মেঘের পরে মেঘ-৩৪

মেঘের পরে মেঘ -৩৪

একটা ভীষণ অন্ধকার রুমে জ্ঞান ফিরলো রুপসার।পিটপিট করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো এই মুহূর্তে ওর অবস্থান।বার কয়েক সারা ঘরময় চোখ বুলিয়েও কোন আন্দাজ করতে পারলোনা।বিয়ে বাড়ি এমন চুপচাপ কেন?আর মা ই বা এখনো ওকে ডাকতে এলো না কেন?না কি এখনো ভোর হয়নি?কিন্তু ঘর অন্ধকার থাকলেও বাইরে যে আলো ফুটেছে সেটা চুপিসারে ঘরে ঢুকে পরা আলো দেখেই বুঝতে পারছে।

আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে নেমে আসলো রুপসা।সবকিছু এমন অচেনা লাগছে কেন?যেন একরাতেই ঘরের সব কিছু পাল্টে গেছে। এই খাটটাও কেমন যেন লাগছে। নিচে নেমে আরো একবার চারিদিকে চোখ বুলালো।অন্ধকার টা এখন আর ততো গাঁঢ় নয়।আবছা আবছা বোঝা যাচ্ছে সবকিছু। আর তাতেই রুপসা বুঝতে পারলো, ও আর যেখানেই থাকুক নিজের রুমে নেই।কোথায় আছে ও?ওর কি বিয়ে হয়ে গেছে? এটা কি নুরের রুম?নাকি কোন স্বপ্ন?
একহাতে অন্য হাতে চিমটি দিতে গেলেই হলুদের রাখী পরা মেহেদী দেয়া হাতটা নজরে এলো রুপসার।নিজের দিকেও ভালোভাবে চোখ বুলালো।ওর গায়ে এখনো হলুদের সাজসজ্জা। হলুদের শাড়ি গয়না।
না। ও কোন স্বপ্ন দেখছে না।সবই বাস্তব। কিন্তু রুপসা কোথায়? কি করে এখানে এলো?
ভাবতে গিয়ে গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো। তবে কি কেউ ওকে কিডন্যাপ করেছে?কিডন্যাপ করে এই ঘরে বন্দি করে রেখেছে।
হতেই পারে। এসব ভাবতে গিয়ে মাথা টলে এলো রুপসার।যদি তাই হয় তাহলে কি করবে ও?নিজের অজান্তেই চিৎকার করে উঠে রুপসা।
চিৎকার বোধহয় জোরেই দিয়েছে। দরজায় খুটখাট শব্দ হচ্ছে। আচ্ছা, দরজাটা কোন দিকে?কেন যে চিৎকার দিতে গেলো,কোন শব্দ না করে যদি পালানোর চেষ্টা করতো তাহলে কোন উপায় হয়তো হতো।

আর কিছু ভাবার আগেই দরজাটা খুলে যায়।তীব্র আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে উঠে। চোখ বন্ধ করে দুহাত চোখের উপর মেলে ধরে রুপসা।
জুতোর শব্দ হচ্ছে। কেউ দ্রুত হেঁটে ঘরে ঢুকছে।

“কি হয়েছে রুপসা?ভয় পেয়েছো?”

কারো উৎকন্ঠিত কন্ঠ। ভরাট, পুরুষালী গলা।খুব পরিচিত লাগছে।যেন বহুবার শুনেছে এমন।গলা আওয়াজ শুনেই রুপসা ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো।

পুরো দুনিয়া যেন থমকে গেলো রুপসার।চোখের সামনে দেখা মানুষ টা কি সত্যিই ওর সামনে দাঁড়িয়ে? না কি সবটাই কোন মধুর স্বপ্ন? প্রলয় কি সত্যিই ওর সামনে দাঁড়িয়ে?

