ভালোবাসার ফোড়ন পর্ব ২২+২৩

#ভালোবাসার_ফোড়ন
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
#পর্ব_২২

সকাল‌ সকাল ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে নিলাম কারন আজ আমাদের এতিমখানায় যেতে হবে। উনি আরো আগে উঠে বাইরে হাঁটতে চলে গেছেন। খুব শীত লাগছে তাই একটা পশমী কাপড় পড়ে নিলাম। আমি তৈরি হয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছি। উনি আসলে তবে বের হবো। আজ অনেক কাজ আছে, কিন্তু সকালের মূহুর্ত গুলো ভুলা”র মতো না। চারদিক হালকা কুয়াশা চমৎকার একটা পরিবেশ। চারদিক নিস্তব্ধ, ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আমি চোখ বন্ধ করে সময়টা উপভোগ করতে থাকি। এর মধ্যে উনি ডাক দেন। তার দেওমা অদ্ভুত নামে মানে ভুতনি। আমি ঘুরে তাক দিকে তাকাই। দেখি দাঁত বের করে হেসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি কিছু না বলেই মুখ ভেংচি দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে এলাম। এখন কথা কাটা করে লাভ নেই। আমি ভেবেই রেখেছি আজ উনার সাথে লাগবোই না তাহলে কাজের গন্ডগোল হবে। বাইরে গাড়ি পার্ক করা ছিলো। আমি গাড়িতে বসে পড়লাম। খানিকবাদে উনি ও বসে পড়েন।

অতঃপর আমাকে বলে..
– ভূতনি মনব্রত রেখেছো নাকি।

– আপনি না ওই বাচ্চাদের সামনে আমাকে ভূতনি বলে একদম ডাকবেন না।

– আমি তো ডাকিও না। কিন্তু এখন ডাকবো।

– কেন?

– তুমি মানা করেছো তাই!
বলেই হেঁসে ওঠে। আমি মুখ ফুলিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকি। আমি জানি উনি নিশ্চিত ডাকবে তাই অনুরোধ করার প্রশ্নই উঠে না। কারন এটা তে কাজ হবে না। বাইরে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি, কতোকিছুই না বদলে গেলো। আসলেই অবাক লাগে ভাবলে এক সময় উনি আমাকে সহ্য করতে পারতেন না। কতো অপমান করেছেন আর এখন সারাটা দিন তার সাথেই থাকি। এতো বিরক্ত করি তবুও তিনি বিরক্ত হন না। আগের মতো সেই গম্ভীর ভাব টা এখন আমার সাথে দেখান না আসলেই মানুষের স্বভাব ক্ষনস্থায়ী তবে অভ্যাস না। আর আমার কাছে মনে হয় আমি উনার স্বভাব। তাই এতো তাড়াতাড়ি পাল্টে ফেলতে পেরেছে। তবে আমি উনাকে যেমন ভাবতাম তার সাথে উনার এখন মিল নেই। যাই হোক এখন যেমন আছে তেমনও অনেক ভালো তিনি। তবে একটা জিনিস পাল্টায় নি তা হলো আমাকে অপমান করা! শুধু সুযোগ খুঁজ অপমান করার।

এতিমখানায় পৌঁছানোর আগে রেস্টুরেন্টে আমরা সকালের নাস্তা করে নিলাম। অতঃপর সেখান থেকে এতিমখানায় গেলাম। দেখি কাজ শুরু হয়ে গেছে। বলতে হবে তারা কাজের গাফিলতি করেন না। বাচ্চারা অনেকেই এখনো ঘুমাচ্ছে। উনি তাদের সাথে হাত লাগিয়ে কাজ শুরু করতে লাগলেন। দুপুরে বাচ্চাদের খাবারের জন্য এতো আয়োজন। বাচ্চাও আছে অনেকজন কারন এতিমখানা’টা আসলে অনেক বড়, যার কারনে বাচ্চাদের সংখ্যা বেশি। হয়তো মামা মামী না থাকলে এমন একটা এতিমখানায় বড় হতাম নাহলে রাস্তায় ফুটপাতে! সত্যি কথা বলতে কি কেউ চায় না কাউকে বসিয়ে খাওয়াতে। মা- বাবার মতো সবাই তো আর নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসে না। তাই কারো অধীনে থাকলে তার কথা শুনতেই হবে। এটাই ভাগ্য। মা- বাবা’র কথা আজ খুব মনে পড়ছে। তাদের মৃত্যু বার্ষিকী কথা আমার মনেও নেই। কারন তখন খুব ছোট ছিলাম। তাদের লাশ দেখেও বুঝতে পারি নি তারা মারা গেছে। এটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে যে আমার মা বাবা আর বেঁচে নেই। আর এই বাচ্চারা। ওরা হয়তো জানেও না ওদের মা বাবা কে। বেশিরভাগ’ই অবৈধ সন্তান হিসেবে এই সমাজের কাছে পরিচিত। এটাই তাদের ভাগ্য।‌ ভাগ্য খুব বিচিত্র! কিভাবে চোখের পলকে বদলায় তা নিজেকে দেখে বুঝেছি আমি। এসব ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম!

