ভালোবাসি তোমায় পর্ব -০৬+৭

#ভালোবাসি_তোমায়
#A_mysterious_love_story
#ইরিন_নাজ
#পর্ব_০৬

ফারানের সাথে হুরের পরিচয় প্রায় ছয় মাসের। এই ছয় মাসে হুরের পাগ’লামির শেষ ছিলো না। সেইদিন এর ঘটনার পর হুর খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে ফারানের পুরো নাম ফারান আহমেদ। সে পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। তাদের ভার্সিটির নতুন দালান তৈরির কাজে সে প্রায় প্রায় ভার্সিটি তে আসে। ফারান কে কেউ কখনো মাস্ক ছাড়া দেখে নি। সে সবসময় নিজের মুখ ঢেকে রাখে। তবে এসব নিয়ে অন্যদের মাথা ব্যা’থা না থাকলেও হুরের ছিলো। সে অনেকবার চেষ্টা করেছিল ফারান কে দেখার। কিন্ত সেই ভাগ্য তার হয়ে উঠে নি।

ফারান সপ্তাহে দুই কি তিনদিন হুরদের ভার্সিটি তে আসতো কাজ দেখার জন্য। এক দেড় ঘন্টা সবাইকে ইন্সট্রাকশন দিয়ে চলে যেতো। যেই দিন যেই সময়ে ফারান আসতো তা মুখস্ত ছিলো হুরের। সেই সময়টা তে ক্লাস করতো না হুর। শত ইম্পরট্যান্ট ক্লাস ফাঁ’কি দিয়ে মাঠে অথবা লাইব্রেরি তে বসে থাকতো সে। যতক্ষণ ফারান থাকতো ততক্ষন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো তার দিকে। হুর মাঝে মাঝে নিজেই অবাক হয়ে যেতো এই ভেবে যে এই ছেলের মধ্যে সে পেয়েছে টা কি! এমন পাগ’ল কেনো হলো সে এই ছেলের জন্য! কি আছে এর মাঝে!

হুরের সকল পাগ’লামির সাক্ষী ছিলো লিয়া। হুর ক্লাস ফাঁ’কি দিলেও লিয়া সব ক্লাস ঠিক ভাবে করতো। এরপর বাড়ি গিয়ে সেই পড়া হুরকে বুঝিয়ে দিতো। লিয়া অনেকবার হুর কে বোঝাতে চেয়েছে যে ফারান তার জন্য পারফেক্ট নয়। কেউই হুরের সাথে ফারান কে মেনে নিবে না। পুরো ভার্সিটি হুরকে নিয়ে হাসা-হাসি করে এটাও বলেছে লিয়া। কিন্তু হুরের এতে কোনো হেলদোল নেই। তার এক কথা গায়ের রং দিয়ে কিছু যায় আসে না তার। আর কে কি বললো এটাও সে জানতে চায় না।

হুরের পা’গলামির কাছে লিয়াও একসময় হার মেনে নেয়। সে শুধু মনে মনে প্রার্থনা করে তার বান্ধুবী যেনো কোনোরকম ক’ষ্ট না পায়।

যেদিন গুলোতে ফারান আসতো না, সেই দিনগুলো চর’ম অ’স্থিরতা তে কাটতো হুরের। ফারান কে এক পলক দেখার জন্য ব্যা’কুল হয়ে উঠতো। এর মধ্যে হুরের দিকে নজর পড়ে মুহিবের। হুরকে যেকোনো রূপে নিজের করার জন্য ম’রিয়া হয়ে উঠে সে। কিন্ত হুর তাকে কোনোরূপ পাত্তা দিতো না। সে তো ফারানের মাঝে বিভোর থাকতো। হুর ফারান কে ভালোবাসে জানতে পেরে মুহিব অনেক বার ই ফারানের ক্ষ’তি করার চেষ্টা করেছে। কিন্ত কোনো এক বিশেষ কারণে সে কখনো ফারানের ক্ষ’তি করতে পারতো না।

