রোদহীন বিকালে তুমি পর্ব -১০+১১

#রোদহীন_বিকালে_তুমি✨
#ইশা_আহমেদ
#পর্ব_১০

২৭.
আনিশা ফারিহা ছুটির সময় ক্যাম্পাসের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।ফারিহা হুট করে কাউকে ফোন করে ডাকলো।আনিশা ইয়ামিন তাকিয়ে তাকিয়ে ফারিহার কাজ দেখছে।ওদের মা*থায় কিছুই ঢুকছে না।কিছুক্ষণের মাঝেই রোদ তাদের সামনে এসে দাঁড়ালো।ফারিহা হুট করে চি’ল্লি’য়ে বলল,,,,
“মিস্টার রোদ আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন”

ওখানে উপস্থিত থাকা সবাই হা করে ফারিহার দিকে তাকিয়ে আছে।আলভিও মাত্র এসেছে আনিশাকে নিতে।
ফারিহার কথা শুনে ঘো*রে চলে যায়। ইয়ামিন আর আনিশাও এক প্রকার ঘো’রে আছে। ফারিহা এমন কাজ করবে ওরা ক’ল্পনাতেও ভাবেনি।রোদ গো’লগো’ল চো’খ করে ফারিহার দিকে তাকিয়ে আছে। রোদ কিছু বলছে না দেখে ফারিহা বিরক্তি নিয়ে বলে,,,
“এই যে আপনি কি বিয়ে করবেন আমায়!”

রোদ ঘোরে ছিলো এতো সময়।ফারিহার কথায় ঘোর কাটলো।বলল,,,,”হ্যা হ্যা কখন করবে বলো”

ফারিহা বলল,,,,”আজ এখুনি আমার পক্ষ থেকে সাক্ষী রেডি আছে তাড়াতাড়ি চলুন না হলে কিন্তু হারিয়ে ফেলবেন”

রোদ রাজি হয়ে গেলো।রোদ আলভিকে বলল সাক্ষী দিতে আলভিও না করতে পারলো না বেস্টফ্রেন্ড বলে কথা।আলভির খা’রাপ লাগছে প্রচুর।ভালোবাসার মানুষকে অন্যকারো সাথে দেখা সম্ভব না।ওরা সবাই কাজি অফিসের সামনে চলে এসেছে।সবাই নেমে ভেতরে ঢু’কলো।আলভি সবার পরে ভিতরে ঢু’কলো।ওর বুক চি’ন’চি’ন ব্যা’থা করছে।

আলভি একটা কান্ড ঘটিয়ে ফেলল সবার মাঝে।ও ফারিহার কাছে গিয়ে গালে হাত দিয়ে বলল,,,,
“ফরুপাখি তুমি বিয়েটা করো না প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো আমি ভালোবাসি তোমাকে”

ফারিহার গা জ্ব*লে উঠলো।আলভির থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,,,,ল*জ্জা করে না তোমার নিজের বউয়ের সামনে প্রাক্তনকে বলছো বিয়ে না করতে ছিহ নিজের বউয়ের দিকে ন’জ’র দাও মেয়েটার অ’তীত সম্পর্কে জানো ও এতিম যার কাছে মানুষ হয়েছে তারা ওর পালিত বাবা মা।আর ওর ক*ষ্ট জানো ওর ক*ষ্ট বোঝার চে’ষ্টা করেছ।হ্যা হয়তো ভালোবাসো আমায় আমিও হয়তো ভালোবাসি কিন্তু এক্সিডেন্টলি হলেও ওর সাথে তোমার বিয়েটা হয়েছে।আর আমি কখনোই একটা সংসার ভা’ঙ’বো না।এই রোদ আমায় খুব ভালোবাসে আমিও উনাকে ভালোবাসতে চাই!সবাই আনিশাকে খা’রা’প ভাবছে।জানো ও তোমায় আমার আগে থেকে ভালোবাসে।জানবে কি করে মেয়েটা তো কাউকে জানতেই দেয়নি।