দুপুরে আমি আর উনি মিলে সব বাচ্চাদের খাবার দিতে লাগলাম, এর একটু আগেই মিলাদ হয়েছিল। বাচ্চাদের খাবার দেওয়ার সময় হঠাৎ একটা বাচ্চা আমাকে ডাকল..

– ভূতনি আপু একটু পানি দাও আমায়!

আমি রীতিমতো থমতম খেয়ে গেলাম। বাকি বাচ্চারা অবাক হয় নি। যে যার মতো খাচ্ছে কিন্তু কেন? আমি উনার দিকে তাকাতেই দেখি মুচকি হাসছে। বাচ্চা টা আবার বলে..
– কি হলো ভূতনি আপু দাও!

উনি এবার একটু জোরেই হাসল। খেয়াল করলাম আশপাশ কয়েকজন মানুষ আমাকে দেখে মুট টিপে হাসছে। রাগে আমার শরীল জ্বলছে। আমি বাচ্চা কে পানি দিয়ে বলি..
– আমাকে ভূতনি কেন ডাকছো!

– এটা তো তোমার নাম, আহি ভাইয়া আমাদের সবাইকে বলেছে তোমাকে এই নামে ডাকতে!

ইচ্ছে করছিলো এখন’ই গিয়ে উনার গলা টিপে দিতে। ছোট ছোট বাচ্চাদের মাথা খাচ্ছে উনি। তাকিয়ে দেখি উনি বের হচ্ছে। আমি বাচ্চা টাকে বলি..
– আমাকে এই নামে ডেকো না ঠিক আছে আপু।

কিন্তু একজন কে বললে কি হবে। সবাই সেই ভূতনি নামেই ডাকতে লাগল। আমার নামটাকে উনি পুরো সবার কাছে বিলি করেছে। আরে আমার নাম বলছি কেন? আমার নাম তো নিহা।ভূতনি না! ধুর!

বাইরে বের হয়ে দেখি উনি নেই, আমি খুঁজতে থাকি। হঠাৎ উনি “এই ভূতনি” বলে ডাকে। ঘুরে তাকিয়ে দেখি দেওয়ালে ঘেসে দাঁড়িয়ে বের করে হাসছে। আমি উনার সামনে কোমরে হাত বলি…
– আপনাকে না বলেছি বাচ্চাদের সামনে ভূতনি বলে ডাকতে না।

– তো আমি ডেকেছি নাকি বলো!

– তাহলে ওরা কিভাবে ডাকল!

– তুমি তো বললে ওদের সামনে এই নামে ডাকতে না এটাতে বলো নি ওদের বলতে না ‌

– তাই আপনি সবার কাছে গিয়ে বলছেন আমাকে ভূতনি বলে ডাকতে!

– খুব মানায় তোমায় এই নামে ভূতনি!

– রাখুন আপনার ভূতনি!
রেগে চলে এলাম এখান থেকে। উনাকে বলেছি ডাকতে না আর উনি সবার কাছে গিয়ে বলেছে এই নামেই যেন আমায় ডাকে। সত্যি’ই অসাধারন!

বির বির করে উনাকে বকতে লাগলাম। তখন এতিমখানার একজন এসে বলল…
– ম্যাম আপনার কোনো সমস্যা হয়েছে।

– না না তো!

– আচ্ছা স্যার আপনাকে ডাকছে খাবার খেতে চলুন আমার সাথে।

– হুম।

আদিখ্যেতা দেখানো হচ্ছে এখন। এতো অপমান করে এখন খেতে ডাকছে হুহ। যেয়ে দেখি এক প্লেট নিয়ে বসে আছে। আমি গিয়ে উনার পাশে বসলাম। কিন্তু এক প্লেট কেন? আমি জিজ্ঞেস করলাম…

– আপনি খাবেন আর আমাকে কি দেখাতে এখানে ডেকেছেন।

– ঠিক বলেছো! আমি খাবো তুমি বসে বসে দেখো।গাধা একটা। তোমার হাত না কাটা ভুলে গেছো নাও হা করো!

– আপনি এখানে খাওয়াবেন। সবাই দেখবে!

– তো!

– দেখলে কি ভাববে!

– ভাববে একটা বাচ্চা কে খাওয়াচ্ছে নেও খাও।

– অপমান করতে ছাড়েন না আপনি আমায়!