মুহিব নিয়মিত হুরকে বি’রক্ত করতে থাকায় লিয়া অনেকবারই চেয়েছিলো নিজেদের বাবাদের এই বিষয়ে জানাতে। কিন্ত হুর লিয়া কে তা করতে দেয় নি। হু’রের ভ’য় ছিলো যদি তাদের বাবারা এই বিষয়ে জানতে পারে তাহলে তাদের অন্য ভার্সিটি তে এডমিশন করিয়ে দিবে! তাহলে হুর আর ফারানের দেখা পাবে না।

হুর মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল, একবার ফারানের অফিস বা বাড়ির ঠিকানা জানতে পারলে তাদের বাবাইকে মুহিবের বি’রক্ত করার বিষয়টা জানাবে। কিন্ত কোনোভাবেই ফারানের বাড়ি বা অফিসের কোনো হদিস পাচ্ছিলো না হুর।

এর মাঝে যে হুর ফারানের সামনে পড়ে নি তা নয়। সে বহুবার ফারানের সামনে গিয়েছে। সে নিয়মিত কোনো না কোনোভাবে ফারান কে বির’ক্ত করেছে। অসংখ্য বার প্রেম নিবেদন করেছে। নিজের ভালোবাসার কথা ফারানের কাছে ব্যক্ত করেছে। কিন্তু ফারান তা মানতে নারা’জ। ফারান এর এক কথা, সে হুরকে ভালোবাসতে পারবে না।

শুরু শুরুতে ফারানের কাছে মনে হতো হুর তার সাথে দুষ্ট’মী করে অথবা কেউ da’re দিয়েছে। কিন্তু সময়ের সাথে ফারান ও বুঝে যায় হুর তাকে সত্যিই ভালোবাসে। ফারান হুরের থেকে আরও দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। আগে হুরের সাথে কথা বললেও ধীরে ধীরে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।

ফারানের কাছ থেকে বারবার এমন ব্যবহার হুরের ছোট্ট হৃদয় টাকে চু’র্ণ-বি’চুর্ণ করে দিচ্ছিলো। কিন্ত সে হার মানে নি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। ফারান যখন হুরের সাথে একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দেয়, হুর তখন ভে’ঙে পড়েছিল।সেই সময়ে লিয়া তাকে সামলিয়েছে।

হুর এবার সিদ্ধান্ত নেয় ফারান কে শেষ বারের মতো নিজের ভালোবাসার কথা বলবে। আর ফারান কেনো তাকে ভালোবাসতে পারবে না তা জানতে চাইবে।

শেষ যেদিন হুরের সাথে ফারানের দেখা হয়, সেদিন হুর অনেক কা’ন্নাকা’টি করে ফারানকে তার সাথে ক্যান্টিন এ যাওয়ার জন্য রাজি করিয়েছিলো। হুরের বি’দ্ধস্ত অবস্থা দেখে ফারান হুরের সাথে কথা বলতে রাজি হয়।

বাকিটুকু তো আপনারা জানেন ই।

————————————————————————

এতক্ষন টেবিলে মাথা রেখে কেঁ’দে যাচ্ছিলো হুর। মনে করছিলো গত ছ’ মাসের সকল স্মৃতি। হুট করে কাঁধে হাত পড়ায় কেঁ’পে উঠলো হুর। পিছনে তাকিয়ে দেখলো লিয়া। লিয়া কে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না হুর। লিয়া কে জড়িয়ে ধরে ডুক’রে কেঁ’দে উঠলো।লিয়া হুরের কা’ন্না দেখে অস্থি’র হয়ে উঠলো। বুঝতে বাকি রইলো না সি’রিয়াস কিছু হয়েছে। কিন্তু লাইব্রেরি তে কথা বললে সমস্যা হবে তাই হুরকে শান্ত করতে লাগলো। প্রিয় বান্ধুবীর কা’ন্না দেখে চোঁখ ভরে উঠলো লিয়ার। নিজেকে কোনোমতে সামলে হুর কে নিচু আওয়াজে বললো,

-“চল হুর আমরা বাইরে যাই। আজকে আমরা ক্লাস ফাঁ’কি দিয়ে অনেক ঘুরবো কেমন! চল চল। ”

