রৌদ্রর শহরে রুদ্রাণী পর্ব -৫৪+৫৫

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৫৪
#Saiyara_Hossain_Kayanat

“আমি মানছি আপনি আমাকে ভালোবাসেন বলেই এমনটা করেছেন। কিন্তু একবারও কি ভেবেছেন যাদের সত্যিই এমন প্রব্লেম আছে, যারা সত্যিই সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম তাদের কেমন লাগে নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে? আমার প্রব্লেম ছিলো বলেই আমি আপনার মিথ্যা কথাটাকেই সত্যি মেনে নিয়ে আপনার কষ্ট অনুভব করতে পেরেছি। প্রতিনিয়ত ভেবেছি আপনিও হয়তো আমার মতোই ভেতর ভেতর কষ্ট পাচ্ছেন। তাই কখনো আপনার সামনে নিজেকে দূর্বল করিনি। আপনি কষ্ট পাবেন বলে। ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গেছেন আপনি তাই এতো বড় মিথ্যা কথাটাও আপনার কাছে তুচ্ছ বলে মনে হয়েছে। মিথ্যা দিয়ে সম্পর্ক শুরু করাটাও আপনার কাছে একটা নিছক ব্যাপার লাগছে তাই না রৌদ্র!”

আরশি ধরা গলায় কথা গুলো বলল। আরশির চোখ দুটো নোনাপানি টইটম্বুর। রৌদ্র মাথা নিচু করে আরশির কথা গুলো শুনে যাচ্ছে। আরশির দরজার দিকে তাকিয়ে সেদিকে এগিয়ে যেতে নিলেই রৌদ্র ঝড়েরবেগে এসে আরশিকে পেছন থেকে ঝাপটে ধরলো। আরশির গলা জড়িয়ে ধরে রৌদ্র অনুনয় করে বলতে লাগল-

“আরু প্লিজ আমাকে ভুল বুঝো না। আমি জানি আমি অনেক বড় মিথ্যা বলেছি। এই রকম সিরিয়াস বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলা আমার ঠিক হয়নি। আর মিথ্যা কথা বলে সম্পর্কটা শুরু করাও ঠিক হয়নি। আমি আমার ভুল শিকার করছি আরু। আমি আজকের দিনটার জন্যই দু’বছর ধরে ভয়ে ভয়ে কাটিয়েছি। আমি জানতাম আমি আমার মিথ্যার জন্য একদিন না একদিন ঠিকই শাস্তি পাবো। তুমি আমাকে যা ইচ্ছে শাস্তি দাও আমি মেনে নিব। কিন্তু প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না আরু।”

আরশি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো বিস্ময়ে বড়বড় হয়ে আছে রৌদ্রর কথা শুনে। আরশি রৌদ্রর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলল-

“আমাকে ছাড়ুন রৌদ্র। আমি..”

রৌদ্র আরশিকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। আরশির মাথার সাথে নিজের গাল মিশিয়ে নিয়ে অনুতাপের সাথে বলল-

“আরু প্লিজ এই শেষবারের মতো আমাকে মাফ করে দাও। আর কখনো মিথ্যে কথা বলবো না। তুমি যা শাস্তি দেবে আমি সব মাথা পেতে নিব। তুমি যা করার আমার সাথে থেকে করো। তবুও প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাও না। আমরা এক সাথে থাকে সব ভুলবোঝাবুঝি ঠিক করে নিবো। তুমি একটু শান্ত হও প্লিজ আরু প্লিজ।”

রৌদ্র উত্তেজিত হয়ে একনাগাড়ে আরশিকে অনুরোধ করে যাচ্ছে। আরশি এবার কিছুটা ক্ষেপে যায়। রৌদ্র ভাবলো কিভাবে সে রৌদ্রকে সত্যি সত্যিই ছেড়ে চলে যাবে!! আরশি রৌদ্র হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে ক্ষিপ্ত গলায় বললো-

“রৌদ্র ছাড়ুন আমাকে।”

রৌদ্র আরশিকে ছাড়ছে না। আরশিকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে আরশিকে শক্ত করে জাপ্টে ধরে রেখেছে। মনে হচ্ছে আরশিকে ছেড়ে দিলেই আরশি মুক্ত পাখির মতো উড়ে যাবে। আরশি এবার খানিকটা রেগে চাপা কন্ঠে বলল-

“উফফ কি শুরু করেছেন এসব! ছাড়ুন আমাকে ব্যথা পাচ্ছি তো। আর আপনি কি আমাদের দু’জনের মধ্যকার ঝগড়া, রাগারাগি বাহিরের মানুষকেও শোনাতে চাচ্ছেন না-কি রৌদ্র!”