– না এটা বেশ লাগে আমার কাছে। নাও!
.
বিকালে সব বাচ্চাদের সাথে খেলছি আমি, তারা এখনো আমায় ভূতনি বলেই ডাকে। কোন ধরনের মানুষ উনি বুঝি না আমি।অসহায় মুখ করে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। দূর থেকে এসব দেখে হাসছে। মজা লাগছে তার কাছে! প্রায় অনেকক্ষণ খেলার পর মনে পড়ল ওদের জন্য উপহার এনেছি তা দিতে হবে। আমি আশপাশ তাকিয়ে দেখি উনি কোথায় নেই। উনাকে খুঁজতে খুঁজতে দেখতে পেলাম একটা গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। উনি প্রায়’ই খায় এসব তবে আমার সামনে না। এর গন্ধ আমার সহ্য হয় না বলে হয়তো। আমাকে দেখে হাতের অর্ধেক সিগারেট টা ফেলে দিলেন।

– কি হয়েছে ভূতনি?

– ওদের উপহার গুলো দেওয়া লাগবে।

– তুমি যাও আমি নিয়ে আসছি।

বলেই গাড়ির কাছে গেলেন উনি। সব বাচ্চাদের উপহার দিলাম। তারা অনেক খুশি। অনেকে নাচছে খুশিতে! ভালোই লাগছে এসব দেখে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল। বাইরে থেকে খেয়েই বাসায় আসলাম। এর মধ্যে উনি আমাকে গাড়িতে বসিয়ে কোথাও গেলেন। জিজ্ঞেস করায় বললেন কিছু কাজ ছিলো তাই গেছে। আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।‌

সারাদিনে’র খাটাখাটনি’তে খুব ক্লান্ত লাগছিলো। খুব ঘুম পাচ্ছিল! তাই আমি আজ একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। বেশ ঘুমও পাচ্ছিল। তখন ১০ টা বাজে আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম টা তখন মাত্র আসলো আমি ঘুমাবো তখন কেউ আমার বাহু ধরে টেনে তুলল। সে কেউ শুধু একজন’ই আহিয়ান। সে আমাকে উঠিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল..

– কি হয়েছে এতো তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লে! মাত্র ১০.৩০ টা বাজে।

– ঘুম পাচ্ছে তাই! দেখি সরুন ঘুমাতে দিন।

কপালে হাত দিয়ে…
– শরীর ঠিক আছে তোমার!

– অনেক ভালো লাগছে শুধু একটু ঘুমের দরকার আমার আর কিছু না।
বলেই বিছানায় শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর মনে হলো লাইট নিভে দিয়েছিন তিনি। অতঃপর আমার পাশে শুয়ে পড়ল। সবটাই আন্দাজ কারন আমি ঘুম ঘুম চোখেই সব আন্দাজ করলাম। কতোক্ষণ পর উনি লাইট জ্বালিয়ে আবার আমাকে টেনে তুলল..

– কি শুরু করলেন আপনি!

– তুমি কি ঘুমিয়ে গেছো?

খানিকটা রেগেই বলি..
– ঘুম থেকে ডেকে জিজ্ঞেস করছেন ঘুমিয়ে গেছি কিনা।

– আরে মাত্র ১১ টা বাজে এখন ঘুমিও না।

– মাত্র আধ ঘন্টা আগে না আপনি আমাকে উঠিয়েছিন।

– হ্যাঁ কেন?

– কিছু না।

আবার শুয়ে পড়লাম। উনি এমন কেন শুরু করেছে আমার মাথায় ঢুকছে না। আজ যা কাজ করলেন উনি আমার মতে আমার আগেই শুয়ে পড়ার কথা তার। কিন্তু উনি শুধু ঘুরাঘুরি করছে ঘুমানোর কোনো নাম নেই।

উনি আবারও লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়লো। আমার শরীর একটা কম্বল দিয়ে আমি উনার দিকে ফিরে ঘুমিয়ে ছিলাম। আমার মতে উনি আবারও আধ ঘণ্টা পর’ই আমার মুখে ফোনের লাইট ধরে বলল..

– ভূতনি! এই ভূতনি ঘুমিয়ে গেছো!

আমি বিরক্ত হয়ে কম্বল দিয়ে মুড়ো দিয়ে অন্যদিকে ফিরে শুয়ে থাকি। উনি উঠে আবারও আমার বাহু টেনে তুলেন। অতঃপর বলেন..

– এই ঘুমিও না তুমি!