ফারিহা থেমে বলল,,,,”সময় থাকতে মূল্য দেও আলভি নাহলে এমন একদিন আসবে যেদিন ওই আনিশাকে ছাড়াই তোমার নিজেকে পা*গ*ল পা*গ*ল লাগবে।আসবে খুব তাড়াতাড়ি সেই সময় আসবে।তুমিও প্রস্তুত থেকো দেখো কেউ না তোমার কাছ থেকে আনিশাকে কেড়ে নেয়।”

কে’ড়ে নেওয়ার কথাটা শুনে আলভির বুকটা কেঁ’পে উঠলো।কেনো এমন হলো ও জানে না। আনিশা একপাশে দাঁড়িয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছে।আলভি একবার তাকিয়ে হ’নহ’ন করে চলে গেলো।আনিশা ভ*য় পেলো যদি আলভি খা’রাপ কিছু করে ফেলে।ও দৌড়ে ওর পেছনে পেছনে গেলো কিন্তু ও বের হতে হতে আলভি গাড়ি নিয়ে চলে যায়।আনিশা কাঁদতে থাকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। ইয়ামিন এসে ওকে নিয়ে ভেতরে যায়।ফারিহা আর রোদের বিয়েটা হয়ে যায়।রোদ সব কিছু বুঝতে পারে।

কিন্তু সে ফারিহার অতীত সম্পর্কে জানতেও চায় না ও শুধু ফারিহাকে চায়।আর ওর বিশ্বাস ও ভালোবাসা দিয়েই ও ফারিহার ম’ন জ’য় করতে পারবে আর খুব ভালোবাসবে।কিন্তু খুব অবাক হয়েছে আলভির ফারিহাকে ভালোবাসে কথাটা শুনে।ওরা বিয়েটা করে নেয়।বিয়ের কিছুক্ষণ পর আনিশার কাছে আলভির ফোন আসে।ফোন দিয়ে বলে আলভি এ’ক্সি’ডে’ন্ট হয়েছে।আনিশার হাত থেকে ফোন পরে যায়।

ওরা সবাই হাসপাতালে চলে আসে।ফারিহা আনিশাকে সামলাচ্ছে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে অ’জ্ঞা’ন হয়েছে দুইবার।বড়সড় এ’ক্সি’ডেন্টই হয়েছে।আলভির ক্ষ’তি হয়েছে।মিসেস নাফিয়া আহা সবাই এসেছে।আহা নাফিয়াকে সামলাচ্ছে।ডক্তার বের হলে আনিশা দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলে,,,,
“উনি ঠিক আছে ডাক্তার সাহেব!”

ডাক্তার আনিশার দিকে তাকিয়ে বলে,,,,”আপনি হয়তো মিসেস শাহরিয়ার মিস্টার শাহরিয়ারের অবস্থা খুব একটা ভালো না।আল্লাহকে ডাকুন”

কথাটা বলেই ডাক্তার চলে গেলো।আনিশা ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে বলে,,,,”আমার সাথে কেনো এমন হয় ফারু আমি উনাকে খুব ভালোবাসি বিশ্বাস কর”

ফারিহার ও খুব ক*ষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তা প্রকাশ করতে যে সে পারবে না।আর আনিশা হয়তো তার থেকেও আলভিকে বেশি ভালোবাসে তাই হয়তো আলভিকে পেয়ে গেলো।আর ভা*গ্য বলতেও একটা কথা আছে।ভা*গ্য হয়তো রোদ লিখা ছিলো তাই রোদকে পেয়েছে।ফারিহা আনিশাকে শান্তনা দিতে লাগলো।

২৮.
সাতদিন পার হলো। আলভির পরের দিন জ্ঞা*ন ফিরেছিলো।সাতদিন হাসপাতালে রেখে আজকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছে।হাতে পায়ে প্রচন্ড চো’ট পেয়েছে।বাম পা ভে’ঙে গিয়েছে।আনিশা এই কয়দিনে আলভির অনেক খেয়াল রেখেছে।কিন্তু আলভি একবারও তার সাথে কথা বলেনি।