প্রলয়ের গায়ের রঙ পুড়ে গেছে, শুকনো হয়ে গেছে অনেক,উস্কখুস্ক চুল।সবমিলিয়ে বেহালদশা। তবুও ওকে চিনতে একটুও কস্ট হচ্ছে না রুপসার।
দু হাত বাড়িয়ে প্রলয়কে ছোঁয়ার চেষ্টায় সফল হবার আগেই নিচে পরে যেতে শুরু করলো। এতো উত্তেজনা বোধহয় মস্তিস্ক নিতে তৈরি ছিলো না।তাই এ বাঁধা।

রুপসা মাটিতে পরে যাওয়ার আগেই দুহাতে জড়িয়ে নিজের বুকে তুলে নিলো প্রলয়।

_______

কারো মৃদু ডাকে হুশ হলো রুপসার। কেউ ওর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ঝট করে উঠে যেতে চাইলেও বাঁধা পেলো রুপসা।

“ওঠছো কেন?শুয়ে থাকো।”

রুপসা শুয়ে পরলো না।উঠে বসলো।প্রলয় ও সামনে বসলো।রুপসার সমস্ত মনোযোগ প্রলয়ের দিকে।কতো কথা মনের মাঝে কিলবিল করছে কিন্তু মুখে আসছে না কিছুই।প্রলয় ওর মুখের সামনে এসে পরা চুলগুলো কে কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে বললো,

“খিদে পেয়েছে? ”

রুপসা মাথা নাড়লো।ধীরে প্রলয়ের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,

“আমি কোথায় আছি এখন?আর আপনিই বা কোথা থেকে এলেন?”

প্রলয় হাসলো।সেই মধুর হাসি।যার ঝলকানিতে রুপসার সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই উধাও হয়ে যেতো।আজও বুক ধক্ করে উঠলেও নিজেকে সামলে নিলো রুপসা।এখন ওর দুর্বল হলে চলবে না।শক্ত থাকতে হবে।অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি।সেগুলো জানতে হবে।তার আগে কিছুতেই গলে যাওয়া যাবে না।

“তুমি এখন আবির স্যারের বাড়িতে আছো।উনাকে নিশ্চয়ই চেনো?আর তোমাকে এখানে আমিই এনেছি।বাড়ি ভরা লোকজন।অনেক কস্ট হয়েছে আনতে। কিন্তু বিয়ে টা আটকানোর জন্য এতটুকু কস্ট তো করতেই হতো।”

“আমার বিয়ে আটকিয়ে আপনার লাভ কি?আপনি নিজেই তো বিবাহিত।আর কোন বিবাহিত ছেলেকে নিশ্চয়ই আমি বিয়ে করবো না?”
চোখে যেন আগুন ঝড়ছে রুপসার।

“অবশ্যই না।কেন করবে?কিন্তু আমি অবিবাহিত হলে তো নিশ্চয়ই কোন আপত্তি থাকবে না।”

অবাক হলো রুপসা।কিন্তু পরক্ষনেই মাথায় এলো একথা তো মিথ্যেও হতে পারে।

“আপনি যে মিথ্যে বলছেন না তার প্রমান কি?”

“প্রমান তো অবশ্যই আছে। আর আমি তা দেবোও।কিন্তু তার আগে তুমি এটা বলো,তুমি কি করে বিশ্বাস করলে আমি অন্য কাউকে বিয়ে করেছি?”

“না করার কি আছে?নুর নিশ্চয়ই মিথ্যে বলেনি?তাছাড়া আমি নিজে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত গিয়েছি এ কথা টার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমান করতে।সেখানকার লোক নিশ্চয়ই মিথ্যে বলেনি?”

তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো প্রলয়।
“নুর?নুরের কথা বিশ্বাস করে যে আমাকে অবিশ্বাস করোনি এর জন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।কিন্তু বাকি কথাগুলো ছিলো সাজানো।যাতে সবাই আমাকে ভুল বুঝে দুরে সরে যায়,আর আমি জেলে পঁচে মরি।”

“মানে?”