– আপনার কি ভয় করছে! বলুন তো আমাকে।

– তোমার মতো একটা ভূতনি’র সাথে থাকতে পারি দেখছো না তুমি তাহলে আবার কিসের ভয়।

– তাহলে এইভাবে পিছে লেগে আছেন কেন। ঘুমাতে দিন না আমায়।

– ঘুমানো লাগবে না তোমার, ঝগড়া করো আমার সাথে।

আমি হাই তুলতে তুলতে..
– এখন ঘুমাতে মন চাইছে ঝগড়া করতে না।

আবার শুয়ে পড়লাম। খানিকক্ষণ পর মনে হলো উনি বিছানা থেকে নেমে বাইরে গেল। যাক ভালোই হলো। এখন একটু শান্তিতে ঘুমাবো। ঘুমিয়েও গেলাম। উনি আবার ও আমার বাহু টেনে ঘুয থেকে তুললেন। এবার আমার পাশেই বসা ছিলো। এমন রাগ হচ্ছিল। কিছু বলতে যাবো তার আগেই উনি আমার মুখে হাত দিলেন আর ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু কারনটা কি? উনি countdown শুরু করল। কিন্তু কেন? আমার জানামতে বিয়ের ছয় মাস পর কেউ নাকি anniversary পালন করে তবে আমাদের টা মনে হয় দেড় মাসের মতোই হবে। হঠাৎ আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে উনি আমার সামনে একটা কেক তুলে বলেন…

– Happy birthday my dear ভুতনি!🥳

আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। কি বললেন উনি? আমার বিশ্বাস’ই হচ্ছিল না।‌পুরো রুম অন্ধকার! কেক থাকা মোমবাতির আলোতে ‌আমরা দুইজন দুইজনকে দেখছি। উনি আবারও বলেন..

– Happy birthday! এই ভূতনি! কি হলো?

অবাক হয়ে বলি…
– আজ আমার birthday!

– না কে বললো তোমার আজ আমার birthday, দেখো না কেক এ আমার নাম লেখা।

– আমি মজা করছি না কিন্তু!

– হ্যাঁ আমি করছি রাত ১২ টা বাজে তোমার সাথে! নাহ বলো।

– তেতো তেতো কথা বলছেন কেন?

– তুমি কেন বোকা বোকা কথা বলছো! নাও কেক কাটো।

উনি উঠে লাইট জ্বালালেন। আমি আবার বলে উঠি..
– আপনি কিভাবে জানলেন আজ আমার birthday.

– That’s not important!

– কিন্তু আমার জন্য আমার important.

– আরে বিয়ের সময় দেখেছিলাম তোমার কাগজপত্রে লেখা ছিল। হয়েছে শান্তি! ( আমার হাতে ছুরি দিয়ে )
নাও কাটো!

আমি এবার কেক এর দিকে তাকালাম। চকলেট কেক, কেক”র ওপর লেখা “Happy birthday my ভূতনি বউ” আমি কিঞ্চিত হেসে উনার দিকে তাকালাম। উনি চোখের ইশারায় আমাকে কেক কাটতে বললেন.. অতঃপর আমি কেক কাটলাম! উনা কেই খাইয়ে দিলাম। উনিও আমাকে খাইয়ে দিলেন। হঠাৎ উনি একটা প্যাকেট আমার সামনে রাখলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম..

– কি এটা?

– নিজেই দেখো!

#চলবে….#ভালোবাসার_ফোড়ন
#মিমি_মুসকান ( লেখনিতে )
#পর্ব_২৩

হঠাৎ উনি একটা প্যাকেট আমার সামনে রাখলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম..

– কি এটা?

– নিজেই দেখো!

আমি প্যাকেট খুলে দেখি একটা স্মার্টফোন। এরকম কিছু’র আশা করি নি। তবুও এটা দেখে আমার মুখে হাসি ফুটল। উনি আমাকে বলল..

– পছন্দ হয়েছে!

– হুম খুব সুন্দর! কিন্তু আমি তো চালাতে পারি না।

– প্রথম প্রথম কেউই পারে আস্তে আস্তে শিখে তুমি ও শিখবে।

– হুম জানি আর expert তো আমার সামনেই দাঁড়ানো।

দুজনেই এক সাথে হাসলাম। উনি বলে উঠল…

– জানো খুব চিন্তিত ছিলাম‌‌, তোমার পছন্দ হবে কি না। আসলে আমি ভেবেই পাচ্ছিলাম কি দেবো তোমায় পরে এটার কথাই কেন জানি মনে পড়ল আমার।

– কেন কখনো কোনো মেয়ের জন্য গিফট কিনেন নি।

– হ্যাঁ last time মা’র জন্য একটা শাড়ি কিনেছিলাম!

– আর আপু!

– ওকে খুশি করার জন্য একগাদা চকলেট’ই যথেষ্ট। সেটা দিলেই ও খুশিতে নাচতে থাকবে। কিন্তু জানো আমি ইচ্ছে করেই তোমার জন্য চকলেট আনি নি!