রৌদ্র আরশিকে ছেড়ে দেয়। বিস্মিত হয়ে আরশির দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে জিজ্ঞেস করলো-

“মানে!”

আরশির দরজার লক লাগিয়ে শক্ত গলায় বলল-

“দরজার লকটাও তো ঠিক মতো লাগাতে পারেন না আপনি যত্তসব। সরুন সামনে থেকে।”

আরশিকে দরজা লাগিয়ে দিতে দেখে রৌদ্র প্রচন্ড খুশিতে আবারও আরশিকে জড়িয়ে ধরলো। আরশি ভড়কে গিয়ে নাকমুখ কুচকে রৌদ্রকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। রৌদ্র আরশিকে ছেড়ে দিয়ে আরশির হাত শক্ত করে ধরে সোফায় বসিয়ে দিল। আরশির ব্যাগটা নিয়ে অন্যদিকে রেখে দেয়। আরশির পাশে গাঁ ঘেঁষে বসে জিজ্ঞেস করল-

“তুমি কিভাবে জানলে এসব! আর প্রেগ্ন্যাসির কথা কখন জানলে? আমাকে আগে বলনি কেন?”

আরশি রৌদ্রর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। রাগান্বিত দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। একটা তপ্ত শ্বাস ফেলে শান্ত গলায় রৌদ্রকে সব বলতে লাগল। আরশির কথা শেষ হতেই রৌদ্র অস্থিরতার সাথে বলল-

“অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে তুমি! এখন ঠিক আছো তো আরু? আর আমাকে কেন ফোন দাওনি তুমি?

রৌদ্র একসাথে কতো গুলো প্রশ্ন আরশির দিকে ছুড়ে দিল। আরশি নির্লিপ্ততার সাথে রৌদ্রর দিকে চেয়ে বলল-

” আমি ভেবেছিলাম ডক্টরের কোথাও ভুল হয়েছে তাই আপনাকে এসব বলে মিথ্যা আশার আলো দেখিয়ে কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমি তো বুঝতেই পারিনি আপনি আগে থেকেই আমাকে মিথ্যা বলে আসছেন।”

রৌদ্রর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। মাথা নিচু করে নিম্ন স্বরে বলল-

“তুমি বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলে না তাই বাধ্য এই মিথ্যে কথাটা বলতে হয়েছে। তোমাকে মিথ্যে বলে সম্পর্ক শুরু করার অনুতাপের আগুনে ভেতর ভেতর আমি ঝলসে যাচ্ছিলাম আরু। সব সময় আমার বলা মিথ্যের জন্য তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পেতাম।”

আরশি রৌদ্রর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। রৌদ্রর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল-

“আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি এটা ভেবে ভুল করবেন না। মিথ্যে বলার শাস্তি আপনি নিশ্চয়ই পাবেন ডক্টর রৌদ্র।”

আরশি কথা গুলো বলেই রুমে চলে গেল। রৌদ্র ভ্রু কুচকে আরশির যাওয়ার দিকে চেয়ে আছে। সে খুব ভালো করেই জানে আরশির রাগ কিছুক্ষনের মধ্যেই উধাও হয়ে যাবে। আরশি প্রেগন্যান্ট তার সন্তান এখন আরশির পেটে। এই সময় আরশি নিশ্চয়ই রৌদ্রর উপর রাগ করে থাকতে পারবে না। তাদের অনাগত সন্তানের কথা ভেবে খুশিতে গদগদ করে ওঠে রৌদ্রর মন। রৌদ্রর সকল বিষন্নতা নিমিষেই খুশির ঝলকে পরিনত হয়ে গেল। রৌদ্র বাবা হবে ভেবেই যেন খুশির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে তার মন।

——————————

“আরু এটা কেমন শাস্তি দিচ্ছো তুমি! প্লিজ রুমে আসো। বিকেল থেকে কথা বলছো না, তোমাকে ছুঁতে দিচ্ছো না এসব না হয় মানলাম কিন্তু এখন এই রুমে এসে থাকার কি মানে! এক-ই বাসায় আমরা আলাদা আলাদা রুমে থাকবো না-কি!! তুমি ভালো করেই জানো তোমাকে ছাড়া একা একা ঘুমানোর অভ্যেস আমার নেই।”

