঠে দাড়ালো।
একে একে সবার থেকে দোয়া নিয়ে আজিজ চৌধুরীর সামনে গিয়ে দাড়ালো।
আদ্রিজ খুশি মনে বাবাকে জরিয়ে ধরলো।
নিহা সালাম করতেই আজিজ চৌধুরী হেসে বলে উঠলেন,
“সারাজীবন সুখে থাকো মা।”
নিহা নিজেও হেসে বলে উঠলো,
“ইনশা আল্লাহ্ আমি সুখেই থাকবো। তবে আপনি সুখে থাকবেন তো?”

#চলবে

( আসলামু আলাইকুম। 😌😌😌😌😌😌😌Iam to সরম পাইছি প্রথম পার্ট টুকু লিখতে গিয়ে🤭🤧🙊🙈)……..…………………………………………

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here