– কেন?

– তুমি যেই! মাঝে মাঝে তোমাকে কোলে নিতে হয়, চকলেট খেয়ে তখন ওজন বেড়ে গেলে সমস্যা!

– কিহহহ?

– হ্যাঁ!

– আচ্ছা আমি এখন ঘুমাবো গুড নাইট!
শুয়ে পড়লাম আবারও। মনে হচ্ছে এবার ভাগ্য ভালো কারন উনি আমাকে আর ডেকে তুলেন নি। চলে গেল! কেন জানি খারাপ লাগছিলো। উনি এতো কিছু করলেন আর আমি আবার শুয়ে থাকবো। উঠতে যাবো তাকিয়ে দেখি উনি আমার সামনে দাঁড়ানো। খানিকটা অবাক হলাম। উনার হাতে দু’কাপ চা। আমাকে বলল…
– উঠো এই নাও চা!

– আমি বানিয়েছেন!

– কি মনে করো তুমি আমাকে। সামান্য চা বানাতে পারি না নাকি আমি।

হেঁসে বললাম..
– সামান্য চা বানাতে পারেন তবে খিচুড়ি নাহ।

উনি রেগে চলে গেলেন। আমি উনার পিছু পিছু গেলাম। বেলকনিতে আসলেন উনি, বেড়ার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। আমি দোলনায় গিয়ে বসলাম। উনি এক কাপ চা আমার দিকে ‌ধরলেন। আমি সেটা নিয়ে চুমুক দিয়ে বললাম…

– বাহ বেশ বানিয়েছেন তো আপনি!

– দেখলে তোমার থেকেও ভালো বানিয়েছি।

– যখন বানাতে পারেন তাহলে আমাকে কখনো বানিয়ে খাওয়ালেন না কেন?

– ভালো কিছু সবসময় না পাওয়াই ভালো কথাটা জানো!

– ইশ যদি প্রতিদিন আমার জন্মদিন হতো তাহলে নিশ্চিত আপনি আমাকে চা বানিয়ে খাওয়াতেন।

হেসে বললেন…
– এটা তোমার মতো বাচ্চা ভূতনি ছাড়া কেউ ভাবতে পারে না।

দুজনের মাঝে কিছু নিরবতা থাকল। উনি চায়ের চুমুক দিচ্ছে আর আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি উনাকে দেখছি। আমার জন্মদিন আজ পর্যন্ত কেউ মনে রাখে নি। আর উনি কিভাবে অনায়াসে তা মনে রাখলেন। নিরবতা ভেঙ্গে বলি…
– আপনি বার বার আমাকে ঘুম থেকে ডাকলেন কেন?

– তুমি যেই ঘুম দাও পরে ডেকে তোলা মুশকিল তাই!

– তাই বলে আধা ঘন্টা পর পর! আমার মনে হয় আপনি ঘুমিয়ে পড়তেন তাই!

– না আমি একটু নার্ভাস ছিলাম।

– কেন?

– এই প্রথমবার কোনো মেয়েকে birthday wish করলাম তাই।

– ওহ তো চা বানালেন কেন?

– ভাবলাম আজ সারারাত তোমার সাথে গল্প করবো তাই ‌
হেসে বলি..
– আপনার সাথে আমার ঝগড়া ছাড়া কিছু হবে না।

– আজ হবে! আর এক কাপ চা খাবা।

– আপনি বানাবেন!

– নিয়ে আসছি!

– আচ্ছা আমি আসছি।

প্রায় চা বানিয়ে কিছুক্ষণ পর আমরা আবার বেলকনিতে এসে দাঁড়াই। উনার তখনকার কথায় আমার জানতে ইচ্ছে করছে উনি কি বলবেন। আমি’ই‌ আগে কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করি..

– কি হলো বলুন কি বলবেন!

চা’য়ে চুমুক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল…
– আকাশ আর ইতি’র ব্যাপারে কথা বলবো।

উনার কথায় রীতিমতো চমকে উঠলাম। একদম বাকরুদ্ধ আমি! কি বলছেন উনি এই এসব। আমি কিছু বলার আগেই উনি আবার জিজ্ঞেস করে…
– ইতি’র‌ কি কাউকে পছন্দ!

মাথা নাড়লাম। উনি কপাল কুঁচকে আমাকে জিজ্ঞেস করে…
– কাকে?

চোখ বন্ধ করে চয়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলি…
– আকাশ ভাইয়া কে!

শান্ত ভাবেই বলে..
– তাহলে আমার ধারনা ঠিক!

– ধারনা ঠিক মানে! কি ধারনা করলেন আপনি।

– এই যে ইতি আকাশ কেই পছন্দ করে।

– আপনি কিভাবে বুঝলেন?