ফারিহা আর রোদ এসেছিলো দেখতে।আলভি ফারিহাকে দেখে অনেক রিয়াক্ট করেছিলো বলে রোদ আর ফারিহাকে আনিনি।আলভি প্রচুর ক*ষ্ট পেয়েছিলো ওদের বিয়ের কথা জেনে।ও ভেবে নিয়েছে ও কি করবে।বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে আলভিকে।আলভিকে ওদের রুমে রেখে গিয়েছে নিশান আর তিশান।আনিশা দুই মিনিট পরপর এসে আলভিকে বলছে কি লাগবে।আলভির বি*র*ক্ত লাগছে।

আনিশা এসে বলল,,,”আপনার আর কি লাগবে বলুন আমি এনে দিচ্ছি”[লেখিকা ইশা আহমেদ]

আলভি আনিশাকে ধ’ম!ক দিয়ে বলল,,,”স’ম’স্যা কি তোমার!আমার কিছু লাগলে তো আমি তোামকে বলতামই।”

আনিশা মুখ কা’লো করে চলে যায়।আলভি বসে বসে ভাবছে সে এবার থেকে আনিশাকে ভালোবাসার চে*ষ্টা করবে।আর সেদিন ফারিহা বলল আনিশা নাকি তাকে আগে থেকে ভালোবাসে।কিন্তু কিভাবে স’ম্ভ’ব!আনিশাকে রাতে জিজ্ঞেস করবে ঠিক করলো।রাতে আনিশা রুমে এসেই বলল,,,
“আপনার কিছু লাগবে বলুন আমি এনে দিচ্ছি।”

আলভি শা’ন্ত কন্ঠে বলল,,,,”আমার কিছু লাগবে না কিন্তু তোামকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই।আর যা জিজ্ঞেস করবো তার ঠিকঠাক উত্তর দিবে।এখানে এসে বসো”

আলভি আনিশাকে নিজের পাশে বসতে বলল।আনিশাও আলভির থেকে কিছুটা দূরে বসে পরলো।আলভি বলল,,
“তুমি নাকি আমাকে অনেক আগে থেকে ভালোবাসো”

আনিশা কেঁঃপে উঠলো।আলভির গম্ভীর কন্ঠে বলা কথাটা শুনে।ও আলভির দিকে তাকালো আলভিও ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো।চোখাচোখি হলো ওদের।আনিশা চোখ নামিয়ে নিলো।
আলভি বলল,,,,”বলছো না কেনো”

আনিশা কাঁ’পা কাঁ’পা গলায় বলল,, হ্যাঁ আ…মি আ..পনা..কে আ..গে থেকে ভা..লো.বা..সি”

আলভি ভ্রু কুচকালো।সে কি কিছু করেছে যে মেয়েটা এভাবে কাঁপছে।বিরক্ত নিয়ে বলল,,,,
“আগে কাঁপা-কাঁপি থামাও তারপর বলো কিভাবে চেনো কবে থেকে ভালোবাসো”

আনিশা নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,,,”প্রথম দেখেই প্রেমে পরেছিলাম।আমি আপনাকে আগে প্রতিদিনই দেখতাম।আপনি যেতেন বাইক নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে ওখানেই আমাদের বাড়ি।আ’স্তে আ’স্তে আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম।আপনাকে বলার আগেই ফারিহা আপনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।”

আলভি বলল,,,”ঠিক আছে ঘুমিয়ে পড়ো”

আনিশা ভেবেছিলো ওকে কিছু বলবে কিন্তু কিছুই বলল না।আনিশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমিয়ে পরে।

২৯.
ফারিহা সেদিন বাড়ি এসেই ওর বাবা মাকে বলে রোদকে বিয়ের কথা।ওনারাও মেনে নেন।খুশিও হন।কারণ মেয়েটা নিজের লাইফে এগোতে চাচ্ছে।রুহানা চৌধুরী আর রুহান চৌধুরীও ওদের মেনে নিয়েছে।রুহানা তো ফারিহাকে আসা থেকে মা*থায় তু’লে রেখেছে।রোদের কাছে সে সময় নিয়েছে।রোদ ও তাকে বলেছে যত সময় লাগবে তত সময় নিতে।