রৌদ্র আরশির দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মলিন মুখে কথা গুলো বলে যাচ্ছে। কিন্তু আরশি কোনো সাড়া দিচ্ছে না। বিকেল থেকেই আরশি রৌদ্র সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। রাতেও চুপচাপ ডিনার করার পর আরশি বেডরুমে না গিয়ে অন্য রুমে এসেই ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। সেই থেকেই রৌদ্র আরশিকে অনুরোধ করে যাচ্ছে রুমে আসার জন্য। আরশি রুমের ভেতরে চুপচাপ বিছানায় বসে আছে। রৌদ্রকে সায়েস্তা করার জন্য এটাই এক মাত্র মাধ্যম। রৌদ্র আবারও দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল-

“আরু দরজা খোলো। তুমি দরজা না খোলা অব্দি আমি কিন্তু এখান থেকে যাবো না বলে দিচ্ছি।”

রৌদ্র দরজায় হেলান দিয়ে নিচে বসে পরলো। রৌদ্র খুব ভালো করে জানে আরশি তাকে শায়েস্তা করার জন্যই এমনটা করছে। আর এটাও জানে তার রুদ্রাণী কখনো তার উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারবে না। রৌদ্র একটা হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে সুর তুলে গান গাওয়া শুরু করলো আরশির উদ্দেশ্যে।

যদি বলি আমার প্রতিটা রাত তোমার কোলে চাই,
বলো ঠোঁটের ছোঁয়ায় আদর মাখাবে গালে?
যদি বলি হ্যাঁ হাসছি আমি শুধুই তুমি আমার তাই,
বলো ছেড়ে তো দেবেনা কখনো মনের ভুলে?

আরশি তার চিরচেনা গান আর গলার স্বর শুনে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসির রেখা টেনে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। রৌদ্র আবারও দরজায় কয়েকবার করাঘাত করে গান গাইতে লাগে-

গোধূলি আকাশ মুছে দিলো সাজ
অযথা দূরে তবু তুমি আজ,
অভিমানী ভুল ধরবে আঙ্গুল
মন করে বায়না।
তুমি কি আমায় করবে পাগল
শাড়ির আঁচল, চোখের কাজল,
প্রেমে তুমিও পড়ে যাবে হায়
দেখো যদি আয়না।

বাঁচি এই বিশ্বাসে, শেষ নিঃশ্বাসে
তোমাকেই পাশে চাই,
তুমি না থাকলে আমি শূন্য এ মহাদেশে।
যদি ঘুমিয়েও পড়ি
শেষ ঘুমে আমি তবুও তোমাকে চাই,
তুমি স্বপ্নেই এসো রূপকথার ওই দেশে।।

আমি বুকের মাঝে জাপটে জড়িয়ে
যত কথা আছে সবই তোমাকেই বলি।
আমি কান পেতে সেই মনের গভীরে
লুকোনো যন্ত্রনা শুনে ফেলি।

তুমি অভিমানে খুব হয়ে গেলে চুপ
ভুল মেনে নিয়ে কত কত sorry বলি,

রৌদ্র এই লাইন গুলো গেয়েই চুপ হয়ে যায়। দরজা হেলান দিয়ে হাটুতে দু হাত ভাজ করে দিয়ে বসে আছে। আরশি সকল রাগ অভিমান ভুলে হাসি মুখে রুমের দরজা খুলে দেয়। দরজা খোলার সাথে সাথেই রৌদ্র তাল সামালতে না পেরে পেছনের দিকে ঢলে পরে যায়। রৌদ্রকে পরে যেতে দেখে আরশি ফিক করে হেসে দিয়ে গান গাইতে লাগলো-

ভাবি থাকবোই রেগে গম্ভীর মুখে
তোমার কোথায় ধুৎ, আমি হেসে ফেলি।

মারপিট আর ঝগড়াঝাটিরা
শান্তি চাইবে শেষে,
তাই অভিমান ভুলে আদর মাখতে
তোমার কাছে এসে।

রৌদ্র মেঝেতে শুয়ে থেকেই আরশির দিকে চেয়ে আছে। আরশি মুখে হাসি রেখেই রৌদ্রর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। রৌদ্র আরশির হাত ধরে উঠে বসে। আরশি রৌদ্র পাশে বসে নম্রতা সহকারে বলল-