– আকাশ আমায় বললো?

– কি বললো?

– এই যে ইতি মাঝে মাঝে আকাশ কে কল করে কথা বলে আর ওর হাব ভাব দেখে মনে হচ্ছে কিছু তো গোলমাল আছে।

– পছন্দ করা কি গোলমাল!

– নাহ ভালোবাসলে মানুষ গোলমাল করে এটা স্বাভাবিক!

– ভালোবাসার উপর পিএইচডি করছেন মনে হচ্ছে নাকি অভিজ্ঞতা।

– আমার অভিজ্ঞতা নেই তবে পিএইচডি করারও প্রয়োজন নেই এটা দেখলেই বোঝা যায়।

– অভিজ্ঞতা নেই কে বললো এতো তাড়াতাড়ি ক্রাশ কে ভুলে গেলেন।

আমার কথায় উনি গরম চা খেতে গিয়ে মুখ পুড়িয়ে ফেলল আমি হাসতে থাকলাম। উনি বললেন…
– তুমি পারো বটে? কিসের মধ্যে কি?

– ( হাসতে থাকি )

– ইশ কি হাসি, কতোটা খুশি হয়েছে ভূতনি।

এবার হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করি…
– আচ্ছা এখন আকাশ ভাইয়ার কথা বলুন, উনি কাউকে ভালোবাসে!

– হ্যাঁ বাসে!

নিশ্চয়ই টিনা বা আনিকা হবে। ইতি বান্ধবী তোমার কপাল পুড়ল। জিজ্ঞেস করি…
– কাকে?

– আমার শালি কে!

অবাক হয়ে বলি…
– আপনার শালি কে, আর আমার তো কোন বোন নেই!

– আছে আছে!

– ইতি!

উনি মাথা নাড়লেন। আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। মানে কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না। এতোটা মিল থাকে কিভাবে। ইতি জানলেই নিশ্চিত নাচা শুরু করে দিত এতোক্ষণে। উনি শান্ত গলায় বললেন..

– অবাক হলে!

– মাথা নাড়লাম।

– আমি কিন্তু হয় নি।

– কেন?

– কারন আমি তোমার মতো বাচ্চা নাহ।
( হেসে )

আমি মুখ ফুলিয়ে চা খেতে থাকি। ভোর অবদি এখানে বসে ছিলাম আমরা। গল্প হয় নি নিশ্চিত তবে ‌ঝগড়া নিশ্চিত হয়েছে। ৫ টার দিকে আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি ‌, খুব ঘুম পাচ্ছিল।‌ সারারাত ঘুযাই নি বলে। উনিও এসে ঘুমিয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টা তিনেক পর উনি আবারও আমাকে ডেকে তুলেন। আমি ঘুম ঘুম চোখে উনার দিকে তাকিয়ে আছি। দেখি বাইরে যাবার জন্য উনি একবারে রেডি হয়ে আছেন। জ্যাকেট পড়তে পড়তে আমাকে বলল…

– তৈরি হয়ে নাও, বেরুতে হবে আমাদের।

হাই তুলতে তুলতে…
– কোথায় যাবো আমরা!

– গেলেই দেখতে পাবে। আমি বাইরে যাচ্ছি!

উনি চলে গেলেন, অতঃপর আমি আবার কম্বল মুড়ো দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এখন ঘুম ছাড়া কিছু করতে মন চাইছে না। উনার ইচ্ছে হলে উনি একা যাক।

কিছুক্ষণ পর মনে হলো আমার শরীরে ঠান্ডা পানি পড়ছে। এই শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানি আমি লাফিয়ে উঠি!
দেখি গ্লাস নিয়ে উনি দাঁড়িয়ে আছে। সেই লেভেলের একটা ধমক দিলেন আমায়।

– আমি কখন জাগিয়ে দিয়ে গেছিলাম আমি, আবার ঘুমালে কেন তুমি!

– আমি…আমি!

ধমক দিয়ে…
– রাখো আমি আমি! উঠো তাড়াতাড়ি করে!
অনেক দিন পর উনার ধমক খেলাম। তাড়াতাড়ি করে উঠে পরলাম। মার খাওয়ার কোনো শখ নেই অবশ্য উনি মারবেন ও না। কিন্তু খুব ভয় করছে। দেখে মনে হচ্ছে আগের স্বভাব ফিরে আসছে। ইশ স্বভাব কেন এতো ক্ষনস্থায়ী। আরেকটু থাকতো ওই স্বভাব টা! আমি তাড়াতাড়ি করে ওয়াসরুম এ চলে গেলাম।

ফ্রেশ হয়ে দরজার উঁকি দিলাম। নাহ উনি রুমে নেই! আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। মন চাচ্ছে এখন আবার একটু ঘুমিয়ে থাকি। হঠাৎ দেখি বিছানার ওপর একটা শাড়ি! নীল রঙের একটা শাড়ি। শাড়ির ওপর একটা চিরকুট, বেশ কিছু চুড়ি,কানের দুল আর কিছু চকলেট ছিলো! চিরকুট এ লেখা ছিল..

