ভালোবাসার ফোড়ন পর্ব ১০

#ভালোবাসার_ফোড়ন
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
#পর্ব_১০

[ দেরি করে দেবার জন্য দুঃখিত ]

শরীর অনেক দুর্বল থাকায় ‌ঘুম খুব তাড়াতাড়ি চলে আসল। অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম, কিন্তু ঘুম থেকে ওঠেই আমার চোখ কপালে, এসব কি? ইতি নিচে বসে আছে আর খাবার বাড়ছে। আমি অবাক! কারন এ মেয়ে তো জীবনে এক গ্লাস পানি ও নিজের হাতে খায় নি তাহলে এসব কি!

জানালা দিয়ে বাইরে নজর গেলো। অন্ধকার হয়ে আছে সব কিছু এর মানে রাত হয়ে গেছে। এতোক্ষণ ঘুমোলাম কিভাবে? ইতি’র দিকে তাকিয়ে দেখি খাবার প্লেট হাতে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।‌আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। ইতি বলতে লাগল..

– ঘুম ভেঙেছে তোর! বাহ বাহ কি ঘুমটাই না দিলি আসলে তোর দোষ নেই সব ডাক্তার এর ঔষধের কামাল।

– সব বুঝলাম এগুলো কি?

– বলছি আগে ফ্রেশ হয়ে আয়।

– কিন্তু?

– আরে বললাম তো আগে ফ্রেশ হয়ে আয় বলছি।
.
ইতি খাবার প্লেট খাটে রেখে আমাকে ধরে উঠালো। তারপর ফ্রেশ হতে গেলাম। এসে দেখি ইতি খাবার নিয়ে বসে আছে। আমি ওর পাশে বসে বললাম..

– এগুলো কি?

ইতি চট করছ আমার মুখে এক লোকমা ভাত দিয়ে বললো…
– খাবার!

– জানি তো খাবার, কিন্তু তুই এগুলো মানে কিভাবে কি?

– বাসা থেকে নিয়ে এসেছি তোর জন্য।

– কিন্তু বাসায় তো খাবার ছিলো। আমি কাল রেঁধেছি তো।

ইতি আবারও আমার মুখে ভাতের লোকমা তুলে দিয়ে..
– সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

ইতি’র কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম..
– কি বলিস আমি কাল রাতে ভাতে পানি দিয়েছিলাম। নষ্ট হলো কিভাবে?

– তুই বস এখানে!

– ইতি কি হচ্ছে এইসব!

– আমি দেখেছি নিহা! তোর ঘরে চাল ছাড়া আর কিছু নেই। তুই কিভাবে খেতি বলতো। নুন দিয়ে! নিহা তুই অসুস্থ, ডাক্তার তোকে ভালো করে খেতে বলেছে।

– তা ওগুলো কি খাবার না।

– হ্যাঁ খাবার তবে তোর শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তোর জন্য এখন খাবার না বুঝলি। আমি আজ থেকে এসে তোকে খাবার দিয়ে যাবো।

– পাগল হলি!

ইতি আমাকে খাইয়ে দিতে দিতে…
– না পাগল না, দেখ আমি রাঁধতে পারি না। তাই এসব বাসা থেকে নিয়ে এসেছি। তুই যতদিন না সুস্থ হবি ওইসব খাবার খাবি না বুঝলি। আমি রোজ এসে তোকে খাবার দিয়ে যাবো।

– এটা হয় না ইতি।

– কেন হয় না। তুই অসুস্থ! আচ্ছা এটা নিয়ে পরে কথা বলছি আগে খাবার শেষ কর।

– কিন্তু ইতি…

ইতি চোখ রাঙিয়ে বললো…
– আগে খেতে বলেছি।
.
আমি আর কথা বাড়ালাম না। ও যা বলল তাই করছি।‌ আমি বসে আছি আর ও আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। সময় টা উপভোগ করছিলাম। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে কেউ এসেছিল। কেমন জানি একটা অনুভুতি।
আমি খাবার শেষ করে পানি খেয়ে ইতি কে জিজ্ঞেস করি..

– কেউ কি এসেছিল?

ইতি একটু চমকে..
– কে আসবে?

– নাহ কেন জানি মনে হচ্ছে কেউ এসেছিল!