“সরি বিকেলের জন্য। আপনি এমন একটা সিরিয়াস কথা নিয়ে দু’বছর ধরে আমাকে মিথ্যা বলে আসছেন ভেবেই আমার মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাগের মাথায় বেশি কিছু বলে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন।”

রৌদ্র আরশিকে এক পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে জড়তার সাথে বলল-

“তোমার কোনো ভুল নেই আরু। আমিই ভুল করেছিলাম তোমাকে মিথ্যা কথা বলে। আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য কোনো কিছু না ভেবেই তখন মিথ্যে বলে ফেলেছিলাম। কিন্তু একবারও ভেবে দেখিনি এই মিথ্যের ফলাফল কি হতে পারে।”

আরশি হাল্কা হেসে বলল-

“আচ্ছা এসব বাদ দিন। যা হওয়ার হয়ে গেছে কিন্তু এখন আমাকে প্রমিজ করুন আর কখনো আমার কাছে কিছু লুকাবেন না আর মিথ্যে কথা তো ভুলেও বলবেন না।”

রৌদ্র হাসি দিয়ে আরশির হাত ধরে বলল-

“ওকে প্রমিজ করছি আর কখনো মিথ্যে বলবো না।”

“আচ্ছা এসব ঝগড়াঝাটির মাঝে তো তুলতুলের কথা ভুলেই গেছি। নীল ওদের কাউকে তো কিছুই বলা হয়নি তুলতুলের কথা।”

আরশির কথায় রৌদ্র ভ্রু বাঁকিয়ে তার দিকে তাকালো। তুলতুল নামটা শুনে সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করল-

“তুলতুল কে?”

আরশি সশব্দে হাসলো। মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের চুল গুলোকে ঠিক করে পেটে হাত রেখে বলল-

“ওই ছেলেটা যাওয়ার আগে আমাদের বেবিকে তুলতুল বলে ডেকেছিল তাই বেবির নাম এটাই রেখে দিলাম। সুন্দর না নামটা!!”

রৌদ্র কিছুটা ভেবে আরশির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে বলল-

“হুম সুন্দর কিন্তু ছেলেটার পরিচয় নাও নি কেন!”

“তখন এতো চিন্তার মাঝে এসব কিছুই মাথায় ছিল না। তাই ছেলেটার নামও জিজ্ঞেস করা হয়নি।”

আরশি কিছুটা আফসোসের সুরে কথা গুলো বলল। রৌদ্র আরশির কাধে হাত রেখে বলল-

“আচ্ছা থাক এসব কথা। এখন রুমে চল। আমি তোমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারি না তুমি খুব ভালো করেই জানো।”

আরশি মুচকি হেসে রৌদ্রর সাথে রুমে চলে যায়।

————————

আরশি আর রৌদ্র বিকেলে বেরিয়েছে ভার্সিটির পাশের সেই চিরচেনা কৃষ্ণচূড়া গাছটার উদ্দেশ্যে। আরশি নীল ওদেরকে ফোনে এই সুখবরটা দিতে চায় না তাই সবাইকে জরুরি কথা বলার বাহানা করেই বিকেলে তাদের পুরোনো আড্ডার জায়গায় আসতে বলেছে। আরশি নিজের চোখে তাদের সবার রিয়েকশন দেখতে চায়। তার প্রেগন্যান্টের কথা শুনে সবাই নিশ্চয়ই অনেক বেশি অবাক হয়ে যাবে, হয়তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাবে। আরশি কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই ভার্সিটিতে এসে পরে। দূর থেকে কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে তাকিয়ে কাওকে দেখতে পেলো না। কিছুক্ষনের মধ্যেই হয়তো সবাই এসে পরবে। রৌদ্র আর আরশি কিছুটা এগিয়ে যেতেই গাছের সাথে হেলান দিয়ে নীলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেল। নীলের ব্যাক সাইড দেখা যাচ্ছে। অন্য পাশে মুখ ঘুরিয়ে নীল ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। আরশি রৌদ্রকে ইশারায় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। আস্তে আস্তে শব্দহীন পায়ে নীলকে ভয় দেখানোর জন্য এগিয়ে যায় আরশি। নীলের কিছুটা সামনে আসতেই নীলের ফোনালাপ শুনে আরশি থমকে দাঁড়িয়ে যায়। স্তম্ভিত হয়ে গেছে আরশি।
#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ৫৫
#Saiyara_Hossain_Kayanat