কথা শেষ করে হুর কে টে’নে তুললো লিয়া। হুর কে নিয়ে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে গেলো।

এতক্ষন আড়াল থেকে সবটাই দেখছিলো অচেনা ব্যক্তি টা। তার চোঁখ লাল হয়ে আছে। রা’গে না ক’ষ্টে বুঝার উপায় নেই। সে বিড়বিড় করে বললো

-“খুব ক’ষ্ট পেয়েছো তাইনা হুরপরী! ঐ ফারানের জন্য তোমার এতো ক’ষ্ট হচ্ছে তাইনা! এর শা’স্তি তো ফারান কে পেতেই হবে। তোমার চোঁখের প্রতি ফোঁটা অ’শ্রুর মূল্য তাকে দিতে হবে। ”

লোকটা বাঁকা হেসে বলে উঠলো,

-“খুব জলদি তোমার সামনে আসবো আমার পরী টা। সব অপেক্ষা শেষ হবে। তোমাকে আমার করে নিবো চিরদিনের জন্য। তোমার সকল দুঃ’খ ক’ষ্ট মুছে দিবো। তোমার দেহ, মন সব কিছুতেই শুধু আমার বিচরণ থাকবে। শুধুই আমার। শীঘ্রই আমার এতদিনের অপেক্ষার পালা শেষ হতে যাচ্ছে। ”

————————————————————————–

হুর কে নিয়ে একটা রিকশা তে উঠলো লিয়া। গন্তব্য তাদের প্রিয় পার্ক। তাদের দুইজনের মধ্যে কারোর মন খা’রা’প হলেই তারা সেই পার্কে চলে যায়। চমৎকার একটা জায়গা। এক নিমিষেই তাদের মন ভালো হয়ে যায় সেখানে গেলে। আজকেও সেই আশায় হুর কে নিয়ে সেই পার্কে যাচ্ছে লিয়া। উদ্দেশ্য একটাই। হুরের মন ভালো করা।

গন্তব্যে পৌঁছে গেছে হুর আর লিয়া। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে সামনে হাঁটা দিলো লিয়া। এক হাত দিয়ে হুরের হাত শ’ক্ত করে চে’পে ধরে আছে। পার্কে প্রবেশ করে দেখলো তেমন একটা মানুষ জন নেই। এই ভোরদুপুরে মানুষজন কম থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। তারা কিছুটা সময় নিরিবিলি তে কাটাতে পারবে। হুরের এই সময় এমনি একটা পরিবেশ দরকার ছিলো।

একটা গাছের নিচে গিয়ে বসলো দুই বান্ধুবী। সামনে একটা লেক আছে। লেক এর পানি এতটা স্বচ্ছ যে পানির মাছগুলো দেখা যায়। হুর একদৃষ্টিতে সেই লেক এর দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছে। লিয়া হুর কে ধা’ক্কা দিয়ে বললো,

-“কি হয়েছে দোস্ত! আমাকে তো এটলিস্ট বল! ”

হুর লেক এর দিকে দৃষ্টি রেখেই উত্তর দিলো,

-“সে চলে গেছে লিয়া। হারি’য়ে গেছে সে। আমি হয়তো আর কোনোদিন তার দেখা পাবো না। আমার প্রথম অনুভূতি আমায় এতো কেনো ক’ষ্ট দিলো রে লিয়া!”

আবার মুখ চে’পে কেঁ’দে ফেললো হুর। লিয়া হুরকে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,

-“সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্য করেন হুর। মিস্টার ফারান যদি তোর ভাগ্যে লেখা থাকে তাহলে সে তোর হবেই সেটা যেভাবেই হোক না কেনো। আর যদি তোর ভাগ্যে অন্য কিছু থাকে তাহলে যতোই কাঁ’দিস না কেন কোনো লাভ নেই। তাই নিজেকে শ’ক্ত কর হুর। নিজের ভাগ্যের উপর,সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখ। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু পাবি। ”