” ভূতনি! শাড়িটা পড়ে বাইরে চলে আসো! খবরদার যদি আবার ঘুমিয়েছো। তাহলে সোজা পুকুরে গিয়ে ফেলবো তোমায়, বুঝলে!”

তার চিরকুট পড়ে হেসে দিলাম। উনি জানতেন আমি আবার ঘুমাতে যাবো। শাড়ি’টা হাতে নিলাম। কোন শাড়ি জানি না, এসব ধারনা আমার নেই। তবে শাড়ি’টায় সূক্ষ্ম কিছু কারুকাজ। দেখে মনে হচ্ছে এখানকার দোকান দেখে কিনেছে কারন কারুকাজ টা স্থানীয়। কিছু নীল রঙের রেশমী চুড়ি, ছোট নীল রঙের ঝুমকো। আমি চকলেট খেতে খেতে শাড়ি পড়তে শুরু করি। সেদিনের ঘটনার পর আমি ঘরে তৈরি হলে উনি আর রুমে আসে না। যদি থাকেও তাহলে বাইরে চলে যান।

এগুলো যে আমার জন্মদিনের উপহার। আয়নায় নিজেকে দেখছি, খুব সুন্দর লাগছে দেখতে। এই প্রথম নিজের স্বামীর কাছ থেকে উপহার পেলাম। ভাবতেই আমার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। চুল গুলো মাঝে সিঁথি করে ছেড়ে দিলাম। চোখে ‌হালকা করেই কাজল দিলাম। আর কিছু না! শীত করছিল তবুও পশমী কাপড় পড়লাম না। কেন জানি ইচ্ছে করছে না। অতঃপর বেরিয়ে আসলাম।

এসে দেখি গাড়ির উনি গাড়ির ওপর আসন পেতে বসে মনের সুখে ফোন টিপছে। আমার চুড়ির আওয়াজে আমার দিকে তাকালেন। আমাকে দেখে হাসলেন না ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। কারন টা আমি বুঝিনি। ভালো লাগছিলো না আমায় নাকি। উনি হুট করেই গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির মধ্যে কি জানি খোঁজাখুঁজি করছে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করবো দেখি উনি বাইরে এসে আমার কাছে আসলেন। তার হাতে একটা টিপের পাতা। একটা ছোট নীল রঙের টিপ উনি আমার কপালে লাগিয়ে দেন। উনার স্পর্শ আমি খানিকটা ভড়কে গেলাম।

উনি হেসে বলে ওঠে…
– প্যাকেটে ছিল হয়তো পড়ে গেছে!

– আপনি কাল এইসব কিনেছেন!

– কাল কিনেছি কিন্তু অর্ডার আগেই করেছিলাম।

– কেমন লাগছে আমাকে!

হেসে বললেন….
– পুরোই ভূতনি!

উনার হাসি দেখে আমি কিঞ্চিত হাসলাম। উনি গাড়িতে বসতে বললেন। আমি গাড়িতে বসলাম। অতঃপর উনি গাড়ি চালাতে শুরু করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কোথায় যাচ্ছি। উনি বললেন…
– চা বাগানে!

– চা বাগান!

– হুম সামনেই একটা চা বাগান আছে, মালনিছড়া যে চা বাগান। খুব সুন্দর জায়গাটা।‌ চাইছিলাম একটু সকাল সকাল যাবো কিন্তু তোমার জন্য পারলাম না। কি ঘুমাও তুমি ‌

– বেশ করেছি, কাল রাতে আপনার জন্য ঘুমাতে পারি নি। সারারাত ঝগড়া করলেন আমার সাথে আপনি।‌

– শুধু কি ঝগড়া করেছি নাকি, কাজের কথাও বলেছি।

– হ্যাঁ হ্যাঁ জানি জানি।

– এই কথা দুবার রিপিট করো কেন?

– আমার ইচ্ছা আপনার কি?

– কচু!

– হি হি হি।

– হাসা বন্ধ করো। এখন বলো কি করতে হবে ভেবেছো কিছু!

– ভাবার কি আছে, আকাশ ভাইয়া ইতি কে প্রপোজ করে ফেলবে শেষ।

– প্রপোজ করা মুখের কথা না বুঝলা।

– না বুঝলাম না।

– তুমি বুঝবেও না, বাচ্চা রা এতো কিছু বুঝে না।‌

– হ্যাঁ আর আপনি তো বুড়ো। আপনি বুঝবেন না তো কে বুঝবে!