“তুমি চিন্তা করো না আমি আছি তো। আমি থাকতে তোমার বিয়ে অন্য কারও সাথে হতে দিবো না। আমি আজকেই বাসায় তোমার কথা বলবো। তুমি নিশ্চিন্তে…”

নীল আর পুরো কথা শেষ করতে পারলো না। তার আগেই আরশি রেগেমেগে নীলের পিঠে সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। হঠাৎ আরশির থাপ্পড়ের চোটে নীল তাল সামলাতে না পেরে সামনের দিকে পরে যেতে নিয়েও কৃষ্ণচূড়া গাছের সাহায্যে বেঁচে যায়। ফোনটা হাত থেকে ছিটকে গিয়ে কিছুটা দূরে পরলো। নীল এক হাত পিঠে দিয়ে ঠোঁট কামড়ে চাপা আর্তনাদ করে উঠে। চোখে ভয়ংকর কৌতূহল নিয়ে পেছন ফিরে তাকায়। আরশি লাল রঙের কুর্তি আর কালো ওড়না গাঁয়ে জড়িয়ে চোখমুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। দু চোখে দিয়ে যেন অগ্নিগিরির জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে। চাহনি দিয়েই নীলকে ঝলসে দেওয়ার মতো রাগ দেখা যাচ্ছে আরশির চোখে। নীলের ভ্রু জোড়া খানিকটা কুচকে এলো। ফোনটা তুলে নিয়ে পকেটে রেখে আরশির দিকে এগিয়ে আসলো। চাপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করল-

“এটা কি হলো আশু? আমাকে মারলি কেন? তা-ও আবার এতো জোরে!! আমার পিঠ আগুনের মতো জ্বলছে। এতো শক্তি কই থেকে আসলো তোর মতো চিকনীর শরীরে!”

নীলের কথায় আরশির রাগ যেন আকাশ ছুঁই ছুঁই অবস্থা। প্রচন্ড রাগে যেন মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছে না। নীলা আর নির্বান রৌদ্রর সাথে কথা বলতে বলতে আরশির দিকে এগিয়ে আসে। নির্বান আরশির কাছে এসেই হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল-

“কেমন আছো পাশের বারান্দায় ওরফে ক্রাশ ভাবি? আচ্ছা এক মিনিট কিছুদিন পর তো তুমি আমার শালিও হয়ে যাবে। বাহ এটা দেখছি থ্রি ইন ওয়ান হয়ে গেল।”

নির্বান কথা গুলো বলেই হেসে দিল। রৌদ্র আর নীলাও হাসছে। নীল হাসতে গিয়েও আরশির রাগান্বিত চেহারা দেখে আর হাসার সাহস দেখালো না। আদ্রাফ কাসফিয়ার হাত ধরে হেঁটে আসতে আসতে জিজ্ঞেস করল-

“কি নিয়ে এতো হাসাহাসি হচ্ছে এখানে!”

নীলা তাদের দু’জনের দিকে এক অপলক তাকিয়ে নির্বানের হাসি মুখের দিকে তাকালো। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল-

“তেমন কিছু না। কেমন আছিস তোরা?”

কাসফিয়া হাল্কা হাসি দিয়ে বলল-

“আমরা ভালো আছি। তোদের কি অবস্থা? আশু তুই কেমন…”

কাসফিয়া আরশির দিকে তাকাতেই চুপ হয়ে যায়। আরশির চোখমুখের অবস্থা দেখে কিছুটা চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস-

“কিরে আশু তোর কি হয়েছে? এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন! চোখমুখ এমন দেখাচ্ছে কেন তোর?”

কাসফিয়ার কথায় সবাই কিছুটা বিস্ময় নিয়ে আরশির দিকে তাকায়। আরশি চোখমুখ শক্ত করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। নীল জোড়ালো শ্বাস ফেলে বলল-

“ভূতে ধরছে ওরে। এসেই আমার পিঠে কত্তো জোরে একটা থাপ্পড় মারছে। আল্লাহ! ওর এতো শক্তি!! আমার তো আগে জানা ছিল না। আদ্রাফ ভাই দেখ তো আমার পিঠে ওর হাতের ছাপ পরছে কি-না!”