ফারিহা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।রোদ পেছন থেকে হালকা ভাবে জড়িয়ে ধরে।ফারিহা কেঁ’পে উঠে।রোদ সামনে এসে বলে,,,,
“সরি আসলে তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিলো তাই ধরেছি”

ফারিহা জো*রপূর্ব’ক হেসে বলে,,,,”না না আপনি আমার স্বামী আপনার তো অধিকার আছে।আপনি ভালো বলেই আমায় সময় দিয়েছেন।”

রোদ হেসে বলল,,,,”আমি জানি প্রথম ভালোবাসা এতো সহজে ভো*লা যায় না।তুমি সময় নাও ফারু আমি তোমার জন্য দরকার পরলে সারাজীবন অপেক্ষা করবো কিন্তু তাও আমার তোমাকে চাই।তুমি আমার পাশে থাকলেই হবে”

ফারিহা হাসলো।ওরা গল্প করতে লাগলো।ফারিহার সাথে রোদ ফ্রেন্ডের মতো বিহেভ করে যাতে কখনো তাকে অ’স্থিতে পরতে না হয়।রোদ ফারিহার সব বিষয় খেয়াল রাখার চেষ্টা করে।

৩০.
একমাস হয়েছে আলভি এ’ক্সি’ডে’ন্টের।আলভি প্রায় সুস্থ।আলভিকে এই একমাস আনিশা নিজের সর্বচ্চ দিয়ে সেবা করেছে।ডাক্তার সেদিন এসে চেকাপ করে গিয়েছে। যাওয়ার সময় ডাক্তার আলভিকে বলেছে সে খুব ভা*গ্য করে এমন একটা বউ পেয়েছে।আলভি চুপচাপ হয়ে শুনেছে।এই একমাস সে এক অন্য রকম আনিশাকে দেখেছে।আগে কখনো এতো ভালো করে দেখিনি।বলতে গেলে তাকায়ওনি।

যতবার দেখা হয়েছে তার কিছু সময় পরই আনিশা তা’ড়া দেখিয়ে চলে গিয়েছে।আলভির ভাবনার মা’ঝেই আনিশা খাবার নিয়ে হাজির।আনিশা আলভিকে খাইয়ে দিতে থাকে।আলভি এক দৃ’ষ্টিতে তাকিয়ে আছে আনিশার দিকে।

আনিশা আলভির মুখ মুছিয়ে দিয়ে বলে,,,,”চলুন আপনাকে হাঁটতে সাহায্য করি ডাক্তার বলেছে এই এক সপ্তাহ আপনাকে হাঁটাতে”

আলভি আনমনে আনিশাকে জিজ্ঞেস করে,,,,”এতো কেয়ার করছো কেনো আমার”

আনিশা মলিন হেসে বলে,,,,”আপনি আমার স্বামী আপনার খেয়াল রাখা কর্তব্য।আর ভালোবাসার মানুষের সেবা করবো না তো আর কার করবো।”

আলভি বলে,,,,”আমি তোমায় ভালোবাসি না কিসের আশায় পরে আছো”

আনিশা মৃদু হেসে বলে,,,,”এখন হয়তো বাসেন না কিন্তু একদিন ইনশাআল্লাহ ভালোবাসবেন।আর একটা মানুষের সাথে এক ছাদের তলায় এক বিছানায় থাকতে থাকতে তার মায়ায় পরে যাওয়ায়।তা না হলেও সে অভ্যাসে পরিনত হবে।”