হুর নিজের চোঁখ মুছে বলে উঠলো,

-“হ্যা, আমি নিজেকে শ’ক্ত করবো। সে যদি আমার ভাগ্যে থেকে থাকে তাহলে সে যেভাবেই হোক আমার হবেই। আমার আল্লাহ জানেন আমি তাকে কতোটা ভালোবাসি। আমি তাকে সারাজীবনের জন্য নিজের করে চাই। এরপর বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই হবে। ”
#ভালোবাসি_তোমায়
#A_mysterious_love_story
#ইরিন_নাজ
#পর্ব_০৭

এক মাস পার হয়ে গিয়েছে। হুর নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়েছে। আগে যেমন সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো, এখনো ঠিক সেই ভাবেই সবাইকে মাতিয়ে রাখে। হৃদ আর লিয়ার সাথে দু’ষ্টুমি, মায়ের ব’কা, বাবার আদর সব নিয়ে স্বাভাবিক আছে সে। তবুও একা যখন থাকে তখন মনে পড়ে প্রিয় মানুষটার কথা।

————————————————————————–

আজকে একটা এক্সট্রা ক্লাস থাকায় বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হলো হুর আর লিয়ার। লিয়া নিজের বাড়ি চলে গেলো। হুর নিজের বাড়িতে ঢুকামাত্র বাহারী খাবারের ঘ্রাণ তার নাকে এসে লাগলো। সারা বাড়ি খাবারের ঘ্রানে মো মো করছে। খাবারের ঘ্রাণ নাকে লাগা মাত্র পেট যেনো মো’চড় দিয়ে উঠলো ক্ষুধায়। আজকে সারাদিনে তেমন কিছু খাওয়া হয়নি তার। সেই সকালে অল্প খেয়ে বেরিয়েছিল। আর দুপুরে একটা স্যান্ডউইচ খেয়েছে। আর এখন ফেভারিট খাবারের ঘ্রাণ নাকে লাগা মাত্র মনে হচ্ছে এক গামলা খাবার দিলেও খেতে পারবে।

হুর আর দেরি করলো না। এক দৌড়ে রুমে চলে গেলো। উদ্দেশ্য একটাই দ্রুত ফ্রেস হয়ে খেতে বসবে।

ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখলো লিয়া আর হৃদ বসে বসে চকলেট খাচ্ছে আর টিভি দেখছে। হুর সোজা রান্নাঘরে চলে গেলো। হেনা আর লিয়ার আম্মু দুইজন মিলে বাহারী বাহারী খাবার রান্না করছে। হুর অবাক না হয়ে পারলো না।

-“আম্মু আজ কি কেউ আসবে নাকি!”

-“হুম তোর বাবাই এর একটা কলেজ ফ্রেন্ড আসবে। অনেকদিন বলে তোর বাবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ ছিলো না। কালকে একটা মিটিং করতে গিয়ে দেখলো তোর বাবাই এর নিউ বিসনেস পার্টনার তার সেই কলেজ ফ্রেন্ড টা। এতদিন পর বন্ধু কে পেয়ে তাকে আজকে বাসায় দাওয়াত করেছে। তারা চলেই আসবে কিছুক্ষনের মধ্যে। ”

-“আচ্ছা ঐসব বাদ দাও। আমাকে জলদি কিছু খাবার দাও। ক্ষুধায় পেট জ্ব’লে যাচ্ছে। জলদিইইই! ”

-“দিচ্ছি থাম! এমনিতে তো খা খা করেও খাওয়াতে পারিনা! হুঁহ! ”

হুর খাবার নিয়ে সোজা ড্রয়িং রুমে চলে আসলো। হৃদ আর লিয়া এখানেই বসে ছিলো। লিয়ার পাশে ধু’ম করে বসে পড়লো হুর।

-“কিরে তুই রোহিঙ্গা দের মতো সারাক্ষন আমাদের বাসায় থাকিস কেন! তোর কি বাড়ি ঘর নাই!”