– তোর মনের ভুল নে ঔষধ খা।

– এইসব কি আবার!

– এটা ঔষধ দেখিস নি জীবনে!

– আরে দেখেনি কখন বললাম।‌ কিন্তু কিসের ঔষধ আর এখানে কেন?

– তোর ঔষধ, ডাক্তার খেতে বলেছে।

ইতি’র ওপর খুব সন্দেহ হলো। ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম…
– তুই আমাকে ঘুমিয়ে যেতে কেন বললি!

ইতি মুচকি হেসে বলল..
– এইসব করবো বলে!

– মানে?

আমার মুখে ঔষধ দিয়ে..
– এটাই যে তুই জেগে থাকলে আমায় কিছু করতে দিতি না। তোর ঘুমানোর পর পুরো ঘর খুঁজে পান্তা ভাত পেলাম।‌আমি জানতাম তুই এগুলো খেতে চাইবি তাই আমি বাসায় গিয়ে তোর জন্য খাবার অনলাম আর আসার সময় ঔষধ নিয়ে আনলাম। ডাক্তার বলেছিল এগুলো তোকে খাওয়াতে।

– ডাক্তার বলল আর তুই নাচতে নাচতে নিয়ে আনলি!

– হ্যাঁ আনলাম কিন্তু কি গান সেটা মনে পরছে না

– মজা করছিস?

আমার পোড়া হাতে ঔষধ লাগিয়ে দিয়ে।
– আরে না তা কেন? শোন এই ঔষধ টা হাতে লাগাবি তাহলে এটা শুকিয়ে যাবে। আর ভাবছি আজকের রাত”টা তোর সাথে থাকবো।

– কিহ?

– হ্যাঁ!

– না আন্টি আংকেল চিন্তা করবে তোর।

– কিন্তু তোর এই অবস্থা!

– আরে এখন আমি একদম ঠিক আছে। অনেক ভালো লাগছে এখন।

– তাহলে কি আমি সকালে আসবো।

– ভার্সিটিতে যাবি না।

– না ডাক্তার তোকে কিছুদিন বেড রেস্ট এ থাকতে বলেছে। কয়েকদিন পর ভার্সিটিতে যাবি এর আগে না। আমি আবার সকালে আসবো।‌নিজের খেয়াল রাখিস।

– হুম, সাবধানে যাস কেমন!

– আচ্ছা! তুই নিজের খেয়াল রাখিস কিন্তু।

– হুম!
.
চলে গেলো ইতি, আমি কিছুক্ষণ ওর চলে যাবার পানে তাকিয়ে রইলাম।‌ আবার রুমে এসে পরলাম। অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে এখন আর ঘুম আসছে না। কিছুক্ষণ বসে পড়াশোনা করলাম।
হঠাৎ কেন জানি মনে হচ্ছে বাইরে কেউ আছে? কেউ দেখছে আমায়। ভয় বেড়ে গেলো আমার। এভাবেই ঘরে একা আমি, কেউ নেই তার মধ্যে এমন অনুভূতি আগে কখনো ভয় নি। আমি একটু সাহস নিয়ে বাইরে বের হলাম। বাড়ির সদর দরজা খোলাই আছে। সেটা আটকাতে গেলাম। তার আগে একবার বাইরে উঁকি দিলাম। পুরো রাস্তা অন্ধকার, নিঝুম। কোনো আলো নেই চাঁদের আলোতেই যা দেখা যায় আর কি। হুট করেই মনে হলো কেউ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কে সেটা দেখতে পেলাম না। নিজেকে খুব বোকা মনে হলো। আরে এটা তো রাস্তা যে কেউ’ই যেতে পারে এখান দিয়ে। হয়তো আমার মনের ভুল। আবার এসে ঘরে পড়তে বসলাম। পড়তে পড়তে কখন যে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম টের পায় নি।

সকালে দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে ঘুম ভাঙল। চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি ইতি! ওকে দেখেই আমার ঘুম উধাও। আমি অবাক হয়ে বললাম..
– তুই! এতো সকালে।

– এতে সকাল না গাধা! ৯ টা বাজে বল তুই এতোক্ষণ ঘুমিয়ে ছিল।

আমি তাড়াতাড়ি ঘড়ি চেক করে বলি..
– এতো বেলা হলো আর আমি টের পেলাম না।

– পাবি কি করে, কাল তো ঘুমের ঔষধ খেলি তাই বরং বুঝতে পারিস নি।

– হতে পারে!