নীল আদ্রাফের দিকে এগিয়ে যেতেই আরশি দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত গলায় বলল-

“এই হারামি আমাদের কাউকে না জানি প্রেম করে বেড়াচ্ছে। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে প্রেমিকাকে বিয়ের জন্য স্বান্তনা দিচ্ছে। ভাবতে পারছিস তোরা ও কতো দূর চলে গেছে! ফোনে প্রেমালাপ করতো আর আমাদের শোনাতো যে অফিস থেকে জরুরি কল এসেছে।”

আরশির কথা শুনে নীল চুপসে যায়। কিছু বলার মতো মুখের ভাষা তার নেই। বাকি সবাই বিস্ফোরিত বোমার মতো চোখ দুটো বড় বড় করে নীল আর আরশিকে দেখে যাচ্ছে। আদ্রাফ ভয়াবহ উত্তেজনা নিয়ে জিজ্ঞেস করল-

“কিরে নীল এসব কি সত্যি বলছে আশু?”

নীল কিছু বলছে না। নিচের দিকে তাকিয়ে কাচুমাচু করছে৷ আরশি আবারও ক্ষিপ্ত গলায় বলল-

“এই হারামজাদা রে কি জিজ্ঞেস করছিস!! আমি নিজ কানে শুনেছি ও ফোনে কথা বলছিল।”

নীলা সরু চোখে নীলের দিকে তাকিয়ে ভাবুকতার সাথে বলল-

“এখন বুঝলাম কেন তুই যখন তখন ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসতি।”

আদ্রাফ ডান হাতে নীলের গলা শক্ত করে পেচিয়ে ধরে। নীলের মাথা আদ্রাফের হাতের মাঝে রেখেই বুকের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। নীল আদ্রাফের হাত ধরে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রইলো। আদ্রাফ রাগান্বিত কন্ঠে বলল-

“শালা তুই লুকাইয়া লুকাইয়া প্রেম মারাছ আর আমাদের সবাইরে মিথ্যা কথা কছ!! আমরা কি তোর গার্লফ্রেন্ড নিয়া বাইজ্ঞা যাইতাম না-কি হারামির বাচ্চা! তুই তো ফ্রেন্ড নামের কলঙ্ক নীল।”

নীল আদ্রাফের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে অস্বস্তির সাথে বলল-

“আদ্রাফ ব্যথা পাচ্ছি তো। আমাকে ছাড়। আমি সব বুঝিয়ে বলছি।”

নীলা আর কাসফিয়া এক সাথে চেচিয়ে বলে উঠলো-

“আদ্রাফ ওরে ছেড়ে দিলে আজ তুইও মাইর খাবি বলে রাখলাম।”

কাসফিয়া নীলের কাছে এসে পিঠে ঘুষি মেরে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল-

“তুই আমাদের সবার কাছে কথা লুকিয়ে রাখলি কি করে!! কুত্তা, বাটপার… তুই আমাদের সত্যি সত্যিই বন্ধু মনে করিস কি-না সন্দেহ হচ্ছে।”

নীলা এগিয়ে এসে নীলের পায়ে লাথি মেরে রাগান্বিত কন্ঠে বলল-

“সয়তান বজ্জাত পোলা… আমি তোর মায়ের পেটের এক মাত্র যমজ বোন। আমার কাছেও কিভাবে লুকিয়ে রাখলি তুই!”

নীল অসহায় কন্ঠে বলল-

“আরে বোইন আমারে কিছু বলার সুযোগ তো দিবি তোরা না-কি!”

আরশি জ্বলন্ত চোখে নীলের দিকে তাকায়। বাঘিনীর রূপ ধারন করে নীলের কাছে এসে নীলের চুল গুলো নিজের হাতের মুঠোয় বন্দী করে নেয়। সাথে সাথেই নীল চেচিয়ে ওঠে। আদ্রাফ নীলের পেছনে একটা লাথি মেরে বলল-

“চুপ থাক শালা। একদম চেচামেচি করবি না।”

আরশি নীলের চুল ধরে মাথা উঁচু করে আরশির মুখোমুখি করে। আদ্রাফ এখনো নীলের গলা পেচিয়ে ধরে আছে। নীলের জান যায় যায় অবস্থা দেখে রৌদ্র আর নির্বান একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে। নির্বান একটা শুকনো ঢোক গিলে বলল-

“ভাই এই গুলার এমন মাস্তানি রূপ তো আগে দেখি নাই। বাপরে বাপ কি রাগ এই মেয়ে গুলার!!”