-“হুরের বাচ্চা জানিস না কেনো আসছি! বাসায় কেউ নেই। আমি একা কি করবো!”
দাঁত কট’মট করে বললো লিয়া।

-“আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। তুই চক্কেত খা বাবু। আমিও খাবার খাই। অনেক ক্ষুধা লেগেছে। ”

হুর গোগ্রা’সে খাবার খাচ্ছে। তার আজকে আসলেই প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছিলো। হুট করে কেউ একজন বলে উঠলো,

-“এই যে মিস, এভাবে রা’ক্ষসীর মতো খাচ্ছেন কেনো! কয় বছর ধরে খান না কিছু!? ”

হুর চোঁখ বড়োবড়ো করে সামনে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো। সামনে একটা সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। কথাগুলো যে সেই বলেছে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। হুরের তাকানো দেখে যুবক টা আবার বলে উঠলো,

-“এতক্ষন তো রাক্ষ’সীর মতো খাবার খাচ্ছিলেন। এখন দেখি আমাকে চোঁখ দিয়ে গি’লে খাচ্ছেন! আমি জানি আমি অনেক হ্যান্ডসাম তাই বলে এভাবে তাকাবেন! আমার নজর লেগে যাবে তো… ”

হুর হুট করে দাঁড়িয়ে দ্রুত নিজের রুমে চলে গেলো। হুরের চলে যাওয়া দেখে লিয়া আর হৃদ হেসে লু’টোপু’টি খেতে লাগলো। হৃদ বললো,

-“ভাইয়া আপনাকে তো চিনলাম না!”

পিছন থেকে হাসান সাহেব জবাব দিলেন,

-“ও হচ্ছে ফাইয়াজ। তোমার ভাইয়া হয় । তোমাদের কালকে আমার বন্ধুর কথা বলেছিলাম না? ও আমার বন্ধুর ছেলে। আর এই যে তোমাদের আঙ্কেল। ”

লিয়া আর হৃদ তাকিয়ে দেখলো পিছনে তাদের বাবার বয়সী একটা আঙ্কেল আছে। তারা দুইজনই সালাম দিলো আর টু’কটাক কথা বার্তা বললো।

হৃদ ফাইয়াজের সামনে গিয়ে বললো,

-“হ্যালো ভাইয়া… ”

-“হ্যালো চ্যাম্প। কেমন আছো তুমি?”

-“আমি তো বিন্দাস আছি। আর আপুকে যেই পঁ’চানি টা দিলে না! আঃ সেই বিনোদন পেলাম। ”

-“তোমার রা’ক্ষসী আপু টা তো পালিয়ে গেলো। এখন মনে হয় রুমে বসে রা’ক্ষসীর মতো খাচ্ছে। ”

হৃদ আর ফাইয়াজ দুইজনই উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো।

—————————————————————————-

হুর খাবার রেখে নিজের রুমে পায়চারি করছে অস্থির ভাবে।

-“এটা কিভাবে সম্ভব! আমার চোঁখ ভুল হতে পারে না। নিশ্চই কোনো রহস্য আছে। আমাকে সেই রহস্য খুঁজে বের করতেই হবে। সন্দেহ করে আমি কাউকে কিছু বলতে পারি না। আমাকে নিশ্চিত হতে হবে আমি যা সন্দেহ করছি তা সঠিক কিনা…. ”

এরমধ্যে হুর শুনতে পেলো তার বাবাই তাকে ডাকছে।

—————————————————————————

-“আম্মু এই যে এটা হচ্ছে তোমার ফরিদ আঙ্কেল। আর এইটা তোমার ফরিদ আঙ্কেল এর ছেলে ফাইয়াজ। আর ফরিদ এইটা আমার মেয়ে হুর। ”

হুর ফরিদ সাহেব কে সালাম দিলো।

-“হুর বাহ্ খুব সুন্দর নাম তো। যেমন নাম টা সুন্দর তেমন আম্মু টাও সুন্দর। তো আম্মু কেমন আছো তুমি? পড়াশোনা কেমন চলছে? ”

-“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। ”

মিসেস হেনা বললেন,

-“হুর, হৃদ যা তোরা ফাইয়াজ বাবা কে নিয়ে ছাদ থেকে ঘুরে আয়। ততক্ষনে আমরা খাবার রেডি করে টেবিলে সাজাচ্ছি। ”

হৃদ লাফ দিয়ে উঠে বললো,

-“চলো ভাইয়া ছাদে যাই। অনেক মজা হবে। রাতে ছাদে যাওয়ার মজাই আলাদা। ”

হৃদ ফাইয়াজ এর হাত ধরে লাফাতে লাফাতে ছাদে চলে গেলো। হুর লিয়ার সাথে আসতে ধীরে ছাদে উঠতে লাগলো।

-“দস্ত ফাইয়াজ ভাইয়া টা কিন্তু সেই রে। উফঃ ক্রাশ খাইসি। কি cute আহা!”