– যাই হোক ফ্রেশ হয়ে নে, দুই বান্ধবী একটু আড্ডা দেই ভালো লাগবে।

– আচ্ছা তুই বস আমি আসছি।
.
ফ্রেশ হয়ে এসে ইতি’র সাথে আড্ডা দিয়ে দিন কাটিয়ে দিলাম। একটু পড়তেও বসলাম, তারপর টিউশনি করতে গেলাম। এভাবেই ৪ দিন কেটে গেল। মামী এখনো আসে নি। ইতি দুপুরে খাবার নিয়ে আসল। এখন আমি অনেকটা সুস্থ। ইতি কে বললাম…

– এখন আমি সুস্থ, তোর এইসব আনা লাগবে না। আজ বেতন ও পাবো। কাল থেকে ভার্সিটিতে যাবো। বুঝলি!

– হ্যাঁ বুঝলাম, এখন খেয়ে নে।

– হুম।
.
পরদিন ভার্সিটিতে গেলাম। ক্লাস’র দিকে যাচ্ছি হুট করেই কেউ আমার সামনে এসে দাঁড়াল। তাকিয়ে দেখি আহিয়ান। আজ অনেকদিন পর তাকে দেখছি। সেদিন জ্ঞান হারানোর আগে আমি তাকে দেখেছিলাম এর পর আজ দেখলাম। সে কপাল কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল…

– এখন কেমন আছো তুমি?

-ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছি। এখন কেন খবর নিচ্ছে। এতোদিন তো অসুস্থ ছিলাম, কই একবার তো দেখলাম না তাকে। আজ এতো দরদ কোথা থেকে আসলো।

উনি ধমক দিয়ে বললেন..
– এই মেয়ে!

ধমকে লাফিয়ে উঠলাম…
– কিহ?

– কেমন আছো এখন জিঙ্গেস করছি না!

মেজাজ গেলো বিগড়ে, দাঁতে দাঁত চেপে বললাম…
– ভালো না থাকলে তো আর ভার্সিটিতে আসতাম না।

উনি একটু ভেবে বললেন..
– হুম ঠিক আছে।‌

বলেই চলে গেলেন, আরে এটা কেমন ব্যবহার। আমি পেছন থেকে বলে ওঠলাম..
– এই ছেলে!

উনি আমার দিকে ফিরে কপাল কুঁচকে তাকালেন।আমি উনার সামনে গিয়ে বললাম..
– কেমন আছেন আপনি!

উনি খানিকটা অবাক হয়ে আমাকে বললেন..
– আমাকে এই ছেলে বলছো কেন?

কোমরে হাত দিয়ে বললাম..
– তাহলে আমাকে এই মেয়ে বলছেন কেন? আমার নাম আছে বুঝলেন। নিহারিকা নিহা আমার নাম।

– তো…

– তো মানে..

– তোমার নাম কি এটা জেনে আমি কি করবো।

– আমাকে এই মেয়ে এই মেয়ে বলে ডাকা বন্ধ করবেন।

– আচ্ছা wait!

আমি কপাল কুঁচকে..
– মানে…

উনি আমার হাত টেনে চেক করে বললেন..
– ঔষধ লাগিয়েছিলে ঠিক মতো ।

উনার থেকে হাত ছিটকে নিয়ে..
– আপনাকে কেন বলবো।

আমার দিকে রেগে তাকিয়ে বলল..
– আমাকে এই ছেলে এই ছেলে ডাকবে না বুঝলে!

– আপনাকে ডাকতে আমার বয়ে গেছে। হুহ!

– wherever! যাও এখান থেকে আমাকে বিরক্ত করো না।
বলেই উনি চলে গেলেন।

আমি হা হয়ে তাকিয়ে আছি। কি বলছেন এইসব আমি উনাকে বিরক্ত করছি। এতো অহংকার, এতো! রেগে এসে বসে পরলাম ইতি’র পাশে। ইতি আমার রাগ দেখে জানতে চাইলে সব বলে দিলাম। ইতি হাসতে হাসতে শেষ। ওকে দেখে আরো রাগ হলো। মন টাই নষ্ট হয়ে গেলো। ইতি বলে উঠলো..