“মানে সোজা।আমি জেলে ছিলাম এ কয়েকটা বছর।আর সেটা নুর ভালোভাবেই জানতো।যেদিন পুলিশ আমাকে এরেস্ট করতে এসেছিল সেদিন আমি যে কয়েক মিনিট সময় পেয়েছিলাম সে কয় মিনিটে সবার আগে তোমাকে কল করেছিলাম।কিন্তু সে সময়টায় তোমাকে পাই নি।পরে মনে হলো তুমি তো পরীক্ষার হলে থাকবে তাই নুরকে কল করে নিজের সমস্ত সমস্যার কথা বলেছিলাম।আর ওতো আগে থেকেই জানতো আমার বসের সাথে একটা হিসেব নিয়ে আমার গন্ডগোল ছিলো।তাই ওকে সবটা জানালাম।পুলিশ যে আমাকে জেলে পুরে দেবে আর সেটা অনির্দিস্ট সময়ের জন্য তা তো ও জানতো।আমিই ওকে সবটা বলেছিলাম।আর এও বলেছিলাম তোমাকে আমার বাবা মাকে যেন সবটা জানায়।কিন্তু ও কাউকেই কিছু বলেনি।ওকে বলেছিলাম একটা ল,ইয়ারের সাথে যোগাযোগ করতে আমার কেসের জন্য। ও কিছুই করেনি।প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ভিসা পেতে সময় লাগছে তাই এতো দেরি। আর আমি তো জেলে যোগাযোগ করবেই বা কিভাবে? কিন্তু যখন বছর হয়ে এলো তখন বুঝতে পারলাম আমার কোন কথাই নুর রাখেনি।কেন রাখেনি তার কোন কারনও খুঁজে পাইনি।
এ কয়েকটা বছর জেলে বসে শুধু এ কথাটাই মাথার মধ্যে ঘুরেছে।নুরের বাপের টাকা আছে, আমার বাবার থেকেও বেশি আছে হয়তো।ও চাইলেই আমাকে সাহায্য করতে পারতো কিন্তু কেন করলো না?
তারপর হঠাৎই একটা কথা মনে পরে যেটা অনেক আগে আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিল,,যে নুর তোমাকে ভীষণ পছন্দ করে। আমি ভেবেছিলাম বন্ধুর প্রেমিকাকে হয়তো বোন হিসেবে বেশ ভালো জানে।আর আমার প্রেমিকা বলেই হয়তো তোমাকে একটু বেশি গুরুত্ব দেয়।কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।”

“আপনি ভুল ছিলেন?কিন্তু কেন?উনি তো যথেষ্ট ভালো একজন মানুষ। ”
বিস্মিত হয়ে বললো রুপসা।

প্রলয় আবারো হাসলো।
“ও তোমাকে ভালোবাসতো রুপসা।সেই প্রথম থেকেই হয়তো।কিংবা ধীরে ধীরে। কিন্তু ও তোমাকে ভালোবাসে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর তাই আমাকে সরিয়ে তোমাকে হাসিল করতে চেয়েছে।ও মাঝে মাঝেই একটা কথা বলতো,এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়্যার।”

______

“রুপসা সেই সকাল থেকে গায়েব আর এ কথাটা আপনারা আমাকে এখন জানাচ্ছেন? এতোটা সময় কি করেছেন আপনারা?”
রাগের চোটে মাথার চুল টেনে ছিড়তে মন চাইছে নুরের।তীরে এসে এভাবে তরী ডুববে ভাবনাতেও ছিলো না।
নাবিল কিছু টা অবাক নুরের এমন আচরণে।আবার নিজেই নিজের মনকে বোঝালেন এই ভেবে রুপসার বিপদের কথা ভেবেই হয়তো নিজেকে সামাল দিতে পারছে না নুর।আর ঘন্টা দুয়েক পরে যেখানে বিয়ে হওয়ার কথা,যেখানে নুরের এখন বর সাজতে ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে এখন ছেলেটা শুনলো বিয়ের কনের কিডন্যাপ হয়ে গিয়েছে।একটু রিয়েক্ট তো করবেই।তবু যেন কথাগুলো শ্রুতিমধুর লাগছে না শায়েরীর কাছে।

“নুর,তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো,যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সে শুধু তোমার হবু স্ত্রীই নয় আমাদের মেয়েও।এবং একমাত্র সন্তান। তার কোন ক্ষতি হোক এটা কিন্তু আমরা কোন কিছুর বিনিময়েই চাইবো না।আল্লাহ না করুন আজ ওর কিছু হয়ে গেলে সবচাইতে বেশি ক্ষতি টা কিন্তু আমাদেরই হবে।তাই এতো সময় কি করেছি সে প্রশ্ন না করে, যদি তোমার করার কিছু থাকে তা করো।কারন তোমার আংকেল কে তো দেখেছো,ওনি খুব ভেঙে পরেছেন।আর যদি না পারো তবে পুলিশ যা পারে করুক।”

শায়েরীর এমন আক্রমনে হকচকিয়ে গেলো নুর।আপনাতেই গলার স্বর নেমে এলো।

“সরি আন্টি। আপনি কিছু মনে করবেন না প্লিজ। আসলে হঠাৎ এমন একটা কথা শুনলে কার মাথা ঠিক থাকে বলুন?তবে আপনি চিন্তা করবেন না।আমি আমার সবটুকু দিয়ে ওকে খুঁজবো।আল্লাহ চায় তো খুব দ্রুতই পেয়ে যাবো।আপনি চিন্তা করবেন না।”