হুর মুখ বাঁকা করে বললো,

-“cute না ছাই। কেমন করলো আমার সাথে। একটু তাড়াহুড়ো করে নাহয় খাচ্ছিলাম তাই বলে আমাকে রা’ক্ষসী বললো!”

-“ঠিকই তো বললো। তুই তো একটা রা’ক্ষসী ই!”

কথাটা বলেই ছাদের দিকে দৌড় দিলো লিয়া। কারণ সে জানে হুর এখন তার পিঠে ধু’ম’ধা’ম চার পাঁচটা কি’ল না দেয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না।

হুর লিয়ার পিছন পিছন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ছাদে এসে হুট করে কিছু একটার সাথে বেঁ’ধে পড়তে নিলো। হুর নিজের চোঁখ মুখ খি’চে বন্ধ করে নিলো। আজকে আর তার কোমরের হা’ড়গো’ড় খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু দুই মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন কোনো ব্যাথা লাগলো না তখন সে ধীরে ধীরে চোঁখ খুলে দেখলো ফাইয়াজ তার হাত ধরে আছে এক হাত দিয়ে। আর সে এখনো পিছন দিকে হে’লে আছে। ছেড়ে দিলেই নিচে পড়ে যাবে।

ফাইয়াজ হুর কে আরেকটু নিচের দিকে ঝুকিয়ে বললো,

-“মিস হুর না কি জানো! যাই হোক আগে তো আপনাকে শুধু রা’ক্ষসী ভেবেছিলাম এখন দেখি আপনি একটা বাঁদর ও। এভাবে রাতে ছাদে দৌড়া দৌড়ি করছিলেন! এখন ফেলে দেই নিচে? ”

হুর কে আরেকটু নিচু করতেই হুর চি’ৎকার করে উঠলো,

-“নাহহহ! ফেলবেন না প্লিজজ। ”

-“কেনো ফেলবো না? আপনি তো এমনিতেও পড়তেন!”

হুর মুখ টাকে কাঁদো কাঁদো করে বললো,

-“প্লিজজ ফেলিয়েন না। আমি অনেক ব্যাথা পাবো তো।”

-“আচ্ছা ফেলবো না। কিন্ত আমার একটা শর্ত আছে!”

-“কি শর্ত!”

-“সেটা এখন বলবো না। সময় আসলে তখন বলবো। কিন্ত তখন আপনি না করতে পারবেন না প্রমিস করুন!”

-“আ… আচ্ছা শর্ত মানবো প্রমিস তাও ফেলিয়েন না। ”

ফাইয়াজ হুর কে এক টা’ন দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। হুর ফাইয়াজ এর বুঁকের উপর হুম’ড়ি খেয়ে পড়লো। কিন্ত সেদিকে হুরের খেয়াল নেই। সে তো বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ব্যস্ত। হঠাৎ নিজের অবস্থানের কথা খেয়াল হতেই হুর মাথা উপরে তুললো। ফাইয়াজ তার দিকে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হুরের বুক কেঁ’পে উঠলো। সে এক লাফে ফাইয়াজ এর কাছ থেকে দূরে সরে এক পলক ফাইয়াজ এর দিকে তাকিয়ে ছাদের অন্য দিকে দৌড় দিলো।

ফাইয়াজ হেসে জোরে বলে উঠলো,

-“মিস রা’ক্ষসী আপনি আবার দৌড়াচ্ছেন! পড়ে যাবেন তো!”

কিন্তু হুর থামলে তো!

চলবে?

(

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here