আলভি কিছু বলে না।আনিশা আলভিকে ধরে নিয়ে ছাদে যায়।বিশাল বড় ছাদ আলভিদের।আনিশা আলভিকে নিয়ে অনেক সময় হাঁটে।আলভিকে আনিশা দোলনায় বসিয়ে। ছাদের গাছগুলোতে পানি দিতে থাকে।আলভি আনিশাকেই দেখছিলো।হঠাৎ ওর পাশের ছাদে চোখ পরে।একটা ছেলে আনিশার দিকে তাকিয়ে আছে।আলভির রা*গ উঠে।আরো আনিশার একপাশের শাড়ি সরে গিয়ে পেট দেখা যাচ্ছে।

“আনিশশশশশশা”

আলভি রেগে চিল্লিয়ে আনিশাকে ডাক দেয়।আনিশা কেঁপে উঠে।দৌড়ে আলভির কাছে আসে।অস্থির হয়ে বলে,,,,”আপনার কিছু হয়েছে বলুন আমায়”

আলভি আনিশাকে তার রুমে দিয়ে আসতে বলে।আনিশাও আলভিকে রুমে নিয়ে যায়।আলভি নিজের ব্যবহারে নিজেই অবাক হয়।তার কেনো রা*গ লাগছে আনিশার দিকে কেউ তাকালে।

চলবে,,,,,,,?

[দুঃখিত কালকেই দিয়ে দিতাম ফেসবুকে ঢু’কতে না পারার কারণে দিতে পারিনি]#রোদহীন_বিকালে_তুমি✨
#ইশা_আহমেদ
#পর্ব_১১

৩১.
“স্যার ম্যামের বিয়ে হয়েছে আলভি শাহরিয়ারের সাথে।আর আলভি শাহরিয়ার আবার ম্যামের বেস্টফ্রেন্ড ফারিহা ইয়ানাতকে ভালোবাসে।আবার ফারিহা ইয়ানাত আলভি শাহরিয়ারের বেস্টফ্রেন্ড রোদ চৌধুরীকে ভালোবাসে।”

“ব্যা’স ব্যা’স আর বলা লাগবে না!যার সাথে আনিশার বিয়ে হোক না কেনো ও শুধু আমার।আর কারো নয়।আর সুহান এখন গাড়িটা আলভি শাহরিয়ারের বাড়ির সামনে নিয়ে যাও।আমি আনিশা বেবিকে একটু দেখবো”

সুহান নামের ছেলেটা গাড়ি ঘুরিয়ে আলভিদের বাসার সামনে আনে।আলভি আর আনিশা রুমের বেলকনিতে আছে।আনিশা আলভিকে খাইয়ে দিচ্ছে সুপ।আলভি কিছু সময় পর পর বি*র*ক্তি*তে নাক মুখ কুঁ’চকাচ্ছে।আনিশা হেসে ফেলল আলভির এমন অবস্থা দেখে।

আলভি বি*র*ক্তি নিয়ে বলে,,,”হাসছো কোনো তুমি আমি একদমই সুপ খেতে পারি না আর তুমি আমার অবস্থা দেখে হাসছো ফা’জি’ল মেয়ে”

আনিশা আলভির মুখ মুছাতে গিয়ে আলভির উপর পরে যায়।আলভিও আনিশাকে ধরে পরে যাওয়া থেকে কোনোমতে বাঁ’চে।আনিশা কেঁ’পে উঠে আলভির স্পর্শে।তাড়াতাড়ি করে উঠে যায়।অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করে,,,,”কোথায় লেগেছে আপনার বলুন দেখি দেখি”

আলভি বলল,,,”কোথাও লাগেনি আনিশা এখানে অ’স্থি’র হওয়ার কিছু নেই শান্ত হও”

আনিশা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করে।দূর থেকে তুহিন নামক লোকটা রা*গে ফো’স’ফা’স করতে থাকে।রে*গে বলে,,,,আমি তোর কাছ থেকে আমার আনিশা বেবিকে কে*ড়ে আনবোই আলভি।”

কথাটা বলেই বাঁ’কা হাসে তুহিন।সুহান ছেলেটা তুহিনকে বলে,,,”স্যার এখানে বেশি সময় থাকলে সবাই স’ন্দে’হ করতে পারে আমরা কি এখন যেতে পারি”

