মনের_গভীরে_তুমি পর্ব ১

আজ আমার বাসর রাত।লাল শাড়ি গয়না পরে বউ সেজে বসে আছি বাথরুমে।হ্যা বাথরুমে।যেখানে ফুল সাজানো খাটে বসে থাকার কথা ছিলো।আজ রাতটা বাথরুমে কাটাবো মন স্থির করেছি ।কারন আমার ওই রাক্ষস বরের সামনে আমি যাবো না কারন ওনি আমায় দেখলেই অত্যাচার শুরু করে দেবে তার থেকে ভালো এই বাথরুম।

বাথরুমে অনেক ক্ষন বসে আছি।এখনো কোনো সাড়াশব্দ পাইনি।হয়তো স্যার এখনো রুমে আসেনি।তাই টাইম কাটানোর জন্য ফোনটা নিয়ে একটু গেম খেলতে লাগলাম।আর আনমনে গান করছি ।অপরাধী গানের নকল করে ।

—“বাথরুম রে বাথরুম তুই যদি না থাকতিরে।আমার কি হতো রে ।ওই রাক্ষস বরটা আমার ওপর অত্যাচার করতো রে । ও বাথরুম তুই আমার অনেক উপকার করলি রে ।তোর এই ঋণ আমি কেমন করে শোধ করবো রে ”

হঠাত দরজা খোলার শব্দ পেলাম।মনে হয় রাক্ষস টা ঘরে এলো।আমি গান থামিয়ে দিলাম ।এবার চুপটি করে বসে থাকলাম।

তখনই রাক্ষস টা বলল

—“এই মেয়েটা আবার কোথায় গেলো? ওর তো এখানে থাকার কথা গেলো কোথায়?আজব তো ।
তার ছেঁড়া মেয়ে একটা”

তার ছেঁড়া কথাটা আরাভ একটু জোরেই বলে।আর কথাটা টিপ এর কানে চলে যায়।টিপ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো আর চেঁচিয়ে বলল ..

—“আমি তার ছেঁড়া না আপনি তার ছেঁড়া।রাক্ষস শয়তান সিমপান্জি কোথাকার”।

আরাভ এর কানে কথা গুলো আসতেই আরাভ চমকে গিয়ে বলল ।
—“এই তুমি কোথায়? কোথা থেকে বলছো?

টিপ নিজের মাথায় মেরে মনে মনে বলল
—“যাহ এটা কি করলাম হায়রে উনি তো বেশ বুঝেছেন আমি বাথরুমে”

আরাভ আবার বলল ।।
—“টিপ তুমি বাথরুমে আছো? বেরিয়ে এসো ।বলছি।”

—“না আমি বের হবো না এখানেই থাকবো”
—“কিন্তু আমি ফ্রেশ হবো বেরিয়ে এসো টিপ”
—“না বের হবো না”
—“টিপ আমার বাথরুমে কিন্তু অনেক টিকটিকি আছে ”

কথাটা বলতে দেরী হলেও টিপের শুনতে দেরী হলো না দরজা খুলে ছুটে এসে বিছানার ওপর।
আরাভ ওর কান্ড দেখে রাগবে না হাসবে বুঝতে পারছে না।আরাভ গম্ভীর ভাবে বলল

–“এসব কি টিপ ।লুকিয়েছিলে কেনো? বাথরুমে ।”
—“আপনার ভয়ে”
—“কিহ আমার ভয়ে ভালো তো আমাকে এই ভাবেই ভয় পাবে কেমন “।
—“কখনো না আপনাকে আমি ভয় পাবো না ব্যাস”
—“আজ আমার বিয়েটা কে ভাঙ্গিয়েছে?”
—“আমি কিন্তু আমি শুধু ওকে বলেছিলাম যে ওর মন যদি না সায় দেয় তাহলে এই বিয়ে না করতে এতে আমার কি দোষ”

—“তুমি জানো এই বিয়েটা না হলে আমার পরিবারের মান সম্মান কথায় যেতো? এই জন্যই তোমাকে জোর করে বিয়ে করা।বুঝেছো?কারন ক্ষতি যখন করেছো ক্ষতিপূরণ তো তোমাকেই করতে হতো তাই না? ”

—“আমার ঘুম আসছে।ঘুমাবো”
—“না ঘুমাবে না তুমি সারারাত জেগে থাকবে”।
—“মানে সারারাত জেগে কি করবো? ”

আরাভ রাগি কন্ঠে বলল
—“যেটা বলছি সেটা করো ফালতু বকবক আমার পছন্দ নয় জানো না।নামো আমার বেড থেকে “।

টিপ নেমে সোফায় বসে পড়ে।আর দু ঘন্টা আগের কথা গুলো ভাবতে লাগল।

ফ্লাসব্যাক

টিপ আরাভের কম্পানিতে কাজ করে তাই।আরাভের বিয়েতে এসেছিল।
টিপ চুপিচুপি বউ এর রুমে ঢুকে।
নাফিসা আর সাথে আরাভের বিয়ে।
টিপ নাফিসার কাছে যায়।

—“হ্যালো ”
নাফিসা টিপ কে না চিন্তে পেরে বলল
—“তুমি কে “?
—“আমি ,,,আমি, ,,আমি আপনাকে সাজাতে এসেছি।”
—“ও আচ্ছা সাজিয়ে দাও ”
টিপ বেশ কিছুক্ষন এর মধ্যে নাফিসার সাথে বন্ধুত্ব করে নেয় ।
—“নাফি তোমাকে একটা কথা বলব? ”
—“বলো ”