রৌদ্র আর নির্বান দু জনেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেঞ্চিতে বসে পরে। পায়ের উপর পা তুলে দিয়ে পেছনের দিকে হেলান দিয়ে রৌদ্র আর নির্বান বেশ আরাম করে বসে আছে। তাদের দু’জনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা কোনো মজাদার এ্যাকশন মুভি দেখছে। খুব এনজয় করছে তাদের মারামারি দেখে।

“এবার বল সব কিছু। কে তোর সেই নায়িকা যাকে আমাদের সবার কাছ থেকে আড়াল করে সিন্দুকে তালা মেরে রেখেছিস!”

নীলা আরশির হাত ধরে চুলের বাধন কিছুটা হাল্কা করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। আমতা-আমতা করে বলল-

“এই ভার্সিটির-ই আমাদের জুনিয়র। তোরা সবাই চিনিস ওকে।”

নীলা নীলের মাথার পেছন দিকে একটা চাপড় মেরে বলল-

“নাম বল কুত্তা”

“আরে আমাদের পাশের ক্লাসের শুভ্রতা।”

নীলের কথা শুনে সবাই যেন আরেক দফা চমকে উঠলো। চার জন একসাথে জোরে চেচিয়ে বলল-

“কিইইইই!!”

আদ্রাফ নীলের গলা ছেড়ে দিয়ে বিস্ময় নিয়ে নীলের দিকে তাকালো। কাসফিয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল-

“শুভ্রতা মানে আমাদের ভার্সিটির টিচারের মেয়ে!!”

নীল মাথা ঝাকালো। আরশিসহ বাকি সবার চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। আদ্রাফ উৎকন্ঠা হয়ে বলল-

“তোর সাহস তো কম না নীল। তুই স্যারের মেয়ের লগে টাংকি মারছ। এই কারণেই শুভ্রতা আমাদের সামনে আসলে লজ্জায় কাচুমাচু করতো।”

নীল একটা বোকা হাসি দিয়ে বলল-

“আসলে শুভ্রতা আমাকে না করেছিল আমাদের সম্পর্কের কথা কাওকে না বলতে। আমাকে দিয়ে প্রমিজ করিয়েছিল। তাই তোদের কিছু বলিনি।”

আরশি ড্যাবড্যাব করে নীলের দিকে তাকিয়ে সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করল-

“কবে থেকে চলছে এসব?”

নীল চুল গুলো ঠিক করে শার্টের কলার ঠিক করতে করতে লাজুক চেহারায় বলল-

“আমি তো অনেক আগে থেকেই পছন্দ করতাম কিন্তু…”

নীল থেমে যায়। নীলা ভ্রু কুচকে বিরক্তির সাথে বলল-

“নেকামি না করে বল কবে থেকে প্রেম করে যাচ্ছিস?”

নীল মাথা চুলকিয়ে একটা মেকি হাসি দিয়ে বলল-

“এই তো বেশি দিন না। হবে হয়তো এক দেড় বছর।”

নীল কথাটা বলেই দাঁত কেলিয়ে হাসে৷ নীলের হাসি দেখে যেন সবার শরীরে জ্বলজ্বল করে আগুন জ্বলে উঠলো। আরশি চেচিয়ে বলল-

“হারামির বাচ্চা তুই দেড় বছর ধরে প্রেম করছিস অথচ আমাদের কাউকে কিছু বলিস নি!! আমাদের বেলায় তো খুব ভাব নিয়ে আসিস ভাই সেজে জ্ঞান দিতে এখন কই গেল তোর ভাই গিরি!!”

কাসফিয়া নীলের দিকে তেরে এসে তেজি কন্ঠে বলল-

“ওরে তো ইচ্ছে করছে এখনেই পুতে ফেলি। ধোকাবাজ বন্ধু তুই। বাটপার পোলা।”

আদ্রাফ কাসফিয়ার হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে বলল-

“তুমি এখানেই দাঁড়াও বেশি নাড়াচাড়া করো না। ওরে তো আমরা সবাই দেখে নিবো।”

আদ্রাফ, নীলা আর আরশি নীলকে মারতে আসলেই নীল দৌড়ে দূরে চলে যায়। আদ্রাফ নীলকে ধরার চেষ্টা করেও পারে না। আরশি আর নীলাও পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে। রৌদ্র আড়মোড়া ভেঙ্গে তাদের দিকে গম্ভীরভাবে পা ফেলে এগিয়ে যায়। আরশির সামনে এসে আরশির হাত ধরে থামিয়ে দেয়। গম্ভীর গলায় শাসনের সুরে বলল-

“এই সময় এভাবে দৌড়ানো সেফ না আরু। তুলতুলের কথা ভুলে যেও না। নিজের সাথে সাথে তুলতুলের-ও খেয়াল রাখতে হবে তোমার।”

রৌদ্র কথা শুনে সবাই থেমে যায়। ভ্রু বাঁকিয়ে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রৌদ্র আরশির দিকে। আরশি মাথা নিচু করে ফেলে রৌদ্রর কথায়। নির্বানসহ বাকি চারজন রৌদ্রর দিকে এগিয়ে আসে। নির্বান বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল-

“এই সময় মানে কি ভাই! আর তুলতুল আবার কি?”

