ভালোবাসি হয়নি বলা পর্ব -১০

ভালোবাসি_হয়নি_বলা

লেখকঃmahin_al_islam
পর্বঃ১০

উনি মেয়ে দুটোর সাথে যেটা করলেন সেটা আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি,,, একটা মানুষ এতটা খারাপ হতে পারে ছি,,,
এটা আপনি কিভাবে করতে পারলেন!

মাহিনঃ ঠাসসসস,ঠাসসসস কুত্তার বাচ্চা আমি তোদেরকে বলছিলাম না তোরা আমার সাথে কথা বলবি না তোরা এখান থেকে চলে যা তোদের জন্য এখন আমাকে ভুল বুঝতাছে তোদের মত মেয়েকে তো আমি

১ম মেয়েঃ অই কুত্তার বাচ্চা তুই আমাকে চিনিস তুই আমাকে থাপ্পর মারলি এখন যদি আমি ইচ্ছা করি তোকে আমি এখানে মেরে ফেলতে পারি তুই আমাকে জানিস আমি কে

মাহিনঃ তুই কে রে তোর কত শক্তি আছে যা ফোন দিয়ে ডাক তোর বাপকে যদি আমাকে কিছু করতে পারে তারপর বলিস ভাগ এখান থেকে

২য় মেয়েঃ আপনি মোটেই কাজটা ঠিক করলেন না এজন্য আপনাকে পস্তাতে হবে

মাহিনঃ এখান থেকে যাবি নাকি পিটাইতে পিটাইতে মেরে ফেলবো এখান থেকে যা আমি আমার রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না তাই ভালই ভালই বলছি এখান থেকে চলে যা

আমি এখন থেকে দাঁড়িয়ে দেখতেছি মেয়ে দুটো যাচ্ছে না ওখানে দাড়িয়েই আছে

আর উনার সাথে কথা কাটাকাটি করতেছে আমি বুঝতে পারলাম উনি এখন প্রচুর রেগে আছেন কখন যে কি করে বসবে পরে আবার

আমি আর ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে ওনাদের কাছে চলে গেলাম

আমিঃ নিজেকে কি মনে করেন আর আপনি এতটা নিচু মনের হতে পারেন কিভাবে,, না হয় মেয়ে দুটো আপনার সাথে কথা বলতে এসেছে তাই বলে আপনি উনাদের সাথে এরকম ব্যবহার করতে পারেন না এটা ঠিক না,,,

মাহিনঃ আপনি যেটা করবেন আমার সাথে সেটা ঠিক? আর আমি কিছু করলে সেটা অন্যায় তাই না

আমিঃ আমি সেরকম কিছু বলতেছি না এখন আপনি আমার সাথে আসেন

আর আপুরা আমি অনুরোধ করে বলতেছি প্লিজ কিছু মনে করিয়েন না ওনার একটু রাগ বেশি তো তাই আপনাদের সাথে এরকম ব্যবহার করে ফেলছে প্লিজ উনাকে ক্ষমা করে দিন আর আপনারা যে কাজে এসেছ সেই কাজে চলে যান কিছু মনে করবেন না প্লিজ আপুরা

তারপর মেয়ে দুইটা চলে গেল কিন্তু যাওয়ার আগে বলে গেল যে ওনাকে ছাড়বে না

আমিঃ এখন আপনার মন শান্তি হয়েছে তাইতো এখন আসেন আমার সাথে যদি কখনো বিপদে পড়েন তখন কেউ আপনাকে সাহায্য করতে যাবে না আপনার এই রাগের কারণে বুঝছেন

মাহিনঃ আমি কারো কাছ থেকে সাহায্য চাইবো না বুঝছেন আমি যদি মরে যাই তো যাবো তাও কারো কাছ থেকে সাহায্য চাই না আমি

আমিঃ আচ্ছা আপনি এরকম কেন বুঝিনা আপনার এত রাগ কেন

মাহিনঃ দেখুন এটা রাস্তা এখানে এসব নিয়ে সমালোচনা না করাই ভালো আপনি ভিতর যান আমি এখানে আছি আর আপনার কতক্ষণ লাগবো বাহিরে আসতে