– তোরা দুজন এমন সাপ আর বেজীর মতো ঝগড়া কেন করিস?

– আমি কি করবো! উনি এমন এমন কথা বলে যে ঝগড়া না করে পারি না।

– তার মানে ঝগড়া তুই করিস।

ইতি’র কথায় বোধ হলো কি বললাম। তাড়াতাড়ি জিহ্বা কামড় দিয়ে বললাম..
– আরে আমি তো..

জোরে জোরে হাসতে হাসতে বলে উঠলাম..
– হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি।

– তুই হাসা বন্ধ করবি।‌

– নাহ
বলেই দৌড় দিলো। আমিও ওর পিছন পিছন দৌড়াতে লাগলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ করেই সামনে আহিয়ান আর আকাশ কে দেখলাম। আহিয়ান ফোনের স্কিন থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আবার ফোনে’র দিকে তাকিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগল। ভাবলাম এই সুযোগ প্রতিশোধ নেওয়ার। আমি পিছন থেকে “এই ছেলে”বলেই দৌড় দিলাম। আর পিছনে তাকাই নি। হয়তো উনি রেগে গেছেন, আর রাগলেই বা আমার কি? হুহ।

আজ ১৫ দিন পর গত কাল রাতে মামী এসেছে। এতোদিন বেড়িয়ে আজ এসেছে। বেতনের টাকা দিয়ে দিয়েছি তাকে। কিন্তু তিনি আমাকে যা বললেন, তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। মামী’র কথা ভাবতে ভাবতে ক্লাস রুমে গেলাম। মন টা সত্যিই খুব খারাপ। আশপাশ কি হচ্ছে জানি না, এক ধ্যানে বসে আছি বেঞ্চে। ইতি এখনো আসোনি। আসবে দেরি হবে বোধহয়।

কিছুক্ষণ পর স্যার আসলেন, আর ইতি ও। ক্লাস চলার কারনে তেমন কথা বলতে পারি নি। তবে ইতি বেশ বুঝতে পেরেছে আমার মন আজকে খারাপ।

ক্লাস শেষে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে আমি আর ইতি ঘুরছি। ইতিও চুপ আর আমিও। অনেকক্ষণ ধরেই দুজন নিশ্চুপে হেঁটে যাচ্ছি। সব স্টুডেন চলে গেছে শুধু কয়েকজন ছাড়া। আমি এবার ক্যাম্পাসে থাকা বড় বট গাছের নিচে বসলাম। ইতি আমার পাশে বসলো। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার হাতে হাত রেখে বলল..

– কি হয়েছে?

– নিশ্চুপ..

– কি হয়েছে বল না অনেক চিন্তা হচ্ছে আমার।

আমি শান্ত গলায় বললাম…
– মামী’রা গত কাল রাতে এসেছে।

– তোকে কিছু বলেছে!

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম…
– বিয়ে ঠিক করেছে আমার!

ইতি আমার কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলো…
– ক..কি বললি?

– হুম।‌‌ কাল রাতে আমাকে এসে বলেছে।

– আর তুই!

– দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচে তাকিয়ে রইলাম।

ইতি আমার ঘাড়ে হাত রেখে বলল..
– তুই হ্যাঁ বলে দিলি।

– আর কোনো উপায় আছে বল।

– কিন্তু তোর স্বপ্ন, তোর ইচ্ছা, তোর আশা।

অভিমানী স্বরে।
– অনাথ দের আশা করতে নেই ইতি।

– না বলে দে!

তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে…
– এখন আর সম্ভব না, তারা পাকা কথা বলে এসেছে। এখন আমি না বললে তাদের অপমানিত হবে।

ইতি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বসে রইল। তারপর আবার বলে উঠল…
-ছেলে’টা কে? কি রকম দেখতে। কিছু জানিস?