আরশি লজ্জায় মাথা নুয়ে ফেলে। রৌদ্র কোনো বিনীতা না করেই বলে দিলো-

“তুলতুল মানে তোর ভাই আর পাশের বারান্দার অনাগত সন্তান।”

রৌদ্রর কথায় সবার চোখ রসগোল্লার মতো গোলাকৃতি হয়ে গেল। অপ্রত্যাশিত কিছু শুনে ফেলেছে মনে হচ্ছে। কাসফিয়া কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল-

“আপনার আর আশুর অনাগত সন্তান!!”

রৌদ্র দু হাত আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে বলল-

“হুম আমাদের সন্তান।”

“মানে আমাদের আশু প্রেগন্যান্ট??”

নীলার প্রশ্নে এবার রৌদ্র ভ্রু জোড়া কুচকে এলো। ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে বলল-

“হ্যাঁ আমাদের আরু প্রেগন্যান্ট।”

নীল আরশির দিকে এগিয়ে আসে। আরশি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। অস্বস্তিতে হাত কচলাচ্ছে। গাল দুটো হাল্কা লাল আভা ধারণ করেছে। নীল আরশির দিকে থেকে মুখ ঘুরিয়ে রৌদ্রর দিকে চেয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল-

“আপনি সত্যি বলছেন!”

রৌদ্র একটা হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে। বিরক্তি প্রকাশ বলল-

“হুম সত্যি। তিন সত্যি, হাজার সত্যি।”

সাথে সাথেই সবাই একসঙ্গে খুশিতে চেচিয়ে উঠলো। নীল আরশিকে জড়িয়ে ধরে। চোখ দুটো পানিতে চিকচিক করছে নীলের। খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেছে। আনন্দের ঝলক চোখের পানি হয়ে উপচে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিন্তু ছেলেদের যে কান্না করতে নেই। সমাজের সকলের তৈরি সেই পুরনো নিয়ম মানতেই নীল নিজের চোখ দুটোকে বাধা দিচ্ছে। চিকচিক করা অশ্রু গুলো চোখের মাঝে রেখেই আরশির দিকে মাথা তুলে তাকায়। আরশির দু কাধে হাত রেখে জড়ানো কন্ঠে বলল-

“আমি তোকে বলেছিলাম না তুই ব্যর্থ না। দেখলি তো আমি মামা হবো এখন। তুই মা হবি আশু। তুই ব্যর্থ না।”

আরশির অশ্রুসিক্ত চোখেই মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নাড়ালো। কাসফিয়া এসে আরশিকে জড়িয়ে ধরেই কান্না করে দেয়। আরশি কাসফিয়ার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কাসফিয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে আরশিকে। কান্নারত অবস্থায় কাসফিয়া জোড়লো শ্বাস ফেলে। থেমে থেমে বলল-

“আজ আমি অনেক খুশি আশু। আমি জানতাম আল্লাহ কখনো তোকে এভাবে কষ্ট দিবে না। তোর মতো মেয়ে কখনো কষ্ট পেতেই পারে না। এখন থেকে তুই নিশ্চয়ই নিজেকে ব্যর্থ মনে করবি না আশু তাই নাহ!! বিশ্বাস হয়েছে তো এবার তুই যে ব্যর্থ না।”

নীলাও এসে আরশিকে জড়িয়ে ধরে। কাঁদোকাঁদো গলায় বলল-

“অবশেষে তোর জীবনের সকল কষ্ট মুছে গেল আশু। আজ থেকে তুইও আর দশটা মেয়ের মতোই নিজেকে মনে করবি। তুই সম্পূর্ণ একটা মেয়ে। পরিপূর্ণ মেয়ে। তুইও বাকি মেয়েদের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পাবি। খুব তাড়াতাড়ি তুইও মা ডাক শুনবি। তোর মাঝেও নতুন এক অস্তিত্ব বেড়ে উঠবে।”

চলবে….

[

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here