আমিঃ সঠিক জানিনা ওর সাথে কথা বলতে হবে কবে রিলিজ দিবে আমার ভাইকে

মাহিনঃ আপনি দোকান থেকে ঘুরে আসুন আমার একটু কাজ আছে আমার হস্পিটালের ভেতর আমার একটু কাজ আছে

আমিঃ হসপিটালের ভিতরে আপনার আবার কিসের কাজ

মাহিনঃ আমার একটু সমস্যা হচ্ছে আমি একটু ডাক্তার সাথে কথা বলবো আপনি আসেন আমি ডক্টর সাথে কথা বলে আসি

আমিঃ কেন আপনি তো ঠিক আছেন আপনার কি হলো

মাহিনঃ উফফফফ এতো প্রশ্ন করলে কি চলে আপনি জানতো আমি একটু ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসি

তারপর আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ দোকান থেকে কিছু ফলমূল কিনে নিতে গেলাম আর উনি হসপিটালের ভিতরে প্রবেশ করলেন

মাহিনঃ আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল কেমন আছেন

ডক্টর ওমর ঃ এইত বাবা ভালো আছি তুমি কেমন আছ

মাহিনঃ আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি আঙ্কেল আর আমি যে ব্যাপারে এসেছি আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন

ডক্টর উমর : হ্যাঁ বাবা তোমার কথামতো তো সব করলাম এখন রিলিজ নিয়ে তুমি কথা বলতে চাইছো তাই তো

মাহিনঃ হ্যাঁ আর আপনি কিভাবে বুঝতে পারলেন যে আমি রিলিজ নিয়ে কথা বলতে এসেছি

ডক্টর ওমর ঃ না আমার মনে হল তাই বললাম হাহাহাহাহাহা

মাহিনঃ আচ্ছা আঙ্কেল তো আর কত টাকা দিতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে

ডক্টর বেশি না বাবা অল্প কিছু টাকা দিলেই হয়ে যাবে মাত্র 20 হাজার টাকা হলেই এনাফ

মাহিনঃ এই নেন টাকাটা আর এটা গোপনে থাকে যেন এখনো প্রকাশ করার দরকার নেই আমি এখন আসি ভালো থাকবেন

ডক্টর ওমরঃ আচ্ছা বাবা কখনো কোনো সাহায্য লাগলে বলিও যথেষ্ট চেষ্টা করব

মাহিনঃ ধন্যবাদ আঙ্কেল ,,,

আমি দোকান থেকে কিছু ফল মুল নিয়ে আসলাম এসে কেবিনের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি আম্মু আর ভাইয়া কথা বলতেছে

আমিঃ তো আমার ভাইয়াটার এখন কেমন লাগতেছে

মিলনঃ জ্বী আপু অনেক ভালো লাগতেছে আমি কবে বাড়ি যাবো

আমিঃ এখন আর বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না তোমাকে কয়েক দিন রেস্টে থাকতে হবে নয়তো তুমি বাসায় গিয়ে বাঁদরামো শুরু করে দিবে তখন আবার রোগ বেশি হবে তখন তোমাকে নিয়ে টেনশন করতে হবে তাই তুমি এখানে ধৈর্য ধরে দুই একটা দিন রেস্ট এ থাকো তাহলে আর কখনো তোমার সমস্যা হবে না

মিলনঃ ওকে আমার লক্ষ্মী আপু তুমি যা বলবে আমি তাই শুনবো

আম্মুঃ ফলগুলো আমাকে দে আমি দিয়ে কেটে দেই ওকে

আমিঃ ওকে আম্মু

আম্মুঃ তোকে এইরকম দেখাচ্ছে কেন মা তোর কি কিছু হয়েছে রাতে

আমিঃ আরে আম্মু তুমিও না সবসময় একটু বেশি বেশি ভাবো তাইনা আমার কিছুই হয়নি আমি একদম ঠিক আছি তোমার চোখে তো সবসময় আমাকে সন্দেহ লাগে তাইনা

ammu: আরে তুই সবসময় এরকম ব্যবহার করিস কেন আমার সাথে আমি কি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারি না