আমি শান্ত গলায় বললাম…
– না, তবে মামী বলল একটু বয়স হয়েছে, কিন্তু অনেক সম্পত্তি, আর তার নাকি আমার বয়সি একটা মেয়ে আছে। আগের বউ মারা গেছে। জানিস ইতি আমার মনে হয় তারা টাকার জন্য আমাকে বিক্রি করে দিচ্ছে।

ইতি অস্থির হয়ে বলল..
– তুই এভাবে শান্ত হয়ে কিভাবে বলছিস এইসব। তুই..তুই এই বিয়ে করবি না।

ইতি’র দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে…
– তো কি করবো।

– পালিয়ে আয়, আমি আছি কিছু ভাবিস না।

– এটা হয় নি ইতি।

– তো! কি করবি তুই? এই বুড়ো লোকটাকে বিয়ে করবি।

– জানি না! এতো দিন যেভাবে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ছিলাম আজও তাই থাকবো।

– না নিহা এই বিয়েটা তুই করবি না। তোর ভবিষ্যত এভাবে নষ্ট করবি না তুই। আমি যা বলছি শোন।

– ইতি বাস্তব খুব কঠিন রে, ছোটবেলা থেকে যারা লালন পালন করলো তাদের এভাবে ধোঁকা দিবো।

– আর তারা! তারা যা করছে সেটা।

– কিছু করার নেই, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা’র অভাব নেই।‌এখন আর আমার পক্ষে কিছু সম্ভব না।

– তার মানে বিয়েটা তুই করবি!

– দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।

ইতি আর উওরের আশা করলো না। রেগে চলে গেলো সেখান থেকে। রাগ করাটা স্বাভাবিক ‌ কারন এতে আমার সুখ হবে না এটা আমিও জানি। কিন্তু আমি কি বা করতে পারি। কেউ বুঝলো না আমায়। চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল। গাছের নিচে বসেই কাঁদতে লাগলাম। হুট করেই আকাশে মেঘের মেলা বসে গেল। মনে হলো আমার সাথে প্রকৃতি আমার সঙ্গ দিচ্ছে। হাত পা গুটিয়ে গাছের নিচে বসেই কাঁদতে লাগলাম।

[ বর্তমানে ]

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফুলের দিকে তাকিয়ে আছি। ইতি’র কথা খুব মনে পড়ছে। ও চায় নি বিয়েটা হোক। বলতে ইচ্ছে করছে খুব আমার বিয়ে ওই বুড়ো লোকটার সাথে হয় নি। তবে কোনো ভালো লোকের সাথে ও হয় নি। একটা গোমরা মুখো’র সাথে হয়েছে তাও জোর করে।

আমার কাছে কোনো ফোন নেই আর না আছে ওর ফোন নম্বর নাহলে একটু কথা বলতাম ওর সাথে। ওর সাথে কথা বললে আমার মন হালকা হয়ে যেত। খুব ভালো লাগত। ভার্সিটিতে গেলে হয়তো দেখা হতো কিন্তু উনি কি আমায় ভার্সিটিতে যেতে দেবে। আচ্ছা যেতে না দিলে কি আমি জোর করবো।

হুট করেই চিরচেনা গলার আওয়াজ ভেসে আসলো। পেছনে তাকিয়ে দেখি আমি ছোট্ট আদরের ভাই শুভ আমাকে আপ্পি বলে ডাকছে। সে আহিয়ান এর কোলে। তার হাতে চকলেট আর মুখে স্নিগ্ধ হাসি। আমি দাঁড়িয়ে তার কাছে গেলাম। সে আমাকে দেখে কোল থেকে নেমে আমাকে জরিয়ে ধরল। অসংখ্য চুমু দিলো আমায়। আমাকে যে খুব মনে পড়ছিলো তার এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

শুভ আমাকে বলতে লাগল…
– জানো আপ্পি ভাইয়া খুব ভালো। উনি আমাকে অনেকগুলো চকলেট কিনে দিয়েছে আর তোমার কাছেও নিয়ে এসেছে।

শুভ’র গালে হাত রেখে…
– তাই!
তার মানে উনি শুভ কে আনতে গিয়েছিলেন। এটা মনে ছিলো তার। কিঞ্চিত হেসে আহিয়ান এর দিকে তাকাতেই দেখি উনি নেই, চলে গেছেন। শুভ কে কোলে করে বাড়িতে ভিতরে নিয়ে এলাম। ভিতরে এসে দেখি মামাও সাথে এসেছে। আমি তাদের দেখে খুব বড় ধরনের চমক খেলাম। চোখ বড় বড় করে তাদের দেখতে লাগলাম।

#চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here