– তুমি আমাকে বুড়ো বললে… কোন দিক দিয়ে আমাকে তোমার বুড়ো মনে হয়!

মুখ ভেংচি দিয়ে বলি…
– নিজেকে খুব হ্যান্ডসাম ভাবেন না। কিন্তু আপনি মোটেও হ্যান্ডসাম নাহ বুঝলেন।

– না বাচ্চাদের কথায় এতো কান দেই না আমি ‌

– সত্যি কথায় কেউ দেয়ও না।

– ঝগড়া করো না তো!

– এটাই ঝগড়া করিয়েন না, ঠিক মতো গাড়ি চালান। শেষে দুজনে না মরে ভূত হতে হয়।

– তুমি তো আগে থেকেই ভূতনি। আচ্ছা ভূতনি শোন..

– কি?

– আচ্ছা আকাশ প্রপোজ করলে ইতি রাজী হবে তো।

– হবে না কেন? না হওয়ার কোনো কারন আছে নাকি।

– তবুও তোমাদের মেয়েদের মন বোঝা বড় দায়।

– ওহ আচ্ছা আপনারা ছেলেরা তো সাধু নাহ!

– ইশ কি ঝগড়া করতে পারো তুমি।

– আপনি কি কম নাকি ‌

– তোমার সাথে থাকতে থাকতে এখন ঝগড়া করা শিখে গেছি।

– বেশ তো ভালোই হলো। জীবনে একটা ভালো কাজ করলাম।

– ঝগড়া শিখানো ভালো কাজ নাহ ‌

– Important এটা না আপনি কি শিখেছেন , Important এটা আমি শিখাতে পেরেছি। হি হি হি!

– কতো হাসো তুমি!

– হাসলে মন ভালো থাকে বুঝলেন। আপনার মতো গোমরামুখো না আমি!

উনি আড় চোখে আমার দিকে তাকালেন। চা বাগানে যাবার আগে আমরা রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তা করলাম। অতঃপর আমরা চা বাগানে প্রবেশ করলাম। প্রত্যেকটা ভাগ ভাগ, কিছু স্থানীয় লোক চা পাতা তাদের ঝুড়িতে নিচ্ছে।আমি এসব দেখছি। খুব মনোমুগ্ধকর জায়গা টা আর বিশালও। অনেক বড় চা বাগান এটা।‌আমি ঘুরছি আর উনি আমার সাথে সাথে হাঁটছে।হাঁটতে ভালোই লাগছে। এরকম পরিবেশ সবসময় পাওয়া যায় না। ঠান্ডা বাতাস বইছে তবে রোদ ও আছে।‌ কিন্তু রোদের তাপ টা এতো না।তবুও শীত করছে। উনি নিজের জ্যাকেট টা খুলে আমার গায়ে দিয়ে দেন। আমি না বললে উনি বললেন…
– আমার শরীরে আরেকটা গেঞ্জি আছে তুমি পড়ো এইটা।

– এতো শীত আপনার!

– কেন এতোও কি সমস্যা!

– না সমস্যা হবে কেন!

– হুম বেশি দূরে যাবে না, আর একলা তো কোথাও যাবে না বুঝলে।

– হুম হুম বাচ্চা না আমি। জানি সব কিছু!

– জানো বলেই বার বার বলতে হয়।
হঠাৎ উনার একটা ফোন আসে। উনি কথা বলতে বলতে অন্যদিকে চলে যায়। আমি হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে চলে আসি। প্রায় অনেকটা দূরে আসি উনার কাছ থেকে। এখানে সব টাই ঢিলার মতো উঁচু। আমি সেই উঁচু জায়গায় টাই উঠলাম। সেখান থেকে পরিস্কার আকাশ টা দেখতে লাগলাম।

প্রায় অনেকক্ষণ হলো আমি একাই ঘুরছি। আমার ধারনা উনি আমাকে খুঁজে বের করবেন তাই আমি নিজের মতোই করেই ঘুরছি। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ কাঁপা কাঁপা গলায় বলল…
– নি..হা!

গলাটা খুব পরিচিত, এটা আহিয়ান এর গলা। আমি সাথে সাথে পিছনে ঘুরলাম। উনার দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম। এখানে এতো ঠান্ডার মধ্যে উনি ঘেমে একাকার! উনার চুল গুলো এলোমেলো। চোখ কেমন স্থির! ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। হুট করেই উনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। উনার এমন কাজে আমার চক্ষু চড়কগাছ, হতবুদ্ধি’র মতো দাঁড়িয়ে আছি। উনার প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পড়ছিল, খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরেছিলেন আমায়। উনার স্পর্শে আমার সারা শরীর কাপতে লাগলো।

#চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here