—“তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে না তুমি এই বিয়েতে রাজি? কিছু হয়েছে? দেখো আমি একটা কথা বলি যদি তোমার মন সায় না দেয় এই বিয়েতে তাহলে এই বিয়ে করো না ।কারন বিয়েটা তুমি করে নিলেও সুখি হতে পারবে না “।

নাফিসা ভেবে বলল
—“তুমি ঠিকই বলেছো আরাভের সম্পত্তি দেখে আমার বাবা আমাকে অনেক লোভ দেখিয়ে দিলেন তাই আমি রাজি হয়েছি।কিন্তু আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি সে এত বড়ো লোক না তাই, ,,,

টিপ নাফিসা কে থামিয়ে দিয়ে বলল
—“দেখো সম্পত্তি তোমাকে ভালোবাসা দিতে পারবে না ।কিন্তু ভালোবাসার মানুষটা তোমাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে পারবে”

—“আর দেরী করা ঠিক হবে না আমি পালিয়ে যায়”
—“হুম পালাও”

নাফিসা পালিয়ে যায়।আর টিপ পায়ের ওপর পা তুলে হাসতে থাকে।আর মনে মনে বলে

—“আমাকে অপমান করা না এবার দেখুন কেমন লাগে”।

আরাভ বিয়ের আগে নাফিসার সাথে কিছু কথা বলার জন্য আসছিল।এসে দেখে টিপ সেখানে বসে আছে।আরাভ হুংকার দিয়ে বলল

—“টিপ! তুমি এখানে কেনো? নাফিসা কই?”

টিপ শয়তানি হাসি দিয়ে বলল
—“নেই! !পালিয়ে গেলো কারণ এই রাম গরুর এর ছানার সাথে ও বিয়ে করবে না।তাই পালিয়ে গেলো। ও তো আপনাকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চাইনি।চেয়েছিল আপনার সম্পত্তি দেখে বিয়ে করতে ।তাই আমি ওর ভুল টা শুধরে দিলাম ওকে বললাম।,,,,,,,”

আরাভের চোখ পুরো লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে লাভা বেরিয়ে আসছে।আরাভ দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে বলল

—“তোমার সাহস কি করে হয়।এবার আমার ফ্যামিলি এর কি হবে তুমি জানো এই বিয়েটা না হলে আমার ফ্যামিলি এর মান সম্মান সব নষ্ট হয়ে যাবে। ওকে ফাইন ”

কিছুটা শান্ত হয়ে আবার বলল
—“আমার বিয়ে যখন তুমি ভাঙ্গিয়েছ তাহলে তুমিই আমাকে বিয়ে করবে।যাও রেডি হয়ে নাও ”

টিপ কাঁপা কাঁপা গলায় বলল
—“কখনো ননা ।আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না।আমি গেলাম ।”

টিপ বেরিয়ে যেতে চাইলে আরাভ টিপের হাত ধরে টেনে নিজের সামনে আনে ।

—“তুমি ভেবে বলছো।দেখো তুমি আমাকে বিয়ে না করলে ।তোমার চাকরি টা থাকবে না ।আর অন্য কোথাও ও তুমি চাকরি পাবে না।it’s my promise”

টিপ এর চোখে পানি চলে আসে কারন এক মাসের মধ্যে তাকে সেই করে হোক এক লাক টাকা জোগাড় করতে হবে।না হলে সব শেষ।টিপ চোখ বন্ধ করে নেয়।কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
—“আমি রাজি”

বিয়ে শেষ এর যখন টিপ ঘোমটা তুলে আরাভের বাড়িতে প্রবেশ করতে যাবে তখন আরাভের মা চিৎকার দিয়ে বলল ……
—“এই মেয়ে? আরাভ নাফিসা কই?এই রাস্তার মেয়ে এখানে কেনো?
—“মা প্লিজ চুপ করো আমি পরে তোমাকে সব বুঝিয়ে বলছি ।টিপ যাও ভেতরে।ইশমা ওকে ভেতরে নিয়ে যা।
ঈশমা আরাভের বোন। ইশমা টিপ কে নিয়ে ভেতরে যায়।
আরাভ তার পরিবার কে বুঝিয়ে বললেও তার মা কিছুতেই বুঝতে চাইছে না ।
,
,
,
হঠাত করে কিছু একটার আওয়াজ পেয়ে টিপের ভাবনা ভঙ্গ হলো তাকিয়ে দেখে আরাভ উঠেছে।
টিপ সোফা থেকে উঠে বলল …
—“স্যার কিছু লাগবে?
—“না লাগবে না ।তুমি যাও ।

বাকি

#মনের_গভীরে_তুমি ❤
#পর্ব_০১
#M_Marufa_Yasmin

( নতুন গল্প কেমন লাগলো জানাবেন।আপনাদের রেসপন্স এর ওপর ভিত্তি করে গল্প ছোট্ট ও বড়ো করবো।গল্পটা ছোট্ট ও হতে পারে আবার বড়ো ও হতে পারে যদি আপনারা চান । ইনশাল্লাহ পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দেবো.গল্পে কিছু ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here