শায়েরী কিছু বললো না।

“আমি এখন আসি আন্টি। কোন খবর পেলে আপনাকে জানাবো।”
বলেই চলে গেলো নুর।

_______

এই এক ঘন্টায় এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে রুপসা।আবির হোসাইন নিজে এসে বাকি কথাগুলো রুপসাকে বলেছে।

“জানো রুপসা,তুমি ফিরে আসার পরও আমি কতো জায়গায় যে ওর খোঁজ করেছি কিন্তু কোন খবর পাইনি।একদিন আমার এক লোক ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট করে আর পুলিশ ওকে ধরে নিয়ে যায়।তাকে ছাড়াতেই আমাকে ছুটতে হলো মেলবোর্ন। সেখানকার জেলখানায় গিয়ে ওকে দেখে আমি অবাক।কেন যেন নে হলো এই লোককে আমি কোথাও দেখেছি।কিন্তু কোথায় দেখেছি মনে করতে পারছি না।তখন তোমার কথা মনে হলো।শেহজাদ তখন বাগানের আগাছা পরিস্কার করছিল।আমি ওর কাছে যাই এবং আমার মোবাইলে থাকা বায়ো ওকে দেখিয়ে বলি এই ছবির লোক টা ও কি না?সব দেখে শুনে ওর কি কান্না, কাঁদতে কাঁদতেই বললো,ওই সেই লোক যাকে খোঁজার জন্য তুমি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলে।
আমি ওর কাছ থেকে সবকিছু জেনে তনিমার বাবার সাথে যোগাযোগ করি।ওনাকে সব জানালে উনি প্রথমে রেগে যান।পরে আমার অনেক অনুরোধের পর নিজের মেয়ের সাথে কথা বলেন। আল্লাহ কে ধন্যবাদ যে তনিমা তখন নিজের দোষ স্বীকার করেছিল।হিসেবের ব্যাপারটা পুরোটাই ওর সাজানো ছিল যাতে প্রলয় তনিমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়।আর তনিমা নিজের ইচ্ছে পূরন করতে পারে।ভদ্রলোক নিজের মেয়ের কর্মকান্ডে লজ্জিত হন।তিনি ওর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ উঠিয়ে নেন।উল্টে আরো কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দেন।এরপর প্রলয় দেশে আসলো।খোঁজ খবর নিয়ে জানলো তোমার বিয়ে তাও ওরই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে। এতে করে সবটা আমাদের কাছে আরো পরিস্কার হয়ে যায়।সময় কম ছিলো।কাউকে বোঝানোর মতো সময় শেহজাদ বা তোমার কারো হাতেই ছিলো না।তাই কিডন্যাপের পরিকল্পনা করতে হলো।তুমি বিশ্বাস করবে কি না এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিলো।তাই আমাকেও আসতে হলো।”

রুপসা সবটা হা হয়ে শুনলো।তারপর ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করলো,

“আমি আপনাকে আমার ফোন নম্বর দিয়ে এসেছিলাম?”

“হ্যাঁ,দিয়ে এসেছিলে।কিন্তু দুর্ভাগ্য পিছু নিলে যা হয় আর কি,ওটা আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম।কিন্তু তোমার বাংলাদেশের ঠিকানা টা মনে ছিলো।বিশেষ করে তোমার বাবার নামটা।খোঁজ নিয়ে জেনেছি উনিও না কি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ একজন ব্যবসায়ী।তাই বাড়ি চিনতে তেমন বেগ পেতে হয় নি।”

রুপসা মাথা নিচু করে কাঁদতে লাগলো।প্রলয় এগিয়ে গেলো ওর দিকে।
“কেঁদো না রুপসা। তোমাকে কাঁদতে দেখার জন্য তো ফিরে আসিনি।তোমাকে খুশি দেখতে ফিরে এসেছি।অনেক কস্ট পেয়েছো আমার জন্য। আর না।”

রুপসার কান্নার বেগ তাতে বাড়লো বৈ কমলো না।

“একটা মানুষ এতো নিকৃষ্ট হয় কিভাবে বলতে পারেন?কেনো এতো স্বার্থপর হয়?আপনারই পিঠে ছুড়ি বসালো?কেন এতো কস্ট দিলো আপনাকে?”

প্রলয় হাসলো শুধু।

চলবে…….

মুনিরা মেহজাবিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here