আমিঃ আরে আম্মু আমি তো বললাম আমি ঠিক আছি,,

আম্মুঃ আচ্ছা তুই এখন একটু বাসায় যা তো মা

আমিঃ আমি তো একটু আগে আসলাম বাসা থেকে এখন আবার বাসায় যাইতে বলতেছো

আম্মুঃ আরে মা এখন একটু বাসায় যা তুই আমি তোর ভাইয়ের সাথে আছি এখানে সমস্যা হচ্ছে না আমার সব ঠিক আছে দুজন নার্স আছে সবসময় দেখাশুনা করে তুই একটু বাসায় যা বাসা একটু ভালোভাবে গুছিয়ে নিস এ কয়েক দিন থেকে তো বাসায় ভালো রকম কোনো কিছু করা হয় না তুই একটু বাসায় যা

আমিঃ ওকে যাচ্ছি এখন আবার না গেলে কথা শুনতে হবে তোমার নানা ধরণের কথা শুনতে হবে তার থেকে আমি এখন চলে যাই আবার বিকেলে আসবো

আম্মুঃ ওকে যা আর রাস্তায় দেখেশুনে চলাফেরা করিস একটু মা বলা তো যায় না এখনকার বকাটে ছেলে পেলেদের কথা

আমিঃ ওসব নিয়ে তোমাকে একদম টেনশন করতে হবে না আমি আসতেসি তাহলে

তারপর কেবিন থেকে বেরিয়ে ভাবতে লাগলাম কাল থেকে তো বাসায় যাওয়া হয়না আম্মুকেব তো মিথ্যা কথা বললাম এখন একটু বাসায় গিয়ে দেখতে হবে বাসাটা একদম ফাঁকা পড়ে আছে

তারপর আমি বাহিরে গিয়ে দেখি উনি আগের মত গাড়িতে হেলান দিয়ে হেডফোন কানে লাগিয়ে গান গান শুনতেছে

আমাকে বাইরে আসতে দেখে কান থেকে হেডফোন খুলে আমার দিকে এগিয়ে আসলেন

আমিঃ গাড়িতে উঠেন আমার বাসা নিয়ে যান আমাকে

উনি কিছু বললেন না চুপচাপ গাড়িতে বসে গাড়ি চালাতে লাগলেন আর আমি ওনার পাশের সিটে বসে বাইরের দৃশ্য দেখতেছি আর উপভোগ করতেছি

আমিঃ আচ্ছা আপনি তো আমাকে একটি বারের জন্য জিজ্ঞাস করলেন না আমি কেন আপনাকে আমার বাসায় যাইতে বললাম

মাহিনঃ আমার এখানে প্রশ্ন করার কি আছে আপনি বাসা যাইতে চাইতেছে না আমিও আপনাকে বাসায় নিয়ে যাইতেছি

আমিঃ তাও জিজ্ঞেস করবেন না কেন বাসায় যাচ্ছি

মাহিনঃ আমার না এখনো কোনো কথা বলতে ইচ্ছা করতেছে না একটু চুপ থাকবেন,,

তারপর দুজনের মাঝে নীরবতা চুপচাপ গাড়ি চলতে লাগল আমাদের দুজনের মাঝে কোন কথাবাত্রা হয়নি কিছুক্ষণ পর আমরা আমাদের বাসায় পৌঁছে গেলাম

আমিঃ নেমে বাসার ভিতরে আসেন

মাহিনঃ না আমি গাড়িতে আছি আপনি যান ভিতরে যান আমি গাড়িতে বসে আছি

আমিঃ আমার এখন কোথাও যাচ্ছি না এখানে থাকতে হবে কিছুক্ষণ তারপর হসপিটালে যাব তাই বলতেছি এখন বাসায় আসেন

তারপরও উনি নেমে সোজা হয় আমার পিছু পিছু বাসায় আসলেন,,

বাসার ভিতরে প্রবেশ করার পর উনি আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন বুঝতে পারলাম না হঠাৎ এরকম করার কি আছে

উনার ঠোঁট দুটো আমার ঘাড়ে গভীরভাবে বসিয়ে দিলেন,, এবং একের পর এক কিস করতে লাগলেন

উনি আমাকে ঘুরিয়ে আমার ঠোঁট জোড়া উনার ঠোঁট দিয়ে আঁকড়ে ধরলেন

আমি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ছি এসব কি হচ্ছে এতক্ষণ তো ভালোই ছিল এখন আবার কি হলো ওনার

উনি হঠাৎ করে ওনার হাত দিয়ে আমার পেটে স্লাইড করতে লাগলেন

চলবে…….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here