তুহিন কিছু সময় আনিশার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,,,,”হ্যা চলো”

৩২.
আলভি এখন মোটামুটি সুস্থ হাঁটতেও পারে।আজকে অফিসে যাবে।আনিশাও ভার্সিটিতে যাবে।এই একমাসে দু’দিন গিয়েছে মাত্র।আনিশা রেডি হয়ে নিচে যায়।আলভি আগে থেকেই রেডি হয়ে বসে ছিলো।খেয়ে গাড়ির কাছে আসে।এখন থেকে ড্রাইভারই গাড়ি ড্রাইভ করবে।আলভি আনিশাকে ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দেয়।

আনিশা চলে যাচ্ছিল তখন আলভি পেছন থেকে ডেকে বলে,,,”শোনো ছেলেদের থেকে দূরে থাকবে ইয়ামিন ছা’ড়া অন্যকারোর দিকে তাকাবেও না।বুঝেছো!”

কথাটা বলেই আলভি গাড়ি নিয়ে চলে গেলো।আনিশা আলভির যাওয়ার পানে হা করে তাকিয়ে থাকে।আলভি ভাবছে সে হুট করে কেনো এমন কথা বলল!আনিশা কোনো ছেলের দিকে তাকাক বা কথা বলুক তাতে ওর কি আর সেদিনই বা আনিশার দিকে ওই ছেলেটা তাকিয়ে ছিলো বলে ওর কেনো রা*গ হচ্ছিল এতো!আলভি আপতত এই সব চিন্তা বাদ দিলো।

আনিশা হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইয়ামিন আনিশার কাছে এগিয়ে আসে।আনিশার কাছে এসে বলে,,,,”তুই এইখানে এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?”

আনিশার ধ্যা’ন ভাঙে।ও হেসে বলে,,,,”এমনিই চল ভেতরে যাই ফারু কই ও আসেনি।”

আনিশার কথার মাঝেই ফারিহা গাড়ি থেকে নামে।আনিশা হাসে ফারিহাকে দেখে আজ অনেক দিন পর মেয়েটাকে দেখলো।রোদও গাড়ি থেকে নামলো।ভার্সিটির সবাই প্রায়ই তার আর ফারিহার বিয়ের কথা জেনেছ। রোদ আনিশাকে দেখে হাসে।হেসে বলে,,,”কেমন আছো আনিশা”

আনিশাও হেসে বলে,,,”আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি রোদ ভাইয়া আপনি কেমন আছেন”

রোদও হেসে বলল,,,”হ্যা আমিও ভালো আছি।তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো ভাবছিলাম কিন্তু বলে উঠতে পারিনি আমি কি বলতে পারি”

আনিশা হেসে বলল,,,”আপনি বলতে পারেন ভাইয়া”

রোদ কিছুটা ই’ত’স্ত’ত করে বলল,,,,”আসলে আমার একটা বোন ছিলো ঠিক তোমার মতো তুমি কি আমার বোন হবে?”

আনিশা আবারও হাসলো।হেসে বলল,,,,”এটা বলতে আপনার এতো ই’ত’স্ত’ত করতে হচ্ছিল ভাইয়া আমি তো রাজি আপনার বোন হতে”

আনিশার রাজি হওয়ায় রোদের চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখা গেলো।রোদ বলল,,,,”সত্যি বলছো আনিশা তুমি”

আনিশা হাসে রোদের খুশি দেখে তার ছোট্ট একটা কথায় যদি ভালো লাগে কারো কেউ বোন পায় তাহলে সে রাজি আছে।রোদের চোখ মুক দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে কতটা খুশি।রোদ কিছু সময় গল্প করে চলে গেলো একটু পরই ক্লাস নিতে হবে তার।রোদ চলে যেতেই ফারিহা আলভির কথা শোনার জন্য হা’স’ফা’স করছে।

আনিশা বলে,,,”কিছু কি বলবি ফারু”

ফারিহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,,,,”আলভির কি অবস্থা”

আনিশা হাসে।সে জানে ফারিহা আলভির খবর জানার জন্যই অ’স্থি’র ছিলো।আনিশা বলে,,,”উনি এখন ঠিকই আছে।ডাক্তার বলেছে কিছুদিনের মধ্যে একেবারে সুস্থ হয়ে যাবেন”

ফারিহা আনিশার কথা শুনে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলল।যাক এখন সে চি’ন্তা মু!ক্ত।আনিশা ফারিহাকে জিজ্ঞেস করলো,,,”তুই রোদ ভাইয়ার সাথে সুখে আছিস তো ফারু”

ফারিহা মলিন হেসে বলে,,,,”উনি খুব কেয়ারিং।আর খুব ভালো।আমায় খুব ভালোবাসেন।আমিও চে’ষ্টা করছি উনাকে মেনে নেওয়ার আর নিজের ভা*গ্যকেও”

আনিশা আর কথা বাড়ালো না।ওরা ওদের ক্লাসে চলে আসলো।ক্লাস করতে লাগলো।

৩৩.
“স্যার আপনি কি ভেবেছেন আনিশা ম্যামকে নিয়ে”

সুহান নামক ছেলেটা তুহিনকে কথাটা বলল।তুহিন সিগারেট টা’নতে টা’নতে বলল,,,”আমি ভেবে নিয়েছি কি করবো আমি।যা করার এই সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে আমি তোমাকে যা বলেছি তোমার ম’নে আছে তো সুহান”

সুহান ছেলেটা বলল,,,,”হ্যা হ্যা স্যার কিন্ত আপনি যে বাংলাদেশে এসেছেন সেইটা বড় স্যার আর ম্যাম জেনে গিয়েছে”

তুহিন বিরক্তিতে ভ্রু কুচকে বলল,,,”ওহ সিট ওরা কীভাবে জানলো।তোমায় বলেছিলাম না ওরা যাতে জানতে না পারে”

সুহান আমতা আমতা করে বলে,,,,আ..সলে স্যার হয়েছে কি…..

তুহিন রা*গে ফোসফাস করতে করতে চিল্লিয়ে বলল,,,,”shut up stupid.get out from here.”

সুহান যেতেই তুহিন পাশে থাকা কাঁচের টেবিলটায় লা’থি মারে।লা’থি মারতেই টেবিলটা পরে ভে*ঙে যায়।তুহিন চি*ল্লি*য়ে বলে,,,”এই স্টুপিড ছেলেটার জন্য সবাই জেনো যাবে এখন আমি বাংলাদেশে।জাস্ট অ*স*য্য”

তুহিন কিছু সময় বসে মা*থা ঠান্ডা করে।বাঁকা হেসে বলে,,,,”আমি পেয়ে গিয়েছি কি করতে হবে এখন আমার”

৩৪.
রুহানা আর রুহান চৌধুরী একটা ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। একটা ছোট্ট রুমে দাঁড়িয়ে আছে তারা।যেখানে ছোট্ট কোনো মেয়ে বাচ্ছার খেলনা আর জামা রয়েছে।রুহানাকে রুহান জড়িয়ে ধরে আছে।রুহান রুহানাকে শান্তনা দিচ্ছে।
রুহানা রুহানকে বলল,,,,”কেনো আমাদের কাছে আমাদের মেয়েটা নেই।কে আমার মেয়েটাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরালো।”

রুহান বলল,,,”কি করবে বলো মেয়েটা এখন কি অবস্থায় আছে কে জানে!আমার মেয়েটা কার কাছে আছে কেমন আছে?”

রুহানা ফোন করে রোদকে।রোদ ফোন ধরতেই বলে,,,”ফারিহাকে নিয়ে চলে আসো দ্রুত আজকে যে তোমার বোনের জন্মদিন সেইটা হয়তো ভু*লে গিয়েছো”

রোদ ওপাশ থেকে বলে,,,”আমি তাড়াতাড়ি আসছি মম”

চলবে,,,,?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here